গৌতম দাশগুপ্ত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গৌতম দাশগুপ্ত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২২

কিছু বই কিছু কথা - ৩০৩। নীলাঞ্জন কুমার কবিতা সমগ্র । গৌতম দাশগুপ্ত । পাঠক,Gautam Dasgupta

 কিছু বই কিছু কথা - ৩০৩। নীলাঞ্জন কুমার




কবিতা সমগ্র । গৌতম দাশগুপ্ত । পাঠক,  কলকাতা- ৯।দেড়শো টাকা ।


    ২৯১৬ সালে প্রকাশিত কবি গৌতম দাশগুপ্তের কবিতা সমগ্র নিয়ে আর এক বিশিষ্ট কবি পার্থসারথি দত্তের সঙ্গে কলকাতার ইন্ডিয়ান কফি হাউসে আলোচনা করতে গিয়ে তাঁর একটি মন্তব্য আমায় ভীষণ আকর্ষণ করে । তিনি বলেন,  'গৌতম দাশগুপ্ত এমনই কবি যিনি অতি সাধারণ এক কবিতার ভেতর কিভাবে অনবদ্য মাত্রা যোগ দেবেন তা দেবা ন জানন্তি । ' কবি গৌতম দাশগুপ্তের কবিতা সমগ্র আঁতিপাতি করে পড়ে বুঝতে পারতাম পার্থসারথি মোটেই ভুল কথা বলেননি । কারণ ' লস অ্যালামোস' নামে একটি কবিতায়  কবি গৌতম প্রচুর শব্দবন্ধনীর ভেতর দিয়ে মাঝখানে এমন একটি পংক্তি ছুঁড়ে দেন যার সামনে হাজার বছর দাঁড়িয়ে থাকতেও রাজি । পংক্তিটি:  ' অন্ধ মেয়েকে খাদের পাশে/  খেদিয়ে দিয়ে/ পঙ্গু বাপ গায় যৌনগান ' আবার ' ঝোপের ভিতর ' কবিতার শেষে মোক্ষম কথাটি বসিয়ে দেন:  ' কম্যান্ডোরা হরিণ দ্যাখাবে/  কেননা দুষ্মন্ত সেতো/  ঝোপের ভিতর ।' তাছাড়া তিনি সম্পূর্ণ আলাদা আকৃতিতে তিনি লেখেন
' সাহারান পুরের চিঠি ' তে : ' চাঁদের আলোয়/  এনভেলাপে/  তোমার আমার মধ্যে/ সেই কালপুরুষ।'
                    একথা বলা যায় প্রবীণ কবি গৌতম দাশগুপ্ত আদ্যোপান্ত এক নাগরিক কবি । দীর্ঘ জীবন দিল্লিতে বসবাস করে তিনি উপলব্ধি করেছেন মানুষের চরিত্র স্বার্থপরতা,  চাটুকারিতা,  দুর্নীতি,  লোভ,  তৃষ্ণা ।
কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে সে সব ধরতে পারেনি । আর পারেনি বলে তিনি অবলীলায় এদের বিরুদ্ধে সাহসী উচ্চারণ গড়ে তোলেন । গৌতমের কবিতায় কিছুটা পোস্টমডার্ন ও পোস্টকলোনিয়ালিজমের চরিত্র দেখা যায় । যেমন:  '  একবারই জ্বলে উঠতে দেখি/  ন্যাবা চোখে ইনসানিয়াৎ/  কার্সিনোমাইজ ও বোনম্যারোতে/ গান করে ফ্রস্টবাইট বিবেক ' ( ' একবার জ্বলে ওঠে '), আমি মুখে পেটিকোট বেঁধে  একবার পাপ্পু যাদব/  আবার বিরাপ্পনের দরজায়/  শেষে বেগুসরাই সেসনজাজের / রুল আর ইঙ্ক রক্তাক্ত গোঙাই/  আপনিই চন্ডালিকার আনন্দ/  গিভ মি মোর/  গিভ মি মোর ...' চমকে দেয় ।
           তাঁর মোট ছয়টি কাব্যগ্রন্থ নিয়ে গড়ে উঠেছে তাঁর কাব্য সমগ্র  । যা বেশ কিছু বছর আগে পর পর প্রকাশিত হয়েছে। আসলে গৌতম দাশগুপ্ত নিজেকে ভাঙতে জানেন। তা জানেন বলে যতক্ষণ না তিনি ভাঙাগড়ার ভেতর নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারছেন ততক্ষণ মানুষের কাছে কবিতাকে নিয়ে যান না । বহু কবি অনালোকিত থেকে যান ।তাদের খুঁজে বার করা একজন কবিতাপ্রেমীর ধর্ম ।গৌতম দাশগুপ্তকে খুঁড়ে খুঁড়ে দেখতে দেখতে যে মণিমুক্তো পাওয়া যায় তার কি দাম হয় ? কে বলবে?

মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট, ২০২২

কিছু বই কিছু কথা-২৯৮ । নীলাঞ্জন কুমার জলের তরঙ্গ তরঙ্গের জল । গৌতম দাশগুপ্ত । দিল্লি হাটার্স ,Gautam Dasgupta

কিছু বই কিছু কথা-২৯৮ । নীলাঞ্জন কুমার



জলের তরঙ্গ তরঙ্গের জল । গৌতম দাশগুপ্ত । দিল্লি হাটার্স । একশো টাকা ।



কবি গৌতম দাশগুপ্ত- র অতি সাম্প্রতিক ক্ষীণতনু কাব্যগ্রন্থটি পড়তে পড়তে বিশেষ করে একটি কথা মনে আসে,  তিনি কত সহজে অতি সাধারণ কথাবার্তার মাধ্যমে গোটা কবিতার ভেতরে কি আশ্চর্যভাবে জুড়ে দেন সেই সব অমোঘ শব্দ সমষ্টি যা হৃদয় দুলিয়ে ছাড়ে । যেমন: ' শাখারভের হাইড্রোজেন বোমের/  স্বপ্ন দেখতে দেখতে/ কুচি ট্যানেলে/  ভিয়েতকং- এর স্বপ্ন দেখতে দেখতে/  একদিন ঘুমিয়ে পড়ল/ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ' ( ' একদিন ঘুমিয়ে পড়ল ') , ' ভোর হতে না হতেই/  পাঁক থেকে পাঁকাল মাছ/  লাফিয়ে পড়ল শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃতে ' ( ' জ্যান্ত দুর্গা ') , শুধু অযুত নিয়ে/  ফ্রিজে টাটকা সব্জির মতন/ আজও তার মাথা কাজ করে । ' ইত্যাদি ইত্যাদি ।
এ কবির নাতিদীর্ঘ কবিতাগুলোর ভেতর যে শব্দবন্ধগুলি তিনি ব্যবহার করেছেন তা বলা যেতে পারে দক্ষতার গুণে । ফলে আলাদা করে পংক্তি খুঁজে তার  বিশ্লেষণ করার বিশেষ প্রয়োজন না থাকলেও আলোচনা স্বার্থে তা করতে হয় ।তাঁর কবিতার ভেতরে সামাজিক বিরূপতা,  ক্রোধ,  ক্ষোভ ইত্যাদি যেভাবে তিনি এনেছেন, তা বড় সহজ করে যেন হাসতে হাসতে তিনি বলছেন :  ' আজ পেট্রল বলছেন/  কাল ডিজেল বলবেন/  জ্বালানি কিছু জ্বালানিই দেখবেন/  সব কিছু জ্বলে উঠলে/  আর কলম খুঁজবেন না । ' ( ' কলম খুঁজবেন না '), 'প্রগতির নগররক্ষকের/  চিদাকাশ জুড়ে আইটেম বালিকা/ এখন মরে হেজে ভূত হয়ে যাওয়া/  বরাক চতুর্দশীর কমলা । ' ( ' কমলা ')।
দীর্ঘদিনের দিল্লি প্রবাসী এই কবি বাংলা সংস্কৃতির বাইরে থেকে যেভাবে নিজেকে বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত রাখতে পেরেছেন তার জন্য তিনি ধন্যবাদার্হ ।কবিতা তাঁর আকর্ষণ করলেও কবিকৃত প্রচ্ছদটি দাগ কাটলো না ।

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...