দেবাশীষ সরখেল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দেবাশীষ সরখেল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২ আগস্ট, ২০২১

বন্ধু || দেবাশীষ সরখেল || কবিতা, Debadis Sarkhel

 বন্ধু 

  দেবাশীষ  সরখেল



 লোকটা তার সাথে পার্কে যায়  ছবি তোলে  সিনেমা দেখে।

 অবসর সময় একসাথে  দাবা খেলে।

 দিদুন ওদের নাম দিয়েছে দাবাদাবি ।

 এমনকি মোবাইলে ডেট ফিক্স করে দিত ।

 নাতি বলে ------  একি শুনছি দাদু ?

 বলেন ----- বাপের কাছে  মেয়ের কখনো বয়স হয় না  সে সারাজীবন শিশুটি থেকে যায়  বেস্ট ফ্রেন্ড।

 দিদুন বলে---- ওখানেই আপত্তি ।  জীবনে আমি দিদি হলাম  বোন হলাম  স্ত্রী হলাম  মা হলাম ।  কিন্তু কোনদিনও ওর বন্ধু হতে পারলাম না ।

সোমবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২১

কামিনীকেতন || দেবাশিষ সরখেল || আজকের কবিতা

কামিনীকেতন 

দেবাশিষ সরখেল



কাজলকৃষ্ণকে কেষ্টঠাকুর বলেও চালিয়ে দেওয়া যায়।

তবে তার সাথেদ ললিতা, বিশাখা, ইন্দুলেখা। সুদেবী, তুঙ্গা কেউ নেই। ঈষিতা বলে, মনে রেখো আমি তোমার বিবাহিত স্ত্রী, শ্রীরাধা নই। সে এক টিয়ারাজাকে খাঁচায় রেখেছে। মাঝে-মধ্যে নীলাকাশে হারিয়ে গেলেও আবার শূন্য খাঁচায় ফিরে আসে।

মাদী ছাগলটাও তিনখানা বাচ্চা দিয়েছে।

তবু ঈষিতা বায়না ধরে, একখানা পুরুষ ছাগল নিয়ে এসো, এর যা গায়ের গন্ধ বাড়িতে টিকে থাকা দায়।

কাজল বলে, শিঙ দিয়ে ঢুঁ মারলে বাপের নাম ভুলে যাবে।

ঈষিতা রেগে যায়। যেমনি কথার ছিরি, তেমনি লাইফ স্টাইল। এনিম্যাল ফার্মের ম্যানেজার একটা।

মাদী কুকুরটা মাঝে মাঝে বিছানায় শুয়ে পড়ে। চোখ মুখ লাল হয়ে যায় ঈষিতার।

বলে, এদের নিয়েই তো দিব্যি থাকতে পারতে, কেন খামোখা আমায় শাঁখা – সিঁদুর দিয়ে আনতে গেলে।

মাদী কুকুরটা বাচ্চা পাড়লো চারখানা। তাদের ছেঁড়াকম্বল, সেঁক তাপ দেখে গা - পিত্তি জ্বলে যায়।

আবার নোংরাটাকে বিছানায় তুলে আদর। ছ্যা ছ্যা। 

এক লাঠি দিতেই ঝাঁঝিয়ে উঠলো। ঈষিতার স্তনে ঊরুসাজিতে সজোরে কামড়।

শুশ্রুষায় ঝাঁপিয়ে পড়লো কাজলকৃষ্ণ। বল্লে, কোনো ভয় নেই ডার্লিং। ওকে ইনজেকশন দেওয়া আছে। কোনো ক্ষতি হবে না তোমার।

বাচ্চাগুলো একটু বড় হোক তাড়িয়ে দেবো।

এদিকে স্নানঘরে, জলের গেলাসে হঠাৎ হঠাৎ মাদীকুকুরটার বাচ্চাগুলোকে দেখে আঁতকে ওঠে ঈষিকা।

কামিনীকেতন শোক ও সন্তাপের ছায়ায় ভারী হয়ে রইলো কয়েকমাস।

ঈষিকা চলে যাওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই অর্ধোন্মাদ কাজলকৃষ্ণ মাদীকুকুরটাকেও খুন করলো। তাকেও সিঁদুর – আলতা পরিয়ে ঈষিতার পাশেই দাহ করে এলো। সে এখন তিনখানা সারমেয় সন্তানের পিতা।

এখন মাদী খরিস, ঢেমনা, হরিণী দুখানা ময়ূরী সহ বহু কামবাহিত কামিনীরা কাজলকৃষ্ণকে ভীড় করে পরমার্থ খুঁজে বেড়ায়।

যে কেউ ভিজিট করতে পারেন।

প্রতিদিন মনময়ূরের অচিনপাখি সংগ্রহ শালার বাঁদিকে কামিনীকেতন। প্রত্যহ বিকেল তিনটে থেকে পাঁচটা খোলা। রবিবার রেষ্ট ডে।

 দেবাশিস সরখেল *** রঘুনাথপুর *** পুরুলিয়া (পশ্চিমবঙ্গ), সূচক – ৭২৩১৩৩

ফোন – ৯৯৩২৬৬৭৮৮১

বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০

চপ || দেবাশিষ সরখেল || গল্প

চপ
দেবাশিষ সরখেল


রঘু ও তাপস দু’জনেই মূলত ফুটপাতে চপ বিক্রি করে। কে আসল এবং কার ঢপের চপ, তা সময়ই বলবে। তাপসের দোকান অনেক পুরোনো, তার কিছু বাঁধা খদ্দের আছে। সে সারাদিন খুলে রাখে। তার দোকানে আড্ডা জমে। চপের সাথে চা, ফুলুরি, কুচো নিমকি ইত্যাদিও থাকে। চপ সে তিনটাকা করে নেয়। চা ইত্যাদিতে খরচ পুষিয়ে যায়। চপে লাভ কম।
এবার রঘুর চপের দাম দু’টাকা। তার দোকানে কোনো আড্ডাবাজি নেই। সারাদিন সে থাকে না। বিকেলে ঘন্টা তিনেক। তার চপের ভেতর ফুলকপি, বাদাম, কাজু ইত্যাদি দিয়ে তৈরি বলেস্বাদ উত্তম। তবু প্রথমার্ধে তেমন পাত্তা পায় নি। ধীরে ধীরে ভীড় বাড়তে থাকে। চপ আমি খাই না। পেটে সয় না, তবু তার চপ নাকি প্রখ্যাত মাখন দত্তের সমতুল্য। ফলে লোভে পড়ে কিনলাম, খেলামও।
একদিন জিজ্ঞেস করেই বসলাম, তোমার দু’টাকায় পুষিয়ে যায় ? বলে, না দাদা। খরচ তিন টাকা। প্রতি চপে দু’টাকা লস্‌। ওর খদ্দের আর সিকিভাগ আছে। দেখবেন অতি শিগগির ঝাঁপ বন্ধ হবে। তখন আমি দাম বাড়িয়ে চার পিস চার টাকা করব।
রঘুর মুখের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। সে নির্বিকার ঠোঙায় চপ ভরছে।

দেবাশিষ সরখেল
রঘুনাথপুর
পুরুলিয়া (পশ্চিমবঙ্গ), সূচক – ৭২৩১৩৩
ফোন – ৯৯৩২৬৬৭৮৮১

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২০

হাঁ || দেবাশীষ সরখেল || অণুগল্প

হাঁ
দেবাশীষ সরখেল


বিজ্ঞাপনে ছিল পাত্রী শিক্ষিতা, গ্র্যাজুয়েট, বয়স ৩৮, অসবর্ণ ও বিপত্নীক চলিবে।
 প্রিয়ব্রত একবার মাত্র ফোনে যোগাযোগ করেই কাঁঠাল বাগানে হাজির, শীতের বেলা, প্রায় ১০:৩০ টা। পাত্রী তখন সবে ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ কচ্ছেন।
পাত্রীর বাবা ঘোষাল বাবুর বয়স হোয়েছে। বয়স প্রায় সত্তর। রসগোল্লা, মাংস, লুচি ঠেসে খাওয়ালেন। প্রিয়ব্রত বয়সের প্রসঙ্গ তুললো। ফোনে সে ৪৫ বলেছিল বটে, আসলে ৪৮।
ঘোষাল বাবু পাত্তাই দিলেন না। - আরে ছাড়ুন তো মশাই। আপনাকে দেখে চল্লিশের বেশী মনে হয় না।
হয়তো প্রিয়ব্রতকে খুশী করার জন্যই কথাটা বল্লেন।
আচমকা পাত্রী এসে হাজির। সে গড়গড়িয়ে বলে চলল।
- বসতে বললেও আমি বসবো না। দাঁড়িয়ে থাকলে আপনারা সহজে আপনার পুরো বডি সার্চ করে নিতে পারবেন। আমি কিন্তু নির্মেদ, হাড়-হাড়। বয়ফ্রেন্ড জোটাতে পারিনি তো, তাই জেল্লা নেই। এখন সারাদিন শুয়ে থাকি। বিয়ের জল শরীরে ধরে গেলে রান্না বান্না সব করব। এনিথিং মোর, আর সুধোবেন কিছু।
সঙ্গী টেনিদা জিব কাটে। আরে না না। আপনি তো সব বলে দিলেন। একদম আপডেট ইনফর্মেশন। আর কি?
ঘোষাল বাবু আর একদম কথা বাড়ালেন না। বল্লেন, দেখলেন তো সব। চলুন আপনাদের এগিয়ে দিয়ে আসি। আসলে বিয়ে দেওয়ার জন্য আদৌ বিজ্ঞাপন দিই না। পাত্রের আসার খবর শুনলে ও কটা দিন চনমনে থাকে। ডিপ্রেসন কমে যায় তাই আর কি।
প্রিয়ব্রত এবং টেনিদা হাঁ হয়ে গেলেন।

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...