Monday, September 21, 2020

বিশ্বজিৎ || ঘোড়া || কবিতা

 বিশ্বজিৎ

ঘোড়া



তুমি বরাবর শিক্ষা নিতে

ভালবাসো।শিক্ষার ভেতরেও

একটা শিক্ষা থাকে।অচেনা

গলির ঘ্রাণ...


রক্ত আছে

মাংস আছে


তুমিও বোঝ

নদী কীভাবে বাঁক নেয়।

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৪০.

২১ এবং ২২ জুন মুর্শিদাবাদের দুটি প্রান্ত , রঘুনাথগঞ্জ এবং ফারাক্কায় কবিতাপাক্ষিকের ১০ বছর পূর্তি উৎসবের খবর আগেই লিখেছিলাম। এখন লিখব ভগবানগোলা , বেলডাঙা এবং বহরমপুরের কথা।

১৫ আগস্ট ২০০৩ শুক্রবার সকাল ১০ টার অনেক আগেই আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম এবাদুল হকের বাড়ি। ' আবার এসেছি ফিরে ' সম্পাদক কবি এবাদুল হক আপ্যায়নের ত্রুটি রাখেনি। 

ভগবানগোলা-র এই অনুষ্ঠানটির ছিল দুটি পর্ব। প্রথম পর্বে বাংলা বানান। আলোচনায় ছিলেন মান্যবর অশোক মুখোপাধ্যায় এবং আমি।

দ্বিতীয় পর্বে ১০ বছর ।

আয়োজক মুর্শিদাবাদ সাহিত্য আকাদেমি। আহ্বায়ক এবাদুল হক।

আমি এই অনুষ্ঠান থেকে অনুপ্রণিত হয়েছিলাম। প্রথম কারণ অশোক মুখোপাধ্যায় -এর মতো পণ্ডিত মানুষের সঙ্গে বানানের ক্লাসে মঞ্চ ভাগ করার সম্মান। এর থেকে খুব বেশি চাওয়ার থাকে না। 

দুপুরে খাওয়া-দাওয়া নিয়ে মাত্র একটা কথাই বলব : সকলে একসঙ্গে বড়ো তৃপ্তি করে খেয়েছিলাম।

দ্বিতীয় পর্বে কবিতাপাক্ষিক-এর ১০ বর্ষ পূর্তির ২৬ তম উৎসব । এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিখিলকুমার সরকার সন্দীপ বিশ্বাস সমরেন্দ্র রায় শাহজাদ হোসেন নুরুল আমিন বিশ্বাস কবিরুল ইসলাম কঙ্ক অপরেশ চট্টোপাধ্যায় আব্দুল বারি মোজাম্মেল হক  গীতা কর্মকার নীলিমা সাহা রাজন গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ মুর্শিদাবাদ -এর বিশিষ্ট কবিজনেরা। কলকাতা থেকে নাসের হোসেন গৌরাঙ্গ মিত্র এবং আমি। 

এবাদুল জানালো কবি কার্তিক মোদকও গিয়েছিল ভগবানগোলা।

রাত্রে ফিরে এসেছিলাম বহরমপুর।ে। চিরটা কাল বহরমপুরে আমাদের থাকার দায়িত্ব পালন করে এসেছেন কবি সন্দীপ বিশ্বাস। রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের গেস্ট হাউস ছিল আমাদের স্থায়ী ঠিকানা। আর খাবার পৌঁছে দেবার দায়িত্ব পালন করে সমর মাস্টার বা কবি সমরেন্দ্র রায়।

পরের দিনের উৎসব বেলডাঙায়। আয়োজক কবিরুল ইসলাম কঙ্কো 'এখন প্রতিচ্ছবি ' পত্রিকার পক্ষে।

১৬ আগস্ট শনিবার দুপুর দুটোয় বেলডাঙা সি . আর. জি এস স্কুলে অনুষ্টান শুরু হয়ে হয়েছিল। বহরমপুর এবং আমাদের টিমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন স্থানীয় কবিজনেরা।

এই উৎসব-কে কেন্দ্র করে বেলডাঙা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের কবিদের মধ্যে যে উৎসাহ দেখেছিলাম , তা এখনো ভুলে যাইনি। কবিরুল এই উৎসবকে যেভাবে গ্রহণ করেছিল তার নজির খুব বেশি নেই।

১৭ আগস্ট রবিবার দুপুর একটায় বহরমপুরের ঐতিহ্যময় গ্রান্ট হলে  উৎসবের আয়োজক কবি সন্দীপ বিশ্বাস। সন্দীপ বিশ্বাস -এর একমাত্র বিকল্প হল সন্দীপ বিশ্বাস। 

অরিজিন্যাল এবং বিকল্প , এই সন্দীপ বিশ্বাস একাই একশো। তা আরো একবার প্রমাণিত হয়েছিল। মনে হচ্ছিল গ্রান্ট হলে চলছে গ্রান্ড কার্নিভাল।

 এবার একটু আত্মপ্রচার করা যাক। আমি তথা আমরা কী অসাধ্যসাধন করেছিলাম তার কোনো জেরোক্স হয় না। অন্য কেউ এরকমটা করা তো দূরে থাক , করার কথাও ভাবতে পারেন না।

একবার ধ্যান দিয়ে দেখুন :

১৫ আগস্ট ,সকাল১০টা -- ভগবানগোলা।

১৬ আগস্ট ,দুপুর ২ টো -- বেলডাঙা ।

১৭ আগস্ট ,দুপুর ১টা -- বহরমপুর।

এই টানা তিনদিনের কবিতাযাত্রার নজির খুঁজে দেখুন। খুঁজে পেলে আমাদের জানান।

আটপৌরে কবিতা || নীলাঞ্জন কুমার || ৮০১-৮০৫

আটপৌরে কবিতা

নীলাঞ্জন কুমার



৮০১

দুর্জন/  কুঁচুটে/  কুটনি
        ) কুবুদ্ধি  (
মেগা সিরিয়ালে  তারা ছয়লাপ ।

৮০২

সৎ/  সজ্জন/  সৎসঙ্গ
          ) সুবুদ্ধি (
তারাই কেবল  শ্রদ্ধা পায় ।

৮০৩

ছবি/ একাধিক/  অবিন্যস্ত
       ) কোলাজ  (
শিল্পীর হাতে হয় মূর্ত ।

৮০৪

আড়াল/  সন্দেহ/  প্রশ্ন
         ) গোপনীয়তা  (
একদিন ঠিক রহস্যভেদ হয় ।

৮০৫

ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র/  অধম/  অনালোকিত
             ) হীনমন্যতা  (
  ভেতরে গ্রাস করলে হতাশা ।

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

 কিছু বই কিছু কথা। নীলাঞ্জন কুমার 



' এসব আগুন দিনের ফাঁকে  / হাঁটু মুড়ে বসে থাকা মৌণ মানুষ/  বাগিচার মূর্তির মতো আজও/  সদর ভাঙা আলোর অপেক্ষায় ....' ( ' পুনর্জন্ম ') , ' পথিক শেষ পোশাক খুলে/  আরো নিঃসঙ্গ হতে চায় ' ( ' রিক্ত ' ) এসব অনাবিল উচ্চারণের ভেতর দিয়ে নিজের কাব্যগুণ চিন্হিত করে তোলেন কবি অজয় বিশ্বাস তাঁর ' নাবিকের চোখে অরন্যরেখার স্বপ্ন ' কাব্যগ্রন্থের মধ্য দিয়ে ।

             অজয় বিশ্বাস সেই কবি যিনি তাঁর কাব্য সত্ত্বা নিয়ে প্রচার উন্মুখ নন। বরং একেবারে নিস্পৃহ । তিনি এক ধরনের নিঃসঙ্গতার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছেন ।সেই বন্ধুত্বের ভেতর দিয়ে আসে কবিতা ।

             সেই কবিতা কেমনভাবে লিখবেন তা সম্পূর্ণ তাঁর নিজস্ব বিষয় । শুধু দেখতে হবে সে কবিতা পাঠক হৃদয়ে মিশে যাচ্ছে কিনা । তা হচ্ছে বলে বিশ্বাস হয় এই সব পংক্তির কারণে : ' মুঠো মুঠো আগুন সেতো থাকবেই/  জেগে আছে অর্ধ শরীরী চাঁদের মুখ/  ঘড়ির কাঁটা মেপে তাকে রক্তে মেশাই/  আজন্ম ...' ( ' আজন্ম ')।

          কবির নৈসর্গিক সৌন্দর্য যাপন ও এক অপার্থিব ভাবনার ভেতর দিয়ে জেগে ওঠা কবিতা ভালো লাগে । আবার ' বৃষ্টিপাতের পর পাখি নেবেই তার আকাশের অধিকার । ' - এর মতো ম্যাজিক কবিতা তাঁর কাছে পাই । বহুদিন তাঁর কাব্যগ্রন্থের কোন সন্ধান নেই । এই কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ পেয়েছিল আঠারো বছর আগে । কবিকে পত্র পত্রিকায় পাওয়া যায় না । তিনি লিখুন, পাঠকের তাঁকে প্রয়োজন । বিজয় দত্তের প্রচ্ছদ তেমন জমে না ।

টবের পরিধি || কার্তিক ঢক্ || কবিতা

 টবের পরিধি 

কার্তিক ঢক্ 




পাতাঝরার যন্ত্রণায় গাছেরা কেঁদে উঠলে

হাওয়ার সান্ত্বনাই সম্বল...


হাওয়ার কোড্ ল্যাঙ্গুয়েজ না জানায়

আমাদের ম্যাগনিফাইন গ্লাসেও

অন্ধত্ব জমে থাকে!


আর এইসব রেসিপি বোঝে না  ব'লে

অন্ধকার শ্যাওলায় পা পিছলে-

গোলাপের অভিমানী পাপড়িগুলি

ঝরে পড়ে টবের পরিধি জুড়ে...


Sunday, September 20, 2020

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || নারী~ গৌতমকুমার দে

 কিছু বই কিছু কথা। নীলাঞ্জন কুমার 



নারী । গৌতমকুমার দে । প্রোরেনাটা । কুড়ি টাকা ।


কোন পুরুষ কবি যখন নারীকেন্দ্রিক কবিতা লেখার জন্য তৈরি হন তখন তাঁর কলমে স্বভাবতই শরীরী প্রেম উঠে আসে । একজন পুরুষের কাছে  নারী মানে প্রেম,  এটাই যেন প্রকৃত সত্য । কিন্তু তা যে আপেক্ষিক সত্য তা তাঁরা বোঝেন না । তাই তাঁরা কিছু আলুলায়িত কবিতার ভেতর দিয়ে ভ্যাদভ্যাদে প্রেমের কবিতা লিখে ফেলেন । তারমধ্যে না থাকে প্রজ্ঞা  , না থাকে শ্রদ্ধা । তাই অবলীলায় যখন কবি গৌতমকুমার দে লিখে চলেন:  ' শুধু তুমি নাকি অন্য কেউ/  বুকের ভেতর তোলপাড় করে ঢেউ ' ( ' তুমি নারী তাই '), ' আমাদের রজনীগন্ধা শুকিয়েছে ভোরে/  আমাদের ভালোবাসা রাত্রি মনে রাখেনি ( ' অধরা ')যখন তাঁর ' নারী 'কাব্যগ্রন্থ টিতে লেখেন তখন তা প্রেমের কবিতা হতে পারে কিন্তু সম্পূর্ণতঃ নারীগত কি? 

                একজন পুরুষের যেমন নরীর সঙ্গে শরীরী প্রেম হতে পারে তেমনি কারোর পুরুষ কিংবা ট্রানজেন্ডারের সঙ্গে সেই প্রেম হতে পারে,  তার বহু প্রমাণ আছে । তাই ' নারী তুমি পতঙ্গের মতো জ্বলে মরো হলুদ আগুনে ' ( 'ইচ্ছামৃত্যু ') লিখতে গিয়ে একটু ভাবা উচিত ছিল কাব্যগ্রন্থের নাম ' নারী ' । নারীর প্রধান কাজ শুধু কামিনী হওয়া নয় । 

           যদিও কবিকে তার কাব্যকৃতির জন্য অস্বীকার করা যায় না । দীর্ঘদিনের কবিতা লেখা এই কবি কবিতার গুণে পরিণত তার প্রমাণ:  ' মেয়েরা কবি হলে/  সমস্ত অসুখী বালক হেসে উঠবে হো হো করে । ( ' ভাগ্যিস ')-এর  মতো ভালোলাগা উচ্চারণ ।  কবি যদিও কখনো সখনো অন্যভাবে নারী নিয়ে চিন্তা করেছেন তবু  প্রেম অনেক বেশি আটকে থাকে দুই মলাটের ভেতরে । নির্মলেন্দু মন্ডলের প্রচ্ছদ খুবই সাধারণ মানের ।

অণুকবিতা || ফটিক চৌধুরী



অণুকবিতা || ফটিক চৌধুরী



পাঁচ লাইন

১) ভুল ভাবে বাঁচা হয়ে গেল

২) অদৃশ্য? দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তরের অন্ধকার

৩) আমার অন্ত ছোটে অনন্তের দিকে

৪) কায়াগুলো ছায়া হয়ে অদ্ভুত মায়াময়।


ছয় লাইন


১) তোমার চোখে শ্রাবণ আমার চোখে প্লাবন

২)সূর্যালোকে অদ্ভুত আঁধার,সন্ধাগাছে চাঁদ লুকিয়ে

৩) রাস্তায় কোন বাঁক নেই, শুধু করোনার সরলরেখা

৪) ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত পৃথিবী থেমে গেছে গৃহকোণে


সাত লাইন

১)এসো বৃক্ষ, তোমার কাছে এখন প্রকৃতিপাঠ শিখি

২) কোথায় টানবে রাশ, চারিদিকে ছড়িয়ে করোনা ভাইরাস

৩)স্বপ্ন দেখা ভুলে গেছি, বাস্তব সামনে দাঁড়িয়ে

ডুয়ার্স ভূমির কথন || পর্ব চার || নিলয় মিত্র।

 ডুয়ার্স ভূমির কথন। পর্ব চার।

নিলয় মিত্র। 




    সাঁওতাল সমাজের প্রাচীন বিবাহ পদ্ধতি আজও অনেকে

অনুসরণ করেন।

১.কিরিঙ-বাই-বাপলা: কনে দেখতে যাবার সময় কনো অশুভ ঘটনা দৃশটিপথে পড়লে ,তাঁরা সে বাড়িতে বৈবাহিক  সম্বন্ধ করেননা।গরু

বাঘের ছাপ, কিংবা জল ভরা 

কলসি দেখা শুভ লক্ষণ।আগুন,সাপ,বা স্ত্রীলোকের মাথায় জ্বালানি কাঠের বোঝা 

দেখা অশুভ লক্ষণ।বিয়ের কয়েক দিন আগে বিয়ের মন্ডপ তৈরি করা হয়।জাহের এরা,মড়েকো এবং মারাং বুরুর উদ্দেশ্যে তিনটি মুরগি 

উৎসর্গ করা হয়।পূর্বপুরুষের উদ্দেশ্যে হাঁড়িয়া উৎসর্গ করা হয়।এ বিয়েতে শুধু কন্যাপন দরকার করা হয়।

২.টুংকি-দিপিল-বাপলা:এটা গরিবদের বিয়ে,ঢাক ঢোল বাজেনা।

৩.ওর-আদের-বাপলা: হিন্দু শাস্ত্র মতে এ হলো রাক্ষস বিয়ে।ছেলে মেয়েকে পছন্দ করেছে কিন্তু মেয়ে ছেলেকে পছন্দ করেনি।ছেলে জোর করে মেয়েকে বিয়ে করেছে।

৪.ইর-বল-বাপলা:,ছেলে মেয়ে

রাজি,কিন্তু অভিভাবক বাধা দিচ্ছেন।জগমাঝির সাহায্যে 

মেয়ে সংসারে প্রবেশ করে।

৫.ইতয়-সিঁদুর-বাপলা:এ হলো 

জবরদস্তি মূলক বিয়ে।ছেলে মেয়ের ভাব ভালোবাসা আছে

কিন্তু অভিভাবক বাধা দিচ্ছে।এবার ছেলে একদিন সুযোগ

মত্ জোর করে মেয়ের সিঁথিতে সিঁদুর লাগিয়ে দেয়।

মেয়েটি চলে যায় স্বামীর সাথে।

৬.সাঙ্গা:বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্ত মেয়ের সাথে বিয়ে।

৭.কিরিও জাওয়ার বাপলা:

এই বিয়েতে বরপন দিয়ে জামাই ক্রয় করা হয়।

    সাঁওতালরা অন্য সম্প্রদায়ে 

বিয়ে করলেও তা ভালো চোখে দেখা হয়না।

সাঁওতালরা মৃতদেহ দাহ করে।যাঁরা খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণ করেছেন তাঁরা কবর দেন। অন্তঃসত্ত্বা নারী বা শিশুর মৃতদেহ দাহ করা হয়না।শ্বশানে যাবার পথে খই ও তুলা বীজ ছড়িয়ে 

দেয়।চিতা সাজানোর পরে একটি মুরগির বাচ্চা বলি দেওয়া হয়।পাঁচদিন পর "তলনাহান" অনুষ্ঠান হয়।তখন মারাংবুরু ও পূর্বপুরুষ

দের উদ্দেশ্যে মুরগি ও হাঁড়িয়া

উৎসর্গ করা হয়।

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১৩৯ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী




১৩৯.

আমার যে বয়স বেড়ে চলেছে , এই সত্যটি এতদিন বিশ্বাস করতাম না। ভাবতাম আমার বয়স এক বিন্দুতে স্থির থাকবে। কিন্তু ইদানীং ধরা পড়ে যাচ্ছি নিজের কাছে। কারণ সব স্মৃতি ফিরে আসতে চাইছে না। এটা সম্ভবত বয়স -বৃদ্ধির লক্ষণ। এই লেখার তথ্য সংগ্রহের জন্য মতি-কে , মুহম্মদ মতিউল্লাহ-কে ফোন করতে হচ্ছে। গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়-কে ফোন করতে হচ্ছে। 

ঘটনাগুলো ছবির মতো মনে আছে। ভুলে যাচ্ছি নামগুলো। ব্যক্তির নাম , জায়গার নাম। 

আজ যেমন হয়েছিল। উদ্ধার করল মতি। মতি-কে ধন্যবাদ দেবার মতো স্পর্ধা যেন আমার না হয়।

৯ আগস্ট ২০০৩ খাজুরডিহির অনুষ্ঠানের পর ফিরে এসেছিলাম কাটোয়ায়। লজ অশোক-এ। 

বলে রাখা বা জানিয়ে রাখা কর্তব্য  কাটোয়া এবং প্রভাত চৌধুরী এই দুটি নামপদের সঙ্গে দীর্ঘকাল যুক্ত আছে লজ অশোক। আর লজ অশোক-এর সঙ্গে যুক্ত আছে অসিত বন্দ্যোপাধ্যায় নামপদটি।

১০ আগস্ট সকালে ১০ বছর পূর্তি উৎসবের বাইরে একটা যাত্রাপথ নির্ধারিত ছিল। সেই মতো সকালের দিকে এসে গেলেন কবি ড : গোবিন্দরাম মান্না। আমরা চললাম খাজুরদিহি-র পথে বা গতকালের পথে। 

ডা: হরমোহন সিংহ নামটি আমাদের খুবই পরিচিত নাম। এক সময় কাটোয়ার এম এল এ ছিলেন।  পুরোনো বামপন্থী। চালাক-চতুর বামপন্থী নন। তিনি নিজ উদ্যোগে একটি সেবা প্রতিষ্ঠান বানিয়েছেন। আনন্দ নিকেতন। চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না , ঠিক এই মাপের একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব। একক প্রচেষ্টায়।

[19/09, 7:52 pm] Kobi Prabhat Chowdhury: ১৩৯ ॥ শেষাংশ


বলা হয়নি এই তীর্থযাত্রায় মুহম্মদ মতিউল্লাহ-ও যুক্ত ছিল। আনন্দ নিকেতন স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি সংস্থা। সমাজসেবার প্রতিটি শাখা শাখা-বিস্তার করে বিরাজ করছে স্বমহিমায়। 

ডা : মান্না খবর পাঠিয়েছিলেন ডাক্তার হরমোহন সিংহ- কে।  তিনি নিজে উপস্থিত হয়ে আমাদের ঘুরেঘুরে সব দেখালেন। কোনো অহংকারের চিহ্ন চোখে পড়ল না। মনে হচ্ছিল আমাদের দেখানোর জন্য উনি নিজে ধন্য হচ্ছেন। একটা কথা খুব ভয়ে ভয়ে বলছি , প্রকৃত বামপন্থী মানুষ বলেই এই কাজ করতে সমর্থ হয়েছেন। রাস্তার উলটো দিকে বেশ অনেকটা জায়গা নিয়ে একটা মানসিক রোগের চিকিৎসার জন্য একটা হাসপাতালও বানিয়েছেন। মনে রাখবেন , আমি আবার বলছি পুরো প্রকল্পটি একক প্রচেষ্টায়।

আজ বিকেলে মতি জানালো আনন্দ নিকেতনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন কমরেড হরমোহন সিংহ-র পুত্র , তিনি নিজেও ডাক্তার।


বিকেলে লজ অশোক-এর সভাঘরে ছিল ১০ বর্ষ পূর্তির ২৫ তম অনুষ্ঠান। আহ্বায়ক : তুষার পণ্ডিত মুহম্মদ মতিউল্লাহ এবং অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়। রবীন্দ্রগান শুনেছিলাম মৌমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কবি জপমালা ঘোষরায়- এর কণ্ঠে ।

কবিতাপাক্ষিক ২৫৮ -র আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন তুষার পণ্ডিত। উৎসব কমিটির পক্ষে  তুষার পণ্ডিত সম্পাদিত ও প্রকাশিত ' স্মারক ' সংকলনটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করে নাসের হোসেন । রুদ্র কিংশুক  সম্পাদিত ইংরেজি পত্রিকা The Peripheral Window -এর প্রথম সংখ্যাটির প্রকাশ করেন চিরঞ্জীব মুখোপাধ্যায় ।

কবিতা সংবাদে নাসের হোসেন লিখেছিল : এই অনুষ্ঠানটির উচ্চতা এবং ঘনত্ব মনে রাখবার মতো ।

আগামীকাল আবার ফিরে যাচ্ছি মুর্শিদাবাদ ।

আটপৌরে কবিতা || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

 আটপৌরে কবিতা

নীলাঞ্জন কুমার




৭৯৬

মেলামেশা/  স্পর্শসুখ/  আলিঙ্গন
          ) সংস্পর্শ  (
শিহরণ আবেগ কামনা চাহিদা ।

৭৯৭

অপরাধ/  কলঙ্ক/  খানাতল্লাসী
      ) লোকলজ্জা  (
মুখ দেখানোর জো থাকে না ।

৭৯৮

শুভ/  মঙ্গল/  সমৃদ্ধি
       ) লক্ষ্মীমন্ত  (
হয়ে যায় নবাগতা বধূ ।

৭৯৯

অবমানব/  হিজড়ে/ ক্লীব
        ) বৃহণ্ণলা  (
সমাজে এদের কত অবহেলা !

৮০০

চুক্তি/  নীতি/ লিখিত
        ) শর্ত  (
মানলে দেনা পাওনা ঠিক ।


Saturday, September 19, 2020

সবাই মিলে সিনেমা হলে (১৪) || কান্তিরঞ্জন দে || কিভাবে সিনেমা " দেখব ?"

 সবাই মিলে সিনেমা হলে (১৪)



কিভাবে সিনেমা "  দেখব ?"


       সত্যি সত্যি যদি সিনেমার রূপ রস দৃশ্যসুখ উপভোগ করতে চান, তাহলে আগ্রহের সঙ্গে আপনাকে কতগুলো দিকের নিয়মিত চর্চা করতেই হবে । যেমন------

      ১) ১৮৯৫ সালে সিনেমার জন্ম লগ্ন থেকে বিশ্ব সিনেমার ধারাবাহিক ইতিহাস জেনে নিতে হবে । এটা করতে পারেন---( ক)  বাংলা এবং ইংরিজিতে সিনেমার ইতিহাসের বইপত্র পড়ে । ( খ ) ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে ১৮৯৫ সালে লুমিয়ের ভাইদের তোলা আদি সিনেমা থেকে একদম সাম্প্রতিক কালের সিনেমা, আপনি পরপর পেয়ে যাবেন ইউ টিউব চ্যানেলে ।


        দেশে দেশে নানা ধরণের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের  মতো সিনেমা মাধ্যমটিও দেশ ভেদে নানান বৈচিত্র্যে  ভরপুর । হলিউডের সিনেমাই পৃথিবীর একমাত্র সিনেমা নয় । ব্রিটিশ ফিল্ম এবং অ্যামেরিকান ফিল্ম ভাষা এবং  সংস্কৃতির দিক থেকে অনেকটা একইরকম লাগে । 

      কিন্তু, জার্মানি , ফ্রান্সের মতো পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলির সঙ্গে পোল্যাণ্ড কিংবা চেকোশ্লভাকিয়া সহ পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর সিনেমার সঙ্গে হলিউডের  সিনেমার ধরণধারণ অনেকটাই আলাদা ।

     ফ্রান্স, জার্মানি , পোল্যাণ্ড তো নানা ধরণের চলচ্চিত্র রীতির আন্দোলনের জন্যও বিখ্যাত ।


      তেমনি আবার , দক্ষিণ অ্যামেরিকা বা ল্যাতিন অ্যামেরিকার  সিনেমায় গল্প কথন রীতি একেবারেই আলাদা । সেখানে সিনেমায় গল্প বলার রীতিকে ভেঙ্গে চুরে , কাহিনীর গতিকে আগুপিছু করে দারুণ  বুদ্ধিদীপ্ত ভাবে পরিবেশন করেন ওরা । নিয়মিত ওই সব সিনেমা দেখতে দেখতে তার মজাটাও পেতে থাকবেন আপনি ।


        এশিয়ার মধ্যে জাপানী চলচ্চিত্র, বিশেষত আকিরা কুরোশওয়া পরিচালিত ছবিগুলি তো সারা পৃথিবীর চলচ্চিত্র রসিকদের কাছেই অসম্ভব প্রিয় । কুরোশওয়া তো হলিউড ফিল্ম কোম্পানি গুলোরও টনক নাড়িয়ে দিয়েছিল ।


    গত ২৫/ ৩০ বছরে ইরাণে নির্মিত সিনেমা , কিংবা কোরিয়ার সিনেমা তাদের  অভিনব ও আধুনিকতম সিনেমা রীতিতে সারা পৃথিবীতেই হৈ চৈ ফেলে দিয়েছে ।


     আমাদের দেশে হিন্দি সিনেমাকে আমরা বরাবরই বাণিজ্যিক সিনেমার প্রতিভূ হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত । কিন্তু সিরিয়াস চলচ্চিত্র রসিকেরা জানেন , সেই ১৯৩০-এর দশক থেকেই হিন্দি সিনেমা জগতেও প্রচুর ব্যতিক্রমী ছবি তৈরি হয়েছে । গত ১০/১৫ বছরে অনেক  শিক্ষিত তরুণেরা এসে মুম্বাই সিনেমাতেও  বেশ কিছু বুদ্ধিদীপ্ত সিনেমা তৈরি করেছেন / করছেন ।


     বাংলা সিনেমার কথা আর আলাদা করে বলছি না । বাঙালির পক্ষে  সেই তিরিশের দশকে নিউ থিয়েটার্সের আমল থেকে সত্যজিৎ- ঋত্বিক-মৃণাল-তপন সিংহ- তরুণ মজুমদার হয়ে হাল আমলের বাংলা সিনেমার  গুণাগুণ  ধারাবাহিক ভাবে জেনে নেওয়া কঠিন কোনও ব্যাপার নয় ।


     সিনেমা যেহেতু চিত্রকলা , সংগীত , গল্প-উপন্যাস- কবিতা-নাটক   সবক'টি  প্রচলিত শিল্প মাধ্যমের সংমিশ্রণে তৈরি হয় , তাই সিনেমার ধারাবাহিক ইতিহাস জানবার পর এই প্রচলিত শিল্প মাধ্যম গুলির সব ক'টি সম্পর্কেই আপনাকে অন্তত প্রাথমিক ধারণাটুকু চর্চার মধ্য দিয়ে তৈরি করে নিতেই হবে । বিশেষত , চিত্রকলা এবং সংগীত ( পাশ্চাত্য সংগীতের সোনাটা ফর্ম ) সম্পর্কে ধারণা থাকলে, যে কোনও দেশের , যে কোনও রীতির সিনেমার রস গ্রহণ আপনার পক্ষে অনেক সহজ ও আনন্দময় হয়ে উঠতে পারে ।

      ভালো সিনেমার গভীর রসগ্রহণ যে কত আনন্দজনক , যারা জানেন , তারা জানেন । বুঝহ রসিকজন , যে জানহ সন্ধান ।


    ঠিকঠাক ভাবে  সিনেমা দেখতে পারার  মধ্য দিয়ে গভীর আনন্দ পাওয়ার আরও কিছু সুলুক সন্ধান আছে ।

     সে সব পদ্ধতি নিয়ে আরও কিছু কথা বলবার ইচ্ছে রইল , পরের বারে ।।

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১৩৮ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী





১৩৮.

আমার কাছে দক্ষিণেশ্বরের পরিচিত আত্মজন বলতে ড: প্রদীপ ঘোষ। তাঁর কাছে পৌঁছনোর জন্য যেতে হবে ১৬ /৭ বাচস্পতি রোড। তো পৌঁছে গেলাম সবান্ধব।বসার ঘরটি রূপান্তরিত হয়েছে সভাগৃহে। এসে গেছেন সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়। উপস্থিত উৎপল ফকির এবং সহজ মা। আর আমাদের ফুল টিম।অনুষ্ঠানে সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য এখন শুনতে পাই। যদিও ক্যালেন্ডারে সেদিন ২ আগস্ট , শনিবার।

আর সহজ মা এবং উৎপল ফকির মাতিয়ে দিয়েছিল উৎসবকে। আমাদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল।


৩ আগস্ট ছিল বারুইপুর। ঘরোয়া অনুষ্ঠান। কবি-সাহিত্যিক জয়দীপ চক্রবর্তী-র বাড়ির এই সমাবেশ ছিল আন্তরিকতায় পরিপূর্ণ। কলকাতা থেকে গিয়েছিলাম ধীমান চক্রবর্তী রামকিশোর ভট্টাচার্য নাসের হোসেন ঠাকুরদাস চট্টোপাধ্যায় এবং আমি।


কবিতাপাক্ষিক-এর ১০ বছর পূর্তি উৎসবের কথা লিখে চলেছি। ২৪ তম অনুষ্ঠানটি ছিল কাটোয়া মহকুমার খাজুরডিহি-তে। প্রখ্যাত বোলানগান রচয়িতা মধুসূদন ঘোষালের জন্মভিটা খাজুরডিহি।

বিশেষ আকর্ষণ ছিল মধুসূদন ঘোষালের সুযোগ্য পুত্র নীরদবরণ ঘোষালের বোলানগান। আহ্বায়ক : 'অজয় ' এবং ' বিস্তৃতি ' পত্রিকার পক্ষে দীপংকর ঘোষ তারকেশ্বর চট্টরাজ অসিত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাপসকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। এঁরা এবং আমি  একটি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রকাশ করে প্রয়াত মধুসূদন ঘোষালের স্ত্রী রেখা ঘোষালের হাতে তুলে দিয়েছিলাম আমি।

তাপসকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত ' বিস্তৃতি '-র বিশেষ বোলান সংখ্যার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেছিলাম আমি। তারকেশ্বর চট্টরাজ সম্পাদিত 

' অজয় '- এর তারাশঙ্কর সংখ্যার প্রকাশ করেছিল মুরারি সিংহ।

এই উপলক্ষে অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের  ' খাজুরডিহি গ্রাম পরিচিতি ' শীর্ষক একটি গ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছিল।

তখন বর্ষাকাল। ধান রোয়ার কাজ শেষ করে হাজার খানেক মানুষের জমায়েত। আমার মনে হয়েছিল যেনবা রাজনৈতিক সমাবেশ। কবিতার অনুষ্ঠানে এই জমায়েত আমার ভাবনাতেও ছিল না। আমার বিশ্বাস , তা প্রকাশ করতেও কোনো দ্বিধা নেই। এই অনুষ্ঠানের যাবতীয় কৃতিত্ব  খাজুরডিহির বাসিন্দা কবি-ফটোগ্রাফার অসিত বন্দ্যোপাধ্যায় , তাপসকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় , ভগবাহাদুর সিং প্রমুখ কবিদের।

আমার বলার ডাক এল। ছোটো মঞ্চ। দর্শক বা শ্রোতারা সব খোলা আকাশের নীচে। বলতে শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হল বৃষ্টি। কে যেন আমার মাথার ওপর ছাতা ধরতে এগিয়ে এসেছিল। আমি ছাতা সরিয়ে দিয়ে বলেছিলাম :

এত মানুষ সারাদিন কৃষিকাজে ব্যস্ত ছিল। বৃষ্টিতে কাজ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি।বা ছাতার তলায় আশ্রয় নেয়নি। কবিতা লেখাও তো কৃষিকাজ।  মানবজমিন

রইল পতিত আবাদ করলে ফলত সোনা, ভোলা মন কৃষি কাজ জানো না। কৃষিকাজ যেমন সৃজন , ঠিক তেমনি কবিতালেখাও সৃজন।

তার সমবেত করতালি। আমি ধন্য। এত বছর কবিতা লিখে যা পেয়েছি , খাজুরডিহির মানুষেরা যা দিয়েছেন তার সঙ্গে কোনো তুলনা চলে না। খাজুরডিহির মানুষ আমাকে শ্রেষ্ঠতম পুরস্কারটি তুলে দিয়েছিল আমার হৃদয়ে। আবার বলছি আমি ধন্য।

পরের দিন কাটোয়া-র অনুষ্ঠান। আজকের রাতটা লজ অশোক -এ কাটানো যাক।

আটপৌরে কবিতা ৭৯১-৭৯৫ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা

নীলাঞ্জন কুমার




৭৯১

অব্যবস্থা/  অসহনীয়/  দুর্ভোগ
       ) নাজেহাল  (
সকলকে মাঝেমধ্যে হতে হয় ।

৭৯২

পরিকল্পনা/  স্থিরতা/  সিদ্ধান্ত
       ) আঁটঘাট  (
   না বাঁধলে সাফল্য আসে  !

৭৯৩

সমর্পণ/  মক্কেল/  আদালত
         ) ওকালতনামা  (
  না দিলে উকিল কর্মহীন ।

৭৯৪

প্রমাণ/  তথ্য/  সাক্ষী
     ) সঠিক  (
হলে শাস্তি খন্ডায় কে?

৭৯৫

দোষ/  গুণ/  গর্হিত
     ) কৃতকর্ম  (
যার যেমন ফলাফল তেমন ।


কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || অস্বাক্ষরিত গোপন চুক্তি

কিছু বই কিছু কথা ।   নীলাঞ্জন কুমার 



অস্বাক্ষরিত গোপন চুক্তি । প্রাণজি বসাক । পাঠক । আশি টাকা ।


 '  আমার আঙুল থেকে ঝরে পড়ে অচেনা পংক্তি/  ভাষাহীন বোধ জাগে নিষ্পাপ বালিকাদের শব্দে '( 'শব্দে একফোঁটা জল ') , নিরীহ উড়ালপুলের নীচে থকথকে নিঃশব্দ অন্ধকার/  কেউই জানে না কবে নিশ্চুপ শুয়ে আছে/  ভবিষ্যত সমাচার ' ( ' সংবাদ ')-এর মতো ভালোলাগা উচ্চারণ করতে ধীরে ধীরে দড় হয়ে উঠেছেন কবি প্রাণজি বসাক,  যা তাঁর কাব্যগ্রন্থ ' অস্বাক্ষরিত গোপন চুক্তি 'প্রত্যক্ষ করায় । ইতিমধ্যে কবির নাই নাই করে ষোলটি কবিতার বই প্রকাশ পেয়েছে,  ফলে তাঁর কাছে এ ধরনের কাব্যগ্রন্থ আশা করাই যায় । তবুও অন্তত এ কাব্যগ্রন্থে কবির কিছু সংশয় লক্ষ্য করেছি , কারণ কবিতায় তিনি প্রকৃত কিছু দিতে পারছেন কিনা সে চিন্তায় । 

                 কবির  অত্যন্ত এই কাব্যগ্রন্থে কাব্যিক গাঢ়তা কিছু প্রশংসনীয় । বহুক্ষেত্রে উচ্চারণ সহজ হয়ে এসেছে ও প্রাণ পেয়েছে । সে কারণে প্রাণিত হই:  ' কেউ ই দাঁড়ায় না গান শুনে/পৃথিবী খুলে দেয় রাতপ্রহর ভেঙে ভেঙে ' ( ' বিব্রত অন্ধকার ') , ' কুয়াশা বিশেষে রানওয়ে ব্যবহৃত হয় / নতুবা নিজের কুয়াশায় নিজেই পর্যটক ' ( ' পর্যটক ') । 

                 প্রাণজি বসাকের কবিতার গঠনগত প্রক্রিয়া,  ব্যন্জ্ঞনার মুন্সিয়ানা কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ পর্যায়ের  হলেও,  অনেকক্ষেত্রে তিনি ম্যাজিকের মতো ব্যবহার করেছেন । ' ফর্টিস হাসপাতাল মুখে চিকনাই/  অরুণা আসফ আলী মার্গ  / ডেঙ্গু পজিটিভ বেডে ধবল বাতাস/  অনুচক্রিকা স্বল্পতায় কাঁপে আয়না ।' ( ' ঝলসানো দুঃসময় ') তা প্রত্যক্ষ করায় । পরবর্তী কাব্যগ্রন্থে তাঁর কাছে আরো সুষম কাব্যচিন্তা আশা করবো । দেবাশিস সাহা র প্রচ্ছদটি চমকপ্রদ ।

কবিতা || উনত্রিশ পয়েন্ট ফাইভ - ৪৩ || সোমনাথ বেনিয়া

 কবিতা


উনত্রিশ পয়েন্ট ফাইভ - ৪৩ / সোমনাথ বেনিয়া



বহুদূরে কোনো স্থাপত‍্য হুড়মুড়িয়ে ভাঙছে, কে নাচছে তুমুল

তার পায়ের নুপূর কোন অভিমানে শিলাতে করছে আঘাত

এদিকে কৃষকের ঘাম খেয়ে সূর্যের আয়ু বাড়ছে, লাঙলে নুন

ভবিষ‍্যৎ তখন মিড ডে মিলের ডিমের কুসুমে প্রোটিন খোঁজে

বিভেদের কথা উঠলে রঙের বাক্স খোলা, তুলির মাথাঠোকা শুরু

শিল্পের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ফসলের জ‍্যামিতি প্রকৃতি সুন্দরী

অভিবাদন জানাবে যে আলপথ সে পতাকার রাজনীতির শিকার

তাই কি কেউ জ‍্যোৎস্নাপ্লাবিত রাতে জানালা খুলে বাঁশি বাজায়

বাঁশের মাচার উপর শুয়ে থাকা ভবঘুরের নির্জনতা খানখান

ছুটি দাও ব‍্যাকুল মনের হীন রথে বসে থাকা সারথির মধ‍্যাহ্নকে

অঞ্চল বলতে আঁচল শুনে পাশের বাড়ির ওড়না উড়ে আসে

আশ্চর্য আতরের গন্ধ অসংখ‍্য আসন পাতে প্রিয়জনকে চাইতে

মনের ঘুসঘুসে জ্বর কীভাবে কমবে, ঘুমালে হতাশার ধুনুচিতে

Friday, September 18, 2020

পূরবী-৩৬ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস

পূরবী(৩৬) 

অভিজিৎ চৌধুরী।



হুগলির গঙ্গা আর মা যে"ন মিলেমিশে রয়েছে তীর্থের স্মৃতির খাতায়।এখন খুব বিতর্ক হচ্ছে কোন ভাষা ক্লাসিকাল তা নিয়ে।বাংলা ভাষার বয়স অল্প। এছাড়াও সে ভাষার পিতা আছে।গোদা বাংলায় তার নাম সংস্কৃত।

 আসলে তীর্থের নিজের মতোন করে মনে হয় যে ভাষা একটা কূপমন্ডুকতার আবহে নিজেকে গড়ে তোলে তার মৃত্যু অনিবার্য।

জোড়াসাঁকোর বাড়িটা দেখলে তীর্থের বেশ ভয় করে।মনে হয় ওখানে বাইরে আলো গহনে অন্ধকার। সেই অন্ধকারে একদিন বিলীন হয়েছিলেন নতুন বউঠান।

তীর্থ সংস্কৃত ক্লাস এইট অবধি পড়েছে।ভাষাটা কখনও ভাল লেগেছে কখনও লাগেনি।তার চেয়ে বিজাতীয় ইংরেজি মাতৃভাষার পরেই বড্ডো আপন হয়েছে।

ইংরেজি অনার্সের সময় ভাষাটার প্রতি প্রেম জাগেনি।প্রেম এসেছিল বিশ্ব সাহিত্যের প্রতি যখন সে ইংরেজি সাহিত্যের এম এ পড়া শুরু করল।

রবীন্দ্রনাথ নানা ভাবে বলেছেন অভিধানকে সঙ্গে করে বিদেশী সাহিত্য বোঝা যায় না।তিনি বরাবরই কল্পনার দ্বারস্থ।

রবীন্দ্রনাথের সুর ও গান নিয়ে তামাশা এই যুগের নয়।সেই যুগেও হয়েছে।তখনও তিনি বিখ্যাত হচ্ছেন।কারা করেছেন তাঁদের নাম করলে বেশী গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আমি চঞ্চল হে আমি সুদূরের পিয়াসী।ভুল বলল কি তীর্থ!  সব সময় গীতবিতান দেখতে ভাল লাগে না।নিজের অন্তরে একটা ঝংকার তো হয়ই।সে এক নতুন গীতবিতান।

তাই এই সময়ের রোদ্দুর রায় অনুল্লেখযোগ্য।

এই প্রশ্নটা তীর্থকে ভাবিয়েছে, সংস্কৃত সাহিত্য না পড়ে তার কি কোন ক্ষতি হচ্ছে!

কিন্তু সামান্য একজন ডাইরি লেখকের এসবের কি প্রয়োজন!

 অবশ্যই হচ্ছে।সে কালিদাসের অনুবাদ পড়েছে। আর মহাভারত পড়ার চেষ্টা করেছে।

আসলে জীবনের সমগ্রতা আর নিজেকে জানার চেষ্টাও।

 তাই বা কি!

পথ || শুভায়ুর রহমান || কবিতা

 পথ

শুভায়ুর রহমান  



এখন জ্যন্ত নেই কেউ,মৃত নয় কেউ

সবাই বাউন্ডারি ধরে হাঁটছে

চরম ক্ল্যাইম্যাক্সের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে 


হার জিত বলে কিছু নেই, এখন ঘোর অন্ধকার থেকে  আরও অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দিন।


যতক্ষণ বুকে তাক করা থাকে বন্দুকের নল

যতক্ষণ গোপন সনদে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে দেওয়া হয়, নিশ্চয়তা নেই।

যেন মল্লযুদ্ধ শুরু হয়েছে

 শেষ হতে পারি জেনেও হাঁটা শুরু হয়েছে

থামার মধ্যে বাস্তবতা নেই

তাই তো মানুষের মধ্যেই কেউ নদী হতে চেয়েছিল

কেউ ফুল হতে চেয়েছিল

কেউ অসীম আকাশ হতে চেয়েছিল

কেউ বাতাস হতে চেয়েছিল

কারণ সত্য কথা বলার অধিকার থাকে শুধু প্রজাদের

হাড় হিম হলেও সাহস পাকিয়ে মিথ্যার কাছে পৃথিবীর ইতিহাস ভোলে না। 

ভুলে যায় না আদিম সভ্যতার পর আরেক সভ্যতার জন্মানোর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ 

ভুলে যায় না আমাদের পূর্বপুরুষের মুখ

প্রিয়জনের লাশ কাঁধে নিয়ে পণ করে আমাদের বেঁচে থাকাতে আমাদের মুক্তির শপথ। 


এখন জ্যন্ত নেই কেউ,মৃত নয় কেউ

সবাই বাউন্ডারি ধরে হাঁটছে

চরম ক্ল্যাইম্যাক্সের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

 কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার 



তোমার জন্যে সকাল এনেছি । অরূপ আচার্য । সপ্তর্ষি প্রকাশন । পন্ঞ্চাশ টাকা ।


' এই জলেরই শুশ্রূষাতে বেড়ে উঠি/  এবং আমি ধীরে ধীরে হচ্ছি কবি । ' ( ' কবিকথা ') , ' সে থাকবেই/  জল যেমন মিশে থাকে জলের ভিতর । ' ( ' সে থাকবেই ' ) এই অমোঘ উচ্চারণের ভেতর দিয়ে এক সত্যি সত্যি কবির ভেতরের অন্তঃদর্শন প্রত্যক্ষ করতে পারি কবি অরূপ আচার্যের ' তোমার জন্যে সকাল এনেছি ' কাব্যগ্রন্থে। ২০০৬ সালের কাব্যগ্রন্থটিতে কবির প্রতিটি কবিতা পড়ে ফেলে আগের কাব্যগ্রন্থগুলির সঙ্গে তুলনা করে বুঝতে পারি তিনি ধীরে ধীরে কবি নয়,  গভীর থেকে গভীরতায় পৌঁছে যাবার এগিয়ে চলেছেন ।

               এ কাব্যগ্রন্থে কবি শব্দকে সহজ করে নিজের ভেতরে নিয়েছেন , গড়েছেন কিছু  অপার্থিব আবেগ যা যৌক্তিকতাকে নস্যাৎ করে না । তার সঙ্গে উল্লেখ করতে হয় কবির ছান্দিক উপলব্ধি,  যা পড়তে পড়তে তরতরিয়ে এগিয়ে যাওয়া যায় । ' আমরা দুজন ফুল আর মাটি/  আমরা দুজন ভুল আর খাঁটি ' ( ' আমরা দুজন ফুল আর মাটি '),' নদীর জলে জোয়ার এনে / গান ছড়িয়ে দেবো।/ নীলাভ এই জলের থেকে/  নীলপদ্ম নেবো । ' ( ' মেঘপরীর কাছে চিঠি ' ) র মতো সুষমা বড় কম পাওয়া যায় ।

              কবি অরূপের নতুন কাব্যগ্রন্থের অনেকদিন দেখা নেই । সে কারণে তাঁকে নতুনভাবে খুঁজে পাওয়া ও আরো কত কী উপলব্ধি তিনি সন্ঞ্চার করেছেন তা পাওয়া যাচ্ছে না । বিপ্লব মন্ডলের প্রচ্ছদে কোলাজীয় চেতনায়  সকলের রূপচিত্রের ব্যন্জ্ঞনা মুগ্ধ করে ।

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১৩৭ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক বিভাগ

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৩৭.

অনেক অনুষ্ঠানের খবর স্মৃতি থেকে মুছে গেছে।এর জন্য দায়ী একমাত্র আমি। নাসের চেয়েছিল প্রতিটি অনুষ্ঠানের খবর লেখা হোক কবিতাসংবাদের পৃষ্ঠায়। আমি বলেছিলাম , সবটা একসঙ্গে লিখলে একটা ইম্পাক্ট ধরা থাকবে। আমি লিখব সেই লেখা। অনুষ্ঠান শেষ হবার পরই লিখে রাখা উচিত ছিল। কিন্তু লেখা হয়নি। এখন যাঁরা আমার লেখার পাঠক তাঁদের অনেকেই জানেন না সেই উন্মাদনার কথা। এখন চেষ্টা করছি যতটুকু উদ্ধার করা যায় , সেটুকু দিয়েই নিজেকে ক্ষমা করা।

২০ জুলাই ২০০৩ অনুষ্ঠান হয়েছিল ঘাটালে।  মূল আয়োজক ছিল সৌমিত্র রায়।তখন সৌমিত্র-র বয়স কত ? সদ্য যুবক। তবে একটা সুসমাচার ছিল ঘাটালের প্রবীণ কবি-সাহিত্যিক-সম্পাদক লক্ষ্মণ কর্মকার সবসময় সৌমিত্র-র পাশে ছিলেন।আর ছিলেন ড : তুষারকান্তি ঘোষ সুশান্ত সিংহ প্রমুখ কবি-সাহিত্যিকরা। 

ঘাটাল উচ্চ বিদ্যালয়ের একটা বড়ো হলঘরকে সুসজ্জিত করে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছিল। সেদিন এক নবীনের সঙ্গে দেখি হয়েছিল। সে বলেছিল আজ ঘাটালে প্রভু যিশু-র আগমন হয়েছিল , আগামীদিনের ঘাটালবাসী তা চিরকাল মনে রাখবে। এরকম একটা পোস্টকার্ডও পেয়েছিলাম সম্ভবত। আর তারপর  বেশ কয়েকজন আমাকে ফাদার সম্বোধন করত। সেসব কথা আমার ভুলে যাওয়াই উচিত ছিল। কিন্তু আমার মূর্খতা আমাকে ভুলতে দেয়নি।

জমজমাট অনুষ্ঠান। শিলাবতী লজে রাত্রিবাস , এটাও মনে পড়ে গেল।

ঘাটাল থেকে ফিরে পরের সপ্তাহে খাতড়া। ২৬ জুলাই ২০০৩। বাঁকুড়ার এই জনপদ বেশ প্রাচীন। পৌরসভাও বহুদিনের। আমরা বাঁকুড়ায় নেমেছিলাম ট্রেন থেকে। গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে আপ্যায়নের পর গাড়িতে খাতড়া। প্রায় ঘরোয়া এবং আন্তরিকতায় ভরপুর এই অনুষ্ঠান ছিল প্রেরণাদায়ক। আমাদের প্রান্তিক-যাত্রা কর্মসূচির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হতে পারে খাতড়ার অনুষ্ঠান। এই প্রান্তে পৌঁছনোর সমস্ত কৃতিত্ব গুরুদাসের।

পরের দিনের অনুষ্ঠান ছিল বাঁকুড়া শহরে। ধান্য গবেষণা কেন্দ্র-র সভাগৃহে। মূল উদ্যোক্তা ছিল দুই তরুণ কবি : বিকাশরঞ্জন ভুঁই এবং গৌতমকুমার মল্লিক। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি , এই দুজনকে কবিতাপাক্ষিক পরিবারে যুক্ত করেছিল গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। গুরুদাসের  আন্তরিকতায় আমরা বেলিয়াতোড়- সোনামুখী-র গণ্ডি থেকে বের হতে পেরেছিলাম।

২৭ জুলাই -এর অনুষ্ঠানে উপস্থিতির সংখ্যা মনে রাখার মতো। সরকারি সভাঘর। জমজমাট। বাঁকুড়া শহরের অবনী নাগ ঈশ্বর ত্রিপাঠী প্রমুখ প্রবীণের উপস্থিতিতে উজ্জ্বল ছিল এই উৎসব।তাছাড়া দীপ সাউ রাজকল্যাণ চেল সত্যসাধন চেল সুব্রত চেল প্রণব চট্টোপাধ্যায় সহ আরো অনেকেই উপস্থিত ছিল।

আগামীকাল দক্ষিণেশ্বর দিয়ে শুরু করব।

আটপৌরে কবিতা ৭৮৬-৭৯০ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক কবিতা

 আটপৌরে কবিতা


নীলাঞ্জন কুমার






৭৮৬

আঘাত/  ক্রোধ/  অপমান
        ) প্রতিশোধ  (
   না নিয়ে নিস্তার নেই!

৭৮৭

বেসামাল /  যন্ত্রণা/  বিপদ
       ) ধাক্কা  (
মাঝেমধ্যে  সামাল দিতে হয় ।

৭৮৮

নির্দেশ/  বাটোয়ারা/  মনোনীত
        ) উইল  (
    যার যা ইচ্ছে সেইমতো ।

৭৮৯

ঘুষ/  ভেট/  বন্দোবস্ত
       ) উপরি  (
টেবিলের তলা দিয়ে লেনদেন ।

৭৯০

লক্ষ্য/  মনোযোগ/  অভ্যাস
    ) অব্যর্থ  (
হওয়া তখন শুধু ঘটনামাত্র ।


Thursday, September 17, 2020

পূরবী- ৩৫ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস

পূরবী~৩৫

অভিজিৎ চৌধুরী




দিদিদের বাড়ির রাস্তার নাম ছিল চার্চ রোড।ছিমছাম পাড়াটা।তীর্থের সেই দিদির নাম ছিল ইলা।

কোন কোন দিন একটু দূরের মাঠে ক্রিকেট।অম্বর রায় ইজ বেটিং।

লং প্লেইং রেকর্ড। বন্য বন্য এই অরণ্য ভাল।বা দোলে দোদুল দোলে দোলনা।

রবীন্দ্রনাথ ফুটবল খেলেননি।তবে ঢাকা থেকে একজনকে ইস্টবেঙ্গল টিমের জন্য নিয়ে এসেছিলেন।পুব বাংলায় ছিল তাঁর শ্বশুর বাড়ি আবার জমিদারিও।

প্রভাত সংগীত সন্ধ্যা সংগীত সে যে অনুকরণ,নিজের কিছু নয় তা ধরে ফেলতেন বউঠান।মুখে কিছু না বলে মুচকি হাসতেন।গান শোনাতে চাইলে বলতেন,রবি তুমি সুপুরিটা ভাল কাটো।

কেন জানি বিমল করের খড়কুটো পড়ার সময় দিদির বাড়ির দশমীর কথা মনে পড়ত।হয়তো তীর্থ বাংলার উপান্তে রেলশহর বলতে আসানসোল কে দেখেছে।

সেখানে জিলিপি পাওয়া যেত না।পাওয়া যেত অমৃতি। খুব কড়া করে ভাজা।

জীবনের ধ্রুবতারা তখন ছিল ফুটবলও।প্লেয়ার হিসেবে স্বীকৃতি না পেলেও পাড়ার ফুটবলে সেছিল স্ট্রাইকার।অনেক গোল সে করেছে।সেভেন সাইড মাঠে খেলার শুরুতে সেন্টার সার্কেল থেকে কতো গোল করেছে।

জামাইবাবু ব্রতচারী করাতেন।খুব আমুদে মানুষ।পাবদা মাছ খেতে ভালোবাসতেন।বলতেন,বল্টু আর দুদিন থেকে যা।

বুড়ো বয়সে কি ছেলেবেলা ফিরে আসে! সব যেন ম্যাজিক।

ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেসে গিয়ে শ্মশানে দিদিকে দাহ  হতে দেখে কেমন যেন হু হু করে উঠেছিল।রহে না রহেঙ্গে হাম।

ইন্দিরাকে বললেন রবীন্দ্রনাথ, বুঝলি অপারেশনের পর মাথাটা পরিস্কার হয়ে যাবে আর ভাল লিখব আমি।

বাহ,এই আকাশ নদী লক্ষ্মী পুজোর গোল চাঁদ আমি ছাড়াই থাকবে!

সত্যি সত্যি এই পৃথিবীতে আমি থাকব না একদিন! সব ঠিক থাকবে তাও কি হয়!

 আমি ছাড়া তোমার প্রেম হবে যে মিছে।

কবিতা || সুধাংশুরঞ্জন সাহা

 কবিতা

সুধাংশুরঞ্জন সাহা






চার শব্দের কবিতা

--------------------------


জীবন এক ভুলের সংকলন ।


পৃথিবী এক রহস্যময় পর্যটনকেন্দ্র ।


সব আলিঙ্গনই বিবাহ নয় ।


ঘুণপোকা জানে কাঠের আত্মদংশন ।


যোগবিয়োগে সাঁকোর প্রাপ্তি শূন্য ।


--------------++++-------------


পাঁচ শব্দের কবিতা

--------------------------


ছিন্নমূল মানুষের কোন দেশ নেই ।


স্বপ্ন মানুষের ঘুম কেড়ে নেয় ।


দৃষ্টিশক্তিহীন হলে চোখের কাজল অনর্থক ।


আত্মজীবনী ছিঁড়ে লুকোচুরি খেলে আয়না । 


প্রতিটি আরম্ভই বিলম্বিত হয় পরাজয়ে ।


-----------------++++--------------------


ছয় শব্দের কবিতা

--------------------------


কাটাঘুড়ির মতো আমাকে নিয়ে খেলছে সময় !


জেলেরা ডুব দেয় মাছেদের গোপন সংসারে ।


কেবলমাত্র গাছ জানে বৃন্তচ্যুত ফুলের আর্তনাদ।


মানুষের মতো পাখিদের কোন সংবিধান নেই ।


এখন চতুর্দিকে উঁচুগলায় মিথ্যা প্রতিষ্ঠার দিন।


-------------++++-----------------


সাত শব্দের কবিতা

---------------------------


সহবাস মুছে গেলে বিষণ্ন রাত ওড়ায় পানশালা।


এবার বন্ধখাম খুলে হেসে উঠুক গম্ভীর ছাত্রীনিবাস ।


লুকনো আলিঙ্গন কখনও কখনও হাততালি দিয়ে ওঠে ।


নূপুরের ছন্দে রাতের শরীর নাচে মেঘের হাতছানিতে ।


চোখের ভাষা চোখের আগেই পড়ে নেয় মন ।


মহালয়ার নস্টালজিয়া ১৬ || পৃৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

 নস্টালজিয়া ১৬

পৃথা চট্টোপাধ্যায় 



আমার ছোটবেলার মহালয়া আর এখনকার মহালয়ার মধ্যে পার্থক্য যত দিন যাচ্ছে তত বেশি করে চোখে পড়ছে। তখন মহালয়ার আগের রাত্রে ঘুমোতে যাওয়ার সময় ভোরবেলার  সুর কানে বাজত। কী এক অপূর্ব অনুরণন  ছিল  আমাদের মনে এই মহালয়াকে ঘিরে এখনকার ছোটরা তা বুঝতেও পারবে না। আমরা আকাশবাণী থেকে সম্প্রচারিত মহালয়া অনুষ্ঠানটি এই বিশেষ দিনটির ভোরবেলাতেই একমাত্র শুনতে পেতাম। এখনকার মত যখন তখন যত্রতত্র মহালয়ার রেকর্ডিং শোনা যেত না,  তাই তার গুরুত্ব ও মর্যাদা ছিল অনেক বেশি।  এখন সব কিছুকেই অযথা অকারণ ব্যবহার করে খেলো করে দেওয়া হয়।  মহালয়া হলো  দেবীপক্ষের পবিত্র সূচনা। দেবীর আগমনের বার্তা  সেদিন আকাশে বাতাসে ধ্বনিত  হয়। আমার ছোটবেলার সেই মহালয়া শোনা ছিল প্রকৃতই এক ঊষা লগ্নের উৎসব। মহালয়ার পুণ্য প্রভাত হিরের কণার মত বিচ্ছুরিত হত  উদাত্ত কন্ঠে দেবী চন্ডীকার মঙ্গল স্তোত্রের  উচ্চারণে , ভোরের ঝরে পড়া শিউলির কোমল 

সুগন্ধে , ঘাসের শিশির কণায়। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে আমরা মহালয়া শোনার জন্য প্রস্তুত হতাম।মহালয়া শুরু হওয়ার আগেই আমাদের প্রাতঃকৃত্য করে নিতে হতো। আমাদের  বাড়িতে  সাদা রঙের বুশ কোম্পানির বেশ বড়সড় রেডিও ছিল। সেইটিকে ঘিরে  মহালয়ার ভোরে ভক্তিভরে আমরা বসতাম। মা আবার স্নান করে শুনত। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের সেই অপূর্ব স্তোত্রপাঠে শিহরিত হত প্রতিটি রোমকূপ। মানসচক্ষে প্রত্যক্ষ করতাম সেই অসুর বিনাশিনী দশপ্রহরণধারিণী দেবীকে। তখন আমার দুর্গা আরও অনেক বেশি কল্পনার রঙে রঞ্জিত ছিল।  মা, ঠাকুমা মহালয়া শোনার পর বলত দুগ্গা ঐশ্বর্যরূপিণী হলেও  এই উমা তো আমাদের ঘরের মেয়ে বৎসারান্তে বাপের বাড়িতে আসছে।তাই জগৎ জুড়ে  এতো আনন্দ।  বড় হয়ে শাক্ত পদাবলীর আগমনী ও বিজয়ার কবিতাগুলি পড়ার সময় মা ঠাকুমার উমা সম্পর্কিত কথাগুলো বারবার মনে পড়তো। মহালয়া শেষ হবার পরও সেই সব গানের সুর কানে বাজত,  মনে থেকে যেত রেশ। মহালয়া হলেই শরতের রোদ্দুরের রং,  বাতাসে হিমেল পরশ অনুভব করতাম। বাবা গঙ্গায় যেত তর্পণ করতে,  পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে জলদান করা হয়ে থাকে এই দিনে।  অনেক সময় বাবা মায়ের সঙ্গে আমরা পুজোর বাজার করতেও  যেতাম। মহালয়ার সকালে শিউলির সুঘ্রাণ যেন আরো বেশি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ত, আকাশটাকে যেন আরও বেশি নীল বলে  মনে হতো। আমাদের বাড়ির উঠোন আলো করে ফুটে থাকত জবা, করবী, শিউলি,  অতসী,  অপরাজিতা। মহালয়ার সকালে  মন্দিরে যেতাম প্রতিমা  কতটা তৈরি হয়েছে দেখতে!

সৌমিত্র রায়-এর জন্য গদ্য ১৩৬ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

 সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৩৬.

 ভকৎ সিং মোড়ের খুব কাছে সদ্য গড়ে ওঠা উপনগরী সেপকো-তে কবিতাপাক্ষিক-এর নতুন বিক্রয়কেন্দ্রটির দ্বার উন্মোচন করেছিল কমলিকা কিংশুক , কবি রুদ্র কিংশুকের স্ত্রী। উন্মোচনকালে যে ফিতেটি ব্যবহৃত হয়েছিল কিছুতেই তার রং মনে পড়ছে না।সেটা মনে পড়াটা জরুরি ছিল। যেমন কী রঙের পাঞ্জাবি পরে গিয়েছিলাম, সেটাও মনে পড়ছে না। আমরা কি স্মৃতিকথায় রংগুলিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিই না। আমরা মনে করি ফিতের রং দিয়ে বিক্রয়কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল নয়। আমাদের মনে করাটা ভুল এতটা জোর দিয়ে বলতে পারলাম না কেন !

বিক্রয়কেন্দ্রের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেছিলাম। ধন্যবাদজ্ঞাপন করেছিল সুবীর ঘোষ। বলা হয়নি এটি সুবীর ঘোষের ঘরেই স্থাপিত হয়েছিল।

উপস্থিতির তালিকা : বিশাল ভদ্র মুরারি সিংহ সুব্রত চেল স্বরূপ চক্রবর্তী ধর্মদাস মুখোপাধ্যায় তিমিরকান্তি ঘোষ সমরেশ মণ্ডল রজতশুভ্র গুপ্ত বিমান চট্টোপাধ্যায় রঞ্জিৎ গুহ অজিত চক্রবর্তী সুশীল রায় স্নেহাশিস মুখোপাধ্যায় পিনাকীরঞ্জন সামন্ত ব্রজকুমার সরকার  রথীন বন্দ্যোপাধ্যায় নভনীল চট্টোপাধ্যায়  সৌগত চট্টোপাধ্যায়হ রু দ্র কিংশুকসহ আরো কয়েকজন।

দশবছর পূর্তি উৎসবের পরবর্তী তালিকা উদ্ধার করা গেল।

১২ জুলাই ▪হুগলি ॥ ১৩ জুলাই ▪ শিবরামপুর

১৬ জুলাই▪জীবনানন্দ সভাঘর ॥১৯জুলাই চাঁপদানি- বৈদ্যবাটি ॥২০ জুলাই ▪ঘাটাল ॥২৬ জুলাই খাতড়া ॥ ২৭ জুলাই রানিবাঁধ

২৮ জুলাই▪ বাঁকুড়া ॥ ২ আগস্ট দক্ষিণেশ্বর

৩ আগস্ট খড়গপুর ॥ ৮ ইন্দপুর ॥ ৯আগস্ট খাজুরডিহি ॥ ১০ আগস্ট কাটোয়া

১৫ আগস্ট ভগবানগোলা ॥১৬ আগস্ট বেলডাঙা

১৭ আগস্ট বহরমপুর ॥ ২৩ আগস্ট জলপাইগুড়ি 

২৪ আগস্ট মালদা ॥ ৩০ আগস্ট পাথরপ্রতিমা

৩১ আগস্ট কাকদ্বীপ

আটপৌরে কবিতা || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

 আটপৌরে কবিতা

নীলাঞ্জন কুমার



৭৮১

অখ্যাত/  সাধারণ/  এলেবেলে
       ) অনামী  (
প্রতিভা থাকলেও দাম নেই !

৭৮২

থিয়েটার / নাট্যোৎসাহী/  নাট্যকর্মী
         )  নাটুকে  (
নাটকই জীবন জীবনই নাটক ।

৭৮৩

অধিকার/  স্বত্ব/  সম্পত্তি
       ) হস্তগত  (
হাতে এলে দারুণ স্বস্তি ।

৭৮৪

খোঁজ/ ধোঁয়াশা/  হত্যাকারী
        ) আততায়ী  (
একদিন ঠিক ধরা পড়বেই ।

৭৮৫

ঘাঘু/  দুঁদে/ ধড়িবাজ
     ) ঘোড়েল  (
মানুষের কাজে বোঝা যায় ।

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || সুন্দর আছে চিরসুন্দরের

 কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার 



সুন্দর আছে চিরসুন্দরে । আবদুস শুকুর খান । সূচিপত্র । পন্ঞ্চাশ টাকা ।


' আমার শূন্যতায়  তুমি/  নক্ষত্রের মতো জেগে থাক সারারাত ।' ( 'শব্দের আলোয়ান '  ) , ' না বলা সব ভার তুলে দিই/  তোমার নীরবতায় । ' - এর মতো আরো অজস্র অনিবার্য শব্দবন্ধের উচ্চারণ নিয়ে হাজির হয়েছিল  দশ বছর আগে কবি আবদুস শুকুর খানের কাব্যগ্রন্থ ' সুন্দর আছে চিরসুন্দরে ' । শুধু উল্লিখিত উচ্চারণ নয়,  তাঁর এই সব পংক্তি যে সব কবিতাতে বর্তমান সেগুলো পুরোটা তারিয়ে তারিয়ে না পড়লে অনেক অতৃপ্তি জমে যায় যেন,  পড়া হয়ে গেলে এক অচেনা তৃপ্তির সন্ধান পায় পাঠক ।

           কবি অত্যন্ত নিম্নগ্রামে যত্ন নিয়ে সাজিয়ে তোলেন তাঁর কবিতা । বোঝা যায় কবিতায় আয়োজন আছে । উটকো শব্দের ঝলক দিয়ে অহেতুক কবিতাকে স্মার্ট করার শিশুসুলভ আগ্রহ তাঁর কবিতাতে অন্তর্হিত ।

সে কারণে: ' পরিশুদ্ধ মুহূর্তকে সন্মান জানাতে/  প্রতিদিন আলোর ঝারি হাতে নামেন ঈশ্বর ।' ( ' আলোর পৃথিবী ') -র মতো সহজ অনুভবের কবিতা মনের ভেতর  চেপে বসে ।

           কবি তাঁর প্রকৃত আশ্রয় কবিতার ভেতরে যে খুঁজে বেড়ান তা বুঝতে পারি তাঁর প্রতিটি কবিতার অন্তর্গত সৌন্দর্যসত্বা ও মাধুর্যের ভেতর দিয়ে । দীর্ঘ সময়ের মধ্যে দিয়ে গঠিত এ কবিতাযাপন আরো দীর্ঘ হোক এই প্রত্যাশা । সুব্রত মাজীর প্রচ্ছদে যৌনতা প্রকট । বোঝা উচিত নগ্নতা আপেক্ষিক সৌন্দর্য নিয়ে আসে,  যা এক শ্রেণীর কমন পাবলিককে টানে । আবদুস শুকুর খানের কবিতা যারা কোন দিনও অনুভবে আনতে পারবে না ।

Wednesday, September 16, 2020

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১৩৫ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

১৩৫.
নবম অনুষ্ঠান ছিল মুর্শিদাবাদের ফারাক্কায়। আর দশমটি বর্ধমানের রূপনারায়ণপুরে। ২৮ জুন ,দুপুর ২ টোয়। স্থান : হিন্দুস্থান কেবলস মেন ক্লাবের দোতলায়।
আহ্বায়ক : অমিত নাথ অমিত বাগল উত্তম চক্রবর্তী তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রদীপ বিশ্বাস মানিক দাস।
আসানসোল পর্যন্ত গিয়েছিলাম ট্রেনে , ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেসে। আসানসোল থেকে গাড়ির ব্যবস্থা করেছিল প্রদীপ বিশ্বাসরা। অনুষ্ঠানে তরুণদের প্রাধান্য মনে আছে। ওখানকার প্রতিষ্ঠিতদের দেখিনি।
আমার আরো মনে আছে সেদিন রাতে আমরা হিন্দুস্থান কেবলস - এর গেস্ট হাউসেই ছিলাম। অনেক রাত অবধি গল্পটল্প চলেছিল। আরো একটা কথা কোনোদিনই ভুলে যাবো না , সেটা হল -- খাবার পরিবেশনে আন্তরিকতা এবং আভিজাত্য।
পরের দিন ক্যালেন্ডারে ২৯ জুন ২০০৩। দুর্গাপুরে দুটি অনুষ্ঠান।প্রথম অনুষ্ঠানটি ছিল দুর্গাপুরে কবিতাপাক্ষিক-এর একটি নতুন বিক্রয়কেন্দ্রের উদ্বোধন। ঠিকানা : ১ নং বাড়ি , ১৮ এ স্ট্রিট , ৩ নং অ্যাভিনিউ, সেপকো।ভগৎ সিং মোড়ের কাছে।
কবিতাপাক্ষিক দশম বর্ষ পূর্তির একাদশ অনুষ্ঠানটি হয়েছিল টেগোর হাউস সংলগ্ন কোয়ালিটি সার্কেল হল , এ - জোন।
এই অনুষ্ঠানের বিশেষ সূচি :
নীলকণ্ঠ সংগীত , শিল্পাঞ্চলের আদিকবি নীলকণ্ঠ মুখোপাধ্যায়ের গান।
ব্যবস্থাপনায় : অজন্তা , ত্রিষ্টুপ , ভিন্নমুখ , উজ্জ্বল এক ঝাঁক।
আহ্বায়ক : রজতশুভ্র গুপ্ত , ব্রজকুমার সরকার ,পিনাকীরঞ্জন সামন্ত ,সুবীর ঘোষ।
দ্বাদশ অনুষ্ঠানটি ছিল ৩০ জুন ,  বিকেল ৫ টায় বেলিয়াতোড় হাই স্কুলের  সভাকক্ষে। কবিতা দশদিনে  এবং রং নাম্বার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক  ছিল : রাজকল্যাণ চেল এবং স্বরূপ চক্রবর্তী।
প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি আমার স্কুল-শিক্ষার শেষ বছরটি আমি কলকাতা থেকে বিতাড়িত ছিলাম। এবং বেলিয়াতোড় স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছিলাম।
আমার জীবনে যাবতীয় শিক্ষা তা এই অঞ্চলের অনুগ্রহে। কাদাকুলি ছান্দার বেলিয়াতোড় কেন্দ্রিক আশেপাশের খান পঞ্চাশেক গ্রাম , সেইসব গ্রামের মানুষজন- পশুপাখি - গাছপালা এবং জলাশয়গুলিই আজকের প্রভাত চৌধুরীকে তৈরি করেছে। আমার পড়াশুনো বলতে এই অঞ্চলটিকে খুব একান্তে চিনতে শিখেছিলাম।
একটা খুব বড়োকথা লিখছি। লেখার আগেই মার্জনা চেয়ে রাখছি।
আমি এই অঞ্চল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া আমার যতটা ক্ষতি হয়েছে , তার থেকে একশো গুণ বেশি ক্ষতি হয়েছে এই অঞ্চলের।

আটপৌরে কবিতা || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা
নীলাঞ্জন কুমার


৭৭৬

নিষেধ/  বাধা/  গন্ডি
     ) বারন  (
কখনো মানি কখনো ভাঙি ।

৭৭৭

চিৎকার/  অসভ্যতা/  ক্ষোভ
         ) হল্লা  (
হলে শান্তির জীবনে অশান্তি ।

৭৭৮

অনিচ্ছাকৃত/  হঠাৎ/  অঘটন
         ) অজান্তে  (
হলেও রয়ে যায় আফশোস ।

৭৭৯

অজানা/  ইন্দ্রিয়াতীত/  আ-জ্ঞান
           )  অজ্ঞাত(
বিষয়ে কৌতুহল বড় স্বাভাবিক!

৭৮০

কেউকেটা/  বিশিষ্ট/  নামজাদা
          ) খ্যাতনামা (
   হলে সকলে মনে করে ।


কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || গম্বুজ নগরের পাখি

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার 

 গম্বুজ নগরের পাখি । শুভব্রত চক্রবর্তী । বিন্দু- বিসর্গ । পঁচিশ টাকা ।

কবি শুভব্রত চক্রবর্তীর কবিতা পড়ার আগে আশেপাশের সমস্ত জটাজাল,  ভেতরের বিষয়গত পুরীষ সরিয়ে তবে নিজেকে প্রস্তুত করতে হয় । এই প্রস্তুতির লাভ এটাই যে সেখানে:  ' মায়ের শরীরে আজ ঘানিগাছ পড়ে থাকে ঘোর অবেলায়/  মহাকাশে নামি আমি,  শূন্য হয় গ্রহগুলি জন্মের খেলায় ' , ' জ্যোৎস্না নির্মিত ভ্রূণ মনোরোগে খুলে গেলে দেখি/  আমাকেই দায়ী করে মাতৃতন্ত্র;  পতনে প্রতীকী ।' -র মতো লাইনের সামনে বিশুদ্ধভাবে দাঁড়াতে পারি,  যা দাঁড়ানো উচিত । কবি শুভব্রত- র ' গম্বুজ নগরের পাখি ' তে রয়ে আছে এধরনের অসাধারণ পংক্তি,  তবে একটিই কথা সেখানে ঢুকতে গেলে প্রকৃত বিশুদ্ধ মগ্নতা নিয়ে আসতে হবে  ।
         প্রায় কুড়ি বছর আগে লেখা এই কাব্যগ্রন্থটির কবিতা পড়তে গিয়ে কিছু অন্য দ্যোতনার সন্ধান পাই,  যৌনতাকে তিনি কি অপূর্ব মোচড়ে পাঠকের কাছে হাজির করেছেন:  ' সেখানেও তুমি নেই রতিমেঘ/  তোমার মতন বিষে/  প্রতিটি শরীরে পোড়ে ভিক্টোরিয়া/  যেন গোপন আমিষে ' তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ ।
             এ গ্রন্থের সবচেয়ে বড় ম্যাজিক 'গম্বুজ নগরের পাখি ' নামের কবিতা মাখানো গদ্যটি । তন্নিষ্ঠ হয়ে পড়তে হয়,  বলা ভালো পড়িয়ে ছাড়ে!  কবির ভেতরে যে কাব্যের আলো আঁধারির খেলা করে তার উৎকৃষ্ট প্রয়াস এই কাব্যগ্রন্থ । ' গম্বুজ ... ' - এর পরের কাব্যগ্রন্থ হাতে আসেনি,  তা আমার দুর্ভাগ্য । শ্রীধর মুখোপাধ্যায়ের প্রচ্ছদ ,  লেটারিং ও কালার কম্বিনেশনের গুণে দারুণ ।

সময়ের কথা || অভিজিৎ চৌধুরী || কবিতা

সময়ের কথা
অভিজিৎ চৌধুরী


সময় কখনও ভালো হয় না
হয়তো সে বরাবর খারাপই
কিন্তু তাও তো জীবনভর আতর সজ্জার খেলা
কারণ সেই তো অবিশ্বর
আর সব খেলাধুলো।

কোভিড ভীতি || দীপক মজুমদার || কবিতা

কোভিড ভীতি 
দীপক মজুমদার


মানুষ কাজে যাচ্ছে মানুষ পার্টিতে যাচ্ছে
মানুষ বিছানায় যাচ্ছে মানুষ সীমান্তের বিবাদে যাচ্ছে
গ্রামে শহরে হাটে মাঠে রাস্তায় বাসে মিছিলে যাচ্ছে মানুষ
নির্ভয়ে
করোনাকে কুচ পরোয়া নেহি ___

আমার মধ্যেও জিতে যাবার সমরশক্তি রয়েছে
তবু রাতের অন্ধকারে মিসাইলের মত  ধেয়ে আসে কিছু দুঃস্বপ্ন
যদি আমার মধ্যে হঠাৎ প্রাণঘাতী লক্ষণ বেড়ে ওঠে
যদি আমার চিকিৎসায় কারও সাহসের অভাব দেখা যায়
যদি অ্যাম্বুলেন্স গড়িমসির জন্য বড্ড দেরী হয়ে যায়
আর যদি আমার শেষ আক্ষেপ এমন হয়  :
'আমার ভেন্টিলেটর দূর-অস্ত অক্সিজেনও জুটলনা '
আসলে মানুষরা ভীতু ___
ভীতু        ভীতু         ভীতু ......
শুধুই কোভিড ভীতি কাটাতে মানুষরা চারদিকে সাহসী বেলুন ওড়াচ্ছে .....

Tuesday, September 15, 2020

বিত্তবাসনা || সুবীর ঘোষ || কবিতা

বিত্তবাসনা
সুবীর ঘোষ


ধান ফেলে গান খুঁটে মুখে দেয়
পক্ষপাতিতা পাখি
আমি কোথা যাবো
দিকে বা বিদিকে
জ্ঞানশূন্য হতে লাগে যত অণুপল
তার থেকে আগে
বিশ্বস্ত কলম থেকে ছিটকে যায়
বিচারের বাণী ।
আমি দন্ডবদ্ধ হয়ে থাকি
বিতংস বিশদে
ফুলে ফুলে গাছরোগ দেখা দেয়
নবান্নের শুভলগ্নে অনাদৃত
বর্ষা ঝরে পড়ে
বিত্তবাসনা চোখ এক চিলতে
জমি খুঁজে
পৌরপ্রস্তাব পড়ে চলে ।

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || বিদায় হে বিষাদ হে বিষণ্ণতা

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার 

বিদায় হে বিষাদ হে বিষণ্ণতা । কমল মুখোপাধ্যায় । শিলীন্ধ্র । ষাট টাকা ।

কবি কমল মুখোপাধ্যায়ের ' বিদায় হে বিষাদ হে বিষণ্ণতা ' কাব্যগ্রন্থের ভেতরে  দুঃখ বেদনা প্রতিবাদের ঝোঁক লক্ষ্য করি,  তবে  ' যারা এসেছিল তারাও  মানব সন্তান/  অথচ কি নির্দয় নিষ্ঠুর তবু মানুষেরপ্রতি ..'
( ' আততায়ী ') , ' গ্রামে গন্ঞ্জে শহরে বন্দরে আজও/  জমে ওঠে পচে ওঠে সবহারা মানুষের শব ।' ( ' ভুল স্বদেশ ') - এর মতো স্ট্রেট ব্যাটে খেলে দেওয়া কবিতার সঙ্গে আরো বেশ কিছু কবিতার ক্ষেত্রে কবির কাব্যিক অবস্থান নিয়ে সংশয় তৈরি হয় ।
         তবু বর্ষিয়াণ এই কবির উচ্চারণ এক ঝলক হলেও দোলা দেয়:  ' আমি চা-এর কথা ভাবতে ভাবতে আগুনের কথা/  ধোঁয়ার কথা ভাবতে ভাবতে মিলিয়ে যেতে থাকি/   কোথায়...কতদূরে... কোন মহাশূন্যে ...'
(' চা-ভাবনা '), ' সন্ন্যাসীর নিভন্ত অগ্নিকুন্ড থেকে ধোঁয়া উঠছে/  মাটি কামড়ে পড়ে আছে কিছু শিশু/  একদিন তারাও বড় হয়ে সন্ন্যাসী হবে । '
        বলতে বাধ্য হচ্ছি, কবি হাইকু নামে যে পাঁচটি অনু কবিতা লিখেছেন তার ভেতরে ' তুমি যাও আপিসে/ আমি ঢুকি ট্রাপিজে/  কাজে আর ভন্ডামিতে দিন যায় ' এর মতো উদাহরণ পড়লেই হাইকু নিয়ে যাদের সামান্য চিন্তাভাবনা  আছে তারা বুঝবেন তা  আদৌ হাইকু কিনা । আক্ষেপ এই,  এ কাব্যগ্রন্থের ভেতরে যা আশা করেছিলাম তা মিটলো না । কবিকৃত প্রচ্ছদটির সোজাসাপ্টা লেটারিং ও কালার কম্বিনেশন ভালো লাগে ।

আটপৌরে কবিতা ৭৭১- ৭৭৫ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ


আটপৌরে কবিতা
নীলাঞ্জন কুমার


৭৭১

হত্যা/  মিথ্যা/  প্রতারণা
     ) পাপ  (
মনস্তাপে জর্জরিত করে তোলে ।

৭৭২

নিরুদ্দেশ/  অপ্রাপ্তি/  ফেরার
       ) খোঁজ  (
চলে সমস্যার সমাধানের জন্য ।

৭৭৩

উল্টোপাল্টা/  হাস্যকর/  ভুলভ্রান্তি
         ) উলটপুরাণ  (
      হলে সব  আযৌক্তিক হয় ।

৭৭৪

অদ্ভুতুড়ে/  অবিশ্বাস্য/  অবিন্যস্ত
             ) আবোলতাবোল  (
           যা সবই জুড়ে থাকে ।

৭৭৫

অমঙ্গল/  ভয়/  ক্ষতিকর
        ) অলক্ষুনে  (
    সব বাইরে বিদায় করি ।

নস্টালজিয়া ১৫ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

নস্টালজিয়া ১৫
পৃথা চট্টোপাধ্যায় 


'ছোট প্রাণ ,ছোট কথা ,ছোট ছোট দুঃখ ব্যথা'দিয়ে ঘেরা ছিল আমার শৈশব। মধ্যবিত্ত সংসারে সেখানে অভাব যেমন ছিল না,  তেমনি প্রাচুর্যও ছিল না খুব একটা। ছোটবেলায় আমাদের কোনো আনন্দ থেকে বঞ্চিত করা হতো না। একটু বড় হলে বুঝতে শেখার বয়স হলে মাসের শেষে বাবার কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখতাম  আজও মনে আছে। বাবা সরকারি চাকরি করলেও তখন মাইনে পত্র খুব বেশি ছিল না।আমার মায়ের জীবনযাপন  ছিল সাদাসিধে। শৌখিনতা কখনই দেখি নি আমার মায়ের মধ্যে। আমার মায়ের বাপের বাড়ির অবস্থা যথেষ্ট ভালো ছিল। কিন্তু মা আমার বাবার সঙ্গে স্বচ্ছল মধ্যবিত্ত সংসারে আনন্দে মানিয়ে নিয়েছিল।  আমাদের বেড়ে ওঠার দিনগুলোও ছিল চাহিদা মুক্ত। নিত্য প্রয়োজনীয়  কিছু জিনিস আমরা না চাইতেই পেতাম। এখনকার মত এত যান্ত্রিক ছিল না আমার শৈশব ও কৈশোর।  জিনিসের প্রাচুর্যে নষ্ট করা হয় নি আমাদের শিশুমন।দোষ করলে বকাঝকা শুনতে হত, সেরকম অন্যায় করলে বেদম প্রহারও করা হতো ছেলেদের। এই মার খেয়ে ছেলেরা কিছু যদি করে এই ভাবনার কোনো প্রশ্নই ছিল না কারো মনে। মেয়েরাও মায়ের হাতাখুন্তির আওতা থেকে বাদ পড়ত না।একবার মিথ্যে কথা বলার জন্য আমাকে নারকেল গাছে বেশ কয়েক ঘন্টা মা বেঁধে
রেখেছিল। সেদিন আমার জন্য কষ্টে মাও সারাদিন কিছু খায় নি ।কখনও কোনো জিনিস  আমাদের খুব পছন্দ হলে মা -বাবাকে বলতে হত না, তারা কী ভাবে যেন টের পেয়ে যেত।  তখনই সেটা না পেলেও পরে ঠিক সান্টাক্লসের মত উপহার পেয়ে যেতাম বাবা মায়ের কাছ থেকে।সেটা যে খুব দামি কোনো  উপহার তা কিন্তু নয়।  সেই  পাওয়ার আনন্দ প্রকাশের কোনো ভাষা জানি না,  এখনও  শুধুই অনুভব করতে পারি।  আজ সংসারের চাকায় পিষ্ট হয়ে ভাবি সেটা জোগাড় করতে সেদিন কত ত্যাগ স্বীকার করেছিল  তারা। ছোট ছোট অনুভূতিগুলো গড়ে উঠেছিল আমাদের এভাবেই।
           একবার একটা মজার ঘটনা ঘটেছিল। বিকেল বেলা আমরা উঠোনে কুমির ডাঙা খেলছি বেশ কয়েক জন , হঠাৎ নারকেল গাছ থেকে ঝুপ করে কিছু পড়ার শব্দ হলো। প্রথমে ভয়ে বারান্দায় উঠে গেলেও একটু পরে কাছে গিয়ে দেখি কাঠবেড়ালির বাচ্চা। নারকেল গাছে তাদের বাসা থেকে একসাথে তিনটে জড়াজড়ি করে পড়েছে। গ আমার মাও ছুটে এসে বাচ্চাগুলো বেঁচে আছে কিনা আগে দেখল। তারপরে তাদের একটা বড় বেতের ঝুড়ি ঢাকা দিয়ে রাখা হল, বেড়ালের হাত থেকে বাঁচাতে । তখন সন্ধে হয় হয়। এমন সময় দেখি সেই ঝুড়ির কাছে ঘোরাফেরা করছে তাদের মা।ঝুড়ির নিচে দিয়ে ভেতরে ঢুকতে চেষ্টা করছে।আমি এগিয়ে গিয়ে ঝুড়িটা খুলে দিতেই মা  কাঠবেড়ালি বাচ্চাগুলোর কাছে গিয়ে লেজ উঁচিয়ে ঘুরপাক  খেতে লাগল। এই হলো অপত্য স্নেহ! এরপর আমরা যা দেখলাম আরও আশ্চর্যের ঘটনা। মা কাঠবেড়ালি তার আর একটি বাচ্চাকে মুখে করে গাছ থেকে নামিয়ে এনে ওদের কাছে পৌঁছে দিল। চারটে কাঠবেড়ালি আমাদের কাছে থেকে গেল। রাতটা ঝুড়ি ঢাকা দিয়ে রাখা হত।ভোর হতেই মা কাঠবেড়ালি সেখানে হাজির হয়ে  ডাকাডাকি শুরু করে দিত।ঝুড়ির ঢাকা খুলে দিতেই মা কাঠবেড়ালি খুব খুশি।কুটকুট করে গাজর কেটে খাওয়া শিখিয়ে দিত বাচ্চাদের।আমরা পাকা পেয়ারা , বাদাম দিতাম ওদের।  দুই হাতে ধরে ওরা খেত সব।আমাদের খেলার নতুন সাথি জুটে গেল। বাচ্চাগুলো  একটু  বড় হতে থাকল। একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম ঝুড়ির  ঢাকা খোলা। বাচ্চাগুলো একটাও  সেখানে নেই ।কিচমিচ শব্দে তাকিয়ে দেখি মা কাঠবেড়ালি তার বাচ্চাগুলো মুখে নিয়ে তরতরিয়ে  উঠে যাচ্ছে নারকেল গাছের উপরে।বাচ্চাগুলো আনন্দে তাদের  মায়ের কাছে ফিরে যাচ্ছে ।আমার খেলার নতুন সঙ্গী চলে যাওয়ার জন্য খুব মন খারাপ হয়ে গেছিল সেদিন।

নীরবতা || অমিতাভ দত্ত || কবিতা

নীরবতা
অমিতাভ দত্ত

ওগো সুন্দরী ; তুমি কি জানো না তা!
নৈঃশব্দের নিশ্চুপ নীরবতা,
কথা বলে প্রাণের গভীর গোপনে!
নিঝ্‌ঝুম নির্জনতায় মধ্য-রাত্তিরে,
স্তব্ধতায় খসে পড়ে হিমালয়ের শীর্ষ চূড়ার পাথর,
নীরব কাতর যাতনায় পাথর শয্যায়,
তন্দ্রাহীন চন্দ্রালোকিত আলোকজ্জ্বল সমতলে।
তন্দ্রা, ঐ শোনো বাতাসেরা বয়ে আনে,
মিলনান্তক কামনার আশ্বাসে বেহালার সুর,
ছন্দিত স্বরলিপি ক্লাইম্যাক্সে ঝালার পর্যায়ে,
ঔজ্জ্বল্যে আলোকরাশি বৃক্ষের নিস্তব্ধতায়,
নৈঃশব্দের শাখায় শাখায় ; পাখিরা তা শোনে।
ওগো রূপালীবর্ণা রহস্যাবৃতা উর্বরা রহস্যময়ী ছন্দা,
নীরবতা কথা বলে স্তব্ধতায় ; প্রাণের গভীরে....

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য ১৩৩ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক বিভাগ

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

১৩৩.
তৃতীয় বিন্দু ছিল দশঘরায়। হুগলি। একদিকে তারকেশ্বর , অন্যদিক গুড়াপ। দুটি রেলস্টেশন দিয়ে যুক্ত ছিল দশঘরা। উদ্যোক্তা ' তোড়া ' পত্রিকা। আহ্বায়ক : ড: গদাধর দাস। দশঘরা মানেই  সেই নাচঘর বা নাচমহল। সামন্ততান্ত্রিক আমি দশঘরা শুনলেই নেচে উঠি। তবে এই ফাঁকে একটা সত্যকথা জানিয়ে রাখতে চাই : আমরা যতই ডাক্তার গদাধর দাশের কথা গলা উঁচু করে বলি না কেন , দশঘরার মূল দায়িত্ব পালন করত আফজল আলি। আমার এমনটাই মনে হয়েছে।আর নেপথ্যে আফজল-পত্নী ফরিদা-র সমর্থন। পরিশ্রম।আপ্যায়ন ইত্যাদি অনেকগুলি শব্দ।আর ছিল জুলফিকর এবং আজেহারের সহযোগিতা। ৭ জুন ২০০৩-এর পর
চতুর্থ অনুষ্ঠান তারকেশ্বরে  ৮ জুন সকাল ৯টায় ।৭ জুন রাত্রিযাপনটা হারিয়ে যাচ্ছে কেন ? মনে হচ্ছে তারকেশ্বরে একটা সরকারি বাংলোর ব্যবস্থা করেছিল আফজল।
অনুষ্ঠানটি হয়েছিল তারকেশ্বর মেটারনিটি অ্যান্ড চাইল্ড ওয়েলফেয়ার সেন্টারে। আয়োজক ছিল 'আমি আর লীনা হেঁটে চলেছি ' পত্রিকার কয়েকজন নবীন তথা প্রাণবন্ত  কিশোর । কবিতার প্রতি ভালোবাসা - দায়িত্ববোধ ওদের কাছে শিক্ষণীয় , মনে হয়েছিল আমার।
তারকেশ্বরের একটা কথা আমি কোনোদিন ভুলতে পারবো না। কবিতাপাঠ ইত্যাদি চলছিল। হঠাৎ আমাকে কবিতার কথা বলতে বলা হল। আমার সেদিনের বলা ছিল , যা জানতাম , যা স্বপ্ন দেখতাম , তার সবটুকুই বলেছিলাম। এমনকী পোস্টমডার্ন কবিতা এবং সময়কালকে আমি আমার মতো করে বিশ্লেষণ করেছিলাম।
যখন শেষ করলাম , তখন বোঝা গেল এক ঘণ্টা চল্লিশ মিনিট বলেছিল। আমার জীবনের দীর্ঘতম বলা।
আমি বলেছিলাম : থামিয়ে দাওনি কেন !
উত্তর ছিল : শুনতে ভালো লাগছিল যে !
এর কোনো প্রতিক্রিয়া জানাবার ক্ষমতা আমার নেই।
এরপর ছিল ভোজনপর্ব। টুপি খুলে অভিবাদন জানাই ' আমি আর লীনা হেঁটে চলেছি '- র তরুণদের।
আগের তালিকায় শিবপুর -এর নাম ছিল না। আরো একটা কথা শিবপুর মানে অনেকের কাছে যেমন বোটানিক্যাল গার্ডেন আর আমার কাছে শিবপুর মানে গৌতমকুমার দে এবং প্রো রে না টা পত্রিকাগোষ্ঠী। পঞ্চম পয়েন্টটি হয়েছিল  ১৪ জুন , বিকেল ৫ টায় ,  ১৮৫ , ১৮৬/৪ শিবপুর রোড , ফ্ল্যাট ২০৩। এই ঘরোয়া পরিবেশে কিছু জরুরি কথাবার্তা হয়েছিল, যাতে আমরা সমৃদ্ধ হয়েছিলাম।
পরের দিন ১৫ জুন , রবিবার ।অনুষ্ঠান হয়েছিল শ্রীরামপুরের ৪৫-বি , চাতরা দত্ত পাড়া লেনে  । আহ্বায়ক বুদ্ধদেব বন্দ্যোপাধ্যায়।
শ্রীরামপুর আমাদের খুব পরিচিত জায়গা। কবিদের শহর। এই অনুষ্ঠানও আমার কাছে গৌরবের।
আগামীকাল লিখবো মুর্শিদাবাদ জেলার  অনুষ্ঠান গুলির প্রথম পর্বের কথা।

Monday, September 14, 2020

তিনটি অণুকবিতা || ফটিক চৌধুরী || কবিতা

তিনটি অণুকবিতা
ফটিক চৌধুরী



সম্পর্ক-১
হাত থেকে পোর্সিলিনের প্লেট পড়লেই
        ‌                                       ভাঙবে
টুকরো গুলো জোড়া লাগানো যায় না
                                              কখনো
জোড়াতালির সম্পর্ক কখনোই সম্পর্ক নয়।

সম্পর্ক-২
নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপর ভর করে থাকে সম্পর্ক
সম্পর্কের পাশেই থাকে কিছু কাঁটাতার
টিকিয়ে রাখতে গেলে সচেতন থাকা জরুরি।

সম্পর্ক-৩
কতটুকু বোঝাপড়া থাকলে একটা সম্পর্ক তৈরি হয়
কতটুকু বোঝাপড়া থাকলে শান্তি নেমে আসে পরিবারে
বোঝাপড়ার থাকা চাই মাপকাঠি, সঠিক সহাবস্থান
শব্দের বোঝাপড়া না থাকলে একটাও কবিতা হয় না।

ধ্রুব ।। কার্তিক ঢক্ ।। কবিতা

ধ্রুব 
।। কার্তিক ঢক্ ।। 

জলের কাছে
একটি পদ্ম  দাঁড়ালো।
পদ্মের কাছে
একটি ভ্রমর দাঁড়লো।
হাওয়া দাঁড়িয়ে আছে
এলোমেলো ভ্রমরের ডানায়।

আলো ঠিকই জানে জলের সংকেত --
পদ্ম নাভির গন্ধ --
আর ডানার সঞ্চার।

একটি বুদবুদ বিস্তার করছে
শূন্য থেকে মহাশূন্যে সমস্ত ছায়ার বিপরীতে...

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য ১৩২ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


১৩২.
কবিতাপাক্ষিক  ২৫২ - ২৫৩ সংখ্যার ব্যাক কভারের বিজ্ঞাপন। ১৭ মে ,২০০৩ এবং ৩১ মে ২০০৩ -এ প্রকাশিত ।পড়তে অনুরোধ করছি।
কবিতাপাক্ষিক -এর
১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে
৫০ টি প্রান্তে /বিন্দুতে
কবিতাউৎসব
জুন- জুলাই - অগাস্ট ২০০৩
কবিতাপাক্ষিক-এর ১০ বছর ব্যাপী ধারাবাহিকভাবে নিয়মিত প্রকাশের ঐতিহাসিক ঘটনাটির সংবাদ ভারতবর্ষের ৫০ টি প্রান্তে/ বিন্দুতে কবি এবং কবিতা-প্রেমীদের কাছে পৌঁছে দিতে অনুষ্ঠিত হবে ৫০টি কবিতাউৎসব।
মনে রাখবেন , আপনিও এই গৌরবের অংশীদার ।
কয়েকটি উৎসবের স্থান ও তারিখ :
৩১ মে বর্ধমান ॥ ১ জুন সোনামুখী , বাঁকুড়া
৭ জুন দশঘরা, হুগলি॥ ৮ জুন তারকেশ্বর , হুগলি
২০ জুন ভগবানগোলা ॥ ২১ জুন রঘুনাথগঞ্জ
২২ জুন ফারাক্কা ॥ ২৯ জুন দুর্গাপুর
৫ জুলাই কোচবিহার ॥ ৬ জুলাই শিলিগুড়ি
২০ জুলাই ঘাটাল
প্রতিটি অনুষ্ঠানেই আঞ্চলিক এবং লোকসংস্কৃতি- বিষয়ক অনুষ্ঠানসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
পরবর্তী বিজ্ঞাপন দেখুন।
প্রথমেই জানিয়ে রাখি -- ৫০টি অনুষ্ঠানের বিশদ সংবাদ পরিবেশন করা এই লেখার জন্য এই মাধ্যম ঠিক নয় । আমি কিছু কিছু ঘটনা কেবলমাত্র নিজেকে জানানোর জন্য লিখে রাখতে চাইছি।
৩১ মে ,২০০৩  বিকেল পাঁচটায় বর্ধমানে তপন চক্রবর্তী মঞ্চে ( বাণীপীঠ উচ্চবিদ্যালয়।বাকচর্চা আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক শ্যামলবরণ সাহা এবং দীপ সাউ।
তারপরের দিন ১ জুন সোনামুখীতে দ্বিতীয় অনুষ্ঠান।
লগ্নঊষা পত্রিকাগোষ্ঠীর ২৭০ তম সাহিত্যসভার অংশ ছিল এই উৎসব। আহ্বায়ক সচ্চিদানন্দ হালদার এবং জীতেন চট্টোপাধ্যায় ।আমাদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল সোনামুখী পৌরসভার নবনির্মিত গেস্টহাউসে । একটি সত্য সংবাদ জানিয়ে রাখাটা আমার কাছে বাধ্যতামূলক। বর্ধমান এবং সোনামুখীর মূল দায়িত্ব পালন করেছিল দীপ সাউ।
সেদিন খুব গরম ছিল। আমাদের কষ্ট হবে এটা ভেবে সোনামুখী পৌরসভার গেস্ট হাউসের কর্মীরা ঘরের ছাদ এবং মেজেতে জল ভরে রেখেছিল। এই ভালোবাসা পৌরসভার  প্রধান রাধাগোবিন্দ বরাট -এর  সৌজন্যে বলেই আমার মনে হয়েছিল।
বাইরে খেতে গিয়েছিলাম। গরমে সবারই খুব কষ্ট হচ্ছিল।
হঠাৎ আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এসেছিল  :
কবিদের গায়ে রোদ লাগে না।
পরে এই কথাটা নিয়ে অনেক ভেবেছি। অনেক দিন ধরে ভেবেছি।
কেন বলেছিলাম : কবিদের গায়ে রোদ লাগে না।
পরে মনে হয়েছিল , আমি কি কোনো কবিকে বীরভূমের দারুণ গরমে বৃক্ষরোপন করতে দেখেছিলাম ! গরমকে উপেক্ষা করে , কষ্টকে অবহেলা করে বৃক্ষরোপন কাজ থেকে সরে না আসা ! তাহলে কি তাঁর গায়ে রোদ লাগেনি ! রৌদ্র স্পর্শ করেনি তাঁকে। তিনিও তো কবিতা লিখতেন। আর আমি বা আমরা যদি কবিতা লিখি , তাহলে তো আমাদের গায়েও রোদ লাগার কথা নয়।
লাগেও না। এ-টুকু সাহস করে বলতে পারলাম।

আটপৌরে কবিতা ৭৬৬- ৭৭০ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ



আটপৌরে কবিতা
নীলাঞ্জন কুমার

৭৬৬

অধীনস্থ/  আবেদক/  করদাতা
        ) প্রজা  (
   সাধারণ মানুষ তাই সয় ।

৭৬৭

মৃত্যু/  অদৃশ্য/  ভয়ংকর
        ) চোরাবালি  (
পা দিলে মৃত্যুদূত সামনে ।

৭৬৮

স্পষ্ট/  যুক্তিপূর্ণ/  সত্যি
      ) অকাট্য  (
  যা বহু   মানুষ চায় ।

৭৬৯

সর্বনাশ/  ক্ষতিকারক/  ক্রূদ্ধ
        ) অভিশাপ  (
   সত্যিই কি মিশে যায়!

৭৭০

সম্মতি/  জ্ঞাত/  শিষ্ঠতা
        ) অনুমতি  (
অনুজেরা অগ্রজের কাছে নেয় ।

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

' দুপুরের রোগা রোদে আমার পড়ে না আর ছায়া/  বরং অবিশ্বাসে রেখে দাও অনন্যসাধন ' ( ' ভালো থেকো ') -র মতো উচ্চারণ যাঁর সহজাত,  সেই কবি সৌগত পালের কাব্যগ্রন্থ 'জলের কোলাজ ' পড়ে বুঝি তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া । কবি কখনো কবিতা লেখায় বহুপ্রজ নন,  কিন্তু যখন লেখেন তখন প্রতিটি শব্দের সঙ্গে ভাব ভালোবাসা না করে কাগজে আঁচড় কাটেন না । সেই কারণে ভালো লাগে:  ' নিজেকে ভাবলে নিজের ভেতরে নিজের বিষাদ/  নিঃসঙ্গতা জিরাফের মতো বলে মা নিষাদ ।' ( ' লুডো ') ,  ' আমি হাঁসেদের চই চই / আমি ভিতরে বাহিরে রই/  আমি নিজেদের লোক নই/  আমি তোমাদের লোক হই? ' (' আমি কই ') ,  ' কোথায় তুমি ভাসাও আমায় গঙ্গাপারে ? / প্রেম জানে না প্রেমের মানে সংজ্ঞাধারে । ' ( 'সংজ্ঞা ' )।
            সৌগতর ঈর্ষণীয় ছন্দজ্ঞান,  যৌক্তিক ইমেজারি,  কবিতার ভেতরে পাঠককে ঢুকিয়ে দেওয়ার প্রবণতা আছে । পাঠক পড়তে শুরু করলে মনযোগ তাকে দিতেই হবে ।
              কবির এই কাব্যগ্রন্থ পুণঃপাঠের পরে আগের অনুভূতির বাইরে যেতে পারা যায়  না । কবির একমাত্র কামনা পাঠক মগ্নতা । ' জড়ায় যদি হরফগুলো , / বরফকলে , / ছন্দগুলো খুঁজবে চুলো/  বুকের তলে  ' ( ' ছোবল ' ) তাই তিনি সহজাতভাবে লিখে ফেলেন । পার্থপ্রতিম দাসের প্রচ্ছদ কালার  ইমেজারির গুণে ধারালো সৃষ্টি ।

Sunday, September 13, 2020

সবাই মিলে সিনেমা হলে- ১৩ || কান্তিরঞ্জন দে || সাপ্তাহিক বিভাগ

সবাই মিলে সিনেমা হলে- ১৩
কান্তিরঞ্জন দে


 সিনেমা দেখাটাও একটা শিল্প
--------------------------------------

     চোখ থাকলেই সিনেমা দেখা যায় না । কান থাকলেই গান শোনা যায় না । তার জন্যে অন্যরকমের  চোখ কান লাগে। এ আবার কি ধরণের কথা ? হ্যাঁ মশাই , ঠিকই বলছি ।
      কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি থাকলেই কি সাহিত্যের পাঠক হওয়া যায় ? তার জন্যে মানসিকতা চাই , আগ্রহ চাই , এবং সবচেয়ে বেশি চাই চর্চা । ইংরিজিতে যাকে বলে----অ্যাপটিচিউড্ , ইন্টারেস্ট অ্যাণ্ড প্র্যাক্সিস। একটু খোলশা করে বলুন তো মশাই ।

         অক্ষর জ্ঞান ছাড়া গল্প-কবিতা-উপন্যাস-প্রবন্ধ পড়া  অসম্ভব । কিন্তু , সিনেমা দেখতে গেলে শুধু দৃষ্টিশক্তি আর শ্রবণশক্তি থাকলেই চলে । ঠিক কিনা ? একদম ঠিক ।
         আজ্ঞে না । একদম ভুল । কিরকম ? সিনেমা দেখতে গেলে শুধু একজোড়া চোখকান হলেই চলে না । তারসঙ্গে লাগে মগজ ও হৃদয় । আহা, সে তো যে কোনও শিল্প উপভোগের ক্ষেত্রেই সত্যি । অন্যান্য শিল্প মাধ্যমের ক্ষেত্রে এ সত্যটা স্বীকৃতি পেয়ে গেলেও , সিনেমার  ক্ষেত্রে অনেকেই এখনও এই সত্যটা মানতে চান না । তারা মনে করেন ,  দেখবার জন্য দুটো চোখ ( একটা হলেও অসুবিধে নেই ), আর শোনবার জন্য দুটো কান , আর হাতে কিছু সময় থাকলেই সিনেমা দেখা যায়। আজকাল তো আবার সিনেমা দেখবার জন্য পকেটে হার্ড ক্যাশ থাকারও দরকার নেই ।

      আজ্ঞে না মশাই । সিনেমা ব্যাপারটা অত শস্তা নয় । সিনেমা দেখতে গেলে ওই ব্যাপারগুলো তো লাগেই । তার সঙ্গে লাগে বুদ্ধি আর আবেগ মেশানো চর্চা । এই চর্চা সিনেমার প্রতি তীব্র ভালোবাসা ছাড়া সম্ভবই নয় । কেন না , তীব্র ভালোবাসাই তীব্র আগ্রহের জন্ম দেয় । আর আগ্রহ থেকেই আসে চর্চার অভ্যেস ।

      সারা পৃথিবীতে সিনেমা একটা সিরিয়াস আর্ট ফর্ম-----এই সত্যটা আজ সারা পৃথিবীতেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে । সুতরাং তাকে সঠিকভাবে উপভোগ করতে গেলে এই শিল্পমাধ্যমটিকে   ভালোভাবে বোঝা দরকার । আর  বোঝা ব্যাপারটা ধারাবাহিক চর্চা ছাড়া সম্ভবই নয় । সিনেমা তৈরির কলাকৌশল , সিনেমা শিল্পের বিভিন্ন শাখাপ্রশাখা ও বিভাগ , দেশবিদেশে সিনেমা তৈরির নানারকমের রীতিনীতি এবং বিভিন্ন দশকে সিনেমা মাধ্যমে যে যুগান্তকারী পরিবর্তন গুলো হয়েছে , সেগুলো সম্পর্কে একজন দর্শক যত বেশি ওয়াকিব হাল থাকবেন ,  সিনেমা দেখে তিনি  তত  বেশি  গভীর আনন্দ আবিষ্কার করতে পারবেন।

      যেমন ,  গানের তাল , লয় , ছন্দ , সুরের বিস্তার সম্বন্ধে যার যত বেশি  সক্রিয় চর্চা, তিনি যেমন নানা ধরণের গান শোনার মজাটা তত বেশি উপভোগ করতে পারেন----সিনেমার ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা ঠিক  তাই ।

     সিনেমা দেখতে শেখানোর পদ্ধতি হিসেবে তাই চলচ্চিত্র বিদ্যা বা ফিল্ম স্টাডিজ বিষয়টার জন্ম । আমাদের পশ্চিমবঙ্গে  অ-সরকারি ভাবে  চলচ্চিত্র বিদ্যা চর্চার শুরু ১৯৭০-এর দশকে । এই বিষয়ের পথিকৃৎ ফাদার গাস্তঁ রোবের্জ সম্প্রতি ৮৫ বছর বয়সে কলকাতায় মারা গেলেন । সরকারি উদ্যোগে কলকাতায় এই বিদ্যার চর্চার শুরু হয় ১৯৮৭ সাল নাগাদ। আর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কলেজে পাঠ্য বিষয় হিসেবে এটি চালু হতে থাকে নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে ।

      যৌবনে সত্যজিৎ রায় যখন সিনেমা দেখতে যেতেন , তখন সঙ্গে পকেট ডায়রি আর পেন নিয়ে যেতেন । ছবির উল্লেখযোগ্য নানা খুঁটিনাটি তিনি তাঁর ডায়েরিতে নোট করে নিতেন ।

        একজন সিরিয়াস সিনেমা প্রেমী দর্শক থেকে সত্যজিৎ  রায় ভবিষ্যতে বিশ্ববিখ্যাত চিত্র পরিচালক হয়ে ওঠেন । সবাই হয়তো চিত্র পরিচালক হবেন না । কিন্তু সিনেমা যারা সত্যি সত্যি ভালোবাসেন , তারা জানেন---- সিনেমা দেখতে জানাও একটি সুন্দর শিল্প ।

       সিনেমা  কিভাবে ভালো করে দেখা যায় , সিনেমা দেখা ব্যাপারটা কখন কিভাবে শিল্প হয়ে ওঠে, এ নিয়ে পরের বারে আলাপ করার ইচ্ছে রইল ।

বিশ্বজিৎ || ঘোড়া || কবিতা

  বিশ্বজিৎ ঘোড়া তুমি বরাবর শিক্ষা নিতে ভালবাসো।শিক্ষার ভেতরেও একটা শিক্ষা থাকে।অচেনা গলির ঘ্রাণ... রক্ত আছে মাংস আছে তুমিও বোঝ নদী কীভাবে বা...