শুক্রবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৮

৬০৪ আজকের কবিতা, গৌতম কুমার গুপ্ত,




সম্পর্ক
গৌতম কুমার গুপ্ত


ভেসে বেড়াচ্ছে এক গোপন
অদৃশ্য চুল সোনায় সোহাগা
কেউ ক্লান্ত নয়, নির্মেদ ভাষা
বীজত্বকের তথ্য জেনেছে কেউ

মগজে শিরোনাম ধেয়ে আসে
কাগুজে চাষবাস
স্বর্ণ মোহে দক্ষ কারিগর
এই স্রোতে নামধাম বিরোধাভাস কিছু

চলিষ্ণু জায়মান সফল
অবরোধ খুলেছে আজ গোপন পালকে

৬০৪ । ধারাবাহিক কবিতা । প্রসাদ রায়

ধারাবাহিক কবিতা । প্রসাদ রায়




সম্পর্ক বিষয়ক৷ 


মধ্যবর্তী দেয়াল ভাঙা থেকে
সম্পর্ক ঘনত্ব নেয়
দুজনার মধ্যে জুড়ে  সেতু

একের রাস্তার পাশে আর একের রাস্তার কথা ওঠে
চৌহদ্দি ইশারায় জ্বালে আলো

প্রবাহের নদী,বাধা না_মানা
ছুঁয়ে ছুঁয়ে কূল_উপকূল

ঠিকানা বরাবর কেবলি সে নিবিড় মোহনা৷



বিশ্বজিৎ । বাংলা । নবপর্যায়-৬০৪ । ৩১-০৮-২০১৮

রান্নাঘর থেকে

বিশ্বজিৎ
-----------------------------------
১)

যে যন্ত্রণার কথা 
  তোমাকে প্রতিদিন বলি,
  নতুন নতুন মেঘের আন্দাজ
  আরও নতুন বোঝবার ভাষা

২)

শর্টশার্কিট নয়।
  বাতাস ধরতে গিয়ে
  এত শিখে নেওয়ার গল্প,
  এত কলকব্জার লেনদেন।


বুড়ো শিকড়ের আত্মকথন । রাহুল গঙ্গোপাধ্যায় । বাংলা । নবপর্যায়- ৬০৪ । ৩১-০৮-২০১৮


বুড়ো শিকড়ের আত্মকথন

রাহুল গঙ্গোপাধ্যায়


জীবনের প্রশ্নগুলো বড়ো অদ্ভুত।আর প্রকৃতি ও সময়ের সহাবস্থান যতোটাই জটিল, ততোটুকুই সহজ।এসব মেঘরোদের সমাধান বুঝতে বুঝতেই একদিন মানুষের ভাষা বদলে যায়।প্রথম প্রথম এক অদ্ভুত গহ্বরে থাকা আমাদের নায়ক এসব ঠাওর করতে পারে নি।তারপর উঁচু হতেহতে যখন পাহাড়, ঝর্ণা, সমুদ্র, নদী, মাঠ, বরফ, আগ্নেয়গিরি ~ এসব ছাড়িয়ে সে পৃথিবীর সম্পূর্ণ ব্যাস জড়িয়ে ধরে, বুঝতে পারে লোভ-লালসার ভাঁওতাবাজীর খেলা।আক্রমণ বা প্রতিআক্রমন কোনোটাই আদপে বিষয় নয়।মুল বিষয় হলো উদ্বৃত্ত বিশেষণ।ভাষা আলাদা তাই সীমারেখা টানাটানি।শুধু চুপিসারে নৈশব্দের গল্প যারা করে, তারাই বোঝে বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয়তা।এভাবেই একেএকে সে সাক্ষ্যের পর সাক্ষ্য তুলে রাখে।তার চামড়া ও খসে পড়া উদ্বৃত্ত পাতায় বিছিয়ে রাখে সৃষ্টি ও ধ্বংসের দ্বান্দিক দলিল।মাটির কোনো অতিরিক্ত পরিচয় নেই, তার পরিচয় মাটি।জলের কোনো অবশিষ্ট পরিচয় নেই, সে কেবলই জল।আকাশের কোনো নির্দিষ্ট পরিচয় নেই, সে এক বিস্তীর্ণ অসীমের অংশবিশেষ।আগুনের আলাদা করে শ্রেণি চরিত্র নেই, তার বিশেষ্য ও বিশেষণ সে আগুনই।জীবন তৈরির প্রতিটি উপাদান এক ও অভিন্ন হলেও, মানুষের সমস্যা কোথায়।সে যতো উঁচু হয়, বৃদ্ধ হতে থাকে।যতো বৃদ্ধ হয়, জীবনী বাড়ে।হয়তো এটাই সভ্যতার প্রকৃত দায়বদ্ধতা।নাড়ির কম্পনের এ এক বেজায় উপলব্ধি।হয়তো এভাবেই একদিন নাড়ির কম্পন আলাদা হবে শরীর থেকে, ধুকপুক আলাদা হবে ফুসফুস থেকে, নিঃশ্বাসের পৃথককরন ঘটবে রন্ধ্রের জলখোর কোষগুলো থেকে।ঝাপসা আলোতে সে দেখতে পায় শরীর শরীরের আদর থেকে মুছে ফেলছে নাম।না।এই মুহূর্তে পৃথিবীর বুকে সঙ্গমের উষ্ণতা নেই, আছে গরম তাপ ও তাজা রক্তের বাষ্প।আরো চাহিদা।আরো চাই।আরো বেশি কিছু চাই।আরো মাংস।আরো মজ্জা।আরো লসিকা।মাংসাশী পাকস্থলীর সংখ্যা কখন যে বেড়ে গেলো, তা অনুভবের আগেই আমাদের বৃদ্ধ নায়ক একদিন দেখে আশেপাশের রঙিন জাদুগুলো কালো পর্দায় ঢেকে দিয়েছে কেউ।তার ছায়া মুছে গিয়ে জায়গা নিয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক সাইনবোর্ড ~ মাচানতলা।সে ভাবে, হয়তো এবার উঁচু থেকে তার ছোটো হবার পালা।শিকড়ের গায়ে এখনো লেগে আছে আদিম গুহামানবীর গন্ধ।একটা তড়িৎ বিস্ফোট কেবল।ছিটকে যাবে সমস্ত ক্রিয়াপদ ও ক্রিয়াহীন বলয়।ঘোরের মধ্যে চলছে যেনো সবকিছুই।আর সময় টুকরোটুকরো না হলে হয়তো এই ঘোর কাটবে না।ঠিক এমনই এক নাইট্রিক অবস্থান্তর থেকে এলডোরাডো অসুখে ক্রমশঃ নামতে থাকে বৃদ্ধ নায়ক।নীচে আরো নীচে।গভীরে ক্রমশঃ আরো গভীরে।কেবল অন্ধকারেই পুঁতে ফেলা যায় সৃষ্টি প্রোথনের বীজ


এমদাদ উল হক স্মরণ সন্ধ্যা । বাংলা ।। নবপর্যায়-৬০৪ । অষ্টম বর্ষ । ৩১-০৮-২০১৮

এমদাদ উল হক স্মরণ সন্ধ্যা
বহরমপুর ; ৩১-০৮-২০১৮ ; স্টাফ রিপোর্টার ।। ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ রবিবার বহরমপুর সাংবাদিক সংঘ এফ ইউ সি মাঠ সন্নিকট বেলা ৪ টা ।সমিধ সাহিত্য পত্রিকার শ্রদ্ধাঞ্জলি । উপস্থিত থাকছেন কবি ও কথা সাহিত্যিক প্রভাত চৌধুরী যূথিকা চৌধুরী   ।।



আজকের দিন । বাংলা ।। নবপর্যায়-৬০৪ । অষ্টম বর্ষ । সংখ্যা-১৭ ।পোস্ট-৬ । ৩১-০৮-২০১৮

৩১ আগস্ট ২০১৮, ১৪  ভাদ্র ১৪২৫ শুক্রবার সূর্যোদয় ৫টা. ২১ সূর্যাস্ত ৫টা. ৫৫  

শ্রদ্ধাঞ্জলি~
প্রয়াণ -বাসুদেব দাশগুপ্ত


।। শান্তি ।।  

বৃহস্পতিবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৮

ধারাবাহিক কবিতা । প্রসাদ রায় । বাংলা । ৬০৩ । ৩০-০৮-২০১৮

ধারাবাহিক কবিতা । প্রসাদ রায়

ভাবান্তর


চৌহদ্দি আমায় জড়িয়ে শেকড়ের কথা বলে
এই বাড়ি জমি প্রকৃতি প্রতিবেশ
                                               নির্নিমেষ
চোখের সামনে আয়না
দেখি,শত দুঃখেরও মাঝে সুখ,ভালোবাসা

সঙ্গে কিছুই যাবেনা,নিজেকেই যেতে হবে

এক জনমের ইচ্ছেপূরণ
শুধু পৃথিবীর কাছে জমা করে যাবো৷




দেবজ্যোতি রায়,আজকের কবিতা । বাংলা । নবপর্যায়-৬০৩ । ৩০-০৮-২০১৮

যা কিছু বুর্জোয়া 

দেবজ্যোতি রায়

বুর্জোয়ারা অ-যৌন সংগম শেষে মুখে 
দেবতার হাসি টেবিলে বৈষয়িকের ধাতব 
শব্দ শ্বেত শুভ্র আলোকের জানালাগুলি 
খুলে অন্ধকারে বাড়তে থাকে হাত পা নখ 
দিয়ে খামচে ধরে শিশ্নের দৈর্ঘ্য পেটে তরল 
আগুন শেষে ঘুম আর ঘুমের মধ্যেই শিৎকার 
অ-যৌনতার পরিপাটি মুখ মুখের ভিতর 
                                     আমাদেরই মাংস ।#



শিল্প-সাহিত্যের খবরাখবর । বাংলা ।। নবপর্যায়-৬০৩ । অষ্টম বর্ষ । ৩০-০৮-২০১৮

কলেজস্ট্রিটে বিশেষ প্রদর্শনী ১-৪ আগস্ট 


কলকাতা ; ৩০-০৮-২০১৮ ।। লিটল ম্যাগাজিন ও মুদ্রণকে কেন্দ্র করে বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হল কলকাতার কলেজস্ট্রিটে ।  কবি সুস্নাত চৌধুরী আয়োজন করেন এই প্রদর্শনীর । মুদ্রণ কৌশল, কুশল, প্রকরণ, ইতিহাস, ঐতিহ্য, নান্দনিকতা নিয়ে এই প্রদর্শনী গত বছর ২০১৭ সালের অক্টোবরে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় হুগলি উত্তরপাড়ায় ।  তার ধারাবাহিক প্রদর্শনী এই আয়োজন  এই প্রদর্শনী চলে ১-৪ আগস্ট ২০১৮ পর্যন্ত কলেজ স্ট্রিটে  । পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বাংলাদেশের  বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা এই প্রদর্শনীর প্রশংসা করেছেন ।  




ফটো~ মনিরুল মনির 


আজকের দিন । বাংলা ।। নবপর্যায়-৬০৩ । অষ্টম বর্ষ । সংখ্যা-১৬ । ৩০-০৮-২০১৮


৩০ আগস্ট ২০১৮, ১৩  ভাদ্র ১৪২৫ বৃহস্পতিবার সূর্যোদয় ৫টা. ২১ সূর্যাস্ত ৫টা. ৫৬  




শ্রদ্ধাঞ্জলি~
প্রয়াণ দিবস ~  নিহাররঞ্জন    রায়




।। শান্তি ।।

বুধবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৮

আটপৌরে কবিতা, আরিফুর রহমান । বাংলা । ৬০২ । ২৯-০৮-২০১৮

জলমগ্ন কবিতা
আরিফুর রহমান
১. বৈশিষ্ট্য
হাইড্রোজেন২ অক্সিজেন মানে-
              ~জীবন~
    হেঁটে যায় নিজস্ব নিয়মে।
২. রূপান্তর
            উল্লাসে নেমে আসা--
                     জল,
ঝরণার দৃশ্য আঁকে মনক্যানভাসে।
৩. প্রতিদান   
         একমুঠো আকাশ ছড়ানো
                  ...জলাশয়...
রোদ্দুর ভালোবেসে ওড়ায় জলীয়বাষ্প।




--আরিফুর রহমান
প্রভাষক, হিসাববিজ্ঞান
সরকারি ইসলামপুর কলেজ
পোস্ট+থানাঃ ইসলামপুর
জেলাঃ জামালপুর
বাংলাদেশ।
মোবাঃ +০৮৮০১৯১৩ ৯০৫২৬৩

বুড়ো শিকড়ের আত্মকথন রাহুল গঙ্গোপাধ্যায় ৷ বাংলা ৷ নবপর্যায়-৬০২ ৷ ২৯-০৮-২০১৮ ৷

বুড়ো শিকড়ের আত্মকথন

রাহুল গঙ্গোপাধ্যায়

ঘুম ভেঙে গেলো হঠাৎ।ঘুম আসলে বড়ো আপাতদৃশ্যের প্রতিফলন, কারন স্বচ্ছ দেওয়ালের দুই বিপরীত পাড়ে ~ একই সাথে চলা ঘটনার আবহমানতা।চোখের গতিবেগ বাড়লে, দেখা যায় কোলাহলের অনুরণন আর শোনা যায় এলোমেলো আঘাত।কেন যে এমন হয়, বোঝে না সে।আসলে পৃথিবীর সেই বয়সে কোনো অভিধান লেখা হয় নি, যেখানে আদর কথাটির কোনো বিপরীত বা বিপ্রতীপ শব্দ লিপিবদ্ধ থাকে।যদিও, তারই মতো খোদাই করা লিপিও এক বিশালাকার ইতিহাসের অংশত উপোষী বসৎ।সাক্ষ্যের তলব পড়লে, তারা উভয়েই জানে কিভাবে বিচারখানায় দিতে হবে নিজেদের নাম / ঠিকানা / পরিচয় / আবাস।মুহুর্মুহু চিৎকারের শব্দ হয়, কোনো উপযাজকীয় শিকার ছাড়াই।আবার, হয়তো এটাই আসলে শিকার, আর যেটা বন্যপ্রাণীর ক্ষেত্রে বোঝানো হয় ~ জাস্ট প্র্যাকটিসের আগে বসানো শূন্যস্থানে ডেমো।কেটে যায় মুহূর্ত।সময় আরো বেশি গতি বাড়াতে থাকে।নায়ক আরো আরো উঁচুতে আকাশী হাওয়াকলের কাছাকাছি।ছায়া ঢেকে ফেলে শরীর।নগ্ন শরীরের অন্ধকারে চলে পারমাণবিক সমীকরণ, আর তারপর আলোর তাপে ও চাপে শাপগ্রস্ত মানসীর আগুনে রূপের উৎসব।সে সব দেখে।সবই দেখে ~ ততদিনের দুপেয়েদের নাম মানুষ, এটা স্থির।সে সব দেখে, সবই দেখে ~ পিঁপড়েরা ফুলের সঙ্গমে তাড়া মারছে, গুটিপোকা তাপ বাড়ানোর কাজ করছে, মাকড়শার প্রাথমিক শিকার মাকড়সা নিজেই, আর হ্যাঁ পাখিদের টুংটুঙির সাথে কচিকাঁচাদের ক্যাঁচরমেচর।হয়তো সে ভাবে, যতোই আগ্নেয়গিরি ফাটুক, কচিরা যেদিন বড়ো হবে, গল্প শুনবে তার কাছে ~ পৃথিবী যখন তরল থেকে দ্রুত কঠিনের চৌম্বকীয় স্তরে।হয়তো ঘুড়ির ডগায় নাতিশীতোষ্ণ মাটির ঢেলা।সময় কেটে যায়।শুকনো পাতা রোদে পোড়ে।তারপর ঝরে।তারপর নতুন জামা।রঙিন স্বপ্ন।আসলে আমাদের নায়ক ~ ইতিহাসের সাক্ষ্য বয়ে নিয়ে চলে না কি স্বপ্নের,এ তত্ত্ব বড়োই গোলমেলে।কারন, ইতিহাসের প্রতিটি স্পর্শে স্বপ্ন ছাড়া আর কিই বা আছে।যাই থাকুক, সে তো একটা খোলোশ মাত্র

অনুকবিতার কার্নিভাল।আয়োজক কবিতা ক্যাম্পাস। বাংলা ।। নবপর্যায়-৬০২ । অষ্টম বর্ষ । ২৯-০৮-২০১৮


গত ২৬শে আগস্ট, ২০১৮ কলকাতার জীবনানন্দ সভাঘরে অনুষ্ঠিত হলো অনুকবিতার কার্নিভাল।আয়োজক কবিতা ক্যাম্পাস ~ 

একটি বিশেষ প্রতিবেদন :

বিশ্বসাহিত্যে অনুকবিতার চর্চা বহুদিনের।সে আমাদের বৈদিক শ্লোকওই হোকা, বা হাইকু, বা তানকা, বা ট্রিওলেট ইত্যাদি।কাকে বলবো অনুকবিতা, না কি কবিতারও অনু হতে পারে?বাংলা সাহিত্যে অনু কবিতার চর্চা এই পর্যন্ত কতোটুকু? এইসব আলোচনা নিয়েই গত ২৬শে আগস্ট, ২০১৮ কলকাতার জীবনানন্দ সভাঘরে অনুষ্ঠিত হলো অনুকবিতার কার্নিভাল।আয়োজক ছিলো কবিতা ক্যাম্পাস।অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন দিল্লী থেকে আগত কবি শ্রী গৌতম দাশগুপ্ত।এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন দিল্লী হাটার্স পত্রিকার সম্পাদক কবি দিলীপ ফৌজদার, কবি তৃপ্তি সাঁতরা এবং কবি প্রশান্ত গুহমজুমদার।প্রথমেই কবিতা ক্যাম্পাস সম্পাদক কবি শ্রী অলোক বিশ্বাসের সংক্ষিপ্ত ভাষনের পর, রাখি বন্ধনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা । রাখী পরিয়ে দেন কবি জয়শ্রী ঘোষ এবং সৌমিত্র রায়।অতিথিরা সংক্ষেপে কবিতা ক্যাম্পাসের সাথে তাদের আত্মীয়তার কথা তুলে ধরেন।অনুকবিতা চর্চাতেও বা তারা এলেন কিভাবে একথাও আমরা জানতে পারি। কবিতাপাঠের মাঝে কবি শান্তিময় মুখোপাধ্যায় পরিবেশন করেন গান ।উপস্থিত অতিথি কবিদের সাথে বহু অগ্রজ ও অনুজ কবির কবিতাপাঠের পাশাপাশি মনোরম ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয় অনুকবিতার উপর।কবিতা পাঠ করেন উমাপদ কর, অমিত কাশ্যপ, দেবাশিস লাহা, দেবাশিস বন্দোপাধ্যায়,সঞ্জয় ঝষি, বিশ্বজিৎ,সৌমিত্র রায়,রঞ্জন মৈত্র, সব্যসাচী হাজরা, ভাস্বতী গোস্মামী প্রমুখ।উঠে আসে ১৯১৬ সালে কবিগুরুর জাপান যাত্রা, তারপর তার হাইকু নিয়ে কাজ।উঠে আসে বিদেশে অনুকবিতার কাজ, মিনিমালিস্ট পোয়েট্রি মুভমেন্ট, ইমেজিস্ট আন্দোলন, এদেশে ৬০র দশকে হওয়া সংহতি আন্দোলন থেকে iসোসাইটি কৃত শব্দব্রাউজ, ই পোয়েমস্, চ্যাটি পোয়েমস্ ইত্যাদি কথা।উঠে আসে ইউরোপ ও বাংলা সাহিত্যের প্রকৃতিগত বৈচিত্র্য, যে কারনে অনুকবিতা চর্চার ফারাক।উঠে আসে, পাই কবিতা নিয়ে পাইতা ইত্যাদি নানাবিধ কাজের ধারা।আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কবি প্রদীপ চক্রবর্তী, কবি অনিন্দ্য রায়, কবিতা ক্যাম্পাস সম্পাদক কবি অলোক বিশ্বাস এবং কবি সুজিত সরকার।কবি সুজিত সরকার তুলে ধরেন তাঁর বিখ্যাত অনুকবিতা "দেওয়াল তুললেই ঘর / ভাঙলেই পৃথিবী"।তিনি আরো বলেন কবিগুরুর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলা যায়, তাঁর প্রথমদিককার কবিতাগুলির তুলনায় শেষের দিকের কবিতাগুলি অনেকটাই মেদচর্বিহুল ও অনেক বেশী গভীর, যে কারনে আজ অনেক পাঠকের কাছেই তাঁর প্রথম কবিতাগুলি খুব একটা নতুন কিছু বার্তাময়তার নয়।অনুষ্ঠানে প্রকাশিত হয় দিল্লী হাটার্স পত্রিকার ১৪তম সংখ্যা।প্রকাশ করেন কবি রঞ্জন মৈত্র এবং অধুনা দিল্লীবাসী কবি ভাস্বতী গোস্মামী।এছাড়াও, কবিতা ক্যাম্পাস থেকে প্রকাশিত হয় কবি অনিন্দ্য ঘোষের অষ্টম কাব্যগ্রন্থ "কলহের নাম কাবেরী"।গোটা অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন সম্পাদক অলোক বিশ্বাস নিজে।কবিতা ক্যাম্পাসের যাত্রাপথ আগামী দিনে আরো মসৃণ হোক, iসোসাইটির পক্ষ থেকে এই কামনা জানাই। 


প্রতিবেদক : রাহুল গঙ্গোপাধ্যায় 


আজকের দিন । বাংলা ।। নবপর্যায়-৬০২ । অষ্টম বর্ষ । সংখ্যা-১৫ । ২৯-০৮-২০১৮

২৯  আগস্ট ২০১৮, ১২  ভাদ্র ১৪২৫  বুধবার সূর্যোদয় ৫টা. ২১ সূর্যাস্ত ৫টা. ৫৭  



শ্রদ্ধাঞ্জলি~
প্রয়াণ দিবস -কাজী নজরুল ইসলাম, মোহনানন্দ ব্রহ্মচারী,  স্বরূপানন্দ গিরি মহারাজ 






মঙ্গলবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৮

বাংলা । ৬০১ । আজকের কবিতা ক্ষুধার্ত ছেলেটি -------- সঞ্জয় দাস


আজকের কবিতা 


ক্ষুধার্ত ছেলেটি
 --------
সঞ্জয় দাস 

শব্দের ঐশ্বর্য
বিলাসিতায় পরিপূর্ণ
মধুরতার বিনাশ
স্বপ্নের হতাশা নিয়ে
পাশে দাঁড়িয়ে থাকার
বেদনায় মগ্ন আমি

জঠরের ক্ষুধা
অপেক্ষামান চোখে মুখে
স্বপ্নকে দেখে যায়
দুচোখের আঙিনা জুড়ে
উদ্বিগ্ন  - চঞ্চলতা
কিছুটা পাওয়ার উল্লাস
হতাশায় জড়িয়ে ধরে
নিমজ্জিত হৃদয়াবেগ

বাঁধ মানে না অশ্রুধারা
অখেয়ালী মনে পলায়ন বৃত্তি
সইল না মোর প্রাণে
সহসা যেতেই ধাবমান দূরে ।  




শিল্প-সাহিত্যের খবরাখবর । বাংলা ।। নবপর্যায়-৬০১। অষ্টম বর্ষ । ২৮-০৮-২০১৮








আজকের দিন । বাংলা ।। নবপর্যায়-৬০১ । অষ্টম বর্ষ । সংখ্যা-১৪ । ২৮-০৮-২০১৮


২৮ আগস্ট ২০১৮, ১১  ভাদ্র ১৪২৫ মঙ্গলবার সূর্যোদয় ৫টা. ২০ সূর্যাস্ত ৫টা. ৫৮  



শ্রদ্ধাঞ্জলি~
জন্ম – স্বর্ণকুমারী দেবী,  প্রয়াণ- শিবরাম  চক্রবর্তী  







।। শান্তি ।।

সোমবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৮

আজকের দিন । বাংলা ।। নবপর্যায়-৬০০ । অষ্টম বর্ষ । সংখ্যা-১৩ । ২৭-০৮-২০১৮


২৭ আগস্ট ২০১৮, ১০  ভাদ্র ১৪২৫ সোমবার সূর্যোদয় ৫টা. ২০ সূর্যাস্ত ৫টা. ৫৯


।। শান্তি ।। 

বুড়ো শিকড়ের আত্মকথন রাহুল গঙ্গোপাধ্যায় ৷ বাংলা ৷ নবপর্যায়-৬০০ ৷ ২৭-০৮-২০১৮ ৷


বুড়ো শিকড়ের আত্মকথন
রাহুল গঙ্গোপাধ্যায়

কেটে যাচ্ছে গড়পড়তা সময়, বৃত্তীয় বিন্দুগুলোকে অনুসারী যাপন করে।এঁকে যাচ্ছে রঙপেনসিলের রাস্তা ~ স্বযাপনের কাঠপেন্সিল-স্কেচ।আসলে ধ্রুবতারা যখন বড়ো হয়ে ওঠে, হয়তো তার প্রতিফলনও আকারে বেড়ে যায়, না কি কম ~ এই সব জটিল কোলাহলে সকলকে আশ্রয় দিতে চায় : মাচানতলার অধুনা ভ্রূণ, আমাদের এই গল্পের নায়ক।কোলাহলমুখর আশপাশ / একেএকে সূর্য থেকে চাঁদতারা, আর তাদের ছায়া ~ এটাই হয়তো সভ্যতার ক্রমপরিবর্তন।সে ভাবে আর, বেড়ে ওঠা বয়স তাকে দেখায় ও ভাবায়।মাটির উষ্ণতার ওঠানামায় সে বুঝতে তার বয়স, চারপেয়েদের তৈরি করা শীত বা শীতলতা।এভাবেই একদিন কোলাহল সমীকরণে সে দেখে চারপেয়ে কিছুকিছু হঠাৎ কেমন দুপেয়ে হয়ে হেঁটে বেড়ানো শুরু করেছে।এক বিস্মিত আওয়াজ / অথবা তাদের, তাকে কেন্দ্র করে মেঘবৃষ্টিরোদ-কে ডাকা বা ঘুম পাড়ানো।বড়ো আদর অনুভব করে সে।সে বুঝতে পারে, গোটা মাটিটাকেই সে ছায়া দিয়ে / ঢেকে / না ঢেকে / চুমু খেয়ে / হাত বুলিয়ে ~ জাদুকাঠি আগলে রাখছে।আর এটাই তার সভ্যতাকে কথা দেওয়া আশ্রয়।এই ব্রহ্মাণ্ড কতোই না জানি রঙঘোরে মশগুল।জোনাকির টিপ আর নানান্ শব্দের আবহাওয়ায়, নিজেকে কোনো বিস্মরণের আড়াল নয়।বরং ভালোবাসাবাসির গুহায়, তার হাত বিস্তৃত ও সবল।কথা বলে সে, শব্দের সাথে ও বিপরীত শব্দের সাথে।আস্তেআস্তে মনকেমন করা ঘুমের ঘোরে সে ঘুমিয়ে যায় অনেকক্ষন ধরে, অনেককাল ধরে।মনেমনে ঘুরে আসে রঙিন প্রজাপতির পিঠে চড়ে, মেঘছানা আর নূরপরিদের ছমছমানি দেশ থেকে।মশগুল সবাই।মশগুল সব সবুজ, সমস্ত সাতরঙা ভালোলাগার মাটিবেশ / জল / আকাশ।





বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়ের ২টি কবিতা ৷ বাংলা ৷ নবপর্যায়-৬০০ ৷ ২৭-০৮-২০১৮



বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়ের ২টি কবিতা

যেখানে যতিচিহ্ন নেই

যেখানে যতিচিহ্ন নেই
তার ঠিক কয়েক কদম দূরে থেমে আছে
আমাদের উষ্ণতার বোধ
রঙ বদলাতে বদলতে কখন নেমে আসছে
সায়াহ্নের সহবাসী আলো
চোখ থেমে যাওয়ার পর
আলোর কোন গতিবেগ নেই।


আঁধার কানালী

রাত ফিরিয়ে দিয়েছে তার সমস্ত বন্ধুতা
প্রশ্নাতীত শব্দে সুরক্ষিত আছে
আমাদের নিজস্ব আড়াল

কেউ কিছুই দেখতে পাচ্ছে না এখন
আমার স্পর্ধা নেই
অন্ধকার ধানখেতের গায়ে
স্বপ্নের আফর রুয়ে যাই…..


দেবজ্যোতি রায়৷ বাংলা ৷ নবপর্যায়-৬০০ ৷ আজকের কবিতা, কবিতা ৷ ২৭-০৮-২০১৮,

দেবজ্যোতি রায় 
খণ্ডদৃশ্য 


একটা ছায়া তার চোখ থেকে নেমে মিশে যাচ্ছে 
অন্ধকারে একটা গাছের দেহে । একটা সাদা ব্রা ।
অস্পষ্ট লোকের মতো পেটিকোট । ঊরু থেকে কণ্ঠা পর্যন্ত 
মুণ্ডুহীন বিস্তৃত হাসি ।
বুকের মধ্যে যে চোখ টিপলে 
একটি ডিম্বাকৃতি টেবিল 
নিচে দুই পা 
সাপের মতোন গাছেদের জন্ম প্রক্রিয়ায় 
বোটানির ক্লাসের ধবধবে সাতাশ বছর 
এইসব শিরা উপশিরা গাছেদের পঞ্চেন্দ্রিয়ের
মধ্যেই আছে উত্থান পতন অভিসন্ধি মর্মভেদ ।
দুই পা আরও অসহিষ্ণু হয়ে গাছেদের জাইগোট প্রক্রিয়ায় অচ্ছেদ্য 
এইসব বন্ধন বোঝাপড়া ও ভুবনডাঙার মাঠ ।
হেসে উঠলে অন্ধকার তার ছায়া একটা গাছকে ঘিরে 
নদী ভুবনডাঙার মাঠে নদী ছিলো কি !
এখন ডুবন্ত নদীতে সেই বালক একটা 
প্রচ্ছদহীন ডাল ধরে ঝোলে ছায়াটা 
প্রগল্ভতার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে তার শরীরে ।
কী বেগতিক এই ঊরু থেকে নাছোড়বান্দা 
নাভিদেশ ও বক্ষবন্ধনী পর্যন্ত 
ঠোঁট একদা উষ্ণ ছিলো এখন অগ্ন্যুৎপাত শেষে শরীর বেয়ে নেমে যাচ্ছে সাপের শীতল হাসি 
ও স্রোত ।
ঘুম !
না ঘুম নয় ।
পর্বতের শীর্ষদেশে একা এই জাগরণ ।
ঈশ্বরপুত্রীদের সঙ্গে খেলাচ্ছলে শরীরের মেদ মাংস মায়ার এই পবিত্র অন্ধকার থাকুক দেয়াল 
পোকাজন্ম ও টানারিকশা ঘিরে ।
একটা নীল মাছি বহুক্ষণ উড়ে 
জগৎটা ওই দিদিমণিসমেত ফের ঢুকে যাচ্ছে 
আমার মধ্যে নাচার ।#


জীবনানন্দ সভাঘরে অণু কবিতা কার্নিভাল ৷ বাংলা ৷ নবপর্যায় -৬০০ ৷ ২৭-০৮-২০১০



শিল্প-সাহিত্যের খবরাখবর । বাংলা ।। নবপর্যায়-৬০০ । অষ্টম বর্ষ । ২৭-০৮-২০১৮



তমালিকা পন্ডাশেঠের ৬২তম জন্মদিন 
রাহুল গঙ্গোপাধ্যায় 


গত ৬ই আগস্ট জাতীয় গ্রন্থাগারের ভাষাভবন, কলকাতায় অনুষ্ঠিত হলো কবি ও রাজনীতিবিদ প্রয়াতা তমালিকা পন্ডাশেঠের ৬২তম জন্মদিন উপলক্ষে এক সাহিত্যানুষ্ঠান।প্রধান অতিথি ছিলেন সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ।উপস্থিত ছিলেন সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, তপন বন্দ্যোপাধ্যায়, অমর মিত্র, সাংবাদিক ও কলামিস্ট শঙ্করলাল ভট্টাচার্য, সংবাদ পাঠিকা ও গায়িকা ইন্দ্রাণী ভট্টাচার্য, প্রমুখ।সাহিত্যচর্চার জন্য পুরষ্কৃত হলেন কবি শ্যামলকান্তি দাশ এবং কবি নলিনী বেরা।পুরো অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিলেন সংবাদ সাপ্তাহিক আপনজন।

রবিবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৮

বই আলোচনা । বাংলা ।। নবপর্যায়-৫৯৯ । অষ্টম বর্ষ । ২৬-০৮-২০১৮ । আলোচক- বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়

সন্ধ্যানদীর দিকে হাঁটে মেয়ে , কাঁখে তার আলোর কলস - তৃষ্ণা বসাকের কবিতা
বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়



 যেহেতু আমার কোনদিন জন্ম হয়নি ,
তাই আমি এমনকী একটা এককোষী প্রাণীও
কীভাবে বেঁচে থাকে - শিখে উঠতে পারিনি ।(জন্মহীন)
 এই জন্মহীন রূপান্তরের মধ্যে এক মৌলিক আত্মীয়তার সম্পর্ক লিপিবদ্ধ করেন কবি । সাংস্কৃতিক ঐতিহাসিক এমনকী জৈবনিক বাস্তবতা অনুযায়ী বোধের বিবর্তন এবং চলিষ্ণুতা তাঁর দৃষ্টিতে ধরা পড়ে । তারই আবহে নিজেকে গড়ে নিতে চান এক প্রত্যাখানের ভেতর বসন্তের পুষ্পপাত্রে । একে কি জন্ম বলব আমরা ? এ আসলে আত্ম আবিস্কারনিজের ভেতরের আণবিক অবস্থানকে এক স্বনিরীক্ষার উপকূলভুমির উপর দাঁড় করানো । বহিরঙ্গের আচ্ছাদন ভেদ করে আমরা যদি ক্রমশ স্থির হতে থাকি তাঁর কবিতার চারণভুমিতে তাহলে কী দেখব আমরা ? দেখব যে তৃষ্ণা খুঁজে ফিরছেন এক লৌকিক সরণি যেখানে লেগে আছে অলক্ষ্যের দাগ । ব্যক্তিগত অনুভবকে অতিজীবিত করে তোলার প্রয়াস । অসুখের ভেতর জমতে থাকে ওষুধের ফাঁকা স্ট্রিপ যা দিয়ে তিনি নিরাময়সন্ধানী পুতুলের চশমা বানান । কবিতায় দৃশ্য তৈরি করাই তাঁর কাজ । জীবনের টুকরো টুকরো দেখাগুলো শব্দের বন্ধনীতে গেঁথে রাখেন তিনি । আর দেখেন সন্ধ্যানদীর দিকে হাঁটে মেয়ে , কাঁখে তার আলোর কলস (আলো )এবং তার কান্নার প্রপাত ঝুরি বেয়ে নেমে আসছে দুপুরের কোলে প্রতিদিনকার জীবনযাপনে বাস্তব এবং বাস্তবাতিরিক্ত যে রূপ এবং চরিত্র দেখা যায় , অনুভবলিপির আড়ালে বেজে ওঠে তাই প্রতিফলিত হয় তার শৈল্পিক অভিব্যক্তিতে
সেই শীর্ণ পথটি ধরে
 সরসর বয়ে যায় হাওয়া
 যেন খাঁ খাঁ দুপুর, পুরুষেরা কাজে গেছে
নারীরা তৈরি করে নিয়েছে স্নানের আড়াল
 আমি দুপুরের বুক খুঁড়ে কেবলই বালি তুলে আনি (অপেক্ষার পর )
শুধু বালি নয় এক আশ্চর্য খননকৌশলও তুলে আনেন গভীর অবলোকনের মাধ্যমে। এই পর্যবেক্ষনের ভেতর কোন অস্পষ্টতা নেই , ভনিতা নেই নেই কোন নাটকীয় প্রয়াস বরং আছে এক সোচ্চার ঘোষণা আয়নার সামনে দাঁড়ালে নিজেকে নগ্ন নয় আরও বেশি লজ্জানিবারক মনে হয়রহস্য অতল এক প্রতিবিম্ব ভেসে আসে কবিতার দর্পনে
তোমার শরীর
অচেনার লিপির মতো
 অনেকক্ষণ ধরে হাতড়াচ্ছি , পড়তে পারছি না
কী লেখা এখানে ?
 সমর্পণ ? প্রত্যাখান ?
 উল্লাস ? গরল ?
না বসন্তের ইস্তাহার ? (শরীর ১ ,,)
জন্ম আসলে এক ছায়া । রহস্যের ছায়া । নির্জনের মুঠো থেকে ধ্রুপদী সংকেতের মতো ফুটে ওঠা বনফুল । শরীরের কোষে কোষে জোছনাসমগ্রের উদ্বোধন । সমস্তই শুরু হয় ছায়ার ভেতর থেকে এই কৃষ্ণবিবরের অনন্ত গভীরে সৃষ্টির মুদ্রাদোষ লুকিয়ে রেখেছে কেউ । তাইআমার বাবা মা নিরোধের ব্যবহার করলেই /যে আমার আসা ঠেকানো যেত তা নয়/ আমি আসলে অনেক আগেই রওনা হয়ে পড়েছিলাম ,/ একটা ব্ল্যাকহোলের মধ্যে ” (একটি জাতকের কাহিনী ) এই পরিক্রমন তো অনাদিকাল থেকে গ্রহানুপুঞ্জের জন্মলগ্ন থেকে জীবনের সুত্রপাত যখন কিংবা আরও আরও প্রাচীনতার উপলখন্ড পেরিয়ে বিরতিহীন চলাচলের সুচনাবিন্দু থেকে
 হাঁটতে হাঁটতে হাঁটতে
দেখলাম তখনও বেশ অন্ধকার, সীমান্তরক্ষীরা ঘুমোচ্ছে ।
আমি তাদের ঘুমের তলা দিয়ে সুড়ু করে গলে
একটা নীল জাগরূক মশারীর ভেতর ঢুকে পড়লাম ,
সেখানে দুটো শরীর , নির্বসন ও চক্ষুহীন ,
 পরস্পরকে হাতড়ে পাগলের মতো কিছু খুঁজছিল ,
আমি আবার একটা কৃষ্ণগহ্বরে সুড়ু করে ঢুকে পড়লাম । (একটি জাতকের কাহিনী)  
এই মহাজাগতিক পথের গভীরে রহস্যের কুয়াশা জড়িয়ে রয়ে গেছে অনিকেত বাঁক ।যা স্তব্ধতার বাস্পে জারিত এক উৎসব । এই পথ ব্যক্তিগত । প্রতিপক্ষহীন এক অনন্ত চলাচল
আবারও কোন জন্ম আমার জন্য অপেক্ষা করে আছে
এর বীজের মধ্যে ।
আবার দীর্ণ হতে হতে
 আবার জন্মাতে ও জন্ম দিতে দিতে
 এতদিনে আমি নির্বাণের জন্য প্রস্তুত ।
এরপরও বিলাপ করব না
হা যুবক,
 তুমি এত বৃষ্টি নিয়ে এলে , সব বৃথা গেল ? (জন্মান্তর )
বৃথা নয় এই আয়োজন । গাছের ছায়ায় ঠাণ্ডা মেরে থাকা পথ থেকেই তৃষ্ণা তুলে আনেন ছুটন্ত রাস্তার শেকড় বাকড় কুসুমের পাতারা লাল হয়ে থাকে , এত লাল যে ফুল বলে বিভ্রম হয় । বহন করেন আকাশের নীল চাঁদ , সোনালি সুতোর কারুকাজ আর বিগতজন্মের বিস্ফোরক । যে পথে সন্ধ্যে জমে তাকে চৌচির করে আলো হয় , ভয়ের নির্বাণ চার ফর্মার এই কাব্যগ্রন্থে একটি সাদাপৃষ্টা কেন ? তা স্পষ্ট বোঝা গেলনা ।এতে কি পাঠককে আরও একটি কবিতা পড়বার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হল না ? বইয়ে কোন কোন ব্লার্ব নেই, একে ব্যক্তিগতভাবে অসঙ্গতি বলছি না কিন্তু কোন পরিস্থিতির উপর দাঁড়িয়ে কবিতাগুলির নির্মাণভূমি রচিত হয়েছিল তা জানলে সুবিধে হয় । শেষে কবির ছবি থাকলেও সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নেই এরও কোন বিশ্লেষণ বোঝা গেলনা । প্রচ্ছদ তাৎপর্যপূর্ণ । সুন্দর গেটআপ ।


অজাততক সমগ্র থেকে।। তৃষ্ণা বসাক ।।কলিকাতা লেটারপ্রেস ।। প্রচ্ছদ – মারুত কাশ্যপ ।।১০০ টাকা।। 

কিছু বই কিছু কথা - ২০৫ || নীলাঞ্জন কুমার শিরোনাম নেই শিরোপাও || সুবোধ সেনগুপ্ত || সাংস্কৃতিক খবর ত্রিশ টাকা ।

  কিছু বই কিছু কথা - ২০৫ ||  নীলাঞ্জন কুমার শিরোনাম নেই শিরোপাও || সুবোধ সেনগুপ্ত || সাংস্কৃতিক খবর  ত্রিশ টাকা । এমন কিছু কবিতার বই প্রকাশ...