হরিৎ বন্দোপাধ্যায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হরিৎ বন্দোপাধ্যায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২০

সন্ধ্যের ইতিহাস || হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় || কবিতা

সন্ধ্যের ইতিহাস
হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়



মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে
যদি আমি সন্ধ্যের ইতিহাস লিখি
তাহলে তা হবে একতরফা
রাশি রাশি কালি উঠে আসবে মুখে
আমি একবারও জানার চেষ্টা পর্যন্ত করবো না
আমার কলম কী লিখতে চাইছে
সেও কি আমার পথে হেঁটে যেতে চায়?
তাছাড়া যে সন্ধ্যেকে আমি ভাবছি
অন্ধকারের বুক থেকে উঠে আসা
আদ্যন্ত কালো হয়ে থাকা একটা অস্তিত্ব
বিপরীতটাও হতে পারে
এবং সেটার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি -------
অন্ধকারের পাশে থেকে থেকে
আলোর কথায় কান পেতে থাকে সে সারাদিন



মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০

সবুজ পৃথিবীর সমাহার || হরিৎ বন্দোপাধ্যায় || কবিতা

সবুজ পৃথিবীর সমাহার
হরিৎ বন্দোপাধ্যায়
------------------------

ফাটা বাঁশের মধ্যে থেকে যে আওয়াজ বেরিয়ে আসে
তা দিয়েই একটা গোটা জাতিকে সম্পূর্ণ চেনা যায়
চোখের সামনের সব মানুষ হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়েছিল
একটার পর একটা ইতিহাসের পাতা
হাতের দূরত্বে তৈরি করে ফেলেছিল
রঙবেরঙের মন্দির মসজিদ গির্জা
আর নিজেরাও ছড়ানো হাতের ওপর শুয়ে পড়ে
একটার পর একটা বস্তাপচা বাতিল লাইন
তোতাপাখির মতো অবিশ্রাম আউড়ে যাচ্ছিল

শিশুদের চিৎকার মুখের হাঁগুলোকে
গোপন গর্তের মধ্যে ডুবিয়ে দেওয়া হচ্ছিল
আর মানুষের যাবতীয় চাহিদা এক ফুঁয়ে উড়িয়ে
সকলের চোখের সামনে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ছিল
                                            এক একদিনের জয়স্তম্ভ
আঙুলের চাপেই বদলে বদলে যাচ্ছিল দিন রাত

সারা পৃথিবীতে উড়বে নিজের পতাকা --------
এই ভেবে যারা সমুদ্র সমান কাপড় কিনেছিল
তারা এখন নিজের শরীর আর মুখ ঢাকতেই ব্যস্ত
দিনের ঘন্টা মিনিট সেকেন্ড সব শেষ
হৃদয়ে এখন বাতাস নেই, মাংস গজগজ করছে
কোন কালে মানুষ শুনেছে মাংসের কথা বলা
তিনদিনের টকে যাওয়া বাসি গোলা রুটির মতো
ধর্ম এখন ছাঁচতলা পেরিয়ে উঠোনের এক কোণে শুয়ে
সকালে জমাদারের তুলে নিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়
উপাসনালয় আজ কোনো নির্জন স্টেশনের
                                                   বিশ্রামঘরের আদলে
সবাইকে চমকে দিয়ে ইতিহাসের শিশু মুখ তুলেছে
তাদের মুষ্টিবদ্ধ হাতের তালু সবুজ ধানক্ষেত
শতাব্দী প্রাচীন দুঃখের বাষ্পে ঘনীভূত মেঘ
আরও একটু ভারী হয়ে বৃষ্টিগান শুরু হলেই
পৃথিবীর উঠোনে সকাল নিয়ে নামবে চড়াই
শস্যক্ষেত্রের ধানের জ্যামিতি কুঁদে নেবে
                                        সবুজ পৃথিবীর সমাহার ।



****************************

বুধবার, ১০ জুন, ২০২০

চারদেয়ালের স্বরবৃত্তে || হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় || কবিতা

চারদেয়ালের স্বরবৃত্তে
হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়



চারদেওয়ালের স্বরবৃত্তে দোল খেতে খেতে
জীবনের সবকিছু আবিষ্কার করে ফেলার মত্ততায়
জানলা খুলে বাকি পৃথিবীর শরীর দ্যাখে
দেওয়ালের বর্গাকার ছিদ্রের গভীর নিদাঘ
কল্পনারও বাইরে গ্রাম্য ঝোঁপের মধ্যে আটকে ছিল
ধুলোপথের দিকে তাকিয়ে কে আর সারাদিন
সব কাজ ফেলে রেখে চোখ রগড়ায়
যুক্তি বুদ্ধি উড়িয়ে দিয়ে শুধু ক্ষমতার রেখায়
আবছা করে দিয়েছিল বর্গাকার অন্য পৃথিবী
ধুলোর মানচিত্রেই তো কথা বলে
পৃথিবীর যাবতীয় পরিশ্রমী মুখ
আবছা পৃথিবীই প্রগাঢ় হয় চারদেওয়াল জুড়ে
কথা বলে আন্দোলিত দু'বাহুর ঝড়


রবিবার, ৩১ মে, ২০২০

সূর্যসন্তান || হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় || কবি শম্ভু রক্ষিত স্মরণে

সূর্যসন্তান
-------------
হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়


( প্রিয় কবি শম্ভু রক্ষিতকে )


ছুটি হয়ে গেছে অনেকক্ষণ
সূর্য পেড়ে নেওয়ার ইচ্ছা দেখিয়েছিল যে ছেলেরা
তারা এই কিছুক্ষণ আগেও স্কুল বারান্দায়
খুব একচোট দৌড়ঝাঁপ করেছে
দু'একজন জানলাও খুলতে চেয়েছিল
বাতাসের যন্ত্রযানে খই ফোটানো কিছু অভ্যস্ত মুখ
আর জানলার হাওয়ায় জামার বোতাম খোলায়
কিছু অনভ্যস্ত শরীর গুটিয়ে গিয়েছিল
ঝলসে গিয়েছিল বেশ কয়েকটি হাত

জানলায় মুখ রেখে সবুজ দেখছিল সূর্যসন্তান
শুধুমাত্র বদলে ফেলার তীব্র ইচ্ছায়
অস্থির পায়চারি কাঁপিয়ে দিচ্ছিল পার্থিব পৃথিবী
ছেনি হাতুড়ির স্পর্ধিত সংলাপে কেটে নিচ্ছিল
যন্ত্রণাকাতর মায়ের নিজস্ব ভুগোল
আর ধিক্কার দিচ্ছিল সেইসব বৃত্তগত শরিকদের
যারা চেনা হাওয়ায় হাত পা ছুঁড়ে
আত্মশ্লাঘায় রঙিন হয়ে উঠছিল

সূর্যের ক্যানভাসে সে ছুঁড়ে দিচ্ছিল ইচ্ছের রঙ
তারপরে হলুদ রঙের থেকে বেরিয়ে আসছিল
অগণন বিদ্রোহের রেখা
যাদের গতিপথ চেনার মতো মাথা
এখনও পৃথিবীতে আবিষ্কার হয় নি ।



সোমবার, ২৫ মে, ২০২০

কবিতা বাড়ি || হরিৎ বন্দোপাধ্যায় || কবিতা

কবিতা বাড়ি
-----------------
হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

( কবি প্রণবকুমার মুখোপাধ্যায় স্মরণে )



সংসারে ছিল ভাতের খিদে আর
অনেকটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকতে তুমি
তখন তো বাড়ির জামা-ই বদলানো হতো
কুড়ি বছরে একবার
সংসার আমার মাথায় ঢুকতো না
খিদের জ্বালায় তোমাকেই চিবিয়ে খেয়েছি
লুকিয়ে লুকিয়ে নদীর ধারে, গাছের নিচে
তোমার সীমানা তো ছিল নিষিদ্ধ
"কপি"-র অপমান সহ্য করেও
লক্ষ্মণ গণ্ডি পার হয়ে গেছি
শুনেছি সাদা পাতার সামনে তুমি বসলে
পাতা তোমার কোলে এসে বসে
তুমি অক্ষর সাজালে পাতা কথা বলে
একদিন তো হাতেনাতে প্রমাণও পেলাম
পাতা কাঁপল আমিও কাঁপলাম

তোমাকে বলা হলো না
সংসার থেকে আমি বেরিয়ে পড়েছি
খিদের পারদ এখন আকাশ ছুঁয়েছে
এখন আর বসতে হয় না
উঠে দাঁড়িয়ে চলতে হাঁটতে শুয়ে ঘুমিয়ে
যখন তখন খাই
তোমাকে দেখানো হলো না কবিতা বাড়ি
তোমাকে দেখানো হলো না বাড়ির মানুষ
আমার হাত থেকে স্বেচ্ছায় সন্ধ্যাপ্রদীপ নিয়েছে
এখন আমি বারান্দায় বসে থাকি
সে রোজ প্রদীপ জ্বালিয়ে তোমাকে প্রণাম করে ।



              

বুধবার, ৬ মে, ২০২০

আমার বসতি || হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় || কবিতা

আমার বসতি
হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়


নদীর হাত ধরে অনেকটা সকাল হেঁটে আসার পর
যেখানে এসে আমরা পা দুটো ছড়িয়ে দিলাম
কাছেই পাহাড়ের মন্দির খোলা ছিল
হেলান দিয়ে দেখছিলাম ফেলে আসা পথ
শিক্ষকের ভূমিকায় পায়চারি করে
পিতামহ প্রপিতামহেরা স্টেজ থেকে নেমে গেছে
দর্শকের হাত কাঁপছে এখনও
চড়ুই চাহনি নিয়ে ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ উড়ছে
শুধু দেখা আর সিগারেটে সুখটান দেওয়া -------
জীবনের সংজ্ঞায় ডিগ্রি পাওয়া মানুষের দল
একচুমুকে গোটা স্বাধীনতা যুদ্ধকে সাবাড় করে
এখন সাদা পাতার সামনে তিনঘণ্টার ইঁদুর দৌড়ে
প্যান্ট জামা পরে বাঁশির অপেক্ষায়
ভুলে যায় পিছনেই একদল
তারও পিছনে আরও আরও মাংসের তাল

উঠোনে জানলায় ছাদে যারা কালবৈশাখী দেখছে
ঢেউ না উঠলে তারা রচনায় কী রেখা আঁকবে
হাত পাতলেই সব ঝড় থেমে যাবে
সিংহাসনের নিচে ছড়িয়ে থাকা অগণন বালি
পাহাড়ের পথ ধরে এসে হাত নেই বলে
এখনও ঘুমিয়ে আছে পৃথিবীর চাদরের নিচে

ফুল সেজে দিবসে দিবসে যারা
গলা সরু করে মাচার ওপরে বসে স্বরলিপি গায়
সব পাস পাশ দিয়ে চলে গেছে
বলে গেছে কেউ কেউ গভীরে গভীর প্রবাহ
ডাক দিলে উঠে যাবে ঝড়
সব বালি হয়ে যাবে মাটি
গতকাল যারা সব করেছিল পায়চারি
মাটি পথে সব পথ মিলে গেলে
আগামীর মুখে মুখে ------- আমার বসতি ।


Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...