রবীন বসু লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রবীন বসু লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০

গভীর কাঁদে || রবীন বসু || কবিতা

গভীর কাঁদে

রবীন বসু





এই যে নরম সকাল, মেঘলা আকাশ

শস্যহীন মাঠে সূর্যদেব দাঁড়িয়ে

আবর্তন শেষ হবে, পুনরাবর্তন

আমার দৃষ্টির মধ্যে এই সব সজ্জিত থাক


চেনা দৃশ্য আর অজানা রহস্য মাখামাখি

এই যে প্রকৃতি মাঠ, আকুল হৃদয়

দ্বন্দ্বময় আমাদের ঊষর যাপন

কোথাও গভীরে কাঁদে কাদামাটি অনন্ত জীবন



রবীন বসু

১৮৯/৯, কসবা রোড, কলকাতা-৭০০ ০৪২

ফোন :  9433552421

হোয়াটসঅ্যাপ : 8017135485


রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০

কবিতা কেন লিখি || রবীন বসু || গদ্য

কবিতা কেন লিখি

রবীন বসু





না, আমি প্রেমে পড়ে কবিতা লিখিনি। বা প্রত্যাখ্যাত হয়ে। স্কুলের শেষ ধাপে কিংবা কলেজে প্রথম দিকে এক প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম পুরস্কার হিসেবে হাতে পেয়েছিলুম নগদ ২৫ টাকা আর কিছু বই। বইগুলোর মধ্যে ছিল বিশেষ দুটি বই। যা পরবর্তীতে আমার জীবন ও তার লক্ষ্যের অভিমুখ ঠিক করে দিয়েছিল। প্রথমটি বুদ্ধদেব বসুর সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধের বই "কালের পুতুল" আর দ্বিতীয়টি হল কবি "আল মাহমুদের শ্রেষ্ঠ কবিতা"। এর আগে যা কবিতা পড়া তা ওই পাঠ্য বইয়ে। যৌবনের সেই রোমাঞ্চিত সময়ে সারারাত ধরে ওই আশ্চর্য বইটির পাতা উলটে গেলাম। পাতায় পাতায় ছন্দময় জীবনের এক আলোকিত উদ্ভাস। দেশজ শব্দ, দেখা চিত্রকল্প, পুরাণ-মিথ, লোকজীবনের প্রেম, নারী, ফেলে আসা গ্রাম, আটপৌরে জীবন…সব অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত ও স্বরবৃত্ত ছন্দের দোলায় ভাসতে ভাসতে আমার গহিন মনোলোকে স্থায়ী ছাপ ফেলে দিল "সোনালী কাবিন" । সেই আমার কবিতাকে প্রথম ভালোলাগা। আর সেই ভালোলাগার হাত ধরে পর পর এলেন রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ দাশ ও অন্যান্য আধুনিক কবিরা। আমার সমগ্র সত্তায় এইভাবে কবিতা জড়িয়ে গেল। ছড়িয়ে গেল তার শিকড় গভীরে। মাথার মধ্যে আজও ঘোরে---


"কবিতা তো শৈশবের স্মৃতি

কবিতা চরের পাখী, কুড়ানো হাসের ডিম, গন্ধভরা ঘাস

ম্লানমুখ বউটির দড়িছেড়া হারানো বাছুর

কবিতা তো মক্তবের মেয়ে চুলখোলা আয়েশা আক্তার।"

( আল মাহমুদ ) 


হ্যাঁ, এই সরল আপাত নিরাভরণ শব্দসমষ্টির গভীরে যে জীবনছবি, যে দ্যোতনা তা আমাকে আকৃষ্ট করল। অজান্তে কেন জানিনা একটা সুর সব সময় আমার যাপন-ঘিরে প্রবাহিত হতে লাগলো। ট্রামে বাসে ট্রেনে, এমনকি ভিড়ের মধ্যে বা নির্জনতায় আমার মধ্যে ছবি জাগতে লাগলো। তারই হাত ধরে কিছু শব্দ, কিছু উচ্চারণ উঠে এলো আপনা-আপনি। আর নির্মাণ হতে শুরু করল কবিতা। এই নির্মাণপর্ব না দেখানো যায়, না বোঝানো যায়। বোধের গভীরের এক অবাক বিস্ময়। 

আর এই বিস্ময়কে রূপদান করতে গিয়ে আমাদের শব্দের আশ্রয় নিতে হয়। প্রতিকূল পরিবেশ ও পরিস্থিতির মধ্যে নিজেকে সংহত করে নিজের জ্ঞান মেধা অনুভব ও অনুসন্ধানের সবটুকু দিয়ে একটা কবিতা নির্মাণ করতে হয়। কিন্তু এবার প্রশ্ন হল কবিতা কেন লিখব? বা লিখি। মানুষ হিসেবে সমাজের কাছে, রাষ্ট্রের কাছে, এমনকি নিজের কাছেও কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। যার উত্তর আমরা পেতে চাই। কিংবা নিজস্ব কিছু ভাবনা অনুভব আর্তি অপরকে শোনাতে চাই, যার ফলশ্রুতিতে কবিতা লেখা। আমার নিজের অভিমত সমাজ মানুষ হিসেবে, রাষ্ট্রের সচেতন নাগরিক হিসেবে কবিরও একটা দায়িত্ব থাকে, যারা অনুচ্চার, সংশয়িত, বিশৃঙ্খল, প্রতিবাদহীন ক্ষয়িত নিরন্ন মানুষ তাদের কথা বৃহত্তর মঞ্চে তুলে ধরা। আমিও ব্যক্তিগত ভাবে সময়ের দুর্বিনীত আচরণ থেকে চোখ ফিরিয়ে থাকতে পারিনা। সমাজের প্রতিটা আলোড়নে গভীর আর্তি আর সংবেদন নিয়ে উপস্থিত হই আমার কবিতায়। আমি সমাজ-বাস্তবতায় বিশ্বাসী । 

আবার আমার যে আত্মগত বোধ তাকে খনন করি ক্রমাগত। খননের পর যে ধ্বংসাবশেষ ওঠে, সেখানে ম্যাগনিফাইং ফেলে তন্ন তন্ন খুঁজি নিজের অর্জন সমৃদ্ধি ব্যর্থতা বা বিকৃতি। আলো ফেলি সুদূর অতীত, ছেড়ে আসা গ্রাম, স্মৃতির নদী, আমার চারপাশের বহমান জীবন, ভালোবাসার মানুষজন, স্বজনবন্ধু, হারানো মুখ আর অনির্দেশ ভবিষ্যতের দিকে। আমি বিশ্বাস করি এতদিন ধরে যেসব কবিতা লিখেছি, তা এই মহাবিশ্বের ইথার তরঙ্গের কোথাও না কোথাও থেকে যাবে। আর অনেক সময় পরে কোন উন্নততর মানবপ্রজাতি এসে  তার পাঠোদ্ধার করবে। এই আশায় আমি কবিতা লিখি। 


শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২০

৬টি শব্দ'৫ || রবীন বসু || কবিতার সাম্প্রতিক প্রবণতা

৬টি শব্দ'৫
রবীন বসু



১.  দৃশ্যের অভ্যন্তরে দৃশ্য 
         হয়তো অদৃশ্য।

২.  হাত মুঠো করি, 
      পাই ফক্কাকড়ি।

৩.  উদ্ভাসিত আলো সংকেত দেয় কালো।

৪.  যাবতীয় পরাজয় 
     গোপন ছাতার আশ্রয়।

৫.  উন্নয়নের ছলাকলা
      মৃত দেহের পচাগলা।

৬.  অবারিত শোক কবে হবে অশোক।

শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০

দূষণ আনবো না || রবীন বসু || কবিতা

দূষণ আনবো না
রবীন বসু

পরিবেশ প্রচ্ছন্ন আজ দেখি এ উন্মাদের দেশ
মানে না নিষেধ কিছু সর্বনাশ তুমুল প্রবেশ।
বায়ু নেই জল নেই বৃক্ষের সারিরা গ্যাছে সরে
আকাশ নির্মল নয় জলস্তর নেমে যাচ্ছে দূরে।

মানুষের হঠকারী আর তার সীমাহীন লোভ
প্রকৃতি আহত হচ্ছে হয়তো নিশ্চিত অবলোপ।
বরফ গলছে দেখি উষ্ণায়ন মারাত্মক হল
জলস্তর বেড়ে গিয়ে প্লাবিত হচ্ছে সব স্থল।

কার্বনে ডুবেছি আমরা ভোগ আর বিলাসিতায়
প্রাণদায়ী অক্সিজেন ক্রমাগত নিঃশেষ তো প্রায়।
পানীয়-জল অভাব, লবণাক্ত উপকূল দেশ
পরিবেশ উচ্ছন্নে যাক আমি থাকি আহা বেশ বেশ।

পরিবেশ না বাঁচালে বাঁচবে না তুমি মানুষও
নিজেকে শুদ্ধ করো, বল, দূষণ আনবো না কোথাও।

শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২০

অণুগল্প || সূর্যোদয় || রবীন বসু

নতুন সূর্যোদয়
    ( অণুগল্প )
-------------------------
রবীন বসু

মনে করুন সূর্য নেই। সমস্ত পৃথিবী জুড়ে অনালোকিত এক জ্যোৎস্না। ছায়া ছায়া চারপাশ। নক্ষত্রের খই ফুটছে আকাশে। বাতাস মন্থর মৃদু। একমাত্র জীবিত মানুষ প্রজ্ঞা।  ন্যুব্জ দেহে নিজের প্রাচীন শ্লথ শরীরটা টানছে। টেনেই যাচ্ছে। কোথাও লুকোতে হবে তাকে। গৃহবন্দী। কিন্তু গৃহই তো নেই। এক সুপার সাইক্লোন পৃথিবীকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আর তারপরেই এসেছে অজানা ভাইরাস কোভিড-১৯। যে সব মানুষ আর প্রাণী বেঁচে ছিল তারাও সংক্রমিত হল। একে অন্যের থেকে। তারপর কাশতে কাশতে জ্বর। ফুসফুসে সংক্রমণ ছড়িয়ে যেতেই হৃদযন্ত্র বিকল।
প্রজ্ঞাই একমাত্র জীবিত। কেননা সে ধারক এই সভ্যতার। আদিম গুহাযুগ থেকে সে মানুষকে উৎসাহ দিয়েছে। অনুসন্ধান দিয়েছে। বিনিময়ে মানুষ মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে নিত্য নতুন আবিষ্কার করেছে। তাইতো সভ্যতার রথ গড়গড়িয়ে চলেছে। কিন্তু সেই মানুষই পরিশেষে হল বেহিসেবি। উদ্দাম লোভী উচ্ছৃঙ্খল। যে প্রকৃতি তাকে জন্ম দিল, ধারণ করল, খাদ্য ও নিরাপত্তা দিল, তাকেই সে আশ্রয়হীন করল। দূষিত করল। তাই প্রকৃতি আজ নিজের তাগিদে আর আত্মরক্ষার জন্য পালটা আক্রমণ শানালো। ঝড়, প্লাবন আর সব শেষে এই ভাইরাস কোভিড-১৯।
হাতে বেশি সময় নেই। মারণ ভাইরাস তাকে যেন স্পর্শ করতে না পারে। যে কোন ভাবেই হোক প্রজ্ঞাকে বেঁচে থাকতে হবে। আগামী পৃথিবীর প্রয়োজনে। রাত শেষ হয়ে আসছে। প্রজ্ঞার শরীর আর টানছে না। সে গড়াতে শুরু করল। গড়াতে গড়াতে কখন যেন এক মহাজাগতিক টানে একটা ব্ল্যাক হোলের মধ্যে ঢুকে গেল। অনন্ত অন্ধকার আর দুর্নিবার আকর্ষণ। প্রজ্ঞা মজা পেল। কোভিড-১৯ এখানে ঢুকতে পারবে না। ঢুকলেও বেঁচে থাকবে না। লাট খেতে খেতে প্রজ্ঞার মস্তিষ্কের কোষে সংকেত এল আগামী পৃথিবীর নতুন সূর্যোদয়ের ।
                         ---------


Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...