Umapada Kar লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Umapada Kar লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল, ২০২২

গড়পরতা গোধূলিবেলা- ২ ।। উমাপদ কর,Umapada Kar

গড়পরতা গোধূলিবেলা- ২

উমাপদ কর



তরঙ্গময়। অঙ্গ। প্রতিটি। প্রতিটির প্রতিটি। কত ফ্রিকোয়েন্সি! কত রকমের কাঁপন। ডুবে থাকা শরীর স্পর্শ পায়। কোথাও তুমুল লাগে। কোথাও তলানি। কোনো এক অজানা তরঙ্গস্পর্শ বাকি থেকে যায়

এত শূন্য পেরিয়ে আলো এসে পড়ে কাঁসার থালায়। কত শূন্যসরোবর থেকে অন্ধকার এসে পড়ে চোখের চাদরে। আলোপিপাসা অন্ধকারে জলপান। গলার শুকনো থেকে তরঙ্গ অভিসারে। কথাহীন আমার শরীরে প্রাণ আছে কি নেই দেখতে চায় স্টেথোস্কোপ। সব তরঙ্গখেল ধরা পড়ে; শুধু জানে না, কেন এই কাঠপিপাসা! প্রেসক্রিপশন শূন্য

পুকুরঘাটে তরঙ্গ আসে, মাছ আসে। ঢাকনাখোলা ডোবা হাঁড়ি থেকে ভাত খেয়ে যায়। তরঙ্গ ফেরে, মাছ ফেরে কেন্দ্রে। হাতের ঢিল সেই কেন্দ্রে তরঙ্গ তোলে। কেন্দ্র ভাঙে, অঙ্গ ভাঙে। প্রতিটির প্রতিটি ভাঙে। তারও প্রতিটি। যেন ভাঙতে ভাঙতে অসীম তরঙ্গের একটা ঝাঁকি লেগে থাকে অতল ডুবে থাকায় 

০২-১২-২১


সোমবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২২

গড়পরতা গোধূলিবেলা ।। উমাপদ কর ।। আজকের কবিতা, Umapada Kar

গড়পরতা গোধূলিবেলা

উমাপদ কর



ঘন-কে আহ্লাদে গলিয়ে গালে মাখি। শীত এসে গেল। ঠাণ্ডা-কে তোয়াজে ঘষে গরম করি। জলের কাকস্নান দেখে গায়ে কাঁপুনি। চন্দ্রমল্লিকার কুসুমগুটি কতদিন একইরকম স্থির। আহা শীত… 

নিবু আঁচে জীবনের ওপর-ওপর সর হয়ে এল। ভেতরে যেতে চায় মাছিদল। ওদের হুল নেই; শুধু  থেকে থেকে ঘুর-ঘুর। কলালাপের আশায় থেকে তরল ঠাণ্ডা হয়ে আসে। একটা গুঞ্জন সে শুনেছে। অদূরেই কি ফুলকীট মধুছাতা খুলেছে! ওহো শীত…

ভোগ করতে করতে উপ ক্ষয় হয়ে গেছে যাপনে। উপ শমে আর জোড়ে না। হা-হা নিয়ে হাহাকার গড়ে তোলে প্রাচীর প্রাকার। বদ্ধতা মুক্তির গান গাইতে গাইতে গলায় কর্কট বসায়। শীত ঘন হতে থাকে। বড়ো আগুনের গোল্লাছুট থেকে ছুটি নিয়ে কবেই ঢুকে গেছি সরের ছায়ায়। হি-হি শীত…

শীতের প্রাসাদে মাঝেমাঝে কেউ পোড়ানো ভুট্টা বেচতে আসে। তাদের পায়ের শব্দ বড়ো চেনা। শীত ফুরোয়, নটে গাছ মুড়োয় না। আবার পাতাপল্লবে ছাতাও হয় না। চন্দ্রমল্লিকা ফোটার ডেট কখন যে এক্সপায়ারড হয়ে যায়। হে-হে শীত হে!

০১-১২-২১


শুক্রবার, ৮ অক্টোবর, ২০২১

উমাপদ কর ।। কবিতা

ডোবা-ভাসা জলপিপি

উমাপদ কর



দু-দিকেই কাটে

       দু-পাশেই রক্তে্‌র ছানা

ঘাসে, মাসে, সুতোয়

       এমনকি চল-চল জলজীবনে

ফিনকি, মগ্নতা থেকে

       কোলাহল থেকে ঘামতেল

             প্লাজমা প্লাজমা…


কাটে, ছানা্র বুদ্‌বুদ্‌ 

      কাটে, ফিনকি ঘোড়ার শফ

             ধুলো ধ্বনি উড়তে উড়তে 

                 কিছুটা সময় গিলে ফেলে…


কাটা থেকে রক্ত নয়, ঝরে পড়ে বেদানার রস

          হুররে বলে যাকে নিলামে তুলে দেওয়া যায় না





ভাসলে, ডুবে যাওয়ার ভয়কে নিয়ে দাবা খেলে খচ্চর

        মুখে কাপড় সেঁটে গাধা

              চাইছে আস্তাবলের ঘোড়াদের ধাড়াক্কা


কলম কি আরও নেবে দায়ভার বন্ধকির

         কী দিয়েছ? একটা বোতামে টিপ। হুররে…

                  ফেরাতে গেলে দাবার ঘুঁটি

             চালতে চালতে হাতের কালি চামড়া সমেত উধাও

     নাঙ্গা রাজাকে রাজা, আর ডানপাশে বসা নুড-কুইনকে

                 কুইন ভাবতে ভাবতে চালখারাবি

                           বোড়ে কোথায়, বোড়ে!


ডুবলে ভাসার কথা ভাবা যেতেই পারে, ঘোড়া

              টগবগটাকে ঝালিয়ে নেওয়ার এই তো মোসম

      গাধা সংগমে খচ্চর অনেক তো হলো কেশর ঝলকে

               দৌড়ে যা আস্তাবলে, রাজার কাপড়

                     আর কুইনের তাজ ধরে দে টান

                         খসে পড়ুক, পড়ুক কাদায়, তোর পেচ্ছাপে





খুঁড়িয়ে চলা রাস্তা

      সেফটিপিন লাগানো চপ্পলে পা গলিয়েছে

  ইস্‌! বললে হেসে ওঠে রক,

             ধোঁয়া, গাঁজা-সিগারেট 

 

ঘোড়ার নাল পড়ে আছে এবড়োখেবড়োয়

       এক্কাগাড়ি কোমায় গেছে বহুদিন

  হাসপাতাল দূর থেকে আরও দূরের দিকে

          দিগন্ত যেখান স্ট্রেচারের ভাঙা পা নিয়ে বেঁকেছে


হা-ডু-ডু খেলা বালিকার উনযোনি যোনি হবে

         চুন-তামাক তেলোয় ঘষে মুখে পুরে দেওয়া লুঙ্গি

    হাসি-খিল্লিতে এবারে ঠিক করে দেবে

               বুক-কুঁড়ি আর রতিগৃহের আকার, শ্বাসরোধ


তাসপেটানো অ্যাম্বুলেন্স ওই এলো এলো

                  কেঁদো না বস্তি, কেঁদো না ছাপড়ার পুঁইডগা

   কুঁজোর পিঠে চেপে খোলসে ঢুকে যাবে অচৈতন্য

                  কালো চাপকানে রামনাম লেখা…


পুড়তে চাইছে মোমগুলোতে যে হাত

         মাচিস ধরাবে

      নুলো পা তাকে আর কতদূর নিয়ে যাবে!


সেই তো জলকে জল বলি, আগুনকে বলি পোড়াও, পুড়তে পুড়তে…







জ্বালানির দিকে তাকিয়ে দেখি বেশি আর নেই

         ফুঁ দিলে শুধুই ধোঁয়া 

              অলস চাল ভাত হবে তো!


চোঙায় বারুদঠাসা শিশিরে ভিজে কেলিয়েছে

         শলাইয়ের হরিণ স্থির 

              গোটা দিনের রোদ তাকে ছোটাবে কি!


পোকারা বেরিয়ে আসছে লাখে লাখে

         হাইতোলা রেখে পতাকা ধরেছে হাতে

               জাঠায় যেতে যেতে কী স্লোগান কী স্লোগান!


অসিদ্ধ চালের দিকে একটা চোখ রেখে বাকিটা ওদের দিকে

         উচ্চারণে মিলুক না-মিলুক পোকাদের পায়ে পায়ে

               ভাত পর্যন্ত জ্বালানির কাজ হয়তো সারবে অশুদ্ধ উচ্চারণ, প্রমিস!

         প্রমিস।




Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...