Translated Poems লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Translated Poems লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০

গ্রিসের নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || পানাগিয়োটিস জানেটাটোস-এর কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা
 রুদ্র কিংশুক 
পানাগিয়োটিস  জানেটাটোস-এর কবিতা


পানাগিয়োটিস জানেটাটোস (Panagiotis Tzannetatos, 1989)  জন্মেছেন গ্রিসের সেফালোনিয়া দ্বীপে।  তিনি পড়াশোনা তিনি পড়াশোনা করেছেন ট্যুরিজিম বিজনেস এবং ইউরোপীয় সংস্কৃতির ইতিহাস বিষয়ে।  ২০১১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ পোয়েমস, ২০১৫- তে প্রকাশিত হয় দ‍্য এজ অব পিপল, ২০১৮-তে প্রকাশিত হয় তাঁর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ। খবরের কাগজ ও অনলাইন পত্রিকায় তিনি লেখেন কবিতা ও প্রবন্ধ।  ইংরেজি স্প্যানিশ ও ফরাসি সহ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত ও প্রকাশিত হয়েছে তাঁর কবিতা। তাঁর কবিতা বাংলা ভাষায় এর আগে অনুবাদ  ক‍রেছেন  কবি উজ্জ্বল ঘোষ।

প্রতিবিম্বন
এই সন্ধ্যাও উড়েছিল,
 অনিমন্ত্রিত যখন সে এসেছিল।
 স্মৃতি যা বয়ে আনে সবই অনাহূত,
সময় যা তুমি মনে রাখতে চাও না।
 এখন যখন আলো কমে এসেছে
 অন্ধকারের ভেতরেও আমি পরিষ্কার দেখছি রাস্তার অই দিকের সমস্ত দাগ।
 এই শরীরে থাকা পূর্বেকার প্রতিবিম্বন
সময় যার দিকে আমি তাকাতে সাহস করেছিলাম
 ছায়া ও তাদের নাচ
 দেয়ালের ও আয়নার উপর ।
আর তখন আবার আমি দেখলাম মানুষ
কীভাবে বদলায় নিজেকে অন্ধকারে
 স্বপ্ন দেখতে দেখতে।
 আর তখন আবার একবার আমি দেখলাম অনাহূত স্মৃতি নিজেই ফিরছে বর্তমানে।
প্রতিশোধ নিতে সেই সমস্ত স্বপ্নের উপর
যারা বেঁচে উঠতে পারেনি।

২.
রাতের জীবন ছিল স্বর্গে

আমি একটা ছোট বেসমেন্ট ভাড়া করেছি,
 আকাশের সঙ্গে বিছানা পাতবো বলে,
কারণ আকাশ ছাড়া কে আর রাতের বেলা
 শান্তিতে ঘুমাতে পারে ।
বছরের এই সময় জানালার বাইরে পারিজাত গোলাপ ফোটে
 জানালার বাইরে ।
 ভালোবাসা জন্ম নেয়
 ভালোবাসা মরে যায়
যেমন করে পরগাছা যা জন্মায় স্বাস্থবান  শিকড়ের উপর ।
কার আর ক্ষমতা আছে হাত দিয়ে এইসব কিছু তুলে ধরার
শব্দকে অন্ধকারে  নিরাবরণ মনে হয়।
 যখনই তুমি তাদের স্পর্শ করতে চেষ্টা করো
দাগ থেকে যায় পিছনে।
 আমি দরজা খুলি চলে যেতে দিই
সমান দূরত্ব দিয়ে যা আমাদের জুড়ে রাখে।
 একটা কংক্রিট দেওয়াল পিছনে উঠে
যা আলাদা করে দেয় আবেগকে পাপের ভিতর থেকে
ঈশ্বর ও মানুষের, একই  শরীরছ তারা বসবাস করার আগে
 দিনের শেষে  ভয় ফিরে আসে ভালোবাসার কাছে
কারণ এই জগৎ পরিবর্তনশীল আর রাত্রির সবকিছু,  যার প্রয়োজন হয়।

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০

গ্রিসের নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || ইয়ানিস লিভাদাস-এর কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক
  ইয়ানিস লিভাদাস-এর কবিতা


ইয়ানিস লিভাদাস (Yannis Livadas, 1969) গ্রিসের নিরীক্ষামূলক কবিতার অন্যতম পথিকৃৎ। ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি সনেটের এক নতুন  আঙ্গিক 'ফিউশন-সনেট- এর উদ্ভাবন করেন। তাঁর কবিতার নতুন প্রকরণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন 'অর্গানিক এন্টিমেটাথিসিস' (organic antimetathesis) যে ভাবনার ভেতর গঠনগত বৈপরীত্য,  বাক‍্যবিন‍্যাসের তুলনা এবং অর্থের অনির্দিষ্টতা-বোধের সমন্বয় ঘটেছে। তাঁর কবিতা যথার্থ অর্থেই পোস্টমডার্ন টেক্সট যাদের অর্থ সর্বদাই বহুকেন্দ্রিক ইশারা উৎসাহিত।

১.
সমন্বয়


দুইটি অস্তিত্বের মধ্যবর্তী সম্পর্ক:
 তাদের ভেতরে সেই শূন্যতার পিছলে পড়া

 জানালাগুলোর মধ্যে দিয়ে তুমি দেখো 
আত্মার শার্সিগুলোকে।

সব কিছু   সাধারণ  কঠিন হয়ে ওঠে।

২.
আমার হাড়গোড়গুলো আমার সমাধির স‍্যুপে

আমি সব চেয়ারেই বসি 
কারণ উপযুক্ত কোন জায়গা নেই
 শিল্পের জন্য 
যা প্রতিষ্ঠিত
২০০৮,২০১১ অথবা ২০১২তে;

শুকিয়ে ওঠা আমার জামা থেকে ঝরা  জলফোঁটা।

 সন্ত জেনেভিয়েভের সুর।

 আমার নির্মম মাথা হেফাজত হিসাবে মঞ্জুর
 আত্মার নির্দেশ দ্বারা।

 কী ভয়ানক অভিজ্ঞতা;

আমার হাড়গোড় স‍্যুপের ভেতর 
কবরের ভেতরের 
কাদা সহ।

৩.
বলেছিলাম যার প্রতীক আমরা 

বাক্যের শব্দটি
 যা সব কিছুর সমাধান কিছুর সমাধান 
আছে সেখানে

 যথেষ্ট অনভিপ্রেত 
যথেষ্ট সমাপ্তি হিসাবে 
যদিও সম্পূর্ণতায়
 সমন্বিত কিনা

 বিরক্তিতে 

ধ্বংস করে স্থৈর্য 
একদা বলা হতো
 যার প্রতীক আমরা।

রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২০

বুলগেরিয়া আধুনিক কবিতা || রুদ্র কিংশুক || সাশো সেরাফিমোভ-এর কবিতা

বুলগেরিয়া আধুনিক কবিতা 
রুদ্র কিংশুক
সাশো সেরাফিমোভ-এর কবিতা


সাশো সেরাফিমোভ (Sasho Serafimov, 1953) জন্মেছেন বুলগেরিয়ার দেবরিচ শহরে। সোফিয়াতে অবস্থিত স্লাভিক ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি সোশ্যাল পেডাগোগিতে ডিগ্রি লাভ করেছেন। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ছয়। এছাড়া তিনি ছোটদের জন্য লিখেছেন অনেক গল্প। তাঁর লেখা নাটক দ‍্য টেলার অব টেলস গোল্ডেন ডলফিন ইন্টারন্যাশনাল পাপেট থিয়েটার ফেস্টিভ্যালে পুরস্কৃত হয়েছে।

১.
লোকজ্ঞান

স্বদেশ বিষয়ে এত গভীর টান যে
 আমি তাকে ভালোবাসতে আরম্ভ করেছিলাম। আশ্চর্য নয়!
আমি আর দেশকে ভালবাসি না,
 আমার কাজকে না,
আমার স্বপ্নগুলোকে না,
ভালোবাসি না আমার ইতিহাস,
আমার বিশ্বাস,
 আর তবুও আমি বেঁচেবর্তে আছি
 অন্যদেরও ভাবতে দাও
কি কঠিন কাজ এটা
 ঈশ্বরহীনের ভালোবাসা।

২.
জীবনের ইতিহাস

 চিন্তা করো না পৃথিবী ঘুরছে।
 প্রত্যেকেই নিজের জায়গা নেবে।
 প্রত্যেক টুপির জন্য থাকবে একটা হ্যাঙার।
 প্রত্যেক গাধার জন্য --- একটা আরাম কেদারা।‌
 উল্লাস করো আর চুম্বন দাও।
ক্ষুধার্ত দেখবে রুটি,
 পিপাসার্ত জল,
বিষন্ন মানুষ আবিষ্কার করবে আনন্দ ।
কিন্তু ভদ্রমহোদয়গণ, মৃত্যুকে ভুলবেন না।
সেও আমাদের সঙ্গে বসতে চায়।
মানুষের ভেতর সে আরাম পায়।
তার ক্ষমতা আছে জোড়া দেয়ার আর ভেঙে ফেলার
অশ্রু, যন্ত্রণা  ও ধুলো সহ ।

জীবনের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত।
মহাকাল সেটাই সত্য বলে জানায়।

৩.
গুজব

আমার মনে পড়ে একজন কবিকে
প্রথম বুলগেরিয়া রাষ্ট্র থেকে ।
তিনি ভবিষ্যৎ ঘোষণা করলেন যে
 একটা দ্বিতীয় বুলগেরিয়া রাস্ট্র হবে।
 যখন আমি তার লেখা পড়ছিলাম
রাস্ট্র শেষ, এখন সে রপ্তানি হয়ে গেল।

এখন আমি শুনি একজন নতুন কবি এসেছেন, কোন নতুন  রাষ্ট্র সম্বন্ধে কিছু শুনিনি।


শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২০

গ্রিসের নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || এলেনা পলিগেনি-র কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক
এলেনা পলিগেনি-র কবিতা


এলেনা পলিগেনি (Elena Polygeni, 1979)- র জন্ম গ্রিসের পাট্রাস শহরে। তিনি একজন কবি, অভিনেত্রী এবং সংগীতজ্ঞা। এ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে তাঁর চারটি কাব্যগ্রন্থ:

 লেটার্স অন আ ব্ল্যাকবোর্ড ২০০৯
 মাই সরো ইজ আ ওমেন ২০১২
দ্য ল্যান্ড অব প্যারাডাক্সিকাল থিংকজ ২০১৪
সেকেন্ড অব   এলাইভ মোমেন্টস ২০১৭

তাঁর কবিতা সুইডিশ ও ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।


১.
স্বর্গ অপার্থিব শরীরের সমান অদৃষ্ট

 আমরা সবাই নিজেদেরই চারপাশে ঘুরপাক খাই ভাস্বর শরীরের মতো। আমাদের কেন্দ্রীয় অক্ষ আলাদা করে দেয় প্রয়োজন থেকে আকাঙ্ক্ষাকে এবং তখনও শান্তি ভিক্ষা করে। আমাদের অন্যান্য গ্রহগুলো আমাদের কাছে অপরিচিত। তাদের নিজেদের দুর্ভাগ্যের চারদিকে ঘুরপাক খাওয়া, তাদের নিঃসঙ্গতা। বাকিটা সহজভাবে উজ্জ্বল আলো।  পার্থিবতার হাতের স্পর্শে সবকিছুই এক, কিছু আগের, দমবন্ধ শয়তানিভাবে। মন লাভ করে বাহ্যিক সংকেত, যা সে পুনরায় চালনা করে আগ্রহসহ। অভ্যাসমতোই পাল্টে ফেলে প্রতীকে। সবকিছু বাঁচার ক্লান্তিতে ভরে ওঠে,  তবুও মৃত্যুকে ভয় পায়। জলের নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ আমাদের মনে করায় অস্তিত্বের ঋণ, যার কাছে কয়েকটা ব্যতিক্রম অগ্রহণযোগ্য বিবেচিত। কক্ষটি বৃত্তাকার, তা কখনোই কেউ এড়িয়ে যায় না, প্রস্থানবিন্দুতে আবার প্রত্যাবর্তন; আর সেখানে এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটে না।

২.
বিজয়ের গান

সব স্থানে সব দেশে আর সব বাড়িতে সব যুগ ধরে আর সব চুম্বনে আর টেবিলে আর চিতা প্রজ্জ্বলনে আর আলোকোজ্জ্বলতার নিচে আর পর্দার পিছনে আর লেপের তলায় আর ছদ্মবেশের আড়ালে আর শ‍্যাম্পেন পানে আর গানের ভেতর আর গাড়ির ভেতর আর ঝকমকে বিজ্ঞাপনের নিচে আর রুফটপে আর বাইরের ব্যালকনিতে আর তাঁবুর ভেতরে আর হাসির ভেঙে পড়ায় আর যুদ্ধ লাগানোয় আর আইন ভাঙায় আর জনগণের উপর আর রক্তদাগে থুতু ছিটানোয় আর সমাধান আবিষ্কারে আর উন্নয়ন ও উতপ্ত শব্দের ভাগাভাগিতে আর বিছানার উপর আর ক্লান্ত ঠোঁটে আর গাড়িঘোড়ার ভেতর আর প্রাসাদ নির্মাণে আর কার্পেটের উপর আর স্কুলে আর জাহাজে আর রাকেট আঁকড়ে ধরায়  আর সীমাবদ্ধতা দেখানোয়, হাতে হাতে, আর জয়গীতিতে আর আহত মাথায় আর সমস্ত গলিতে আর শহরের সমস্ত স্কোয়ারে, রাতে ও দিনে,  ভেলভেটের ভেতর, যন্ত্রণা সজ্জিত আরেকটি নতুন করাসহ, প্রতিশ্রুতি আহ্বান করে, নতুন কাদায় আর এক নতুন করাতসহ,  গৌরবে হেটে যায় আর সমস্ত গোপন স্থানে, দুঃখকে ডাকে আর শব্দের দূরে দুঃখের বাইরে আর শীতের দূরে

সর্বদা

সর্বদা

ঘাতকেরা

 উৎসব করে।

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২০

বুলগেরিয়ার আধুনিক কবিতা || রুদ্র কিংশুক || একাতেরিনা যোসিফোভা-র কবিতা

বুলগেরিয়ার আধুনিক কবিতা
রুদ্র কিংশুক 
একাতেরিনা যোসিফোভা-র কবিতা

একাতেরিনা যোসিফোভা (Ekaterina Yosifova, 1941)- র জন্ম কায়ুসটেনডিল শহরে। সেইন্ট ক্লিমেন্ট ওহরিডস্কি ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি রুশ দর্শনে ডিগ্রী লাভ করেন। শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা এবং পত্রিকা সম্পাদনাকে নানান সময়ে  তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১২-র অধিক। ২০১২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত  'দিস স্নেক' কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি পেয়েছেন ইভান নিকোলভ অ্যাওয়ার্ড। এটি বুলগেরিয়ার একটি জাতীয় কবিতা পুরস্কার। তাঁর কবিতা মেসিডোনিয়ান, হাঙ্গেরিয়ান এবং স্লোভেনিয়ান ভাষায় অনূদিত ও প্রকাশিত প্রকাশিত হয়েছে। তিনি কবিতা কর্মের জন্য অনেকগুলি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন। বর্তমানে তিনি বুলগেরিয়ার সোফিয়া শহরে বসবাস করেন।


১.
সাদা সাপ
 আর আমি যদি ঠিক কল্পনা করি
 যেটা আমি করতাম আমি যদি
সচেতন সরীসৃপ হতাম!---- বলতে গেলে,
 আমিই তুলে নিতাম আপেলটা
আমি কোন অজ্ঞ মেয়ের হাতে তা দিতাম না, আদমের চেয়ে অনেক কম; তারপর
 আমি তা খেতে আরম্ভ করতাম, একাই,
 একটু একটু করে;
সচেতনতা, জ্ঞান,
সাবধানতা।

২.
আমরা চেষ্টা করেছিলাম

 সাঁতার কাটা
 দুজনেই একটা হাতে
 আমার বাম হাত, তার দক্ষিণ,
 তার বাম আমার কোমর জড়ানো,
আমার দক্ষিণ তার কাঁধে,
এটা নয় যে আমরা চেষ্টা করিনি।

৩.
 ভূগোল জানা দরকার নেই

বিষয়টা অনুবাদে নয়, তারা এক কথায়
 বিশ্বাস করতে চায়নি, যে দেশটা
তাদের সেনারা দখল করেছিল
 আশঙ্কায়
সে দেশটা তাদের তাদের সীমান্তের কাছে নয় এবং এমনকি
সেটা অন্য এক মহাদেশে।
 আমরা তাদের দেখালাম মানচিত্র।
তারা একবার তাকাল তার দিকে।
 মেয়েটি বলল: এটা কি বুলগেরিয়ার বুলগেরিয়ার কি বুলগেরিয়ার বুলগেরিয়ার মানচিত্র?
 তারা বিরক্তিকর ভাবে হাসলো হাসলো।
 সবকিছু তাদের কাছে আবার অর্থপূর্ণ হলো।

৪.
 গুলি !

কার্ডিগানের পকেটের ভেতর দিয়ে
যার সেলাইটা আগোছালো
 তুমি শূন্যে গুলি ছুড়লে নিচ থেকে ওপরে
 হুড়োহুড়িতে
কেউ তোমার দিকে তাকাল না,
কেউ সন্দেহ করল না তোমাকে
কেউ মনেও রাখলোনা তোমাকে। এটা খুবই সুবিধাজনক
একজন বুড় মহিলা হওয়া।

রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২০

গ্রিসের নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || আঞ্জেলিকি সিগোরু-র কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক 
আঞ্জেলিকি সিগোরু-র কবিতা


আঞ্জেলিকি সিগোরু (Angeliki Sigourou, 1973)-র  জন্ম আথেন্সে। তাঁর লেখাপড়ার বিষয় ফরাসি ভাষা ও সাহিত্য। এছাড়া তিনি চর্চা করেছেন আধুনিক এবং ধ্রুপদী নৃত্য।  ফরাসি এবং অ্যারাবিক ভাষা থেকে তিনি গ্রিক ভাষায় অনুবাদ করেছেন বিপুল পরিমাণ সাহিত্য। মাহমুদ দারউইস এবং নাগিব মাহফুজের লেখা তাঁর লেখা তাঁর মাহফুজের লেখা তাঁর লেখা তাঁর অনুবাদে গ্রিক পাঠকদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত। বর্তমানে তিনি গ্রিক দ্বীপ সাইরসের বাসিন্দা।  তিনি আধুনিক নৃত্যের শিক্ষক হিসেবেও কাজ করে চলেছেন। তাঁর প্রতিষ্টিত নৃত্য সংগঠনের নাম আক্রপোদিতি।

১. রঙগুলি

এবং রঙগুলি এসেছিল। আগে তাদের অস্তিত্ব
 ছিল না। আর আমরা
তাদের বিশ্বাস করতাম
 তাদের চূড়ান্ততা  আর বৈপরীত্যে
সমস্ত রঙের সম্মিলনে এবং আলাদাভাবে প্রত্যেককেই
 আমরা বিশ্বাস করি

 রঙের মেঘ
সমুদ্র
গাছ
রক্ত
সূর্য
দিনের আকাশ
 রাতের আকাশ
কাঠ
জল
মাটি
আগুন

এজগতের সাফল্য
             তার পছন্দ করা গভীরের রঙ
 মহান গভীরের রঙ
     যদিও উপরে আকাশ নীল আর লাল
আর হয়তো এখানে সেখানে  সবজে সোনালী
 তাই গভীর পাপ নীরবে বাড়ে বাড়ে
 যাতে আমরা দেখতে পারি নতুন স্বর্গের স্বপ্ন
 জ্ঞানের
সংযমের
বিশুদ্ধ রঙের
 অপরাধ ছাড়া
আমার মিথ্যাগুলোকে যত্ন সহকারে নিও
আর গভীরে রঙ দিয়ে
 সত্যের উপরটা রাঙিয়ে দিও

                   স্বর্গের কোন রঙ নেই
                     সমুদ্রেরও
                     না এটা মিথ্যা

২. সিন্দুক

এই কারাগারের ভেতর থেকে আমি লিখি
আমি যে কখনো কারাবন্দি হইনি
আমার চারদিকে আমি এখন তাকাই এবং দেখি
 কারাগার ছাড়া কিছু না
এবং আমি তারপর আমার ভেতরে তাকাই
এবং কারাগার ছাড়া কিছু দেখিনা
 কারাগার যা তোমাকে শেখায় কীভাবে
লিখতে হবে
কীভাবে হতে হবে শব্দের প্রতি প্রতিরক্ষাসমর্থ
 কারাগার যা তোমাকে শেখায়
ভেতরে ঢোকা বাতাসের চেয়ে
 বাতাস যা বার হচ্ছে সর্বদায়
 বেশি
কারাগার -----সব কিছু যা আমি ভয় পেয়েছি
 হতে পারতো কারাগার
কুড়িটি আঙ্গুল যা যা দেখতে
লৌহদন্ডের মত
আমি ভাবতাম তাদের ক্ষমতা আমাকে
 বন্দী করার
আমি ভাবতাম তাদের অপারগতা
 আমাকে বন্দী করার

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২০

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || ভালেরিয়া রুজো-র কবিতা

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক 
ভালেরিয়া রুজো-র কবিতা


ভালেরিয়া রুজো(Valeria Rouzeau, 1967)-র জন্ম ফ্রান্সে। ১৯৮৯- তে প্রকাশিত  তাঁর প্রথম কবিতার।  ১৯৯৯-তে প্রকাশিত তাঁর কবিতা বই ' পা রুভোয়ার' (Pas Revoir) ফরাসি কবিতা জগতে একটি বিশেষ সংযোজন। নিরীক্ষামূলক ও নতুন চিন্তাচেতনার চেতনার অভিসারী তাঁর কবিতা। ভালেরির পড়াশোনার বিষয় সাহিত্য অনুবাদ। অনুবাদশাস্ত্রে তিনি মাস্টার ডিগ্রী লাভ করেছেন। ফরাসি কবিতায় বিশেষ অবদানের জন্য ২০১২ সালে তিনি পেয়েছেন প্রি গিয়ম আপোলিন‍্যার (Prix Guillaume Apollinaire) পুরস্কার।

১.
আমি লিখছিলাম

 আমি তোমাকে লিখতাম পোস্টকার্ড
 প্রত্যেক দিনের জন্য
শুক্রবারে দুটো রবিবারের জন্য ।
নীল ফুলগুলো রঙিন হতে পারত
 তুষারে
 শেষ যেটা তুমি দেখেছিলে।

 তোমার আঙ্গুল নিশ্চয়ই কেঁপেছিল
  যখন তুমি ধরেছিলে
 রুটি, কয়েকটা টুকরো নিশ্চয়ই
পড়বে
তুষারের ওপর ।

কিন্তু সোমবারের কার্ড রয়েছে
তার
খামে, তোমার পকেটে কফিনে
ভল্টে
মাটিতে, বাবা ভিত‍রে জড়ানো।

২.
ইডেন

 সকাল চারটেয় চাঁদের আলোয় সে যায়
আদমের বেশে আমার প্রেমিক গোলাপের গন্ধ নিতে যায়
যে গোলাপ ফুটেছে উঠানের ধূসরে
 সকাল চারটের চাঁদের আলোয় খোলা গোটা শহর তাকে দেখছে গোলাপসহ
আমি তখন উঠলাম তার গলায়
 আইভিলতার মতো,
গোলাপ

সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২০

গ্রিসের নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || চ্লোয়ি কৌটসৌমবেলি-র কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক
চ্লোয়ি  কৌটসৌমবেলি-র কবিতা


চ্লোয়ি কৌটসৌমবেলি (Chloe Koutsoumbeli, 1962) জন্ম নিয়েছেন গ্রিসের থেসালোনিকি শহরে। প্রসঙ্গক্রমে এখানে বলে রাখা যাক যে, এই শহরটি নামকরণ হয়েছে গ্রিক বীর আলেকজান্ডারের বোনের নাম অনুসারে। কৌটসৌমবেলি  আরিস্ততল ইউনিভার্সিটি থেকে পাঠ নিয়েছেন আইন বিদ্যার এবং আঠারো বছর ধরে কাজ করেছেন একটি অর্থসংস্থা । এদিক থেকে তাঁর মিল জীবনভর ব্যাঙ্ককর্মী গ্রিক মহিলা কবি কিকি ডিমাওলার সঙ্গে। কৌটসৌমবেলির কবিতায় প্রাচীন গ্রিক মিথ-পুরাণের ব্যবহার ও বিনির্মাণ দেখা যায়।

১.
হলুদ ট্যাক্সি

না, মশাই, আপনি অন্যকারো সঙ্গে আমাকে গুলিয়ে ফেলছেন
সে লোক আমি ছিলাম আমি ছিলাম না
হলুদ ট্যাক্সিতে
কখনোই আমি আপনার সঙ্গে পিছন সিটে বসে ছিলাম না
বরফও পড়েনি, আমি সে ব্যাপারে নিশ্চিত
আর না আমার চুলেও পড়েনি বরফকুচি
 বরং উল্টো, আমার তখন চুলই ছিল না
 আপনি কখনোই আমাকে চুম্বন করেননি, অন্যথায় আমার
 মনে থাকতো
আর আপনি যদি আমায় চুম্বনও করতেন, আমি যেকোন উপায়ে সেখানে থাকতাম না
আর ড্রাইভার একটি বারের জন্যও মাথা ঘোরাতো না
সে নীরবে পার হয়ে যেত হ্রদ শেষ পর্যন্ত
 আর তৎক্ষণাৎ হাল ডুবে যেত
 চারদিকের কালো জলে

২.
পেনেলোপি

পেনেলোপি এতক্ষণে জানে
 যে তাকে দেরি করিয়েছে
 সে অসহিষ্ণু সাইরেন্স নয়
নয় বুড়ো সার্সি
তার চালিত আকাঙ্ক্ষা সহ
নয় নষ্ট-হওয়া নোসিকা
ভুল বয়সের সঙ্গে সেলাই করেছে সাদা মোজা আর স্কুল বালিকার স্কার্ট
নয় মানুষখেকো ল‍্যাস্টিগোনিয়ানরা,  নয় পদ্মগুলো
যারা তাকে তার তার কাছ থেকে দূরে রেখেছিল
নয়, হয়তো, পসেইদনের শ্রমিক-সংগঠনীয় ক্রোধ হুংকার
আর গুলিয়েফেলা পুরনো সাথিদের সঙ্গে

প্রাচীন পৃথিবীতে
এতক্ষণে সকাল সকাল অন্ধকার নামতো
 পৃথিবী এতটা চ্যাপ্টা ছিল না
এবং মানুষ মাঝে মাঝে হারিয়ে যেত

রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২০

অনন্য দ্রাঘিমা: অন্য ভাষার কবিতা || রুদ্র কিংশুক || মারি-ক্ল‍্যার বাঁকুয়ার-এর কবিতা

অনন্য দ্রাঘিমা:  অন্য ভাষার কবিতা 
রুদ্র কিংশুক 
মারি-ক্ল‍্যার বাঁকুয়ার-এর কবিতা


মারি-ক্ল‍্যার বাঁকুয়ার (Marie-Claire Bancquart, 1932-2019)জন্ম  ফ্রান্সের  আভেরোঁ-তে। কবি,  ঔপন্যাসিক ও বিশিষ্ট সাহিত্য-সমালোচক মারি-ক্ল‍্যার বাঁকুয়ার সাম্প্রতিক ফরাসি কবিতায় বিশিষ্ট নাম। সাহিত্যকৃতির জন্য তিনি লাভ করেছেন আকাদেমি ফ্রাঁসে কর্তৃক প্রদত্ত বিশিষ্ট সাহিত্য পুরস্কার গ্রাঁ প্রি দ‍্য লা ক্রিতিক লিতের‍্যার।
কোন কোন সমালোচক তাঁর কবিতার নতুনত্ব ও সমৃদ্ধির কথা ভেবে তাঁকে শার্লে  বোদল‍্যার-এর সঙ্গে তুলনা করে থাকেন।


১.
দু'হাজার বছর হলো এখন

দু'হাজার বছর হলো এখন ,আহত পা
দেবতার আশ্চর্য ভালোবাসা পা টেনে টেনে চলেছে।

 তার বয়স হলো। শিগগির
তাকে দেখা যাবে না। উড়োজাহাজের পথ ছাড়া
 গমক্ষেতের চিহ্নায়নে
 যা দেয় এক প্রাচীন
স্যাংচুয়ারি হদিস।

সে আকাঙ্ক্ষা করে আদর যত্নের ভাষা,
 খোলা তৃণভূমি,সুলভ শরীর ,

আর শব্দেরা অস্বীকার করে, আর অন্য কোথা তার ইতিমধ্যে মৃত্যুতে
 সূর্যের নিচে এক রোগাটে পার্পল ফুল ছাড়া।

 সে তবুও এখনো সর্বত্র দেবতা সাজতে পারে,
 সন্ধ্যার জীর্ণ হৃদয়।

সে ভাবে ফুল খসে যাবে
 হালকা
একটা শতাব্দী থেকে পরবর্তীতে প্রার্থনা সহ।

২.
 আমার কথা বললে আমি ভালোবাসি এক বৃদ্ধকে

আমার কথা বললে, আমি ভালোবাসি এক বৃদ্ধকে
 যে থেকে গেছে একজন ছুতোর
ধর্মশাস্ত্রের দাবি পূরণ করেই।

 একটা কার্ডখণ্ড থেকে
পাকাচুলো জিসাস
 খোদাই করে
 ভারী হাতে
একটা ক্রুশকাঠ বহু হাত বিশিষ্ট।

 মেয়েরা জলপাই ম্যারিনেট করছে
বার্থডে ডিনারের জন্য ভেড়ার মাংস
 যা কখনোই গসপেল থেকে আসবে না।

তাঁর বয়স ছেষট্টি, প্রভু নন
কিন্তু তিনি তাঁর ছেলের ছেলের হাত ধরেছেন
 এবং তাঁর মৃত্যু দ্বিগুণ পুরনো,
 ফিসফিসানি
যে এই কাঠ থেকে তিনি তৈরি করেছেন ঘুঘু পাখিদের বসার আলনা।

শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২০

অনন্য দ্রাঘিমা:অন্য ভাষার কবিতা || রুদ্র কিংশুক || পোল স্কারোঁ-র কবিতা

অনন্য দ্রাঘিমা:অন্য  ভাষার কবিতা 
রুদ্র কিংশুক
পোল স্কারোঁ-র কবিতা 


বাঙালি পাঠকের সঙ্গে পোল স্কারোঁ (Paul Scarron, (1610-1660)-র প্রথম পরিচয় ঘটান বিশিষ্ট লেখক কমলকুমার মজুমদার (১৯১৪-১৯৭৯) তাঁর 'গোলাপ সুন্দরী' (বাংলা ১৩৮৯) উপন্যাসে।  উপন্যাসের নায়ক বিলাস টিবি রোগে আক্রান্ত হয়ে স‍্যানেটোরিয়ামে ভর্তি হয়। সেখানে অন্য রোগীদের সঙ্গে তার দেখা হয় আর একজনের  যার নাম চেট্টি  যে সর্বদা মৃত্যু ভাবনায় আচ্ছন্ন। জীবনের চারিদিকে সে  আসন্ন মৃত্যুর উপস্থিতি টের পায়।তাই প্রতিনিয়ত সে তার প্রিয় এপিটাফটি উচ্চারণ করে। সেটটির এই উচ্চারণ তার ব্যক্তিগত থাকে থাকে না। এপিটাফটি ক্রমশ হয়ে ওঠে স্যানেটোরিয়ামে একটি সর্বব্যাপী উপস্থিতি। কমলকুমার বাঙালি পাঠকদের এতটাই শিক্ষিত ভাবতেন যে উপন্যাসে শিক্ষিত ভাবতেন যে উপন্যাসে এপিটাফটি বাংলা বর্ণিকরনে ফরাসি ভাষাতেই উদ্ধৃত।

স্কারোঁ ছিলেন একাধারে কবি, নাট্যকার এবং ঔপন্যাসিক। নানান দুর্ভাগ্যের শিকার এবং শারীরিকভাবে অক্ষম ছিলেন স্কারোঁ। তাঁর শরীরের উপরাংশ  চিরতরে বেঁকে চুরে গিয়েছিল। পা দুটো ছিল আসার, পক্ষাঘাতগ্রস্ত । শারীরিক এবং মানসিকভাবে  একজন বিপর্যস্ত মানুষ। এই দৈহিক ও মানসিক যন্ত্রণার প্রকাশ ঘটেছে তাঁর লেখায়। এখানে তাঁর  এপিটাফটির সঙ্গে একটি নাতিদীর্ঘ কবিতার অনুবাদ উপস্থাপন করা হলো।

১.
অগ্নি পাত্রে রাখা সৌন্দর্য

সে সৌন্দর্য অগ্নিপাত্রে রাখা
 স্টিলের হৃদয়
 তুমি আমাকে রেখেছো পাশে
 রক্ত-আগুনে হয়েছে সঠিক সমন্বয়।
হায় প্রেম, আমায় তুমি করলে গ্রহণ
 ইঁদুরকে নেয় বেড়াল যেমন।

২.
 এপিটাফ

ঈর্ষা নয়,  করুনাই  করো আজ তাকে
যে এখন এখানে একা ঘুমিয়ে আছে ,
বহু মৃত্যু ছুঁয়েছিল মৃত্যু পূর্বে যাকে
যে মরণ অন্তর্গত জীবনের কাছে।

পাশ দিয়ে চলে যাও, যাবে তুমি যদি
শব্দ নয়, ভেঙো নাকো ঘুম, যত্নে আরো
আজই এসেছে প্রথম সে রজনী আদি
ঘুমাচ্ছে প্রথম আজ হতভাগ্য স্কারোঁ।

সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০

অনন্য দ্রাঘিমা: অন্য ভাষার কবিতা || রুদ্র কিংশুক || ইভ বনফোয়া-র কবিতা

অনন্য দ্রাঘিমা: অন্য ভাষার কবিতা 
রুদ্র কিংশুক
ইভ বনফোয়া-র কবিতা

রুদ্র কিংশুক




 ইভ বনফোয়া-র কবিতা
ইভ বনফোয়া (Yves Bonnefoy, 1923--2016) কবি ও শিল্প সমালোচক। তিনি একজন দক্ষ অনুবাদকও। শেক্সপিয়ারের অনেকগুলি নাটক তিনি ইংরেজি থেকে ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেছেন। গণিতশাস্ত্র ও দর্শনে  বিশেষ ব্যুৎপত্তি থাকার কারণে তাঁর কবিতায় বহু বিচিত্র বিষয় এবং বিচিত্র কৌণিকতার সমাবেশ।

১.
আয়ন

গতকাল আবার
মেঘেরা ভেসে যাচ্ছিল
ঘরের দূর অন্ধকার কোণে ।
কিন্তু ঠিক এখনই আয়নাটা ফাঁকা।

 তুষারপাতে
 আকাশের ফাঁসমুক্তি।

২.
 আপেল

এই হলুদ আপেলগুলো
 কি আমাদের ভাবতেই হবে?
 গতকাল, পাতাঝরার পর,আমাদের অবাক করে
 এমনই অপেক্ষমান, নগ্ন ।

আজ তারা মুগ্ধ করছে
যেহেতু তাদের কাঁধ
নরমভাবে উচ্চারিত
তুষার কিনার দিয়ে।

৩.
 বাগান

তুষার  ঝরছে
তুষার পালকের নিচে দরজা
 শেষ পর্যন্ত খোলা বাগানের দিকে
 জগতের চেয়েও বেশি কিছু।

 আমি এগিয়ে যাই। আমার স্কার্ফ
 আটকে যায় জংধরা
লোহাতে এবং ছেঁড়ে
আমার ভেতরে স্বপ্নের ফেব্রিক।

রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২০

গ্রিসের নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || ডানায়ি সিওজিয়ো-র কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক 
ডানায়ি  সিওজিয়ো-র কবিতা


ডানায়ি সিওজিয়ো(Danae Sioziou)-র জন্ম এবং বেড়ে ওঠা জার্মানি ও গ্রিসে। আথেন্স, বার্লিন  এবং লন্ডনে তিনি পড়াশোনা করেছেন ইংরেজি সাহিত্য, কালচারাল ম্যানেজমেন্ট এবং ইউরোপিয়ান হিস্ট্রি -- এই সকল বিচিত্র বিষয়ে। Teflon নামক একটি বিখ্যাত নতুন কবিতা পত্রিকার সহ-সম্পাদক তিনি। তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থগুলি:
 ইউসফুল চিলড্রেন গেমস (২০১৬) এবং ডিটেলস ফ্রম দি এন্ড  অ্যান্ড দ‍্য বিগনিং(২০২০)।
 পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে সিওজিয়ো-র কবিতা।


১.
ভারী

পুরনো ছবি।
 ফটোগ্রাফারের শক্ত চাপে
 তারা হাসছে, হাতে হাত
আমার মা আর বাবা। তারা ভালোবাসায়।
বেবি ক‍্যারেজে স্বপ্ন, ঢাকা দেওয়া:
পতিত, পথের পাশে পিষে যাওয়া
তিক্ত কমলা, কেউ তুলে নেয়নি।


২.
প্রহরা

আমরা ঘুমোতে পারিনি
রাতের বেলা আমাদের কুকুরগুলো চেঁচাচ্ছিল। আমরা দ্বিতীয়বার চিন্তা করিনি
 এটা তাদেরই গলা
 মৃত্যুর মৃত্যুর বার্তাবাহক
অতন্দ্র প্রহরীর মতো আমাদের সতর্ক করছিল
 আমাদের বাড়িতে নিশ্চিত
 কেউ ভেঙে ঢুকে পড়বে।

 আমাদের ছোট্ট  নীরড় ঘরে
আমরা জেগে রইলাম
একগুঁয়েভাবে, খারাপ ব্যবহার পাওয়া
বাচ্চার মত কান্না
রাতের খাবার না খেয়ে অপেক্ষা
হঠাৎ বড় হয়ে ওঠা
একরাত্রে
 এবং শেষ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া
অযর্থাথ শাস্তির ব্যাখ্যা
এবং এই জগত ।

৩.
সূর্যাস্ত

আলেকজান্দ্রা, নববিবাহিত, স্বামীর উল্লাস
 এবং গর্ব (আমার পাখি, আমার ছোট্ট পাখি)
সে ছাদে উঠেছিল
গতকালের কাঁচা কাপড় তুলে আনতে
 কিন্তু হয়তো কাপড়গুলো ফুলে উঠেছিল
ঘুঘুদের নৃত্যময় উড়ানের রেখায়
 সূর্য বাধ্য করছিল চোখ বন্ধ রাখতে
 যখন তা গড়িয়ে পড়ছিল পরপর পাহাড়ের খাঁজে
 উজ্জ্বল ধাঁধিয়ে দিচ্ছিল দিনটাকে দিনটাকে
এইভাবে কোনরকমে আলেকজান্দ্রা হয়ে উঠলো
 সূর্যের মতো পাখির মতো
 আর তার সাদা কার্ডিগান যেন পাল

শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০

গ্রিসের নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || মারিয়া তোপালি-র কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক 
মারিয়া তোপালি-র কবিতা




মারিয়া তোপালি  (Maria Topali ,1964) জন্মেছেন গ্রিসের থেসালোনিকি শহরে। আথেন্স ইউনিভার্সিটিতে তিনি পাঠ নিয়েছেন আইনবিদ্যার। তাঁর প্রকাশিত কবিতার বইগুলি:
Tea Set 1999
London and Other Poems 2006 প্রমুখ।
জার্মান কবি রিলকের কবিতা তিনি অনুবাদ করেছেন গ্রিক ভাষায়।

১.
অজানা পতঙ্গ

আমি জেনেছি এই গ্রীষ্মে আমার মৃত্যু

 এখন দেওয়ালের শীতলতা অলৌকিক
মোটা পাইপের জল শিশুদের শরীরে উপহার
 তাদের ত্বক --- যা প্রতিদিন আবৃত করে রাখে
নতুন উত্তেজনা --- তোমাকে অবাক করে

সবকিছু হয়ে যাবে আবার সহজ
 সাহসী হাসি এখন অপ্রয়োজনীয়
দুঃখের প্রেতচ্ছায়ার সন্মুখে

যদিও তারা ছিল কাল কাল আগমন বার্তাবাহক
 যেকোনো এক বিকালে গলা ব্যথা আর ব্যথা আর গলা ব্যথা আর ব্যথা আর আর বদহজম নিয়ে
 একটা ছোট লাল দাগ --- অজানা পতঙ্গ

 শান্তভাবে আমরা বন্ধ করব
যতটা সম্ভব পারা
যা কিছু শুরু হয়েছিল আগে

২.
শীতের সূচনা

গাছেরা দাঁড়ালো সারিবদ্ধ
 বৃষ্টি হবে না
পাতাদের ভেতর হেমন্ত বাধিয়েছে বিদ্রোহ

উঁচু থেকে দেখলে পরিষ্কার যে ন'টা গাছ
তৈরি করেছে নতুন সবুজ আয়তক্ষেত্র
তাদের ছায়ার ভেতর ধরে রেখেছে এখনও
গ্রীষ্মের সুগন্ধ

 কিন্তু সেখানে শীতের দেবদূত
 দুটো বনপায়রা এসেছে
তাদের গোলাপি বুকের ওপর সাদা কন্ঠহার

সেখানেই কাটাবে যৌথ জীবন, এই পরিকল্পনা গ্রীষ্ম শেষে শীতের সূচনা

৩.
হালকা নীল পশ্চাদপটে স্বপ্ন

তোমার ভেতরে সিঁড়ি দিয়ে নেমে যাও
এবং নিভিয়ে দাও আলো

(আর যদি আলো না নেভাও
তুমি তবুও দেখবে কেবল অন্ধকার
আর তারপর গভীরতর ঘনতর অন্ধকার
ঠিক একটা ড্রাগনের গুহার মত)

আমি সেন্ট জর্জ মুক্ত করবো সর্বাঙ্গসুন্দরকে
 যাকে বন্দি রেখেছিলাম আমার পেটের ভেতর
 আমি একজন ড্রাগন

বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২০

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || গিয়র্গি গাভ্রিলভ-এর কবিতা

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা
রুদ্র কিংশুক
গিয়র্গি গাভ্রিলভ-এর কবিতা


গিয়র্গি গাভ্রিলভ (Georgi Gavrilov, 1991) বুলগেরিয়ার নতুন প্রজন্মের কবি-প্রতিনিধি। সোফিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি পদার্থবিদ্যার পাঠ নিয়েছেন। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
Paperboard Ship Diary 2015
Pieta 2016
The Blue Hours 2019
গাভ্রিলভ Scribens Publishing House -এর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর কবিতা স্প্যানিশ,অ্যারাবিক, টার্কিস এবং জার্মান ভাষায় অনূদিত। তাঁর কবিতা বেশ কয়েকটি জাতীয় পুরস্কারে পুরস্কৃত।

***
১.

প্রতিটি সেতুর নীচে
 তুমি লাফিয়ে পড়ো
জীবন থেকে অন্য কেউ
***
২.
বসন্ত

 একাকীত্ব
 তোমার নিজের কথা ভাবা

 যখন আমি মেঘের কথা ভাবি
আমি মেঘ হয়ে উঠি
আর নিজের কথা ভাবি আবার

এভাবে আমি চিরতরে নিঃসঙ্গ হই হই
কিন্তু এখন মেঘের মতো

***
৩.
শীতকাল

জীবন গলে যাওয়া বরফ
 এক দৈত্যের সর্বছোঁয়া হাতের উষ্ণতায়
এতটাই নীরব যখন বরফ পড়ছিল এবং ঢেকে দিচ্ছিল সবকিছু
আর দুর্গগুলোকে লাগছিল আরো বেশি দূর্গের মতো
হৃদয়কে আরো বেশি হৃদয়ের মতো

 আমার বলা উচিত নয়
সব কিছুর আছে অপেক্ষা
মাঠের প্রতিধ্বনিতে

জীবন বরফের গলে যাওয়া
 দৈত্যের হাতের উষ্ণতায়
কিন্তু তোমার কি মনে পড়ে বরফ পড়ছিল
 উঁচু হচ্ছিল আর আর খুব নীরব ছিল চারধার

 এত নীরব
যে কীভাবে আমরা দেখলাম না
 কিছু কথা না বলা থেকে গেছে
***
৪.
হেমন্ত

রেলপথ আর খবর কাগজের সময়
পাতার হলুদ বিষন্নতা
 সিগারেটের
জ্বলন্ত তামাকে

তোমার আত্মীয় আর আর পরিবারকে
 দূর থেকে শোনা
তাদের বুকের গর্জন
যেন হেমন্তের জন্ম সেখানেই

 বিষন্ন আনন্দে নিজেকে আশ্বস্ত করা
যে তাদের ক্ষেত্রেও একই
জীবন বড্ডো লম্বা
মনের মধ্যে সর্বদা একথা জেনে
কত ছোট সে জীবন জীবন

রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২০

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || মোনিকা হারসেগ-এর কবিতা

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক 
মোনিকা হারসেগ-এর কবিতা


মোনিকা হারসেগ (Monika Herceg, 1990) ক্রোয়েশিয়ার বিশিষ্ট তরুণ কবি। তাঁর জন্ম ক্রোয়েশিয়ার  সিসাগ শহরে।  ইউনিভার্সিটি অব  রিজেকা থেকে তিনি পদার্থবিদ্যা অধ্যয়ন করেছেন। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
Initial Coordinates 2018
Navrh Jezika 2019
বহু বিশিষ্ট পুরস্কারে পুরস্কৃত তাঁর কবিতাগ্রন্থগুলি। অনেক সময় গ্রন্থ প্রকাশের আগেই তাঁর পান্ডুলিপি পুরস্কৃত পুরস্কৃত হয়েছে। বর্তমানে তিনি ক্রোয়েশিয়ার জাগ্রেব শহরে থাকেন।

১.
বেড়ালের মৃত্যু

কয়েক সপ্তাহ ধরে উড়ন্ত প্লেন দেখে
 আমার ভাই বার করলো বেড়ালেরাও উড়তে পারে
সে তাদের ছুড়ে দিতো যতটা উঁচুতে সম্ভব
 আর মায়ের কাছে দৌড়ে গিয়ে চেঁচাতো
দ‍্যাখো, দ‍্যাখো, বেড়াল উড়ছে
বেড়ালরা সবসময় পায়ের ওপর  পড়তো
কেবল একবার বুড়ো মিকি পড়ল তলপেটে
 একটা গোঁজের ধারে

কয়েকদিন পরে
আমরা চৌকাঠে পৌঁছানোর আগে দেখি
 তার ধুসর-লোমনিস্তেজ শরীর
সমমর্যাদায় পড়ে আছে চৌকাঠে
তারই আনা মৃত ইঁদুরের মতো

২.
উর্বরতা

নিড়ানির যথাযথ আঘাত
 শস্যক্ষেত থেকে বার করে দেয় শীত
দিনগুলো পেকে ওঠে চেরিফলে
নারীরা বদলে যায় শক্ত ন‍্যাড়ায়

 মায়ের যত্ন বেড়ালের লম্বা কর্কশ জিভ
 লম্বা ভাব খোলে আর পরিষ্কার করে পোকামাকড়ের ময়লা
চেটে দেয় হারানো পশুর লোম থেকে
 লেগে থাকা উঠানে ঢোকা খারাপ অভ্যাস
তার হাত থেকে উৎসারিত বাঁধাকপি মুলোর চারা
মা তাদের পুনঃ রোপণ রোপণ করে বাড়ির গলায়
তার হাঁটু থেকে জন্ম নেয় সবুজতম সবজি
লোমের বদলে মায়ের শরীর ঝরনা ঢাকা

দুপুরের আগে মা শুয়ে পড়ে সর্বদাই
আকাশের নীলতয় হাড়ের সঙ্গে
সকালের আলো ভর্তি উদর নিয়ে
সকালকে ঢুকিয়ে নেয় তার জরায়ুর ভেতর
 আর জোড়া দেয়
উর্বরতার লম্বা গ্রীবা
ক্লান্তিকর গাছের ভেতর

বৃথা
আমাদের বাড়িতে
যেখানেই হোক না কেন
যারা মারা গেছে তারাও থাকে

বসন্ত কখনো ভেতরে ঢোকে না

শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০

গ্রিসের নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || এফটাইচিয়া পানায়িইওটু-র কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক 
এফটাইচিয়া পানায়িইওটু-র কবিতা

এফটাইচিয়া পানায়িইওটু ( Eftychia Panayiotou, 1980)-র জন্ম সাইপ্রাসে। তিনি একজন কবি, কপি-এডিটর, কবিতা-অনুবাদক, এবং পুস্তক সমালোচক। আথেন্সে তিনি দর্শনের পাঠ নিয়েছেন এবং লন্ডনে তিনি আধুনিক গ্রিক সাহিত্যের নিয়ে লেখাপড়া করেছেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ megas kipouros (2007) এবং দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ  Mavri Moralina (2010)। কবিতার জন্য তিনি একাধিক পুরুস্কারে  মনোনীত হয়েছেন। তার কবিতা ইংরেজি,জার্মান, ইটালিয়ান, স্প্যানিশ, ক্রোয়েশিয়ান প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত।  পানায়িইওটু  প্রখ্যাত আমেরিকান কবি   আন সেক্সটনের (Anne Sexton) লাভ পয়েমস-এর অনুবাদ করেছেন গ্রিক ভাষায়। এছাড়া অন্যান্য কয়েক জন আমেরিকান কবির যেমন কবিতাও অনুবাদ করেছেন গ্রিক ভাষায়।


১.
কঠিন যন্ত্রণা

আমি ছেড়ে যেতাম আরো ভালো আমি হয়ে ফিরবো বলে।
এখন আমি শুধু বদলে যাই, আর কোন পথ নেই। শব্দও পাল্টায়, বেনিয়মে,যেন আমরা বলছি ভিন্ন
 ভাষা --- একগুঁয়ে নিবেদন ভাষার কাছে -- যার
 জন্য আমি খুঁড়েছিলাম কিছুটা স্বস্তি পেতে।
 এখন আমি হয়ে উঠেছি অচেনা, আমি পিন বার করি, আমি এগিয়ে চলি
-- জঠর থেকে সর্বোচ্চ উচ্চতায়-- আর তুমি আগুন হয়ে যাও
এর অর্থ আছে, এই যন্ত্রনা, আমি আর বেশি বোধ করিনা।

 সময় কষ্ট পায়---আমি হয়ে উঠি
ভিজে কঠিন।

২.
মহান বাগানমালী
(মিলটসের জন্য)

এই সন্ধ্যায় আমার বাগানমালী  বকছে প্রলাপ।
সে মাটিতে বপন করে শব্দ,
মাটির নিচে শব্দের সমাধি দেয়।
শব্দকে দুঃখ দেয়, যাকে প্রথমে সে আঘাত করে
 তারপর বাঁধে নির্ভয়ে
 তাদের জন্য তার কোন দয়া নেই,

তারা কাঁদে, তারা  আঘাত ক‍রে, তারা চীৎকার করে, তারা অভিশাপ দেয়
---তারা শব্দ শেষ পর্যন্ত ---
কিন্তু সে তাদের নীরব করে।
 সে  আঘাতে রক্ত ঝ‍রায়।
 এই মানুষ আমার বাগানমালী নয়।

সে বপন করে মৃত্যু
আমি বপন করি  মৃত্যু
আমিহইমৃত্যু।

শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০

গ্রিসের নতুন চিন্তা-চেতনার কবিতা || রুদ্র কিংশুক || থানোস গোগোস- এর কবিতা

গ্রিসের নতুন চিন্তা-চেতনার কবিতা 
রুদ্র কিংশুক 
থানোস গোগোস- এর কবিতা


থানোস গোগোস (Thanos Gogos, 1985)-এর জন্ম গ্রিসের লারিসা শহরে।  তিনি Thraka নামক একটি সাহিত্যপত্রিকা ও প্রকাশনার প্রতিষ্ঠাতা। এ পর্যন্ত প্রকাশিত তাঁর দুইটি কবিতাগ্রন্থ ফেয়ার প্লে গ্রাউন্ড দুইটি কবিতাগ্রন্থ ফেয়ার প্লে গ্রাউন্ড কবিতাগ্রন্থ ফেয়ার প্লে গ্রাউন্ড (২০১৩) এবং গ্লাসগো (২০1৪)। তাঁর কবিতা ক্রোয়েশিয়ান ইংরেজি রুশ এবং স্লোভেনিয়ান ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

১.
আনুপূঙ্খিক তবুও অস্মরণীয়

ঈশ্বর
যোনি-ছাপ

নরম
নীল
শব্দ

 যখন তিনি ভেলকিতে তৈরি করেন
রাতের ভেতর
লোহা

ঈশ্বর
মুখোশপরা
 প্রতিশোধকারী

ভালোবাসা ও তোমার যুক্তিহীনতা
"কাঠঠোকরার থেকে মুক্তি"

তিনি
প্রচলিতমত বিরুদ্ধ

আমার চিরস্থায়ী অ্যালুমিনিয়াম দাঁত

লিঙ্গবোধহীন

যখন তারা উলঙ্গ সময়কে কাটাছেঁড়া করে
আর তুমি বেপরোয়াভাবে তাকে আঁকড়ে ধরো

 ঈশ্বর থাকেন
আত্মরোপিত

উৎপাদনের সম্পূর্ণ পরীক্ষায় প্রস্তুত প্রস্তুত

২.
কবিতা ১

কঠিনতম বুক
ছোট্ট ফুল থেকে নির্মিত
যা কিছুই তুমি এখন ভাঙো তার উপর তার উপর
সে ছড়াবে
কেবল
বরফ

৩.
কবিতা ২

আমাদের এখন এত বেশি বেশি বলার আছে
আমরা পাথর ধরে আছি

আর আমরা ভিড়ের ভেতর গাড়ি চালাই
 হারানো রাস্তা, তুমি চালাকি করো

যা কিছু এখন আছে তুমি তার সব
 তুমি ধরো আমি বলি আমি ছুঁড়ি আমি হাসি

আর আমি হেসেই চলি
যদিও তুমি অন্য জায়গায় চলে যাও

৪.
কবিতা ৩
তুমি এক হাতে ধরেছিলে ছিলে ছিলে ধরেছিলে ছিলে ছিলে ছোট্ট মেয়েটিক
 অন্যহাতে আমাকে

 আর আমি ধরেছিলাম
গাছপালা
জলাশয়
 পশুপাখি

 সারাটা শীত ধরে শীত ধরে

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২০

গ্রিসের নতুন চিন্তাচেতনার কবিতা || রুদ্র কিংশুক || পারভিনা মারভিন-এর কবিতা

গ্রিসের নতুন চিন্তাচেতনার কবিতা
রুদ্র  কিংশুক
পারভিনা মারভিন-এর কবিতা


পারভিনা মারভিন (Parvina Marvin, 1987) জন্ম গ্রিসের আথেন্সে। এবং তাঁর বড় হয়ে ওঠা সাইরস দ্বীপে অবস্থিত এরমৌপোলিশ শহরে। তিনি  প্রথমে ইতিহাস বিষয়ে লেখাপড়া করলেও পরবর্তীকালে টাকিস সিনোপোলুস ফাউন্ডেশনের অধীনে কবিতা নিয়ে লেখাপড়া করেন এবং পরবর্তীকালে কবিতায় হয়ে ওঠে তাঁর জীবন। তাঁর কবিতা, থিয়েটার সংক্রান্ত লেখালেখি এবং শিশুসাহিত্য অনলাইন অনলাইন অনলাইন এবং প্রিন্ট ম্যাগাজিনে বহুল পরিমাণে প্রকাশিত। প্রথমদিকে তাঁর কবিতা সেভাবে গুরুত্ব না পেলেও ধীরে ধীরে পাঠকমহলে পাঠকমহলে তাঁর কবিতা গৃহীত হয়। তার  ব্লগ Teflon-এর মধ্য দিয়ে তিনি বিস্তীর্ণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেন তাঁর কবিতা।

১.
আগাছা

সমস্ত আগাছা তুলে ফেলা আমার উচিত ছিল না না--
 একটা গোড়া আর পড়ে নেই।
এখন, এই বঞ্চনার ঋতুতে,
 দ‍্যাখো কী পড়ে থাকে:
আমাদের খালি মাঠ
আর মাঝখানে আমি, জাহাজডোবা
আরাধ্য জন
জীবন-মৃত্যু কারবারি পাখি,
 রক্তস্নাত উকুন,
 আর চারপাশে ছড়ানো শস্যের স্মৃতি।

২.
পুরোপুরি ব্যার্ত‍্য

 আমাদের সন্তান সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত, অপরাধ নিয়েছিল
আর, গর্ভপাতের কিছুটা আগেই, রহস্যজনক মিসক্যারেজ।
 দ্ব্যর্থহীন আত্মহনন। কি পরিহাস!
 আমাদের অনন্য জীব
এখন অনন্য ছোট্ট কীট
 হাসপাতাল বর্জ্যের ভেতরে।
 আমি দুঃখিত নই।
তোমার  কী ,প্রিয় ?
এসো বুঝে নাও চোখের জল।
 আমি যদি তাকে হাতের উপর নিয়ে তোমাকে দেখাতাম, মুখ ফেরাতে।
 যাইহোক তুমি কী ভেবেছিলে এ নিয়ে?
ঠিক আর একটা ছোট্ট মৃত্যু, মর্যাদাহীন নয়, কারণ
 কোন পারলৌকিক ক্রিয়া ছিল না।

বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০

গ্রিসের নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || ইলিনা পেনগা-র কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা
রুদ্র কিংশুক
ইলিনা পেনগা-র কবিতা


ইলিনা পেনগা (Elena Penga, 1964) গ্রিসের এই সময়ের উল্লেখযোগ্য কবি-নাট্টকার। তাঁর জন্ম গ্রিসের থেসালোনিকিতে। থিয়েটার, দর্শন, চিত্রনাট‍্য-লিখন প্রভৃতি বিচিত্র বিষয় নিয়ে তিনি লেখাপড়া করেছেন। মূলত নাট্যকার হিসেবে খ্যাতি লাভ করলেও তিনি কবিতা লিখছেন নিয়মিত।

১.
দুঃস্বপ্নের গোলাপি

বৃষ্টি।এখানে। সেখানে। যেখানে তুমি গাইছো। প্রবল বৃষ্টি।বাড়িতে চেয়ারে বসে আছি।
 রাত।আমি চেয়ার ঘোরাচ্চি আর বৃষ্টি শুনছি। তুমি গাইছো। বৃষ্টি যথেষ্ট জোরে। শোনা যাচ্ছে। আমি শুনি। বৃষ্টি। আরেকজন এলো। গোলাপি ল্যাম্পশেড নিয়ে। পুরো নতুন। সে আলো নেভানো,  বাল্ব খুললো, সরালো কাল শেড, পরালো গোলাপিটা, আবার আলো জ্বাললো। আমারা গোলাপি আলো মেখে বসে আমরা গোলাপি আলো মেখে বসে থাকলাম, আর  আর সেট শেড নিয়ে কথা বললাম। ল্যাম্পশেড। আমি বেলকনির দরজা খুললাম। তুমি গাইছো। কিন্তু বৃষ্টির শব্দ আরও জোরে। বাড়িতে আসছে। ল্যাম্পশেডে লাগছে। আলোর ধাক্কা। বাস্তবের সঙ্গে সংঘর্ষ। প্রতিবেশীর উঠানের ঠিক চেরিগাছে ফল আসেনি বহু বছর। চারজন ঢুকলো লাঠি হাতে হাতে লাঠি হাতে ।  তারা প্রতিবেশীর উঠানে ঢুকলো বৃষ্টি নিয়ে । তারা এসেছে এ গাছগুলোকে সহবত শেখাতে এবং বলতে যে ফুল না ধরলে তারা তাদের কেটে ফেলবে। আমি লোকগুলোকে দেখলাম গাছ গুলো কে কে আঘাত করতে। আমি দেখলাম বৃষ্টিকে লোকগুলোকে আঘাত করতে।
২.

মাছ

ওর দিকে তাকাও।মাছেরা রং বদলায়। যখন পুরুষটা উত্তেজিত, তার রঙ কালো। মেয়েটাকে নিয়ে উপরতলায় উঠছে আর যেই তাদের যৌন খেলা শেষ সে আবার রুপোলি। তারা সংখ্যায় বহু এবং তারা খুবই উত্তেজিত। মনে হচ্ছে আলো মিটমিট করে জ্বলছে নিভছে।
                                                দেখবে তাদের? আমরা অনেক ওপরে। আমি কিছুই দেখতে পাইনি।
 তুমি কি জেলেদের দেখতে পাও? হ‍্যাঁ, আমি তাদের ঘৃণা করি ।
কেন?
 কারণ তারা মাছ ধরে ।তারা বন্ধুত্বপূর্ণ নয়।
 জেলেরা ত এমনই। যদি তোমাকে মাছ ধরতে
 নিয়ে যায় এবং অনেক মাছ পায়, তারা তোমাকে আবার নিয়ে যাবে।তখন তারা সর্বদাই তোমাকে নিয়ে যেতে চাইবে।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০

গ্রিসের নতুন কবিতা রুদ্র কিংশুক ইভা স্টেফানি-র কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক
ইভা স্টেফানি-র কবিতা


গ্রিক কবি, চিত্র-পরিচালক এবং চিত্রশিল্পী
ইভা স্টেফানি (Eva Stefani, 1964)-র  জন্ম আমেরিকায়।তাঁর পিতা-মাতা অবশ্য গ্রিক।  সিনেমা ও নৃবিজ্ঞান নিয়ে স্তেফানি পড়াশোনা করেছেন পারি, লন্ডন ও ন‍্যুইয়র্কে‌। তাঁর বিখ্যাত সিনেমাগুলি:
আথিনি ১৯৯৫
আক্রোপলিস, ২০০১,
দ্য বক্স  ২০০৪ প্রমুখ।

 টানা গদ‍্যে লেখা কবিতায় তিনি এনেছেন পশুপক্ষীর চিত্রকল্প । কিন্তু সেগুলো মানুষের নানান অনুভবের অভিব্যক্তির চিহ্নায়ন বা চিহ্নকল্প।

১.
নববর্ষের পূর্ব সন্ধ্যা

নতুন বছর আর কেক নেই। দোকানপাট বন্ধ।। আমি দিলাম আমার বাম স্তন হালকা মিষ্টি রুটি হিসেবে। আমার বাবা ছুরি দিয়ে কাটলেন।খ্রিষ্টের জন্য এক টুকরো,, গরিবদের জন্য এক টুকরো, বাড়ির জন্য একটুকরো। বাবা-মা-বোন। নতুন বছর সবার খুব ভালো হোক।

২.
 পরিবার

 আমরা সবাই একসঙ্গে রান্না ঘরে ঘুমাই যাতে আমরা টিভি দেখতে পাই। আমরা একে অপরের ওপড়ে শুই। প্রথমে বাবা উপুড় হয়ে। মা বাবার পিঠে। তাদের মাঝখানে এক ভাই।
যমজ দু'জন ওপরে । এবং অন্তিমে সবার ওপরে কন্যা মুখ নামিয়ে। আমাদের কম্বলের দরকার হয়না কারন আমরা পরস্পরকে উষ্ণ রাখি। আর আত্মীয়রাও হেঁটে যায় এই বিছানায় যদি তারা নিয়ে আসে তাদের নিজস্ব রিমোট কন্ট্রোল ।
৩.
আমি হারিয়েছিলাম আমার বুটজুতো এবং ঘরে আটকে থাকলাম কারণ খালি পায়ে আমি কোথায় যাব? যখন ভোর হলো আমি দেখলাম আমার পিঠে সবুজ কুঁজ। আয়নায় দেখলাম একটা পিস্তা গাছ আমার দুই কাঁধের মধ্যে গজিয়ে উঠেছে। গাছের নিচে মায়েরা এবং ছেলেমেয়েরা ছায়ার উপভোগে এদিকে ওদিকে শুয়ে আছে।

৪.
গভীরতা

আমার পেটে একটা ওজন আছে। আমি তাদের অপারেট করতে বলি। খননে সাহায্য করতে আমি ধরে ছুরি-কাঁচি। প্রথমে একটু বালি আর সাদা নুড়ি‌। আমি আরো গভীরে যাই আর একটা নরম দলায় ধাক্কা খাই।  সমুদ্র আগাছার ঢিপি। আমি খুজে চলি কিন্তু ছুরি-কাঁচি বৃথা নড়ে চলে। সব সারল? আমার সন্দেহ। আমি যন্ত্রপাতি ছুড়ে ফেলি এবং দগ্ধ শরীরে হাত চালাই। কিছু একটা খুঁজে পাই। একটা বিশাল শিকল। আমি টেনে বার করি। শেষ সব যন্ত্রণার কারণ। আমার বাবার পুরানো ঘড়ি।

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...