অনন্য দ্রাঘিমা: অন্য ভাষার কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অনন্য দ্রাঘিমা: অন্য ভাষার কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২০

অনন্য দ্রাঘিমা: অন্য ভাষার কবিতা || রুদ্র কিংশুক || মারি-ক্ল‍্যার বাঁকুয়ার-এর কবিতা

অনন্য দ্রাঘিমা:  অন্য ভাষার কবিতা 
রুদ্র কিংশুক 
মারি-ক্ল‍্যার বাঁকুয়ার-এর কবিতা


মারি-ক্ল‍্যার বাঁকুয়ার (Marie-Claire Bancquart, 1932-2019)জন্ম  ফ্রান্সের  আভেরোঁ-তে। কবি,  ঔপন্যাসিক ও বিশিষ্ট সাহিত্য-সমালোচক মারি-ক্ল‍্যার বাঁকুয়ার সাম্প্রতিক ফরাসি কবিতায় বিশিষ্ট নাম। সাহিত্যকৃতির জন্য তিনি লাভ করেছেন আকাদেমি ফ্রাঁসে কর্তৃক প্রদত্ত বিশিষ্ট সাহিত্য পুরস্কার গ্রাঁ প্রি দ‍্য লা ক্রিতিক লিতের‍্যার।
কোন কোন সমালোচক তাঁর কবিতার নতুনত্ব ও সমৃদ্ধির কথা ভেবে তাঁকে শার্লে  বোদল‍্যার-এর সঙ্গে তুলনা করে থাকেন।


১.
দু'হাজার বছর হলো এখন

দু'হাজার বছর হলো এখন ,আহত পা
দেবতার আশ্চর্য ভালোবাসা পা টেনে টেনে চলেছে।

 তার বয়স হলো। শিগগির
তাকে দেখা যাবে না। উড়োজাহাজের পথ ছাড়া
 গমক্ষেতের চিহ্নায়নে
 যা দেয় এক প্রাচীন
স্যাংচুয়ারি হদিস।

সে আকাঙ্ক্ষা করে আদর যত্নের ভাষা,
 খোলা তৃণভূমি,সুলভ শরীর ,

আর শব্দেরা অস্বীকার করে, আর অন্য কোথা তার ইতিমধ্যে মৃত্যুতে
 সূর্যের নিচে এক রোগাটে পার্পল ফুল ছাড়া।

 সে তবুও এখনো সর্বত্র দেবতা সাজতে পারে,
 সন্ধ্যার জীর্ণ হৃদয়।

সে ভাবে ফুল খসে যাবে
 হালকা
একটা শতাব্দী থেকে পরবর্তীতে প্রার্থনা সহ।

২.
 আমার কথা বললে আমি ভালোবাসি এক বৃদ্ধকে

আমার কথা বললে, আমি ভালোবাসি এক বৃদ্ধকে
 যে থেকে গেছে একজন ছুতোর
ধর্মশাস্ত্রের দাবি পূরণ করেই।

 একটা কার্ডখণ্ড থেকে
পাকাচুলো জিসাস
 খোদাই করে
 ভারী হাতে
একটা ক্রুশকাঠ বহু হাত বিশিষ্ট।

 মেয়েরা জলপাই ম্যারিনেট করছে
বার্থডে ডিনারের জন্য ভেড়ার মাংস
 যা কখনোই গসপেল থেকে আসবে না।

তাঁর বয়স ছেষট্টি, প্রভু নন
কিন্তু তিনি তাঁর ছেলের ছেলের হাত ধরেছেন
 এবং তাঁর মৃত্যু দ্বিগুণ পুরনো,
 ফিসফিসানি
যে এই কাঠ থেকে তিনি তৈরি করেছেন ঘুঘু পাখিদের বসার আলনা।

শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২০

অনন্য দ্রাঘিমা:অন্য ভাষার কবিতা || রুদ্র কিংশুক || পোল স্কারোঁ-র কবিতা

অনন্য দ্রাঘিমা:অন্য  ভাষার কবিতা 
রুদ্র কিংশুক
পোল স্কারোঁ-র কবিতা 


বাঙালি পাঠকের সঙ্গে পোল স্কারোঁ (Paul Scarron, (1610-1660)-র প্রথম পরিচয় ঘটান বিশিষ্ট লেখক কমলকুমার মজুমদার (১৯১৪-১৯৭৯) তাঁর 'গোলাপ সুন্দরী' (বাংলা ১৩৮৯) উপন্যাসে।  উপন্যাসের নায়ক বিলাস টিবি রোগে আক্রান্ত হয়ে স‍্যানেটোরিয়ামে ভর্তি হয়। সেখানে অন্য রোগীদের সঙ্গে তার দেখা হয় আর একজনের  যার নাম চেট্টি  যে সর্বদা মৃত্যু ভাবনায় আচ্ছন্ন। জীবনের চারিদিকে সে  আসন্ন মৃত্যুর উপস্থিতি টের পায়।তাই প্রতিনিয়ত সে তার প্রিয় এপিটাফটি উচ্চারণ করে। সেটটির এই উচ্চারণ তার ব্যক্তিগত থাকে থাকে না। এপিটাফটি ক্রমশ হয়ে ওঠে স্যানেটোরিয়ামে একটি সর্বব্যাপী উপস্থিতি। কমলকুমার বাঙালি পাঠকদের এতটাই শিক্ষিত ভাবতেন যে উপন্যাসে শিক্ষিত ভাবতেন যে উপন্যাসে এপিটাফটি বাংলা বর্ণিকরনে ফরাসি ভাষাতেই উদ্ধৃত।

স্কারোঁ ছিলেন একাধারে কবি, নাট্যকার এবং ঔপন্যাসিক। নানান দুর্ভাগ্যের শিকার এবং শারীরিকভাবে অক্ষম ছিলেন স্কারোঁ। তাঁর শরীরের উপরাংশ  চিরতরে বেঁকে চুরে গিয়েছিল। পা দুটো ছিল আসার, পক্ষাঘাতগ্রস্ত । শারীরিক এবং মানসিকভাবে  একজন বিপর্যস্ত মানুষ। এই দৈহিক ও মানসিক যন্ত্রণার প্রকাশ ঘটেছে তাঁর লেখায়। এখানে তাঁর  এপিটাফটির সঙ্গে একটি নাতিদীর্ঘ কবিতার অনুবাদ উপস্থাপন করা হলো।

১.
অগ্নি পাত্রে রাখা সৌন্দর্য

সে সৌন্দর্য অগ্নিপাত্রে রাখা
 স্টিলের হৃদয়
 তুমি আমাকে রেখেছো পাশে
 রক্ত-আগুনে হয়েছে সঠিক সমন্বয়।
হায় প্রেম, আমায় তুমি করলে গ্রহণ
 ইঁদুরকে নেয় বেড়াল যেমন।

২.
 এপিটাফ

ঈর্ষা নয়,  করুনাই  করো আজ তাকে
যে এখন এখানে একা ঘুমিয়ে আছে ,
বহু মৃত্যু ছুঁয়েছিল মৃত্যু পূর্বে যাকে
যে মরণ অন্তর্গত জীবনের কাছে।

পাশ দিয়ে চলে যাও, যাবে তুমি যদি
শব্দ নয়, ভেঙো নাকো ঘুম, যত্নে আরো
আজই এসেছে প্রথম সে রজনী আদি
ঘুমাচ্ছে প্রথম আজ হতভাগ্য স্কারোঁ।

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...