গ্রিসের কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গ্রিসের কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০

গ্রিসের নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || পানাগিয়োটিস জানেটাটোস-এর কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা
 রুদ্র কিংশুক 
পানাগিয়োটিস  জানেটাটোস-এর কবিতা


পানাগিয়োটিস জানেটাটোস (Panagiotis Tzannetatos, 1989)  জন্মেছেন গ্রিসের সেফালোনিয়া দ্বীপে।  তিনি পড়াশোনা তিনি পড়াশোনা করেছেন ট্যুরিজিম বিজনেস এবং ইউরোপীয় সংস্কৃতির ইতিহাস বিষয়ে।  ২০১১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ পোয়েমস, ২০১৫- তে প্রকাশিত হয় দ‍্য এজ অব পিপল, ২০১৮-তে প্রকাশিত হয় তাঁর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ। খবরের কাগজ ও অনলাইন পত্রিকায় তিনি লেখেন কবিতা ও প্রবন্ধ।  ইংরেজি স্প্যানিশ ও ফরাসি সহ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত ও প্রকাশিত হয়েছে তাঁর কবিতা। তাঁর কবিতা বাংলা ভাষায় এর আগে অনুবাদ  ক‍রেছেন  কবি উজ্জ্বল ঘোষ।

প্রতিবিম্বন
এই সন্ধ্যাও উড়েছিল,
 অনিমন্ত্রিত যখন সে এসেছিল।
 স্মৃতি যা বয়ে আনে সবই অনাহূত,
সময় যা তুমি মনে রাখতে চাও না।
 এখন যখন আলো কমে এসেছে
 অন্ধকারের ভেতরেও আমি পরিষ্কার দেখছি রাস্তার অই দিকের সমস্ত দাগ।
 এই শরীরে থাকা পূর্বেকার প্রতিবিম্বন
সময় যার দিকে আমি তাকাতে সাহস করেছিলাম
 ছায়া ও তাদের নাচ
 দেয়ালের ও আয়নার উপর ।
আর তখন আবার আমি দেখলাম মানুষ
কীভাবে বদলায় নিজেকে অন্ধকারে
 স্বপ্ন দেখতে দেখতে।
 আর তখন আবার একবার আমি দেখলাম অনাহূত স্মৃতি নিজেই ফিরছে বর্তমানে।
প্রতিশোধ নিতে সেই সমস্ত স্বপ্নের উপর
যারা বেঁচে উঠতে পারেনি।

২.
রাতের জীবন ছিল স্বর্গে

আমি একটা ছোট বেসমেন্ট ভাড়া করেছি,
 আকাশের সঙ্গে বিছানা পাতবো বলে,
কারণ আকাশ ছাড়া কে আর রাতের বেলা
 শান্তিতে ঘুমাতে পারে ।
বছরের এই সময় জানালার বাইরে পারিজাত গোলাপ ফোটে
 জানালার বাইরে ।
 ভালোবাসা জন্ম নেয়
 ভালোবাসা মরে যায়
যেমন করে পরগাছা যা জন্মায় স্বাস্থবান  শিকড়ের উপর ।
কার আর ক্ষমতা আছে হাত দিয়ে এইসব কিছু তুলে ধরার
শব্দকে অন্ধকারে  নিরাবরণ মনে হয়।
 যখনই তুমি তাদের স্পর্শ করতে চেষ্টা করো
দাগ থেকে যায় পিছনে।
 আমি দরজা খুলি চলে যেতে দিই
সমান দূরত্ব দিয়ে যা আমাদের জুড়ে রাখে।
 একটা কংক্রিট দেওয়াল পিছনে উঠে
যা আলাদা করে দেয় আবেগকে পাপের ভিতর থেকে
ঈশ্বর ও মানুষের, একই  শরীরছ তারা বসবাস করার আগে
 দিনের শেষে  ভয় ফিরে আসে ভালোবাসার কাছে
কারণ এই জগৎ পরিবর্তনশীল আর রাত্রির সবকিছু,  যার প্রয়োজন হয়।

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০

গ্রিসের নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || ইয়ানিস লিভাদাস-এর কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক
  ইয়ানিস লিভাদাস-এর কবিতা


ইয়ানিস লিভাদাস (Yannis Livadas, 1969) গ্রিসের নিরীক্ষামূলক কবিতার অন্যতম পথিকৃৎ। ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি সনেটের এক নতুন  আঙ্গিক 'ফিউশন-সনেট- এর উদ্ভাবন করেন। তাঁর কবিতার নতুন প্রকরণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন 'অর্গানিক এন্টিমেটাথিসিস' (organic antimetathesis) যে ভাবনার ভেতর গঠনগত বৈপরীত্য,  বাক‍্যবিন‍্যাসের তুলনা এবং অর্থের অনির্দিষ্টতা-বোধের সমন্বয় ঘটেছে। তাঁর কবিতা যথার্থ অর্থেই পোস্টমডার্ন টেক্সট যাদের অর্থ সর্বদাই বহুকেন্দ্রিক ইশারা উৎসাহিত।

১.
সমন্বয়


দুইটি অস্তিত্বের মধ্যবর্তী সম্পর্ক:
 তাদের ভেতরে সেই শূন্যতার পিছলে পড়া

 জানালাগুলোর মধ্যে দিয়ে তুমি দেখো 
আত্মার শার্সিগুলোকে।

সব কিছু   সাধারণ  কঠিন হয়ে ওঠে।

২.
আমার হাড়গোড়গুলো আমার সমাধির স‍্যুপে

আমি সব চেয়ারেই বসি 
কারণ উপযুক্ত কোন জায়গা নেই
 শিল্পের জন্য 
যা প্রতিষ্ঠিত
২০০৮,২০১১ অথবা ২০১২তে;

শুকিয়ে ওঠা আমার জামা থেকে ঝরা  জলফোঁটা।

 সন্ত জেনেভিয়েভের সুর।

 আমার নির্মম মাথা হেফাজত হিসাবে মঞ্জুর
 আত্মার নির্দেশ দ্বারা।

 কী ভয়ানক অভিজ্ঞতা;

আমার হাড়গোড় স‍্যুপের ভেতর 
কবরের ভেতরের 
কাদা সহ।

৩.
বলেছিলাম যার প্রতীক আমরা 

বাক্যের শব্দটি
 যা সব কিছুর সমাধান কিছুর সমাধান 
আছে সেখানে

 যথেষ্ট অনভিপ্রেত 
যথেষ্ট সমাপ্তি হিসাবে 
যদিও সম্পূর্ণতায়
 সমন্বিত কিনা

 বিরক্তিতে 

ধ্বংস করে স্থৈর্য 
একদা বলা হতো
 যার প্রতীক আমরা।

শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২০

গ্রিসের নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || এলেনা পলিগেনি-র কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক
এলেনা পলিগেনি-র কবিতা


এলেনা পলিগেনি (Elena Polygeni, 1979)- র জন্ম গ্রিসের পাট্রাস শহরে। তিনি একজন কবি, অভিনেত্রী এবং সংগীতজ্ঞা। এ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে তাঁর চারটি কাব্যগ্রন্থ:

 লেটার্স অন আ ব্ল্যাকবোর্ড ২০০৯
 মাই সরো ইজ আ ওমেন ২০১২
দ্য ল্যান্ড অব প্যারাডাক্সিকাল থিংকজ ২০১৪
সেকেন্ড অব   এলাইভ মোমেন্টস ২০১৭

তাঁর কবিতা সুইডিশ ও ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।


১.
স্বর্গ অপার্থিব শরীরের সমান অদৃষ্ট

 আমরা সবাই নিজেদেরই চারপাশে ঘুরপাক খাই ভাস্বর শরীরের মতো। আমাদের কেন্দ্রীয় অক্ষ আলাদা করে দেয় প্রয়োজন থেকে আকাঙ্ক্ষাকে এবং তখনও শান্তি ভিক্ষা করে। আমাদের অন্যান্য গ্রহগুলো আমাদের কাছে অপরিচিত। তাদের নিজেদের দুর্ভাগ্যের চারদিকে ঘুরপাক খাওয়া, তাদের নিঃসঙ্গতা। বাকিটা সহজভাবে উজ্জ্বল আলো।  পার্থিবতার হাতের স্পর্শে সবকিছুই এক, কিছু আগের, দমবন্ধ শয়তানিভাবে। মন লাভ করে বাহ্যিক সংকেত, যা সে পুনরায় চালনা করে আগ্রহসহ। অভ্যাসমতোই পাল্টে ফেলে প্রতীকে। সবকিছু বাঁচার ক্লান্তিতে ভরে ওঠে,  তবুও মৃত্যুকে ভয় পায়। জলের নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ আমাদের মনে করায় অস্তিত্বের ঋণ, যার কাছে কয়েকটা ব্যতিক্রম অগ্রহণযোগ্য বিবেচিত। কক্ষটি বৃত্তাকার, তা কখনোই কেউ এড়িয়ে যায় না, প্রস্থানবিন্দুতে আবার প্রত্যাবর্তন; আর সেখানে এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটে না।

২.
বিজয়ের গান

সব স্থানে সব দেশে আর সব বাড়িতে সব যুগ ধরে আর সব চুম্বনে আর টেবিলে আর চিতা প্রজ্জ্বলনে আর আলোকোজ্জ্বলতার নিচে আর পর্দার পিছনে আর লেপের তলায় আর ছদ্মবেশের আড়ালে আর শ‍্যাম্পেন পানে আর গানের ভেতর আর গাড়ির ভেতর আর ঝকমকে বিজ্ঞাপনের নিচে আর রুফটপে আর বাইরের ব্যালকনিতে আর তাঁবুর ভেতরে আর হাসির ভেঙে পড়ায় আর যুদ্ধ লাগানোয় আর আইন ভাঙায় আর জনগণের উপর আর রক্তদাগে থুতু ছিটানোয় আর সমাধান আবিষ্কারে আর উন্নয়ন ও উতপ্ত শব্দের ভাগাভাগিতে আর বিছানার উপর আর ক্লান্ত ঠোঁটে আর গাড়িঘোড়ার ভেতর আর প্রাসাদ নির্মাণে আর কার্পেটের উপর আর স্কুলে আর জাহাজে আর রাকেট আঁকড়ে ধরায়  আর সীমাবদ্ধতা দেখানোয়, হাতে হাতে, আর জয়গীতিতে আর আহত মাথায় আর সমস্ত গলিতে আর শহরের সমস্ত স্কোয়ারে, রাতে ও দিনে,  ভেলভেটের ভেতর, যন্ত্রণা সজ্জিত আরেকটি নতুন করাসহ, প্রতিশ্রুতি আহ্বান করে, নতুন কাদায় আর এক নতুন করাতসহ,  গৌরবে হেটে যায় আর সমস্ত গোপন স্থানে, দুঃখকে ডাকে আর শব্দের দূরে দুঃখের বাইরে আর শীতের দূরে

সর্বদা

সর্বদা

ঘাতকেরা

 উৎসব করে।

শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২০

গ্রিসের নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || ভাসিলিস আমানাটিডিস-এর কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক 
ভাসিলিস আমানাটিডিস-এর কবিতা


ভাসিলিস আমানাটিডিস (Vassilis Amanatidis, 1970)-এর জন্ম উত্তর-গ্রিসের এদেসা শহরে। তিনি বড়ো হয়ে উঠেছেন থেসালোনিকি শহরে যেখানে তিনি বর্তমানে থাকেন। অ্যারিস্টোটল ইউনিভার্সিটি অব থেসালোনিকি থেকে তিনি পাঠ নিয়েছেন নিয়েছেন ইতিহাস এবং পুরাতত্ত্ব বিষয়ে।  তিনি থেসালোনিকি সেন্টার অফ কন্তেম্পরারি আর্ট আর্ট আর্ট  প্রতিষ্ঠানে আর্ট কিউরেটর হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি একজন দক্ষ অনুবাদক । ই ই কামিংস, জয়েস ক‍্যারল  ওটস প্রমূখ প্রখ্যাত লেখকদের রচনা তিনি অনুবাদ করেছেন গ্রিক ভাষায়। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা সাত। তাঁর কবিতা এবং ছোটগল্প বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং আমেরিকা, কানাডা, ইংল্যান্ড, সুইডেন, ইতালি এবং রাশিয়ার বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও কোন সংকলনে প্রকাশিত প্রকাশিত হয়েছে।

১.
তারা নতুন মৌ-কুঠুরি বানাচ্ছে

 কেউ না লক্ষ্য করে পারবে না না পারবে না না না লক্ষ্য করে পারবে না না পারবে না না না
 যে যখন মৌমাছিরা পোড়ে
 তারা হয়ে ওঠে নরম লাল ভেলভেটের মত
 ভঙ্গুর যেন নীল চোখের খোলা তারা
 আর তারপর তারা মরে

 আগুন আসার আগে
যা গলিয়ে দেয় মৌ-কুঠুরি
এবং মৌচাকের শেষ স্বপ্নগুলির উত্তোলন। প্রকৃতপক্ষে মুহূর্তের জন্য, বাতাসে
 মৃদু আলোড়ন
যখন তারা বাষ্পীভূত হয়।
 আর যেহেতু মৌমাছিদের স্বপ্নে
 ফুলের সৌরভ
বহুক্ষণ পরেও
পরবর্তী চাকের বৃথা চেষ্টা
 বাগানের কোনো
উঁচু স্থানে।

২.
অসম্ভব কবিতা

 একটা পাখি আছে যে
রাতের বেলা গাছের ওপর বসে ঘুমাবে না না বসে ঘুমাবে না না বসে ঘুমাবে না গাছের ওপর বসে ঘুমাবে না না বসে ঘুমাবে না না বসে ঘুমাবে না
 ডানা ভাঁজকরা, নিশ্চল
সে ঘুমায় শূন্যে

কেউ তাকে ধরে রাখে না উচ্চতায়

 দিনের বেলার উড়ান তাকে ক্লান্ত করে
সে ডানা ঝাপটায় কারণ
পায়ের অভাব, অপরিণত
কীভাবে সে জানবে অন্যেরা মাটি স্পর্শ করে
 এভাবেই সে ডানা ঝাপটায়

 কিন্তু রাতের বেলা শান্ত হয়ে
সে ঘুমায় লম্বভাবে
একটা ছোট্ট সোজা কফিন
মাটির স্পর্শ না করেই তুমি এমনকি বলতে পারো
 সে শুয়ে আছে

দিনের বেলা সে আবার উড়ান দেয়
ভাসিলিস আমানাটিডিস (Vassilis Amanatidis, 1970)-এর জন্ম উত্তর-গ্রিসের এদেসা শহরে। তিনি বড়ো হয়ে উঠেছেন থেসালোনিকি শহরে যেখানে তিনি বর্তমানে থাকেন। অ্যারিস্টোটল ইউনিভার্সিটি অব থেসালোনিকি থেকে তিনি পাঠ নিয়েছেন নিয়েছেন ইতিহাস এবং পুরাতত্ত্ব বিষয়ে।  তিনি থেসালোনিকি সেন্টার অফ কন্তেম্পরারি আর্ট আর্ট আর্ট  প্রতিষ্ঠানে আর্ট কিউরেটর হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি একজন দক্ষ অনুবাদক । ই ই কামিংস, জয়েস ক‍্যারল  ওটস প্রমূখ প্রখ্যাত লেখকদের রচনা তিনি অনুবাদ করেছেন গ্রিক ভাষায়। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা সাত। তাঁর কবিতা এবং ছোটগল্প বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং আমেরিকা, কানাডা, ইংল্যান্ড, সুইডেন, ইতালি এবং রাশিয়ার বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও কোন সংকলনে প্রকাশিত প্রকাশিত হয়েছে।

১.
তারা নতুন মৌ-কুঠুরি বানাচ্ছে

 কেউ না লক্ষ্য করে পারবে না না পারবে না না না লক্ষ্য করে পারবে না না পারবে না না না
 যে যখন মৌমাছিরা পোড়ে
 তারা হয়ে ওঠে নরম লাল ভেলভেটের মত
 ভঙ্গুর যেন নীল চোখের খোলা তারা
 আর তারপর তারা মরে

 আগুন আসার আগে
যা গলিয়ে দেয় মৌ-কুঠুরি
এবং মৌচাকের শেষ স্বপ্নগুলির উত্তোলন। প্রকৃতপক্ষে মুহূর্তের জন্য, বাতাসে
 মৃদু আলোড়ন
যখন তারা বাষ্পীভূত হয়।
 আর যেহেতু মৌমাছিদের স্বপ্নে
 ফুলের সৌরভ
বহুক্ষণ পরেও
পরবর্তী চাকের বৃথা চেষ্টা
 বাগানের কোনো
উঁচু স্থানে।

২.
অসম্ভব কবিতা

 একটা পাখি আছে যে
রাতের বেলা গাছের ওপর বসে ঘুমাবে না না বসে ঘুমাবে না না বসে ঘুমাবে না গাছের ওপর বসে ঘুমাবে না না বসে ঘুমাবে না না বসে ঘুমাবে না
 ডানা ভাঁজকরা, নিশ্চল
সে ঘুমায় শূন্যে

কেউ তাকে ধরে রাখে না উচ্চতায়

 দিনের বেলার উড়ান তাকে ক্লান্ত করে
সে ডানা ঝাপটায় কারণ
পায়ের অভাব, অপরিণত
কীভাবে সে জানবে অন্যেরা মাটি স্পর্শ করে
 এভাবেই সে ডানা ঝাপটায়

 কিন্তু রাতের বেলা শান্ত হয়ে
সে ঘুমায় লম্বভাবে
একটা ছোট্ট সোজা কফিন
মাটির স্পর্শ না করেই তুমি এমনকি বলতে পারো
 সে শুয়ে আছে

দিনের বেলা সে আবার উড়ান দেয়

রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২০

গ্রিসের নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || আঞ্জেলিকি সিগোরু-র কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক 
আঞ্জেলিকি সিগোরু-র কবিতা


আঞ্জেলিকি সিগোরু (Angeliki Sigourou, 1973)-র  জন্ম আথেন্সে। তাঁর লেখাপড়ার বিষয় ফরাসি ভাষা ও সাহিত্য। এছাড়া তিনি চর্চা করেছেন আধুনিক এবং ধ্রুপদী নৃত্য।  ফরাসি এবং অ্যারাবিক ভাষা থেকে তিনি গ্রিক ভাষায় অনুবাদ করেছেন বিপুল পরিমাণ সাহিত্য। মাহমুদ দারউইস এবং নাগিব মাহফুজের লেখা তাঁর লেখা তাঁর মাহফুজের লেখা তাঁর লেখা তাঁর অনুবাদে গ্রিক পাঠকদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত। বর্তমানে তিনি গ্রিক দ্বীপ সাইরসের বাসিন্দা।  তিনি আধুনিক নৃত্যের শিক্ষক হিসেবেও কাজ করে চলেছেন। তাঁর প্রতিষ্টিত নৃত্য সংগঠনের নাম আক্রপোদিতি।

১. রঙগুলি

এবং রঙগুলি এসেছিল। আগে তাদের অস্তিত্ব
 ছিল না। আর আমরা
তাদের বিশ্বাস করতাম
 তাদের চূড়ান্ততা  আর বৈপরীত্যে
সমস্ত রঙের সম্মিলনে এবং আলাদাভাবে প্রত্যেককেই
 আমরা বিশ্বাস করি

 রঙের মেঘ
সমুদ্র
গাছ
রক্ত
সূর্য
দিনের আকাশ
 রাতের আকাশ
কাঠ
জল
মাটি
আগুন

এজগতের সাফল্য
             তার পছন্দ করা গভীরের রঙ
 মহান গভীরের রঙ
     যদিও উপরে আকাশ নীল আর লাল
আর হয়তো এখানে সেখানে  সবজে সোনালী
 তাই গভীর পাপ নীরবে বাড়ে বাড়ে
 যাতে আমরা দেখতে পারি নতুন স্বর্গের স্বপ্ন
 জ্ঞানের
সংযমের
বিশুদ্ধ রঙের
 অপরাধ ছাড়া
আমার মিথ্যাগুলোকে যত্ন সহকারে নিও
আর গভীরে রঙ দিয়ে
 সত্যের উপরটা রাঙিয়ে দিও

                   স্বর্গের কোন রঙ নেই
                     সমুদ্রেরও
                     না এটা মিথ্যা

২. সিন্দুক

এই কারাগারের ভেতর থেকে আমি লিখি
আমি যে কখনো কারাবন্দি হইনি
আমার চারদিকে আমি এখন তাকাই এবং দেখি
 কারাগার ছাড়া কিছু না
এবং আমি তারপর আমার ভেতরে তাকাই
এবং কারাগার ছাড়া কিছু দেখিনা
 কারাগার যা তোমাকে শেখায় কীভাবে
লিখতে হবে
কীভাবে হতে হবে শব্দের প্রতি প্রতিরক্ষাসমর্থ
 কারাগার যা তোমাকে শেখায়
ভেতরে ঢোকা বাতাসের চেয়ে
 বাতাস যা বার হচ্ছে সর্বদায়
 বেশি
কারাগার -----সব কিছু যা আমি ভয় পেয়েছি
 হতে পারতো কারাগার
কুড়িটি আঙ্গুল যা যা দেখতে
লৌহদন্ডের মত
আমি ভাবতাম তাদের ক্ষমতা আমাকে
 বন্দী করার
আমি ভাবতাম তাদের অপারগতা
 আমাকে বন্দী করার

বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০

গ্রিসের নতুন চিন্তাচেতনার কবিতা || রুদ্র কিংশুক || ক্লেওমেনিস পাপাইওয়ানু-র কবিতা

গ্রিসের নতুন চিন্তাচেতনার কবিতা 
রুদ্র কিংশুক
ক্লেওমেনিস পাপাইওয়ানু-র কবিতা


ক্লেওমেনিস পাপাইওপানু (Kleomenis Papaioannou,1990) গ্রিসের সামপ্রতিক কবিদের প্রতিনিধি। সারা পৃথিবীতে ছন্দ-অলঙ্কার- প্রতীক বর্জনের মধ্য দিয়ে কবিতার যে নতুন হয়ে ওঠা তার অভিঘাত একালের গ্রিক কবিতারতেও পরিলক্ষিত। পাপাইওয়ানুরকবিতাও সেই নিরীক্ষাপ্রবনতার চিহ্ন বহন করে। পাপাইওয়ানু পড়াশোনা করেছেন পেন্টিওন ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং ইতিহাস বিষয়ে। তাঁর প্রথম কবিতা গ্রন্থের নাম 'লেটার অন এ ফুলিশ হার্ট হার্ট ফুলিশ হার্ট হার্ট এ ফুলিশ হার্ট হার্ট ফুলিশ হার্ট হার্ট'।


সীমা নেই

 সীমা ছিল না কোনো
সীমারেখা আমি অগ্রাহ্য করেছিলাম
 আমি উল্লঙ্ঘন করেছিলাম আইন-কানুন সীমান্তের পাশ দিয়ে আমি গিয়ে ছিলাম
 আর সবকিছু আমি
ভেঙে ফেলে ছিলাম
ছিঁড়ে ফেলেছিলাম
 ভেঙে ফেললাম
 প্রতিবাদ করলাম
 নিন্দা করলাম
উলটপালট করলাম
 কেড়ে নিলাম
কাটলাম
মুক্ত করলাম
 মুছে দিলাম
ধ্বংস করলাম
 বাতিল করলাম
 আর পোড়ালাম তোমাকে পেতে

 তোমার কাছে গোপন করছি না
আমি ভেঙে ফেললাম বিশ্বব্রহ্মাণ্ড তোমাকে পেতে

রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২০

গ্রিসের নতুন চিন্তা-চেতনার কবিতা || রুদ্র কিংশুক || দিমিত্রিস স্টেনোস-এর কবিতা

গ্রিসের নতুন চিন্তা-চেতনার  কবিতা
রুদ্র কিংশুক 
দিমিত্রিস স্টেনোস-এর কবিতা


দিমিত্রিস স্টেনোস (Dimitris Stenos, 1989)-এর জন্ম গ্রিসের পিরায়িউসে এবং বর্তমানে তিনি পেরামার বাসিন্দা। ভেলিওস আর্ট স্কুলে তিনি শিল্প-কলার পাঠ নিয়েছেন। তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ রেমন‍্যান্টস অব ফিয়ার (Remnants of Fear, 2013)। বিভিন্ন প্রিন্ট এবং অনলাইন ম‍্যাগাজিনে তাঁর কবিতা নিয়মিত প্রকাশিত হয়।

১.
জন্ম

কিছু একটা জন্মেছে আমার ভেতর
এটা বড় হচ্ছে ধীরে ধীরে
আর কাঁদছে আমাকে অসহনীয় দেখে।

 ২.
কাচ

শেষ পর্যন্ত কাজ পুতুলটাকে ভাঙতে দাও
 শিশুটিকে দাও স্বাধীন হতে ভেতর থেকে
 মনের বাইরে ভাবতে
 খোলামুখওলা কালোছায়া।

৩.
এলিউসিস

তার হাতগুলো
 আকাশ থেকে ঝুলছিল ।
তার হৃদয়
রক্তাক্ত হামা দিয়ে ঢুকলো এলিউসিসে
তার চোখ ছিন্নভিন্ন করলো ভোর।
 মৃত আবেগগুলো
 সূর্যাস্ত মুছে দিল অ্যালকোহলে।

৪.
অভিজ্ঞতা

চোখের জল হল একটা নালা
 তিক্ত বিষ
আমি লাভ করলাম তিক্ত অভিজ্ঞতা
আমি জানি কে কাঁদে ঘুমের ভেতর।
যখনই সে কাঁদে
আমার চোখের উপর
একটা মাকড়সা ঢালে ফোঁটা ফোঁটা বিষ।

সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২০

গ্রিসের নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || চ্লোয়ি কৌটসৌমবেলি-র কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক
চ্লোয়ি  কৌটসৌমবেলি-র কবিতা


চ্লোয়ি কৌটসৌমবেলি (Chloe Koutsoumbeli, 1962) জন্ম নিয়েছেন গ্রিসের থেসালোনিকি শহরে। প্রসঙ্গক্রমে এখানে বলে রাখা যাক যে, এই শহরটি নামকরণ হয়েছে গ্রিক বীর আলেকজান্ডারের বোনের নাম অনুসারে। কৌটসৌমবেলি  আরিস্ততল ইউনিভার্সিটি থেকে পাঠ নিয়েছেন আইন বিদ্যার এবং আঠারো বছর ধরে কাজ করেছেন একটি অর্থসংস্থা । এদিক থেকে তাঁর মিল জীবনভর ব্যাঙ্ককর্মী গ্রিক মহিলা কবি কিকি ডিমাওলার সঙ্গে। কৌটসৌমবেলির কবিতায় প্রাচীন গ্রিক মিথ-পুরাণের ব্যবহার ও বিনির্মাণ দেখা যায়।

১.
হলুদ ট্যাক্সি

না, মশাই, আপনি অন্যকারো সঙ্গে আমাকে গুলিয়ে ফেলছেন
সে লোক আমি ছিলাম আমি ছিলাম না
হলুদ ট্যাক্সিতে
কখনোই আমি আপনার সঙ্গে পিছন সিটে বসে ছিলাম না
বরফও পড়েনি, আমি সে ব্যাপারে নিশ্চিত
আর না আমার চুলেও পড়েনি বরফকুচি
 বরং উল্টো, আমার তখন চুলই ছিল না
 আপনি কখনোই আমাকে চুম্বন করেননি, অন্যথায় আমার
 মনে থাকতো
আর আপনি যদি আমায় চুম্বনও করতেন, আমি যেকোন উপায়ে সেখানে থাকতাম না
আর ড্রাইভার একটি বারের জন্যও মাথা ঘোরাতো না
সে নীরবে পার হয়ে যেত হ্রদ শেষ পর্যন্ত
 আর তৎক্ষণাৎ হাল ডুবে যেত
 চারদিকের কালো জলে

২.
পেনেলোপি

পেনেলোপি এতক্ষণে জানে
 যে তাকে দেরি করিয়েছে
 সে অসহিষ্ণু সাইরেন্স নয়
নয় বুড়ো সার্সি
তার চালিত আকাঙ্ক্ষা সহ
নয় নষ্ট-হওয়া নোসিকা
ভুল বয়সের সঙ্গে সেলাই করেছে সাদা মোজা আর স্কুল বালিকার স্কার্ট
নয় মানুষখেকো ল‍্যাস্টিগোনিয়ানরা,  নয় পদ্মগুলো
যারা তাকে তার তার কাছ থেকে দূরে রেখেছিল
নয়, হয়তো, পসেইদনের শ্রমিক-সংগঠনীয় ক্রোধ হুংকার
আর গুলিয়েফেলা পুরনো সাথিদের সঙ্গে

প্রাচীন পৃথিবীতে
এতক্ষণে সকাল সকাল অন্ধকার নামতো
 পৃথিবী এতটা চ্যাপ্টা ছিল না
এবং মানুষ মাঝে মাঝে হারিয়ে যেত

রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২০

গ্রিসের নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || ডানায়ি সিওজিয়ো-র কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক 
ডানায়ি  সিওজিয়ো-র কবিতা


ডানায়ি সিওজিয়ো(Danae Sioziou)-র জন্ম এবং বেড়ে ওঠা জার্মানি ও গ্রিসে। আথেন্স, বার্লিন  এবং লন্ডনে তিনি পড়াশোনা করেছেন ইংরেজি সাহিত্য, কালচারাল ম্যানেজমেন্ট এবং ইউরোপিয়ান হিস্ট্রি -- এই সকল বিচিত্র বিষয়ে। Teflon নামক একটি বিখ্যাত নতুন কবিতা পত্রিকার সহ-সম্পাদক তিনি। তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থগুলি:
 ইউসফুল চিলড্রেন গেমস (২০১৬) এবং ডিটেলস ফ্রম দি এন্ড  অ্যান্ড দ‍্য বিগনিং(২০২০)।
 পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে সিওজিয়ো-র কবিতা।


১.
ভারী

পুরনো ছবি।
 ফটোগ্রাফারের শক্ত চাপে
 তারা হাসছে, হাতে হাত
আমার মা আর বাবা। তারা ভালোবাসায়।
বেবি ক‍্যারেজে স্বপ্ন, ঢাকা দেওয়া:
পতিত, পথের পাশে পিষে যাওয়া
তিক্ত কমলা, কেউ তুলে নেয়নি।


২.
প্রহরা

আমরা ঘুমোতে পারিনি
রাতের বেলা আমাদের কুকুরগুলো চেঁচাচ্ছিল। আমরা দ্বিতীয়বার চিন্তা করিনি
 এটা তাদেরই গলা
 মৃত্যুর মৃত্যুর বার্তাবাহক
অতন্দ্র প্রহরীর মতো আমাদের সতর্ক করছিল
 আমাদের বাড়িতে নিশ্চিত
 কেউ ভেঙে ঢুকে পড়বে।

 আমাদের ছোট্ট  নীরড় ঘরে
আমরা জেগে রইলাম
একগুঁয়েভাবে, খারাপ ব্যবহার পাওয়া
বাচ্চার মত কান্না
রাতের খাবার না খেয়ে অপেক্ষা
হঠাৎ বড় হয়ে ওঠা
একরাত্রে
 এবং শেষ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া
অযর্থাথ শাস্তির ব্যাখ্যা
এবং এই জগত ।

৩.
সূর্যাস্ত

আলেকজান্দ্রা, নববিবাহিত, স্বামীর উল্লাস
 এবং গর্ব (আমার পাখি, আমার ছোট্ট পাখি)
সে ছাদে উঠেছিল
গতকালের কাঁচা কাপড় তুলে আনতে
 কিন্তু হয়তো কাপড়গুলো ফুলে উঠেছিল
ঘুঘুদের নৃত্যময় উড়ানের রেখায়
 সূর্য বাধ্য করছিল চোখ বন্ধ রাখতে
 যখন তা গড়িয়ে পড়ছিল পরপর পাহাড়ের খাঁজে
 উজ্জ্বল ধাঁধিয়ে দিচ্ছিল দিনটাকে দিনটাকে
এইভাবে কোনরকমে আলেকজান্দ্রা হয়ে উঠলো
 সূর্যের মতো পাখির মতো
 আর তার সাদা কার্ডিগান যেন পাল

শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০

গ্রিসের নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || মারিয়া তোপালি-র কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক 
মারিয়া তোপালি-র কবিতা




মারিয়া তোপালি  (Maria Topali ,1964) জন্মেছেন গ্রিসের থেসালোনিকি শহরে। আথেন্স ইউনিভার্সিটিতে তিনি পাঠ নিয়েছেন আইনবিদ্যার। তাঁর প্রকাশিত কবিতার বইগুলি:
Tea Set 1999
London and Other Poems 2006 প্রমুখ।
জার্মান কবি রিলকের কবিতা তিনি অনুবাদ করেছেন গ্রিক ভাষায়।

১.
অজানা পতঙ্গ

আমি জেনেছি এই গ্রীষ্মে আমার মৃত্যু

 এখন দেওয়ালের শীতলতা অলৌকিক
মোটা পাইপের জল শিশুদের শরীরে উপহার
 তাদের ত্বক --- যা প্রতিদিন আবৃত করে রাখে
নতুন উত্তেজনা --- তোমাকে অবাক করে

সবকিছু হয়ে যাবে আবার সহজ
 সাহসী হাসি এখন অপ্রয়োজনীয়
দুঃখের প্রেতচ্ছায়ার সন্মুখে

যদিও তারা ছিল কাল কাল আগমন বার্তাবাহক
 যেকোনো এক বিকালে গলা ব্যথা আর ব্যথা আর গলা ব্যথা আর ব্যথা আর আর বদহজম নিয়ে
 একটা ছোট লাল দাগ --- অজানা পতঙ্গ

 শান্তভাবে আমরা বন্ধ করব
যতটা সম্ভব পারা
যা কিছু শুরু হয়েছিল আগে

২.
শীতের সূচনা

গাছেরা দাঁড়ালো সারিবদ্ধ
 বৃষ্টি হবে না
পাতাদের ভেতর হেমন্ত বাধিয়েছে বিদ্রোহ

উঁচু থেকে দেখলে পরিষ্কার যে ন'টা গাছ
তৈরি করেছে নতুন সবুজ আয়তক্ষেত্র
তাদের ছায়ার ভেতর ধরে রেখেছে এখনও
গ্রীষ্মের সুগন্ধ

 কিন্তু সেখানে শীতের দেবদূত
 দুটো বনপায়রা এসেছে
তাদের গোলাপি বুকের ওপর সাদা কন্ঠহার

সেখানেই কাটাবে যৌথ জীবন, এই পরিকল্পনা গ্রীষ্ম শেষে শীতের সূচনা

৩.
হালকা নীল পশ্চাদপটে স্বপ্ন

তোমার ভেতরে সিঁড়ি দিয়ে নেমে যাও
এবং নিভিয়ে দাও আলো

(আর যদি আলো না নেভাও
তুমি তবুও দেখবে কেবল অন্ধকার
আর তারপর গভীরতর ঘনতর অন্ধকার
ঠিক একটা ড্রাগনের গুহার মত)

আমি সেন্ট জর্জ মুক্ত করবো সর্বাঙ্গসুন্দরকে
 যাকে বন্দি রেখেছিলাম আমার পেটের ভেতর
 আমি একজন ড্রাগন

শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০

গ্রিসের নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || এফটাইচিয়া পানায়িইওটু-র কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক 
এফটাইচিয়া পানায়িইওটু-র কবিতা

এফটাইচিয়া পানায়িইওটু ( Eftychia Panayiotou, 1980)-র জন্ম সাইপ্রাসে। তিনি একজন কবি, কপি-এডিটর, কবিতা-অনুবাদক, এবং পুস্তক সমালোচক। আথেন্সে তিনি দর্শনের পাঠ নিয়েছেন এবং লন্ডনে তিনি আধুনিক গ্রিক সাহিত্যের নিয়ে লেখাপড়া করেছেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ megas kipouros (2007) এবং দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ  Mavri Moralina (2010)। কবিতার জন্য তিনি একাধিক পুরুস্কারে  মনোনীত হয়েছেন। তার কবিতা ইংরেজি,জার্মান, ইটালিয়ান, স্প্যানিশ, ক্রোয়েশিয়ান প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত।  পানায়িইওটু  প্রখ্যাত আমেরিকান কবি   আন সেক্সটনের (Anne Sexton) লাভ পয়েমস-এর অনুবাদ করেছেন গ্রিক ভাষায়। এছাড়া অন্যান্য কয়েক জন আমেরিকান কবির যেমন কবিতাও অনুবাদ করেছেন গ্রিক ভাষায়।


১.
কঠিন যন্ত্রণা

আমি ছেড়ে যেতাম আরো ভালো আমি হয়ে ফিরবো বলে।
এখন আমি শুধু বদলে যাই, আর কোন পথ নেই। শব্দও পাল্টায়, বেনিয়মে,যেন আমরা বলছি ভিন্ন
 ভাষা --- একগুঁয়ে নিবেদন ভাষার কাছে -- যার
 জন্য আমি খুঁড়েছিলাম কিছুটা স্বস্তি পেতে।
 এখন আমি হয়ে উঠেছি অচেনা, আমি পিন বার করি, আমি এগিয়ে চলি
-- জঠর থেকে সর্বোচ্চ উচ্চতায়-- আর তুমি আগুন হয়ে যাও
এর অর্থ আছে, এই যন্ত্রনা, আমি আর বেশি বোধ করিনা।

 সময় কষ্ট পায়---আমি হয়ে উঠি
ভিজে কঠিন।

২.
মহান বাগানমালী
(মিলটসের জন্য)

এই সন্ধ্যায় আমার বাগানমালী  বকছে প্রলাপ।
সে মাটিতে বপন করে শব্দ,
মাটির নিচে শব্দের সমাধি দেয়।
শব্দকে দুঃখ দেয়, যাকে প্রথমে সে আঘাত করে
 তারপর বাঁধে নির্ভয়ে
 তাদের জন্য তার কোন দয়া নেই,

তারা কাঁদে, তারা  আঘাত ক‍রে, তারা চীৎকার করে, তারা অভিশাপ দেয়
---তারা শব্দ শেষ পর্যন্ত ---
কিন্তু সে তাদের নীরব করে।
 সে  আঘাতে রক্ত ঝ‍রায়।
 এই মানুষ আমার বাগানমালী নয়।

সে বপন করে মৃত্যু
আমি বপন করি  মৃত্যু
আমিহইমৃত্যু।

শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০

গ্রিসের নতুন চিন্তা-চেতনার কবিতা || রুদ্র কিংশুক || থানোস গোগোস- এর কবিতা

গ্রিসের নতুন চিন্তা-চেতনার কবিতা 
রুদ্র কিংশুক 
থানোস গোগোস- এর কবিতা


থানোস গোগোস (Thanos Gogos, 1985)-এর জন্ম গ্রিসের লারিসা শহরে।  তিনি Thraka নামক একটি সাহিত্যপত্রিকা ও প্রকাশনার প্রতিষ্ঠাতা। এ পর্যন্ত প্রকাশিত তাঁর দুইটি কবিতাগ্রন্থ ফেয়ার প্লে গ্রাউন্ড দুইটি কবিতাগ্রন্থ ফেয়ার প্লে গ্রাউন্ড কবিতাগ্রন্থ ফেয়ার প্লে গ্রাউন্ড (২০১৩) এবং গ্লাসগো (২০1৪)। তাঁর কবিতা ক্রোয়েশিয়ান ইংরেজি রুশ এবং স্লোভেনিয়ান ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

১.
আনুপূঙ্খিক তবুও অস্মরণীয়

ঈশ্বর
যোনি-ছাপ

নরম
নীল
শব্দ

 যখন তিনি ভেলকিতে তৈরি করেন
রাতের ভেতর
লোহা

ঈশ্বর
মুখোশপরা
 প্রতিশোধকারী

ভালোবাসা ও তোমার যুক্তিহীনতা
"কাঠঠোকরার থেকে মুক্তি"

তিনি
প্রচলিতমত বিরুদ্ধ

আমার চিরস্থায়ী অ্যালুমিনিয়াম দাঁত

লিঙ্গবোধহীন

যখন তারা উলঙ্গ সময়কে কাটাছেঁড়া করে
আর তুমি বেপরোয়াভাবে তাকে আঁকড়ে ধরো

 ঈশ্বর থাকেন
আত্মরোপিত

উৎপাদনের সম্পূর্ণ পরীক্ষায় প্রস্তুত প্রস্তুত

২.
কবিতা ১

কঠিনতম বুক
ছোট্ট ফুল থেকে নির্মিত
যা কিছুই তুমি এখন ভাঙো তার উপর তার উপর
সে ছড়াবে
কেবল
বরফ

৩.
কবিতা ২

আমাদের এখন এত বেশি বেশি বলার আছে
আমরা পাথর ধরে আছি

আর আমরা ভিড়ের ভেতর গাড়ি চালাই
 হারানো রাস্তা, তুমি চালাকি করো

যা কিছু এখন আছে তুমি তার সব
 তুমি ধরো আমি বলি আমি ছুঁড়ি আমি হাসি

আর আমি হেসেই চলি
যদিও তুমি অন্য জায়গায় চলে যাও

৪.
কবিতা ৩
তুমি এক হাতে ধরেছিলে ছিলে ছিলে ধরেছিলে ছিলে ছিলে ছোট্ট মেয়েটিক
 অন্যহাতে আমাকে

 আর আমি ধরেছিলাম
গাছপালা
জলাশয়
 পশুপাখি

 সারাটা শীত ধরে শীত ধরে

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২০

গ্রিসের নতুন চিন্তাচেতনার কবিতা || রুদ্র কিংশুক || পারভিনা মারভিন-এর কবিতা

গ্রিসের নতুন চিন্তাচেতনার কবিতা
রুদ্র  কিংশুক
পারভিনা মারভিন-এর কবিতা


পারভিনা মারভিন (Parvina Marvin, 1987) জন্ম গ্রিসের আথেন্সে। এবং তাঁর বড় হয়ে ওঠা সাইরস দ্বীপে অবস্থিত এরমৌপোলিশ শহরে। তিনি  প্রথমে ইতিহাস বিষয়ে লেখাপড়া করলেও পরবর্তীকালে টাকিস সিনোপোলুস ফাউন্ডেশনের অধীনে কবিতা নিয়ে লেখাপড়া করেন এবং পরবর্তীকালে কবিতায় হয়ে ওঠে তাঁর জীবন। তাঁর কবিতা, থিয়েটার সংক্রান্ত লেখালেখি এবং শিশুসাহিত্য অনলাইন অনলাইন অনলাইন এবং প্রিন্ট ম্যাগাজিনে বহুল পরিমাণে প্রকাশিত। প্রথমদিকে তাঁর কবিতা সেভাবে গুরুত্ব না পেলেও ধীরে ধীরে পাঠকমহলে পাঠকমহলে তাঁর কবিতা গৃহীত হয়। তার  ব্লগ Teflon-এর মধ্য দিয়ে তিনি বিস্তীর্ণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেন তাঁর কবিতা।

১.
আগাছা

সমস্ত আগাছা তুলে ফেলা আমার উচিত ছিল না না--
 একটা গোড়া আর পড়ে নেই।
এখন, এই বঞ্চনার ঋতুতে,
 দ‍্যাখো কী পড়ে থাকে:
আমাদের খালি মাঠ
আর মাঝখানে আমি, জাহাজডোবা
আরাধ্য জন
জীবন-মৃত্যু কারবারি পাখি,
 রক্তস্নাত উকুন,
 আর চারপাশে ছড়ানো শস্যের স্মৃতি।

২.
পুরোপুরি ব্যার্ত‍্য

 আমাদের সন্তান সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত, অপরাধ নিয়েছিল
আর, গর্ভপাতের কিছুটা আগেই, রহস্যজনক মিসক্যারেজ।
 দ্ব্যর্থহীন আত্মহনন। কি পরিহাস!
 আমাদের অনন্য জীব
এখন অনন্য ছোট্ট কীট
 হাসপাতাল বর্জ্যের ভেতরে।
 আমি দুঃখিত নই।
তোমার  কী ,প্রিয় ?
এসো বুঝে নাও চোখের জল।
 আমি যদি তাকে হাতের উপর নিয়ে তোমাকে দেখাতাম, মুখ ফেরাতে।
 যাইহোক তুমি কী ভেবেছিলে এ নিয়ে?
ঠিক আর একটা ছোট্ট মৃত্যু, মর্যাদাহীন নয়, কারণ
 কোন পারলৌকিক ক্রিয়া ছিল না।

বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০

গ্রিসের নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || ইলিনা পেনগা-র কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা
রুদ্র কিংশুক
ইলিনা পেনগা-র কবিতা


ইলিনা পেনগা (Elena Penga, 1964) গ্রিসের এই সময়ের উল্লেখযোগ্য কবি-নাট্টকার। তাঁর জন্ম গ্রিসের থেসালোনিকিতে। থিয়েটার, দর্শন, চিত্রনাট‍্য-লিখন প্রভৃতি বিচিত্র বিষয় নিয়ে তিনি লেখাপড়া করেছেন। মূলত নাট্যকার হিসেবে খ্যাতি লাভ করলেও তিনি কবিতা লিখছেন নিয়মিত।

১.
দুঃস্বপ্নের গোলাপি

বৃষ্টি।এখানে। সেখানে। যেখানে তুমি গাইছো। প্রবল বৃষ্টি।বাড়িতে চেয়ারে বসে আছি।
 রাত।আমি চেয়ার ঘোরাচ্চি আর বৃষ্টি শুনছি। তুমি গাইছো। বৃষ্টি যথেষ্ট জোরে। শোনা যাচ্ছে। আমি শুনি। বৃষ্টি। আরেকজন এলো। গোলাপি ল্যাম্পশেড নিয়ে। পুরো নতুন। সে আলো নেভানো,  বাল্ব খুললো, সরালো কাল শেড, পরালো গোলাপিটা, আবার আলো জ্বাললো। আমারা গোলাপি আলো মেখে বসে আমরা গোলাপি আলো মেখে বসে থাকলাম, আর  আর সেট শেড নিয়ে কথা বললাম। ল্যাম্পশেড। আমি বেলকনির দরজা খুললাম। তুমি গাইছো। কিন্তু বৃষ্টির শব্দ আরও জোরে। বাড়িতে আসছে। ল্যাম্পশেডে লাগছে। আলোর ধাক্কা। বাস্তবের সঙ্গে সংঘর্ষ। প্রতিবেশীর উঠানের ঠিক চেরিগাছে ফল আসেনি বহু বছর। চারজন ঢুকলো লাঠি হাতে হাতে লাঠি হাতে ।  তারা প্রতিবেশীর উঠানে ঢুকলো বৃষ্টি নিয়ে । তারা এসেছে এ গাছগুলোকে সহবত শেখাতে এবং বলতে যে ফুল না ধরলে তারা তাদের কেটে ফেলবে। আমি লোকগুলোকে দেখলাম গাছ গুলো কে কে আঘাত করতে। আমি দেখলাম বৃষ্টিকে লোকগুলোকে আঘাত করতে।
২.

মাছ

ওর দিকে তাকাও।মাছেরা রং বদলায়। যখন পুরুষটা উত্তেজিত, তার রঙ কালো। মেয়েটাকে নিয়ে উপরতলায় উঠছে আর যেই তাদের যৌন খেলা শেষ সে আবার রুপোলি। তারা সংখ্যায় বহু এবং তারা খুবই উত্তেজিত। মনে হচ্ছে আলো মিটমিট করে জ্বলছে নিভছে।
                                                দেখবে তাদের? আমরা অনেক ওপরে। আমি কিছুই দেখতে পাইনি।
 তুমি কি জেলেদের দেখতে পাও? হ‍্যাঁ, আমি তাদের ঘৃণা করি ।
কেন?
 কারণ তারা মাছ ধরে ।তারা বন্ধুত্বপূর্ণ নয়।
 জেলেরা ত এমনই। যদি তোমাকে মাছ ধরতে
 নিয়ে যায় এবং অনেক মাছ পায়, তারা তোমাকে আবার নিয়ে যাবে।তখন তারা সর্বদাই তোমাকে নিয়ে যেতে চাইবে।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০

গ্রিসের নতুন কবিতা রুদ্র কিংশুক ইভা স্টেফানি-র কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক
ইভা স্টেফানি-র কবিতা


গ্রিক কবি, চিত্র-পরিচালক এবং চিত্রশিল্পী
ইভা স্টেফানি (Eva Stefani, 1964)-র  জন্ম আমেরিকায়।তাঁর পিতা-মাতা অবশ্য গ্রিক।  সিনেমা ও নৃবিজ্ঞান নিয়ে স্তেফানি পড়াশোনা করেছেন পারি, লন্ডন ও ন‍্যুইয়র্কে‌। তাঁর বিখ্যাত সিনেমাগুলি:
আথিনি ১৯৯৫
আক্রোপলিস, ২০০১,
দ্য বক্স  ২০০৪ প্রমুখ।

 টানা গদ‍্যে লেখা কবিতায় তিনি এনেছেন পশুপক্ষীর চিত্রকল্প । কিন্তু সেগুলো মানুষের নানান অনুভবের অভিব্যক্তির চিহ্নায়ন বা চিহ্নকল্প।

১.
নববর্ষের পূর্ব সন্ধ্যা

নতুন বছর আর কেক নেই। দোকানপাট বন্ধ।। আমি দিলাম আমার বাম স্তন হালকা মিষ্টি রুটি হিসেবে। আমার বাবা ছুরি দিয়ে কাটলেন।খ্রিষ্টের জন্য এক টুকরো,, গরিবদের জন্য এক টুকরো, বাড়ির জন্য একটুকরো। বাবা-মা-বোন। নতুন বছর সবার খুব ভালো হোক।

২.
 পরিবার

 আমরা সবাই একসঙ্গে রান্না ঘরে ঘুমাই যাতে আমরা টিভি দেখতে পাই। আমরা একে অপরের ওপড়ে শুই। প্রথমে বাবা উপুড় হয়ে। মা বাবার পিঠে। তাদের মাঝখানে এক ভাই।
যমজ দু'জন ওপরে । এবং অন্তিমে সবার ওপরে কন্যা মুখ নামিয়ে। আমাদের কম্বলের দরকার হয়না কারন আমরা পরস্পরকে উষ্ণ রাখি। আর আত্মীয়রাও হেঁটে যায় এই বিছানায় যদি তারা নিয়ে আসে তাদের নিজস্ব রিমোট কন্ট্রোল ।
৩.
আমি হারিয়েছিলাম আমার বুটজুতো এবং ঘরে আটকে থাকলাম কারণ খালি পায়ে আমি কোথায় যাব? যখন ভোর হলো আমি দেখলাম আমার পিঠে সবুজ কুঁজ। আয়নায় দেখলাম একটা পিস্তা গাছ আমার দুই কাঁধের মধ্যে গজিয়ে উঠেছে। গাছের নিচে মায়েরা এবং ছেলেমেয়েরা ছায়ার উপভোগে এদিকে ওদিকে শুয়ে আছে।

৪.
গভীরতা

আমার পেটে একটা ওজন আছে। আমি তাদের অপারেট করতে বলি। খননে সাহায্য করতে আমি ধরে ছুরি-কাঁচি। প্রথমে একটু বালি আর সাদা নুড়ি‌। আমি আরো গভীরে যাই আর একটা নরম দলায় ধাক্কা খাই।  সমুদ্র আগাছার ঢিপি। আমি খুজে চলি কিন্তু ছুরি-কাঁচি বৃথা নড়ে চলে। সব সারল? আমার সন্দেহ। আমি যন্ত্রপাতি ছুড়ে ফেলি এবং দগ্ধ শরীরে হাত চালাই। কিছু একটা খুঁজে পাই। একটা বিশাল শিকল। আমি টেনে বার করি। শেষ সব যন্ত্রণার কারণ। আমার বাবার পুরানো ঘড়ি।

সোমবার, ২৯ জুন, ২০২০

গ্রিসের নতুন চিন্তাচেতনার কবিতা || রুদ্র কিংশুক || কিরিয়াকস সিফিল্টজোগলু-র কবিতা

গ্রিসের নতুন চিন্তাচেতনার কবিতা
রুদ্র কিংশুক
কিরিয়াকস সিফিল্টজোগলু-র কবিতা


কিরিয়াকস সিফিল্টজোগলু (Kiriakos Sifiltzoglou, 1983)-র জন্ম  গ্রিসের ড্রামাতে। ২০০৪ এ তিনি আইনশাস্ত্রে স্নাতক হন এবং ২০১১ তে তিনি ইউনিভার্সিটি অব থেসালোনিকি  থেকে পলিটিকাল সায়েন্সে দ্বিতীয়বার স্নাতক ডিগ্রি সায়েন্সে দ্বিতীয়বার স্নাতক ডিগ্রী দ্বিতীয়বার স্নাতক ডিগ্রী দ্বিতীয়বার স্নাতক ডিগ্রী থেকে পলিটিকাল সায়েন্সে দ্বিতীয়বার স্নাতক ডিগ্রী দ্বিতীয়বার স্নাতক ডিগ্রী সায়েন্সে দ্বিতীয়বার স্নাতক ডিগ্রী দ্বিতীয়বার স্নাতক ডিগ্রী সায়েন্সে দ্বিতীয়বার স্নাতক ডিগ্রী থেকে পলিটিকাল সায়েন্সে দ্বিতীয়বার স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন । এ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে তাঁর একাধিক কাব্যগ্রন্থ। সেগুলি হল:
To Each His Own Grave, 2007
Half Truth, 2012
In the Style of an Indian, 2014
এবং
In the House of the Hanged 2015 প্রমুখ।

Austerity Measures:The New Greek Poetry, edited by Karen Van Dyck (Penguin Books, 2016), Futures: Poetry of the Greek Crisis, edited by Theodore's Choti (Penned in the Margins, 2015)--- এই দুই  সংকলনে তাঁর কবিতা অন্তর্ভুক্ত। ২০১৩ থেকে তিনি পরিকল্পিতভাবে ফটোগ্রাফিও করে আসছেন। তাঁর তোলা ফটো থেকে দুটো সাহিত্য পত্রিকার প্রচ্ছদ নির্মিত হয়েছে । এছাড়া তাঁর অনেকগুলি ফটোগ্রাফি বিভিন্ন কবিতা-গ্রন্থের প্রচ্ছদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

১.
পরিযায়ী পাখি

দেশ ভুগছে
ভাইরাল রক্তস্রাবী জ্বরে

দুর্বল বসন্ত
আর মাথাব্যথা
 আতিথেয়তা হঠকারী প্রকাশ প্রকাশ

অসময়ের জলপরী
সেনেগাল থেকে আসা
ঘুমিয়েছে অ্যান্টিকিথেরাতে

ঘুম হতে পারে
ভবঘুররানির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা

 পরিবেশ ঠিক
ততটা প্রাকৃত নয়
অপ্রাপ্তবয়স্ক স্তন্যপায়ীরা
দুধ খায় অপটুভাবে
  কী এসে যায়  যদি আমরা হই
শ্রেষ্ঠ  আপ‍্যায়ক

দোষারোপ
সবসময় পরে
লাল
             বক্ষের
                          ওপরে

২.
পথচ‍্যূতি
সিদ্ধান্তকারীরা পারলে পাল্টে দিত
এমন কি বজ্রপাতের দিক
কেন্দ্র থেকে পরিধির দিকে
যেখানে বুলেট আছরে
 পড়ে যখন অন্ধকার নামে
আর মোরগগুলো ডেকে উঠেছিল

                                            অনেক যুগ আগে

৩.
অর্ধসত্য থেকে
উচ্চতা অদৃশ্য হয়েছে
 ঘটনার উচ্চতা থেকে

এখন আমরা কেবল সওদা করি ঘটনার

 তারা জানত এটা ভালোমতোই : সেইসব  সাজনেদার
যারা ভেসে বেড়াতো মনে হয়
চিহ্নিত।



Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...