প্রভাত চৌধুরী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রভাত চৌধুরী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২১

কিছু বই কিছু কথা ২৬২ । নীলাঞ্জন কুমার || রোল কল । প্রভাত চৌধুরী । ত্রিষ্টুপ প্রকাশনী

 

কিছু বই কিছু কথা ২৬২ । নীলাঞ্জন কুমার


রোল কল । প্রভাত চৌধুরী । ত্রিষ্টুপ প্রকাশনী

। পন্ঞ্চাশ টাকা ।


' কেননা হাসিমারা যাবার আগামীকাল ঠিক/  কখন আসবে আর কখনই বা ছাড়বে/  তার ওপর নির্ভর করছে রোল নম্বর টু- এর  উইক এন্ড ' ( রোল নম্বর টু)
কিংবা ' রুটিন কাজের বাইরে অনেকগুলি জার্সি/  এখন কোনটি রোল নম্বর ফাইভের পছন্দ হবে/  তা কিন্তু রোল নম্বর সিক্সও জানে না । ' ( রোল নম্বর ফাইভ' ) কবি প্রভাত চৌধুরীর পোস্টমডার্ন চরিত্রের লেখা এই ধরনের কবিতাগুলো তাঁর অনেক কবিতার মতো  পেয়ে যাই। সাম্প্রতিক কাব্যগ্রন্থ ' রোল কল ' প্রধানত সিরিজকেন্দ্রিক বারোটি কবিতার ভেতর দিয়ে
এক চরিত্র গড়ে উঠেছে । কবি এই কাব্যগ্রন্থে  কোন চমক সৃষ্টির দিকে যাননি বলে তাঁর কবিতা গভীরতায় পৌঁছাতে পেরেছে , যেমন:  ' যারা ভাবছেন এরপর দেবরাজ ইন্দ্র  / স্বর্গ থেকে রথে করে পাঠিয়ে দেবেন বৈভব/  তাদের ' ভাবনা' কে ' ভবসাগরে পাঠিয়ে দিলাম ' ( ' রোল নম্বর সেভেন ' ) , ' এইমাত্র সাধনের সঙ্গে যে কথা হল/  তখন ওকে বোধিদ্রুমের কথা মনে হয়নি/  রোল নম্বর ইলেভেন সবসময়/  গাছগাছালির সঙ্গে থাকতে চায় ' ( ' রোল নম্বর ইলেভেন ' )  এর সামনে দাঁড়িয়ে কবির সোজাসাপটা কথার ভেতর যে  বাহাদুরি চুপিসারে লুকিয়ে থাকে তাকে খুঁজে পাওয়ার আনন্দ পাওয়া যায় ।
            কবি প্রভাত চৌধুরী সেই কবি যিনি খোঁজেন সেই কবিতা যার ভেতর দিয়ে গড়ে উঠতে পারে অসংখ্য ভাবনা । তাঁর কবিতার মাধ্যমে তিনি সকলকে বেঁধে ফেলতে  আগ্রহী । পার্থপ্রতিম আচার্যের প্রচ্ছদের গভীরতা তারিফযোগ্য ।




সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য ২২০ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী





২২০.

' বলার কথা কম। সেকারণে বারবার একই কথা বলি ' এবার আমার বিরুদ্ধে আপনি একদম সঠিক কথাটি বলেছেন। অর্থাৎ আমার শূন্য কলসিটির সন্ধান আপনি পেয়ে গেছেন। আপনি আমার অজ্ঞানতা জেনে গেছেন। বুঝে গেছেন। আমার মুখোশ খুলে ফেলেছেন। আমি আপনার এই মতের কোনো বিরোধিতার রাস্তায় হাঁটতে যাবো না। কারণ আপনার বিরুদ্ধে যাবার কোনো ক্ষমতাই নেই। যথার্থই আমার বলার কথা খুবই কম।

আমি গত দু-দশকের বেশি সময় ধরে বা গত কুড়ি বছরেরও বেশি সময় প্রায় একই কথা বলে চলেছি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে।কথাটি হল : আপডেট।

কবিতাকে আপডেট করতে হবে।

এবং

আপডেট করা-ই কবিদের প্রধানতম কাজ।

কিছু কিছু জন্মান্ধ মানুষ আছেন , তাঁরা আপডেট শব্দটি চিনতে চান না।তাঁদের কবিতার পরিমণ্ডল  চল্লিশের অ-প্রধান কবিদের অনুরূপ। তাঁদের কবিতা থেকে যেসব বর্ণমালা বা শব্দ উঠে আসে সেসব এতটাই  প্রাচীন যে আজকের সময়ের সঙ্গে খাপ খায় না। তবু তাঁরা আছেন। সুখে আছেন। গণতন্ত্রে আছেন। সমমতের সঙ্গীদের সঙ্গে মস্তিতে আছেন। তা থাকুন। ইচ্ছে মতো থাকুন। কিন্তু রাস্তাঘাট ঠিকঠাক জেনে এবং চিনে চলাফেরা করতে হবে তো।  মনে রাখতে হবে রাস্তায় এখন গ্যাসবাতি নেই। নতুন প্রযুক্তির সব আলো লাগানো হয়েছে। চোখ ধাঁধিয়ে যেতে পারে । কালো চশমা এবং হাতে সাদা লাঠি ব্যবহার করুন।

অপেক্ষা করুন , অচিরেই ব্রেইল লিপিতে আপডেট কথাটির ব্যাখ্যা বাজারে এসে পড়বে । ততদিন বাড়িতেই থাকুন । নিরাপদে থাকুন। সাম্প্রতিক কবিতা থেকে শতহস্ত দূরে থাকুন। এসব পড়লে আপনার মানসিক শান্তি বিঘ্নিত হবে ৷

আগের অংশটা লিখেছিলাম ৯ ডিসেম্বর। সকালে । তারপর আমি লেখার মতো অবস্থায় ছিলাম না। আমি ক্ষমাপ্রার্থী। এখনো লেখার মধ্যে ফিরতে পারিনি। 

নাসের হোসেন-এর চলে যাওয়াটা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। খুব কষ্ট হচ্ছে।

নাসের যে কেবলমাত্র আমার বন্ধু ছিল , ভাই ছিল ,সহযোদ্ধা ছিল তা নয়। নাসের ছিল আমার পথ-প্রদর্শক। আমার থেকে বয়সে বেশ অনেকটাই ছোটো। তবু আমাকে পথ দ্যাখাতো , শুনতে না বিশ্বাস করতে অসুবিধা হলেও এই কথাটি খাঁটিকথা।

নাসের -এর অনুপস্থিতে আমাকে পথ হাঁটতে হবে। এটা কীভাবে সম্ভব তা জানি না।

আমি তো এতদিন নাসের -এর পায়ে হাঁটতাম। আমি গত কয়েক বছর হাঁটাহাঁটি কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলাম ।আমি আমার পা-কে ঠিক রাখতে পারতাম না। ব্যবহার করতাম নাসেরের পা। আমি কানেও শুনতে পাই না। যতটুকু শুনি তা নাসেরের কান দিয়ে। আমার দ্যাখার অনেকটাই নাসেরের চোখ দিয়ে। আর পরামর্শ ! প্রায় সবটাই নাসেরের পরামর্শে ছিল আমার যাপন। 

এখন এক নতুন অবস্থায় , নতুন পরিস্থিতি ! দেখি কী হয় ! এখন একটা নতুন পথের সন্ধান করতে হবে।

দেখি কী হয়।

বুধবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ২১৯ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক বিভাগ

 সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



২১৯.

আমার প্রিয় পাঠকদের কেউ কেউ আমার দেমাক-এর কারণ জানতে চান। মুখে বা মুখ ফুটে কেউ-ই বলেননি। আমি অনুমান করেছি মাত্র । এই অনুমান- কে সম্মান জানিয়ে কিছু তো লিখতেই হবে। যদি এমন হয় ,  আমার একজন পাঠকও আমাকে দেমাকি না ভাবতেও পারেন , তাহলেও অন্তরিক্ষ থেকে যখন লেখার আগে এসে উপস্থিত হল , তখন আমার নিজের কাছেই এর জবাবদিহি করতে হবে। 

আপনাদের অজানা নয় , আমি যে কোনো শব্দকে ভালোভাবে জানা তথা বোঝার জন্য অভিধান নামক ছাতাটির আশ্রয় গ্রহণ করি।

সেখানে কী পেলাম তা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।

দেমাক , দেমাগ (< আ দিমাগ ) বি --- অহংকার , গর্ব , গুমোর ।

অভিধান আমাকে জানিয়ে দিল :

১ ॥  মূল শব্দটি আরবি ,' দিমাগ ' - এর উৎস।

২॥ এটি বিশেষ্য ।

৩ ॥ এর আভিধানিক অর্থ  :  অহংকার , গর্ব , গুমোর।


এই অর্থ জানার পর আমার উত্তর হল  :

ক . আমি অহংকারী

খ . আমি গর্বিত বা গর্ব অনুভব করি

গ. আমার বেশ গুমোর আছে


তাহলে এরপর আপনিও আমাকে অহংকারী ভাবতে পারেন। বা আমাকে অহংকারী ভাবটাকে আমি অস্বীকার করবো না। এখন আপনি কী করবেন সেই সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে। আপনার কাজ আপনি করবেন। আমি সেখানে নিরপেক্ষ।

কিন্ত আমার নিজের কাছে আমি দায়বদ্ধ আমার   ' 'দিমাগ-'- এর কারণ বা উৎস কোথায় , তা স্পষ্ট করে জানাতে।

সেই কারণ আমি একাধিক বার বলেছি , লিখেছি । তবু আরো একবার লিখছি। এমন অনেক ঘটনা , যা এই লেখাতেও আপনারা পড়েছেন , তবু আরো একবার পড়তে বাধ্য হচ্ছেন , আমি আরো একবার লিখছি বলে।

প্রথমেই জানিয়ে রাখি , আমার উৎসে আরব নেই। আর আরব না থাকলেও আমার দেমাক থাকবে না , এটা মেনে নিতে পারলাম না। আমি গর্বের সঙ্গে বলি আমার দেমাক যেমন আছে , ঠিক তেমনি দিমাগও আছে।

আর দিমাগ-এর উৎস সন্ধানে আপনাদের আরবদেশে যেতে হবে না। আশেপাশে কয়েক পা আমার সঙ্গে পা মেলালেই আমার দেমাকের  দ্যাখা পেয়ে যাবেন।

কদিন আগে কবিতাপাক্ষিক-এর ১০ বছর পূর্তি উৎসবের ঘটনাবলিতে মিশে আছে আমার দেমাগ। আমি সেই দেমাকগুলিকে  পরপর সাজিয়ে পরিবেশন করি , যাতে সকলের বুঝতে কোনো অসুবিধা যাতে না হয়। কোনো আড়াল নয়। কোনো লুকোচুরি নয়। কোনো হেঁয়ালিও নয়। সোজা কথা সোজা পথেই আসুক।

  চলুন যাওয়া যাক সোনামুখী । বাঁকুড়ার এক প্রাচীন জনপদ। আজকের তারিখটাকে গ্রীষ্মকালের যে কোনো একটা তারিখ বানিয়ে নিন। হাঁটুন বা হাঁটতে থাকুন আমার সঙ্গে সঙ্গে। আপনি আমার সঙ্গে বর্ধমান থেকে আড়াই ঘণ্টা বাস-জার্নি করে এসেছেন।  আপনি রিক্সা চেপে গন্তব্যে যেতে পারতেন। আমার একগুয়েমির জন্য আপনি হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন। মাথার ওপর ছাতাও নেই। ছাতি ফেটে যাবার উপক্রম। হঠাৎ আপনি শুনলেন :

কবিদের মাথায় রোদ লাগে না।

আমার মুখ-নিসৃত কথাটি শোনার পর আপনার চারদিক থেকে যাবতীয় গরম উধাও হয়ে গেল । আপনি মেনে নিলেন :

কবিদের মাথায় রোদ লাগে না।

আপনি দেখতে পেলেন একজন বৃদ্ধ মানুষ ঠিক এই রকম পরিস্থিতিতে এক দৃঢ় সংকল্পে গাছ লাগিয়ে চলেছেন ।  গরমকালের শান্তিনিকেতনে ।

এরপর তো আপনার গরম লাগার প্রশ্নই আসে না।


 এরপর চলুন রঘুনাথগঞ্জ যাওয়া যাক। মনে করুন তখন বর্ষাকাল। আপনি আমার সঙ্গে হাঁটছেন। অনুষ্ঠানস্থলের দিকে। বিকেলের দিকে। শুরু হল ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। আপনি মাথা বাঁচাতে ব্যস্ত। আমি সেই সংকট মুহূর্তে বলে ফেললাম :

 কবিদের গায়ে বৃষ্টির জল পড়লে , সেই বৃষ্টিজল আতরে রূপান্তরিত হয়।

আপনি বিশ্বাস করলেন কিনা সেটা কোনো বলাটা কোনো ফ্যাক্টর নয় , আমার বলাটাই মানুষ মনে রাখবে। বিশ্বাস না হলে বৃষ্টিদিনে আমার সঙ্গে চলুন শান্তিনিকেতনে । আমি যাঁকে অনুসরণ করে ওখানে বা সর্বত্র হাঁটাহাঁটি করি , আর  আমার পেছনে আপনি হাঁটতে থাকুন । বৃষ্টি আসুক ঝিরিঝিরি। আপনার ঘ্রাণেন্দ্রিয় জানিয়ে দেবে পরিপ্রেক্ষিত আতরগন্ধে ভরে উঠেছে।


এই বলতে পারাটাই আমার দিমাগ। এই জন্য আমি আমার দিমাগ। এই জন্য আমি বলেছিলাম বা লিখেছিলাম : 

আমার একটা পা কাঠের অন্যটা আরবদেশের এক বাদামি ঘোড়ার।

কাজেই আরবি দিমাগ আমার থাকবেই , আপনি এই দেমাক-কে অহংকার-এ রূপান্তর করে নিতে পারেন , বাসনা হলে ।

আপনার মনোবাসনা পূর্ণ হোক।

মঙ্গলবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য ২১৮ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



২১৮.


আমরা একটা নতুন ভাষা যুক্ত করেছিলাম বাংলা কবিতায়। নতুন লেখনশৈলী। যা নতুন কবিদের আকর্ষিত করেছিল । আর একটা কথা আমি দীর্ঘ-দিন ধরে বলে আসছি। কথাটি আমার নিজের নয়। অগ্রজ কবি বিনয় মজুমদার -এর কথা। বিনয়দাই প্রথম বলেছিলেন কথাটা।  কথাটি হল :

একটা শতাব্দীতে পাঁচ জনের বেশি কবি হয় না।

আমিও হিসেব করে দেখেছি । বিনয়দা একদল নবীন কবিকে উনবিংশ শতকের পাঁচজন কবির নাম জিগ্যেস করেছিলেন। নবীন দলের একজনও উনবিংশ শতকের পাঁচজন কবির নাম বলতে পারেনি। বিনয়দা তারপর বলেছিলেন : আজ থেকে একশো বছর পর যখন তোমাদের বয়সের সেই সময়ের নবীন কবিদলকে বিংশ শতকের পাঁচজন কবির নাম জিগ্যেস করা হবে তখন তারাও পাঁচজনের নাম বলতে দশ মিনিট ভাববে।এই কথা বলে বিনয়দা তাঁর নিজস্ব অট্টহাসি হেসেছিলেন ।তারপর আমিও অনেক তরুণতমদের কাছে উনবিংশ শতকের পাঁচজন কবির নাম বলতে চেয়েছিলাম। তাদের একজনও পাঁচজনের নাম বলতে পারেনি। অনেকে আবার উনবিংশ শতকের কবি হিসেবে সাম্প্রতিক জনপ্রিয় কবিদের নাম বলেছেন । তারা যে কবিতার লোক নয় , এটা বলার জন্য দুবার ভাবতে যাবো কেন !

আবার গত বেশ কয়েক বছর বইমেলার স্টলে বই বিক্রি করার অভিজ্ঞতা থেকে জেনেছি বহু ক্রেতা আমাদের স্টলে এসে জনপ্রিয় এক কবির কবিতার বই দেখাতে বলেছেন। আমি বই-এর নাম জানতে চেয়েছি। একজনও একটি বই-এর নাম বলতে পারেনি !

বাস্তব চিত্রটা এতটাই ভয়ংকর। ভয়াবহ।

আমি এই পরিস্থিতিতে খুব জোরের সঙ্গে বলি : একটা শতাব্দীতে মোট পাঁচজন কবি হবে।

এজন্য অনেকে আমার সঙ্গ ত্যাগ করেন যেমন , আবার কয়েকজন চেষ্টা করেন পাঁচজন হবার।  আমি ইতিহাসের কথা , উত্তর-ইতিহাস দেখতে পাই।

এবার বিষয়ান্তরে যাই । কবিতা সম্পর্কিত কিছু আদিকথা নিয়ে আলোচনা করা যাক। 

প্রথমেই আমন্ত্রণ করি : ' কল্পনালতা ' শব্দটিকে। অর্থাৎ ' কবিতা কল্পনালতা ' এই শব্দবন্ধটি  মনোযোগ দিয়ে জানাতে চাই : প্রত্যেক কবির নিজস্ব একটি করে লতা আছে , কল্পনার লতা।

হুইটম্যানের লতাটি যেমন খোলামেলাবাতাসের খবর দ্যায় , রবীন্দ্রনাথের লতাটি পৌঁছে দ্যায় ঝরনাতলার নির্জনে।

শুধুমাত্র এই একটি মাত্র বাক্য -কে  নিয়ে একটা 

PHD পেপার তৈরি করা যায়। কিন্তু আমার তো PHD করার কথা নয়। কী কাজে লাগবে এই PHD !

আমার কাজ নতুন কবিদের পথ দ্যাখানো। দেখতে যারা আগ্রহী কেবলমাত্র তাদের জন্যই এইসব লেখা।আমি মনে করি এক একজন কবির পারিপাশ্বিকতা থেকেই তাঁর কল্পনালতাটি বেড়ে ওঠে। পরিমণ্ডল একটি জরুরি শব্দ।

যেমন ধরুন আমার শৈশবের একটা অংশ বাঁকুড়ার জঙ্গলের আশেপাশে ছড়িয়ে আছে। কাজেই আমার কল্পনালতাটি থেকে মাঝেমধ্যে মাদলের বোল শোনা যাবে। আবার যিনি নদীতীরে বেড়ে উঠেছেন তাঁর লতায় বেজে উঠবে ভাটিয়ালি।

এটা হল শ্রবণপর্ব ।এখন দ্যাখা প্রসঙ্গ এলে বলতে হবে আমার কল্পনালতা দেখাতে চাইবে একটা হরীতকীগাছ এবং মহুয়া-র গন্ধ।আর নদীতীর দ্যাখাতে চাইবে স্রোতের বিপরীতে মাছেদের সাঁতার।

বিশ্বসাহিত্য বা বিশ্বকবিতায় এমন নজিরও দেখতে পাওয়া যায় , দুজনের কল্পনালতা-র গতিপথ একই রকম। এই পরজীবী কবিরা বেশ শক্তিশালী  । যেমন একটা পাম জাতীয় গাছকে আশ্রয় করে যে মানিপ্লান্টটি বেড়ে ওঠে সেটি বাড়ির টবে পালিত মানিপ্লান্ট থেকে অনেকগুণ শক্তিশালী মনে হয়। এখানেই পরজীবীদের নামে জয়ধ্বনি অনেক বেশি শোনা যায়।

এসব আমাদের জানাকথা , শোনাকথা। এতে আমি বিব্রত হই না। এই পরজীবীরা ততদিন জীবিত থাকবে যতদিন ওই পামগাছটি টিকে থাকবে।

অথবা যখন অনেকেই জেনে যাবেন পরজীবীর প্রকৃত পরিচয়। আমরা কি ততদিন হাত গুটিয়ে বসে থাকবো ?

না। আমরা আমাদের নিজস্ব লেখা চালিয়ে যাবো।

 ' নিজস্ব' মূল্যবান বিশেষ্যটির প্রতি মুগ্ধ থাকবো।কারণ আমাদেরমূল্যবান অজানা নয় ' নিজ 'থেকেই নিজস্ব ।

সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য ২১৭ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক বিভাগ

 সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



২১৭.


অনেক কবি , মহাকবি , হাফকবি অতীব গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করেন : কবিদের পত্রিকা হবে অনিয়মিত তথা ক্ষণস্থায়ী । তাঁদের যুক্তি নিয়মিত ব্যাপারটির সঙ্গে কলুর বলদের যতটা যোগাযোগ , সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে ঠিক ততটাই বিরোধ। অর্থাৎ কবিদের পত্রিকা বা লিটল ম্যাগাজিনের দীর্ঘকাল প্রকাশের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। প্রকাশের নির্দিষ্ট কোনো বাধাধরা নিয়ম থাকবে না। অনিয়মিত , এই কনসেপ্টটা -কে প্রমোট করার কারণ নিজেদের অক্ষমতা । আরো একটা গোপন কারণও আছে । সেটি হল , তাঁরা মনে করেন লিটল ম্যাগাজিন হল গাদাবোট , কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে বা নোঙর করেছে প্রতিষ্ঠান নামক আলোকোজ্জ্বল জাহাজটি , কবিদের লক্ষ্য লিটল মাগ্যাজিন নামক গাদাবোটটি ব্যবহার করে দৃরে নোঙর করা জাহাজটিতে ওঠা। এই কার্য সুসম্পন্ন হবার পর আর পত্রিকাটি প্রকাশের প্রয়োজন কোথায় !

কিন্তু আমাদের কবিতাপাক্ষিক-কে আমরা কখনোই লিটল ম্যাগাজিন মনে করিনি।  মনে করেছি প্যারালাল প্রতিষ্ঠান । কাজেই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান একটি কাজ তার নিজস্ব পাঠক তৈরি করা। এই কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা কলকাতায় বসে লেজ নাড়ালে সম্ভব নয় । সরাসরি পাঠকের কাছে পৌঁছুতে হবে। একারণে প্রায় প্রতিমাসে বহরমপুর , বাঁকুড়া কাটোয়া বর্ধমান গেছি , নিজের তাগাদায়। অধিকাংশ সম্পাদক , কলকাতার , তাঁরা কলকাতা থেকেই সমস্ত পশ্চিমবঙ্গকে কন্টোল করতেন। আর তাঁদের তাঁবেদাররা বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে থাকত। তাদের একটু-আধটু নেকনজরে বা কৃপাদৃষ্টিতে তাকাতেন , তাঁরা ধন্য হতেন। তিনি বছরে একবির-দুবার তাঁর অনুজদের  ঠাকুর বা মহাকবি দর্শনে নিয়ে আসতেন কলকাতায়। অনুজরা তাঁকে পয়সা খরচ করে নিয়ে আসতেন । মহাকবি দর্শন করে ধন্য হতেন। 

আমিই প্রথম এই রীতির বিপরীতে গেলাম। আমি সরাসরি যোগাযোগ করলাম জেলার কবিদের সঙ্গে। দিন এবং সময় স্থির করে পৌঁছে যেতে থাকলাম। এই একটা নতুন পরিস্থিতি চালু হল। এরকমটা বেশ কিছুদিন চলতে থাকল।

এই পদ্ধতিতে আমার বিচরণ চলতে থাকল । আমরা ক্রমশ আধুনিকতা থেকে বেরিয়ে এসে পোস্টমডার্নিজম-এর দিকে এগিয়ে যেতে থাকলাম। তরুণতমদের একটা বিরাট অংশ তখন কবিতাপাক্ষিক-এর পরিবারে যুক্ত হয়ে গেল । সেই সময় লক্ষ করলাম আমি যে সপ্তাহে দুর্গাপুর গেলাম তার পরের সপ্তাহে এক তাত্ত্বিক পৌঁছে গেলেন দুর্গাপুর। এভাবেই আমার বহরমপুর যাবার পরের সপ্তাহে তিনি পৌঁছে গেলেন বহরমপুর। 

এখানে একটা অঙ্ক কাজে লাগিয়েছিলেন সেই তাত্ত্বিক। ধরুন , বহরমপুর বা দুর্গাপুরে ১০ জন করে কবি কবিতাপাক্ষিক-এর সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু দ্যাখা গেল এই ১০ জনের মধ্যে ৮ জন বেশি সুযোগ পাচ্ছে কবিতাপাক্ষিক-এ । তখন টার্গেট হল বাকি ২ জন। সেই ২ জনের সঙ্গে ঘনিষ্টতা তৈরি করে আমার থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চলতে থাকল। মূল লক্ষ্য পোস্ট-মডার্নিজম থেকে বের করে আনা। 

ক্রমশ তিনিও একদিন বাংলাকবিতার একজন উপদেশক হয়ে উঠলেন। এতে জলপথভ্রমণকেও ব্যবহার করা হয়েছিল। এককথায় ' ছলেবলেকৌশলে ' তিনি কবিতার আপডেট-কে বিরোধিতা করতে চেয়েছিলেন। অ- কবিতাতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তার আরো একটা বড়ো কারণ বাংলাকবিতায় যে নতুন বাঁক  দ্যাখা যাচ্ছিল তাতে আমার কবিতার একটা প্রচ্ছন্ন প্রভাব দ্যাখা যাচ্ছিল , তাকে আটকানোই ছিল মূল লক্ষ্য।

এসব কথা এতদিন বলিনি বা লিখিনি। এখন লিখলাম। লিখতে বাধ্য হলাম।

রবিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ২১৬ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক বাাািিিিিিভাগ

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী

 


২১৬.

এই সংখ্যার লেখার শুরুতেই একটা ভুল স্বীকার করে নিতে চাইছি।২১৫ সংখ্যায় বা গতকালের লেখায় এই ভুলটা হয়েছিল । অরুণ মিত্র-র নামে যে উদ্ধৃতিটি ছিল সেটি অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়-এর। এর জন্য দুঃখপ্রকাশ করাটা লোকদ্যাখানো। নতজানু হয়ে দুঃখপ্রকাশ করাটা করাটাই রীতি হওয়া উচিত।

অরুণ মিত্র-র যে কবিতাটি ৩০০ সংকলনে ছিল , সেটি অরুণদার বইনামের কবিতা , ভুলে যাওয়া দ্বিতীয় ভুল। 

ওড়াউড়িতে নয় । এই কবিতার বইটির নামকরণ করেছিলাম আমি। অরুণদার এই কবিতাটির নাম থেকেই বই-এর নামকরণ। এখন সেই কবিতাটির কয়েকটি লাইন পড়ে দেখুন।

' ও-সব ওড়াউড়িতে নয় , রামচরণ সাফ জানিয়েছিল, 

ওভাবে হয় না, কুরে কুরে মাটিতে সেধুঁলে হতে পারে

হতে পারে কেন হবেই, বলেছিল রামচরণ, 

তখন তো আর ফুলটুল ফোটানোর ভাবনা নেই

কয়লা চুন পাথরের পাশাপাশি মাটির মধ্যে

জমবে হাড়, পয়লা নম্বর খাঁটি সার। '


কোটেশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরো বেশি সচেতন থাকা উচিত । এই বয়সে ততটা সচেতন হওয়া সম্ভব নয় , তেমনটাই মনে হচ্ছে। কাজেই কোটেশন থেকে সরে আসছি। বরং নিজের কথা বলা যাক। বা মাঝে মাঝে কোটেশন নয় , পুরোটায় কোটেশন হোক। এতে নাম ভুল হবার কোনো সম্ভাবনা থাকছে না।   

যাবতীয় বলাবলি সবটাই ' আপনকথা ' ।

এখানে আপনকথা বলতে কবিতাপাক্ষিক-এর সঙ্গে  যুক্ত-আপনকথা ।

আমি , ব্যক্তিগতভাবে আমি , গভীর বিস্ময়ে লক্ষ করতাম , যে কবি-লেখকরা , আরো নির্দিষ্ট করে কবি - সম্প্রদায়  প্রচারের আলো পান না। সেই আলো পাশ কাটিয়ে চলে যায় ফুটবল-গ্রাউন্ডে । যে দেশে তখন পর্যন্ত ফুটবল খেলা শুরুই হয়নি সেখানে একজন ফুটবলার যে প্রচার পান , সে তুলনায় একজন প্রতিষ্ঠিত কবি তার এক শতাংশ প্রচার পান না। মূলত সংবাদপত্রের পলিশিমেকাররা কবিদের মানুষ বলেই গণ্য করেন না। অথচ ভুল-ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত মানুষজনরা বেশ করেকম্মে খেয়ে চলেছেন ৷

গোটা ভারতবর্ষ যে অসংখ্য ফুটবল-ক্লাব আছে, তার সঙ্গে যুক্ত মানুষজনের যোগফল কমপক্ষে পাঁচলক্ষ , এমনটাই আমার বিশ্বাস। এমনকী মোহনবাগানের শিল্ডজয়-কে স্বাধীনতা-আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করা হয়ে থাকে। এর থেকে বড়ো মূর্খামি আর কোনো কোথাও নেই। আদতে মোহনবাগান কোনো ফুটবল ক্লাবকে হারিয়ে শিল্ড জয় করেনি। হারিয়েছিল

East Yourshire Regiment কে । রেজাল্ট  2 --1.


এই প্রসঙ্গে একটা কথা খুব স্পষ্ট করে জানাতে হয় , মোহনবাগান কোনো ফুটবল টিম-কে হারায়নি । হারিয়েছিল একটি সৈন্যদলকে।

East Yorkshire Regiment -a জীবনকথা পেলাম ইন্টারনেন্ট সূত্রে।

জন্ম 1685 , মৃত্যু 1958 ।

 ওই রেজিমেন্টের যাঁরা সৈন্য তাঁরা অবসর সময়ে ওদেশের ফুটবলকে পরিত্যাগ করতে পারেননি। তারা নিজেদের মধ্যে ফুটবলটিম বানিয়ে খেলাটাকে জারি রেখেছিল। এভাবেই I F A শিল্ডে খেলা। এই I F A -এ শিল্ডে যেসব বিদেশি দল যোগ দিত তাদের সকলেই বিভিন্ন কাজের সূত্রে কলকাতায় এসেছিলেন।  তাঁরা কেউই ফুটবলার ছিলেন না। এঁদের কাছ থেকে যে ফুটবল বাঙালিরা শিখেছিলেন তাকে আমি ভুল-ফুটবল বলি।1911-র  11 কিংবা 13 বছর পর ফুটবল খেলা শিখেছিল ব্রাজিল। অনেক পরে ফুটবলে পা দিয়েছিল কোরিয়া ইরান চিন জাপান। তারা সকলে ফুটবলে এগিয়ে গেল , কারণ তারা ফুটবলের কোচ পেয়েছিল , শুরুর দিনগুলিতে। আর পৃথিবীর অন্যতম কোচ অনেক চেষ্টা করেও  মিলোভেন ভারতীয়দের ফুটবল শেখাতে পারেননি। সেই ভারতীয় তথা বাঙালিদের ফুটবল নিয়ে সংবাদপত্র হল্লাগুল্লা করে।

সেইসব হল্লাগুল্লা কমানোর প্রয়াস হল কবিতাপাক্ষিক 

বা কবিতার একটি নিয়মিত কাগজ। অনিয়মিত-ই কবিতার ঐতিহ্য , এই ঐতিহ্যকে বদলাতেই কবিতাপাক্ষিক। আরো অনেক কথা আগামী পর্ব গুলিতে। পড়তে থাকুন।

শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য ২১৫ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



২১৫

এবার গদ্যের রীতিতে একটু পরিবর্তন আনছি।প্রথমে কবিতার কোটেশন , পরে কবির নাম ।

১ ॥ ' নক্ষত্র খোঁজার সেই খেলা / কতকাল যে খেলিনি... অথচ কত ছোটো এ গোলার্ধ/ হাত বাড়ালেই আকাশ ... তবু কোথাও কোনো পোস্টম্যান নেই '। : অরুণ মিত্র 

২ ॥ ' শহরের রাস্তায় রাস্তায় ধর্মভীরু অক্ষম ষাঁড়ের আস্ফালন ' : কাননকুমার ভৌমিক

৩ ॥ ' তখন থেকেই তাকে দেখি / না- বাজানো তানপুরার রাগরূপাবলি অভিমানে চৌদিকে ঘুরে বেড়ায় '। : অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত

৪ ॥ ' অন্ধকার কিছু যুক্ত করে না / অন্ধকার কারো সঙ্গে যুক্ত হয় না ---/তার পূর্ব তার পরের সঙ্গ সমতল' : আলোক সরকার

৫ ॥ ' জন্মগ্রহণ করতে হলে প্রাণ নিয়ে / জন্মগ্রহণ করতে হয়।' : বিনয় মজুমদার

৬ ॥ ' ... সৃজনের / পথে হাঁটো নিত্যদিন,  ফোটাও মৃত্যুর ঠোঁটে সজীব কুসুম ।' : শামসুর রাহমান

৭ ॥ ' ঘরের খাইয়া বনে তাড়াইতে যায় / রাশি রাশি মোষ, হায়, কী হবে উপায়---' : শঙ্খ ঘোষ

৮ ॥ ' জেনো, মাটি ও ফলনে চোখ রেখে, তিনি / ডেকে গিয়েছেন, চোখ বুঁজে, / তোমাদেরই কবি অরুণ মিত্র।। ' : সিদ্ধেশ্বর সেন

৯ ॥ ' কোনো পুরুষের হাতে আংটি দেখলেই তার সঙ্গে /আর ভালো করে কথা বলতে ইচ্ছে করে না/ এটা আমারই দোষ!' : সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

১০ ॥  ' এখন কল্পনা করা অসম্ভব যে, কোনো এক সময়/ বালিগঞ্জ আর কসবার মাঝখানে/ ছিল একটা লেভেলক্রসিং, /তখন এই বিজন নামের সেতু ছিল না , ছিল না এক লাফে টপকিয়ে কলকাতার বাইরে পৌঁছে যাওয়ার সুবিধা। ' : শরৎকুমার মুখোপাধ্যায় ৷


১১ ॥ ' হাওয়া এল , এবং বৃষ্টি, /কুয়াশা মুছে ফেলে উপত্যকার গাছগুলোকে,/ আর রইল পিছনে আমার টানা পথ:/  ধূসর গঞ্জ-গ্রাম, ' : শান্তিকুমার ঘোষ

১২ ॥ '  পাখিগুলো তো ফিরে এল বলে। বিকেলের ট্রেন/ এখনো দাঁড়িয়ে স্টেশনে। পায়নি সিগন্যাল।' :সুধেন্দু মল্লিক

১৩ ॥ ' তাকে খোঁজা তিলে তিলে মৃত্যুকেই তিলোত্তমা করা / তবু খুঁজতে হবে '। : রাম বসু

১৪ ॥ ' আপনি এত ইমপালসিভ হবেন না , ফলওয়ালার কাছে গিয়ে/ শুনলাম মাঝেমাঝে নেভাদার কথা জিগ্যেস করেন ?/ কী করে জানল টেকচাঁদ , মার্কসবাদী শ্রীসুবিমল সেন ।' :  প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত 

১৫ ॥ ' এক নিমগাছের কয়েকটি পাতা কম পড়েছিল। ঘ ১২।৩৭ গতে রোহিনীনক্ষত্র ছিল পাতা গজানোর শুভক্ষণ । ফলে সে জ্যামিতিবক্সের শরণাপন্ন। জ্যামিতিবক্সের মধ্যে এককালে যাজ্ঞবশ্ক্য ; থাকতেন '। : সমীর রায়চৌধুরী

১৬ ॥ ' যাই বলুন / কবিতার হাড়-মাস , শিরা-উপশিরা , আধি-ব্যাধি, এগজিমা-আলসার, কোলেস্টেরল/ ইত্যাদির ব্যাপারে ওঁর মতো সমঝদার মানুষ দুটি দেখিনি এখনো।

...   ...   ...

এইসব দেখি / আর বুঝতে পারি উনি একেবারে সময়ের ছাঁচে তৈরি।একই সঙ্গে বামন ও বরাহ। ' :

পূর্ণেন্দু পত্রী

১৭ ॥ ' প্রত্যেক মুখেই আছে তিনটে চারটে অদেখা বিষাদ/ যেন বা ত্বকের নীচে অন্য ত্বক, ' : দিব্যেন্দু পালিত

 ১৮ ॥ ' তুমি কি শুনতে পাও জলার ধারের পুরনো পাকুড়ের শিরাওঠা শিকড়ে/ বিপন্ন কালো , বেড়ালের ধূসর সবুজ ডাক' ; ফণিভূষণ আচার্য

১৯ ॥ '  অশ্রুহীন ক্রোধহীন/ আমি শুধু ভুল ট্রেনে চেপে/ হঠাৎ হঠাৎ / তোমার স্টেশন ভেবে নামি। ' :অমিতাভ দাশগুপ্ত 

২০ ॥ ' অ্যালার্ম বেজেছে, কিন্তু মনে নেই। ঘুম ভাঙতে চোখে পড়ে ঘড়ি। / এগারোটা বাজে। সেই পুরোনো গন্ধের মোহ নাকের নিকটে ঘুরে গেল ; : ভূমেন্দ্র গুহ 


আরো কিছু কবিতার কথা , আগামী সংখ্যায়।

শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য ২১৪ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য 

প্রভাত চৌধুরী



২১৪.

কবিতাপাক্ষিক ৩০০ সংখ্যায় মোট ৪২১ জন কবির কবিতা ছাপা হয়েছিল । সংখ্যাটা কোনো পজিটিভ চিহ্ন বহন করে না । আমি বরং আমার থেকে অনুজ কবিদের মধ্য থেকে কয়েকজনের কবিতার অংশ নির্বাচন করে আমার আলোচনায় বা লেখায় স্থান দিচ্ছি। 

প্রথমেই জানিয়ে রাখছি কবি নির্বাচনে পক্ষপাত থাকবেই , কেননা আমি কোনো দিনই  'নিরপেক্ষতার মুখোশ ' -এ আবৃত রাখি না। আমার পক্ষপাতিত্ব খোলাখুলি। এই ঘোষণা করলাম , নিজের দৃষ্টিভঙ্গীকে স্বচ্ছ করার জন্য। আমাকে ভালোমানুষ ভাবার কোনো কারণ নেই। আমি কী লিখি সেটুকু -ই আমার পরিচয়।

সেই সূত্রে আমি প্রথমেই নিখিলকুমার সরকারের ' একটি রঙের জন্মকথা -র প্রথম কয়েক লাইন :

' গতকালের সূর্যাস্তের ভেতর আজকের সূর্যোদয় মেশাতেই/ যে নতুন রংটি প্যালেট উপচে পড়ল, সেই রঙের সঙ্গে / আমার কোনো পূর্বস্মৃতি অথবা বিস্মৃতি জড়িয়ে নেই '

অমিতাভ মৈত্র -র ' হারানো-প্রাপ্তি-নিরুদ্দেশ ' কবিতাটিতে ২টি প্রতিবেদন ছিল। প্রথমটি থেকে :

' একজন কালো মেয়ে যখন কালো কোনো স্ফটিকের সামনে মনঃসংযোগ করে, / তখন কিছু একটা হারিয়ে যায় সেই স্ফটিক থেকে , একটা কিছু হারিয়ে যায় সেই কালো  মেয়েটির থেকে --- আর এই দু-রকমের হারিয়ে যাওয়ার মধ্যে একটা রিভলবার বাজনা হয়ে ওঠে আর তার ধাতু ও বারুদের জীবনে ফিরতে থাকে ,'

আমি কোনো ব্যাখ্যা করছি না , কবিতা শবব্যবচ্ছেদ করতে নেই বলে। 

 এরপর আহ্বান করছি স্বপন দত্ত-র কবিতা। কবিতাটির নাম : রোদ্দুর - চন্দনে পুড়ে ।কবিতার শুরুটা :

' নাঃ , আজ এখানে আর একফোঁটাও বসন্তকাল খুঁজে পাওয়া যাবে না। শুধু গর্ত থেকে গর্তে ধূ ধূ ঝুলকালি উড়ে যায়।'

এবার নাসের হোসেন-এর কবিতা , কবিতার নাম : যাচ্ছে , মাটিতে। পড়তে থাকি শুরুর দিকটা :

' গ্রন্থের আড়ালে যে লেখক অবস্থান করে থাকেন তাঁর  সঙ্গে দেখা/ হয় মাঝেমাঝেই, অ্যাতো দেখা তবু মেলাতে পা মেলাতে পারি না , গ্রন্থের থেকেও/ গ্রন্থের লেখক নিজেই 

বিস্ময়কর থেকে যান চিরকাল,'

এর আগে যে চারজনের কবিতার কথা লিখলাম তারা  সকলেই বহরমপুর-কেন্দ্রিক। তার অর্থ বহরমপুরের প্রতি আমার পক্ষপাতিত্ব আছে। হ্যাঁ , আছেই তো। আর এই কারণে আমার বিচার হোক। সেই বিচারালয়ে আমি হাজির থাকবো সময় মতো।

এবার স্থান পরিবর্তন করছি। বহরমপুর থেকে বাঁকুড়া।আর বাঁকুড়া মানেই সুব্রত চেল। সুব্রত-র কবিতা নাম : ' মানুষের ছবি ' । পড়ুন :

' মানুষের ছবি আঁকতে যেও না তমোজিৎ ; /পাখি আঁকো , সময় পেলে বাবার সঙ্গে পাহাড় নদী দেখে এলে/ সেই পাহাড় ও নদীর ছবি আঁকো / মাছের ছবি আঁকো ,/ চিড়িয়াখানায় বাঘ দেখে এসে / আঁকতে বসো বাঘের ছবি।/

...   ...   ...

মানুষের ছবি আঁকতে চেও না / এ পৃথিবীতে যতজন মানুষ তারা ঠিক ততরকমের।/ একটা মানুষের ছবি এঁকে তুমি বলতে পারবে না / তুমি সব মানুষের ছবি এঁকে ফেলেছ ।'

এবার মুরারি সিংহ-র ' আমি ও একটি রবীন্দ্রগান ' কবিতার প্রথম ৩ এবং শেষের ২ লাইন পড়তে চাইছি :

'তুমি গাইলে এই শ্রাবণের বুকের ভিতর আগুন আছে

আমি শুনলাম এই শ্রাবণের বুকের ভিতর ফাগুন আছে


তুমি গাইলে আগুন আমি শুনলাম ফাগুন

...   ...   ...   ...

সেই রবীন্দ্রনাথ যেমন তোমাকে দিয়ে গাইয়ে নিচ্ছে আগুন / সেই রবীন্দ্রনাথ তেমনি আমাকে দিয়ে শুনিয়ে নিচ্ছে ফাগুন '

 এরপর  গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায় -এর ' এক ছিপি আকাশ ' - এর প্রথম ২ লাইন :

' যে কোনো মানুষকে বোতলবন্দি করার গুপ্তবিদ্যাটি এখন ফাঁস হয়ে গেছে / সব্বাই জেনে গেছে যে , একটা গোটা মানুষকে একেবারে বোতলে ভরা যায় না।'

...   ...   ...

বোতলের খোলা মুখ দিয়ে ক্বচিৎ কদাচিৎ দেখতে পায় এক ছিপি আকাশ '

আরো কবি এবং কবিতা আগামীকাল।

বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ২১২ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



২১২. 

কবিতাপাক্ষিক- ৩০০-কে যদি হাফ ওয়ে রূপে চিহ্নিত করি তাহলে একটা তথ্য আরো একবার রিপিট করতে চাইছি। দু-টি তথ্য :

১॥ কবিতাপাক্ষিক ৩০০ পর্যন্ত মোট ১২৭৮ জন কবির কবিতা ছাপা হয়েছিল।

২ ॥ কবিতাপাক্ষিক ৩০০ , এই সংকলনে মোট ৪২১ জনের কবিতা স্থান পেয়েছে।

অর্থাৎ ১২৭৮ --- ৪২১ =   ৮৫২ জন কবি -কে জায়গা দেওয়া যায়নি এই সংকলনে।

তাহলে পাঠক-সাধারণ একটা প্রশ্ন তো করতেই পারেন , তাহলে এই ৮৫২ জন কবির কবিতা পত্রিকাতে প্রকাশ করেছিলেন কেন ? আরো এক পা এগিয়ে জিজ্ঞেস করতেই পারেন , কবিতাপাক্ষিক-এর কবিতা নির্বাচন-প্রক্রিয়ায় কিছু ত্রুটি ছিল সম্ভবত।  শুধু সম্ভবত বলেই পার পাওয়া যাবে না । ত্রুটি ছিলই।এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার মতো কোনো যুক্তি হাজির করতে অপারগ আমি।

নাসের এবং আমি , এই দুজনই সম্পাদনার মূল দায়িত্ব পালন করে আসছি বা এসেছি। আমাদের সম্পাদনাতেই ১২৭৮ জন কবির কবিতা মনোনীত হয়েছিল এবং প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু সিলেকটেড পোয়েমস এর ক্ষেত্রে এমনটা করলাম কেন !

এই ৩০০ সংখ্যাটি যদি সৌমিত্র রায় এবং কল্যাণ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদনা করত , তাহলে আমার জবাবদিহি -র কোনো কারণ থাকত না । আমি লিখে দিতাম এটা তো সৌমিত্র- কল্যাণ করেছে , ওরা বলতে পারবে কেন বাদ দিয়েছে।

আরো দশ বছর পর যখন নির্বাচিত কবিতাপাক্ষিক প্রকাশিত হবে , তখন সেই সম্পাদক যদি মোট ১০০ বা ২০০ জন কবিকে স্থান দেন সেই নির্বাচিত কবিতাপাক্ষিক - তাহলেও আমার কিছুই বলার থাকবে না। কেননা আমার লক্ষ্য ১০০ বছর পর মাত্র ৩ জন কবি নির্বাচিত হোক বিংশ শতকের বাংলা কবিতার ইতিহাসে। আমি বিশ্বাস করি , দৃঢ়ভাবে মনে করি একটা শতাব্দীতে মোট ৫ জন কবি বেঁচে থাকেন। সেই ৫ -এর মধ্যে ৩ জন কবিতাপাক্ষিক-এর।মাত্র এটুকুই আমার লক্ষ্য।


তাহলে নতুন একটা প্রশ্ন এসে উপস্থিত হয়ে যাবে। সেটি হল তাহলে খামোকা এত এত কবির কবিতা ছাপেন কেন ? 

এর একমাত্র উত্তরটি হল : কোন ৩ জন জানি না বলেই ৩০০০ জনের কবিতা ছেপেছি। একটাও ঠিক বললাম না। হয়ত জানি , হয়ত নিশ্চিতভাবে জানি না।

এই দোলাচল থেকেই জোরের সঙ্গে বলতে পারছি না।

আরো একটা কারণ আছে , সেই কারণটি হল 'দল '। যা দলমাদল কামানের মতোই শক্তিশালী। আমাকে ৪০-৫০ জন কবি-কে নিয়ে ঘর করতে হয় । আমি যদি এই মুহূর্তে ৩ জনের নাম ঘোষণা করে দিই তাহলে

৩৭- ৪৭ জন কবি গৃহত্যাগ করবে। ফলে ঘরটাই বা দলটাই অতলে তলিয়ে যাবে। 

আমার এই স্বীকারোক্তি থেকে আপনি বলতেই পারেন এই পরিবারের কোন ৩ জন , তা আমার অজানা নয়। আমি এর কোনো উত্তর দেব না । দিতে বাধ্য নয় বলে। কিন্তু এটা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই ৫ -এর মধ্যে ৩ জন  কবিতাপাক্ষিক-র বা আমাদের।

কীভাবে এই দৃঢ়তা পেলাম , তার সূত্রটুকু জানিয়ে রাখতে চাইছি। বাংলাকবিতার পাঠক যদি কবিতা -পাক্ষিক প্রকাশের আগে কেমন ছিল সামগ্রিক বাংলা- কবিতা , আর কবিতাপাক্ষিক প্রকাশের পর কেমন হয়েছিল বাংলাকবিতা , কেবলমাত্র এইটুকু বিচার করে দেখলেই আমার দৃঢ়তার সন্ধান পাবেন।

বিচারের মাপকাঠি হব ভাষা এবং প্রকরণ।

ভাবুন। বিচার করুন। 

সিদ্ধান্ত আপনার নিজের। আমি এখানে যাত্রাপালার 'বিবেক '- এর ভূমিকায় অভিনয় করছি মাত্র । যাঁর ইতিহাস লেখার কথা তিনিই লিখছেন। আমি বিবেক !

মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ২১১ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



২১১.

 কবিতাপাক্ষিক ৩০০ সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখন অবধি পরিবেশন করা হয়নি। বা আমি করিনি। সেটি হল এই বিশেষ সংখ্যাটিতে জানানো হয়েছিল :

সম্পাদনা : প্রভাত চৌধুরী নাসের হোসেন ।

দুটি নামের মধ্যে কোনো কমা কিংবা এবং অথবা ও ছিল না। প্রয়োজন ছিল না বলেই। অর্থাৎ সম্পদকমণ্ডলী কিংবা এডিটোরিয়াল টিম ছিল না , খাতায়-কলমে।  আদতে টিম তো ছিলই। টিমের সকলের সর্বাকরণ সহযোগিতা তথা সমর্থন ছাড়া আমরা দু-জন এই বিশাল কর্মকাণ্ড  সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারতাম না ।

এই সংকলনটি সম্পর্কে গুটিকয় জরুরি তথ্য জানিয়ে রাখছি।

ডি টি পি হয়েছিল : কবিতাপাক্ষিক ডেস্ক-এ ।

মুদ্রণ : কল্যাণী প্রিন্টার্স , ১৭ কানাই ধর লেন ।

বাঁধাই : শ্রীকৃষ্ণ বাইন্ডিং ওয়ার্কস , ১০১ বি , বৈঠকখানা রোড।

কবিতাপাক্ষিকের পক্ষে যূথিকা চৌধুরী কর্তৃক ৩৬ডি , হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট , কলকাতা ৭০০ ০২৬ থেকে প্রকাশিত।

মূল্য বা দাম : ১০০ টাকা।

কপি রাইট : কবিতাচর্চাকেন্দ্র , কাদাকুলি , ছান্দার , বাঁকুড়া ।

এই তথ্যগুলি পরবর্তীকালের পাঠকদের পক্ষে জেনে রাখাটা কর্তব্য।


এই সংকলনে প্রকাশিত সমস্ত কবিতাই কবিতাপাক্ষিক ১ থেকে ২৯৯ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়ে ছিল।

বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হবে , ২৯৯ সংখ্যায় প্রকাশিত নীলার্ণব চক্রবর্তী সোম মুখোপাধ্যায় শ্রীপার্থ চট্টোপাধ্যায় রাহুল ঘোষ এবং উত্তম চৌধুরী-র কবিতা সংকলনে স্থান পেয়েছিল। আলাদা করে উল্লেখ করতে হয় উত্তম চৌধুরী-র কবিতাটির কথা। যেখানে উত্তম লিখেছিল :

' অবশ্যই তিনশোতম সংখ্যার জন্য তিনশো সেকেন্ড হাততালি --- মানে পাঁচ মিনিট এবং তিনশোটি হাত মানে দেড়শোজন মানুষ হলঘরে থাকবেনই।

উত্তম আরো লিখেছিল :

বাইরে তিনশোটি পতাকা--- লাল,নীল ,হলুদ , সবুজ এবং তিনশোটি না হোক শূন্য দুটি বাদ দিয়ে অন্তত তিনটি সাদা ধবধবে পায়রার আকাশে উড়ান আর তিনবার সমস্বরে জয়ধ্বনি। এবং হলঘরের ভেতরে অন্তত তিনশো মিনিট দুর্দান্ত কবিতাপাঠ আর জমজমাট আড্ডার মাঝে পোস্টমডার্ন বাকশস্যের উত্তাপ নেওয়া ।'

 এই লেখার অধিকাংশ পাঠক জানেন উত্তম চৌধুরী আলিপুরের বা আলিপুরদুয়ারের। উত্তম ৩০০ -উৎসবের প্রায় একমাস আগে দেখতে পেয়েছিল যাবতীয় আয়োজন-কে। মনে রাখতে হবে তখন আমাদের হাতে হাতে ধরা-র মতো 4G প্রযুক্তি চালু হয়নি । আমি এর নাম দিলাম আত্মীয়তা-র নিজস্ব যোগসূত্র ।

নাকি আমরাই ওই কবিতাটি পড়ার পর আমাদের অনুষ্ঠান বা কবিতাউৎসবের ডিটেলস নির্ধারণ করেছিলাম।

তবে এটুকু বলতে আমার দ্বিধা নেই আমি কিঞ্চিৎ বাবু-কালচারের প্রতিনিধিত্ব করার কারণেই পায়রা ওড়ানোটা উত্তমের কবিতা থেকে নিইনি । কেবল বাবু-কালচার নয় ' পায়রা ওড়ানোর ' সঙ্গে শান্তি-আন্দোলনের একটা গা- ঘেঁষাঘেষির কারণেও  হতে পারে।

বাবু-কালচার এবং শান্তি -আন্দোলন , এই দুটির মধ্যে যে কোনো একটি-তে টিক চিহ্ন লাগিয়ে ভাবতে থাকুন , আমি আগামীকালের লেখার কথা ভাবতে বসে যাই।

সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ২১০ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



২১০.

কবিতাপাক্ষিক ৩০০  প্রকাশিত হয়েছিল ২০ মার্চ ২০০৫ । বহরমপুরের ঋত্বিকসদনে। যার কথা গত কয়েক দিন ধরে লিখলাম।

এই সংখ্যাটি আলাদা করে গ্রন্থাকারেও প্রকাশ করা হয়। এর উৎসর্গপত্রটি একবার দেখানো যেতে পারে :

বাংলাকবিতা পত্রিকার প্রথম এবং প্রধানতম রূপকার

                                বুদ্ধদেব বসু-কে

                                  পরম শ্রদ্ধায়

প্রথম সংখ্যাতে যেমন বুদ্ধদেব বসু-র প্রতি আনুগত্য ছিল , ৩০০ তম সংখ্যাতেও সেই আনুগত্য অটুট ছিল। আগাম বলে রাখি যতদিন বেঁচে থাকব , বুদ্ধদেব বসু-র অনুগত থেকে যাব। 

ওই ৩০০ সংখ্যায় আমার সম্পাদকীয় লেখাটির শিরোনাম ছিল : কথার কথা ।

বা কথার পিঠে কথা। কথার ধারাবাহিকতা-ই ইতিহাস। সেই ইতিহাস-কে সম্মান জানিয়ে আমি লিখেছিলাম :

' একবার যে মানুষ নিজেকে স্বাধীন ভেবেছে তার পক্ষে কোনোদিনই স্বাধীনতা বিসর্জন দেওয়া সম্ভব নয়। '

বা তখন বলতে চেয়েছিলাম ' স্বাধীন মানুষকে পোষ মানানো যায় না। 

এই কথার সমর্থনে ঠিক কী লিখেছিলাম সেটাও পড়া হোক :

' আমরা যদি শাসকদলের অনুগামী হতাম অনেক আগেই আমাদের রবীন্দ্রসদনে সংবর্ধনা জানানো হত, আমরা যদি বিরোধীদলের সমর্থক হতাম তাহলে টাউন হলে আমাদের সংবর্ধিত করা হত।শাসকদলের অনুগামী হওয়া কিংবা বিরোধীদলের সমর্থক হওয়া খুব একটা দুরূহ কাজ নয়। কবিতাপাক্ষিকের আগে আমার যে অতীত ছিল , সেই অতীতের প্রথম পর্বে অর্থাৎ ১৯৬৭-র আগে তৎকালীন শাসকদলের বিরোধিতায় ছিলাম, দ্বিতীয় পর্বে ৬৭-র পর ছিলাম তৎকালীন শাসকজোটের সমর্থনে। কাজেই দুটো রাস্তাই আদৌ অপরিচিত নয় আমার কাছে '।

এই লেখাটা লিখেছিলাম ১৩ .০৫. ২০০৫ -এ । পরবর্তীতে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর মনোভাবের বদল ঘটেছিল। তারা হয়ে উঠেছিল দাম্ভিক , অহংকারী তথা স্বেচ্ছাচারী। আমরাও আমাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের লড়াকু মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম।

আর এখনকার অবস্থান , ব্যক্তিগতভাবে আমার, তা কারো অজানা নয় । সেসব পরে লেখার অনেক সময় পাবো। এখন লিখছি কবিতাপাক্ষিক ৩০০ -র কথা , কথার কথা। যেখানে লিখেছিলাম :

' আর মাত্র ২০০ সংখ্যার পরে কবিতাপাক্ষিক ৫০০ প্রকাশিত হবে। ততদিনে  আমার ডানায় অনেক নতুন পালক গজাবে , আপনারা দেখবেন তখনও আমি এরকমই থেকে যাব '।

আরো লিখেছিলাম :

' কবিতাপাক্ষিক ১০ বছর শীর্ষক সংকলনটির প্রাথমিক প্রস্তুতি ছিল , মূলত সেটিকে update করেই কবিতাপাক্ষিক ৩০০ করা হল। কবিতাপাক্ষিক-এ সেই সময় পর্যন্ত ১২৭৮ জন কবিতা লিখেছেন , ১ - ১০০ সংখ্যার সম্মিলিত সূচি কিনতে পাওয়া যায়। এই সংকলনে মাত্র ৪২১ জনের কবিতা নেওয়া গেল। একটা কথা সততার সঙ্গে বলে রাখা ভালো, সম্পর্ক এবং ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া কবি নির্বাচনে, এ কারণে কাঙ্ক্ষিত বহু নাম বাদ পরেছে। কবি হিসাবে সেরকম স্বীকৃত নন এরকম প্রায় ১০০ জনের বহু কবিতা জায়গা পেল না যেগুলি এই গ্রন্থের সংকলিত কবিতার সমমানের, সমতূল্য। নিরপেক্ষ থাকা শিখিনি , এখানেই আমার যাবতীয় ত্রুটি এবং বিচ্যুতি। '

ত্রুটি এবং বিচ্যুতির কথা স্বীকার করাটাকে প্রশংসা করা যেতেই পারে। কিন্তু সময় বা মহাকাল অনেক কিছু মুছে দেয়। এখন মনে  হচ্ছে সে সময় কোনো বিশেষ কারণে কয়েকজন বিশিষ্ট কবিকে বাদ দেওয়াটা কেবল মাত্র আমার একগুঁয়েমির জন্য। এখন মনে হচ্ছে এদের বাদ দেওয়াটা একটা ঐতিহাসিক ভুল। এরজন্য আমি এখন ক্ষমাপ্রার্থী।

ধরা যাক অলোক বিশ্বাস কপা -র প্রথম সংখ্যা থেকে লিখেছে বা অনিন্দ্য রায় ছাত্রাবস্থা থেকে কপা-তে লিখে এসেছে। কবিতা-কে update করার প্রকল্পে এদের অবস্থান কারো থেকেই কম নয় , এমনকী আমার থেকেও কম নয় , এই দুজন সহ আরো কয়েক জনের বাদ যাওয়াটা সম্পাদক হিসেবে আমার ব্যক্তিগত ভুল।

রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য ২০৯ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



২০৯.

দুপুরের খাওয়া-দাওয়ার পর শুরু হল উৎসবের পরবর্তী পর্যায়। সঞ্চালনা নাসের হোসেন। সহায়তা মুরারি সিংহ ।

প্রথমে বাউল গান।গেয়েছিলেন লাল মহম্মদ দিলীপ দাস সুনীতা দাস।

এরপর উপস্থিত কবিদের কবিতাপাঠ। যাঁরা কবিতা পাঠ করেছিলেন তাঁদের কারো নাম প্রভৃতিতে রাখলাম না । এটাকে আমি ইতিহাসের দলিল মনে করছি। কাজেই কারো নাম বাদ দেওয়ার অধিকার আমার নেই। নামগুলি :দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় অমিত কাশ্যপ বিশাল ভদ্র গৌরাঙ্গ মিত্র ঠাকুরদাস চট্টোপাধ্যায় মবিনুল হক রীণা কংসবণিক নীলিমা সাহা গীতা কর্মকার স্বপন দত্ত তমাল মুখোপাধ্যায় ভগবাহাদুর সিং তাপসকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় সমরেন্দ্র রায় সুপ্রীতি বিশ্বাস এমদাদ-উল-হক নুরুল আমিন বিশ্বাস রাজকুমার শেখ শ্যামল রায় কমলেন্দু ভট্টাচার্য জয় সিংহ মুরারি সিংহ সুশান্ত বিশ্বাস অজয়কুমার সাহা রাজন গঙ্গোপাধ্যায় দেবাশিস সাহা অমিতাভ বিশ্বাস এবাদুল হক তপন দাস  মুজিবুর রহমান সৈয়দ খালেদ নৌমান শুভঙ্কর চট্টোপাধ্যায় সৌমিত্র রায় এবং জাহিদ হাসান মাহমুদ।

আমার লেখা ' উডল্যান্ড থেকে ফিরে / বাবার জন্য পায়রা-ডাক ' কবিতাটি পাঠ করেছিল নাসের হোসেন।দু-জন আবৃত্তিকার ছিলেন শুক্লা ঠাকুর এবং সন্দীপ সেনগুপ্ত , তাঁরা পাঠ করেছিলেন সন্দীপ বিশ্বাস অমিতাভ মৈত্র এবং নিখিলকুমার সরকারের কবিতা।

 শেষের দিকে প্রায় ঘণ্টা দেড়েকের লৌকিক গান ছিল। শেষে মঞ্চে শক্তিনাথ ঝা-র সঞ্চালনায় শুরু হয় লৌকিক গানের দ্বিতীয় পর্ব। সঞ্চালনা সহায়তায় মুরারি সিংহ।

বাউল গান গেয়েছিলেন : শেফালি দাস আলপনা হাজরা সোমা বারিক খ্যাপাফকির মল্লিকা। মুসলিম বিয়ের গান গেয়েছিলেন : সায়েরা মজেদা ওলিমা। কাপ-এ গেয়েছিলেন : গোপাল মণ্ডল এবং জয়দেব মণ্ডল।

উৎসবে কবিতাপাক্ষিক কিয়ক্স-এর বা বই বিক্রির মূল দায়িত্ব পালন করেছিল সৌমিত্র রায়।

রাতের খাবারও বহরমপুর ক্লাবে। খাবার পর ফিরে যাবার পালা। রান্না যে চমৎকার হয়েছিল এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। সন্দীপ -এর প্রিয় ক্যাটারার - এর দায়িত্বে ছিল সেটা।

আমাদের ক-জনের বাসের টিকিট সময় মতো পৌঁছে দিয়েছিল সমরমাস্টার।

রাত ১১টার বাস ধরেছিলাম আমরা। আর নাসের থেকে গিয়েছিল ওর মায়ের চিকিৎসার প্রয়োজনে। ফিরেছিল পরের দিন ভাগীরথী-তে।

আমরা ভোর চারটেয় নেমে পড়লাম। বাসে থেকে গেল গৌরাঙ্গ শিখা ও রতন। অন্ধকার কেটে গেলে তারা যাবে।

আমরা ট্যাক্সিতে প্রথমে কালীঘাট। আমার বাড়ির কাছে  চা-দোকান থেকে চা-পান।তারপর ট্যাক্সিতে বিশাল নমিতা এবং ইন্দ্রাণী তাদের বাড়ি ফিরেছিল।

পরদিন সকালে নাসেরের ফেরা হয়নি। আর জাহিদদের লালবাগের গাড়িতে উঠিয়ে দিয়েছিল সমরমাস্টার।ওরা বেড়ানোর পর উঠেছিল সমরের বাড়িতে । সমরের রান্না খেয়ে ওরা রাতের ট্রেনে উঠিছিল।  নাসের তার পরের দিন সকালের ভাগীরথী ধরেছিল।

সেদিন সন্ধ্যায় আমার বাড়িতে দাওয়াত দিয়েছিলাম জাহিদ এবং কানিজকে। মেনু ছিল : গরম লুচি পনির পরমান্ন এবং মিষ্টান্ন। নাসেরও হাজির হয়েছিল। আর ছিল শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়। জাহিদ-কে নিয়ে আমাদের কিছু জরুরি কথাবার্তা হয়েছিল। সেসব নোট করেছিল নাসের ।

কবিতাপাক্ষিক ৩০০ সংখ্যাটি সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কিছুই বলা হয়নি। বলব আগামীকাল।

শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য ২০৮ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



২০৮.

তিনটি সাদা পায়রা লোকনাথ মন্দিরের দিকে উড়ে গেল , আমরা প্রবেশ করলাম ঋত্বিকসদনের ভেতরে।পায়রাদের মুক্তি যেমন আকাশে , আমাদের মুক্তি কবিতাউৎসবে।

ঋত্বিকসদনের মঞ্চে যাঁরা ছিলেন তাঁদের নামগুলি এক ঝলক দেখে নেওয়া যাক। 

সভাপতি : শক্তিনাথ ঝা । বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি : জাহিদ হাসান মাহমুদ। কবিতাপাক্ষিক ৩০০ অনুষ্ঠানের আয়োজক : সন্দীপ বিশ্বাস। তাছাড়া অমিতাভ মৈত্র নাসের হোসেন মুরারি সিংহ গৌরাঙ্গ মিত্র এবং আমি। সঞ্চালক : ঠাকুরদাস চট্টোপাধ্যায়।

মঞ্চের সকলেই দর্শকমণ্ডলীর দিকে পুষ্পবৃষ্টি করলেন। সকালবেলায় ফুলগুলি কিনে এনেছিল স্বপন দত্ত।

শক্তিনাথ ঝা -এর ইচ্ছে অনুসারে মঞ্চে প্রথম গানটি গেয়েছিল এক সদ্যতরুণী ,মল্লিকা আকার। গানটি হল : খাঁচার ভিতর অচিন পাখি । এই পাখির সঙ্গে পায়রা ওড়ানোর কোনো যোগসূত্র আছে কিনা খুঁজে দ্যাখা যেতে পারে।

কবিতাপাক্ষিক ৩০০ - র প্রথম কপিটি কিনলেন সন্দীপ বিশ্বাস, ১০০ টাকার বিনিময়ে।  সন্দীপ বিশ্বাসের হাতে কপিটি তুলে দিয়েছিল মুরারি সিংহ। 


উৎসব কমিটির পক্ষে বক্তব্য বলেছিলেন সন্দীপ বিশ্বাস। কবিতাপক্ষিকের পক্ষ আমি। বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য বলেছিলেন বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি জাহিদ হাসান মাহমুদ। তিনি রফিকউল্লাহ্ খান সম্পাদিত ' বাংলাদেশের তিন দশকের কবিতা ' সংকলন-গ্রন্থটি আমাকে উপহার দিয়েছিলেন। 

সৈয়দ খালেদ নৌমান সম্পাদিত ' অর্কেস্ট্রা '-র ১৪ বর্ষ ১ম সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছিল কবিতাপাক্ষিক ৩০০ প্রকাশকে উপলক্ষ করে  ওই সংখ্যাটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেছিলেন শক্তিনাথ ঝা।

এরপর কবিতাপাক্ষিক ৩০০ পুরস্কার ও সম্মানপ্রদান।সনাতন দে স্মৃতি পুরস্কার পেলেন নারায়ণ ঘোষ।তাঁর হাতে স্মারক তুলে দিয়েছিলেন শ্যামল রায়। তুষার চট্টোপাধ্যায় স্মারক সম্মান প্রাপক অজিতেশ ভট্টাচার্য -র অনুপস্থিতিতে স্মারক গ্রহণ করেন অশেষ দাস। তুলে দেন স্বপন দত্ত। কমলেশ চক্রবর্তী স্মারক সম্মান গ্রহণ করেন অশেষ দাস, সন্দীপ বিশ্বাসের হাত থেকে।

৬০-এর প্রয়াত কবিদের নামাঙ্কিত কবিতাপাক্ষিক সম্মান পেয়েছিলেন :

অনাময় দত্ত নামাঙ্কিত সম্মান : ইন্দ্রাণী দত্তপান্না , অমিতাভ মৈত্র-র হাত থেকে।

ফাল্গুনী রায় নামাঙ্কিত : জপমালা ঘোষরায় , দিলেন সৈয়দ খালেদ নৌমান।

মঞ্জুষ দাশগুপ্ত নামাঙ্কিত : নমিতা চৌধুরী , দিলেন দীপংকর ঘোষ।

মানিক চক্রবর্তী নামাঙ্কিত : রতন দাস , দিলেন কানিজ ফাতেমা।

সুব্রত চক্রবর্তী নামাঙ্কিত : শৌভিক দে সরকার , দিলেন শুভ্রা সাউ।

এছাড়াও ছিল দুটি পত্রিকার সম্মান প্রাপ্তি।

কৃষ্ণগোপাল মল্লিক নামাঙ্কিত : উৎপলকুমার গুপ্ত 'সময় ' , তুলে দিয়েছিলাম আমি।

অশোক চট্টোপাধ্যায় নামাঙ্কিত : গোপাল দাশ সম্পাদিত ' এখন নিদাঘ ' , রুদ্র কিংশুকের হাত থেকে সম্মান গ্রহণ করেছিলেন দীপ সাউ।

সম্মান প্রাপকেরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন।

গান শুনিয়েছিল জপমালা ঘোষরায় এবং শুভ্রা সাউ।তারপর সম্মান প্রাপক কবিদের কবিতাপাঠ।

এরপর মধ্যাহ্নভোজন।

আগামীকাল পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ।

শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ২০৭ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



২০৭.

 শনিবার দুপুর ৩টের সময় বহরমপুর কোর্ট স্টেশনে পৌঁছোলেন বাংলাদেশের কবি জাহিদ হাসান মামুদ এবং তাঁর স্ত্রী কানিজ ফাতেমা। স্টেশনে উপস্থিত ছিল নাসের স্বপন দত্ত শান্তনু সমরমাস্টার এবং আমি। জাহিদরা পৌঁছে যাবার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিল সন্দীপ বিশ্বাস।  ওদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল PWD বাংলোয়। ওখানেই ছিল দীপ ও শুভ্রা সাউ।

সন্দীপ বেশ কিছুক্ষণ ওখানে জাহিদ-কে সঙ্গ দিয়েছিল। কথা প্রসঙ্গে প্রকাশিত হয়েছিল জাহিদদের গ্রামের বাড়ির কাছেই সন্দীপদের পৈত্রিক বাড়ি।

উৎসবের দিন সকাল ৬টায় বেরিয়ে পড়েছিলাম অতিথি-আপ্যায়নে। 

PWD বাংলো সার্কিট হাউস PHE বাংলো ঘুরে এলাম । আবার সাড়ে ৬টায় নাসেরের সঙ্গে বহরমপুর ক্লাব। ওখানেই খাবারের ব্যবস্থা , দিনের এবং রাতের। পাশেই ঋত্বিকসদন। ওখানে থার্মোকলের ৩টি হোডিং এসে গেছে। ২টি বাইরে লাগানোর জন্য , একটি সভামঞ্চের। তখন ফ্লেক্স আসেনি। নীল কাপড়ের ওপর থার্মোকলে লেখা কবিতাপাক্ষিক ৩০০। মঞ্চের সামনে ' মানুষ যতদিন পর্যন্ত স্বপ্ন দেখবে ততদিন কবিতাও থাকবে '।

 ওখান থেকে গেস্টহাউস। গেস্টহাউস থেকে ব্যানার

 ও বইপত্রের ব্যাগ গাড়িতে তোলা হল।এমদাদ -উল- হক গাড়ির ব্যবস্থা করেছিল। গেস্টহাউসের কাছেই মা কালী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার। ওখানে কচুরি ডাল ছানাবড়া। গাড়ি নিয়ে বহরমপুর ক্লাব। দেখা গেল বাস থেকে নেমে ঋত্বিকসদনের দিকে হেঁটে আসছেন দীপংকর ঘোষ তাপসকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ভগবাহাদুর সিং রুদ্র কিংশুক মলয় ঘোষ। তাদের ডেকে নিলাম। বহরমপুর ক্লাবের গেটে কবিতাপাক্ষিকের ব্যানার টাঙানো হল। ঋত্বিকসদনের সামনে ১২ টি বিভিন্ন রঙের উৎসবের পতাকা ওড়ানো হয়েছিল লোহার স্ট্যান্ডে। এই আইডিয়াটা পেয়েছিলাম পার্টির একটা কর্মসূচি থেকে।ব্রিগেড-এর মিটিং । অনেকের সঙ্গে আমিও ছিলাম মঞ্চ এবং মাঠ সজ্জায়। সেখানেও ১২টা অনেকের সঙ্গে আমিও ছিলাম মঞ্চ এবং মাঠ সজ্জায়। সেখানেও ১২টা উৎসবের পতাকা ওড়ানো হয়েছিল। মঞ্চের ব্যানার দুটিও নিজ নিজ স্থানে বসে পড়ল। শুভাশিসের ওপর দ্যাখাশোনার ভার রইলো।

নাসের এবং আমি গেলাম সন্দীপ বিশ্বাসের বাড়ি। ওখান থেকে  গেস্টহাউস। ওখানের বইপত্র নামিয়ে এনেছিল রুদ্র কিংশুক তাপসকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ভগবাহাদুর সিং। 

ঋত্বিকসদনে বইপত্র নামানোর পর নাসের এবং শান্তনু চলে গেল লোকনাথ মন্দিরে। পায়রা আনার জন্য। অশোক সিনহা একটি নাইলনের  তিনটি মুখবন্ধ ব্যাগে সাদা পায়রা তুলে দিয়েছিলেন নাসেরের হাতে।নাসের এবং শান্তনু হাতে করে পায়রা ধরা শিখে নিয়েছিল। অশোককেও আমন্ত্রণ করা হয়েছিল। অশোক আসতে পারেনি। তার প্রতিনিধি একটি ছেলে এসেছিল সাইকেলে।


রবিবার ২০ মার্চ ২০০৫ সকাল ১১টায় বহরমপুর ঋত্বিকসদনের সামনে ৩০০ কবিতাউৎসবের উদ্বোধন হল একটু অন্যরকম ভাবে। প্রবেশতোরণের কাপড়ের ওপর আটকে দেওয়া হয়েছিল কপা ২৯৯ সংখ্যায় প্রকাশিত উত্তম চৌধুরী 'প্রস্তাবনা ' কবিতাটি । তার পাশেই কপা ৩০০ সংখ্যা আমার লেখা ভূমিকাটি 'কথার কথা '।

তারপর পায়রা ওড়ানোর কথা ঘোষণা করল নাসের । আমি প্রথম পায়রাটি , দ্বিতীয়টি শক্তিনাথ ঝা , তৃতীয়টি সন্দীপ বিশ্বাস। পায়রা উড়লো। মুহুর্মুহু হাততালি । ঘোষণায় ঠাকুরদাস।রতন দাস তার মোবাইলে হাততালির ধ্বনি সরাসরি শুনিয়েছিল ধীমান চক্রবর্তী-কে। লোকনাথ মন্দিরের ছেলেটির হাতে ফেরত দেওয়া হল পায়রার ব্যাগ। তারপর ভেতরে ঢোকা হল।

ভেতরের খবর আগামীকাল।

বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য ২০৬ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



২০৬.

কবিতাপাক্ষিক ৩০০ সংখ্যা প্রকাশ উপলক্ষে কবিতাউৎসব হয়েছিল ২০ মার্চ ২০০৫ , বহরমপুরের ঋত্বিকসদনে। 

আমরা , শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় বিশাল ভদ্র সৌমিত্র রায় এবং আমি , বহরমপুর পৌঁছেছিলাম একদিন আগে। ১৯ মার্চ ।সকালে। ধর্মতলা থেকে শিলিগুড়ির বাস ধরেছিলাম।  নাসের হোসেন গিয়েছিল ১৮ মার্চের ভাগীরথীতে। নিয়ে গিয়েছিল কবিতাপাক্ষিক ৩০০ -র ৫০ কপি। আর আমাদের সঙ্গে গিয়েছিল আরো ৭০ কপি।

সকাল ৮টায় কৃষ্ণনগর পৌঁছে নাসের-কে জানিয়েছিলাম শিলিগুড়ির বাসে যাচ্ছি। বাসস্ট্যান্ডে নাসের আমাদের রিসিভ করেছিল। আমরা প্রথমে গিয়েছিলাম নারানদার চা-দোকানে। পাশেই পরিতোষের রেডিমেড পোশাকের দোকান। ওখানে কবিতাপাক্ষিকও বিক্রি হয়। ওখানেই কবিতাউৎসবের ব্যানার লাগানো হল। শান্তনু মুজিবর রহমান এবং আমি , তিনজনের তৎপরতায়।

বহরমপুরে আমাদের স্থায়ী একটা থাকার ব্যবস্থা আছে, সেটা WBSEB গেস্টহাউসে। এটা সম্ভব হয় সন্দীপ বিশ্বাসের ব্যবস্থাতে। ওখানে আগেই নাসের আগেই রেখে গিয়েছিল আগের দিনে আনা পত্রিকার প্যাকেট।

সবাই মিলে গেস্টহাউসে পৌঁছনোর পর নাসের আর শান্তনু বেরিয়ে পড়ল পায়রার খোঁজে। বেশ কয়েকটি পায়রার দোকানে খোঁজখবর করার পর সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল লোকনাথ মন্দির এবং অশোক সিনহার। বহরমপুর বাসস্ট্যান্ডে ট্রেকারগুলো যেখানে দাঁড়িয়ে থাকে , তার পাশেই এই মন্দির। মন্দির সংলগ্ন জায়গাটি অনুচ্চ পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। ভিতরে একটা বড়ো আমগাছ। গাছের ওপাশে একটি বাঁশের তৈরি মাচা।মাচায় দুজন বসে । এপাশে পায়রা থাকার কাঠের বাসা । বছর তিরিশের যুবক অশোক সিনহা। একহাতে চোট লেগেছে। অশোক-কে জানানো হল কাছেই ঋত্বিক সদনে কবিতাপাক্ষিক ৩০০ প্রকাশ উপলক্ষে কবিতাউৎসব আগামীকাল রবিবার।

সেদিন সকাল ১০টায় ঋত্বিকসদনের সামনে থেকে তিনটে সাদা পায়রা ওড়ানো হবে , সেই পায়রাগুলো যদি এখান থেকে পাওয়া যায় , ভালো হয়। 

অশোক সিনহা সব শুনলেন , বললেন : নিয়ে যাবেন তিনটে সাদা পায়রা। উড়িয়ে দেবেন। ওরা মন্দিরেই ফিরে আসবে। কোনো টাকাপয়সা দিতে হবে না। 

নাসের -শান্তনু যখন ফিরেছিল গেস্টহাউসে তখন আমরা খেতে চলে গিয়েছিলাম বহরমপুর লজে।ওরা অপেক্ষা না করে পৌঁছে গিয়েছিল বহরমপুর লজের খাবারঘরে। অতএব একত্রেই মধ্যাহ্নভোজন।

শনিবার সন্ধেতে বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেকের বহরমপুরে আসার কথা। কাটোয়া থেকে যারা আসবে তাদের খাগরাঘাট স্টেশন থেকে আনতে গেল সমরমাস্টার আর স্বপন দত্ত , মাস্টারের স্কুটারে।নাসের মৃণাল এমদাদউল মুরারি বাসস্ট্যান্ডে গেল শৌভিকদের জন্য। সন্দীপ সৌমিত্র শান্তনু আর আমি গিয়েছিলাম বহরমপুর কোর্ট স্টেশনে।ট্রেনে আসার কথা : শুভাশিস গঙ্গোপাধ্যায় নমিতা চৌধুরী ঠাকুরদাস এবং দেবাশিস দুই চট্টোপাধ্যায়ের , তাছাড়া রতন দাস গৌরাঙ্গ মিত্র ইন্দ্রাণী দত্তপান্না এবং শিখা-র।

জপমালা আর তপন উঠেছে ওদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে। মৃণাল নিয়ে গেল সার্কিটহাউস এবং পি এইচ ই বাংলোয় যাঁরা থাকবেন তাঁদের।সার্কিট হাউসে থাকলেন উত্তরবঙ্গের অশেষ দাস শৌভিক সহ  দেবাশিস রতন আর বিশাল। কাছেই পি এইচ ই-তে থাকার ব্যবস্থা হল একতলায় গৌরাঙ্গ ও শিখার। দোতলায় নমিতা চৌধুরীও ইন্দ্রাণী দত্তপান্নার। আর WBSEB -র গেস্টহাউসে শুভাশিস শান্তনু মুরারি সৌমিত্র  ঠাকুরদাস এবং আমি। রাতের খাবারের ব্যবস্থা করেছিল এমদাদউল তার এক বন্ধুর হোটেলে। 

এই যে আমি এত কথা লিখছি , তা কিন্তু স্মৃতি থেকে নয় , সবটাই নাসের-এর লেখা থেকে কপি করছি।

এই কপি চলতে থাকুক।

বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য ২০৫ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



২০৫.

 আর এসেছিল স্বরূপা দাস এবং তার হুইলচেয়ার।  জন্ম থেকেই তার পা-দুটি শরীরের ভার বহন করতে অক্ষম। তাকে কবিতাপাক্ষিক থেকে উপহার দেওয়া হয় গীতাঞ্জলি। পরের দিন সেও তার নিজের কবিতার বই উপহার দিয়েছিল দীপ , মুরারি এবং আমাকে।সেবার স্টলে বসে অনেকক্ষণ আড্ডা হয়েছিল অজিত হালদারের সঙ্গে। তিনি চিন রাশিয়া সহ ইউরোপের বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন নিজ উদ্যোগে। সেসব একটি ছোটো পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছিল।

আগেই বলেছি মেলার প্রথম দিন ছিলাম উদয়ের বাড়িতে। শেষের চারদিন ছিলাম ল্যান্ড ডেভালেপমেন্ট ব্যাঙ্কের গেস্ট হাউসে । সেখানে ১২ ডিসেম্বর ২০০৪ রবিবার সকালে আমাদের পরিবারের মুরারি নিয়াজুল রসুল করিম তপন দাস এসেছিল। হয়েছে কবিতাপাঠ এবং আলোচনা। নিয়াজুলের ছেলেও এসেছিল তার আঁকা কিছু কার্টুন নিয়ে। কাটোয়া থেকে বাইক চালিয়ে তপন রায় এসে উপস্থিত হয়েছিল। তপনের কাছে জানা গেল ও পুলিশ লাইনে  একটা ফ্ল্যাট পেয়েছে। পরিকল্পনা হল ওর ফ্ল্যাটে প্রতি মাসে একদিন করে বসা যাবে। সেই পরিকল্পনা কার্যকর করা যায়নি। কিন্তু পরের বছর বর্ধমান বইমেলার দিনগুলোতে আমি ওই পুলিশ আবাসনের ফ্ল্যাটে ছিলাম। সে-গল্প অন্য কোনো দিন। আর এবারের ব্যাঙ্কের গেস্ট হাউসটি পাওয়া গিয়েছিল দীপ সাউ-এর সৌজন্যে বা ব্যবস্থাপনায়।

বর্ধমান বইমেলার অনুষ্ঠান মঞ্চটির নামকরণ হয়েছিল ' কোজাগর '। রবিবার বিকেলে সেখানে বসেছিল সাহিত্য-আড্ডা এবং কবিতাপাঠের আসর। আড্ডায় অংশগ্রহণ করেছিল : দীপ সাউ মুরারি সিংহ মানব চক্রবর্তী তুষার প্রধান প্রকাশ দাস এবং আমি। সঞ্চালক : শ্যামলবরণ সাহা। কবিতাপাঠ করেছিল মুহম্মদ মতিউল্লাহ্ অসিত বন্দ্যোপাধ্যায় গৌরাঙ্গ মিত্র সহ আরো বেশ কয়েকজন স্থানীয় কবি।মানব চক্রবর্তী তার গল্পলেখার অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছিল।

বর্ধমান বইমেলা মানে দীপ সাউ-এর একটা বিগসপার। যেটি দীপ তার বাড়ি থেকে নিয়ে আসতো।এই বিগসপারে আসতো দুটি ফ্লাক্স। চায়ের কিংবা কফির। একটা না-চিনি । যেটা মুরারি এবং আমার জন্য। অন্যটি হ্যাঁ-চিনি। অন্যান্য অভ্যাগতদের জন্য। শেষদিনে মুরারি-র স্ত্রী মঞ্জু গরমগরম সিঙারা এবং নরম নরম চিত্তরঞ্জন নিয়ে এসেছিল। 

দীপ-পুত্র পর্জণ্য নিজের ক্যামেরায় স্টলের ছবি তুলেছে। আর মুরারি কন্যা অনন্যা কবিতাপাক্ষিকের জন্য কবিতা দিয়েছিল আমাকে।

 মেলার মাঠ থেকে সাধনপুর হাউসিং প্রায় তিন কিলোমিটার। তখন রিক্সা ভাড়া ছিল কুড়ি টাকা। রোজ রোজ কেন দেওয়া হবে ! ঠিক হয়েছিল আমাকে গেস্ট হাউসে পৌঁছে দিয়ে প্রতিদিন দীপ আর মুরারি হেঁটে গেছে সাধনপুর হাউসিং।

শেষ দিন মেলায় উপচে পড়া ভিড় । রাত ৯ টার পর আমার কাজ বা দক্ষতা। বই-এর পেটি বাধা এবং নির্দিষ্ট জায়গায় পেটি রেখে আসা।।দীপ-এর বাড়ি থেকে আসা বসার টুল , কিছু বই সব একটা রিক্সায় তুলে দেওয়া হল। দীপ বেরিয়ে পড়ল সেই রিক্সা নিয়ে। মুরারি ফিরল আমাকে গেস্টহাউসে পৌঁছে  দিয়ে সাধনপুর হাউসিং।

আমার কাছে বইমেলা মানে ছিল নতুন কবিদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং যোগাযোগ বাড়ানো। শুধুমাত্র কবিতাযাপনের একটা পর্ব হল বইমেলা।

মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য ২০৪ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



২০৪.

কবিতাপাক্ষিক ২৯৫ -এ প্রকাশিত হয়েছিল মুরারি সিংহ লিখিত একটি রিপোর্টাজ : বর্ধমান বইমেলায় কবিতাপাক্ষিক। আজকের নতুন পাঠক এবং নতুন বন্ধুদের জানা দরকার অতীত-কে। এটাও ২০০৪-এর ঘটনা। আমি মুরারি-র ওই রিপোর্টাজটির ওপর নির্ভর করে আমার স্মৃতি-কে পুষ্টিকর করতে চাইছি।

মুরারি লিখেছিল :

কলকাতা বইমেলার বয়স হতে চলেছে ৩০। আর বর্ধমান বইমেলার ২৭ ।

১০ থেকে ১৯ ডিসেম্বর ২০০৪ ছিল সেবছর মেলার দিন। কাটোয়ায় জপমালা-তপন-এর বাড়িতে সযত্নে ন্যাপথলিন সহ কিছু বই রাখা ছিল।তপনের সঙ্গে আগেই কথা হয়েছিল , সেমতো ছোটো বড়ো ৫টি 

বই -এর পেটি এসে গেল বর্ধমান  তৎকালীন তিনকোণিয়া বাসস্ট্যান্ডে। বাসটির নাম : নন্দেশ্বরী , চালকের নাম আসরফ । তিনি বিনা ভাড়ায় পেটিগুলি নিয়ে এসেছিলেন তাই নয় , নিজেদের লোক দিয়ে পেটিগুলিকে পৌঁছে দিয়েছিলেন স্ট্যান্ডের বাইরে।সেখান মুরারি ছিল। আমি গিয়েছিলাম ৭টা১৫ কর্ড লাইন লোকালে। আমিও বাসস্ট্যান্ডে ছিলাম। দুটো রিক্সাতে ভাগাভাগি করে সব পেটি সহ মেলার মাঠ। স্টল নম্বর ৫৭  । সেখানে ইতিমধ্যে কলকাতা থেকে দুষ্টু-র ট্রান্সপোর্টে পৌঁছে গেছে বই-এর ট্রাক।সেখানেও আমাদের পেটি ছিল। ইতিমধ্যে এসে গিয়েছিল দীপ সাউ। তারপর পেটি খুলে বই সাজানোর কাজ করেছিলাম সকলে মিলে। আমি দুপুরের খাবার খেয়েছিলাম আমার শ্যালক উদয়ের বাড়িতে। মুরারি পাশের হোটেলে। তখন স্টলে দীপ একা।

আমাদের পাশের স্টল বাল্মীকি -আলোবাতাস যৌথভাবে।

সন্ধে নামার সঙ্গে সঙ্গেই বইমেলায় লোক জমতে শুরু আর কবিতাপাক্ষিক -এর স্টলে ভিড় জমিয়েছিলেন আগ্রহী এবং উৎসাহী মানুষজন। স্টলের মূল দায়িত্ব দীপ সাউ এবং মুরারি সিংহ-র। প্রথম তিনদিন এবং শেষ দু দিন আমি ছিলাম।একদিন করে গৌরাঙ্গ মিত্র এবং আফজল আলি।মুরারিকে একদিন যেতে হয়েছিল পটলডাঙায়।  সেদিন দীপ-কে সঙ্গ দিয়েছিল জমর সাহানি ও রণজিৎ দাস। এছাড়া বিভিন্নদিনে যাঁরা স্টলে এসেছেন আড্ডা দিয়েছেন তাঁরা হলেন : নিয়াজুল হক প্রশান্তি মুখোপাধ্যায় সজল দে কুমুদবন্ধু নাথ রমেশ তালুকদার শ্যামলবরণ সাহা প্রকাশ দাস মহম্মদ রফিক রূপলেখা মজুমদার সনৎ ভট্টাচার্য শুভ্রা সাউ শতরূপা চক্রবর্তী তপন দাস রসুল করিম রাজা দেবনাথ সংঘমিত্রা চক্রবর্তী নিগমেশ বন্দ্যোপাধ্যায় কুশল দে পম্পা দাসকান্ত অমিত নাথ অমিত বাগল ডা: গৌরাঙ্গ মুখোপাধ্যায় জাহাঙ্গির উৎপল সাহা স্বপ্নকমল সরকার কুনাল চক্রবর্তী কৌশিক নন্দন এবং সুদীপ্তা রায়নন্দন সঙ্গে তাদের শিশুকন্যা রাজেশ দে সন্দীপ লাহা সুব্রত চেল গৌর কারক সস্ত্রীক কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়। কাটোয়া থেকে একদিন এসেছিল তুষার পণ্ডিত অসিত বন্দ্যোপাধ্যায় মুহম্মদ মতিউল্লাহ্ এবং রত্না মুখোপাধ্যায় সঙ্গে তাদের শিশুপুত্র যে এসেই সহজ সরল প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিল : তোমাদের দোকানে এত বই কেন , খেলনা রাখতে রাখতে পারো না ?

এর কোনো উত্তর আমাদের জানা ছিল না তখন। আজ  জানি। বই-ই ছিল আমাদের খেলনা। আমাদের যাবতীয় খেলা তো বই-এর সঙ্গেই।

বাকিটা আগামীকাল

সোমবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য ২০৩ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



২০৩.

কাটোয়া লিটল ম্যাগাজিন মেলার দ্বিতীয় দিনে ছিল সেমিনার। বিষয় : বাংলা কবিতার ভবিষ্যৎ।

আলোচক ছিলেন : মুরারি সিংহ উজ্জ্বল সিংহ কমলকুমার দত্ত নিয়াজুল হক প্রমুখ।আলোচনাটি বেশ উপভোগ্য হয়েছিল। মুরারি বলেছিল :

' প্লেটো কবিদের নির্বাসন চাইলেও তা সম্ভব হয়নি কোনোকালে। হকিন্স কিছুদিন আগে বলেছিলেন কবিদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। এক মহিলা সে-কথাটি হকিন্সকে ফেরত নিতে বাধ্য করেন। প্রতি যুগেই এই সংকট ছিল , থাকবে।আমাদের মনে রাখতে হবে প্রভাতদার কবিতার এই অবিস্মরণীয় লাইনটি :

মানুষ যতদান পর্যন্ত স্বপ্ন দেখবে ততদিন কবিতাও থাকবে ।'

অন্যান্য বক্তারাও একই রকম বা কবিতার ভবিষ্যৎ-কে উজ্জ্বল বলেছিলেন।

সময়ের স্বল্পতার কারণে প্রায় মাঝপথেই আলোচনাটি বন্ধ করে দিতে হয় , যা উপস্থিত অনেকের মনখারাপের কারণ হয়।

কাটোয়া লিটল ম্যাগাজিন মেলায় সেবার কাটোয়ার স্থানীয় কোনো সমান্তরাল পত্রিকার দ্যাখা পাওয়া যায়নি।  এমনকী ' অজয় ' ও অংশগ্রহণ করেনি।একারণে মতিউল্লাহ্ র মোটরবাইকে চেপে হাজির হয়েছিলাম অজয়- সম্পাদক তারকেশ্বর চট্টরাজের  বাড়িতে। সারা বাংলার সঙ্গে কাটোয়া কেন যুক্ত হতে পারলো না এই  জানার আগ্রহ থেকেই তারকেশ্বরের বাড়ি গিয়েছিলাম। অজয় সম্পাদক তার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েছিলেন।

কাটোয়া-র একটা প্রধান দ্যাখার জায়গা হল অজয় নদ যেখানে ভাগীরথী-র সঙ্গে মিশেছে , সেই সংযোগস্থল । এই তীর্থের সন্ধান আমাকে দিয়েছিল মুহম্মদ মতিউল্লাহ্।কাজেই আমি এখন মতি এবং আমার সংযোগের অন্যতম একটি প্রধান সূত্র মনে করি এই শাঁখাইঘাট।

মতি তখন কাটোয়া পৌরসভার অতিথিনিবাস শ্রাবণী-র কাছাকাছি কাটোয়াপড়া এবং মনসাপাড়ার মাঝামাঝি একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতো। প্রথম প্রথম আমি শ্রাবণী-তেই উঠতাম। আর সকালে উঠি হাঁটাটা ছিল আবশ্যিক। মতি-ই প্রথমবার পথ দেখিয়ে নিয়ে গিয়েছিল ভোর ভোর। আমরা কুয়াশা -পথে পৌঁছেছিলাম সেই তীর্থে। মোটর লাগানো  নৌকায় ওপাড়ে শাঁখাই। একটা  শীর্ণ পিচরাস্তা। দু-কিলোমিটার হাঁটা , ফিরে আসা। এটাই ছিল আমার রুটিং । যতবার কাটোয়া গেছি ততবার এই তীর্থে গেছি আমি। কেবলমাত্র শেষবার পথ হারিয়ে ফেলেছিলাম। সঙ্গে মতি ছিল না বলেই।

আর ফেরার সময় বা হাঁটা শেষ করে একটা দোকানে চিনি ছাড়া চা। সঙ্গে লোকাল বিস্কুট। বাধা দোকান। চিনে গিয়েছিল। কুশল বিনিময় হত।

একবার মতি-র সঙ্গে বাইকে স্টেশনের কাছে চক্রবর্তী টি স্টলেও চা খেয়েছি। আর শাঁখাইঘাটে এক পানদোকানির কাছে গেলেই পেয়ে যেতাম পান ।কারণ চায়ের দোকানে ঢুকতে দেখেই সে পান রেডি করে রাখতো।

তো সেবারও পুরো টিম , নাসের মুরারি অম্বিকা অভিজিৎ সমরমাস্টার স্বপন দত্ত নিখিল সহ মতি এবং আমি পৌঁছে গিয়েছিলাম শাঁখাইঘাট। আর ২ মাইল হাঁটার পর নির্দিষ্ট চা-দোকান। দোকানির সঙ্গে কুশল বিনিময়। চা-পান। 

এখন একবার গেলে হয়। আমার নতুন নবীন বন্ধুদের সঙ্গে !

কিছু বই কিছু কথা ২০১ || নীলাঞ্জন কুমার || দুই স্রোতের এক মোহনা || পঙ্কজ মন্ডল ও অমলেন্দু বিশ্বাস

 কিছু বই কিছু কথা ২০১। নীলাঞ্জন কুমার




দুই স্রোতের এক মোহনা । পঙ্কজ মন্ডল  ও অমলেন্দু বিশ্বাস । নৌকা । আঠারো টাকা ।



দুই সমসাময়িক কবিকে যখন একই বইতে পাওয়া যায় তখন দুই কবির ভেতর একটা তুলনা আপনা থেকেই চলে আসে । তাকে পরিহার করে যদি আলাদা ভাবে বিশ্লেষণ করি তবে তাদের স্বাতন্ত্রতা বেশি করে ফুটে উঠবে বলে মনে করি । যেমন কবি পঙ্কজ মন্ডলের আজ থেকে এগার বছর আগের কাব্য প্রকৃতি সঙ্গে পরিচিতি ঘটাতে গিয়ে দেখি তিনি আজকের জায়গা থেকে অনেকাংশে পিছিয়ে ছিলেন , আজকের কবিতায়  তাঁর প্রধান রোগ তৎসম শব্দের আনুগত্য তাঁকে জড়িয়ে ধরলেও তা কিন্তু অচেতন ভাবে হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে তিনি এখানে  পরিহার করেছেন,  যেমন:  ' সন্তানও কখনো সখনো পিতা হয়ে যায়/  সিংহটি কখনো রিং মাস্টার হয় না । ' ( ' স্বপ্নকথা ')  যা পাই তাঁর ও অমলেন্দু বিশ্বাসের যুগ্ম গ্রন্থ ' দুই স্রোতের এক মোহনা ' (২০০৯ সালে প্রকাশিত)  কাব্যগ্রন্থের মধ্যে । পঙ্কজ মন্ডলের বাকি কবিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মনে করি এই সব পংক্তিতে : ' চিকিৎসক নিরুপায় হলে/  রুগীদের মুখগুলি কিভাবে বদলে যায় , জানো?' ( ' আরোগ্য ') ফেটে যাওয়া বেলুনের রঙ পরে থাকো/  ছেঁড়া ঘুম নিয়ে । ' ( ' আকাঙ্ক্ষা '), ' রাত্রি ঘনতর হলে/  সৃষ্টি হয় ভাঙা পাত্রে অলীক আবেগ ।' ( ' অন্যরূপ ')।
            পাশাপাশি অমলেন্দু বিশ্বাসের কবিতা অনেক সুসংবদ্ধ । তাঁর কবিতার গভীরতা তন্নিষ্ঠ করে :  ' ওই দ্যাখো ভোর চোখে দোর খুলে এখনো একাকী/  আমার আত্মজ আঁকে নতুন মাটির পদাবলী .... ' ( ' নতুন মাটির পদাবলী ')। ' সপ্ত ঘোড়া সূর্যাস্তের লাগাম রয়েছে এই দ্যাখো-  / প্রত্যয়প্রবর হাতে ফিরিয়ে দেবেই সূর্যোদয়ে । ' (' শ্রী,  রাত্রিজল ') ,  ' আসলে ভাষার নিচে কবিতা হৃদয়/  মাদুর বিছিয়ে রেখে দু'দন্ড জিরোয় .... ' ( ভাষা,  সীমান্ত মানে না ') -র উৎকৃষ্টতা ।
                 পঙ্কজ মন্ডল ও অমলেন্দু বিশ্বাসের কবিতার ভেতর দিয়ে দুই কবির যে কবিতা চর্চা তাঁদের দুই বিপরীত স্রোতে নিয়ে যায় । কার্যত সেখানে বইটির নামকরণ সুপ্রযুক্ত । হিমদল রায়ের প্রচ্ছদ সেই স্রোত চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছেন মাত্র ।

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...