বৃক্ষের একাকিত্ব
দীপক কর
কিছুতো চাইনা আর
আকাঙ্ক্ষার নেই কোনো গান
প্রবৃদ্ধ বৃক্ষশাখায় পরিত্যক্ত নীড়
পাখিরা নিয়েছে খুঁজে সুদূর আশ্রয়
বৃক্ষের একাকিত্ব ক্লান্ত মর্মর
সমাধি-নীরবতায় প্রত্নরত্ন খোঁজে!
বৃক্ষের একাকিত্ব
দীপক কর
কিছুতো চাইনা আর
আকাঙ্ক্ষার নেই কোনো গান
প্রবৃদ্ধ বৃক্ষশাখায় পরিত্যক্ত নীড়
পাখিরা নিয়েছে খুঁজে সুদূর আশ্রয়
বৃক্ষের একাকিত্ব ক্লান্ত মর্মর
সমাধি-নীরবতায় প্রত্নরত্ন খোঁজে!
আহ্লাদে পতাকা ওড়ে
দীপক কর
দৃষ্টিসুখ কেড়েনিয়েছে
বিষমাখা এ-সময়
কিছুই দেখার নেই আর সাধ
নেই আজ কিছু দেখার।
সবকিছু ধূসর কাতর
পৃথিবীর ম্লান মুখ
কে ভেবেছিলো আগে
ভেভেছিলো কেউ?
মানুষের মৃত্যবাণ
অ-মানুষের কারখানা
নিত্য সৃষ্টি বিবরে
রাজনীতির ক্লিন্ন কীট
রক্তস্নাত হাত
আহ্লাদে পতাকা ওড়ে!
অক্ষরশরীরে বাঁধো
দীপক কর
চির পথিক
দীপক কর
যে-হৃদয়ে আছে
কোমল সুবাস
ভালোবাসি সে-হৃদয়
বড়ো ভালোবাসি।
যে-হৃদয়ে আছে
বটবৃক্ষ-ছায়া
সে-হৃদয় আমার
প্রিয় ঘর-বাড়ি।
সারাটা জীবন
সে-হৃদয়ের খোঁজ
পথিক আমি
চির পথিক।
বৃন্দাবনি সারং
দীপক কর
সারেঙ্গিতে ছড়টানা বৃন্দাবনি সারং
কোমল বিষাদ সুর
হেঁটে যায় গেরুয়া পথ বৈরাগী বাউল
পুবালি হাওয়া
পল্লীর স্নিগ্ধ ছায়া
ফেলেআসা কবেকার সবুজ সকাল।
মনেপড়ে এ-পারে আসা কিশোর বেলা
ইন্দা--খড়্গপুর,আমাদের পাড়া
সূর্যাস্তের মায়াস্নাত সঙ্গীত আসর
কণ্ঠের প্লাবন।
রীণাদি-র হৃদয়ের সুরেলা জ্যোৎস্না:
' বৃন্দাবনে শ্যাম নাই/ফুলে মধু নাই'
----বৃন্দাবনি সারং।
কতো বসন্ত পার হলো
লিজ নেওয়া আমাদের জীবন
সুরের প্লাবন
রীণাদি হয়তো আজ আর নেই!
অতৃপ্তি
দীপক কর
যে-কবিতা পাঠে
এবড়ো খেবড়ো
শব্দ-পাথরের হোঁচট
ক্ষত-বিক্ষত পাঠক-হৃদয়
তৃষ্ণার শান্তি কোথায়!
পাঠকের আনন্দাশ্রু
সুখাস্বাদনে
' উপল ব্যথিত হৃদয়'
অতৃপ্ত অসহায়!
কবি, তোমার পথচলা
একাকিত্বের নির্জনে
পাঠকের আবেগ-রশ্মি
প্রবেশাধিকার হীন!
স্মৃতিগর্ভ
দীপক কর
গ্রামীণ রেখাস্পর্শে কবিতার ছবি আঁকা আমার প্রিয় সাধ চিরকালের। সে-কোন ফেলেআসা সুদূরের মায়া। আজও
অন্তরে বৈরাগীর দোতারা বাজায়।
একটা মাছরাঙা-নদী টলটল বয়ে যাওয়া গ্রামের আঁচল ছুঁয়ে। একটা পুকুরের বিশ্রাম আম জাম তেঁতুল-ছায়ায়।
আমাদের রাঙা চোখ জলকল্লোল-অবগাহন।
শালুকের হাস্য-লাস্যে মধুলোভী ভ্রমরের অশান্ত গুঞ্জন-ডানা
গাঙ চিলের ওড়াউড়ি পাপিয়ার সূুরেলা বেদনা
এই সব মায়াচিত্র কবিতার নির্যাস
ওঠে আসে ফেলেআসা কবেকার স্মৃতিগর্ভ থেকে।
অচেনা দিন
দীপক কর
আজ সেই প্রিয় ষষ্ঠী।বাঙালির হৃদয় লালিত কাঙ্ক্ষিত দিন।
সারাটা বছর রণক্লান্ত।একটু বিশ্রাম। প্রাণের আরাম।দুর্গোৎসব।
পুজো পুজো গন্ধটা আ েগর মতো আর নেই।তবুও এ-এক
মিলনোৎসব।ম্লান প্রবাসীর ঘরে ফিরে আসা। ছুটির আমেজ। গৃহ মাতোয়ারা।ছোটোদের মজা।সাজের পুলক।
পুজোমন্ডপ যখন তখন।
না,মেঘাবৃত বাঙলায় উৎসবপ্লাবন--নেই সে-দিন আজ।
বাঙালির কণ্ঠে ক্লান্ত করুণ সুর।ঘরবন্দী শৈশব।অবুঝ কৈশোর।কান্নার উথাল পাথাল।
কী ভীষণ অচেনা বাঙালির দিন আজ!
প্রশ্ন
দীপক কর
প্রেম
সুদূর-ই ভালো
ছবি আঁকা গান গাওয়া
কাব্য-জ্যোৎস্নার আলো
শরীর -স্পর্শ এলে-ই
লন্ডভন্ড সব
কী নিয়ে বাঁচা
শরীর না শরীর-শিল্প?
ধরা দেয় তা'র কাছে
দীপক কর
কবিতার ঘরে কেউ
কড়া নেড়োনা
দরোজা খুলবেনা।
কা'রো ডাকে সে সাড়া দেয়না
শুধু ধরা দেয় তা'র কাছে
যে-হৃদয়-কুসুমে মধুঝর্ণা আছে।