নাসের হোসেন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নাসের হোসেন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২১

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার || জবরদখল । নাসের হোসেন । কবিতা পাক্ষিক

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার




জবরদখল । নাসের হোসেন । কবিতা পাক্ষিক
। কুড়ি টাকা ।


সদ্য প্রয়াত হয়েছেন যে সব কবি,  তাঁদের মধ্যে যাঁদের মৃত্যু  বিশেষভাবে নাড়া  দিয়েছে তার মধ্যে কবি নাসের হোসেন একজন । ১৯৯৮ সালে শুভ বিজয়ার দিন নাসের নিজের হাতে তুলে দিয়েছিল ওঁর সে সময়ের  সদ্য কাব্যগ্রন্থ  ' জবরদখল ' । সে সময় বইটি পড়ে বুঝে ফেলেছিলাম তাঁর কবিসত্ত্বা। বড় অসম্ভব অনুপ্রেরণার তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটির ' জবরদখল ' কবিতার শেষ পংক্তি:  ' ক্রান্তিপথ তার নির্বিভেদ সীমানায় ছড়িয়ে রাখছে/  শুকনো মরণশীল চিহ্ন ও চিহ্নিতগুলিকে ' । পাশাপাশি আরো পাই তাঁর এ ধরনের অনবদ্য পংক্তি: 
' পা ফেলে ছোপ ছোপ শরীর নিয়ে সে মিলিয়ে যাচ্ছে দিগন্ত/ থেকে দিগন্তে ' ( ' অভিমান ') , নীলাভ ঢেউ শুধু আছড়ে পড়ে আছে তটে,  আস্তে আস্তে অন্ধকার/  হয়ে যায়,  অশ্বত্থ গাছে কথা বলে ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমী ' ( নীলাভ ঢেউ)  ।
            কবি নাসের হোসেন কি কারণে গুরুত্বপূর্ণ কবি তা এই পংক্তি বুঝিয়ে ছাড়ে সচেতন পাঠকবর্গকে । নাসের সেই প্রিয়তার কবিতা দিয়ে ঘিরে রাখে আমাদের,  আমরা পড়ে চলি আর পড়ে চলি, মনে মনে বলি যেন না ফুরোয় ! কবির এই বইটিতে ছড়িয়ে বাস্তবতা,  কাঠিন্য,  ভালোবাসা, শৈথিল্য যা আন্তরিক হয়ে দাঁড়ায় তাঁর কাব্যময়তায় । তা পাই:  ' বালকটি ঐ  মাছগুলোকে নিয়ে পাশের পুকুরে ছেড়ে আসতে যাচ্ছে,  সে জানে না আপেক্ষিকতা,  জীবন ও আজীবনের দ্বন্দ্ব,  সে শুধু মুক্তি জানে ' ( রঙিন মাছ)  , '  নীল আকাশ স্বচ্ছ মেঘ দু ' চারটে সীগাল,  আর/  একটানা চুমুর শব্দ ভেসে আসছে সেই ঘনবদ্ধ প্রিজমের থেকে ' ( প্রিজম)  - এর ভেতরে ।
     নাসেরকে নিয়ে অনেক কথা লেখার এখনো অনেক বাকি , অনেকেরই । নাসের কবিতার মধ্যে দিয়ে আমাদের সঙ্গে থাকবে । থাকতেই হবে।  বইটির প্রচ্ছদ  ( শিব চৌধুরী কৃত)  একদম দাগ কাটে না ।।




শনিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২০

নাসেরদা || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় || কবিতা

 নাসেরদা       ||    জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় 



এক একটা যাওয়ার কোনো দায়বদ্ধতা নেই


মালিকে প্রশ্ন করি, এত যে সাজিয়েছো উপবন বিবিধ গন্ধ আমোদিত  চরাচর কানাকানি মৌমাছির

ফুলেল স্বপ্ন ছেড়ে চলে যাও কোন অজানায়? 


সেখানে কি মাটি আছে উদ্ভিদসম্ভব?

সবুজের ভাবীকাল মায়ামুখ ডাক? 


সেখানে কোন মালঞ্চের মালাকার হবে ! 


চলে যাও এত তাড়াতাড়ি বাহনের অভাব ছিল কি

পক্ষীরাজ অথবা সাম্পান! 


সব ফুল ফেলে রেখে যাও অভিমান

অতৃপ্তির বিষাদমেঘ রেখে।




গোপেশ্বরপল্লি, বিষ্ণুপুর,বাঁকুড়া - ৭২২১২২

কথা - ০৭০০১৪৫৬৭২১/০৯৭৩২২৩৭৬০৮

ই-মেইল : chattopadhyayjayanta59@gmail.com

সোমবার, ১৫ জুন, ২০২০

নতুন মহাভারত || নাসের হোসেন || প্রভাত চৌধুরীর জন্মদিনে কবিতায় শ্রদ্ধার্ঘ্য

পোস্টমডার্ন বাংলা লেখালেখির পথিকৃৎ, কবিতাপাক্ষিক - এর প্রাণপুরুষ কবি ও কথাসাহিত্যিক  প্রভাত চৌধুরী - র শুভ ৭৬ জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য।।


একটি পোস্টমডার্ন ন্যারেটিভ: কবিতা

নতুন মহাভারত।।  নাসের হোসেন














ষাটের দশকের ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যে উঠে এল
'আমি মেফিসটোফেলিস,শয়তানের দূত'।       ধ্বংসকালীন
সময়ের অনুষঙ্গে কবিতা আর কী- ই বা হতে পারতো!
যদিও প্রভাতদা সেসময় বেশ- কিছু প্রাঞ্জল প্রেমের কবিতাও
লিখে যাচ্ছেন,যা অচিরেই বই হয়ে বেরোলো।

মেফিস্টোফেলিস- কেও আমি প্রেমের কবিতাই বলবো,তফাৎ যেটা
সেটা হল ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা,ভিন্ন দর্শনের আলোকে সময়টিকে পরীক্ষিত করে তোলা।সময় বিষয়টিকে খতিয়ে
দেখা।পরবর্তী  সময়ে তাঁর 'সতীসাবিত্রী  কথা' উপন্যাসে খুঁটিয়ে
 দেখেছেন  সমাজের অন্য পরিসরের নিভৃত ব্যঞ্জনা।আরো
পরে লিখেছেন 'শৈশব',তাঁর জীবনকথার অংশ,আরো পরে
সাম্প্রতিক জীবনকথা 'সুন্দরের দিকে'।মাঝখানে কবিতাপাক্ষিক - এর
 প্রথমদিকের পর্বে লিখেছেন পোস্টমডার্ন টেক্সট উপন্যাস 'অনুপম কাহিনি'। সেটাও তো তাঁর জীবনেরই আত্মকথন ছিল।

১৯৯৩- এর ৭ মে শুরু হয়েছিল তাঁর প্রতিষ্ঠিত  'কবিতাপাক্ষিক'
প্রতিষ্ঠান  এবং 'কবিতাপাক্ষিক' পত্রিকাটি ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছিল
পৃথিবীর  সর্বাপেক্ষা দীর্ঘস্থায়ী নিয়মিত পাক্ষিক কবিতাপত্রিকা।
' কবিতাপাক্ষিক  প্রকাশিত  হওয়ার অল্প কিছুদিন পরেই
শুরু হয়েছিল বাংলাভাষায় প্রথম পোস্টমডার্ন  লেখালেখির
 চর্চা,নতুন পথের কবিতা ও গদ্যের এক অসামান্য সৃষ্টিশীলতা।

মণীন্দ্র গুপ্ত প্রভাতদার এইসময়ের কবিতা ও গদ্যগুলিকে
 আখ্যায়িত  করলেন পোস্টমডার্ন  বাংলাসাহিত্যের  পথিকৃৎ
লেখা বলে,২০০২ সালে প্রভাত চৌধুরী- র সম্পাদনায় বের হল
বাংলাকবিতার ইতিহাসের  মাইলস্টোন গ্রন্থ 'পোস্টমডার্ন বাংলা কবিতা'।
তাঁর লেখা কবিতাগ্রন্থগুলি 'সাক্ষাৎকার','নোটবই', 'সুসমাচার এবং','সুন্দরবন
এবং অন্যান্য কবিতা', 'এইসব হল্লাগুল্লা' ইত্যাদি ইত্যাদি, গদ্যগ্রন্থ
'পোস্টমডার্ন  মানচিত্র ', ' নানারকম' ইত্যাদি ইত্যাদি, সেইসঙ্গে স্বদেশ ও প্রকৃতিকে
জানার প্রবল ইচ্ছায় সেসব স্থানে সরাসরি  পৌঁছে গিয়ে
 রচনা করেছেন এক- একটি অত্যাশ্চর্য  ভ্রমণ- দলিল
'কুমায়ুন গারোয়াল', 'হিমাচলে ২৭ দিন','চারধাম'...।

' কবিতাপাক্ষিক '- এর কর্মকাণ্ডের  সংখ্যা  অফুরান।দেখতে - দেখতে প্রভাতদার
৭৬- তম শুভ জন্মদিন সামনে চলে এল,জ্যৈষ্ঠ সংক্রান্তি,
 ১৫ জুন ২০২০,সোমবার।তিনি এখনো একইরকম সমান সক্রিয়।
কবিতা,গল্প,গদ্য উপন্যাস, সবেতেই সমান সৃষ্টিশীল, তিনি
সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন,সৃষ্টিশীল  থাকুন আরো আরো
 দীর্ঘ দিন।'কবিতাপাক্ষিক’ - এর প্রথমাবধি সক্রিয় সঙ্গী হিসেবে
 এই আমাদের একান্ত প্রার্থনা।মনে রাখতে হবে
 'কবিতাপাক্ষিক' - এর কথা অমৃত সমান,কেননা ইতিমধ্যে  বাংলাভাষায়
নতুন সময়ের নতুন মহাভারত  লেখা হয়ে গেছে।যদিও
তার পরেও রচনাধারা থেমে নেই।যুগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে
 চলেছে নতুন নতুন যুগ( ১২+১২+...)।কবিতাপাক্ষিক - এর প্রাণপুরুষ 
কবি ও কথাসাহিত্যিক  প্রভাত চৌধুরী, আমাদের প্রিয় প্রভাতদাকে তাঁর
 শুভ ৭৬ জন্মদিনে বিনম্র প্রণাম ও ভালোবাসা  ভরিয়ে দিলাম।

মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০

সুসামঞ্জস্যময় || নাসের হোসেন || কবিতা

সুসামঞ্জস্যময়
নাসের হোসেন

চারপাশে কত যে বেসুরো ঘটনা ঘটে চলেছে
এবং আশ্চর্যের  ব্যাপার এই, যে,এইসব বেসুরো
ঘটনাদের মধ্য থেকেই আবির্ভূত  হচ্ছে  নতুন- নতুন
সুর ও সুরের সমাহার,এবং একথাটাও ঠিক

সুরের মধ্যে থেকেই সুরের জন্ম হয়,অর্থাৎ
সুরবিহীন কোনোকিছু হতে পারে না,যেই কোনোকিছু
বেসুরো হয়ে পড়ছে,পরক্ষণেই  তা সুরময় হয়ে
উঠছে,বিশৃঙ্খলা ঘটে থাকে ঠিকই,তবু তা

পরক্ষণেই  শৃঙ্খলায় পরিণত হতে চাইবে,প্রকৃতির
এই তো নিয়ম,বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই নিয়ম,অসামঞ্জস্য
বা অঘটন ঘটে থাকে,কেননা বিভিন্ন রকমের
সংঘর্ষ  থেকে একেকটা ক্ষয়ের উদ্ভব হয়,এবং

ক্ষয়টাই শেষ কথা নয়,সমস্ত ক্ষয় মিলিয়ে গিয়ে
অপূর্ব সব সামঞ্জস্য গড়ে তোলাই হয়ে ওঠে প্রধান কাজ

শনিবার, ৩০ মে, ২০২০

জন্ম || নাসের হোসেন || কবিতা

জন্ম
নাসের হোসেন

জীবনটা মোটেই জটিল কিছু নয়, তবু তা জটিল
ওপর- ওপর দেখতে বড়োই সরল মনে হয়
জীবনের অনেক সেকটর, প্রতিটি সেকটর- ই
কর্মব্যস্ত,তুমি যদি মনে করো অমুক সেকটর

মটকা মেরে ঘুমোচ্ছে, সেটা মটকা- ই,কারণ
আসলে সে ঘুমোচ্ছে না,কেননা এত কর্মব্যস্ততার
মাঝে ঘুম---একটা নির্ভেজাল নি:শব্দ ঘুম---আসে না
মস্তিষ্ক সর্বদাই সজাগ,কোথাও কোনো অঘটন

ঘটলো না তো? ওই ডেকে উঠছে কোকিল
ওই ডেকে উঠছে কাক,একজন সুরের রাজা
অন্যজন বেসুরের রাজা,দু- জনের দ্বৈরথ থাকলেও
বেসুরের অশোভন বাসাতেই তো সুরের শাবকেরা জন্ম নেয়

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...