Nilanjan Kumar লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Nilanjan Kumar লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৩

স্মৃতি কথা- ৩৬ ।। এই আমি চরিত্র ।। নীলাঞ্জন কুমার ।। ( গত মাসের পর) ,Nilanjan Kumar

 স্মৃতি কথা-  ৩৬



                   এই আমি চরিত্র

                    নীলাঞ্জন কুমার

                  ( গত মাসের পর) 


কৃষ্টি সংসদের তখন নতুন বাড়ি হয়নি । তখন মল্লিক চকে  মল্লিক বাড়িতে একটা ঘরে সংসদের মহলা ও সন্ধ্যেয় বসা  হত । আমি প্রায় নিয়মিত যেতাম । কিছু কিছু মহলা হত ওই বাড়ির দোতলার একটি ঘরে । আমি যখন সংসদে যোগ দিই তখন  ' জোয়া ' নাটকের
মহলা  চলছে । ' জোয়া ' নাটক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের বাহিনীর রাশিয়া আক্রমণ কেন্দ্র করে । জোয়া করতেন বনশ্রী মুখার্জি নামে এক অভিনেত্রী । নাটক লিখেছিলেন শ্রীজীব গোস্বামী নিজে।মাঝে শ্রীজীব গোস্বামীর বাড়ি যাওয়া শুরু হল । ওনার বইপত্র
দেখে সেগুলো পড়ার লোভ হত । কয়েকটি বই ওনার কাছ থেকে নিয়ে পড়ে ছিলাম । রাজনৈতিক বই ।সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বিকাশের ওপর তখন বেশ কিছু জ্ঞানগম্যি হচ্ছে,  ভারতীয় গণনাট্য সংঘের বিষয়ে আস্তে আস্তে জানতে পারছি । কৃষ্টি সংসদের নিয়মিত এই যাবার বিষয়ে এ কথা বলতেই হবে রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক জ্ঞান অর্জন প্রধান বিষয় ছিল । আশির দশকে তখন বামফ্রন্টের বিরাট বাড়বাড়ন্ত । কোটি কোটি মানুষ তাদের কাছে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে । চলছে বর্গা অপারেশন ।কংগ্রেস জমানায় রাস্তা ঘাটে যে হাজার হাজার ভিখিরি দেখা যেত,  তা অসম্ভব কমে গেছলো। এরা কৃষি মজুরে পরিনত হয়েছিল । যাই হোক সেই সময় থেকে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক চিন্তা ধারার কবিতার দিকে মন দিই । লিখতে লাগলাম শোষিত নিপীড়িতদের জন্য কবিতা । তবে যথাসাধ্য চেষ্টা করলাম  সেগুলো যেন পার্টি সাহিত্য না হয়ে ওঠে ।
কিছু কিছু কবিতা তৎকালীন গণশক্তি  ( তখন সান্ধ্য পত্রিকা ছিল  ) পত্রিকায় ছাপা হত ।
      কৃষ্টি সংসদে বেশ ভালো জড়িয়ে পড়েছি বিভিন্ন কর্মকান্ডে। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় আমরা বেশ কিছু তরুণ মিলে নির্বাচনী পথনাটিকা করতাম । একবার ক্রান্তিক নামে একটি নির্বাচন ভিত্তিক পত্রিকা প্রকাশিত হল । তাতে আমি নির্বাচনী ছড়া লিখেছিলাম । এমন সময় এলো বিপর্যয় ।
                                                       ( চলবে) 

বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

আনন্দ ( কবি সৌমিত্র রায় কে) ।। নীলাঞ্জন কুমার, By Nilanjan Kumar

 আনন্দ

( কবি সৌমিত্র রায় কে)





নীলাঞ্জন কুমার


সৌমিত্র বেশ বলে,
আনন্দ।
সেলফোন থেকে
শরীরে জড়িয়ে তখন
অবাক আনন্দ!


যাবতীয় বাস্তবের
হিসেব নিকেশ উড়িয়ে
তখন প্রিয় লক্ষ্যবিন্দুর
সামনে দাঁড়িয়ে
তুলকালাম করতে ইচ্ছে হয় ।


সৌমিত্রের শান্তি শান্তি লেখায়
অন্য আমেজ,
একটি কবিতায় তার কবিতা সমগ্র
ছুটে আসে ।

মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০২২

স্মৃতিকথা -২৩ এই আমি চরিত্র ।। নীলাঞ্জন কুমার ।। Nilanjan Kumar

 স্মৃতিকথা -২৩


                          এই আমি চরিত্র

                            নীলাঞ্জন কুমার





                           ( গত মাসের পর)

                                 । । ২৩।।

বাবা মায়ের আশীর্বাদে  যেমন তেমন করে পাস করে গেলাম হায়ার সেকেন্ডারি । তখন যেমন তেমন করে পাস করাটাই ছিল বিরাট ব্যাপার ।১৯৭৫ সালে হায়ার সেকেন্ডারিতে পাস করেছিল সম্ভবত আট কি নয় শতাংশ ছাত্রছাত্রীরা ।আমি তাদের মধ্যে অবশ্যই অন্যতম । সুতরাং আমায় কে আর পায়! বাড়িতে বেশ আনন্দ,  মায়ের বেশি আনন্দ কারণ বাউন্ডুলেটা এ যাত্রা রক্ষা পেল । পরের যাত্রা কি হবে ভগবান জানেন । এবার ভরতি হওয়ার পালা কলেজে । বিনা ঝন্ঞ্ঝাটে মেদিনীপুর কলেজে ভর্তি হয়ে গেলাম । তখন এখনকারমতো লাইন দিতে হত না । মেদিনীপুর কলেজ মেদিনীপুর কলিজিয়েট স্কুল থেকে এক পাঁচিলের দুরত্ব ।  স্কুলে শুধু ছেলেরা পড়তো । কলেজ এসে মহিলাদের সঙ্গে একসঙ্গে পড়ার  স্বাদ পেলাম । প্রথম প্রথম আমাদের মধ্যে জড়ত্ব ছিল । মেয়েরা ছেলেদের সঙ্গে কথা বলতো না প্রথমের দিকে ।ওরা একজোট হয়ে থাকতো । তারপর দুপক্ষের মধ্যে জড়ত্ব কাটতে শুরু করলো ।  তখন সব মেয়েরা শাড়ি পরে আসতো কলেজে । কলেজে ক্লাসঘর ছাড়া আর একটি অত্যন্ত অন্তরঙ্গ জায়গা ছিল তা হল লাইব্রেরি হল। হাজার হাজার বই সেলফে । ছেলেমেয়েরা বই দিচ্ছে নিচ্ছে ।দেখতে ভালো লাগতো । লাইব্রেরি ঢুকতেই যে জিনিষটি  আমার ভীষণ ভালো লাগতো তা হল গেটের পাশেই বেন্ঞ্চের ওপর বোর্ড দিয়ে আটকানো দু-একটি কবিতার দেওয়াল পত্রিকা । আমার খুব ইচ্ছে হত পত্রিকাগুলোয় কবিতা শিখি । কিন্তু প্রথম প্রথম কলেজে এসেছি । বেশ নতুন পরিবেশ । চারদিকে ছেলেমেয়েরা ঘোরাঘুরি করছে । সিনিয়র ছাত্রছাত্রীরা  অন্তরঙ্গভাবে  মেলামেশা করছে । আমার তরুণ মন সেসব মেয়ে দেখতো । মনে মনে  ইচ্ছে টিচ্ছে যে হত না তা বলবো না । কিন্তু ওই পর্যন্তই । তবে আমার বেশি ইচ্ছে ছিল সাহিত্য আর সাহিত্য । রাতের বেলা ঘুমোনোর আগে ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করে শুতে যেতাম যাতে ভালো কবিতা লিখে উঠতে পারি। তখন খ্যাতি বুঝতাম না । ভালো লেখার আকাঙ্ক্ষা চেপে বসেছিল । বেশ কিছু লেখা লিখে ফেলেছি কিন্তু তা মনঃপূত হচ্ছিল না বলে দু বছর কোথাও লেখা প্রকাশের উদ্যোগ নিইনি । সময়ের সঙ্গে কলেজে বন্ধু হতে শুরু করলো স্বাভাবিক নিয়মে । কলেজিয়েট স্কুলে কিছু ছেলে আমার সঙ্গে পাস করে কলেজে পড়া শুরু করলো । সে সময় পাসকোর্সে তিন বছর পড়তে হত কলেজে । ফাস্ট ইয়ার,  সেকেন্ড ইয়ার ও ফাইনাল ইয়ার । ফাস্ট ইয়ার মানে নিয়ম মেনে ক্লাস করো,  ঘুরে বেড়াও,  খেলে বেড়াও আর কলেজের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নাও,  বাড়িতে পড়াশোনা ত্যাগ করো । সেকেন্ড ইয়ার থেকে কলেজ ছাত্র ছাত্রীরা সিরিয়াস হতো ও ফাইনাল পাস করে চাকরি করতো । এই ছিল সে সময় নিয়ম। তখন আমরা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীভূত ছিলাম । মেদিনীপুরে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়নি । মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়নি । মাত্র তিনটি কলেজ মেদিনীপুর কলেজ , কৈবল্যদায়িনী কলেজ অব কমার্স আর মহিলাদের জন্য গোপ কলেজ । গোপ কলেজ যাবার জন্য বাসের ব্যবস্থা ছিল । আমার ছোড়দি গোপ কলেজ থেকে পাস করেছিল । ওই কলেজের প্রকৃত নাম রাজা নরেন্দ্রলাল খান মহিলা মহাবিদ্যালয় । বড়দি আমি আর দাদা মেদিনীপুর কলেজের থেকে পাস করা । তাছাড়া আর একটি কলেজ আছে  সেটি বি টি কলেজ ।  এছাড়া একটি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ মেদিনীপুর আছে ।
               কলেজে ফাস্ট ইয়ারে পড়ার সময় কবিতার জন্য ব্যাপক উন্মাদনা শুরু হয়ে গেল ।তখন কাগজে কাগজে চিঠিপত্র লেখা আর পোষাচ্ছে না  । নিজের কবিতা ছাপার জন্য ভীষণ ভীষণ ব্যস্ত হয়ে উঠলাম ।
আমার এক বন্ধু তাপস দাস মেদিনীপুরের হাঁসপুকুর এলাকাতে থাকতো । আমি সেখানে নিয়মিত যেতাম । তার সঙ্গে পরিকল্পনা করলাম ছোট্ট বই ছাপতে হবে । তাতে থাকবে আমার কিছু কবিতা আর একটি গল্প । নাম দেওয়া হবে ' জরাজীর্ণ বাড়ির দলে '  । সেইমতো কর্ণেলগোলায় আমাদের বাসার কাছে রূপলেখা প্রেসে গিয়ে  দরদাম শুরু করি । দরদাম করে  ২০০ কপি অস্টোত্তর শতনাম মার্কা  বই এর কস্টিং হল ৯০ টাকা । তাপস আমাকে অনেক কষ্টে ৩০ টাকা দিয়েছিল বাড়িতে  লুকিয়ে । বাকি ৬০ টাকা কি করে জোগাড় হবে তা নিয়ে আমাদের কি দুশ্চিন্তা ! হঠাৎ মনে হল আমার কাছে সাঁই বাবার একটা লকেট আছে । যা দাদার ছিল । সেটি লুকিয়ে বিক্রি করলাম । পেলাম ১০টাকা । বাকি  ৫০ টাকা  বাড়ি থেকে টাকা সরিয়ে টরিয়ে টাকা আর লেখা জমা দিলাম প্রেসে । বই বেরলো । সে যে কি কুচ্ছিত বই হলো তা কহতব্য নয় । কিন্তু নিজের নাম আর কবিতা দেখে আমার সে কি আনন্দ!  কিছু বই বিক্রি হল বন্ধুদের কাছে । বইটির দাম ছিল ৩৫ পয়সা । বিক্রি হল ২৫ পয়সায় । অতি সামান্য বিক্রি হতেই আমার আনন্দ চতুর্গুণ । আমি তখন কলেজে কবি বলে  কিছু ছাত্রর কাছে পরিচিত হচ্ছি । মনে আছে 'জরাজীর্ণ বাড়ির দলে' -র মধ্যে কয়েকটি লেখা এই বয়সেও অবাক করে । একটি ছেলে যা মাত্র ষোল সতের বছরেকি করে লিখতে পারে ভেবে বিস্মৃত হই । কবিতার নাম ' 'আবরণ' যার প্রথম দুটি লাইন:  ' ওরা কেউদেখেনা আমাক/  ওরা দেখে আমার রঙিন সোয়েটার ।  ' যা তখন একজন গ্রামীণ  ছেলের কাছে পাওয়া দুষ্কর ছিল ।

                                                  ( চলবে)






বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

স্মৃতিকথা- ২২ ।। এই আমি চরিত্র ।। নীলাঞ্জন কুমার Nilanjan Kumar ( গত মাসের পর)

 স্মৃতিকথা- ২২


                        এই আমি চরিত্র


                             নীলাঞ্জন কুমার

                             ( গত মাসের পর)

                                 ।।   ২২ ।।




   আসতে আসতে কিন্তু চলে আসতে শুরু করেছে হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষা । সত্তর দশকে ক্লাস ইলেভেনে দুটি পরীক্ষা হত , তাদের নাম ছিল প্রিটেস্ট আর টেস্ট । তারপর হতো হায়ার সেকেন্ডারি ফাইনাল । ফাইনাল পরীক্ষা হত এপ্রিল মাসে । তার তিন মাস পর রেজাল্ট আউট । মা তখন আমার হায়ার সেকেন্ডারি নিয়ে বিশেষ চিন্তিত । কারণ হাফ বাউন্ডুলে চরিত্রটি আদপে পাস করতে পারবে কিনা তা নিয়ে মায়ের মাথাব্যথা  ।মা জানতো আমি লুকিয়ে লেখালিখি করি,  গুনগুন করে গান গাই আর কেমন উদাস হয়ে থাকি ।কি যেন ভেবে চলি । পড়াশোনা মানে স্কুলের ক্লাস,  অক্ষয় স্যারের কাছে সায়েন্স,  হেরম্ব স্যারের কাছে ইংরেজি আর বঙ্কিম স্যারের কাছে বিনে পয়সায় বায়োলজি পড়া। এছাড়া মাঝেমধ্যে অশোক স্যারের খড়গপুর ইন্দার বাড়িতে সায়কোলজি পড়তে যাওয়া ।অর্থাৎ চাপ আছে কিন্তু মনে ফুরফুরে ভাব অটুট । বর্তমানের ছেলেপুলেরা যেভাবে মাধ্যমিক ও হায়ার সেকেন্ডারি বিষয়ে সচেতন , আমি ছিলাম তার ঠিক উল্টো । বাবা এসব লক্ষ্য করত না , সব ছেড়ে দিয়েছিল মায়ের ওপর । ফলে আমার চাপ বিরাট ভাবে এসেছিল মায়ের ভেতর । এখন তা বুঝতে পারি । যতদিন আসছে ফাইনাল পরীক্ষার ততই মাস্টারমশাইরা চাপ বাড়াচ্ছেন । টেস্ট পেপার থেকে বেছে বেছে প্রশ্ন দেওয়া হচ্ছে । আসলে সে সময় এখনকার মতো নব্বই শতাংশ ছাত্রছাত্রীরা পাস করতো না । মাত্র সাত আট শতাংশ পাস করলেই বিরাট ব্যাপার । তখন ফাস্ট ডিভিশনে পাস করলে মানুষ তাকে দেখতে আসতো ।
                  কিন্তু তার মধ্যে লুকিয়ে ছাপিয়ে চলছিল আমার সাহিত্য সঙ্গীত সাধনা । তখন বিভিন্ন কাগজে 
চিঠিপত্র বিভাগে চিঠি লিখছি আর তা ক্রমাগত প্রকাশিত হচ্ছে । আমি যেন আরো উল্লসিত হয়ে পড়ছি নিজের লেখার বিষয়ে । বাড়িতে যেহেতু নিয়মিত ' দেশ ' ' অমৃত ' পত্রিকা আসত তাই দেশ পত্রিকাতে আমার নিজের কলমের ওপর ' বিরাট ' ভরসা করে   তৎকালীন সময়ে 'শাঙ্গদেব'  ( রাজেশ্বর মিত্র) - এর গানের ওপর প্রতি সপ্তাহে যে নিবন্ধ লিখতেন তাঁর একটি রবীন্দ্রনাথের গীতিনাট্যের ওপর আক্রমণ করে লিখে ফেললাম একটি বেশ বড় চিঠি । পাঠিয়ে দিলাম সাধারণ ডাকে । আশ্চর্য বেশ কিছু দিনের মধ্যেই চিঠিটি বেশ ভালো জায়গায় প্রকাশিত হল। 'অমৃত ' পত্রিকাতে লিখলাম সিনেমা নিয়ে । তাও প্রকাশিত হল । তাছাড়া সেসময় ' আনন্দলোক ' পত্রিকা সদ্য প্রকাশিত হচ্ছে । তাতে সেসময় সাধারণ পাঠকের মতামতের জন্য ' প্রিয় মহাশয় ' নামে একটি বিভাগ ছিল যাতে বিভিন্ন সিনেমা কিংবা সিনেমা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ছাপা হত । আমি ছিলাম ওই বিভাগের নিত্যি লেখক । তখন আমার কি মজা! সদ্য গোঁফ গজানো এই আমি চরিত্রটি পত্র পত্রিকায় নিজের লেখা ও নাম ছাপা  ( অবশ্যই নীলাঞ্জন কুমার)  দেখার জন্য পাগল । তাছাড়া একজন মফস্বলের কিশোরের ওই সব কাগজে লেখা বেরনো মানে সে সময় স্বাভাবিকভাবেই বিরাট বিষয় । মেদিনীপুর শহরে তখন অনেকে জেনে গেছে নীলাঞ্জন কুমার-টি কে ? তখন অনেকে আমাকে বিস্ময়ের চোখে দেখে । সুতরাং হাওয়ায় ওড়া ব্যাপারটা সেই সময় বেশ অনুভব করছি । যা অবশ্যই বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে কেটে গেছে । পাশাপাশি বাবা মায়ের চোখের আড়ালে হায়ার সেকেন্ডারি পড়ার বাইরে ব্যাপক অন্য বই পড়ে যাচ্ছি । আসলে আমার স্থির বিশ্বাস ছিল যেমন তেমন করেই হোক না কেন,  আমি হায়ার সেকেন্ডারি পাস করবোই ।

                                       ( আগামী মাসে চলবে)

শনিবার, ২০ আগস্ট, ২০২২

বই- চিত্র সভাঘরে উন্মুখ পত্রিকার অনুষ্ঠান, Unmukh

বই- চিত্র সভাঘরে উন্মুখ পত্রিকার অনুষ্ঠান



গত ১৬ আগস্ট কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কফি হাউসের ত্রিতলে বই- চিত্র সভাঘরে অনুষ্ঠিত হল উন্মুখ পত্রিকার আয়োজনে ' বর্ষাকালীন কবিতা বাসর '। অনুষ্ঠানে জীবনানন্দ স্মৃতি বক্তৃতায় ' স্প্যানিশ কবিতার গতি প্রকৃতি ' নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন কবি কমল তরফদার । তাছাড়া ' জীবনানন্দ স্মৃতি পুরস্কার ' প্রদান করা হয় ' জাগর মরুভূমি ' কাব্যগ্রন্থের জন্য কবি কমল তরফদারকে । কাব্যগ্রন্থটি নিয়ে আলোকপাত করেন কবি নীলাঞ্জন কুমার । অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট প্রবাসী কবি গৌতম দাশগুপ্ত । সব শেষে  কবিতা পাঠে অংশ নেন পার্থসারথি দত্ত,  নৃপেন্দ্রনারায়ণ ভট্টাচার্য,  পঙ্কজ মন্ডল,  নৃপেন চক্রবর্তী,  খগেশ্বর দাস  , পীষূষ বাকচি,  নন্দিতা সেন বন্দ্যোপাধ্যায় , অমিত কাশ্যপ,  বিশ্বজিৎ রায়, বন্দিশ ঘোষ প্রমুখ । সমাপ্তি সংগীতে অংশ নেন কবি শান্তিময়  মুখোপাধ্যায় ।

বুধবার, ৬ এপ্রিল, ২০২২

স্মৃতি কথা - ১৭ ।। এই আমি চরিত্র ।। নীলাঞ্জন কুমার , Nilanjan Kumar ( গত সংখ্যার পর)

 স্মৃতি কথা  - ১৭                



                       এই আমি চরিত্র  

                       নীলাঞ্জন কুমার

                    ( গত সংখ্যার পর)




   রাধানগর নামের   গন্ঞ্জের মতো শহরটি গড়বেতার আমলাগোড়া অন্ঞ্চলে পড়ে । অজিত গনের  ( শুনেছি তিনি প্রয়াত হয়েছেন)  বাড়িটি ছিল রাধানগর হাটের এলাকার লাগোয়া । সম্ভবত শুক্রবার হাট বসতো । এছাড়া আর কোন নিয়মিত বাজার ছিল না। । ফলে এক সপ্তাহের সবজি মাছ আমাদের ওই দিন তুলে নিতেহত। ওই বাড়িতে বেশ কয়েকজন সহ ভাড়াটে ছিল। তারা মানুষ হিসেবে মন্দ ছিল না । বেশ মিলমিশ হয়ে গিয়েছিল। আমাদের ভাড়া নেবার দিকটিতে ছিল দুটি বড় বড় ঘর,  একটি ছোট ঘর যেটি আমার জন্য ধার্য করা হয়েছিল । বাবা অফিসার পর্যায়ের লোক বলে অজিত গন কোনদিনও ভাড়া চাইতে আসেননি । বাবা তার দুই ছেলেকে  ( যাদের নামেই বাড়িটি ছিল)  ২৫ টাকা করে ৫০ টাকা  জোর করে পকেটে ঢুকিয়ে দিয়ে আসতো ।
            রাধানগরের বাড়ির পেছনে ছিল বিশাল মাঠ ।সেখানে বাচ্চা ও তরুণরা গরমকালে ফুটবল,  শীতে ক্রিকেট ও ভলিবল খেলতো । আমিও খেলতাম বাচ্চাদের সঙ্গে । ক্রিকেটে বাঁ হাতে বল করতাম । কিছুটা জোরেই করতাম । ব্যাটে ছিলাম একেবারেই গবেট । যা হোক প্রথমের দিকে স্কুলে যাবার ক্ষেত্রে বেশ কষ্ট হতো । বাবা আমাকে রডে বসিয়ে সাইকেল চালিয়ে নিয়ে যেত । যখন স্কুলে  নামতাম তখন পা দুটো ঝিনঝিনেতে অবশ । প্রথমের দিকে একটি মাত্র বাস চলতো গড়বেতা থেকে রাধানগর পর্যন্ত । মাঝে মধ্যে স্কুল থেকে ফেরার সময় সেই বাস পেতাম  নাহলে হেঁটে যেতাম মাইল তিনেক রাস্তা । হাঁটতে লাগতো প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট । রাধানগরের গড়বেতা হাইস্কুলের কয়েকজন মাস্টারমশাই থাকতেন যেমন বন্দিরাম সরকার,  অমিতমাধব সেন । এঁরা আমাকে খুব ভালোবাসতেন । অমিত বাবু ভালো গান করতেন । আমি একবার ওঁর সঙ্গে স্কুলের বাৎসরিক ফাংসনে উদ্বোধনী সঙ্গীত গেয়েছিলাম রবীন্দ্র সংগীত ' সবারে করি আহ্বান ' । কিছু ছাত্র ও শিক্ষক বাহবা দিয়েছিল ।অমিত বাবু ও বন্দিরাম বাবু ছিলেন বাবার বন্ধু বিশেষ । রাধানগরে থাকাকালীন বন্দিরাম বাবু ও আরও কিছু মানুষ মিলে অভিনয়ের আয়োজন করতো ।হাটতলায় একটি মন্ঞ্চ ছিল  ( সেখানে দুর্গা পূজাও হতো ) সেখানে নাটক হতো । বাবার পরিচালনায় জোছন দস্তিদারের ' দুই মহল ' নাটকটি খুব নাম করেছিল । এছাড়া বাবার আয়োজনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নবরন্ঞ্জন শাখা ' রাজা রামমোহন ' নাটক ওখানে আয়োজন করেছিল ।
           গড়বেতা স্কুলে রাধানগর থেকে আর একজন সহপাঠী যেত । তার ডাকনাম ছিল কাতু । আমি কাতু বলেই ডাকতাম । ওদের রাধানগরে বিরাট ওষুধের দোকান ছিল । আমরা বিকেলে খেলাধুলা করতাম । এসব নিয়ে রাধানগরে বেশ ছিলাম । আমাদের বাড়ির একটু দূরে' চন্ডিদাস চিত্র মন্দির ' নামে তাঁবুর সিনেমা ছিল । অস্থায়ী এই সিনেমা বর্ষাকালে বন্ধ থাকতো । প্রতিদিন ভালো ভালো গান বাজতো সিনেমা শুরুর আগে ।আমি আমার স্বভাবসুলভ দিক দিয়ে ওই সিনেমায় স্টিল ফটো দেখে আসতাম নতুন সিনেমা এলে । প্রায় দেড় বছর এই রাধানগরে থাকার সময় এক কলেজ পড়ুয়ার কাছে টিউশন পড়তে পড়তে যেতাম । তার বাড়ি আমার বাড়ির   পাশেই ছিল ।
               রাধানগরে দেখেছি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রেষারেষি । সে সময় গরীব মানুষদের  মাইলো নামে এক ধরনের আমেরিকান শস্য রেশনে দেওয়া হতো ।সে নিয়ে রাজনৈতিক জটিলতা প্রত্যক্ষ করেছি । মাইলো নিয়ে হাজারো অভিযোগ করতো বিরোধীরা। অথচ এখন দেখি মাইলো হেল্থ ড্রিঙ্ক হিসেবে বাজারে বিক্রি হচ্ছে ।বোঝা যায় দিন কিভাবে বদলে যাচ্ছে ।
       
                                              ( আগামী সংখ্যায়)




শুক্রবার, ১ এপ্রিল, ২০২২

শব্দব্রাউজ ৪২৯ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-429, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৪২৯ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-429, Nilanjan Kumar






শব্দব্রাউজ ৪২৯ || নীলাঞ্জন কুমার

প্রুডেন্ট প্রাণা আবাসন । বোড়াল । গড়িয়া । কলকাতা ।সকাল আটটা ।


শব্দসূত্র  :  লগ্ন বয়ে যায়


লগ্নে কিছু নিয়ম আছে । সময়ের টান আছে । আবার নিজস্বতাও আছে । লগ্ন বয়ে গেলে জীবন হতাশ । মহেন্দ্রক্ষণের প্রত্যাশায় সবাই । শুধু লোভ ।


বয়ে যায় প্রিয় পর্যায় । তখন ভবিষ্যৎ স্বপ্ন । তখন নতুন চিন্তা । নয়া প্রকল্প । সুখে বাঁচার গোপন আর্তি ।


দিন চলে যায় । বাস্তবে। স্বপ্ন সমুদ্র আমায় টানে । নিরবে নিভৃতে ।

মঙ্গলবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

স্মৃতিকথা ১৫ ।। এই আমি চরিত্র ।। নীলাঞ্জন কুমার, Nilanjan Kumar

 

স্মৃতিকথা ১৫                  

                              এই আমি চরিত্র

                                নীলাঞ্জন কুমার


                          ( গত সংখ্যার পর)



                                 ।। ১৫।।

নিয়মমতো দিন যাচ্ছে,  আমি নিজেকে জানার চেষ্টা করছি । আমি কে? কোথা থেকে এলাম?  এই সব রহস্য নিয়ে চিন্তাভাবনা  আমাকে মাঝে মধ্যে পেয়ে বসতো । এই আমি চরিত্র যে কেবলমাত্র চরিত্রই,  অন্য কিছু নয় তা বোঝার মতো বয়স হয়নি বলে জিজ্ঞাসাগুলো জিজ্ঞাসাই রয়ে গেছে । কালো কালো অক্ষরের বই এর পাতাগুলো পড়তে পড়তে সেই পড়া কৌতুহল তৈরি করতে পারে জীবনের অন্তর্গত প্রশ্নগুলোর । মা বাবা তাদের মতো করে আমাদের প্রতিপালন করছে এও যে এক নিত্যনৈমিত্তিকতা । সব মিলিয়ে গতানুগতিক জীবন পদ্ধতি আমার কাছে পছন্দসই ছিল না।  আমি চাইছিলাম প্রাণবন্ত জীবন, যা আমাকে সবসময় এগিয়ে নিয়ে যাবে ।
                 একথা বলতে পারি,  আমি চাইছিলাম এক ছোট্ট মফস্বল শহরের সংকীর্ণ জীবন থেকে বেরিয়ে অনেক বেশি স্পেশ । সংকীর্ণ মানসিকতার সহপাঠী,  যাদের সঙ্গে একটু বেশি মেলামেশার চেষ্টা করতাম তাদের নিচু মানসিকতা আমাকে ব্যথিত করতো । আমি কিছু বলতে চাই নিজের মতো করে কারোর কারোর কাছে । বুঝতে পারতাম তারা তাতে আগ্রহী নয় । তারা চায় তাদের কথা সবাই শুনুক । আমি কারোর কথা শুনবো না । যদি তার মধ্যে কেউ একটু করে উজ্জ্বল মনে হত তাকে দমন করার জন্য তারা কতখানি নিচে নামতে পারতো তা কহতব্য নয় । সে কারনে প্রকৃত বন্ধু আমি পাইনি গড়বেতাতে। তখন আমার সঙ্গী ছিল আমার ছোড়দি । সে আমার কথা কতটা বুঝতো জানা নেই,  কিন্তু চুপ করে আমার কথা শুনতো । তাতেই আমার আনন্দ ছিল ।
            গড়বেতার সহপাঠীদের মানসিকতার থেকে বেশ কিছুটা আলাদা হওয়ার কারনে আমার মানুষের থেকে নৈসর্গিক দিক বেশি করে টানতো । মনে আছে চুনারাম সাঁওতালের গরুর গাড়িতে করে আমাদের পরিবারের বগড়ির মেলা দেখতে যাওয়া । মাঝে মধ্যে সকলে মিলে বাড়ির সামনে অরুণোদয় সিনেমা হলে সিনেমা দেখতে যাওয়া । যা আমার দিনযাপনের গ্লানিকে কিছুটা হালকা করে দিত ।
            বন্ধুহীন এই আমি মনে মনে যে ভাবনা ভাবতাম তার ভেতর থেকে উপলব্ধি গড়ে উঠতো তা হল আমার ভেতর এমন কিছু আছে যা নিয়ে মানুষের সামনে দাঁড়াতে পারি । আমার চিন্তাভাবনার ভেতরে যে জিজ্ঞাসা গড়ে উঠতো তা যে সাধারণ মানুষের থেকে অন্যরকম তা ওই বয়সেই বুঝতে পারতাম । মা বাবার মোটা দাগের গল্প দিদিদের নিজেদের ভেতর পুরুষ নিয়ে আলোচনা বড় ক্লিশে মনে হত ।আমার ভাবুক অবস্থান যে বাস্তবের বাইরে তা বাবা মা বুঝতে পারতো । তারা আমায় বোঝাতো পড়াশোনা ভালো না করলে না খেয়ে মরতে হবে  কিন্তু আমি তা কানে তুলতাম না । প্রতি বছর যা হোক তা হোক করে পাস করা এই আমি নিজস্ব কেরিয়ার নিয়ে কোনদিনও ভাবতাম না । গানের ভেতর দিয়ে নিজেকে বোঝার চেষ্টা করতাম । তাই নিয়ে হাজারো উল্লাস তখন আমায় ঘিরে । বাবা প্রতি পুজোর সময় কিনে আনতো এইচ এম ভি র শারদীয়ার গানের বই ' শারদঅর্ঘ ' ।আমি এই গানের কথাগুলোর সঙ্গে রেডিও র  অনুরোধের আসরের নতুন পুজোর গানগুলো  মেলাতাম । এও আমার আর এক আনন্দ । আর ছিল আমাদের এক টিয়া পাখি । তাকে কত নামে ডাকতাম । আমার আজব ভালোবাসা পাখিটির কাছে বিরক্তিকর হয়ে উঠতো । আমি তার ভালো নাম দিয়েছিলাম ' মন্ঞ্জুলিকা ' ডাক নাম ' মুনমুন ' । সে পাখির কথা আমার আজও অক্ষত আছে ।

                                                             ( চলবে)



আমার স্যামসাং গ্যালাক্সি স্মার্টফোন থেকে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২২

শব্দব্রাউজ ৩৫৫ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-355, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৩৫৫ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-355, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ ৩৫৫ || নীলাঞ্জন কুমার

বিপাশা আবাসন । তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । সকাল সাড়ে আটটা ।

শব্দসূত্র  :  সেয়ানে সেয়ানে জীবন

সেয়ানে সেয়ানে যে জীবন তা জন্ম থেকেই । সুতরাং কেউ প্রকৃত খুশি নয় । নাটুকে উল্লাস কিংবা দেঁতো হাসি হেসে নিজের ভালো থাকা এখন অভ্যাসে । যে সেয়ানা তাকে চিনতে সময় লাগে না । সেও অভ্যাস ।

সেয়ানে সেয়ানে শতেক মিলমিশ করে কি যে আনন্দ পাওয়া যায় ! যারা বোঝে তারা বোঝে । বাইরে যাবার ইচ্ছে নেই বলে,  তারা মত্ত । আহারে জীবন!

গতানুগতিক মানুষের জীবন জলের ধারার মতো । কখন যে থাকে কখন যে মুছে যায় ।

সোমবার, ২১ জুন, ২০২১

শব্দব্রাউজ ২১৮ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ২১৮ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar

শব্দব্রাউজ ২১৮ || নীলাঞ্জন কুমার

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা ২০। ৬। ২০২১ সকাল সাড়ে দশটায় ।



শব্দসূত্র  : তাপে অনুতাপে


তাপে জ্বলি । তাড়িত হই । ক্রোধ
উঠে আসে প্রকাশ্যে । নিঃস্ব সময়
আরো তাপে জ্বালায় ।


অনুতাপ তাপের পর আসে । আমায়
ক্ষমো হে ক্ষমো । মনে আনন্দ ক্ষমা
চাওয়ার পর । অনুতাপের স্নান নির্মল
করে তোলে ।

রবিবার, ২০ জুন, ২০২১

শব্দব্রাউজ ২১৭ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ২১৭ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar

শব্দব্রাউজ ২১৭|| নীলাঞ্জন কুমার


বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড  কলকাতা ১৯। ৬।২০২১ সকাল ৮টা ৫০ মিনিট ।



শব্দসূত্র: সংখ্যা ভিত্তিক


সংখ্যায় ধরে থাকি মুহূর্ত,  পল ।
সেকেন্ড মিনিট পেরিয়ে পেরিয়ে
কখন যে প্রহরে পৌছোয়! মুহূর্তের
স্বাদ বদল হয় তবু সংখ্যা ধ্রুবক হয়ে
আঁকড়ে থাকে ।


কোন কিছু ভিত্তি করে সব পরিকল্পনা
গড়ে নিলে,  সাফল্য সামনে দেখা যায় ।
হয়তো সাফল্য সব,  শেষ কথা।

শনিবার, ১৯ জুন, ২০২১

শব্দব্রাউজ ২১৬ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ২১৬ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar

শব্দব্রাউজ ২১৬ || নীলাঞ্জন কুমার


বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা ১৮। ৬। ২০২১সকাল আটটা পন্ঞ্চাশ মিনিট ।


শব্দসূত্র:  পৃথিবীর পথ


১।

পৃথিবীর স্নেহছাপ মেখে এই বেশ ।
স্বপ্নের গতি সারাক্ষণ শুভ হয়ে যায় ।


২।

পথ চতুর্দিকে ।
শুধু খুঁজে নিতে হয় আসল দরোজা ।

শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১

শব্দব্রাউজ ২১৫ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ২১৫ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar

শব্দব্রাউজ ২১৫ || নীলাঞ্জন কুমার


বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা ১৭। ৬।  ২১ সকাল সাড়ে দশটায়



শব্দসূত্র:  বৃষ্টির শব্দ মাধুর্য


যে শব্দ মনে ধরে রাখতে চাই
তার সঙ্গে বৃষ্টির শব্দের মিলমিশ ।
বৃষ্টির টিপটিপ কোন কি গানের কথা
মনে আনে?


শব্দ ভাবনা ছুঁয়ে যায় । ভাবনা বিষয়
ছোঁয় । প্রতিটি শব্দের মানে খোঁজার
ইচ্ছে নেই । আছে শব্দ নির্যাস , যার
স্বাদ নিয়ে যাই ।

মাধুর্য এমনি আসে না।

শব্দ শিখিয়ে নেয় ।

মঙ্গলবার, ১৫ জুন, ২০২১

শব্দব্রাউজ ২১২ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ২১২ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar

শব্দব্রাউজ ২১২ || নীলাঞ্জন কুমার

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা ১৪ । ৬। ২০২১ সকাল সাড়ে আটটা ।


শব্দসূত্র  :  অন্ধকার জড়িয়ে আছি


অন্ধকার । সর্বাঙ্গে জড়িয়ে নিজেকে অন্ধকারের
সঙ্গী করে তুলি । বড় বেশি অদৃশ্য হওয়ার মতো
সময় আমার কাছে আজন্ম ছড়ান বলে,  তাদের
নিয়ে শান্তি পাই  । অন্ধকার আমায় প্রেম করে ।
আমি তাকে ভালোবাসি একাত্ম হয়ে ।


এই আমি জড়ালাম অন্ধকারের চাদর । নিজেকে
নিঃস্ব দেখাতে গিয়ে সব অহংকার জলান্ঞ্জলী
দিলাম । আহা! এইতো আমার সাধনা ।


আছি অজ্ঞাতে । ভাবনার ভেতর দিয়ে ।

মঙ্গলবার, ১ জুন, ২০২১

ম্মৃতিকথা ১১ :: এই আমি চরিত্র || নীলাঞ্জন কুমার (গত মাসের পর) || Autobiogrphy, Nilanjan Kumar

 ম্মৃতিকথা ১১  


                               এই আমি চরিত্র


                                নীলাঞ্জন কুমার




                                   । ।   ১১।।


                                গত মাসের পর


ছ' জনের একটি পরিবারের কি করে মা কত কম পয়সায় চালাতেন তা বলে বোঝানো যাবে না । অথচ
কত কি না করেছি । খাওয়া দাওয়া মন্দ ছিল না । দিদিদের জামাকাপড় মা বানিয়ে দিত । সকাল থেকে হাড়ভাঙা খাটুনির করে মা আমাদের মুখে ভাত তুলে দিত। এখন বুঝি তা কতখানি কষ্টকর । আমরা চার ভাই বোন যে মানুষ হয়েছি তার প্রধান কৃতিত্ব মাকে দিতে হবে।  মা ছিল সৌন্দর্য বিলাসী । সারা ঘরদোর একদম পরিপাটি করে সাজানো থাকতো । বাবার বন্ধুরা
মা- র কতো প্রশংসা করত । বাবার নাটকের চর্চার ক্ষেত্রে  মায়ের নীরব সহযোগিতা দেখার মতো বিষয় ছিল। মা কোনদিন অভাবকে অভাব বলে মনে করতো না । হিসেবের মধ্যে দিয়ে চলার জন্য ঠিকঠাক চলে যেত ।
সেজন্য বেলা ভবনের ম্মৃতি সবচেয়ে মধুর স্মৃতি বলে মনে করি । দেবেন কাকু ছাড়া সাব টেনেন্ট হিসেবে আরো দুটি  পরিবার এসেছিল । তার মধ্যে বাবার একজন সহকর্মী ব্যানার্জি কাকু ও অন্যজন ভরত কাকুরাও বেশ ভালো ছিল । ব্যানার্জি কাকুর দুই ছেলের সঙ্গে সমবয়সী হিসেবে ভালো বন্ধুত্ব হয়েছিল ।
কিছুদিন পর ট্রান্সফারের কারণে ওরা চলে গিয়েছিল ।
ভরতকাকু বেশ ভালো মানুষ ছিল । ওদের একটা ছোট্ট বাচ্চা ছিল , তাকে দারুণ ভালোবাসতাম । এভাবে চলছিল দিন । ধীরে ধীরে ক্লাস টু থেকে থ্রিতে  পৌছোলাম ।
                 এমন সময় বাবার প্রমোশন হল অফিসার পদে। সম্পূর্ণ হঠাৎ করে । বাবা ট্রান্সফার হলো এক্সটেনশন পন্ঞ্চায়েত অফিসার  হিসেবে গড়বেতা শহরের এক নম্বর ব্লকে । এতে সামান্য মাইনে বাড়লো । কিন্তু দুটো জায়গায় খরচ চালাতে মাকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল সে সময় । বাবা শনিবার অবধি অফিস করে সোমবার গড়বেতা ফিরে যেত । এভাবে বাবা এক বছর চালিয়েছিল । তারপর একদিন বাবা সবাইকে নিয়ে গড়বেতা শহরে সংসার পাতলো । তখন আমি সবে ফোরে উঠেছি ।
            গড়বেতা শহরেটি ছিল বেশ ছোট । আমরা যখন প্রথমে যে ভাড়া বাড়িতে উঠেছিলাম সেখানে দুটি ঘর ছিল বেশ বড় । সামনে বিরাট উঠোন তার পাশে আরো একটা ঘর। নতুন জায়গায় এসে  সকলের যেমন আনন্দ হয় আমারও তেমনি হয়েছিল । ভর্তি হয়েছিলাম 
বাড়ির কাছে সিলভার জুবিলি প্রাইমারি স্কুলে ক্লাস ফোরে।বাড়ির সামনে দিদিদের কিছু বান্ধবী হয়েছিল ।
দিদিরা খেলতো আইশ পাইস লুকোচুরি খেলা । খেলা শেষ হবার পর হত কপট মারামারি । সকলে বলত ' আদা গদা নুন তেল পাঁচ পুয়া বুন তেল ' ।
                 আমার স্কুল ছিল দুপুর বেলা । মর্নিং স্কুল থেকে হঠাৎ করে দুপুরের স্কুলে পড়াশোনার বিষয়ে প্রথম প্রথম অসূবিধে হত।  খুব ঘুম পেত স্কুলে ,তাছাড়া প্রাকৃতিক ডাক বিশেষ বিপদের সঙ্কেত দিত । আরো একটা বিষয় লক্ষ্য করা  গিয়েছিল বাবা অফিসার হওয়ার কারণে এই ছোট্ট মফস্বল শহরের অনেকেই আমায় এড়িয়ে চলত । কেউ কেউ পেছনে লাগত । আসলে কারো পেছনে লাগা কি জিনিস তার অভিজ্ঞতা হয়েছিল গড়বেতা এসে ।           

                                                ( চলবে)




বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

কিছু বই কিছু কথা  । নীলাঞ্জন কুমার

পুতুলের সংজ্ঞা । তীর্থংকর সুমিত । আহোরি ।পনেরো টাকা ।

যখন কোন সম্প্রতি কবিতা লিখতে আসা তরুণতম কবি ' বহুদিন আমি অন্ধকারকে মুড়েছি বইয়ের পাতায় । ' কিংবা  ' ক্ষয়ে যাওয়া নদী/  পাতারা বিছিয়েছে যাওয়ার পথে/  জ্যামিতিক সম্পাদ্যে জীবন ... ' এর মতো পংক্তি লিখে ফেলতে পারে তখন আশা জেগে ওঠে । তীর্থংকর সুমিত এই আশা জাগিয়ে তোলে তাঁর কবিতার পকেট বুক ' পুতুলের সংজ্ঞা '-র মাধ্যমে । অতি ক্ষীণতনু বইটির ভেতর থেকে এখন তেমন উল্লেখযোগ্য
কিছু পাওয়া সম্ভব নয়। অনেকাংশে গঠনগত ভুলভ্রান্তি, কখনো সরলীকরণকে অতিসরলীকরণ করার ঝোঁক ইত্যাদি তাঁকে সমালোচিত করতে পারে, কিন্তু মাঝেমধ্যে  বেরিয়ে আসা স্ফুলিঙ্গ তাঁর কবিতার প্রতি মগ্ন করে ।
          ' পুতুলের সংজ্ঞা ' যদিও ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্য
হবে না, তবু একে অমর্যাদাকর কিছু বলা সঙ্গত হবে না । কবির কবিতা বাছার দিক দিয়ে ত্রুটি থাকলেও তিনি অজান্তে ছড়িয়ে দেন উপরের পংক্তির মতো পংক্তি যা
সাম্প্রতিকতম কবির ক্ষেত্রে বিশেষ প্রাপ্তি ।
           কবির এরকম পংক্তি আরো পাই,  তা হল  : ' ফেলে আসা রাস্তায়/  কঙ্কালেরা নৃত্যশুরু করে দিয়েছে/  কিছু হাড় মাস মজ্জা/  আমি চেয়ে থাকি উদ্দাম স্রোতের দিকে .... ' ( ' স্রোতের দিকে ' )।
               কবিকে অনেক দূর যেতে হবে । তিনি কবিতা লিখুন, ছুঁয়ে থাকুন সময় । গড়ে তুলুন নির্ভুল শব্দচয়ন ।
হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচ্ছদ সাধারণ হলেও চিন্তাধারা
মনোগ্রাহী ।

আটপৌরে কবিতা ৪৩৬- ৪৪০ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ


আটপৌরে কবিতা
নীলাঞ্জন কুমার



৪৩৬

তোড়জোড়/ প্রক্রিয়া/ অগ্রসর
         ) প্রস্তুতি  (
প্রয়োজন অনুসারে গড়ে ওঠে ।

৪৩৭

তড়িঘড়ি/ হুড়োহুড়ি/ তাড়াহুড়ো
         ) দ্রুততা  (
কাজ অনুসারে করে চলি ।

৪৩৮

অন্যমনস্ক/  ভাবুক/  চিন্তক
        ) বেমানান  (
চরিত্র হয়ে সংসারে থাকে ।

৪৩৯

তর্জমা/ ভাবানুবাদ/ ভিন্নভাষা
        ) চিন্তাধারা  (
ছড়িয়ে দেয় দিকে দিগন্তরে ।

৪৪০

তোষামোদ/  চাটুকার/ পারিষদ
        ) স্তুতি  (
কারো কারো রক্তে প্রবাহিত ।

সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০

আটপৌরে কবিতা ৪২১- ৪২৫ || নীলাঞ্জন কুমার ||

আটপৌরে কবিতা
নীলাঞ্জন কুমার


৪২১

গলাগলি/  কোলাকুলি/  বলাবলি
              ) বন্ধু  (
       না হলে জীবন চলে!

৪২২

শুভেচ্ছা/ প্রশংসা/ পুরস্কার
     ) উৎসাহ (
সাফল্য আনে হাতের মুঠোয় ।

৪২৩

মুল্যবৃদ্ধি / নিফটি/ সেনসেক্স
      ) মন্দা  (
ক্রমশ গা- সওয়া হয়ে যায় ।

৪২৪

ডিভিডেন্ড/ ফাটকা/ দীর্ঘস্থায়ী
        ) শেয়ার  (
কখনো ওঠে কখনো নামে ।

৪২৫

উর্বরা/ ফসলী/ উন্নত
      ) জমি  (
বছর ভর ফসল করো ।

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

কুশপুত্তলিকা । দেবজ্যোতি রায় । অস্ট্রিক । সত্তর টাকা।

কোন তরুণ কবি যখন কবিতা লেখার আগ্রহ নিয়ে যাপন শুরু করে তখন তার কবিতার ভেতরে শব্দের প্রাচুর্য থাকলেও কবিতা কতখানি যৌক্তিক হচ্ছে সে নিয়ে খেয়াল থাকে না । কারণ কবির আবেগীয় দিক কবিতার তত্ত্ব ব্যকরণ দৃশ্য দর্শনের ভেতর না ঢুকে স্রেফ কবিতা কবিতা খেলা খেলতেই ব্যস্ত থাকে । তাই কবিতা অব্যর্থ হতে হতেও হয়ে ওঠে না । যেমন ঘটেছে কবি দেবজ্যোতি রায়ের ''কুশপুত্তলিকা ' কাব্যগ্রন্থে । কবি চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি । তাঁর চেষ্টার স্বাদ পেয়েছি এসব পংক্তিতে  :  ' সড়কের নীচে রোজ লেখা হয়/  ক্ষুধিত পাষাণ পাঠ প্রকল্প । ' ( ' জাতীয় সড়ক ') , ' দ্যাখো তুড়ি মেরে বলে উঠছে খগেন তনয়/  আই অ্যাম আ কমপ্লান বয় । ' ( স্বপ্ন '), ' ধর্ম ঠাকুরের থানে ঢিল বাঁধে অদৃশ্য বাসনা । ' ( ' অন্তরাল ') ইত্যাদি ইত্যাদি ।
         ' কবির কবিতা পড়তে পড়তে মনে হয় কবি এখনো বিভ্রান্ত আছেন কবিতা নিয়ে । নিজের ভেতর এক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিয়ে তিনি তাকে পরিশিলিত না করে বরং বিপর্যয়ের মুখে নিয়ে আসছেন । তাঁকে আরো শান্ত  হতে হবে । সময় অনেক তাড়াহুড়ো নেই ।
            দেবজ্যোতি রায়ের  কবিতায় তেমন চমকে দেবার  কোন ব্যাপার নেই । এটা তাঁর বিশেষত্ব ।কবি নিশ্চিন্তে লিখুন । কবির কবিতা আরো পড়ার জন্য পরবর্তী কাব্যগ্রন্থের অপেক্ষায় থাকলাম । সৌম্যেন পালের প্রচ্ছদে আছে গমকহীন কাজ , ভালোবাসা যায় ।

রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২০

আটপৌরে কবিতা || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা
নীলাঞ্জন কুমার


৪১৬

পুং/  স্ত্রী/  ক্লীব
    ) লিঙ্গ  (
প্রকৃতি যাকে যা দেয় ।

৪১৭

বিনোদন/ খবর/খেলা
    ) টেলিভিশন  (
ঘরে ঘরে আবশ্যিক বস্তু ।

৪১৮

সোডিয়াম/ পটাসিয়াম/ নাইট্রোজেন
             ) রসায়ন  (
প্রাণের জন্য কত উপকরণ !

৪১৯

ভিখিরি/ নিঃস্ব/ বিত্তহীন
     ) সর্বহারা  (
শৃঙ্খল ছাড়া হারানোর নেই ।


৪২০

মায়া/ মমতা/ স্নেহ
    ) আবেগীয়  (
উপাদান মানবিক করে তোলে ।

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...