উপন্যাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
উপন্যাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২৭ জুন, ২০২১

পূরবী~৫৪ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস, Purabi

 পূরবী~৫৪

অভিজিৎ চৌধুরী


 তারপর এলেন মায়াবি দেশের মানুষ।শ্যামলা চিকন হাতে সোনার কাকনের শব্দ বাজে।তিনি আদরের ধন,আমি অবহেলার।কাছে যাওয়া জো নেই।তবে ইস্কুল থেকে ফিরলে পান্তা ভাতের সঙ্গে চিংড়ির চচ্চড়িতে নতুন বউঠানের চমৎকার রান্নার হাতের স্পর্শ পাওয়া যেত।আর যেদিন লংকার আভাস দিয়ে নিজের হাতে খাইয়ে দিতেন, সে ছিল অমৃত।বউঠান ছিলেন সাহিত্যের দীক্ষিত পাঠক।বঙ্কিমবাবু ছিল তাঁর প্রিয় এবং বিহারীলালকে কাব্যপাঠের জন্য আমায় ডেকে আনতে হতো।

 বঙ্কিমবাবুর সঙ্গে আমার দেখা এক বিয়েবাড়িতে। গৃহকর্তা বঙ্কিমবাবুকে গলায় মালা পড়াতে গেলে,তিনি আমায় দেন মালাটা পড়িয়ে দিলেন।গৃহকর্তাকে বলেন,আপনি ছেলেটির সন্ধ্যা সংগীতের কবিতাগুলি পড়েছেন! অপূর্ব।

 স্কুল জীবনে কোন প্রাইজ পাননি।যেদিন নোবেল পেলেন,জগৎ সভার সের পুরস্কার, খুব একা তিনি।ছুটি নেই নতুন বউঠান নেই শমি নেই জ্যোতিদাদা মোরদাবাদ পাহাড়ে।

 তীর্থ ভাবছিল,রবিবাবুর জীবন তার দরকার নেই।এতো দুঃখ এতো যন্ত্রণা তার সইবে না।বরং সে নিজে সহজে মরে যেতে পারে।মরণরে তুহুঁ মম শ্যাম সমান।

শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

পূরবী- ৩২ || অভিজিৎ চৌধুরী || একটি অন্যধারার উপন্যাস

পূরবী- ৩২
অভিজিৎ চৌধুরী

জীবনভর আমি বহু তিরস্কৃত হয়েছি।আর আমার ছেলে বলেই রথী সেই তিরস্কারের উত্তরাধিকার বহন করে চলেছেে।সে যখন শক্ত হাতে বিশ্বভারতীর প্রশাসনকে সমর্থ করে তুলতে চাইছে,চারিদিকে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে সকলে।
  যাঁরা আমার সাহায্য নিয়েছেন,তাঁরা কখনই আমার প্রয়োজনে আসেননি।হয়তো আড়ালে আমাকে বিদ্রূপ করেছেন নানাভাবে।
 রবীন্দ্রনাথ বিশ্বভারতী প্রসঙ্গে এরকমটাই বলেছেন।
 তীর্থ সাধারণ মানুষ হয়ে দেখতে পায় জীবনের মর্ম- কথা ভিন্ন কিছু নয়।
 ওপারের জীবনটাও কি এরকমই!
উত্তর নেই কোন।
 বিশ্বভারতী ঘিরে নানা বিতর্ক।কোন দিক নির্দেশ জানে না।চাকরির শেষটা সে বীরভূম দেখতে চাইবে।স্বপ্নের প্রয়াণ হবে কিনা জানা নেই।
 আর ইচ্ছে-পূরণও হবে না, সে নিশ্চিত জানে।ক্লান্তি বড় গ্রাস করে।রাতে ঘুম হয় না।তখন পূরবী।রাত ভোর হয়।জৈবিক নিয়মে ঘুম যখন আসে ছুটি নেই কোথাও।
 তাই বলে তপস্যা ভঙ্গ হবে কেন!
অবিশ্বাস থাকবে,নৈরাজ্যও থাকবে,তিরস্কার থাকবে।তবুও যাত্রীকে অমৃতপথের অনন্তে ডিঙি বাইতেই হবে।সে এমন তরণী বাওয়া যাতে থাকবে শুধু বিশ্বাস আর ভালোবাসা।
 রথীন্দ্রনাথকে ছাড়তে হয়েছিল বিশ্বভারতী।চলে গেছিলেন উপান্তে।হয়তো সেই যে একলা পথের পথিকের মতোন দুঃসহ যন্ত্রণাকে অগ্রাহ্য করে চলা কোন সাধারণ কর্ম নয়।
 তীর্থও ক্রমশ জীবনকে খেলাঘর হিসেবে দেখেও মনোবেদনার গাঢ়তায় লীন হয়ে যায়নি। নতুন বিশ্বাসে স্থিত হয়েছে।
 ব্যথার কথা ভেসে গিয়ে নয়ন আবার নতুন দুরাশার জন্য উন্মুখ থেকেছে।

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০

পূরবী~ ৩০ || অভিজিৎ চৌধুরী || এক অন্যধারার উপন্যাস

পূরবী~ ৩০
অভিজিৎ চৌধুরী


কাকদ্বীপে তীর্থের ধরা পড়ল প্রস্টেটের সমস্যা।কোলেস্টেরল। ফ্যাটি লিভার।আর সব অনেক কিছু।
 কারুর কথা না শুনে এলেন কালিম্পং। ভাবলেন শরৎকালটা কাটাবেন কারণ নির্জনতা।বড় প্রিয় তাঁর। সেই ছেলেবেলা থেকে।
 বার্ধক্যে এসে জীবন আর অন্তর্মুখী হয়েছে।বহিরঙ্গ আর বিচলিত করে না।শান্তিনিকেতনের কাজ থেকেও মুখ ফিরিয়ে থাকার দিব্যি আনন্দ রয়েছে।পা দুটো বেশ ফুলে উঠেছে।
 প্রতিমা আর নীলমণি রয়েছে।রাতে বেশ অসুস্থ হয়ে পড়লেন।সংজ্ঞা নেই।রথীকে খবর পাঠাতে হবে।পাহাড়ে ঝড় বৃষ্টি ভয়ংকর।সেই রাত যেন কাটে না।
 পাহাড়ের ঠাণ্ডায় সেই ভোরে ওঠা।স্নানও কাকভোরে তবে গরম জলে।নাওয়ার ঘরে এক সময় পুরো গান লিখে গেয়েছেনও।যেমন খুশী অঙ্গভঙ্গী করা যায়,দেখার তো কেউ নেই।  কাকদ্বীপের সেই ডাক্তারবাবু গান গাইতেন।ইউরিম্যাক্স দিয়েছিলেন।খেতে ইউরিনের গন্ধ গেল কিন্তু ভয়ংকর মাথার যন্ত্রণা শুরু হল।
 ভোরে ইউরোপিয়ান ডাক্তার এলেন।এতো অনুপম দেহ সৌষ্ঠব দেখে অবাক হয়ে গেলেন।তারপর বললেন,ওঁকে এখনই নিয়ে যেতে হবে।
 তীর্থের মজা লাগল তাও।রবীন্দ্রনাথ আর সে দুজনেরই প্রস্টেট সমস্যা।অবশেষে একটা মিল পাওয়া গেল।
 দার্জিলিং থেকে ট্রেনে চেপে অচৈতন্য রইলেন।কলকাতায় এসে জ্ঞান এলো কিন্তু বিরক্ত হলেন খুব।তবে রথী এসে দেখালেন আনন্দবাজার পত্রিকার শারদীয়ায় তাঁর ল্যাবরেটারি গল্পটা ছাপা হয়েছে।মন প্রসন্ন হয়ে গেল।তার পাঠালেন অমিয় চক্রবর্তীকে গল্পটা পড়েছো!
 অমিয় চক্রবর্তী লিখলেন,এরকম গল্প লেখা যায়! আপনি যে পাষাণে অমৃত নিয়ে এসেছেন।
 কাকদ্বীপে প্রবল বৃষ্টি হলে বি ডি ও অফিস লাগোয়া মাঠে জল জমে যেত।
 তীর্থের মনে হয়েছিল কিছু কবিগান লিখলে মন্দ হয় না।তবে লেখা হয়নি।

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০

পূরবী~২৯ || অভিজিৎ চৌধুরী || একটি অন্যধারার উপন্যাস

পূরবী~২৯
অভিজিৎ চৌধুরী


তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি / বিচিত্র ছলনা জালে / হে ছলনাময়ী।
তারপর বললেন,জ্যোতি ডাক্তার আমায় কিছু বললে না।রানী,আমার অপরাশেন কবে! তারপর যেন ভুলে গিয়ে শেষ করলেন হয়তো শেষ কবিতা।
এটুকু বলে থামলেন রবীন্দ্রনাথ। রানী চন্দকে লিখতে বলেছেন।
অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে
চোখ দুটো জলে ভরে উঠল।জানলা দিয়ে তাকালেন বাইরে।৬ নম্বর জোড়াসাঁকো। অবন কি করছে! রিদয়।ভেবে একটু হাসলেন।
সে পায় তোমার হাতে/ শান্তির অক্ষয় অধিকার।
ললিতবাবু কাছে এসে বললেন,ছোট্ট কাজ, আজই তবে সেরে ফেলি।
চমকে উঠলেন রবীন্দ্রনাথ।
ছুটি,শমীদের কাছে যাওয়ার পালা এলো।
প্লুতস্বরে ডাকলেন,নতুন বউঠান।আমি রবি।
ইস্ এবারও কিছু হল না।
রবি হতাশ কণ্ঠে বললেন,জানতুম।বিহারীলালের জন্য আমার এই দশা।
খিলখিল করে কেউ যেন হেসে উঠল।
কে!
রানী খাতাটা হাতে বাড়িয়ে দিতে কাঁপা কাঁপা অক্ষরে সই করলেন।
ললিতবাবু বললেন,মনকে শক্ত করুন।একদম সহজ অস্ত্রোপচার। সুস্থ হয়ে উঠবেন।
রথীন্দ্রনাথকে দেখে বললেন,মণি কেমন আছে!
রথী বললেন,জ্বর কমছে।
মুখে বলতে পারলেন না,সে আসবে কবে!
একা একা ছাদে ঘুরছেন আর গন্ধ পাচ্ছেন নতুন বউঠানের।তুমি কোথায়!
রথীন্দ্রনাথ বললেন,বাবামশাই,সবাই আসবেন।
ললিতবাবু বললেন,কবি খুব সাইকোলজিক্যালি উইক।
বলতে পারলেন না,তবু মনে হল- ছুটি নেই তো তাই তিনি একা।
রথীন্দ্রনাথ বললেন,তিনি বলতেন- আমি প্রকৃতির সন্তান।ঝরা পাতার মতোন ঝরে পড়তে দাও।

শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২০

পূরবী-২৮ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস


পূরবী-২৮
অভিজিৎ চৌধুরী

এই তো সেদিনের কথা ১৯১২ বা ১১ হবে রোটেনস্টাইন এসেছেন ৬ নম্বর বাড়িতে অবনীন্দ্রনাথ, গগনেন্দ্রনাথ, সমরেন্দ্রনাথের চিত্র প্রদর্শন দেখতে।
৬ নম্বর বাড়িতে খবর এলো রবি অস্ত গেছেন।শোকের প্রদাহ থেকে ফিরে এসে অবন ঠাকুর আঁকতে শুরু করলেন।জনজোয়ারের মধ্যে রবিকাকা।
অবন ঠাকুর বললেন,Still wonder remains.
রোটেনস্টাইন বললেন,রাইট।হোয়াট ইট ইজ!
রবিকা।মাই রবিকা।
রোটেনস্টাইনকে নিয়ে এলেন রবিকার কাছে।
 অপূর্ব, দেবপ্রতিম একজন মানুষ স্মিত হাস্যে বসতে বললেন।
রোটেনস্টাইন চুপ করে রইলেন।সাদা পোশাকে কি অপূর্ব সেই মানুষ।
রবীন্দ্রনাথ শান্ত কণ্ঠে শুরু করলেন Songs Offerings.
কিছু যেন কানে যাচ্ছে না রোটেনস্টাইনের।ভারত মহাসাগরের অবিরাম কলতান যেন তিনি পশ্চিমে বয়ে নিয়ে যেতেই এসেছেন।
 কিছুক্ষণ শোনার পর বললেন,আপনি আবার কখনও ইংল্যান্ডে যাবেন!
কৌতূহল নিয়ে অপেক্ষা করছেন অবন।
রবীন্দ্রনাথ বললেন,রথী বলছিল আরবানায় যাবে।আমিও লন্ডনে ডাক্তার দেখাব।
হাসলেন রবীন্দ্রনাথ।
রোটেনস্টাইন বললেন,প্লিজ ইনফর্ম মি.
রবীন্দ্রনাথ যেন বললেন,আমার ভাইপো অবন লেখাতেও যে ছবি আঁকে।
ছবি আঁকা শেষ করে অবন ঠাকুর চুপ করে বসে ইলেন। ৫ নম্বর বাড়িতে কেউ কি আর বিবস্বানের দেখা পাবেন!
আহা কি সহজ বানান,রিদয়।
 আমি যদি তোর মতোন লিখতে পারতুম।পটুয়ার লেখা।
 লজ্জায় মাথা নোয়ালেন অবন ঠাকুর।প্রণাম করলেন চির ভাস্বর পুরুষটিকে।

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২০

পূরবী- ২৬ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস

পূরবী-২৬ 
অভিজিৎ চৌধুরী



ফেলুদার ছিল সিধু জ্যাঠা।আর তীর্থের কান্তিদা।অন্তত তীর্থের মতোন ছাপোষা মানুষ যাঁরা ইহজীবনে রবীন্দ্রনাথ বিবেকানন্দ দেখেনি,কান্তিদা অবলম্বন।

আবার বানান বিভ্রাটে পড়ল হুগলির সমীরদা। সরকারি চাকরি করে  মোটামুটি মাইনে পেয়ে হঠাৎ মধ্যবয়সে দিনলিপি কেন!

চাকরির সত্তাটা ভেসে বেড়াতে জানে।সে ডুব দেয় না।সে নিরপেক্ষও বটে।সে ডানেও নেই বামেও নেই।পুরস্কার তিরস্কারে সমান নিস্পৃহ।

কখনও খুব ভোরে উঠলে মনে হয় দিনলিপির তীর্থ আর আমি দুজন আলাদা।সেই কারণে পূরবীর শুরুর আমি বদলে যায় তীর্থের নতুন পেশাকে।রোদের তাপ তীব্র হলে তীর্থ পালিয়ে যায়,তখন শুধুই আমি।

বানানের বরাবরের শিক্ষক প্রভাত চৌধুরী মহোদয় ভুল ধরেন বা আশা ছেড়ে দিয়েছেন এই ভেবে ঘোড়াকে জলের পাত্র অবধি নিয়ে যাওয়া যায় কিন্তু খাওয়ানা তো যায় না।বানানের ভয়ে কবিতা লেখা হল না তীর্থের।

দিনলিপি তার অন্বেষণ, রবীন্দ্রনাথ উপলক্ষ মাত্র।একে তীর্থ নতুন নাম দিল ইদানিং নভেলা।অন লাইনে পড়ার জন্য একটা কৌশল।তুমি সিরিয়াল দেখো,ফাঁকে দু দণ্ড আমাকেও দেখো।

বার্লিনে রবীন্দ্রনাথ গেছিলেন আইনস্টাইনের কাছে।নীল জোব্বায় বেশ লাগছিল।আর আইনস্টাইন কোঁচকানো কোট। এলোমেলো চুল।এলিসা কফি আর কেক খাওয়ান।রিয়েলিটি অ্যান্ড ট্রুথ।দুজনেই একজন আরেকজনের কথা মন দিয়ে শুনেছিলেন, না হলে ফেরার পথে রবীন্দ্রনাথ বারবার খুঁজছিলেন সত্য ও বাস্তবের ঐকতানকে।অরণ্যের নিবিড়তায় তিনি বুঝতে চেষ্টা করছিলেন বিজ্ঞান কোন সত্যের কথা বলছে।

তীর্থের মনে হল হঠাৎ মেয়েলি চুল যে কবির যৌবনে ছিল,কেন! নারী সত্তা বোঝার জন্য!

আরেকদিনও এলেন তিনি।সেদিন আলোচনায় ছিল সংগীত।

ঘুম পাচ্ছে কিন্তু ঘুম হবে না।তীর্থ বড্ডো জ্বালাচ্ছে।সে সারা রাত জাগবে বলেই এখন বিদায় নিতে চাইছি।

অনেকবার রবীন্দ্রনাথের সকণ্ঠের গান শুনেছে তীর্থ। কেমন যেন মেয়েলি।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২০

পূরবী~ ৮ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস

 পূরবী~ ৮
 অভিজিৎ চৌধুরী


বউঠানদের সময় কলকাতা ছিল বড্ডো সেকেলে।সময় ছিল ধীর স্থির। তার এতো চঞ্চলতা ছিল না।গায়ে সেমিজ থাকত না মেয়েদের বা পায়ে জুতো।তাহলেই তিনি হয়ে উঠতেন মেমসাহেবা যেমন প্রথম মেমসাহেবা আমাদের ঠাকুরবাড়িতে, মেজ বউঠান।
তিনি শুরু করলেন পত্রিকা, নাম - বালক।
রাণু বলল,আঁকা থেকে ছুটি!
কি লিকচো তুমি!ইন্দিরা এসেছে প্রমথকে নিয়ে কয়েকদিন হলো।
না, ছেলেবেলা বলে একটা গদ্য সবে ভাবছি।ইংরেজি তর্জমায় করচি,পশ্চিমের ডাকে।
ইন্দিরা বলল, তোমার প্যারিসে এক্সিবিশন কবে!
রাণু বলল, বটে বটে।দিনরাত এক করে ছবি আঁকছ।কার সম্মান রাখতে!
ওরা জানাবে।ভাবচি এতো সামান্য পু্ঁজিতে সে এক ছেলেখেলা হবে না তো!
রবীন্দ্রনাথ বললেন,ঠিক বলেচিস,তাঁর ছেলেমানুষি তাড়া না থাকলে আমি কি আর পটুয়া হতুম।
খুব হতে।রাণু বলল।সে একটি উপলক্ষ মাত্র।
রবীন্দ্রনাথ মনে মনে বললেন,মস্তো উপলক্ষ।
অবন বলছিল,রবিকাকা সেখানে তো মস্তো শিল্পীদের চিত্রশালা হয় নিয়মিত।
আমি বললুম,যাওয়াটা কি উচিৎ হবে!
অবন বললে,অ্যাবস্ট্রাক্ট।আর কড়া রং- এর ব্যবহার।অনেকটা নাকি ভ্যানগগের মতোন লাগে।
এবার প্রমথ প্রণাম করলেন।
তা বীরবল লেখা চলছে তো!
 ইন্দিরা বলল, খুব।
রবীন্দ্রনাথ বললেন,তোমার মধ্যে লেখা আছে।আর আামার ইন্দিরা সে তো অনন্যা তিলোত্তমা।
ইন্দিরা লজ্জা পেয়ে বলল, কি যে বলো তুমি!
হাসলেন রবীন্দ্রনাথ। কপালে কুঞ্চন দেখা দিয়েছে।কালো কিছু রেখা সাদা মেঘে কৃষ্ণ আভা নিয়ে জেগে উঠছে।অস্তরাগে ছেলেবেলার রবি খানিকটা তো ম্লান বটেই।
ওকাম্পোর একদিন বলেছিল,পোয়েট ইউ আর স্টিল হ্যান্ডসাম।রবীন্দ্রনাথ হেসেছিলেন।বউঠান,আমি দেখতে তো সুন্দর!
ধুস,তোমার নাকটা বাঁকা।আর তুমি কালো।
বিধাতাকে সেদিন বলেছিলেন,কেন যে আমায় রূপ দিয়ে পাঠালে না!

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২০

পূরবী- ৬ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস

পূরবী
অভিজিৎ চৌধুরী


(৬)

তিনি দেবতা নন,তাঁর কাছ থেকে পাওয়ার কোন আশা নেই।তিনি রুষ্ট হলেও তীর্থের কিছু যায় আসে না।
তবুও টেবিলের চা জুড়িয়ে গেলে বউ বলে,হলোটা কি! সত্যি কিছু হয় নি।রবীন্দ্রনাথ আসেন বললে ভুল বলা হয়।তিনি জমিদার ছিলেন নিজে,কাঙালের ঘরে আসবেন কেন তিনি!
এই অনন্ত মহামারীর সামনে দাঁড়িয়ে নদী শিলাবতীর রূপও প্রাণভরে গ্রহণ করে তীর্থ। এই সময়ে ফড়ে,দালালদের সংখ্যা বাড়ে কিন্তু করোনার মৃত্যুভয় তাকেও বোধহয় নশ্বরতার ভয় দেখাচ্ছে।মহৎ প্রয়াসের চর্চা হচ্ছে,এটা আশার কথা কিন্তু কিছু ছদ্মবেশও রয়েছে।
দিবাকর উঠল প্লাতা নদীর তীরে।খুব সকালে স্নান সেরেছে ওকাম্পোর। রবীন্দ্রনাথের ছেলেবেলা থেকে অভ্যাস ব্রাহ্ম মুহূর্তে স্নান।
আসে তাঁর সৃষ্টিপ্রবাহ আর দুঃখি রবীন্দ্রনাথ। সেখানে তিনি চিরসখা।
মোহনবাগান ভার্সেস স্পোর্টিং ইউনিয়ান।নবগ্রামের কালুদার পায়ে বল।দুরন্ত গতি।পেনাল্টি বক্স থেকে শট।বারে গিয়ে লাগল।হাততালি দিয়ে উঠল তীর্থ।সচকিত মোহনবাগান গ্যালারি।বাঁচালেন পাশের ভদ্রলোক।পাড়ার ছেলে,তাই না!
মা ডাকছে,উঠে পড় তীর্থ।স্কুল যেতে হবে তো!
ভালো ফুটবলারও তিনি পুব বাংলা কলকাতায় নিয়ে এসেছিলেন আর খেলতে পাঠিয়েছেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে।যদিও নিজে নিশ্চয়ই মোহনবাগানি।এখানেও তিনি সমদর্শী। আশ্চর্য অনুভব।
মহর্ষি বললেন,নায়েবের কাজ থেকে কাজ শেখো।এই মাসে ১০০ টাকা তোমায় দিলাম।বউমাকে বাকী ১০০/
মা হেসে বললো,এনেছে।
মা বললো, তাই তো।তাই বলে আটটা বেজে গেছে,উঠবি না!
আজ তো রোববার মা।
তীর্থ তড়াক করে করে উঠল পড়ল।মা,বাবার মাংস আনার কথা।গতকাল মাইনে পেয়েছে বাবা।

শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০

পূরবী~ ৫ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস

পূরবী~ ৫ || একটি ধারাবাহিক উপন্যাস
অভিজিৎ চৌধুরী




তুমি
একটু থেমে গেলেন রবীন্দ্রনাথ।
 আমার দেশে যাবে! ভারতবর্ষ।
 কোথায় নেবেন আমাকে,এতো বড় দেশে!
উষ্ণ চা টি- পটে ঢালতে ঢালতে বললেন ওকাম্পোর, কিছু বলবেন!
 রবীন্দ্রনাথ হেসে বললেন,শান্তিনিকেতন আশ্রমে।আর বিশ্বভারতী। যদিও অনেকটাই এখনও স্বপ্নে রয়েছে।
বলেছিলেন,ওয়ার্ল্ড র্ইউনিভার্সিটি। আপনি কিন্তু ইন্ডিয়ার নন।
আপনি ওয়ার্ল্ড সিটিজেন।Songs offerings পড়ে ভাবতে পারিনি এর কবি সত্যি সত্যি একজন বিশ্বনাগরিক।
তবে!
 হো হো করে হেসে উঠলেন ওকাম্পোর। সেই মেয়েটি আপনাকে কি বলছিল!
রবীন্দ্রনাথ বললেন,তবে আই অ্যাম নট অ্যা মঙ্ক।
 হাতীর স্বপ্ন দেখলে কি হয়!
লজ্জা পেয়ে গেলেন ওকাম্পোর। পারডন মি.
সামান্য চা ছলকে পড়ল জোব্বায়।
হোয়াই! রবীন্দ্রনাথ বললেন।দাগটা থাকুক না।
আরক্ত হয়ে উঠলেন ওকাম্পোর।
রবীন্দ্রনাথ বললেন,আজ বড্ডো একান্তে থাকতে ইচ্ছে করছে।
বাবামশাই,বাবামশাই,- পারুল বনে আজ বনভোজন।প্রতিমা বললেনকা ৷ ম্পোরকে কখনও বলতে পারেননি,এখন কথা কানে কানে।
প্রতিমা বললেন,কোলাহল যে বারণ হলো।
গহন অরণ্যে ঢুকল গাড়ি।নিঝুম পথঘাট। হাঁসের দল বেরিয়েছে অতো রাতে।বয়েযাচ্ছে শিলাবতী।কাকচক্ষু জলে চাঁদের মায়াদর্পণ।
প্লাতা নদী কেমন ছিল দেখতে!

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০

পূরবী || অভিজিৎ চৌধুরী || একটি ধারাবাহিক উপন্যাস

পূরবী- ৪ 
অভিজিৎ চৌধুরী


এইসব অনেকদিন আগের কথা।সেই জীবনটা অন্যরকমের।পতিসরের গভীর নির্জনতা আজও টানে।তখন পিতৃদেবকে নিষ্ঠুর মনে হতো তাঁর।মনে হতো কলেজ স্ট্রীট থ্যাকারের দোকানে কতোদিন যাওয়া হয়নি।তবে জীবনের নিয়মেই নতুন বউঠান দূরে সরে যাচ্ছিলেন।

একদিন বেলা এসে বলেছিল,তোমার জন্য তো মস্তো পৃথিবী রয়েচে।আমাদের কি হবে! মা জোড়াসাঁকোর বাড়িতে চলে যেতে চাইছেন।
 আড়ালে একজন রইলেন।নাম রেখেছেন - বিজয়া।সান ইসিদ্রোর ছবি উড়ে আসে প্রায়ই।তাঁর সেই নিবেদনে সাড়া দিয়ে এক অন্য রবীন্দ্রনাথের যাত্রা।এদিকে মজা হয়েছে অবন শুরু করেছিল যাত্রাপালা লেখা।ক- দিন ঝোঁক চললো বিস্তর।তারপর আবার ফিরেছে আঁকাতে।
 সত্যি বিব্রত হলেন রবীন্দ্রনাথ। তখন গান জমিয়ে দিলে।দিনে কাজ আর কাজ।রাতে গান আর গান।জলি বোটটা পদ্মাপারে বাঁধা থাকত।রথী এখনও বেশ সুন্দর নলে সেইসব দিনের কথা।
একটি যুবক সাঁওতাল নাওয়া খাওয়া ভুলে গাছের গুঁড়ি দিয়ে বিকট সব বানাচ্ছে।নন্দলালের গুমোর ভাঙতে চলেছে বিনোদবিহারী।
কতো মৃত্যু যে দেখতে হলো।মনে হয়েচে এসব কেন!মহাকাল তো সবকিছু হরণ করবে।কোন অতৃপ্তি যেন ঠাঁই নিলো ছবিতে।নিজের অজান্তে ওরা এমন কায়া নিলো যে সকলে চমকে ওঠে।তবে য়ূরোপ নিলো।প্যারিসে আর্ট এক্সিবিশনে বেশ হই হই হলো।
জমে উঠেছে রসের পালাকীর্তন।কিন্তু কোথাও যেন এবার অস্তরাগ টানছে।আত্মহনন প্রবৃত্তি নেই।ওকাম্পোর প্রাণময় উচ্ছ্বলতা যেন বলল,তুমি বিশ্বের কবি।এটুকু প্রয়োজন ছিল।না হলে বাকী ইউরোপ তো তাঁকে পাদরি বলেই জেনেছে।পূরবীর অস্তরাগে পশ্চিমের সুন্দরীর সঙ্গে আর দেখা হবে না।সে বয়ে যাবে নিত্য জীবনের প্রবাহে তবে রবির অস্তমিত আলো মনে কি পড়বে না বিজয়ার!
 সংগীত ভবন থেকে ভেসে আসছে তাঁর লেখা গান- যদি জানতেম আমার কিসেরও ব্যথা তোমায় জানাতেম....আঁকা থামিয়ে রেখে শুনছেন তিনি।রানু এসে লাল রং- এর জোব্বাটার ছোট্ট পকেটে লাল পলাশ।
ফুলের স্পর্শে চোখ খুললেন রবীন্দ্রনাথ।


বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০

অভিজিৎ চৌধুরী|| পূরবী~ ৩ || ধারাবাহিক উপন্যাস অভিজিৎ চৌধুরী।

পূরবী~ ৩ || ধারাবাহিক উপন্যাস
অভিজিৎ চৌধুরী।

কলকাতায়ও প্লেগ চলে এলো।তার কয়েকদিন আগে ছিল রথীর জন্মদিন।রথীর জন্মদিন পালন করে রবীন্দ্রনাথ সপরিবারে কলকাতা ছাড়লেন।
বোম্বাই শহরে প্লেগ মহামারীর আকার নিলে শাসক অত্যাচারই প্রতিরোধ হিসেবে বেছে নিলো।রবীন্দ্রনাথ প্রতিবাদ করলেন।সিডিশন অ্যাক্ট চালু হয়েছে, কবিকে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হল।
অমিতকে মেয়েটি বলল,রূপশ্রীর টাকা হবে!
অমিত বলল,এখন কোন বিয়ে হবে না।সোস্যাল গেদারিং নিষিদ্ধ।
মেয়েটি বলল,তাহলে উপায়!
বড় বউ, স্বপ্নে দেখলুম তুমি আমায় খুব বকছো।মাত্র দুটো চিঠি লিখেছিলেন ছুটিকে সাজাদপুর থেকে।তার মধ্য এটি ছিল একটি।
ম্যারেজ রেজিস্ট্রি অন লাইন বন্ধ রয়েছে।
অপেক্ষা করুন।লক ডাউন তো চিরকাল থাকবে না।রেজিস্ট্রি করে রাখতে পারেন।
সময় এখানে থমকে থাকে।রথী সাঁতার শিখল পদ্মায়।তখন রবীন্দ্রনাথ পদ্মা পার হতে পারতেন সাঁতরে।
ওদের সঙ্গ দিতে অমলা এলো কলকাতা থেকে।দিনে ছুটির কাজে সাহায্য করা আর অবাক হন কি চমৎকার অনুবাদ করতে পারেন মৃণালিনী।অমলা একদিন বললেন,এগুলি কিন্তু ভারতীতে ছাপা হতে পারে।
কাজ হলো চিঠির উত্তর না এলেও।জোড়াসাঁকোর বাড়ি থেকে ছেলেমেয়েদের নিয়ে শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে এলেন মৃণালিনী।
লাজুক কণ্ঠে ছুটি বলেন,হ্যা।তিনিই তো লরেটো হাউসের ম্যাডামদের ঘরে ডেকে এনে আমায় পড়াশুনা শেখালেন।
ছুটি রাজী হন না।বলেন,এসব পিতৃদেবকে দেখায়।অমলা বলেন,মহর্ষি!
ছুটি মাথা নেড়ে বলেন,হ্যা।
পুব বাংলার মেয়ে বলে কথায় একদম চন্দ্রবিন্দুর ব্যবহার নেই।
অমলা বলল,তিনি খুব মহান তাই না!

বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২০

পূরবী (২) || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস

পূরবী
(২)
অভিজিৎ চৌধুরী


নিজেরই অজান্তে মানুষ কি বেশী চাওয়াতে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারে! যদি হয় তবে সেই বিবর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।এমনটাই লিখতে গিয়েও সবটা লিখলেন না রবীন্দ্রনাথ।
নোবেল পুরস্কার একটি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি।তা আবার আনুগত্য দাবী করে।১৯১৯ এ নাইট উপাধি ত্যাগ যেন এই প্রতিষঠানকে বলা,তুমি আমায় কিনে নাওনি! জালিয়ানাবাগের বেদনা তো ছিলই।
রবীন্দ্রনাথ হেসে বললেন,কি মনে হয়!
রানু বলল,এটা কি তোমার নিজের ছবি!
কেমন!
চেনা যায় না।
একদম অন্যরকম।
স্মিত হাসলেন রবীন্দ্রনাথ। এই খোঁজাটার তাগিদ কে দিলো,বুঝতে পারছেন না কিন্তু ছবি এরকম নিয়তির দিকে নিয়ে যাচ্ছে যে।
ভয় করে!
বললাম, কি খবর,ভাগ্নের!
সকালে পরিযায়ীদের পাঠিয়ে অমিতকে ফোন করলাম।
সে বলল, ভাগ্নে নয়,আমার কাকার ছেলে।ভালো নেই।
মনে পড়ল অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে রেলযাত্রী রবীন্দ্রনাথ। কেউ নেই সেদিন।একা,কোলে শুয়ে রয়েছে মেয়ে।জ্বর কমছে না।
অমিতের কাকাও গেছে নির্বান্ধব শহরে।

বুকে একটা ব্যথা অনুভব করলাম।করোনার নয়।শ্বাসকষ্টও।মনুষ্যত্ব হারানো মানুষ নিজে বাঁচতে চাইছে কেবল।

রানি চলে গেছে কোন ফাঁকে। ছুটির কথা মনে পড়ল।নিজেই একা হাসলেন।ছুটি খুব বকতো আবার সেই ছিল খেয়াল রাখার মানুষ।

ছুটি যেদিন চলে গেলো,জোড়াসাঁকোর লাল বাড়ি থেকে প্রায় নিঃশব্দে।রথী বা মেয়েদের ধারে কাছে আসতে দেননি।ছুটির জুতোজোড়া পরে রথীকে দিয়ে বলেছিলেন,তোমার মায়ের স্মৃতি।অভিমানে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে।রবীন্দ্রনাথ নিজেকে সংযত রেখেছিলেন।

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২০

পূরবী || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস

পূরবী ||প্রায় এক অচেনা রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে  ধারাবাহিক উপন্যাস...

অভিজিৎ চৌধুরী




(১)
অমিত বলল, স্যার আমার খুব মন খারাপ। কোনক্রমে বললাম, কি হয়েছে!

আমার ৬ বছরের ভাগ্নেটার ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়েছে।উত্তর না দিয়ে গাড়িতে উঠে পড়লাম। ও ছুটে আসছিল গাড়ির দিকে,তারপর ফিরে গেলো। পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরাতে হবে।তাদের বাড়ির মানুষেরা পথ চেয়ে বসে আছে।

ফিরলাম যখন বেশ খিদে পেয়েছে। চতুর্থ প্রহরে কোকিল ডাকছে। ভাত খেয়ে উঠে বললাম,চা দেবে না!

মনে পড়ল অমিতের কথা।বেদনা জেগে উঠল মনে।আহা,ছেলেটার কথাগুলি শুনলামও না।ভাবলাম ফোন করি।তারপর ভাবলাম,এতো রাতে আমার ফোন পেলে উল্টো কথা ভাববে।

ভাববে ডাকছি কোন কাজে!

তার বদলে গেলাম বোলপুরে।এক পরিযায়ী শ্রমিকের কাছে।তাঁর মন তখন পড়ে রয়েছে প্লাতা নদীর ধারে।ছাতিম গাছের তলায় বসে আঁকছেন।

রানি এসে বললে, কবিতা লেখা কি ভুলে গেলে!
মুখ তুলে তাকালেন রবীন্দ্রনাথ।

হিজিবিজি কাটাকুটি না করে আঁকতে পারেন তো! সেই শুরু।

বাংলায় সে বলেনি।ইংরেজিও যে ঝরঝরে বলতো বিজয়া তেমনটা নয়।

 বাহ,বেশ নামটা। ভিক্টোরিয়া আর বিজয়া।

কিগো উত্তর দাও।

কবিতা যে লিখতুম ভুলে যেতে বসেচি।এখন আমি পটুয়া।চিত্রকর।

তোমার গান বুঝি,ছবি বড় ভয় করে।

গান রাখলুম তোদের জন্যে আর ছবি দিলুম পশ্চিমকে।

রানি বলল,আজ বড় সাজ হয়েছে যে!

হো হো করে হেসে উঠলেন রবীন্দ্রনাথ।

এমন কি আর!

য়ূরোপে তুমি যদি দেখতে!

কেন!

সংগীত ভবন থেকে গানের রিহার্সাল ভেসে আসছে,যদি  এ আমারও  হৃদয় দোয়ারওবন্ধ থাকে কভু।

রানী বলল,কেমন সাজতে!

রবীন্দ্রনাথ বললেন, জোব্বা ছাড়া তেমন কিছু তো ছিল না। যাচ্ছিলাম পেরু আর তার বদলে গেলুম প্লাতা নদীর ধারে।

সে তো জোর করে মাপ দিয়ে এলো একজনের কাছে।আমার পরিচয় ভাঙলে না।কিন্তু সেও চালাক মেয়ে।

সে দেশে ছেলেদের পোশাক মেয়েরা বানায়!

রবীন্দ্রনাথ বললেন,তাই তো দেকলুম।

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...