প্রশান্ত দে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রশান্ত দে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০

রিক্সাওয়ালা || প্রশান্ত দে || গল্প

রিক্সাওয়ালা
প্রশান্ত দে



ঝড়ে চারিদিক বিপর্যস্ত।রাত হলেই এলাকা জুড়ে নেমে আসছে অন্ধকার।রাস্তার ধারে ছায়া প্রদায়ী মহীরুহ সমুলে উৎপাটিত হয়েছে।তাও আবার রাস্তার উপর।কোথাও বৈদ্যুতিক খুঁটির কোমর ভেঙেছে আরার কোথাও ধ্বজা।রাস্তার উপর বা পাশে ইলেকট্রিক তার কুন্ডলীপাঁকিয়ে পড়ে আছে।রাস্তার ধার বা মাঝ বরাবর ভয়ে ভয়ে সবাই রাস্তা পারাপার করছে।একদিন দু-দিন করতে করতে আজ সাতদিন হয়ে গেল লাইট জ্বলে নাই ,পাখা ঘুরে নাই ,মোবাইলে চার্জ নাই ।এমনকি চার্জ নাই টটোর ব্যাটারিতে।অলিগলিতে কোনো টোটো দেখা যাচ্ছে নাই।তেমন দেখা যাচ্ছে নাই বড়ো রাস্তাতেও ।বাজার হাট রেলস্টেশন বাসস্টপ  যেতে হচ্ছে পায়ে হেঁটেই।এতে মানুষের চোখে মুখে দিনে দিনে চিন্তার ছাপ বাড়ছে।
সবার মুখেই একটাই কথা ,"আজ সাতদিন হয়ে গেল কবে যে স্বাভাবিক হবে!আর এখন রিক্সাওয়ালা গুলোও নাই যে দশটাকার রাস্তা কুড়িটাকাতেও যাব।'
টটো ধরার আশা নিয়ে শাঁখারিপাড়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে অনাদি শাঁখারি।পরিস্থিতি বুঝে আগে ভাগেই বেরিয়ে পড়েছে।টোটো পেলে টটো, না হলে পায়ে হেঁটেই স্টেশনে যাবে।রাস্তায় এসে দাঁড়াতেই একটা টোটো আসছে দেখে তাঁর আনন্দে মনটা একটু দোলা দিয়ে উঠল।
টটোটা কাছে আসতেই বলল,"এই টটো ,স্টেশন যাবে?
--হুম
এখন টটোগুলো ধাকে সা ভাড়া হাঁকাচ্ছে।কারন জিজ্ঞাসা করলে বলছে,"দূরে গিয়ে ব্যাটারি চার্জ করে আনতে হচ্ছে।এতে একদিন এমনিই চলে যাচ্ছে।আমাদের কষ্টটা বুঝুন।"
আগের দিন চেপে ঠকতে হয়েছে তাই চাপার আগেই জিজ্ঞাসা করল,"কত?"
-পঞ্চাশ
-না ।যাও।
হেঁটেই যাবে মতলব এঁটে ফেলল।হাঁটতে যেই শুরু করেছে পথে সুভা মানে সুভাষ কাইতির সঙ্গে দেখা।মাথায় চেনা সেই গামছার পাঁগড়ী।গায়ে পুরানো রিক্সাচালানো গেঞ্জি।তবে সেই খোঁচা খোঁচা গোঁফ -দাঁড়ি নাই।মুখ পরিষ্কার।
দেখেই অনাদি বলল,"কি রে সুভা এখন তো রিক্সটা নিয়ে বেরোতে পারতিস।তা না করে মাথাটা নিচু করে হেঁটে পালাচ্ছিস।"
সুভাষ কিছু বলবেনা ভেবেছিল।কিন্তু এমন উপযাচক হয়ে বলাতে থমকে দাঁড়াল।এবং বলল,"সব শেষ হয়ে গেছে কাকা।"
--কি সব শেষ হয়ে গেছে?
--এই আমার।রিক্সটা নিয়ে দিনের পর দিন ঘর থেকে বেরিয়েছি।কোনো দিন রোজগার হয়েছে আবার কোনোদিন হয় নাই।"
---আজ তো নিয়ে আসতে পারতিস?
---আর কার জন্য করবো কাকা !সন্ধা হলে ঘরে ফিরে----"
সুভাষ বলতে পারছে নাই যে তাঁর ছেলেটা আর নাই।চোখ মুছুতে মুছতে মাথা থেকে গামছাটা খুলে গেল।
মাথাটা দেখেই  অনাদি শাঁখারি  বলল",কি হয়েছে? মাথা ন্যাড়া কেন?
সুভাষ নিজের মনকে নিঙড়াতে নিঙড়াতে বলল,"বিনা রোজগারে ঘর গেছি ।বুঝার ফুরসৎ পাইনি যে ছেলেঠাকে রোগে ধরেছে।দিন পনের আগে আমাদের সঙ্গে আড়ি করে চলে গেছে।"
"-কাঁদিস না শুভা ।কাঁদিস না।মনকে সংযত কর।রিক্সটা নিয়ে আবার আয়।কাজে থাক।"
--সেটাও নেই কাকা।অভাব অভাব।সেটাকে কাটাইয়ের দরে বিক্রি করে  ছেলের শেষ কাজটা করেছি---"
অনাদি শাঁখারি চৌমাথায় কোমর ভাঙা বৈদ্যতিক খুঁটিটার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল---
আর তখনই একটা টটো সুভাষের রিক্সা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার স্থানটাতে দাঁড়িয়ে হাঁক দিয়েই যাচ্ছে,"স্টেশন ---স্টেশন---"

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০

চিঠি || প্রশান্ত দে || গল্প

চিঠি
প্রশান্ত দে




শেষবারের মতো আবর্জনা ফেলে ডাম্পিং গ্ৰাউন্ড থেকে ফিরে গেল পৌরসভার গাড়িটা।ঐ গাড়িটার প্রায় পিছন পিছন আসছিল সুমনা।কিন্তু মাঝে যানজটে আটকে গিয়ে আর আসা হয়নি।যতটুকু রাস্তা এসেছে ততটুকুই বাতাসে উড়ে যাওয়া কাগজ,প্লাস্টিক নজর করে এসেছে- যদি উড়ে যায় চিঠিটা!
মাঝে মাঝে মা-য়ের প্রতি বিরক্ত হয়ে মনে মনে বলেছে ,'কি দরকার ছিল সুটকেশটা পরিষ্কার করার!"
ডাম্পিং গ্ৰাউন্ডে পৌঁছে সুমনা দিশাহারা হয়ে গেছে।এত আবর্জনা!কোনটাইবা আজকের?
আজকের খুঁজতে গিয়ে দেখতে পেল,একজায়গায় একটু ধূঁয়া উঠছে।সেই জায়গাটায় আগে হাত দিয়ে খুঁজতে লাগল সুমনা।
সেই পথ দিয়েই সাইকেল চালিয়ে পেরিয়ে যাচ্ছিল সুমনার কলেজের ইয়ারমেট দিলিপ।দিলিপ প্রথমে একটা চারচাকা গাড়ি ও এক চল্লিশ উর্ধ্ব মহিলাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিল দূরথেকে।কাছে আসতেই একটু কৌতুহল নিয়ে তাকাতেই মহিলাটিকে চিনি চিনি মনে হল।কিন্তু যেভাবে হাত দিয়ে আবর্জনা ঘাটছে তাতে সুমনা বলে বিশ্বাস হল না।তবুও কাছে গিয়ে বলল,কি এমন খুঁজছেন?আপনাকে একটু সাহায্য করতে পারি?"
সুমনা খুঁজতে খুঁজতেই  মুখ তুলে দিলিপের দিকে তাকাল ।এবং দিলিপের গালের বড়ো কালো তিলটাকে দেখেই চিনে নিয়ে বলল,'আপনি দিলিপ না?'
দিলিপও বলব বলব করে বলেই ফেলল,সুমনা'
দুই ইয়ারমেটের এতদিন পরে দেখা।সুমনা চিঠির দুঃচিন্তা একটূ ভুলে গেল।
দিলিপ বলল,"কি খুঁজছিলি
-না -কিছু না
কিছু তো একটা বটে,না হলে এমন উদগ্ৰীব হয়ে খুঁজছিলি কেন?'
সুমনা বলেই ফেলল।সৌমেনের হাতে লেখা শেষ চিঠিটার কথা।
দিলিপ অবাক হয়ে বলল,'তুই এখনো সৌমেন কে ভুলিসনি?
কি করে ভুলি বল?ওই আমার প্রথম ও শেষ।
সুমনার চোখ জলে ছল্ ছল্ করে উঠেছে দেখে আর কথা না বাড়িয়ে দিলিপও তার কাজে হাত লাগাল।
এই কাজের মধ্যেই দু-জনের কথা হচ্ছে।ভালো-মন্দ বাড়ির খবর।
-তোর মেয়ে এখন কিসে পড়ছে?
-চতুর্থ শ্রেনিতে ।ভীষন জলি।সারা ঘর একাই তোলপাড় করে।
তারপর একটু সময় নিয়ে দিলিপ বলল, সেদিন যদি তুই অ্যাবরসন না করাতিস আজ তোকে এমন চিঠির জন্য খুঁজে মরতে হত না।যে ছবিটা চিঠিতে ফুটে উঠতো তা সন্তানেও কম ছিল না।'
-"কি করব বল?তোরা তো সব জানিস।সৌমেন হঠাৎ নিরুদ্দেশ হল।কলকাতা যে গেল আর ফিরলই নাই।
তারপর সমাজ---"
এই খোঁজা খুঁজির মধ্যেই সুমনার হাতটা একটা বস্তায় লাগল।মনে হল বস্তাটা একটু নড়ে উঠল।সুমনা ভয়ে মা-গো বলে পিছিয়ে গেল।
কি-হলো?বলে দিলিপ সুমনার কাছে গেল।
এবং দেখতে পেল একটা বস্তা ।মুখটা বাঁধা।এবং নড়ছে।
দিলিপ ভয়ে ভয়ে বস্তাটাকে তুলে রাস্তায় রাখতেই একটা সদ্যজাত শিশুর কান্না শুনতে পেল।
দিলিপ বুকে  সাহস নিয়ে ধীরে ধীরে বস্তার মুখটা খুলল।
দেখতে পেল, একটি ফুটফুটে শিশু।
সুমনা ভেবে পাচ্ছে না এই শিশুটির কি হবে।
দিলিপ বলল,তুই এককাজ কর কাউকে কিছু বলার দরকার নেই।তুই একে ঘর নিয়ে গিয়ে নিজের মেয়ের মতো মানুষ কর'
সুমনা রাজি হয়ে গেল।
দিলিপ সুমনার কোলে শিশুটিকে তুলে দিয়ে বলল,জানবি চিঠিটা পেয়ে গেছি।
আর হ্যাঁ তোর মেয়ের নাম রাখবি ,চিঠি।

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০

কুমোর পোকা || প্রশান্ত দে || অণুগল্প

কুমোর পোকা
প্রশান্ত দে 


না।চাবিকাঠি রাখার ইনফরমেশনটা মেলাতে পারে নি।শেষমেষ তালাটাও ভাঙতে না পেরে ছিচকে চোর চলে গেছে। অফিস থেকে ফিরে বাঁকাটেরা তালাটাকে দেখে ভাবতে লাগলেন মাধবী।মাধবী মানে স্বামী পরিত্যক্তা
মাধবী স্যান্যাল।এক মাত্র ছেলেকে নিয়ে স্বর্গলোক প্রাপ্ত বাবা মায়ের ভিটেতেই থাকেন।ছেলেকে ইংরাজী মাধ্যম স্কুলে পাঠিয়ে নিজের অফিসে গিয়েছিলেন ।নিত্যদিনের অভ্যাস মতো ঘরে প্রবেশের দরজায় তালা দিয়ে,চাবিকাঠিটা চৌকাঠের বাজুর উপরের ফাঁকে রেখে গিয়েছিলেন ।আগে পরে আসার কথা চিন্তা করে ।
কিন্তু আজ শারীরিক অসুস্থতার কারনে ছেলের স্কুল থেকে ফিরে আসার আগেই ক্লান্ত শরীরে ফিরেছিলেন।
"আজ আরেকটা আঘাতের থেকে বেঁচে গেলম ,এই দামি কোম্পানীর তালাটার জন্য" এই কথাটা ভাবতে ভাবতে চাবিকাঠি  রাখার স্থানটিতে নজর পড়ল।দেখতে পেলেন চাবিটাকে ঢেকে একটা কুমোরপোকা মাটি বয়ে নিয়ে এসে নিজের লার্ভার পিউপা দশার  জন্য কলসাকৃতি ঘর তৈরী করছে।
অথচ আগে এক দিন চাবিকাঠিটা খুঁজে পেতে কতো কষ্ঠই না করতে হয়েছিল।সন্ধ্যায় অবসন্ন শরীরে অফিস থেকে ফিরে দেখে--ছেলেটা চাবিকাঠি খুঁজে না পেয়ে দরজার বাইরে বসে আছে।অন্ধকারে প্রথমে হাতড়ে চাবিটা না পেয়ে ,নিজের  ব্যাগটা তন্নতন্ন করে খুঁজে ছিলেন।অবশেষে নিজের ভাগ্যকে দোষারুপ করতে করতে মোবাইলের আলোটা জ্বেলে চাবি রাখার স্থানটা ভালো করে দেখতেই দেখতে পেয়েছিলেন-চাবি রাখার স্থানে ছোট্টো মাটির কলসের মতো কি যেন একটা।সেটা হাত দিয়ে ভাঙতেই চাবিটা খুঁজে পেয়েছিলেন।এবং খেদোক্তির সুরে বলেছিলেন ,'কেমন দুষ্টুমি দেখ্! কে যেন মাটি দিয়ে চাবিটা ঢেকে দিয়েছে।'
পরের দিন সকালে ঝাড়ু দিতে গিয়ে দেখতে পেয়েছিলেন  -মাটির টুকরোর সঙ্গে মরা একটা পতঙ্গের লার্ভা।
আজ ব্যাপারটা দেখে সব বুঝতে পারলেন এবং ভাবলেন ,"ভাগ্যিস আজও কুমোর পোকাটা চাবি রাখার স্থানে কলসাকৃতি ঘর তৈরী করছিল,তাই চাবিকাঠি রাখার ইনফরমেশন মেলেনি"।
এই জন্য কুমোরপোকাটাকে বাহবা দিলেন এবং আগের দিনের অপরাধের জন্য নিজেকেই অপরাধী করলেন।লার্ভার মৃত্যুতে দুঃখ পেলেন এবং আফশোষ করতে লাগলেন।

বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২০

বীজ বপনের সময় || প্রশান্ত দে || কবিতা

বীজ বপনের সময়
প্রশান্ত দে


প্রত্যেকের মধ্যে একটা নীল আকাশ আছে
আছে নিজের মতো করে একটা করে পৃথিবী
আছে সমুদ্র হ্রদ নদী খাল বিল ডোবা।
কতো কিছুই তো আছে
ঋতু আছে
দীর্ঘ বসন্ত আছে
আকাশে মেঘ আছে
মেঘের ডানা আছে
তাতে মন আছে
মন আছে বলে ময়ূরের পালকেও চোখ ফুটে।
না হলে সঙ্গম- নাদে
 এমন উত্তাল ঢেউ উঠে!
মাটি ভেজাবে বলে বৃষ্টির ফোঁটা মনমেঘলা আকাশ থেকেই
টিপ্ টিপ্  ঝরে পড়ে
তখনই বুঝি এখনই বীজ বপনের সময়।

মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০

ওটাও একটা পথ || প্রশান্ত দে || কবিতা

....ওটাও একটা পথ.....
         প্রশান্ত দে

জন্মের পর যেদিন আমার পা বেরোল
ছুঁয়েছি উঠোন
তারপর ছোটো পায়ে ধরেছি গলি
একদিন অজান্তে সন্দেহ জুগিয়েছিল
পাড়ার কুলি।
আমাকে সেই দেখিয়েছিল বড়োরাস্তা কেমন হয়
তখন আমার বয়স পাঁচ কিংবা ছয়।
আমি তখন জানতাম না এর সাথে জুড়েছে
রাস্তার নধর।
যে পথের গতি চোখ ধাঁধানো
আমার বয়স এভাবেই বেড়ে গিয়ে মনেপ্রাণে বেড়েছে রাস্তার কদর
গ্ৰাম শহর দেশ মহাদেশ জুড়েছে আকাশ জল ও স্থল
সব জায়গায় পা রাখলে নিজেকে ধরা যায়
অন্যকে ছোঁয়া যায়
যেদিন আমার বয়সের বন্ধুটা এমন পথে পা  হারিয়ে চলে গেল
যার আর ফেরার নাই শপথ
সেদিন জানলাম ওটাও একটা পথ.......

সোমবার, ১ জুন, ২০২০

ধন্যবাদপাড়া || প্রশান্ত দে || কবিতা

ধন্যবাদপাড়া
প্রশান্ত দে


ধন্যবাদপাড়া
আমি ছোটো নই। বেশ বড়ো।
আমি যে বেয়াড়া
   
আমাকে খামকা গালপাড়ে ধন্যবাদপাড়া।

এতকিছু পাই । ধরে রাখি ।
শখষোলোআনা
মাথা দাপা দাপি শব্দঝাঁপি ভীষনশেয়ানা

আমাকে খামকা গালপাড়ে ধন্যবাদপাড়া।
চুপশালা তুই ,বেয়াদপ।
ভাঁগাড়দেবতা
মাথামোটাচুলে শব্দভুলে মানহীনবতা

আমাকে খামকা গালপাড়ে ধন্যবাদপাড়া।
চৌরশ মুখেতে দীর্ঘগলি।
বত্রিশপাহারা
তবু ছুটে চলে ধ্বনিব্যত্তয়ে ,ল্যাবড়ারা --
আমাকে খামকা গালপাড়ে ধন্যবাদপাড়া ৷

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...