বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মহালয়ার নস্টালজিয়া ১৬ || পৃৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

 নস্টালজিয়া ১৬

পৃথা চট্টোপাধ্যায় 



আমার ছোটবেলার মহালয়া আর এখনকার মহালয়ার মধ্যে পার্থক্য যত দিন যাচ্ছে তত বেশি করে চোখে পড়ছে। তখন মহালয়ার আগের রাত্রে ঘুমোতে যাওয়ার সময় ভোরবেলার  সুর কানে বাজত। কী এক অপূর্ব অনুরণন  ছিল  আমাদের মনে এই মহালয়াকে ঘিরে এখনকার ছোটরা তা বুঝতেও পারবে না। আমরা আকাশবাণী থেকে সম্প্রচারিত মহালয়া অনুষ্ঠানটি এই বিশেষ দিনটির ভোরবেলাতেই একমাত্র শুনতে পেতাম। এখনকার মত যখন তখন যত্রতত্র মহালয়ার রেকর্ডিং শোনা যেত না,  তাই তার গুরুত্ব ও মর্যাদা ছিল অনেক বেশি।  এখন সব কিছুকেই অযথা অকারণ ব্যবহার করে খেলো করে দেওয়া হয়।  মহালয়া হলো  দেবীপক্ষের পবিত্র সূচনা। দেবীর আগমনের বার্তা  সেদিন আকাশে বাতাসে ধ্বনিত  হয়। আমার ছোটবেলার সেই মহালয়া শোনা ছিল প্রকৃতই এক ঊষা লগ্নের উৎসব। মহালয়ার পুণ্য প্রভাত হিরের কণার মত বিচ্ছুরিত হত  উদাত্ত কন্ঠে দেবী চন্ডীকার মঙ্গল স্তোত্রের  উচ্চারণে , ভোরের ঝরে পড়া শিউলির কোমল 

সুগন্ধে , ঘাসের শিশির কণায়। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে আমরা মহালয়া শোনার জন্য প্রস্তুত হতাম।মহালয়া শুরু হওয়ার আগেই আমাদের প্রাতঃকৃত্য করে নিতে হতো। আমাদের  বাড়িতে  সাদা রঙের বুশ কোম্পানির বেশ বড়সড় রেডিও ছিল। সেইটিকে ঘিরে  মহালয়ার ভোরে ভক্তিভরে আমরা বসতাম। মা আবার স্নান করে শুনত। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের সেই অপূর্ব স্তোত্রপাঠে শিহরিত হত প্রতিটি রোমকূপ। মানসচক্ষে প্রত্যক্ষ করতাম সেই অসুর বিনাশিনী দশপ্রহরণধারিণী দেবীকে। তখন আমার দুর্গা আরও অনেক বেশি কল্পনার রঙে রঞ্জিত ছিল।  মা, ঠাকুমা মহালয়া শোনার পর বলত দুগ্গা ঐশ্বর্যরূপিণী হলেও  এই উমা তো আমাদের ঘরের মেয়ে বৎসারান্তে বাপের বাড়িতে আসছে।তাই জগৎ জুড়ে  এতো আনন্দ।  বড় হয়ে শাক্ত পদাবলীর আগমনী ও বিজয়ার কবিতাগুলি পড়ার সময় মা ঠাকুমার উমা সম্পর্কিত কথাগুলো বারবার মনে পড়তো। মহালয়া শেষ হবার পরও সেই সব গানের সুর কানে বাজত,  মনে থেকে যেত রেশ। মহালয়া হলেই শরতের রোদ্দুরের রং,  বাতাসে হিমেল পরশ অনুভব করতাম। বাবা গঙ্গায় যেত তর্পণ করতে,  পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে জলদান করা হয়ে থাকে এই দিনে।  অনেক সময় বাবা মায়ের সঙ্গে আমরা পুজোর বাজার করতেও  যেতাম। মহালয়ার সকালে শিউলির সুঘ্রাণ যেন আরো বেশি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ত, আকাশটাকে যেন আরও বেশি নীল বলে  মনে হতো। আমাদের বাড়ির উঠোন আলো করে ফুটে থাকত জবা, করবী, শিউলি,  অতসী,  অপরাজিতা। মহালয়ার সকালে  মন্দিরে যেতাম প্রতিমা  কতটা তৈরি হয়েছে দেখতে!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আশ্চর্য সহবাস || শ্রাবণী গুপ্ত || কবিতা

আশ্চর্য সহবাস শ্রাবণী গুপ্ত একটা গোটা জীবন আমরা গাছের বেড়ে ওঠা দেখলাম জাফরীর মতো আলো-ছায়া এসে পড়ল আমাদের গায়ে, হৃদয়ে তবু ঘৃণা করতে গিয়ে আম...