সৌমিত্র রায়-এর জন্য গদ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সৌমিত্র রায়-এর জন্য গদ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২৭ জুন, ২০২০

বসে আছি || ফটিক চৌধুরী || কবিতা

বসে আছি
ফটিক চৌধুরী


এই দেখো আমার কুটির
                              দীর্ণ
সময়ও হয়ে এলো ছুটির।
এই দেখো আমার শরীর
                             জীর্ণ
দেখা মিলবে না কোন পরীর।
এই দেখো আমার সময়
                        ‌‌     কীর্ণ
আর কেউ দেবে অভয়?

বসে আছি ক্ষীণতোয়া নদীটির তীরে
সন্ধ্যার শেষ পাখি ফিরে গেছে নীড়ে।

মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০

সৌমিত্র রায়-এর জন্য গদ্য প্রভাত চৌধুরী

সৌমিত্র রায়-এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

৩১.
গতকালের লেখাতে একটি দীর্ঘ নামের তালিকা ছিল। অনেকেই প্রশ্ন করত পারেন, নামের তালিকাটি কি এই লেখাটির ক্ষেত্রে অপরিহার্য ছিল।আমার উত্তর হল : অবশ্যই অপরিহার্য ছিল , অনিবার্য ছিল।
এই নামগুলি -কে আমি যদি কেবলমাত্র নাম রূপে গণ্য করতাম, তাহলে নাম ছাপার কোনো প্রয়োজন ছিল না। একটা সংখ্যা লিখে দিলেই অঙ্ক মিলে যেত । আমি এই নামগুলির মধ্যে দেখতে পেয়েছি ' অনুপ্রেরণা ' নামক একটি শব্দ। এই নামের মহামানবেরা আমাকে হাত ধরে পথ চিনিয়ে নিয়ে গেছে। এদের সমবেত অঙ্গীকারের যোগফল কবিতাপাক্ষিক।আর একটি যোগফল প্রভাত চৌধুরী।
আরো স্পষ্ট করে বললে বলতে হয়-- প্রলয় মুখোপাধ্যায় ভূদেব কর বিদ্যুৎ পরামাণিক চঞ্চল দুবে- দের বাদ দিয়ে যেমন কবিতাপাক্ষিক হয় না , ঠিক তেমনি এদের বাদ দিলে প্রভাত চৌধুরীও বাদের তালিকায় চলে যাবে। এখন যে চারজনের নাম উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করলাম , সেটা গতকালের সমস্ত নামগুলির প্রতিনিধি মাত্র।
আমরা সেপ্টেম্বর1994- এ একটা আবেদনপত্র প্রকাশ করেছিলাম।বিষয় : কেন আলোক সরকার , কেন কাব্যসংগ্রহ। সেই আবেদনপত্রটিতে যে নামগুলি ছিল , সেগুলিও আপনাদের বা আজকের পাঠকের জানানোটা কর্তব্য মনে করছি। ভবদীয়-র নীচের নামগুলি :
উৎপলকুমার বসু পবিত্র মুখোপাধ্যায় দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় দেবদাস আচার্য সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায় জয় গোস্বামী প্রমোদ বসু সমীরণ মজুমদার সুব্রত রুদ্র মৃদুল দাশগুপ্ত সুজিত সরকার গৌতম ঘোষদস্তিদার রাজকল্যাণ চেল নির্মল হালদার শ্যামলবরণ সাহা রফিক উল ইসলাম রবীন্দু বিশ্বাস কাননকুমার ভৌমিক শান্তিময় মুখোপাধ্যায় প্রভাত চৌধুরী।
এখানেও সেই দীর্ঘ তালিকা। এই নামের তালিকার ওপর ভরসা করে আলোক সরকার-এর কাব্যসামগ্র প্রকাশ করার পরিকল্পনা করেছিলাম , এটা ঠিক কথা নয়। আমি চেয়েছিলাম এই মহৎ কাজটির সঙ্গে এঁদের নামগুলি যুক্ত  থাকা আবশ্যক। সেই নামগুলির মধ্যে বা আবেদনকারীদের মধ্যে এমন একজন ছিলেন যিনি পঞ্চাশ টাকা দিয়েও প্রকাশনার পাশে দাঁড়াননি। কিন্তু তাঁর সমর্থনের জন্য সারারাতের ট্রেনযাত্রা করে পৌঁছে গিয়েছিলাম দূরবর্তী জেলাশহরে।
এসব কথা মনে রেখেছিলাম এতদিন। এদের আলোক সরকারের প্রতি কোনো দায়দায়িত্ব ছিল না। নিজেরা প্রতিষ্ঠানবিরোধী এটা প্রমাণের জন্য আলোক সরকারের অনুগামী ছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জয় গোস্বামী আলোক সরকারের কবিতার ধারাবাহিক পাঠের যে ঐতিহ্য বহন করত ,তার ধারে কাছে পৌঁছনোও অসাধ্য ছিল দূরবর্তী জেলার ওই কবিতালেখকের । প্রতিষ্ঠান বিরোধিতাও একটা নতুন ফ্যাশন ছিল সেসময়। পাত্তা না পেয়ে বিরোধিতা ।
আমি একদা একটি প্রতিষ্ঠানের পত্রিকার নিয়মিত লেখক ছিলাম। আমি জানি কী কঠোর পরিশ্রম এবং অনুশীলনের মধ্য দিয়ে হাঁটতে জানতে হয় ! হাঁটার কৌশল রপ্ত করতে হয়।
অন্য কোনো কৌশলের কথা আগামীকাল

রবিবার, ১০ মে, ২০২০

প্রভাত চৌধুরী || সৌমিত্র রায়-এর জন্য গদ্য- ৮ || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায়-এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

৮.
আমি একটা কথা খুব জোরের সঙ্গে বলে আসছি গত কুড়ি বছরেরও বেশি ক্যালেন্ডার-বর্ষ ব্যাপী।
এই প্রারম্ভিক বাক্যটিতে বর্ষ বা বছরের আগে আরো একটি বিশেষ্যকে বিশেষণ রূপে প্রয়োগ করলাম। এর কারণ আমরা জানি বারো মাসে এক বছর। এটা জ্ঞাত- সত্য। এর পাশাপাশি আরো একটি কথা চালু আছে। কথাটি হল : আঠারো মাসে বছর !
কেন এই অপলাপ ? এর কারণ অনেকেই কাজের হিসেব ঠিক রাখতে পারেন না। যেকাজটা করতে দশ দিন লাগার কথা , সেই কাজটি সম্পন্ন করতে তিনি পনেরো দিন সময় নিলেন। তাদের ক্ষেত্রে আঠারো মাসে বছরের দৃষ্টান্তটি প্রযোজ্য হতে পারে।
আরো এক ধরনের বিভ্রান্তি সচরাচর দ্যাখা দিচ্ছে। যেমন গত পঞ্চাশ বছরে পোশাক-পরিচ্ছদের আমূল বদল ঘটেছে । এই প্রসঙ্গে একটি ব্যক্তিগত স্মৃতি কোট করছি। আমি যেদিন জিনস পরে অফিসে গিয়েছিলাম , অফিসটা ছিল রাইটার্সে , সকলে কেমন অবাক হয়ে গিয়েছিল।আর আমার চাকরি জীবনের শেষের দিকে ছবিটা বদলে গিয়েছিল। তখন জিনস-কে গ্রহণ করতে শিখে গিয়েছিল কেরানি-সমাজ । এরপর আসা যাক খাদ্য-তালিকায়। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে চিনদেশের খাবার প্রভাব বিস্তার করেছে।আর বিরিয়ানি যেন বাঙালিদের নিজস্ব মেনু। এসব মেনে নিতে কোনো কুণ্ঠা দেখতে পেলাম না।
এই যে পোশাক বদলে গেল , পোশাকের সঙ্গে লুক-ও বদলে গেল । মেনে নিলাম তর্কাতীত ভাবে।
কিন্তু যত আপত্তি কবিতার ক্ষেত্রে। আমরা যখন কবিতার নতুন মানচিত্র নির্মাণের কথা বললাম। দশদিক থেকে শুরু হল ' গেল - গেল ' রব।
কেন এই প্রতিক্রিয়া ! তার কোনো সদার্থক ব্যাখ্যা পেলাম না।
কিন্তু গানের ক্ষেত্রে  এই পরিস্থিতি হয়নি।  জীবনমুখী গান বা ব্যান্ডের গান-কে মানুষ মেনে নিল। অনেক পিউরিটান মানুষ জীবনমুখী গানের বিরুদ্ধে গিয়েছিলেন , এটা বলে রাখলাম।কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ পরিবর্তনকে মেনে নিয়েছিলেন ।
কিন্তু কবিতার ক্ষেত্রে সামগ্রিক বিরোধীতার মধ্যে পড়ে গেলাম আমরা। প্রথম প্রথম বেশ কিছু আধুনিক চিন্তাচেতনার কবিজন আমাদের সঙ্গে ছিলেন। একে একে তাদের অনেকেই শিবির বদল করল। কেন করল তার উত্তর খুঁজব আগামী সংখ্যায়।

শনিবার, ৯ মে, ২০২০

প্রভাত চৌধুরী || সৌমিত্র রায়-এর জন্য গদ্য-৭ || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায়-এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


৭.
এবার দ্যাখা যাক পোস্টমডার্ন কালখণ্ডের কবিরা তাদের কবিতায় কোন কোন অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এখানে কবিদের নাম এবং নতুন অঞ্চলের উল্লেখ করছি। কবিতার উদ্ধৃতি এখন দিলাম না। এই লেখাটি যখন বইতে স্থান পাবে , তখন যুক্ত করে দেব। এখন কেবলমাত্র পরিসরগুলি দেখতে থাকুন।
১. ' বাজার করিবার সহজ উপায় ' -টিকে কবিতার বিষয় করেছিল রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায়।
২. অমিতাভ মৈত্র ঘোড়দৌড়ের মাঠের প্রবেশপথে বিতরণের জন্য একটি লিফলেট-কে কবিতার বিষয় করেছিল। এই নিদর্শন আধুনিক কালপর্বে একটিও দ্যাখা যায়নি।
৩.  পিনাকীরঞ্জন সামন্ত তার কবিতায় লিপিবদ্ধ করেছিল --- ' কেন আমি অঙ্কে শূন্য পেয়েছিলাম '।এই কবিতাটি এক নতুন ডিসকোর্স -এর সন্ধান দিয়েছিল।
৪. জহর সেনমজুমদার এম. এ.পরীক্ষার্থীদের জন্য যে ' সাহিত্য-টীকা ' -টিকে কবিতায় নিয়ে এসেছিল।শুধু অভিনব নয় , একে আমি আবিষ্কারের মর্যাদা দিলাম।
৫. শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় হিমালয়-প্রেমীদের কাছে এখন একটি পরিচিত নাম। 2002-এ এতটা হিমালয়-সর্বস্ব ছিল না। তখন ট্রেকিং-কে কবিতাতে যুক্ত করতে সমর্থ হয়েছিল ওর নিজস্বতায়।
৬. ' একটি দোকানের বিবরণ --- বেঙ্গল ফটো স্টোর্স ' এই শিরোনামে একটি কবিতা লেখার সাহস দেখিয়েছিল সুমিতেশ সরকার। টুপি খুলে অভিবাদন জানাচ্ছি সুমিতেশকে।
৭.  কৌশিক চক্রবর্তী , প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতে চায় চিরটা কাল।এই কৌশিক রচনা করেছিল ' ভবানন্দ রোড-কথা ' ।যেখানে তার স্বীকারোক্তিটুকু পাঠ করতে চাইছি। ' একটি রাস্তাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘকবিতা , যা ঠিক কিনু গোয়ালার গলি নয় '। এই ঘোষণার মধ্যে কি আধুনিকতা থেকে সরাসরি বেরিয়ে কথা লিখতে চেয়েছিল কৌশিক। জানি না , জানতে চাইও না।
 ৮. রথীন বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত এই পঙ্ ক্তিটি পড়তে চাইছি : ' সেফটিপিন বিষয়ে কিছু লিখতে গেলে প্রথমেই জেনে নিতে হবে ঘরের হিউমিডিটি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য।
এই নতুন একটি শর্ত আরোপ করার অধিকার অর্জন করেছে রথীন।
অনেক উদাহর।
অনেক উদাহরণ দিলাম। পড়তে থাকুন। মিলিয়ে দ্যাখার চেষ্টাণ দিলাম। পড়তে থাকুন। মিলিয়ে দ্যাখার চেষ্টা করুন আধুনিক

শুক্রবার, ৮ মে, ২০২০

প্রভাত চৌধুরী || সৌমিত্র রায়-এর জন্য গদ্য || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায়-এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

৬.
গতকাল বলেছিলাম দৃশ্যের ভেতর দৃশ্য দেখার বিষয়ে কিছু কথাবলা দিয়ে শুরু করব আজকের ট্রেকিং।
প্রথমেই রাত্রের টেন্ট বা তাঁবু খুলে ফেলতে হবে। আজকের তাঁবু কোথায় লাগানো হবে তা আগাম বলে দিচ্ছি না। তবে সেখানে যে নতুন দিগন্তরেখা আছে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
প্রথমেই দৃশ্য শব্দটিকে দেখতে চাইছি।
আকাদেমি বিদ্যার্থী বাংলা অভিধান দেখিয়ে দিল :
দৃশ্য  = ১.দেখার যোগ্য , দর্শনীয়।
            ২. দেখা যাচ্ছে এমন ,দৃশ্যমান বস্তু ।
             ৩. বহিঃপ্রকৃতি , প্রাকৃতিক দৃশ্য।
            ৪. নাটকের গর্ভাঙ্ক
অভিধান আরো জানিয়ে দিল দৃশ্য -র বিপরীত শব্দ অদৃশ্য।
এখন এই চারটি সুনির্দিষ্ট অর্থের মধ্যে দৃশ্যের ভেতরে যে এক বা একাধিক দৃশ্য আছে , যা আমি দ্যাখাতে চাইছি , তার কোনো দিক নির্দেশ দেখতে পাচ্ছি না। সত্যই কি পাচ্ছি না !
আমি যদি ২ নম্বর অর্থটিকে গ্রহণ করে দু-পা এগিয়ে যাবার চেষ্টা করি , তাহলে কি একটি সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে না ? 
দেখা যাচ্ছে এমন বা দৃশ্যমান বস্তুটিকে যদি একাগ্র চিত্তে দেখতে থাকি , তাহলে কি প্রকাশ্য দৃশ্যটি থেকে অপ্রকটিত কিছু উঠে আসার সম্ভাবনা কি একেবারেই নেই। তাহলে তিনি যে লিখেদিলেন : রাতের সব তারাই আছে দিনের আলোর গভীরে।
অতএব দৃশ্যের ভেতর থেকে ভিন্ন একটি দৃশ্য দেখা সম্ভব। দেখা সম্ভব হলেই দেখানোও সম্ভব। তবে এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখতে চাই , যিনি দৃশ্যের ভেতর থেকে ভিন্ন একটি দৃশ্য দেখতে এবং দেখাতে সক্ষম হবেন , তাঁকে অবশ্যই কবি হতে হবে।।     
আমি সাম্প্রতিক কবিতা থেকে কিছু কবিতার অংশ তুলে ধরছি ।কবিদের নাম দিচ্ছি না ইচ্ছাকৃতভাবে।
১.   জলের ওপর ভেসে থাকে ভজনসংগীত।তারপর একসময় ডুবে যায়।
২ .  আহ্লাদ শব্দটার সাথে ভালোবাসা শব্দটা মাখামাখি হয়ে একটা সাদা পৃষ্ঠার জন্ম হল,
৩.  ঘটনা-সীমান্ত থেকে বেরিয়ে এসেছে এক অলীক মাঝবয়সি রোদ্দুর।
৪. নানা রকমের জামাগুলি ঘরময় জ্বলে ওঠে
৫.  পুবে সূর্য উঠলেও পশ্চিম থেকেই অন্ধকারের শুরু;

এই পাঁচটি কবিতার অংশ , পাঁচজন কবির।
এই লেখাগুলিই ' রাতের সব তারাই আছে দিনের আলোর গভীরে '- র পরবর্তী ধাপ।যাকে আমি আপডেট নামে চিহ্নিত করি।
এখন মাননীয় পাঠক বিশ্লেষণ করে দেখুন ---
দৃশ্যের ভেতর অন্য দৃশ্য দেখতে পেলেন কিনা ! না পেলে আমি পরবর্তীট এপিসোডে তা

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...