কিছু বই কিছু কথা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কিছু বই কিছু কথা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

কিছু বই কিছু কথা- ৩১৬। নীলাঞ্জন কুমার কিছু বই কিছু কথা । শশাঙ্কশেখর হাইত, Book

 কিছু বই কিছু কথা- ৩১৬। নীলাঞ্জন কুমার




কিছু বই কিছু কথা । শশাঙ্কশেখর হাইত । প্রতিভাস,  কলকাতা ৭০০০০২। মূল্য:  দেড়শো টাকা ।


    সত্তরোর্ধ কোন কবি যখন লেখেন:  ' কালবোশেখী ঝড়ের/  ঝাপটা-  ঘাতে লুটিয়ে পড়া আতুর লতার মতো / অন্ধকার নীরব,  ব্যথাহত ।' তখন তার উদ্দেশ্য ব্রাভো বলতেই হয় । শশাঙ্কশেখর হাইতের সাম্প্রতিক কাব্যগ্রন্থ ' বিহানবেলা মেঘবেলা ' র শেষ কবিতা ' শেষের পরে ' তে তাই ঘটেছে । কিন্তু আবার যখন পাই:  ' প্রতিজ্ঞা কঠিন বুকে মোর মৃত্যুজিৎ প্রেমের বিদ্যুৎ খরধার ।' এর মতো নিকৃষ্ট পংক্তি তখন আগের কবিতার আমেজের তার কেটে যায় । এরকম ভালো মন্দ মিশে রয়েছে কাব্যগ্রন্থটির দুই মলাটের ভেতরে । যার সার অংশে পাই   : ' মধুতিথির স্বপ্ন কোন সুদূর ওয়েসিসে/  আবেশ বিহ্বল রাতের বাসর গড়ে?  ' ( দিশা খোঁজা)  , ' জোরে ডানা ঝাপটে ঝেড়ে ফেলে দিতে চাস/  না কি পোড়া ভাগ্যের সব ছাই? ' ( মধ্যাহ্নের চিলের প্রতি '), ' তামাটে এই গোলক ধাঁধার শেষ হবেনা হাঁটা ' ( ' অবস্থান্তর ' ) ইত্যাদি ।
           কবির আগের প্রায় বেশিরভাগই কাব্যগ্রন্থ আমার পড়া ও আলোচনা করা । এবারের কাব্যগ্রন্থের
স্বাদ তাদের থেকে কিছুটা উৎকৃষ্ট ।তবে দুর্বল নাবালক অকিঞ্চিৎকর সাধু চলতি ভাষার জবড়জং কবিতা তাকে পরিহার করতে হবে । না হলে পাঠক ' বাজে মাল ' বলে ছুঁড়ে দেবেই । ভবিষ্যতে তাঁর কাব্যগ্রন্থ প্রকৃত কাব্যগ্রন্থ হয়ে উঠুক । সুপ্রসন্ন কুন্ডুকে ধন্যবাদ প্রচ্ছদের জন্য ।

রবিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৩

কিছু বই কিছু কথা-৩১৫। নীলাঞ্জন কুমার ঘুম ভাঙানোর গান, ফুল ফোটানোর সুর, কিচির মিচির , ঝুমঝুমি । চারটি ছড়া গ্রন্থের ছড়াকবি শুভাশিস চৌধুরী ।, Shubhasish Chowdhury

 কিছু বই কিছু কথা-৩১৫। নীলাঞ্জন কুমার




ঘুম ভাঙানোর গান, ফুল ফোটানোর সুর, কিচির মিচির , ঝুমঝুমি । চারটি ছড়া গ্রন্থের ছড়াকবি শুভাশিস চৌধুরী । চারটি বই কোচবিহার থেকে প্রকাশিত ।



    কোচবিহারের ছড়াকবি শুভাশিস চৌধুরীর ছড়ার প্রধান গুণ, তিনি ছড়াকে অসাধারণভাবে ছন্দ পরিবর্তন করে শিশু কিশোরদের মাতিয়ে রাখতে পারেন । যদি আমরা শিশু মন নিয়ে ভাবি তবে দেখতে পাব চারটি ছড়াগ্রন্থ এক কথায় সৃষ্টির দিক দিয়ে বিশেষ জায়গায় পৌঁছে যায় বাংলা ছড়ার আকালের দিনে ।

       ২০১১সালে প্রকাশিত তাঁর কিশোরদের জন্য কবিতাগ্রন্থ ' ঘুম ভাঙানোর গান ' তে আমরা পাই কৈশোর উপযুক্ত কিছু ছড়া যার ভেতর রয়েছে আনন্দ, নীতিকথা, সত্যি মিথ্যে বোঝানোর কৌশল । তিনি লেখেন: ' সামনে তাকাও, সামনে সবুজ পথ/ সামনে আকাশ নীল; / স্বপ্ন দেখো, স্বপ্ন সবুজ প্রাণ/ আনন্দ স্বপ্নিল । ' ( ' আনন্দ উদ্ভাস ') , ' বাঁচতে যদি চাস তবে তুই দাঁড়া/ আকাশটা ছোঁ/ প্রাণকে সুরে না যদি দিস নাড়া/ বাঁচার যে নাই জো ' । ( ' আকাশটাকে ছোঁ ') - র মতো ছড়া গুলির ভেতর আনন্দ পাই ।

         ছড়াকবি শুভাশিস চৌধুরীর ২০১২ সালের ছড়াগ্রন্থ ' ফুল ফোটানোর সুর ' ও প্রধানত কিশোরদের জন্য । তবে প্রথম বইটি থেকে এ বইটির লেখার মান আরো বেশি প্রাণবন্ত । যেমন: ' সূর্যটা মামা না কি ? সূর্যটা কাকা! / নইলে দুচোখে কেন এত রাগ মাখা! / মামা যদি হোত তবে ঘুম থেকে তুলে, / পাঠাতো না কাক ভোরে রোজ ইস্কুলে ....' ( সূর্যটা কাকা) কিংবা: 'যতই বলি না কেন পইপই করে/ কই কই ঘোরে পাখি টইটই করে ।' ( ' দিনে রাতে ') ছড়াকারকে প্রশংসা করা ছাড়া উপায় থাকে না ।

          এই দুটি ছড়ার বই এর আরো আগে ১৯৯৯ সালে তাঁর সম্পূর্ণ শিশুদের বই ' ঝুমঝুমি ' তে দেখি তিনি খেলাচ্ছলে কি অপূর্বভাবে গড়ে তুলেছেন ছড়াগুলি যা ঈর্ষণীয় । ' ঝুমঝুমি ' তে একটাই অসুবিধে যে তিনি কিছু কিছু ছড়া অহেতুক বাড়িয়েছেন, তার ফলে ছড়ার গতি কখনো সখনো রূদ্ধ হয়েছে । তবে পেয়ে যাই: ' হাড়গিলে, তোর নাম কেন হাড়গিলে? / তুই বুঝি শুধু হাড় খাস গিলে গিলে? ' র মতো একই শব্দ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে মজাদারভাবে তুলে ধরার ভেতর মুন্সিয়ানা খুঁজে পাই ।

         তাঁর ২০০২ সালে প্রকাশিত ছড়ার বই ' কিচির মিচির ' শিশুদের কাছে আকর্ষণীয় হওয়ার মতো বই । এখানে বিভিন্ন প্রাণীর ওপর অসাধারণ ছড়া এককথায় দারুণ । তিনি প্যঁচা নিয়ে লেখেন ' প্যাঁচা এক ডালে বসে ডাকছিল/ প্যঁচানি তা টেপ করে রাখছিল/ সেই ডালে এক বুড়ো কাক ছিল/ তার কাছে শুনে, কাক কলোনি/ উড়ে এসে বললো ' ও প্যাঁচা ভাই/ গান গাবে আগে কেন বলোনি? ' যার ছন্দ বাহাদুরি তারিফযোগ্য ।

           শুভাশিস চৌধুরী এক পারদর্শী ছড়াকবি তা বলতেই হবে । আজকের প্রকৃত ছড়ার আকালের দিনে তিনি সত্যিকারের ছড়া লিখে ছোটদের খুশি করুন এই কামনা । চারটি বইএর প্রচ্ছদ আকর্ষণ করে না ।


শুক্রবার, ১৪ জুলাই, ২০২৩

কিছু বই কিছু কথা- ৩১৪। নীলাঞ্জন কুমার মনের মধ্যে হেঁটে বেড়াই । শিপ্রা বিষ্ণু । বিয়ন্ড হরাইজন পাবলিকেশন

কিছু বই কিছু কথা-  ৩১৪। নীলাঞ্জন কুমার




মনের মধ্যে হেঁটে বেড়াই । শিপ্রা বিষ্ণু । বিয়ন্ড হরাইজন পাবলিকেশন
,  আলিপুরদুয়ার । দাম ১৩০ টাকা ।



শিপ্রা বিষ্ণু যে মনের মধ্যে হেঁটে বেড়াতে বেড়াতে এক নিবিড় শব্দ যাপন করেন তার প্রকৃত প্রমাণ পেয়ে যাই তাঁর সাম্প্রতিক কাব্যগ্রন্থ ' মনের মধ্যে হেঁটে বেড়াই ' কাব্যগ্রন্থে । তার ফলে পেয়ে যাই এসব অমোঘ ও অনবদ্য  পংক্তি যা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ায় । যেমন,
' কপাল জুড়ে নিবু নিবু বিকেলের কমলা আভা ' , ' শরীরী বাঁকে অসংখ্য ছত্রাক শিরদাঁড়া বেয়ে হাঁটে/  রক্ত মাংস খুবলে আসা দেহলি প্রান্তে ',' কঠিন মিথ্যেয় ডুবে,  পৃথিবী এখন বধ্যভূমি । ' ' নতুন করে আবর্জনা ছুঁয়ে ফেলে/  পাতা পোড়ে রোদে মিছিলে ওরা গেয়েছিল উন্নয়নের গান ' ইত্যাদি ইত্যাদি ।
             কবির ভেতর যে কাব্যিক ব্যঞ্জনা তা অনেক সময় সাদামাঠা ভাবে আসায় সঠিক কবিতার স্বাদ পাওয়া যায় না । তাছাড়া ' র ' ও' ড়' এর দোষ পরিহার করতে হবে কবিকে । কবির বড় কবিতা বিবৃতিমূলক তাই পড়লে রাগ আর দুঃখ দুটোই হয়। আবার ছোট
কবিতাগুলো মন ভালো করে দেয় ।
               কবি শিপ্রা বিষ্ণু আলিপুরদুয়ারের এক ব্যস্ত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক । ব্যস্ততার মধ্যে তিনি যেভাবে কবিতা সৃজন করছেন তার জন্য তিনি ধন্যবাদার্হ । কৌশিক বিশ্বাসের প্রচ্ছদ নারীমনকে সামনে নিয়ে এসেছে । তাঁকেও ধন্যবাদ ।

মঙ্গলবার, ১৩ জুন, ২০২৩

কিছু বই কিছু কথা-৩১৩ । নীলাঞ্জন কুমার পূর্বাপর । শুভাশিস চৌধুরী, Subhasish Chowdhury

 কিছু বই কিছু কথা-৩১৩ । নীলাঞ্জন কুমার




পূর্বাপর । শুভাশিস চৌধুরী । যোগমায়া প্রকাশনী  কলকাতা-  ৯। মূল্য চল্লিশ টাকা ।


শুভাশিস চৌধুরীর বসবাস কোচবিহার শহরে। ওখানে এক সাহিত্য সম্মেলনে তাৎক্ষণিক আলাপের পর এ বইটি পাওয়া ও পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে । সামগ্রিক পড়ার পর বোধ হয়েছে ' পূর্বাপর ' কাব্যগ্রন্থ নেহাত প্রাচীনত্ব ঘেরা নিতান্তই সাধারণ সাহিত্য প্রয়াস । যার ভেতর এই সময় উপযোগী তেমন কোন উজ্জ্বল পংক্তি পাওয়া গেল না । বহু বহু কবির কাব্যগ্রেন্থর ভীড়ে মিশে থাকা এই সব কবির কবিতায় কিছু পাওয়া গেলে বোধহয় আমার থেকে কেউ বেশি আনন্দ পেত না।
          পূর্বাপরে যে কবিতাগুলি প্রকাশিত হয়েছে তা আজ থেকে প্রায় সত্তর বছর আগে কেউ লিখতেন তবে তিনি বাহবা পেতেন । কিন্তু কাব্যগ্রন্থকার এই সময়ের কবি , তাঁর কাব্যগ্রেন্থর বয়স মাত্র বারো  বছর । ফলে কি করে এখন একে বাহবা দেওয়া যায় যেখানে এখন বাংলা কবিতা এক বিশেষ উচ্চতাতে উঠে বিশ্বের অন্যতম প্রধান শিল্প হিসেবে মাথা উঁচু করে আছে । কবির বর্তমান কবিতার ওপর গভীর পাঠের প্রয়োজন । সঙ্গে চাই নিরব সাধনা । তবে তাঁকে যোগ্য জায়গায় স্থান দিতে পারা যাবে । অরূপ নাথের প্রচ্ছদ এতটাই খারাপ যে সাদা কাগজের প্রচ্ছদ তার থেকে সুন্দর হতো।
                     সমালোচনা কারোর শত্রুতা করা নয়।  কাব্যগ্রন্থকার তা যদি বন্ধু ভাবতে পারেন তবে তাঁর মঙ্গল হবে । উত্তরণ হবে । পরবর্তীতে সেই সমালোচক তাঁকে উচ্চে তুলে ধরবে।

সোমবার, ১২ জুন, ২০২৩

কনভেনশনে বই উদ্বোধন করলেন নীলাঞ্জন কুমার । #NRC

কনভেনশনে বই উদ্বোধন করলেন নীলাঞ্জন কুমার । #NRC



 নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা।। ১১জুন সারাদিনব্যাপী  এক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হল কলকাতার শিয়ালদহের ইস্ট লাইব্রেরি সভাঘরে । কনভেনশনের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী ড.শামসুল আলম । সভাপতিমন্ডলীতে আসন অলংকৃত করেন প্রাক্তন বিচারপতি ইন্তাজ আলি শাহ্ ও বিশিষ্ট কবি প্রাবন্ধিক সম্পাদক ও সমালোচক নীলাঞ্জন কুমার । 

                কনভেনশনের মূল বিষয় ছিল ' দেশ এবং এই রাজ্যের প্রেক্ষিতে একটি সুষ্ঠু সাংবিধানিক বিকল্পের সন্ধানে '। তার ওপর খসড়া পাঠ ও বক্তব্য রাখেন ড. আলম। খসড়াকে সমর্থন করে বক্তব্য রাখেন  নীলাঞ্জন কুমার,  ইন্তাজ আলি শাহ্,  শান্তনু মন্ডল,  মুহম্মদ হেলালউদ্দীন সহ বিভিন্ন বক্তা । কনভেনশনে ড. শামসুল আলমের গ্রন্থ ' NRC -NRP- CAA দেশের পক্ষে চরম সর্বনাশ ' গ্রন্থ উদ্বোধন করা হয়।  পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে শতাধিক বিশিষ্ট প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন ।

বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৩

কিছু বই কিছু কথা- ৩১১ । নীলাঞ্জন কুমার কথার পিঠে কথা । গুরুপ্রসাদ যশ, Guruprasad Jash

কিছু বই কিছু কথা- ৩১১ । নীলাঞ্জন কুমার



কথার পিঠে কথা । গুরুপ্রসাদ যশ । দক্ষিণের বারান্দা প্রকাশণী , কালনা, বর্ধমান । মূল্য: একশো টাকা ।



কবি গুরুপ্রসাদ যশের কিছু কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হলেও তাঁর প্রতিটি কবিতার বইতে অনেক অগোছালো কবিতা নির্বাচনের দিকটি তাঁকে তেমন উজ্জ্বল হতে দিচ্ছে না । একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে তাঁর কিছু কবিতাতে কাব্যিক মোচড়ের সন্ধান পেলেও তার মধ্যে নাবালক কবিতা পাওয়া গেলে রাগ হওয়া কোন দোষের নয় ।তিনি যে এখনও স্টেটমেন্ট কবিতার বাইরে যেতে নারাজ তা তাঁর কবিতা পড়ে মালুম হয় । কিন্তু তার মধ্যেও তিনি যখন লেখেন: ' শুধু তুমি নেই বলে/ ভাঙা সুর মেঝেতে গড়ায় ।' ( ' শূন্যতা '), ' বুঝলাম/ এতদিনে পাখিও জেনে গেছে পরকীয়া বৈধ । ' ( ' পরকীয়া ') -র মতো পংক্তি লেখার পর তিনি কি করে লেখেন : ' যখনই আতঙ্কের চিৎকার কানে এলো/ তোর ঘরে ঢূকলাম/ টেবিলে আঙটির নীচে তোর লেখা জবাবী চিঠি...' ( ' রহস্য ') , ' আমি কুঁকড়ে থাকি বলেই/ ভূতেরা বিস্ফারিত করে/ দাঁত ও নখ। ' ( ' একটা ভূতের গল্প') ।

      কবির বোঝা উচিত কথার পিঠে কথা বসালে কবিতা হয় না । তার জন্য মগ্নতার প্রয়োজন । কবির সাধনার খামতি আছে । সুতরাং সংযত হোন । সমালোচনাকে শত্রুর কথা মনে না করে মন দিয়ে তাকে বিশ্লেষণ করুন ও পরবর্তী বইটি প্রকৃতার্থে সাজান । বইটির পারিপাট্য সুন্দর ও শ্যামলবরণ সাহার প্রচ্ছদ আলাদা মাত্রা নিয়ে হাজির হয়েছে ।




বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৩

কিছু বই কিছু কথা- ৩১০। নীলাঞ্জন কুমার মনের উড়ান, । নবলিপি পাবলিকেশনস্, কোচবিহার । Utpalendu Pal

কিছু বই কিছু কথা- ৩১০। নীলাঞ্জন কুমার




মনের উড়ান । নবলিপি পাবলিকেশনস্,  কোচবিহার ।
বিনিময় একশো টাকা ।

কুচ্ছিত প্রচ্ছদ,  দায়সারা ছাপা  ( ৫০ ও ৫১ পৃষ্ঠা ডবল ইম্প্রেসন হওয়ায় দুটি কবিতা বোঝা যাচ্ছে না  ) ও ৭৬টি কবিতার ভেতরে প্রায় ৯০শতাংশ নাবালক কবিতা দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে উৎপলেন্দু পালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ' মনের উড়ান ' । যে কোন কবির বোঝা উচিত কোন বই যখন প্রকাশ করা হয়  সেটি যেন পাঠকের পড়ার যোগ্যতা লাভ করে । নাহলে সচেতন পাঠক বইটি  ' ফালতু মাল ' বলবে ও সমালোচকের তিরস্কার তাঁর প্রাপ্য হয়ে উঠবে । যা খুশি তাই লিখে যাবার মতো কবিতার দিন আর নেই,  পাঠক অনেক শিক্ষিত, তাকে বোকা বানানো যায় না  তা এঁদের বোঝা হল না,  এটাই আফশোস ।
               তবে যে দশ শতাংশ কবিতা সাবালকত্ব নিয়ে হাজির হয়েছে সেগুলোর সামনে দাঁড়াতে হয় । যেমন: 
' ইলশেগুড়ি থেকে মুষলধারায় ভিজেছি কতবার তবুও/ একপশলা বৃষ্টি লিখে উঠতে পারিনি এখনো ।' ( ' বৃষ্টি লিখবো বলে '), ' মাজরা পোকা চুষে খায় বিবেকের রস / অশ্লীল ইঙ্গিত করে বোধিবৃক্ষের ডানা ' ( ' একান্ত গোপন ') , ' একটা ছবি আঁকতে/  আস্ত জীবনও নিতান্তই কম। ' ( ' জীবনের ছবি ' ) ইত্যাদি ইত্যাদি ।
           কবির পরবর্তী কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের আগে যা করা উচিত তা হল , ১। কোন সৎ ও শীর্ষ স্থানীয় কবির কাছে কবিতা দেখিয়ে মতামত নেওয়া । ২। ভালো শিল্পী দিয়ে প্রচ্ছদ করানো । ৩। ভালো প্রেসে ছাপানো । নাহলে কবিতার বইয়ের ভীড়ে এসব বই বিলুপ্ত হয়ে যাবেই। কাল নিরবধি । তার বাছাই বড় কঠিন । সেখানে ভালো ছাড়া খারাপ চলে না ।

** আলোচনা, বক্তব্য, মতামতের দায় আলোচকের নিজস্ব। এ বিষয়ে দৈনিক বাংলা কর্তৃপক্ষ কোনও দায়িত্ব নেবে না।


সোমবার, ৬ মার্চ, ২০২৩

কিছু বই কিছু কথা- ৩০৯। নীলাঞ্জন কুমার স্তব্ধতার গান শোনো । শঙ্কর বসু , Sankar Basu

 কিছু বই কিছু কথা- ৩০৯। নীলাঞ্জন কুমার




স্তব্ধতার গান শোনো । শঙ্কর বসু । একুশ শতক , কলকাতা- ৯। মূল্য একশো টাকা ।

' রিমোট কন্ট্রোলে শাসন করছি/  তোমাদের আত্মাকে-
আজও এই মুহুর্তে.....' ( ভারতবর্ষ আজ), ' দু জনেই শরণার্থী শিবিরে বসে দাবার চাল/  আর ঘোরের ভেতর থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখছে । ' ( ' কাঁটাতার ও মন) কবি শঙ্কর বসুর 'স্তব্ধতার গান শোনো ' কাব্যগ্রন্থটি বারবার পড়ে দেখি   তার ভেতর থেকে প্রায়শই  সহজিয়া উচ্চারণ উঠে আসে । কিন্তু একটু মগ্ন হয়ে যদি দেখি তবে দেখতে পাবো তার ভেতর দিয়ে কত সাবলীলভাবে উঠে আসে উপরের পংক্তি দুটি । যা গোটা কবিতায়  আলাদা মাত্রা দিয়ে যায় । কবি দীর্ঘদিন ধরে কবিতা যাপন করছেন ও তাঁর আরো পাঁচটি কাব্যগ্রন্থে র ভেতর কয়েকটি পড়ে বুঝি তিনি স্রেফ সাধারণ কবি নন । কবি তাঁর কবিতাতে এতটা মগ্ন থাকেন তার থেকে কখন অমোঘ পংক্তি উঠে আসে তা তিনি বোঝেন না প্রকৃত কবির মতো, তাই:  ' উদাসী হাওয়ায়/  লাল পলাশের দল ছড়িয়ে আছে পায়ে পায়ে ' র মতো সাদাসিধে উচ্চারণের পর লিখে বসেন:  '  চৈত্রের সন্ধানী মুকুল/  জননীর স্বপ্নের প্রতিটি বাঁকে/ শিল্প এঁকে দেয় ' ( জননী)  মোহিত করে ।
         সুখের কথা কবি সেভাবে কোনদিনও দুর্বোধ্যতার দিকে পা বাড়াননি । তবে কখনো সখনো কিছু কিছু সাদাসিধে উচ্চারণ বিবৃতি হলেও আমরা তারপরেই পাই সেই পংক্তি:  ' পথ পালটিয়ে কবি চলে যায় কালপুরুষের আকাশে/  তীব্র অনুভবে হেঁটে যায়- সামনে জীবন ' যা মন ভালো করে দেয় । কবির ব্যঙ্গাত্মক অনুভূতি আমাদের বুঝিয়ে ছাড়ে তাঁর কাব্যিক মোচড়:  ' কাঁধের ওপর বয়ে চলেছে অজানা শব / মোমবাতি জ্বালিয়ে বুদ্ধিজীবীরা সহযাত্রী,  / গন্তব্য পড়শিনগর ...' ( ইউনিয়ন) ' শুখা মরশুমে আদিবাসীরা পাড়ি দেবে না/  প্রপাতের সন্ধানে/  আকাশের দিকে চেয়ে থাকে পুরুলিয়া ' ( পুরুলিয়া)  ।
আসল কথা কবিকে পড়তে হবে মগ্ন হয়ে,  রয়ে সয়ে না হলে তাকে ধরা কোন সমালোচকের পক্ষে সম্ভব নয় । শঙ্কর বসু সেই কবি যাঁকে রয়ে সয়ে পড়তে হয় । অনেক কথার ভেতর প্রকৃত কথা খুঁজতে হয় । নাহলে তাঁকে ভুল বোঝা হয় । প্রবীর আচার্যের প্রচ্ছদ শান্ত ও সুন্দর ।

মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

কিছু বই কিছু কথা - ৩০৮। নীলাঞ্জন কুমার মন্থনবেলাও যায় যায় । সুবীর ঘোষ , Subir Ghose

 কিছু বই কিছু কথা - ৩০৮। নীলাঞ্জন কুমার




মন্থনবেলাও যায় যায় । সুবীর ঘোষ

। ঈশপ , বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়া থেকে প্রকাশিত । দেড়শো টাকা ।


বলা যায় বেশ কিছু দিন পর কবি সুবীর ঘোষের কাব্যগ্রন্থ ' মন্থনবেলাও যায় যায় ' পড়ে তাঁকে আবার নতুন করে আবিষ্কার করা গেল । আবিষ্কার এই অর্থে যে, তাঁর পংক্তি ' না চাইতেই  শব্দেরা সব আসে/ অক্ষরদের বেছে নেওয়াই দায় ।' ( অক্ষর সন্ধান ') ' এবার আমার ছোট ছোট ধ্বংসের মুখে/  নক্ষত্র জাগরিত আলো এসে পড়েছে ।' ( ' নক্ষত্র জাগরিত আলো ' ) , ' ফুটপাথ থেকে কেনা একটা বইএর ঘুণাক্ষরেরা/  আমাকে বলল-  পুরনো চালের চেয়েও বেড়ে ওঠা/  রূপকথারা শুধুই তোমার । ' ( ' নীরবতা ও রূপকথা ')যা প্রমাণ করে তাঁর এর আগের কবিতার স্বাদ থেকে অনেক নতুন ও আলোকিত।
                   বলা যায়,  তাঁর কবিতাতে যে সব উপমা ও অনুষঙ্গ ব্যবহৃত হয়েছে তাকে যদি পর্যালোচনা করা যায় তবে তার থেকে পাওয়া যায় আন্তরিক অনুরণন , ' তোমাকে নিয়ে কিছু একটা লিখব ভাবলেই দেখি/  শব্দ শ্রমিকের দল বাদলা পোকার খুশিতে বেরিয়ে পড়েছে '।('তোমাকে নিয়ে লিখব ভাবতেই ') , ' এ গ্রামে মানুষ নেই পাখিরাও ছেড়ে গেছে উদ্বাস্তু বিলাসে ' ( ' মাটিতে শব্দের বীজ ' ) , ' কেউ বুঝি দেখেছিল ওই মুখচুন ঝোপের আড়ালে/  রাশি রাশি প্রজাপতি জন্ম নেবার অছিলায়/  জানুসন্ধি আবিষ্কার করে! ' ( সৃজন)  প্রকৃতপক্ষে তন্ময় করে ।
                   বোঝা যায়,  কবি সুবীর সেই পর্যায়ের কবি যিনি বৃত্ত ভাঙতে ভাঙতে নিজেকে আরো জানতে চান, বুঝতে চান, ভাবতে চান আর তার মধ্যে থেকে ছোঁয়াচ লাগা শব্দ ধরা দেয় । সেই ' শবদে শবদে বিয়া দিয়া ' তিনি লেখেন তাঁর কবিতা । যা আমরা আবিষ্কার করতে থাকি । যা মন ভালো করে,  মন বিকলনের গ্রাস থেকে বাঁচায় । সুবীরকে ধন্যবাদ তাঁর কাব্যগ্রন্থ পাঠানোর জন্য । না হলে নতুন করে আবিষ্কার করা তাঁকে সম্ভব হতো না । কৃষ্ণেন্দু মন্ডলের প্রচ্ছদ তাকিয়ে থাকার মতো ।

সোমবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২৩

কিছু বই কিছু কথা - ৩০৭। নীলাঞ্জন কুমার যুদ্ধের সময়ের কবিতা: ইউক্রেন থেকে । পঙ্কজ কুমার চ্যাটার্জি,Pankaj Chatterjee

কিছু বই কিছু কথা - ৩০৭। নীলাঞ্জন কুমার




যুদ্ধের সময়ের কবিতা: ইউক্রেন থেকে । পঙ্কজ কুমার চ্যাটার্জি
। নিউ ভারত সাহিত্য কুটির , কলকাতা-  ৯। মূল্য:  সত্তর টাকা ।


মোট ন' খানি নিজস্ব কবিতা ও বাদবাকি ইউক্রেনবাসী
কবির কবিতার অনুবাদ নিয়ে গড়ে উঠেছে কবি ও অনুবাদক পঙ্কজ কুমার চ্যাটার্জির এক দক্ষ অনুবাদকর্মের বই  ' যুদ্ধের সময়ের কবিতা:  ইউক্রেন থেকে ' । ইউক্রেনের বর্তমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে কবিতাগুলি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যথাযথ । কবির এই গ্রন্থের মুখবন্ধে তারাস শেভচেঙ্কোর বিখ্যাত কবিতা 'টেস্টামেন্ট ' এর অনুবাদ মুখবন্ধের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি পঙ্কজ কুমার চ্যাটার্জি র ইউক্রেনের যুদ্ধের বিরুদ্ধে ৯টি সাদাসিধে কবিতার ভেতরে মর্মান্তিক দিক বুকে বাজে ।
         ইউক্রেনের কবিদের মধ্যে যুদ্ধের প্রত্যক্ষতা অপূর্ব হয়ে দেখা দিয়েছে তাঁদের কবিতায় । যেমন আনাস্তাসিয়া আফানাসিয়েভার কবিতার পাই: ' যখন লিখছি/ আমার খুব কাছে/  সব আশা মিলিয়ে যাচ্ছে '।
ভাসিল হোলোবোরোদকোর প্রথম দুটি লাইনে পাই:  'জানি  এখান থেকে বিমানে তুমি পালাতে পারবে না/  তোমাকে নিজেই উড়তে হবে ।' বরিস হুমেনিউক এর  পংক্তি:  ' ওদের গায়ে যুদ্ধের গন্ধ/  তোমার গায়ে যুদ্ধের গন্ধ/  তুমি আর যুদ্ধ এক ।' তার প্রমাণ ।
          বইটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পংক্তি বলা যায় বরিস খেরসনস্কির ' দরজার জন্য কাঠি খোঁজার মতো শত্রু অস্ত্র পছন্দ করে/  যখন কার্যত দরজা ইতিমধ্যে খোলা । ' ও হ্যালিনা ক্রুক এর ' আমি নিজেও জানিনা রকেট কেমন দেখতে;  / আমার পুত্র,  আমি নিজেও যুদ্ধের ছবি বুঝতে পারছি না ।'
          অত্যন্ত সাবলীল অনুবাদে ক্যারিসমা দেখিয়েছেন অনুবাদক  পঙ্কজ কুমার চ্যাটার্জি । এই সময়ে বইটি প্রকাশিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল  । সঠিক সময়ে সঠিক অবস্থানে বইটি প্রকাশ করার জন্য  অনুবাদক ও প্রকাশক ধন্যবাদার্হ ।




রবিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২২

কিছু বই কিছু কথা -৩০৬। নীলাঞ্জন কুমার বৃক্ষের গান । সুনীল মাজি । Sunil Maji

 কিছু বই কিছু কথা -৩০৬। নীলাঞ্জন কুমার




বৃক্ষের গান । সুনীল মাজি । লিপি,  কোলাঘাট,  পূর্ব মেদিনীপুর । একশো কুড়ি টাকা ।

' যাদের নিজস্ব মানচিত্র নেই,  তারাই পতিত পতিতা । / নক্ষত্রপ্রেম চিরভাস্কর,  ভাস্বর- তাদের হয় না কোন চিতা  ( ' নক্ষত্রপ্রেম' ) এর মতো পংক্তি পড়ে কবি সুনীল মাজিকে নতুনভাবে আবিষ্কার করি । কবির ' বৃক্ষের গান ' কাব্যগ্রন্থে সব কবিতা যে পছন্দসই তা আমি মনে না করলেও কিছু কবিতায় অবশ্যই ফুলমার্কস দিতে বাধ্য ।
     একথা সত্য যে এই কবির অতীতের কবিতা আমায় খুব একটা আকর্ষণ করেনি । অনেক সময় তাঁর যোগ্যতা নিয়ে আমার কাছে ভেতর প্রশ্ন উঠেছিল কিন্তু
যখন পাই এই গ্রন্থে ' এখন শপিং রোপিং ফাগমেলা খোলানাচ মিথ্যাবাদ- এখন সাহিত্য সংগীত বড়ো একা ।' ( যাও ') এর মতো সমসাময়িক বিষয় নিয়ে এত সুন্দর মোচড় নতুন করে তাঁর জাতকে চেনালো ।
          সুনীল এক লহমায় মানুষের মন জয়ের পথ বাছেননি । তিনি আস্তে আস্তে নিজেকে সাজাচ্ছেন অনেক আয়োজন করে ।তা এই কাব্যগ্রন্থ জানান দেয় ।
              কবির ত্রুটি তাঁর দীর্ঘ কবিতাগুলি ।যা বিরক্তি আনে । তবে নাতিদীর্ঘ কবিতাগুলি আবেশ ও মগ্নতা নিয়ে আসে । কবি লিখুন । ভালো লিখুন । নিজেকে সাজান । অনিমেষ সাউ এর প্রচ্ছদ দাগ কাটার মতো নয় ।

সোমবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২২

কিছু বই কিছু কথা- ৩০৫। নীলাঞ্জন কুমার তানপুরা ও পিলসুজ রমণী । নীলিমা সাহা,Nilima Saha

 কিছু বই কিছু কথা- ৩০৫। নীলাঞ্জন কুমার 



তানপুরা ও পিলসুজ রমণী । নীলিমা সাহা । কবিতা ক্যাম্পাস , সালকিয়া,  হাওড়া  । মূল্য ১২০ টাকা ।


নীলিমা সাহাকে চিনতাম প্রধানত পোস্টমডার্ন অনুসারী কবি হিসেবে । বর্তমানে তাঁকে আমরা দেখি তার থেকে কিছুটা বেরিয়ে এসে কিছুটা অন্য ডাইমেনশনে। তিনি এখন যে সব অনুষঙ্গ ব্যবহার করছেন তার সঙ্গে পোস্টমডার্ন চিহ্নগুলোর তফাৎ চোখে পড়ে , যখন পড়ি:  ' চাই ' শব্দটি যখন ভীষণ চায়, ঠিক তখনই/  অদৃশ্য সিঁড়ি বেয়ে উঠে যাই/  নিজস্ব সিঁড়ি বেয়ে উঠে যাই/  নিজস্ব ছাদের বাগানে দেখি, সেখানেও/ গরম ভাতের গন্ধ ... আগুনমুখের আনচান 'কিংবা ' ভাঙা আয়নায় এভাবেই চিরদিনের/   কাটাকুটি খেলা/  ইচ্ছেরা সাজাতে থাকে নিজস্ব আকাশ ' র মতো জবরদস্ত কবজির মোচড় জাত চেনায় ।
          কবি এ কাব্যগ্রন্থ ৬ ভাগে ভাগ করেছেন। তাইতো ' ব্রেকিং নিউজ' পর্বে ৩ নম্বর কবিতায় যে দৃশ্য খুঁজে পাই:  '  ভেজা শরীর না শুকোতেই সামনে এসে দাঁড়ায় নতুন এক ক্ষুদতৃষ্ণা .../ পাপোশে ধুলো উড়তে থাকে শূন্যে নাকি ভরাটে! '
          নীলিমার কবিতায় ওপর ওপর জেল্লা কিংবা জাগলারির জমকালো দিক নেই । অথচ কবিতা সাদামাঠা নয় । কবি লিখুন । নিত্য নতুন । একদম নিজের মতো । কবি দেবযানী বসুর প্রচ্ছদ যেন প্রচ্ছদে
কবিতা লিখেছেন ।




শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২২

কিছু বই কিছু কথা - ৩০৪। নীলাঞ্জন কুমার শ্রেষ্ঠ কবিতা । নৃপেন চক্রবর্তী,Book Review

কিছু বই কিছু কথা - ৩০৪। নীলাঞ্জন কুমার




শ্রেষ্ঠ কবিতা । নৃপেন চক্রবর্তী । একুশ শতক। দুশো টাকা ।

শ্রেষ্ঠ কবিতা ব্যাপারে কবিরা বড়সড় গোল পাকায় কাকে ছেড়ে কাকে রাখব সে নিয়ে । এ বিষয়ে কবি নৃপেন চক্রবর্তী তাঁর ভূমিকায় আলোকপাত করেছেন ।
সামগ্রিকভাবে বইটি পড়ার পর বোঝা গেছে তাঁর বেশির ভাগ কবিতার ক্ষেত্রে তিনি ভুল করেননি । তবে তিনি যদি আরো কিছু কঠিন হতেন তবে শ্রেষ্ঠ কবিতার ক্ষেত্রে আরো কিছু আরো উৎকর্ষতা লাভ করতে পারত বইটির কিছু কলরব কমলেও ।
             কবি দীর্ঘদিন বাংলা কবিতার ক্ষেত্রে উজ্জ্বল নাম । তাঁর কবিতায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খুবই সাধারণ ভাষায় তীব্র ব্যন্ঞ্জনায় তিনি পাঠকের কাছে হাজির করেছেন তাঁর বেশিরভাগ কবিতা যা শেষ না করে থাকতে পারা যায় না । সে কারণে তাঁর পূর্ব প্রকাশিত দীর্ঘ ৫২ বছর বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত ৮ টি কাব্যগ্রন্থের ও ১৬ টি  অগ্রন্থিত কবিতা নিয়ে গড়ে ওঠা এই শ্রেষ্ঠ কবিতার ভেতর পেয়ে যাই:  ' ভাঙা অ্যান্টেনায় ছুঁয়ে আছে ব্যক্তিগত সুখ - / কিছু কিছু উত্তাপ ' ( ' তবুও '), ' অথচ মানুষের দু চোখে/  ইদানিং চৈত্রের উত্তাপ বড় বেশি/  কন্ঠনালীতে তৃষ্ণা,  / জিভের তলায় লোভ,  / আমার জামার পকেটে ঘোরাঘুরি করে/  প্রতারক চতুর আঙুল! ' ( ' লাল ক্যাকটাস '), ' একদল লোক ভাতের থালায়/  ঘি মাখিয়ে আওয়াজ তোলে/  একদল লোক নুন না পেয়ে/  পান্তা মাখে হাতের জলে । ' ( ' একদল লোক '),
           কবির ভেতরের ভাবনা আরো গাঢ় হয় যখন তিনি ' শব্দহীন কথোপকথন ' ( রচনাকাল ২০১১-২০১৫)  কাব্যগ্রন্থে আসেন তখন থেকে আজ পর্যন্ত যে তিনটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে তাঁর তাতে দেখা যাচ্ছে কোন কবিতা ফেলে দেবার নয় । গভীর গভীরতর কবিতার অসুখ তাঁকে ছুঁয়ে আছে বলে তিনি লিখতে পারেন:  ' এখন ধোঁয়াহীন রান্নাঘরে  / ভিন্ন ব্যান্জ্ঞনে অন্য আয়োজন, / তুমি ভালোআছো তো?' ( ' মা ' ) , ' রক্তাক্ত হাত ধুয়ে মুছে ফেলে/  একদল মানুষ/  আলোর অক্ষরে লিখে দিচ্ছে/  ভালোবাসার গান।' (' স্পর্শ করতেই'), এক টুকরো হাইফেনে/  জীবন ও মৃত্যু ঝুলে রয়েছে; / তবুও ভেতর থেকে কে যেন সাহস যোগাচ্ছে,  বুঝতে পারছি অথচ তাকে দেখতে দেখতে পাচ্ছি না আমি । ('সাহস') , ' তোমার মেটারনিটি লিভ শুরু হলে/  আমি প্রতিদিন তোমাকে ঈশ্বরচন্দ্রের বর্ণপরিচয় পড়ে শোনাবো ।' ( ' মেটারনিটি লিভ ও ঈশ্বরচন্দ্রের বর্ণপরিচয় ' ) , ' তারা অনেকেই এখন/  দিব্যি গলায় উত্তরীয় ঝুলিয়ে/  আরো বেশি বেশি করে/  কবিতা  লিখছেন ।/তবে মানুষের জন্য নয় রাজার জন্য! ' ( ' বুদ্বিজীবী')।
             কবির সম্ভবত সাম্প্রতিক অগ্রন্থিত একটি কবিতা বুঝিয়ে দেয় তিনি কি জাতের কবি । যখন পড়ি ' একজন বেঁটে ও কুঁজো হয়ে যাওয়া কবির গল্প ' তখন প্রতিবাদী সত্ত্বা তাঁর ঝিকিয়ে ওঠে ।কবির এই কবিতার প্রথম চার লাইন : ' একজন কবি হঠাৎ করেই বেঁটে ও কুঁজো হয়ে গেলেন । / রাতারাতি পিঠের ওপর বিরাট একটি কুঁজ গজিয়ে গেল ।/হাতে লাঠি নিয়ে মাথা নিচু করে/  তিনি প্রতিদিন রাজার বাড়ি হেঁটে যান ।' আজকে এক শ্রেণীর কবির চরিত্র  চিনিয়ে দেয়  । কবি এভাবে ঋজু থাকুন । এই কামনা । প্রচ্ছদ সাধারণ ।




শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২২

কিছু বই কিছু কথা - ৩০৩। নীলাঞ্জন কুমার কবিতা সমগ্র । গৌতম দাশগুপ্ত । পাঠক,Gautam Dasgupta

 কিছু বই কিছু কথা - ৩০৩। নীলাঞ্জন কুমার




কবিতা সমগ্র । গৌতম দাশগুপ্ত । পাঠক,  কলকাতা- ৯।দেড়শো টাকা ।


    ২৯১৬ সালে প্রকাশিত কবি গৌতম দাশগুপ্তের কবিতা সমগ্র নিয়ে আর এক বিশিষ্ট কবি পার্থসারথি দত্তের সঙ্গে কলকাতার ইন্ডিয়ান কফি হাউসে আলোচনা করতে গিয়ে তাঁর একটি মন্তব্য আমায় ভীষণ আকর্ষণ করে । তিনি বলেন,  'গৌতম দাশগুপ্ত এমনই কবি যিনি অতি সাধারণ এক কবিতার ভেতর কিভাবে অনবদ্য মাত্রা যোগ দেবেন তা দেবা ন জানন্তি । ' কবি গৌতম দাশগুপ্তের কবিতা সমগ্র আঁতিপাতি করে পড়ে বুঝতে পারতাম পার্থসারথি মোটেই ভুল কথা বলেননি । কারণ ' লস অ্যালামোস' নামে একটি কবিতায়  কবি গৌতম প্রচুর শব্দবন্ধনীর ভেতর দিয়ে মাঝখানে এমন একটি পংক্তি ছুঁড়ে দেন যার সামনে হাজার বছর দাঁড়িয়ে থাকতেও রাজি । পংক্তিটি:  ' অন্ধ মেয়েকে খাদের পাশে/  খেদিয়ে দিয়ে/ পঙ্গু বাপ গায় যৌনগান ' আবার ' ঝোপের ভিতর ' কবিতার শেষে মোক্ষম কথাটি বসিয়ে দেন:  ' কম্যান্ডোরা হরিণ দ্যাখাবে/  কেননা দুষ্মন্ত সেতো/  ঝোপের ভিতর ।' তাছাড়া তিনি সম্পূর্ণ আলাদা আকৃতিতে তিনি লেখেন
' সাহারান পুরের চিঠি ' তে : ' চাঁদের আলোয়/  এনভেলাপে/  তোমার আমার মধ্যে/ সেই কালপুরুষ।'
                    একথা বলা যায় প্রবীণ কবি গৌতম দাশগুপ্ত আদ্যোপান্ত এক নাগরিক কবি । দীর্ঘ জীবন দিল্লিতে বসবাস করে তিনি উপলব্ধি করেছেন মানুষের চরিত্র স্বার্থপরতা,  চাটুকারিতা,  দুর্নীতি,  লোভ,  তৃষ্ণা ।
কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে সে সব ধরতে পারেনি । আর পারেনি বলে তিনি অবলীলায় এদের বিরুদ্ধে সাহসী উচ্চারণ গড়ে তোলেন । গৌতমের কবিতায় কিছুটা পোস্টমডার্ন ও পোস্টকলোনিয়ালিজমের চরিত্র দেখা যায় । যেমন:  '  একবারই জ্বলে উঠতে দেখি/  ন্যাবা চোখে ইনসানিয়াৎ/  কার্সিনোমাইজ ও বোনম্যারোতে/ গান করে ফ্রস্টবাইট বিবেক ' ( ' একবার জ্বলে ওঠে '), আমি মুখে পেটিকোট বেঁধে  একবার পাপ্পু যাদব/  আবার বিরাপ্পনের দরজায়/  শেষে বেগুসরাই সেসনজাজের / রুল আর ইঙ্ক রক্তাক্ত গোঙাই/  আপনিই চন্ডালিকার আনন্দ/  গিভ মি মোর/  গিভ মি মোর ...' চমকে দেয় ।
           তাঁর মোট ছয়টি কাব্যগ্রন্থ নিয়ে গড়ে উঠেছে তাঁর কাব্য সমগ্র  । যা বেশ কিছু বছর আগে পর পর প্রকাশিত হয়েছে। আসলে গৌতম দাশগুপ্ত নিজেকে ভাঙতে জানেন। তা জানেন বলে যতক্ষণ না তিনি ভাঙাগড়ার ভেতর নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারছেন ততক্ষণ মানুষের কাছে কবিতাকে নিয়ে যান না । বহু কবি অনালোকিত থেকে যান ।তাদের খুঁজে বার করা একজন কবিতাপ্রেমীর ধর্ম ।গৌতম দাশগুপ্তকে খুঁড়ে খুঁড়ে দেখতে দেখতে যে মণিমুক্তো পাওয়া যায় তার কি দাম হয় ? কে বলবে?

সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

কিছু বই কিছু কথা- ৩০২। নীলাঞ্জন কুমার শ্মশান দশমী । কৌশিক মিত্র । Koushik Mitra

কিছু বই কিছু কথা- ৩০২। নীলাঞ্জন কুমার




শ্মশান দশমী । কৌশিক মিত্র । ভাষালিপি,  কলকাতা- ৯। চল্লিশ টাকা ।


অতি সম্প্রতি প্রয়াত কবি কৌশিক মিত্র বলা যায় অকালে চলে গেলেন । মৃত্যুর আগে তিনি চারটি কাব্যগ্রন্থ লিখে গেছেন । ' শ্মশান দশমী ' তাঁর প্রয়ানের পর তাঁর স্মরণসভায় এই  ক্ষীণতনু কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় । যার ভেতর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পংক্তি মগ্ন হওয়ার মতো । যেমন:  ' শোকজ্ঞাপনের কোন ভাষা আছে?  /  কোন দৃঢ়তা অটুট হয়ে থাকে? / দূর আকাশের কোনো পাখির উজানে?  ( ' তাপ') যা টাটকা শোককে জাগিয়ে তোলে ।
       সুনির্বাচিত এই কাব্য পুস্তিকায় ছড়িয়ে আছে সেই সব শব্দসমষ্টি যা অনেকাংশে আবেগী করে তোলে । যেমন ' যম' কবিতায় তিনি লিখেছেন:  ' এত যে আঁচলে  গিঁট,  রূপোর কেটলি আর সোনার চুড়িটি/  সব তাসের ঘরের মতো ভেঙে যেতে পারে । মনে হয় রোদ আর ছায়া/  সব শেষ হয়ে এলো/  এখন সন্ধ্যাকাল । '
        পুস্তিকার ১৫ টি কবিতার ভেতর পেয়ে যাই বেশির ভাগটাই মৃত্যুগন্ধ । ঘ্রাণ নিতে কষ্ট হয় । যেমন:  ' যখন একটা হু হু করা গঙ্গার পাড় ঝিম মেরে বসে থাকা শববাহকদের সাথে গভীর অন্ধকার চোরপুলিশ খেলে ।'( ' শ্মশান দশমী ')পাশাপাশি  তার বিপরীত দিকটিও আছে যা অনেক কম : ' খাঁচায় বন্দী এক বাঘিনীর বিষণ্ণ হুঙ্কারের কাছে পরাস্ত হয়েছিল আমার কৈশোর ।'('গারদ'), খুন্তির গুণে সব জল আলু মিলে মিশে থাক/  কিছুটা মাখনও তাতে নামানোর আগে যেন ফেলে দিও/ তবে লঙ্কার গুঁড়ো ঢালা বন্ধ করো না ।'
           সন্ঞ্জীব চৌধুরীর অতি সাদাসিধে প্রচ্ছদে এই 'শ্মশান দশমী ' যেন কবির মৃত্যু উপহার । পাঠকের জন্য । মানুষের জন্য । নিঃস্ব হওয়ার জন্য ।



রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২

কিছু বই কিছু কথা- ৩০১। নীলাঞ্জন কুমার সপ্তসুর । হাবিবুর রহমান

কিছু বই কিছু কথা- ৩০১। নীলাঞ্জন কুমার




সপ্তসুর । হাবিবুর রহমান ।কবিতা কুটির সাহিত্য পত্রিকা । কোচবিহার । বিনিময় দেড়শো টাকা ।


জ্ঞানতই হোক বা অজ্ঞানতই হোক কবিতা লেখক হাবিবুর রহমান তাঁর অতি সম্প্রতি প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ ' সপ্তসুর '-এর অবতরণিকায় একটি অকাট্য সত্যি লিখে ফেলেছেন তা হল:  ' আমি কবি নই কিন্তু অবশ্যই এক প্রেমী ' এখানে প্রেমী অর্থে কবিতা প্রেমী যদি ধরে নিই তবে কোচবিহারের এক অনুষ্ঠানে অতি স্বল্প আলাপে ও তার কবিতা শুনে বুঝেছি তিনি সত্যি কবিতাপ্রেমী ও বিনয়ী । একথা সত্যি কবি হয়তো সবাই হন না কিন্তু কবিতাপ্রেমীও অঙ্গুলিমেয় । তাই কবিতাপ্রেমী হিসেবে এই সত্য উচ্চারণে তাঁকে ধন্যবাদ জানাতেই হয় ।
              হাবিবুর কবিতার ক্ষেত্রে পড়ে আছেন আজ থেকে প্রায় একশো বছর আগে । তিনি এখনো কবিতাতে '  বেদনা বিধুর ' , ' খরতাপ ' ,' নাকো ' , 'পেয়ালা ' ' কৃষ্ণ শরীর ' ইত্যাদি ইত্যাদি শব্দের ছড়াছড়ি । আসলে অন্তত আজকের কবিতা হয়ে উঠতে গেলে কবিকে তাঁর শব্দ চিন্তা পাল্টাতে হবে । নাহলে ' সপ্তসুর ' -এর মতো ব্যর্থ কাব্যগ্রন্থের জন্ম হবে । এসব বলার একটাই কারণ হাবিবুর যা লিখুন তার মধ্যে চেষ্টা আছে । শুধু অভাব আছে অনুশীলন ও পাঠের । সে কারণে সামান্য হলেও রেখাপাত করে ' তোমার কন্ঠস্বর হাওয়াতে ভাসে নিশুতি রাতে,  / আমি ছুঁতে পারি না একটিবার ভালোবেসে । '  ( ' ছুঁতে পারিনি ')। তাছাড়া দু-একটি শিরোনাম স্পর্শ করে যেমন তার ভেতর একটি ' খিদের কোন রং হয় না ' । আসলে তরুণ হাবিবুর সফল হোক এই কাম্য । কারণ কবিতার প্রকৃত কবিতাপ্রেমী  তারুণ্যের আজ বড্ড অভাব । সবাই প্রতিষ্ঠা,  খ্যাতি,  মোহ, কবি সম্মেলন,  ফেসবুক , লাইক,  কমেন্টস,  নিজস্বীর পেছনে ছুটছে । প্রকৃত কবিতার পেছনে ছুটছে দেখতে গেলে দূরবীন লাগবে ।দিপালী চক্রবর্তীর কবিতার প্রচ্ছদ বিষয়ে কিৎসুই বোঝেন না । মন খারাপ করে দেয় ।

শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

কিছু বই কিছু কথা- ৩০০। নীলাঞ্জন কুমার আইল্যা পায়াস । নীহার জয়ধর, Nihar Joydhor

কিছু বই কিছু কথা- ৩০০। নীলাঞ্জন কুমার




আইল্যা পায়াস । নীহার জয়ধর ।
সুতরাং,  বাণীপুর , চব্বিশ পরগনা  ( উত্তর) । একশো ত্রিশ টাকা ।


' তারপর একদিন বিক্রি হয়ে যাই লপ্তে/ উঁচু থান নিচু মাথা / মার্কেটে,  আমার অর্জিত ইমারত ' (' উচ্চতার')
মতো কবিতা যখন কোন কবির প্রথম কবিতা গ্রন্থে পাওয়া যায় তখন তার প্রতি আকর্ষণ বাড়ে বৈকি । নীহার জয়ধরের প্রথম কাব্যগ্রন্থ  ' আইল্যা পায়াস ' -এ
ছড়িয়ে আছে এ ধরনের অনেক পংক্তি যার ভেতরে থেকে  তাঁর কবিতার প্রতি ভালো লাগা গড়ে ওঠে । তবে এ কথা বলতেই হয় কবির কবিতায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে অতিশয়োক্তি লক্ষ্য করা যায় যা কারো প্রথম কাব্যগ্রন্থে
যে কোন  কবির থাকতে পারে । কিন্তু যখন এই কবির 'কিছু  ফাটা মানুষেরা দরদাম করে নিয়ে যান ' ( ফাটা ডাল ও কপাল)  নয়তো 'অচেনা পুরুষ/  পেঁয়াজের খোসার মতো অন্তর্বাস খোলার/  অধিকার কিনে নিলে/  ভাষা,  তুমি সেই ' না ' এ লেখা অর্জিত সভ্যতা ' ( যেভাবে তোমাকে পাই)  পড়তে পড়তে সেই সব ত্রুটি বিচ্যুতি কখন যে ভুলে যাই!
                  এক কথায় বলা যায় এই কবি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় । তরুণ কবির পরবর্তী কাব্যগ্রন্থের দিকে তাকিয়ে রইলাম । কাব্যগ্রন্থের তুষার কান্তি সাহা কৃত প্রচ্ছদটি এক সাধারণ আঙ্গিকে বইটির মেজাজ ফোটাতে চেয়েছেন ।পরিশেষে নীহারের কাব্যগ্রন্থ কোনভাবে ' আইল্যা পায়াস ' ( নুনহীন পায়েস' )হয়নি ।

রবিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২২

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার ইউটিউব ও লালটিপ । প্রাণজি বসাক,Pranji Basak

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার 




ইউটিউব ও  লালটিপ । প্রাণজি বসাক । লিপি , পূর্ব মেদিনীপুর । একশো কুড়ি টাকা ।


কবি প্রাণজি বসাকের একুশ তম কাব্যগ্রন্থ ' ইউটিউব ও  লালটিপ ' -এ  কবি রবীন্দ্র গুহের ভূমিকায় এক অমোঘ সত্য উচ্চারিত হল,  'জীবনের জ্বালা জুড়োনো মলম মানেই কবিতা । ' প্রাণজির ইদানিং কবিতার ভেতরে এক আলাদা অনুভব কাজ করছে । যেমন ' এভাবে যেতে নেই রূপের অক্ষর ফেলে/  যদি যেতে চাও যাও ব্যক্তিগত উচাটন ভুলে ' ( ' রূপের অক্ষর '),' ভাষার প্রশ্রয়ে বেড়ে ওঠে কবিতার শরীর/  সারাদিন শব্দমালা ঘোরে অবাধ আনন্দে ' ( ' ভাষার স্রোত ' ) এর লাইন গুলি কবির অতীতের অনেকগুলি কাব্যগ্রন্থ পড়ে ফেলার ফলের কাব্যধারার কিছুটা নতুনত্ব খুঁজেপাই।
                ইদানিংকালের কবিতার ভেতরে প্রাণজি- র
কবিতায় অতীতের পোস্টমডার্নিজম- এর চিহ্নগুলি বেশ খানিকটা অন্তর্হিত হয়েছে । এসেছে নিজস্ব বোধ ধারা আর সেই ধারার ওপর দাঁড়িয়ে তিনি অক্লেশে লিখে দিতে পারেন : ' নাঙ্গা শরীরে শুয়ে আছে মরমিয়া পথ ' ( ' আজকাল সাময়িকী' ) , ' অতঃপর দুজনে ডিলিট করি/  মধ্যবর্তী অনুষঙ্গ/  অস্তিত্ব বোধ আর একাকীত্ব ' ( ' একাকীত্ব ') এর মতো উচ্চারণ।
             একথা সত্য প্রাণজির কবিতায় সৌন্দর্য সৃষ্টির নেশা আছে । এর জন্য তাঁর ভেতরে এক বিশেষ যন্ত্রণা কাজ করে । সেই যন্ত্রণা থেকে উৎপত্তি হয় তাঁর  লাইনগুলি : ' বুকের বকুলগুলো আজও বাতাসের / কানে কানে তোমাবই বেত্তান্ত শোনায় ' ( মহাপর্ব পাঁচালি) , ' তোমার চোখে ঢাউস উপন্যাস/  আমার চোখে আগুন ' ( ' সহজাত ' ), 'আলমারির সেফভল্টে জমা হয়/  কিছুটা  অন্ধকার কিছুটা সন্ঞ্চয় সুখ ' ( ' একদিন অন্যদিন ' ) , ' কী বোর্ডে টিপে টিপে আক্ষেপ রচিত হয় ' ( ' রেখাপাত ' ) ইত্যাদি ইত্যাদি ।
                এক কথাতে বলা যেতে পারে প্রাণজি ক্রমশ গভীর ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছেন । আর হচ্ছেন বলে তাঁর কবিতার প্রতি আকর্ষণ বাড়ছে ও যথেষ্ট সময় নিয়ে পড়ার ইচ্ছে জাগছে । শ্যামল জানার প্রচ্ছদ তাঁর বিভিন্ন প্রচ্ছদের মতো ভালো লাগায় । এক কথায় সহজ ইমেজারিতে তিনি কাব্যগ্রন্থের মেজাজ পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন ।

মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট, ২০২২

কিছু বই কিছু কথা-২৯৮ । নীলাঞ্জন কুমার জলের তরঙ্গ তরঙ্গের জল । গৌতম দাশগুপ্ত । দিল্লি হাটার্স ,Gautam Dasgupta

কিছু বই কিছু কথা-২৯৮ । নীলাঞ্জন কুমার



জলের তরঙ্গ তরঙ্গের জল । গৌতম দাশগুপ্ত । দিল্লি হাটার্স । একশো টাকা ।



কবি গৌতম দাশগুপ্ত- র অতি সাম্প্রতিক ক্ষীণতনু কাব্যগ্রন্থটি পড়তে পড়তে বিশেষ করে একটি কথা মনে আসে,  তিনি কত সহজে অতি সাধারণ কথাবার্তার মাধ্যমে গোটা কবিতার ভেতরে কি আশ্চর্যভাবে জুড়ে দেন সেই সব অমোঘ শব্দ সমষ্টি যা হৃদয় দুলিয়ে ছাড়ে । যেমন: ' শাখারভের হাইড্রোজেন বোমের/  স্বপ্ন দেখতে দেখতে/ কুচি ট্যানেলে/  ভিয়েতকং- এর স্বপ্ন দেখতে দেখতে/  একদিন ঘুমিয়ে পড়ল/ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ' ( ' একদিন ঘুমিয়ে পড়ল ') , ' ভোর হতে না হতেই/  পাঁক থেকে পাঁকাল মাছ/  লাফিয়ে পড়ল শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃতে ' ( ' জ্যান্ত দুর্গা ') , শুধু অযুত নিয়ে/  ফ্রিজে টাটকা সব্জির মতন/ আজও তার মাথা কাজ করে । ' ইত্যাদি ইত্যাদি ।
এ কবির নাতিদীর্ঘ কবিতাগুলোর ভেতর যে শব্দবন্ধগুলি তিনি ব্যবহার করেছেন তা বলা যেতে পারে দক্ষতার গুণে । ফলে আলাদা করে পংক্তি খুঁজে তার  বিশ্লেষণ করার বিশেষ প্রয়োজন না থাকলেও আলোচনা স্বার্থে তা করতে হয় ।তাঁর কবিতার ভেতরে সামাজিক বিরূপতা,  ক্রোধ,  ক্ষোভ ইত্যাদি যেভাবে তিনি এনেছেন, তা বড় সহজ করে যেন হাসতে হাসতে তিনি বলছেন :  ' আজ পেট্রল বলছেন/  কাল ডিজেল বলবেন/  জ্বালানি কিছু জ্বালানিই দেখবেন/  সব কিছু জ্বলে উঠলে/  আর কলম খুঁজবেন না । ' ( ' কলম খুঁজবেন না '), 'প্রগতির নগররক্ষকের/  চিদাকাশ জুড়ে আইটেম বালিকা/ এখন মরে হেজে ভূত হয়ে যাওয়া/  বরাক চতুর্দশীর কমলা । ' ( ' কমলা ')।
দীর্ঘদিনের দিল্লি প্রবাসী এই কবি বাংলা সংস্কৃতির বাইরে থেকে যেভাবে নিজেকে বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত রাখতে পেরেছেন তার জন্য তিনি ধন্যবাদার্হ ।কবিতা তাঁর আকর্ষণ করলেও কবিকৃত প্রচ্ছদটি দাগ কাটলো না ।

শনিবার, ৬ আগস্ট, ২০২২

কিছু বই কিছু কথা - ২৯৭ । নীলাঞ্জন কুমার নোনা বাতাসের রং। দীপঙ্কর সরকার, Dipankar Sarkar

কিছু বই কিছু কথা - ২৯৭ । নীলাঞ্জন কুমার



নোনা বাতাসের রং। দীপঙ্কর সরকার । পাঠক । কলকাতা- ৯। আশি টাকা ।


' বস্তুত যেখানেই যাই না কেন/  যা কিছুই লিখে থাকি সবেতেই/  ছুঁয়ে থাকে সময়ের হাত । ' নয়তো ' আগুনের  ভাষা লেখা হবে এই পড়ন্ত/  বিকেলে,  অলুক বহুব্রীহি সমাসের মতো/  নির্লিপ্ত থাকবে তার সকল ঠিকানা ' -র মতো পংক্তি পড়ে যে কোন কবিতার পাঠক বুঝতেই পারবেন যে কবি দীপঙ্কর সরকারের ভেতর কবিতা গড়ে উঠেছে । তবে কাব্যগ্রন্থের অতি সামান্য কিছু কবিতায় ছড়ানো ছেটানো আছে তাঁর নিম্নগ্রামের আকর্ষণী উচ্চারণ যা কবিতাপ্রেমী পাঠককে তন্নিষ্ঠ করবে ।
               বছর ছয়েক আগে  ( ২০১৬ সালে)  প্রকাশিত এই কাব্যগ্রন্থে কবি তাঁর নিজস্ব ভাষা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন । কিন্তু প্রকৃত অর্থে এখনো সফলতা পাননি । কিছু অহেতুক পংক্তি যা পাঠককে বোঝানোর তাগিদে লেখা হয়েছে তা না লিখলেও চলতো,  কারণ রহস্য ফুটে ওঠেনি । কবি সময়কে ছুঁতে চেয়েছেন তাঁর মতো করে কিন্তু তা ছুঁতে গেলে কবিকে আরো কুশলী হতে হবে ও কবিতা সাধনার জায়গায় আনতে হবে তা কবির বোঝা উচিত ।
            একথা সত্যি যে কবির দশটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হওয়ার পরে এই গ্রন্থের বহুলাংশ কোনভাবে আগ্রহ আনেনা । উক্ত দুটি পংক্তি ছাড়া বইটির আদ্যোপান্ত পড়ে তেমন জুতসই পংক্তির সন্ধানও পাওয়া গেল না ।এটি বড় দুঃখের বিষয় । ফলে কাব্যগ্রন্থটি বড় একঘেয়ে হয়ে গেছে ।দেবাশিস সাহার প্রচ্ছদ যথা যথা ।

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...