সুবীর সরকার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সুবীর সরকার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২০

বিবৃতি || সুবীর সরকার || একটি কবিতা

বিবৃতি

সুবীর সরকার




আত্মহত্যা আসলে একটি বিদেশী শব্দ।
সুতরাং আত্মহত্যা করতে গেলে ধরে রাখতে
                              হবে চোখের জল
আমি জলাধারে ছেড়ে দেব ব্যাঙ ও ব্যাঙাচি
তারপর নদী ও নদীনালা।
তারপর গোপন স্লুইস গেট।
আমাকে ক্ষমা করুন,আমি দ্রুতগামী হতে
                                পারছি না
এই তো,ওল্টানো নৌকোয় কেক,প্যস্ট্রি 
                                                     ও 
                                                 কীটনাশক
আর ধান খেয়ে পালিয়ে যাওয়া পাখিরা

শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২০

দুপুর || সুবীর সরকার || কবিতা

দুপুর
সুবীর সরকার

রৌদ্রে কিছু দুপুর লেগে থাকে।
শ্যাওলা রঙের টিপ আর প্লাসটিকের
                                   চিরুনির পাশে
তাতঘর।
জঙ্গলের মায়ায় খুব দূরের এক পৃথিবী
জঙ্গলে আগুন জ্বলে ওঠে
আমাদের দ্বিখণ্ডিত ঘুম আর
নটার সাইরেন মনে করিয়ে দেয়
আদতে আমাদের কোন নিরাপত্তা নেই

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২০

আদর ও অপমানের কবিতা || সুবীর সরকার || কবিতা

আদর ও অপমানের কবিতা
সুবীর সরকার


লণ্ঠন নামিয়ে রাখা একটা হাট।
এখন সব উপেক্ষা করতে শিখে
                                        গেছি
উপেক্ষা জড়িয়ে ধরে আর অপমান তো
                                 আদরের মতো
ছোলা ও গুড় খেয়ে পালিয়ে গেছে জর্মান্ধ
                                            পাখিরা
কতবার মুদ্রণপ্রমাদ!
কতবার সাদা পাতায় ভূল
                                 অংক।
শিস ভেঙে যাওয়া বলপেনে হিসেব লিখে
                                                 রাখি
কচুপাতায় চোখের জল।
একটিও লম্বা রেসের ঘোড়া খুঁজে পাচ্ছি
                                                    না

বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৮

ইচ্ছেবাড়িতে আড্ডা ৷ বাংলা ৷ আই-সোসাইটি ৫৮৯ ৷ ১৬-০৮-২০১৮

ইচ্ছেবাড়িতে আড্ডা
সুলেখা সরকার


শিলিগুড়ি ; ১৫-০৮-২০১৮ ; আই-সোসাইটি ৷৷ আজ ইচ্ছেবাড়িতে হাওয়াকল পাবলিশার্স ও শাম্ভবী- র উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল নব্বই দশকের কবিতা। সময়ের বর্ণময়তায় কবিতার ভাব ও রূপের পরিবর্তন। অংশগ্রহণে ছিলেন একই সময়ে লিখতে আসা দু-জন। কবি সুবীর সরকার এবং কবি রিমি দে। ছোট্ট কথায় নব্বই দশকের গভীরতা মেপেছেন শ্রদ্ধেয় সমর চক্রবর্তী এবং বিনায়ক বন্দোপাধ্যায়। শিলিগুড়ি ও তার আশপাশ থেকে একাধিক কবিরা স্টপেজ দিয়েছেন ইচ্ছেবাড়িতে কবিতার স্বাদ নিতে।


বুধবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৮

গদ্য ৷ বাংলা । নবপর্যায়-৫৮৮। অষ্টম বর্ষ । সংখ্যা-১ ।পোস্ট-৩ । ১৫-০৮-২০১৮ ।।। গদ্য - ঢো ল কা ঠি বৃ ত্তা ন্ত । সুবীর সরকার

ঢো ল কা ঠি বৃ ত্তা ন্ত
সুবীর সরকার


‘আরো দিয়া যায় পীরীতির বায়না’...
১।
হাটের ভিতর দিয়ে হেঁটে আসতে আসতে ফাগুন চোতের রোদ হাওয়া অতিক্রম করতে করতে রতিকান্তকে কখন কিভাবে যেন মহামহিম এক হাটখন্ডই হয়ে উঠতে হয়! হাট থেকে হাটের দিকে যেতে যেতে সে তার ঢোল,ঢোলের কাঠি সমেত কত কত খেতপাথারবাড়ির ভিতর ঢুকে পড়ে। অনুপ্রবেশের হালহকিকত থেকে নতুন ধানের চিড়া খইএর সুঘ্রাণ তাকে আমোদিত করলে রতিকান্ত ঈষৎ অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে কিন্তু মগজের কোষে কোষে গান ঘুম আর স্বপ্ন নিয়ে সে অনুপ্রবেশের চিরকালীনতাকে হাটগঞ্জের বাতাসেই যেন উড়িয়ে দিতে চায়।
জীবনের উজানে কি যাওয়া হয় মানুষের!জন্ম জন্ম ধরে জন্মান্তরের পাকে পাকে ভাটির দিকে এগিয়ে যাওয়াই যেন গাঁথা হয়ে যায়।রতিকান্ত বয়াতি ঢোল বাজাতে বাজাতে মাথাভরতি বাবড়ি চুল ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে কখন বুঝি চলেই যায় হাওড় বাওড় বাওকুমটা বাতাসের নৈরাজ্যের ভিতর। তার কাঠিঢোল নিয়ে সে জীবনভর যেতেই থাকে সোনাপুর মথুরা নিমতি তপসিখাতা বঞ্চুকুমারী দেওডাঙ্গা শালকুমারের হাটে হাটে। ধুলোর ঘূর্ণী তাকে ঢেকে ফেললেও সে কবেকার যেন বংশপরম্পরাসূত্রেই ভীষণভাবে ঢোল দোতরা আর নাচগান নিয়ে হাটের ভিতর চলে আসে;চলেই আসতে হয় তাকে। বুঝি রতিকান্ত বয়াতি ছাড়া,বয়াতির ঝাঁকড়া চুলের বাবড়ি বিনা হাট শেষাবধি কিছুতেই হাট হয়ে উঠতেই পারে না! রতিকান্তের গান,নাচের বিবিধ মুদ্রা,কাঠি ঢোল দীনদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে নদীজঙ্গলজনপদের ফাঁকে ফাঁকে অনবরত হাটখন্ডগুলি পাশ ফিরতেই থাকে।
৩।
ভাঙা হাটের হাটফিরতি মানুষের চোখেমুখে চলন বিচলনের ভিতর আকুলতা বিকুলতা থাকে বুঝি! তেমনভাবে রতিকান্তের কথা কেউ না জানলেও রতিকান্তের বয়াতি হয়ে ওঠার গল্পগাথাটুকরোগুলি হাটের পরতে পরতে আঠার মত আটকে থাকে। রতিকান্তর গুরু ঝাম্পুরা, কিংবা তারও গুরু নালচান সব যেন আইলে আইলে হাটতে থাকে। হোঁচট খায় আইল কাশিয়ার থোপে থোপে। সবজিহাটার পথে কুঁপির আলোয় চতুর শেয়ালের চোখের ভিতর আগিলা দিনের গান বাজে। বাজতেই থাকে। যেভাবে ঢোলের লোকজতা নিয়ে সর্বশরীরে বিষাদ মেখে নেয় রতিকান্ত বয়াতি। বাতাসের খুব নিকটে কান পাতলেই পাখিদের ডাক,পাতা খসে পড়া; আর সব ছাপিয়ে হু হু হাহাকার হয়ে বেজে ওঠা গান,
     ‘ও মুই কং তোমার আগে
     ও মোর কইতে শরম নাগে
     সগায় যাছে মেলা দেখিবার
     মোক না নিগান কেনে’


৪।
গান বলি নাচ বলি কালখণ্ড বলি সবেরই ভিতর যাপিত জীবনের প্রবহমানতা গল্পের পর গল্প জুড়ে যেন ঘাসের স্তূপ বেরিয়ে আসা বাঘেরা বুঝি জল খেতে চলে আসে দিনকাল ভুলতে বসা হাটবাজারের ভিতর! এতসব ঘটে,ঘটেই চলে; রতিকান্ত বয়াতির বিশ্বাসযোগ্য কোন বৃত্তান্ত রচিত হয় না। গান শুরু হয় নাচ শুরু হয়। বাদল মেঘের নিচে রতিকান্ত দাঁড়িয়ে থাকে। রতিকান্তর কোন বৃত্তান্ত রচিত হয় না। বরং রতিকান্তই নতুন নতুন সব বৃত্তান্তের জন্ম দিতে থাকে জলহাওয়াজনপদের ভিতর।








Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...