অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৩ জুলাই, ২০২২

রথ বনাম পথ ।। অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় ।। অণুগল্প

 রথ বনাম পথ 

 অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় ।



    তোকে বারবার বলছি যে, আমিই বড়ো । শিবেশের কথার জোরালো প্রতিবাদ করলো তিন্নি । না, আমি বড়ো । শিবেশ বলল, দ্যাখ আমাকে বয়সে বড়ো হতে হয় : এটাই নিয়ম ।তিন্নি রসালো জিলিপিতে জোর এক কামড় দিয়ে বলল, এসব নিয়ম তৈরী করা । মেয়েদের ছোট করে রাখা । শিবেশের জিলিপি শেষ । তুই কি মেলাতে এসেও নিস্তার দিবি না? তোরা প্রায় একই রকম । তিন্নি প্রতিবাদ করল । তোমরাও তো বাবা ছোট করে এনজয় কর । এই ইগো ফাইটের কোন মানে আছে ? শিবেশ হাতে জল নিতে বলল , অভিধানে খুঁজতে হবে । বলে হেসে ফেলল । আমাদের দুজনকেই দুজনের দরকার । এটাই বড় কথা । তিন্নি রসালো আঙুল চেটে নিয়ে বলল, এগজাক্টলি । বোঝ বাবা একটু বোঝ ।

     হাত মুখ ধুয়ে শিবেনের দাঁড়ানো মোটরসাইকেলে এসে বসলো তিন্নি । শিবেশ পাশে এসে দাঁড়ালো । 

------- তিন্নি তোর ঐ কবিতার লাইনটা মনে আছে?

-------- কি ?

--------- 'পথ ভাবে আমি বড় রথ ভাবে আমি .....' 

-------- মনে থাকবে না কেন ? ওটা কোটেশন করে লাস্ট ইয়ারে কোশ্চেন এসেছিল । 

------ আমাদেরও হয়েছে একই অবস্থা । রথ সাজিয়ে কি হবে যদি তার সঠিক পথ না থাকে ! আবার পথও তো অপেক্ষা করে রথের জন্য । তাই না ?

------- কি আর নতুন কথা বললি ! তবে পথটাও বেশ ইম্পর্টেন্ট ।

------ দাঁড়া, তাহলে রিসার্চ করতে বসি । কিছু কিছু পুরনো কথা মনে করতে হয় ইয়ার । ভুলে যাই আমরা ।

----- আমি যেরকম ? ' এই পথ যদি না শেষ হয় তবে কেমন হোতো তুমি বলতো ....' 

      শিবেশ তিন্নির পিঠে আলতো চাপড় মেরে বলল, একটু থামাবি ? দ্যাখ ঐ রথ বেরিয়েছে । চল একটু দড়ি ধরেটান দি । তিন্নি খিলখিল হেসে বলে, পুণ্য হবে ? হবে তো ? শিবেশ বলল, পুণ্য চোখে দেখা যায় না রে ! কাজের মধ্যে লুকিয়ে থাকে । বুঝলি ? তিন্নির আদুরে ধমক । অ্যাই, তুই এই মেলাতে এসেও আমার ক্লাস নিবি ? আর, এত ভিড়ে দড়ি ছুঁতে পারবি ? শিবেশ বলল, চল আমি তো আছি ।

       আজ জগন্নাথ দেবের রথ আর পথের মিলন । অসংখ্য মানুষের পদচিহ্নে তার জয়যাত্রা ঘোষিত হচ্ছে । বিভিন্ন রঙের পোশাকে বর্ণময় হচ্ছে সেই পথ । ঐতিহ্য তো এটাই । জগৎ অনেক মহীয়ান হোক্ ।

     শিবেশ, তিন্নি ধীর অথচ দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে গেল সেই রথের দড়ি ছোঁয়ার জন্য, যে রথ তার নির্দিষ্ট পথে চলেছে । সেই পুণ্য যেন সবাইকে ছুঁয়ে যায় । ছুঁয়ে যেতে পারে... ।


              -----------*****-----------

শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২১

এলেম নতুন দেশে ।। অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় ।। অনুগল্প, Aurobinda Mukherjee

এলেম নতুন দেশে 

অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় 



যে দুজন একরাস্তা দিয়ে কখনোই চলাফেরা করতো না,  তারা এখন একটু তফাতে হলেও একই রাস্তা ধরছে । যাদের মধ্যে সীমানা নিয়ে বিরোধ প্রায় লেগেই থাকতো, তারা যেন কোন মন্ত্রবলে চুপ করে আছে ।যার হাসিমুখ দেখা আর অমাবস্যায় চাঁদ দেখা একই ব্যাপার বলে কানাঘুষো হয়, তাকেও দেখা যাচ্ছে দাঁতের বিজ্ঞাপন দিতে । কতসময় যে কিপটে লোকটা রাস্তায় বসে থাকা কুষ্ঠ ভিখিরি'টাকে পাশ কাটিয়ে উদাসীন ভাবে চলে গেছে ; কিন্তু আজ যেন সে অন্য গ্রহের মানুষ । দু- এক বার  কিছু ভাবনা ভেবে সন্তর্পণে এদিক ওদিক একটু তাকিয়ে খুঁজে খুঁজে এক টাকার কয়েন'টি সগর্বে টং করে ফেলে দিলে । বাবা তার অবাধ্য ছেলের বায়না মেটাচ্ছে আর ছেলেটি অবিশ্বাসের চোখ নিয়ে দু- এক বার দেখে নিচ্ছে তার বাবাকে । স্বামী স্ত্রীর মধ্যে যেন কোনও কালে কোনোরকম বিরোধ ছিল না । এখন হাসিমুখ এনে তিনি কল্পতরু । রাত্রিগুলো যেন অজ্ঞাতবাসে চলে গেছে । দিনের আলোও এত মুখরিত করেনা । এককথায় স্থান কাল পাত্র দেখে শুধু একটা গানই গাইতে ইচ্ছে করছে সবার---'এলেম নতুন দেশে ....' ।

          এ কোন মন্ত্রবল ? এ বহুবলধারিনী'র মন্ত্রবল । এ আনন্দময়ীর আনন্দিত রচনা । আনন্দ ।শুধু আনন্দ । শারদ আনন্দ । সমস্বরে সবার মুখে একটাই কথা--- মা আসছেন ...। ভুবনভোলানো মা । মা দুর্গা ।


              ================

সোমবার, ২১ জুন, ২০২১

জীবনে যোগ || অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় || IDY,

জীবনে যোগ  

অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় 



যোগীরাজের সংসারে মন আর আত্মার প্রেম 

পর্বতের মত অটল স্থিতধী প্রাকৃতিক ফ্রেম

আত্মা লভে পরমাত্মার সখ্য 

অন্তবিহীন সম্ভাবনায় দক্ষ 

বিশ্ব পরিব্রাজক যোগ বিতরে বিচ্ছুরিত আলো 

স্বাধীন দেহে স্বাধীন মনে দূরীভূত করে যতেক কালো

সূর্যের মত যোগ জীবনের প্রহরী 

জনসমুদ্রে স্বাস্থ্যে উঠেছে লহরী 

প্রাণবায়ু আজ চেতনায়  মিশে

                    জয়গান গাহে জীবনের 

শৃঙ্খল ভেঙ্গে শৃঙ্খলা জাগে

                    বিপ্লব আহা এ কি মনের ।


      ----------------------------------------

রবিবার, ৯ মে, ২০২১

' সুপ্রভাত আসুক ' --- অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়

 '  সুপ্রভাত আসুক '  

                 

                 ---   অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়    



এ পাড়া থেকে ও পাড়া । এক প্রান্তর থেকে আরেক প্রান্তর । প্রায় বিরামহীন খুঁজে বেড়াচ্ছে ।সন্ধান চাই  । যে ভাবেই হোক খুঁজে বের করতে হবে । না হলে যে শান্তি নেই  ।

    মলিন পোশাক, ক্ষয়ে যাওয়া চটি , চোখে মুখে ক্লান্তি আর চিন্তার ছাপের পেটেন্ট নিয়ে লোকটি এ ভাবেই প্রিয়জনকে হন্যে হয়ে খুঁজে চলেছে ।শহরের এক চক এলাকায় তার শ্রান্ত শরীর নিয়ে বসে পড়ে । কোনো পাড়া থেকে ভেসে আসছে গান-- 'শূন্য হাতে ফিরি হে নাথ পথে পথে ....।' আজ পঁচিশে বৈশাখ । কোভিড-19 প্রোটোকল মেনে সেভাবে কোন অনুষ্ঠান হচ্ছে না । বেশিরভাগই ভারচুয়াল । 'কোরোনা' প্রতিরুদ্ধ কিছু কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে বাজার হাট আংশিক খোলা ।তাই লোকজনও বাইরে কম । মনে হচ্ছে ভয়ার্ত সভ্যতা যেন হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছে । লোকটি উঠে এসে এক টোটো চালককে জিজ্ঞেস করে--

----- হাঁগো, তুমি তাকে দেখেছো ?

------ কাকে  ?

------- ঐযে গো, যে হারিয়ে গেছে ।খুঁজে পাচ্ছি না ।

----- কোথায় বাড়ি  ?

----- তার তো সব জায়গায় থাকার কথা ।

----- ভগবানের মতো  ? পাগল ভেবে দু-একজন যাত্রী নিয়ে হাসতে হাসতে চলে যায় টোটো ।

   লোকটি দমে যায় না । আবার হাঁটতে থাকে । অন্য একটি পাড়া থেকে রবীন্দ্রসংগীত ভেসে আসে । 'আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে....'। কিছুদূর গিয়ে একটি মেডিক্যাল স্টোর থেকে ধোপদুরস্ত এক লোককে বেরুতে দ্যাখে । লোকটি তার সামনে গিয়ে পথ আটকায় । লোকটি প্রশ্ন করে--

------- হ্যাঁ গো, তুমি  দেখেছো ?

------- কি দেখেছি ! কাকে ?

------- ঐযে গো, যে হারিয়ে গেছে ! অনেক খুঁজছি জানো !

------- তোমার কে হয়, কোথায় থাকে  ?

------- নিজের লোক গো ! তোমারও ।

------- কি বলছো বুঝতে পারছিনা । দোকানের মালিক পাগল ভেবে ধমকে সরিয়ে দিলে ।

লোকটিকে দেখে মনে হচ্ছে,  এক অপ্রতিরোধ্য মানুষ । মনের ভেতর যেন এক অনুসন্ধানের গবেষণাগার কাজ করে চলেছে । আবার চলতে শুরু করল । মাঝেমধ্যে গান বেজে ওঠার মধ্যে দিয়েই আজ মনে হচ্ছে পঁচিশে বৈশাখ । এখন যেমন, ' প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে....' --

      লোকটি একটি অফিসের সামনে এসে পড়ল । অল্প কিছু লোক বাইরে পড়ে থাকা ফ্ল্যাগ , ফেস্টুন ইত্যাদি ঘরে ঢোকাচ্ছে । আর নিজেদের মধ্যে  দেশের দশের কথা আলোচনা করছে । লোকটি ভাবল, বেশ কয়েকজনকে তো দেখছি ; কেউ না কেউ বলতে পারবে ।

----- এইযে দাদা'রা , কতদিন খুঁজে বেড়াচ্ছি, তাকে খুঁজে দেবে?

প্রথম জন---- শালা, নিজেদের কত সমস্যায় ফেটে যাচ্ছে ...। আবার কি হারিয়েছে খুঁজতে হবে!

দ্বিতীয় জন--- তুই কে ? কোথায় থাকিস্  ?

------ আমাকে হতভাগা বলে গো । সব জায়গায় থাকি ।

দ্বিতীয় জন--- কাকে খুঁজছিস ?

------- যে হারিয়ে গেছে  ।

তৃতীয় জন--- কতদিন আগে ?

-------- ঠিক মনে করতে পারছি না গো ।

প্রথম জন---- এই  ফোট ! তোর পাগলামি ছাড়িয়ে দেব।

দ্বিতীয় জন---- তার নামটা মনে করে বল দেখি  । বল--

------ হ্যাঁ,  মনে পড়েছে । নামটা জানি গো ।

দ্বিতীয় জন--- কি ?

------- সুপ্রভাত  ।

তৃতীয় জন--- প্রভাত নামে তো অনেকেই আছে ।কিন্তু সুপ্রভাত .....

দ্বিতীয় জন----- না না চিনি না ।যা এখান থেকে যা ।

       প্রথম জনের ধমকের চোটে আবার পথে নামল লোকটি । এ পথের শেষ দেখতে পায় না সে । প্রশ্ন আছে , উত্তর নেই ।

   বাইরে যতই ক্লান্ত ধ্যস্ত দেখাক, লোকটি কিন্তু দমে যাবার পাত্র নয় । তাই সে এগিয়ে যেতে থাকল প্রশ্ন নিয়ে । তাকে খুঁজে পেতে হবে । দূর থেকে ভেসে আসছে--- ' নিশিদিন ভরসা রাখিস হবেই হবে....।'


           ----------------***--------------

শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১

গল্প বেঁচে থাক্ , সুখী হ ..... অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়

  গল্প

বেঁচে থাক্ , সুখী  হ .....

অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়




সার্বভৌম দেশের এর থেকে বেশী  গণতান্ত্রিক বাধ্য প্রজা আর কি রকম হবে ! খেতে পেলে খায়, ঘুম না পেলে ঘুমায় না ।থাকার জন্য গাছের তলা কিংবা  অব্যবহারযোগ্য  কোন শেডের নীচের জায়গাটুকুই যথেষ্ট নয়  ?  হাঁ, ওরা অনায়াসে এই প্রশ্ন সত্য যুগের বরপ্রাপ্ত বাণের মত ছুঁড়তে  পারে  । উদাসী ব্যস্ত  মানুষের বর্ম এতটাই শক্তিশালী যে, এইধরনের বান মোটেই বিদ্ধ করেনা । কিংবা এতটাই  করে যে, কেন্দ্রাতিগ বলের মত অন্য ঠিকানায় অঙ্গুলি নির্দেশ করে  । এদের কারো প্রতি কোন অভিযোগ নেই  । রেগে যাওয়ারও কোন অধিকার নেই  । শুধু অধিকার আছে ভিক্ষে চাওয়ার । জন্ম থেকে কেবল ভয় তাদের পিছু ছাড়ে না । দয়া করে কেউ কিছু দিলে  কৃতজ্ঞতায় মন ভরে যায়  ।

        ঠিক যেমন আজ এক দয়ালু ব্যক্তি কিছু গরম ভাত তরকারি দিয়ে  গেলেন  । না , কোন ক্যান্টিন থেকে সে জানে না ; জানার কথাও নয় । তিনটে বাচ্চা ছেলে মেয়ের মা প্রণাম করে আশীর্বাদ দিল অপটু বাংলায় ।আবার  বিকেলের দিকে ছেলে তিনটের জন্য অন্য দুজন দিয়ে গেলেন জামা প্যান্ট  । তাদেরকেও প্রণাম জানাল মা । নিজে শতচ্ছিন্ন মলিন পোশাকে থাকলেও , ভিক্ষে পেয়ে ছেলেমেয়েগুলো  তো দুদিন একটু আনন্দে থাকল । তার অনেক কিছু না থাকার মধ্যে ভোটও নেই ।এতটুকু আগ্রহও নেই । তা সত্যি, যে জিনিস যখন তখন কেউ কেড়ে নিতে পারে,  তা থাকা না থাকাই তো সমান । মা শুনতে পেল একজন আরেকজনকে বলছেন,  শুভ নববর্ষ  । যাই হোক , Happy New Year এর মত আর আনন্দ কই ! বাংলা নতুন বছর ক্যামন যেন ম্যাড়মেড়ে । গল্প করতে করতে  বাংলা বছরের মত কোথায় মিলিয়ে গেল  ।

           বাচ্চা তিনটের মা ভাবল, এই গরম ভাত, নতুন জামা কি তাহলে নতুন বছরের জন্য  ? নতুন বছর তো খোব ভাল  ! তাহলে এবার অনেক কিছুই হবে ....। ছেলে মেয়েগুলো যদি পড়তে পারত .....। আর ইংজিরি শিখে গেলে , আর ভিক্ষে করতে হোত না ।

       শেষমেষ সেই মা আশীর্বাদ করে বসল , বাংলা নতুন বছরকেই । বেঁচে থাক্ বাবা নতুন বছর  । সুখী হ  ।

শনিবার, ২ জানুয়ারী, ২০২১

অনুগল্প || "প্রার্থনা" || অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় ।

অনুগল্প || "প্রার্থনা" 

                  অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় ।




নতুন বছরে আর তাকে পাওয়া যাবে না ।এই নিরুদ্দেশ যেন এক অসীম যাত্রাপথের পথিকের অনন্তকে ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা মাত্র । তার পদচিহ্নও সেভাবে ছাপ ফেলতে পারল কই ! আবার অন্ধকার মানেই তো আলোর অস্তিত্ব আছে  । সে আলো  অগোচরে থাকে ।প্রতিসৃত সব চোখে হয়না  ।

         এভাবেই কুড়ির শূন্য  আমাদের  চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলে  আমাদের অসহায়তা, বিপন্নতা, পারলৌকিক গমন কীভাবে লোভাতুর,সেচ্ছাচার জীবনকে নগ্ন করে দেয় ।

    এইতো শূন্য মুছে গিয়ে এক এসে পড়ল ।একটু একটু করে জীবন আরো পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাক্  ।তাকে, তাদেরকে হয়তো ভিন্ন ভাবে খুঁজে পাব  ।

      পাপন তার বাবাকে বলল, আর কতক্ষণ চার্চে বসে থাকবে বাবা ! মোমবাতি জ্বালিয়ে দাও । ছেলের ডাকে সম্বিত ফিরে পেল বাবা । পরম যত্নে জ্বালাতে থাকল মোমবাতিগুলো ।   


        

রবিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২০

আমরা অপেক্ষা করব, সৌমিত্র বাবু.... || ---- অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় || সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় স্মরণে

 আমরা অপেক্ষা করব,  সৌমিত্র বাবু....


              ---- অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় । 



অনন্ত দিগন্তে ধীরে ধীরে ডুবে গেল যে সূর্য 

সারাজীবন আলোকিত করে...,

এক সাগর অশ্রুপ্রণামে তিনি চললেন

অন্ধকারের দেশকেও আলো দেবার জন্য। 

তাঁর আলোয় চাঁদমুখ হয়ে আমরা আজ সূর্যমুখী... 

আবার আসুন আর হাসুন 'অপু' হয়ে

একটু একটু করে

অনন্ত জিজ্ঞাসায় বরেণ্য মহীরূহকে দেখি..।

আবার রূপসী বাংলা উর্বর হবে দীর্ঘ ছায়ায় --

অজস্র চোখ প্রত্যক্ষ করবে সেই আগমন । 

আজকের এই প্রগাঢ় অন্ধকার একটু তরল হোক--

দীপাবলীর শিখাকে উস্কে দিয়ে একটু স্মৃতিঘন থাকি। 

প্রণাম.... ।

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অণুগল্প || লকডাউনের ডাক্তার || অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়

অণুগল্প ||  লকডাউনের ডাক্তার 

অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় 




মনে হচ্ছে প্রত্যেকের এক বা একাধিক স্পেশাল ডিগ্রি আছে। কারুর মুখের সামনে  দাঁড়ানো যাচ্ছেনা। একজন দু-তিনটে পদ্ধতি বা ঔষধের কথা  বললে, অন্যজন বাড়তি আরো কয়েকটা গড়গড় করে বলে  দিচ্ছে । প্রত্যেকে তার  জ্ঞান ভাণ্ডার উন্মোচন করতে চায় । এমন সুযোগ হাতছাড়া করতে অনেকেই  চায় না। যদি  একজন বলেন, ভাই, যদি মাস্ক, স্যানিটাইজার আর সোসাল ডিসট্যান্সিং সঙ্গে নিয়ে ঘোরেন ; তাহলে আপনি ফোরেনও যেতে পারেন। তখন আরেকজন বলেন -- ওগুলোতে কিস্যু হবেনা। যদি না আপনার ইমিউনিটি  গ্রো না করে। তার জন্য পুষ্টিমূল্যের খাবার চাই পাতে। নইলে পাততাড়ি গুটোতে হবে। সঙ্গে আরেকজন থাকলে তিনিও খুব স্বাভাবিকভাবেই কিছু  বলবেন। হয়ত বলবেন, আরে ঐ বাবার বটিকা কিংবা মায়ের মহামারী কবচ না থাকলে লড়াই করার শক্তি থাকবে !  এটা হল অন্তর্নিহিত শক্তি । আর গ্যাং টা বড় হলে, কেউ না কেউ সাতান্ন ইঞ্চির ছাতি ফুলিয়ে বলবেন-- দেখুন, আসল ব্যাপার হল সাহস । শত্রুর সঙ্গে চোখে  চোখ রেখে  মোকাবিলা । আমি তো নিরস্ত্র হয়েও সর্বত্র ঘুরে বেড়াচ্ছি। আবার রাজনীতির ভক্তরা থাকলে খামোকা তারা ময়দান খালি রাখবেন কেন !  হাঁটু ভাঁজ  নাকি  কনুই  ভাঁজ,  কোনটা বেশি ফলপ্রসু -- এ তর্কে বাকী সব কিছু কে  পেছনে ফেলে দেবেন। 

           পাবলিকের মত এত ইনফরমেশন বোধহয় ডাক্তারের কাছেও  নেই... । আবার তাঁরা তো খুব বেশী কথা বলেন না। হতে পারে, করে দেখুন, দেখা যাক্, করতে পারেন কিন্তু দেখে শুনে, খেতে পারেন যদি সহ্য হয়-- এ ধরনের ক্রমাগত বদলে যাওয়া প্রেসক্রিপশন । বক্তব্যগুলো বেশীরভাগই বেঁটে খাটো, সরু লিকলিকে কিংবা ভেন্টিলেশনের পথে  ইত্যাদি । সেরকম কোন বেয়াড়া বিশেষজ্ঞ থাকলে হয়ত বলে দেবেন,  আসলে অনেককিছুই  'স্ক্রিপ্ট' দেখে বলেন তো ! 


------------+++-----------+++-------------

রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০

কনট্রাকচুয়াল' || অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় || অণুগল্প

'কনট্রাকচুয়াল'
 অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়


কোলাহল মাঝে মাঝেই নির্জনের কাছে পৌঁছে যায়। একরকম উত্যক্ত করে বলা যায়। এ যাবৎ তার জীবনকৃতির সম্মানস্বরূপ সে কি কি সম্মান, সম্বর্ধনা পেয়েছে; আরও কি কি পেতে চলেছে ইত্যাদি....। স্বভাবসিদ্ধভাবেই নির্জন,  কোলাহল থেকে একটু দূরেই থাকতে চায়। কিন্তু এ ভাবেই কোলাহল এসে নির্জনকে ধাক্কা মারে। নির্জনের কিশোরকুমারের সেই গানের কথা মনে পড়ে,  কি যেন -- ' যা চেয়েছি কেন তা পাই না ; যা পেয়েছি কেন তা  চাই না।'  এ জন্যই কি নির্জনের বন্ধু -বান্ধব খুব একটা বেশী নেই! অন্যদিকে কোলাহলের  বন্ধুত্ব সবার সঙ্গে । এমন কি চোর ছ্যঁচড়, মাতালদের সঙ্গেও।
কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে চায়ের আড্ডা শেষ করে হেঁটে হেঁটেই বাড়ির  দিকে রওনা দিল নির্জন । পেছন থেকে তার নাম ধরে অচেনা গলায় কে যেন ডাকছে। দাঁড়িয়ে পড়ল। ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনের দিকে তাকাতেই দ্যাখে, তার দিকে ছুটে আসছে কোলাহল। কছে এসে হাঁফাতে হাঁফাতে বলল, এ্যই নির্জন, আজকের 'সোনার বাংলা' কাগজটা দেখেছিস ?  নির্জন ঈষৎ বিরক্তি নিয়ে বলল, না দেখিনি। কেন?  কোলাহল অত্ত্যুৎসাহে বলল, তুই অনেক পিছিয়ে আছিস্ দেখছি। 'আন্তর্জাতিক বিনিময় চক্র' এবার আমাকে সেরা ব্যক্তিত্বের সম্মাননা দিচ্ছে..। নির্জন বলল, বাহ, খুব ভাল। অসন্তুষ্ট  কোলাহল বলল, দ্যাখ্ তুই ওই ফেসবুকের মত উত্তর দিবি না। কত বড় ঘটনা, তুই বল!  নির্জন মুখে হাসি এনে বলল, নিশ্চয়।  তুই আমাদের গর্বিত করলি । কোলাহল উৎসাহিত হয়ে একটা আন্তর্জাতিক হাসি উপহার দিল।
   দু-এক দিন পর সেই চায়ের আড্ডাতেই নির্জন ও তার বন্ধুরা শুনতে পেল কোলাহলের সম্মাননার প্রসঙ্গ। একজন আরেকজনকে বলছে, এখন যত ছেলেমেয়ে চাকরিতে ঢুকছে, তার একটা বড় অংশ কনট্রাকচুয়াল। আরেকজন বলল, হ্যাঁ, তো কি হয়েছে !  লোকটি বলল, আমাদের কোলাহলবাবুও 'কনট্রাকচুয়াল'। প্রথমটায় বুঝতে না পেরে সবাই একটু যেন থমকে গেল। তারপর একসঙ্গে হো হো করে হেসে উঠল । একজন হাল্কা গলায় বলল, কি বললি বুঝতে পারলাম না। অন্যজন মুচকি হেসে বলল, সব কথায় কান দিতে নেই ।

রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২০

যুগাবতার || অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় || অণুগল্প

অণুগল্প--    যুগাবতার
                   
                  অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়




---- কি সব বিচ্ছিরি  ভাষা তোর ! শুনে মনে হয় ভদ্রতা দূর অস্ত, কমন সেন্সটুকুও নেই।
----- ঘ্রাণশক্তিটুকু আর অবশিষ্ট  আছে? শুধুই নাক উঁচু ভাব করিস ।  ভণ্ডামি..।
------ এই মুখ আছে বলে অনেক সময়  তোর মান বাঁচে, বুঝলি ?
------- কত লোক যে ওয়াক থুঃ করে,  মুখরা বলে ; তখন ভাবি- কেন আমি উঁচু অবস্হানে। কেনই বা তোর কাছাকাছি থকলাম... ।
-------- তোর প্রতিবেশীসুলভ মানসিকতার অভাব । পাকিস্তানের মত।
-------- তা তো বলবিই..। তোর দুর্গন্ধটাও আমাকে সহ্য করতে হয়। হা  ভগবান--।
-------- আমার হাসি কত মানুষকে তৃপ্তি দেয় । তোর হিংসে হয়।
-------- আমি অক্সিজেন  নিই, কার্বন ডাই অক্সাইড  ত্যাগ করি। জীবন  বাঁচাই ।
-------- খাবারকে গলায় নিই বলেই না তোর এত অহংকার ! কখনো আবার বর্জপদার্থ ঠেলে দিয়ে তার প্রতিদান দিস।
নাক মুখের এই কলহ প্রায় লেগেই থাকে। স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাও এদের থামাতে পারেন না। গোড়ায় গলদ। এখন তো অবস্থানের পরিবর্তনও অসম্ভব। কিন্তু যুগে যুগে কারও কারও আবির্ভাব, সমস্যা সমাধান অথবা প্রকটের জন্য এগিয়ে আসে । বোধহয় মাস্কও এখন সেরকমই এক 'যুগাবতার '। নাক মুখ এখন রেড জোনে।

রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২০

করোনা যুদ্ধের অনুগল্প ৪ || মহানির্বাণ || অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়

করোনা যুদ্ধের অনুগল্প~৪
               

                মহানির্বাণ
                অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়

   প্যানডেমিক কোভিড-১৯ নিয়ে অমরের সদর্থক চিন্তাভাবনা তাকে চার্জড্ রাখে, আর সেটা তার পরিবেশের মধ্যেও সঞ্চারিত করে। সনাতন ভারতের যোগ এবং আধ্যাত্মিক চেতনায় ভর করে সে বলে, কোন ভয় নেই। অলটারনেটিভ ট্রিটমেন্ট,  বিশেষ করে আয়ুর্বেদে প্রবল বিশ্বাসী  অমর এই চ্যলেঞ্জিং পিরিয়ডটা মানব জাতি ওভারকাম করবেই বলে আন্তরিকভাবে মনে করে। সেজন্য সে তার যাবতীয় জ্ঞান, অভিজ্ঞতাকে মানব সেবার কাজে উৎসর্গ করতে চায়। রাজনীতির কথা সে শুনতে চায় না। সে বলে, মানুষ ও প্রকৃতির বিপক্ষে যা যায়, তা অনেক কিছুই হতে পারে -- বর্জন করা উচিৎ। গীতার বাণীকে শিরোধার্য করে। যা হচ্ছে ভালর জন্যই...। তাহলে আমরা কোন পথে চলেছি!  অমর বলে, 'মহানির্বাণ' ।
        এখন প্রশ্নটা হল, 'মহানির্বাণ' কার ?  মানুষের নাকি না-মানুষের.. ।


মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০

সান্ত্বনা || অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় || কবিতা

সান্ত্বনা
অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়



আমি পর্যাপ্ত নিয়ে বাসা বাঁধিনি ;
তাই একদিন তুমি হেরে যাবেই --
ভিতরের বাইরের  কিঞ্চিৎ সময় লুট করে
দেখবে আমার নিঃস্বতার মাঝে ডুবে আছ তুমি ।
এটা তোমার খেলা হলে--
হে অদৃশ্য গুরুজন,
ফুল বেলপাতা শ্রীচরণে দিয়ে বলি খেলে যাও ;
যদিও তোমার পরাজয় সুনিশ্চিত, তবুও একটা সান্ত্বনা  নিয়ে ফিরে যাব....
তুমি অংশগ্রহণ  করেছিলে  ।।

রবিবার, ৩১ মে, ২০২০

৪টি আটপৌরে কবিতা || অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় ||

আটপৌরে কবিতা
          ------  অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়


   
         করোনা
         -----------

বিচারক নাকি করোনা ;
আদালত,
প্লিজ মিথ্যা সাক্ষ্য ধোরোনা ।

            আমপান
            --------------

আমপান নাকি খেলা ;
পাণ্ডবসখা,
সবই ছিল নির্ধারিত অবহেলা !

            কালবোশেখী
            --------------------

বোশেখ মাসের ঝঞ্জা--
প্রতিযোগহীন।
তবুও সুতোয় দিয়েছে মাঞ্জা ।


              পঙ্গপাল
               ------------

জোট পঙ্গপালের বিহার --
নির্দয়ভাব ।
শুধু জন্মটা বোঝে আহার ।

শুক্রবার, ১ মে, ২০২০

কিছু বই, কিছু কথা || আলোচক~ নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা ।।নীলাঞ্জন কুমার

আমাকে আদর নামে ডেকো ।সৌগত পাল । উন্মুখ ।চল্লিশ টাকা ।

পশ্চিমবঙ্গের বাইরে যে সব কবি অবস্থান করেন তাদের মধ্যে সৌগত পাল গুরুত্বপূর্ণ কবি বলা যায়।তাঁর সাম্প্রতিক কাব্যগ্রন্থ 'আমাকে আদর নামে ডেকো' আদ্যন্ত পড়ে কবিতার ভেতরে এক অন্য দ্যোতনার সন্ধান পাই । বইটির ভেতর তিনটি দীর্ঘ কবিতার স্বাদ শেষ পর্যন্ত টেনে ধরে রাখতে সক্ষম । যেখানে এই দীর্ঘ কবিতা লিখতে অনেক কবির ভেতর অতিকথনের প্রবণতা খুঁজে পাওয়া যায় ।কবির বাকি কবিতাগুলোর ভেতর এক দৃঢ়তা সন্ধান পাই যা তাঁর শব্দচয়ন ও ব্যঞ্জনার ভিতর দিয়ে ধরা পড়ে । কবিকে বিশেষ ভাবে পাই : 'মনে হয় কিছু গল্পেরা অগোছালো/ মনে হয় দিন ফুরোয়নি কারো কারো/ আসলে তুমিই বাঁচিয়ে রাখতে জানো/ যেভাবে এখনো প্রতিদিনমান মারো / এ বয়সে ঠোঁট চুম্বন পটভূমি ....' ('শেষ পাতার কবিতা ') কিংবা 
' বাউলতো নাচে পথে পথে/  যে রকম আমিও কোনমতে/ ঘুঙুর বেঁধেছি তালকানা ' ( 'নিষ্কৃতি ')র সামনে দাঁড়িয়ে। সৌগতর কবিতার ভেতরে ফুটে ওঠে প্রেম, প্রকৃতি , আবেগ ও উচ্ছ্বলতার ভেতর দিয়ে গোপন গভীরতা । যা তাকে ক্রমাগত পরিণত করে তুলছে। রিংকী দাসের প্রচ্ছদ বাহবা পাবার যোগ্য ।

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২০

কবিতা || ঘুম || অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়


 ঘুম
 অরবিন্দ  মুখোপাধ্যায়

  ঘুম এসেছিল ।
জাগরনে নীলাভ ছিল দেহমন ;
তার সময় ডুব দিয়েছিল নীল ছবিতে-
রবাহূত ঘুম ছিল ছদ্মবেশী  বিশ্রামের।
সাদা পাতা চিঠি হয়ে ওঠেনি তখনও..
কিছু বলার আগেই আসে নিশিসখা
আত্মমগ্ন সন্নাসী ঘুম ।।


Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...