অসমিয়া কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অসমিয়া কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫

মায়ের স্কুলটা ।। প্রণয় ফুকন ।। মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ বাসুদেব দাস , কবিতা, Pranay Phukan

মায়ের স্কুলটা

প্রণয় ফুকন 

মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ বাসুদেব দাস 



হঠাৎ জানি কী হল সেদিন!

প্রয়াত মা শিক্ষকতা করা 

গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দেখতে ইচ্ছা হল। 

হয়তো মায়ের সুবাস পাব কোথাও!

স্কুলটি তালা বন্ধ।

মরচে ধরা গেটের ওপারে 

পরিত্যক্ত সীমানায় গাছ লতা জঞ্জালের স্তূপ।

জানালা দিয়ে দেখলাম, 

মেঝেতে ভাঙ্গা-চোরা  ডেক্স বেঞ্চ চেয়ার টেবিল গুলি 

মায়ের বসা চেয়ারটা চিনতে পারলাম না।


গ্রামের মানুষকে জিজ্ঞাসা করলাম, 

–কী হয়েছে?

–কয়েক বছর হল 

ছেলে মেয়ে নেই 

স্কুলটা বন্ধ হয়ে গেছে। 

–গ্রামের ছেলে মেয়েরা কোথায় পড়ে? 

–শহরের ইংরেজি স্কুলে ।

–এত দূরে? 

–স্কুল ভ্যানে করে সকালে যায়, সন্ধ্যেবেলা ফিরে 

–মাঠে ফুটবল,নদীর তীরে দৌড়াদৌড়ি?

–সেই সব আজকাল আর নেই।


কোনোমতে চোখের জল সামলে

ফিরে আসতে লাগলাম। 

পেছন থেকে বিবর্ণ স্কুলটি বলতে লাগল,

‘দুঃখ করে লাভ নেই বাবা, কাঁদিস না।

তোরা নিজেরাই খুলে দিয়েছিস পশ্চিমের জানালা। 

বাতাসকে দোষ দিয়ে লাভ কি?’


থতমত খেয়ে গেলাম

এটাই তো সত্যি, আমরা একটি আত্মঘাতী জাতি। 

কোনো গ্লানি নেই, অনুতাপ নেই 

শিলাময় কঠিনতায়,

বিচ্ছিন্ন করেছি ভাষা, 

বিচ্ছিন্ন করেছি সংস্কৃতি। 


মনে পড়ল স্বর্গগামী মাকে।

আজীবন শিখিয়েছেন যিনি 

দুঃখিনী বর্ণমালা।

ক্ষমা কর মা,

আমরা তোমার ব্যর্থ অক্ষম সন্তান। 

আমরা হারিয়ে ফেলেছি আত্মসম্মান 

আমরা ক্ষমার অযোগ্য। 


আমাদের শক্তি দাও মা 

কোনো এক সর্বনাশ ঘটার আগেই 

আমরা ফিরিয়ে আনি আমাদের মর্যাদা 

আমাদের সন্তানের মুখে বন্দিত হোক 

তোমার মুখের ভাষা। 

আমাদের শক্তি দাও। 


(সত্য অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে)

বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৪

একগুচ্ছ অনুবাদ কবিতা ।। নীলিম কুমার মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ– বাসুদেব দাস, Nilim Kumar


একগুচ্ছ অনুবাদ কবিতা ।। নীলিম কুমার

 মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ– বাসুদেব দাস 



কবি পরিচিতি--সাম্প্রতিক অসমের অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বিতর্কিত কবি নীলিম কুমার ১৯৬১ সালে অসমের পাঠশালায় জন্মগ্রহণ করেন। পেশায় চিকিৎসক। প্রকাশিত গ্রন্থ ‘ অচিনার অসুখ’,’ স্বপ্নর রেলগাড়ি’,’ জোনাক ভাল পোয়া তিরোতাজনী’, নীলিম কুমারের শ্রেষ্ঠ কবিতা‘ ইত্যাদি। প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা ২৪।




কবিতা ।। মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ– বাসুদেব দাস

 


অতিথি


মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ -বাসুদেব দাস

কিছুই জিজ্ঞেস না করে আমার বুকের দরজা খুলে সে

ভেতরে প্রবেশ করল

এসেই আমার প্রেমের ফুলদানিটা

ভেঙ্গে ফেলল

কোথাকার আপদ একটা

সকালেই চলে এসেছিল

খাওয়ালাম

দাওয়ালাম

বিকেল হল

অতিথি তো যায় না

রাত হল

অতিথি আমার বিছানায় গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে পড়ল

মধ্যরাতে আমার হাতে বুক থেকে একটা পুঁটলি বের করে দিয়ে

হঠাৎ সে যাবার জন্য প্রস্তুত হল

রাতের রেলে যাবে

পুঁটলিটা খুলে দেখে

দেখলাম আমার প্রেমের ফুলদানিটার মতো

ভেঙ্গে আছে তাঁর হৃদয়

কোথাকার অতিথি এসেছিল

রাতের রেলে সে কোথয় বা চলে গেল

 

 

নিরুদ্দেশের বিজ্ঞপ্তি


মানুষগুলি হারিয়ে যাচ্ছে।

তাই আজকাল মানুষগুলি ফোটো উঠে বেশি।

নিরুদ্দেশের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জুনুন নিজেই ফোটোগুলিতে

খুঁজে বেড়ায় নিজেকে। আমরা ফোটোগুলিতে

খুঁজে বেড়াই নিজেরই মুখটি এবং দেখতে পাই

অবিকল নিজের অপরিচিত মুখটা।

নিজের সেই অপরিচিত মুখটিকে আমি

ভালোবাসতে বাধ্য করাই নিজেকে।

না হলে আমার উপায় থাকেনা।

কারণ আমরা হারিয়েছি

আজকালকার ফোটোগুলিতে আমাদের সঙ্গে থাকে—

প্রিয়, অপ্রিয়, অর্ধপ্রিয়, অর্ধ শত্রু, অর্ধ মিত্র

বিশ্বাসী অবিশ্বাসী ভবিষ্যতের শত্রু হতে চলা প্রত্যেকেই।

—এই সবার মধ্যে নিজেকে দেখে করুনা জন্মায়।

কেননা সেই জন নিজের ভবিষ্যতের বিষয়ে

কোন আন্দাজ করতে পারেনা যে সেই জন হারিয়েছে।

 

যত ফোটো উঠেছে মানুষগুলি, ততই নিজেকে হারিয়েছে।

 

  

বাতাস এবং নারী


মূল অসমিয়া  বাংলা অনুবাদ‐ বাসুদেব দাস

প্রচন্ড গরম।

গোধূলি হয়েছিল কেবল,

হঠাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ চলে গেল।

দেখা গেল

আটমহলের বাড়িটির ছাদে

একজন মহিলা উঠে আসছে,

হাতে একটা পাখা!

আর কিছু ভাবতে ভাবতে

নিজেকে হাওয়া করতে থাকল

 

কিছুক্ষণ পরে

তাঁর ভাবনা

তাঁর হাতের মুঠি থেকে

পাখাটা নিচে ফেলে দিল

ঠিক এই মুহূর্ত পর্যন্ত

পথ চেয়েছিল বাতাস

বাতাস দৌড়ে এল

একটু অভিমান নিয়ে,

আর মহিলাটিকে বলল না যে

উদাস ভাবনাগুলি অপকারী।

কারণ বাতাস ভালোভাবেই জানে‐

নারী অবিহনে ভাবনাগুলি বেঁচে থাকে না

বাতাস মহিলাটির চুলগুলি

উড়াতে লাগল,

আর শাড়ির আঁচলটাও!

 

বাতাসের প্রতি কৃতজ্ঞতায়

মহিলাটির মুখে হাসি ফুটে উঠল

বাতাস বহুদিন দেখেনি

এরকম হাসি





এই শহরের সবচেয়ে

বুড়ো মানুষটি

প্রতিদিন বারান্দায় বসে অপেক্ষা করে থাকে খবরের কাগজটির জন্য

 

তার খবরের কাগজটি না পড়া পর্যন্ত যেন এই শহরে

সকালগুলি আসতেই পারে না।

 

খবরের কাগজটি  না পড়া পর্যন্ত

তাঁর গলা সকালের

এক কাপ চা ও গিলে না।

 

তাঁর পত্নী চায়ের কাপ নিয়ে

ঠিক তখনই উপস্থিত হয়

যখন তাঁর চোখ পড়তে শুরু করে

প্রথম পৃষ্ঠার শিরোনামগুলি

 

চায়ের কাপের সঙ্গে তিনি খবরের কাগজটি পড়ে শেষ করে

 

তারপরে তিনি

স্নান করতে যান

এবং

খবরের কাগজের সমস্ত অক্ষরগুলি ধুয়ে ফেলেন

 

তিনি খাওয়া চায়ের কাপটা ধুয়ে ফেলেন তাঁর

পত্নী।


প্রদীপ

 

জ্বলছিস হয়তো তুই 

পোড়ানোর জন্য আমার  বুকের  অন্ধকার?

তোর অর্ধেক জীবন গেল

 

একটুও অন্ধকার দূর হল না

জ্বলে জ্বলে এখন দেখছি

তুই শেষ হবি

নিজে  দেখছি ডুবে যাবি অন্ধকারে

 

কেবল ঈশ্বরই তোর খোঁজে আসবে

তিনি তো খুঁজে পাবেন না

এত অন্ধকারে তোর আত্মা

তোর খোঁজে পুনরায়

তোকেই জ্বালাবে ঈশ্বরও

ওহে অবোধ প্রদীপ

অন্ধকারও   দুঃখী

তোকে দেখে

কীভাবে বলি শুভ দীপাবলী???


 


রবিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৪

আকাশের বিরুদ্ধে ।। নীলিম কুমার ।। মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ- বাসুদেব দাস, Nilim Kumar

আকাশের বিরুদ্ধে

নীলিম কুমার



মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ- বাসুদেব দাস

আকাশকে কার ও ভ্রুক্ষেপ করতে হয় না।

আকাশ কীআকাশ একটি ছলনামাত্র।

একটি বিশাল নীল আকার ধারণ করেছে যে ছলনা।

আসলে শূন্যতার নাম আকাশ। খালি জায়গাগুলির 

নামই আকাশ। আলমারির থাকগুলিতে,

পথে পড়ে থাকা খালি বোতল গুলির ভেতরে ওটা আকাশ।

আমরা আসা-যাওয়া করা পথটিতেদরজামুখে,

জানালার মুখেঘরেঘরের কোণটিতেবিছানার নিচে

ওটা আকাশ। অথচ কেউ সেগুলিকে আকাশ বলে না।

আমাদের মাথার ওপরে শূন্যতা শূন্যতা শূন্যতা।

শূন্যতা সৃষ্টি করা নীল তাবুটাকেই আমরা আকাশ বলি।

কত মিথ্যা একটা দৃশ্যের নাম আকাশ। তথাপি

এরকম মনে হয় যেন আকাশ লালন করছে আমাদের পৃথিবী।

রোদের খুঁজি আমরা আকাশের দিকে তাকাইবৃষ্টির খোঁজে

আমরা আকাশের দিকে তাকাই। অথচ রোদ বৃষ্টির সঙ্গে

কোনো সম্পর্ক নাই আকাশের।

ক্লান্ত লাগলে আমরা আকাশের দিকে তাকাই। হেরে গেলে

আমরা আকাশের দিকে তাকাই। ঘুম না এলে

বিছানা ছেড়ে উঠে এসে আমরা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি।

যেন আকাশের কোন একটি তারা চুরি করেছে আমাদের ঘুম।

যেন আকাশ ফিরিয়ে দিতে পারে সেই ঘুম…

এভাবে অজস্র মিথ্যা কথার জন্ম দিয়েছে আকাশ আমাদের

খুলির অন্ধকারে। বারবার বিশৃংখল করেছে আমাদের ভাবনাকে। কত মিথ্যা একটি চিত্রাংকনের নাম আকাশ।

প্রায় প্রলাপ বলে বলতে পারি আমাদের কথাবার্তা কেযখন

আমরা বলি আমাদের মাথার ওপরের আকাশটির কথা…


সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শিক্ষক দিবসের কবিতা ।। শিক্ষক ।। নীলিম কুমার ।। মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ– বাসুদেব দাস

শিক্ষক

নীলিম কুমার

মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ– বাসুদেব দাস



সব শিক্ষকই মন্দিরে বাস করে

সব শিক্ষকই ছাত্রকে আঙ্গুলে ধরে পার

করায় রাস্তা,

আর প্রাতঃকালের ঘন্টা বাজায়

অ-আ শেখায়

ক-খ শেখায়

মুখস্থ করায় নামতা

শ্রুতলিপি দেয়, শুদ্ধ করায় বানান

যাতে আমরা ভুল না করি শুদ্ধ করে লিখতে নিজের নাম,

আর শুদ্ধ করে আমাদের সই করা

হাজিরা বই নতুবা চুক্তিপত্রে

তিনিই শেখান আমাদের

একের সঙ্গে এক যোগ দিলে দুই

দুই থেকে দুই বিয়োগ করলে শূন্য।

তিনিই শেখান আমাদের– শূন্যের কী অসীম মূল্য,

শূন্যের কী নিদারুণ হাহাকার।

তিনিই শেখান আমাদের

সারা জীবন যোগ- বিয়োগ করতে

শূন্যের হাত থেকে বাঁচতে!

সেই শিক্ষকই শেখান আমাদের

ভূগোলের ক্লাসে ম‍্যাপ আঁকতে,

আঁকাবাঁকা ম্যাপ থেকে দেশটাকে বাঁচাতে।

ইতিহাসের ক্লাসে তিনিই শেখান-

পুরোনোর সঙ্গে যোগ দিতে বর্তমান

বর্তমানের সঙ্গে যোগ দিতে ভবিষ্যৎ।

তিনিই রচনায় রচনা করতে শেখান - জীবনের লক্ষ্য,

পরীক্ষার খাতায় নম্বর পাওয়া নয়

স্থির করতে ভবিষ্যতের স্বপ্ন…

তাই শিক্ষক দেখলে সমস্ত ছাত্রই

সাইকেল থেকে নামে,

যেভাবে মন্দির দেখলে সমস্ত মানুষের

মাথা নত হয়ে আসে।

একদিন একজন শিক্ষক বলেছিলেন–

ওই পাহাড়টি দেখ, পাহাড় আমার সহকর্মী শিক্ষক।

একদিন সেই শিক্ষকটি বলেছিলেন-

ওই বৃষ্টির ঝাঁক দেখ, বৃষ্টি আমার সহকর্মী শিক্ষয়িত্রী।

একদিন সূর্যকে দেখিয়ে শিক্ষক বলেছিলেন–

সূর্য আমার সহকর্মী শিক্ষক,

চাঁদ আমার সহকর্মী শিক্ষয়িত্রী।

আর আকাশকে দেখিয়ে বলেছিলেন–

এই আকাশ তোমাদের ব্ল‍্যাকবোর্ড…

সেদিন বুঝেছিলাম

কোনো শিক্ষকই বাস করে না মন্দিরে,

সব শিক্ষকই মানুষ ।

কেবল তাঁর দৃষ্টি অনন্য,

যে দৃষ্টি মানুষকে আঙ্গুলে ধরে

পার হতে শেখায় জীবনের কন্টকাকীর্ণ পথ…

যে আমাদের শেখায় জীবনের এই ধরনের কঠিন মন্ত্র,

সেই শিক্ষকের কাছে আমি মাথা নত করছি

সেই শিক্ষকের কাছে আমি মাথা নত করছি!


মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২১

কল্যাণ ভূঞা ।। অনুবাদ কবিতা ।। অসমিয়া সাহিত্য, Kalyan Bhuniya,

কল্যাণ ভূঞা 

অনুবাদ কবিতা ।। অসমিয়া সাহিত্য

অনুবাদ- বাসুদেব দাস 




কবি পরিচয়-১৯৭৫ সনে কবি কল্যাণ ভূঞার জন্ম হয়।ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক কল্যাণ একজন গল্পকারও।কাব্য সঙ্কলন ‘গরু আরূ অন্যান্য কবিতা’২০২০ সনে গুয়াহাটির পাঞ্চজন্য থেকে প্রকাশিত হয়।প্রকল্প রঞ্জন ভাগবতীর সঙ্গে যুক্তভাবে সম্পাদনা করা গ্রন্থ ‘কভিদ সময়র কবিতা’এবং ‘কভিদ সময়র গল্প’(প্রকাশের পথে)।‘নিকলাছ কপারনিকাছ’বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশন বিভাগ প্রকাশ করেছে।


ক‍্যারম

মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ– বাসুদেব দাস


যদিও বন্ধনহীন গরু আর ক‍্যারমের গুটিগুলির রং একই 

ক‍্যারম  খেলা মানুষগুলি কিন্তু রাখাল বা কৃষক নয়

একটিমাত্র শক্তিহীন আঙ্গুলের ইশারায় নাচতে থাকে ক‍্যারম নামের খেলা

ক‍্যারমে সহজেই মশগুল হয়ে পড়া যায়, ভুলে থাকা যায় দায়িত্ববোধ

ক‍্যারম খেলার জন্য গায়ে ফুটবল খেলার শক্তির প্রয়োজন নেই

একটি আংগুল এবং দুটি চোখের সামান্য বোঝাপড়ায়

মধ্যম বুদ্ধিবৃত্তিতে আপনি ক‍্যারম খেলতে পারেন

ক‍্যারমের আকাশটা সীমিত চৌরাস্তার চকটির একটি ড্রামের ওপরে 


অবশ্য একটা দিক থেকে ক‍্যারম  এক ধরনের দুর্দান্ত খেলা 

চারটি মাত্র অগভীর গর্তে গুটিগুলি গিলে ফেলার মতোই

ক‍্যারম গিলে ফেলতে পারে আপনার পরিবার, আপনার ঘর

আপনার বাগান এবং আপনার সঙ্গে আপনার প্রশ্ন কর্তা মনটা

আপনার কর্মঠ হাত, আর আপনার পরিভ্রমী পা

আপনার চারপাশে মশগুল হয়ে থাকা মানুষগুলি অথবা

চৌরাস্তার চকটার সঙ্গে স্থান এবং কালের পরিসীমা 

–----

টীকা-

চক-চারটি রাস্তার সংযোগস্থল।


চেয়ারটা


মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ– বাসুদেব দাস


কতদিনেরই বা আগের কথা– মনে আছে

নতুন চেয়ার আনার দিন 

বাড়িতে একটা অসময়ের উৎসব সৃষ্টি হয়

চেয়ারটা পুরোনো হয় এবং যাত্রাপথে

চেয়ারটা স্মৃতিতে ভাগ বসায়

প্রপিতামহের হেলান দেওয়া আরাম কেদারা

পড়ার টেবিলের প্রথম দিনের চেয়ার

প্রতিটি চেয়ারেরই নিজস্ব পরিচয় থাকে


চেয়ার থেকে কিছু একান্ত নিজস্ব সময়

কেবল কয়েক ঘন্টার জন্য আপনি কিনে নিতে পারেন

নতুন পরিচয় যদিও তেমন একটি চেয়ার আপনার সঙ্গে একাত্ম হয়ে পড়ে

আপনি হাসলে হাসে, আপনি কাঁদলে কাঁদে

আপনার দুঃখের অন্তহীন বোঝা ভাগ করে নেয় আপনার সঙ্গে

আপনার সামান্য আনন্দে চেয়ারটা মেঘ হয়ে উড়ে

কিনে নিয়েছেন যদিও এই আত্মীয়তার আপনি কোনো মূল্য দিতে পারেন না


চেয়ারটা যে আমরা বসার জন্যই

একথা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই

চেয়ারটাকে আমাদের মাথায় বসতে দেবেন না

চেয়ারটা মাথায় উঠলেই যত অশান্তির সৃষ্টি হয়

চেয়ারকে নিয়ে খেলার আয়োজন করা হয়, চেয়ারের খেলায় চেয়ার যায়

চেয়ার খেলায় প্রাণও যায়, চেয়ার গড়ে, চেয়ার ভাঙে

ঘুণেধরা মন চেয়ারের সঙ্গে একাকার হয়ে পড়ে

বসার মানুষ না থাকলে চেয়ারের কী মূল্য থাকে

চেয়ারের মূল্যবোঝা মানুষ সেই জন্যই চেয়ারটাকে মাথায় তুলে নেয় না

,

একটি ঝরাপাতা


মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ– বাসুদেব দাস


নিরুদ্বেগ নীরবতায়  খসে পড়ে একটি পাতা

খসে পড়াটাই নাকি পাতার নিয়ম

শীত,গ্রীষ্ম, জরা কাতর করা একটি পাতা


খসে পড়া সেই পাতাটা হারিয়ে যায় আমার দৃষ্টির ধূসরতায়

আর আমার বুক জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এক অনিরুদ্ধ হাহাকার

যা খসে পড়বে একদিন, স্মৃতিকাতর হয় তেমন একটি পাতা


রাজা হুকুম দিয়েছে


মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ– বাসুদেব দাস


রাজা হুকুম দিয়েছে, এদিম ছেদিম বাই

কী হুকুম দিয়েছে, এদিম ছেদিম বাই


রাজা ইচ্ছা হলেই হুকুম দিতে পারে

রাজা বলে কথা, হুকুম দেবার আগে

রাজসভায় রাজা একটি নাটকও করে

ঘোড়া কিনে, ঘোড়া বেচে

ছেড়ে দেয় অশ্বমেধ যজ্ঞের ঘোড়া


প্রজার কাছে রাজার ঘোড়া

বয়ে নিয়ে যায় রাজার হুকুম

– শোনো, শোনো সর্বজন! রাজার হুকুম


কী হুকুম দিয়েছে, কেন হুকুম দিয়েছে

সেই প্রশ্নগুলি রাজাকে জিজ্ঞেস করার অধিকার নেই প্রজার

প্রজা কেবল প্রশ্নগুলি নিয়ে খেলতে পারে

একে অপরকে জিজ্ঞেস করতে পারে প্রশ্নগুলি

করতে পারে যুদ্ধের আখড়া , কথার

 কথা মরে, কথা বাঁচে

কাটা যাওয়া কথা, পুরস্কার পাওয়া কথা


আপনিও কথা না বলে থাকতে পারেন না

কথা না বলে থাকাটাই অপ্রাকৃতিক কথা

কথা বলে না কেবল প্রাণহীন শরীর

অথবা ঘুমিয়ে থাকার ভান করা মানুষ


আপনাকে কথা বলতেই হবে

বলার মতো আপনার বহু কথা আছে, বলুন

জ্যোৎস্নালোকিত রাজপ্রাসাদে থাকা রাজার কান ঝালাপালা হয়ে যাক

কথা বাঁচালে বাঁচাক, কথা মারলে মারুক


গান্ধী- পাঠ

মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ- বাসুদেব দাস


হয়তো এভাবেই একদিন শুরু হয় গণতন্ত্রের

রাজপথে নিথর হয়ে পড়ে থাকে একটি গল্প

হে রাম, ছটফট দেহ, রক্তে মাখামাখি


সমস্ত গল্পের একাধিক ব্যাখ্যা থাকে

প্রতিটি ব্যাখ্যারই থাকে নিজস্ব ইতিহাস

ইতিহাস ভুলে গল্পটা স্বাধীন হয়ে উঠতে পারে না


নিথর গল্পটি আমাদের জিজ্ঞেস করতে চায় অস্বস্তিকর সেই প্রশ্নগুলি

আমরা স্বাধীন হতে চাই যার কাছ থেকে

অথচ কত অর্থহীন   এই স্বাধীনতা




মঙ্গলবার, ৯ নভেম্বর, ২০২১

অসমিয়া কবিতা ।। নীলিম কুমার- এর কবিতা ।। মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ--বাসুদেব দাস, Translated Poems,

নীলিম কুমার- এর কবিতা 

মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ--বাসুদেব দাস




একটা কবিতা মরতে শুরু করেছে



একটা কবিতা মরতে শুরু করেছে

কীভাবে ছটফট করছে কবিতাটা!প্রথম দুই সারি এলিয়ে পড়েছে।

মাঝের স্তবকটা ব্যথায় বিকল| শরীর থেকে শব্দগুলির

রক্ত বের হচ্ছে।কিছু শব্দ বালির মতো শুকিয়ে গেছে,

কাগজপগুলি ভালোবাসায় টুকরো টুকরো হয়ে যাবে যেন!

ধোঁয়া বের হচ্ছে,আগুন লেগেছে ঐসব শব্দের শরীরে

আর কিছু শব্দ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন,যেন মরছে

ওরা কিছুই জানতে পারে নি। কিছু শব্দ

পালাতে চাইছে,কাগজটা পার হয়ে যেতে পারছে না।

কিছু নিজেই নিজের গায়ে ছুরি মেরে মুর্চ্ছা গেছে রক্তক্ষরণে।

কবিতার শেষের সারিটা ভিজেছে রক্তের বৃষ্টিতে


কে লিখেছে এই ভূতে পাওয়া কবিতা



মোম


জ্বলছিস তুই

আমার বুকের অন্ধকার পোড়ানোর জন্য


তোর অর্ধেক জীবন চলে গেল

বিন্দুমাত্র অন্ধকার দূর হল না

গলে গলে এখন দেখছি তুই-ই শেষ হবি


নিজে দেখছি ডুবে যাবি

অন্ধকারে


কেবল ঈশ্বরই তোর খোঁজে আসবে 

তিনিও তো খুঁজে পাবেন না

এত অন্ধকারে তোর আত্মা


তোকে খুঁজতে এসে আবার তোকেই জ্বালাব

ঈশ্বরও

হে অবোধ মোম

তোকে দেখে

অন্ধকারও বিগলিত


আমি এবং রাধা


এখানে আমরা শুয়ে আছি। আমি এবং রাধা

নদীর তীরে নয়। পাহাড়ের নিচে নয়

গাছের নিচে নয় সবুজ অরণ্যে নয় 

এখানে আমরা শুয়ে আছি,কংক্রীটের ঝুপড়িতে,

শীতের সাদা ঠাণ্ডা এক বিছানায়।

মাথার ওপর আকাশ নেই,ঈষৎ সাদা এক সিলিং

জ্যোৎস্না নেই,বিজলিবাতি,তারা নেই

দুই-একটা মাকড়সা।


এখানে আমার উন্মুক্ত বাহু পড়ে আছে তাঁর উন্মুক্ত পিঠে।


এখানে দুটো শ্বেতপন্ম ফুটে উঠেছে

তাঁর বুকের ক্ষীর সাগরে।

এখানে আমরা শুয়ে আছি আমি আর রাধা

আলো আর আঁধারে আঁকা জ্যামিতির শয্যায়।


জানি না এখানে আমরা শুয়ে আছি কিনা

আমি আর রাধা ।



ঘুম


রাস্তার মাঝখানে আমি গভীর ঘুমে ঘুমিয়ে পড়লাম। আর দেখলাম যে

আমাকে ঘিরে মানুষগুলি জট পাকাচ্ছে রাস্তায়। ওদের চিৎকার টেচামিচি

আর ফিসফিসানিতে আমি আরও বেশি ঘুমিয়ে পড়লাম।

গমগম করে একটা ট্রাক এল হর্ণ বাজাল এবং

ভেঙ্গে গেল মানুষের ভিড়। পড়ে থাকলাম কেবল

ঘুমিয়ে পড়া আমি রাস্তার মধ্যে |

ট্রাকের পেছন পেছন বাসের সারি,তিনচাকার দুই চাকার সারিগুলি এল

আর যখন আমার ওপর দিয়ে পার হয়ে গেল সেগুলি

যখন আমি গুড়ো হয়ে গেলাম তখন আমি গভীর নিদ্রায়।

একটা কুকুর আমাকে টেনে নিয়ে যাবার সময়,তার দাঁত

আমার শরীরে বসানোর সময় আমি ভাবলাম কুকুরটাও

ঘুমিয়ে পড়বে এখন।


অজস্র সূর্যোদয় আর সূ্র্যাস্তের আস্তরণ পড়েছে আমার ঘুমে…

আমার এত ঘুম দেখে আমি ভাবলাম কিন্তু

আমি ভাবতে পারলাম না নিদ্রায়



হাঁটুর বিষয়ে একটি কবিতা


হাঁটু ভাঁজ করে না ঘুমোলে

কারও ভালো ঘুম হয় না।

ভালো স্বপ্নও দেখেনা কেউ

হাঁটু ভাঁজ করে না ঘুমোলে।

হাঁটু সোজা করে ঘুমোলে

যদি কেউ স্বপ্ন দেখে,তা দুঃস্বপ্ন


হাঁটু গাড়া মানে হার মানা।

আমাদের ব্যক্তিত্ব বলে যদি কিছু থাকে

তা হাঁটুর ওপরে ভর না দিলে হবে না।


কিন্তু আমরা এই হাঁটুকেই করি

বেশি অবহেলা।

আমরা যত্ন নিই চুলের,চোখের

নাক মুখের গলার হাতের আঙ্গুলের

এমনকি হাত পায়ের নখেরও যত্ব নিই আমরা

কিন্তু হাঁটু?

আমরা কি কখনও আমাদের হাঁটু দুটোর দিকে তাকাই?

মশা কামড়ালে চুলকানো ছাড়া

আমাদের হাঁটুর প্রতি ভ্রূক্ষেপ নেই


এই হাঁটুর ওপরে ভর দিয়ে

আমি কোথায় যে যাই নি

সমুদ্রের জলে নেমেছি

পাহাড়ের টিলায় উঠেছি 

দৌড়েছি,লাফিয়েছিল,চলন্ত রেলগাড়িতে উঠেছি 

হাঁটুতে হাঁটু তুলে বসে যোগ করেছি

মন্দিরে প্রার্থনায় বসেছি


সেই হাঁটু একদিন

বিদ্রোহ করে বসল

নিচে নামা সিড়ি দিয়ে নামব না বলে

প্রতিবাদ করে উঠল

হাঁটু ভাঁজ করিনা বলে ফুলে উঠল

আর বলল হাঁটুর নিজস্ব ভাষায় 

যে ভাষায় বললে আমরা বুঝি,সেই

যাতনার ভাষায় ঘোষণা করল 

“আমি একটু বিশ্রাম নেব,

আর বিছানায় সেই যে পড়ল পড়লই।


আমি এখন

সকাল-বিকেল সেই হাঁটু দুটোর দিকে তাকিয়ে থাকি 

এত ধীরে ধীরে পিষে পিষে

হাঁটু দুটোকে ভালোবাসি যেন

যেন একটা অনাথ শিশুকে

আমি ঘুম পাড়াতে চাইছি। আর

যেন খুঁজে বেড়াচ্ছি কেউ রচনা না করা

ঘুমপাড়ানো গান।

আমি ব্যথা কমানোর মলম মাখিয়ে দিয়েছি

হাঁটু দুটিতে,আর জিজ্ঞেস করছি 

ঠাণ্ডা খাবে না গরম?

আইস না হট ওয়াটার।

আমার ভেতরে থাকা সমস্ত ভালোবাসায় 

আমি হাঁটু দুটোকে চুমু খাই

আর ভূল স্বীকার করি

ওদের প্রতি করা অবজ্ঞার জন্য


ঝরাপাতাগুলির ওপর দিয়ে হাঁটতে

আমার হাঁটতে ভালো লাগে না

আমি হাঁটু দুটোকে অনুনয় করি

আমাকে বাতাসের মধ্য দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যাবার জন্য

কোনো অপরিচিত অরণ্যে

যেখানে হারিয়ে ফেলি সবুজ গন্ধে

ঘরে ফেরার সমস্ত পথ ।


মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর, ২০২১

রাজীব কুমার ফুকন ।। অসমিয়া কবিতার অনুবাদ ।। অনুবাদ: বাসুদেব দাস Rajib Kumar Fukon

রাজীব কুমার ফুকন

অসমিয়া কবিতার অনুবাদ 

অনুবাদ: বাসুদেব দাস 



কবি পরিচিতি-১৯৬০ সনে কবি রাজীব কুমার ফুকনের জন্ম হয়।১৯৮৪ সনে প্রকাশিত হয় কবির কাব্যগ্রন্থ ‘বাজি আছে গরখীয়া বাঁহী’।কবির অন্য একটি সুপরিচিত কাব্যগ্রন্থ ‘গছবোর এতিয়া টোপনিত’২০১১ সনে প্রকাশিত হয়।আকাশবাণীতে কর্মরত শ্রী ফুকন একজন চিত্রনাট্য রচয়িতাও। 



গাছগুলি এখন ঘুমে


মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ– বাসুদেব দাস

গাছগুলি এখন ঘুমিয়ে পড়েছে

গভীর রাতে ঝুঁকে পড়া পাতার নিচে

নিস্তব্ধ হয়ে রয়েছে নীড়ের  পাখি।

ঘুমিয়ে পড়লেও গাছগুলি মোহনীয়

কেবল মানুষই জানে না

ঘুমিয়ে পড়ার পরে

কীভাবে ধরে রাখবে সৌন্দর্য

কিছুই না পরলেও গাছগুলি মসৃণ

সুন্দর

বস্র অলঙ্কারে  ঢেকে রাখলেও

মানুষগুলি সব সময় উলঙ্গ

ছন্দবিহীন।


উলঙ্গতা ঢাকার জন্য মানুষগুলি কত  কষ্টই যে না করে!

কত  অভিনব পোশাকই যে না পরে।

অথচ আজ পর্যন্ত নিজেকে ঢাকতে পারেনি

বারবার উলঙ্গ হয় মানুষ

মিথ্যা যুক্তিতে ঢাকতে চায় লজ্জা, সভ্যতা।

কেবল জন্তুই

উলঙ্গ হয়েও সুন্দর

কেবল শিশুই উলঙ্গ হয়েও লজ্জা ঢাকতে পারে


রাতে অন্তত গাছগুলোকে ঘুমোতে দাও

দিনে মানুষের উলঙ্গতা দুর্বল করে

অরণ্যের সভ্যতা।


সাবান


মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ– বাসুদেব দাস


তোমার যে কোনো মূল্য আছে

ভাবি নি

ভাবি নি তুমি হতে পার সভ্যতার সঙ্গী

নিষ্ঠাবান সেনার মতো উৎসর্গ কর নিজের জীবন।

অত্যন্ত সুন্দর সোফা চিত্রশিল্পে সাজানো ড্রয়িং রুম

শোবার ঘরের পালঙে কারুকার্যের মোহনীয় শীতলতা 

সেখানে তুমি বর্জনীয় 

সুস্বাদু আহারের জন্য রান্নাঘরের কত দেখাশোনা।

সুন্দর করে সাজালাম ঘর

তোমার জায়গা হল না কোথাও।

তুমি  কাক ভেজা হয়ে থাক

বাথরুমের এককোণে

তোমার কাছে আবর্জনা মাখা দেহগুলি আসে

তুমি ধুয়ে পরিষ্কার করে 

একটা পরিস্কার কাপড় পরিয়ে পাঠাও

সকালের ফিকা চায়ের কাপ

রাতের অবসাদ ভাঙ্গে

সুগন্ধি চায়ের চুমুকে জটিলতার বিশৃঙ্খলা ভাঙ্গে

তখন মনে পড়ে কি

কোন হাত রোদ-বৃষ্টি অবহেলা করে

ছিঁড়ে যায় বাগানের পাতা

ভোরবেলা উঠে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কারখানায় কাজ করে

কোন ক্লান্ত শ্রমিক

রুটি রুটি বলি কাঁদতে থাকা ছোট মিনিকে জড়িয়ে ধরে?

একমুঠো শস্যের জন্য হাড়ভাঙ্গা কাজ করে

অপুষ্টিতে ভুগছে কত কৃষক

পুষ্টিকর খাদ্য পাওয়া সবাই রাখে কি খবর?

সাবান!

তোমার মতই কৃষক শ্রমিক

নীরবে কাজ করে করে

ক্ষয় করে নিজের জীবন

আকালে আমরা মনে করি।


জ্যোৎস্না বিষাদ পথ


মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ– বাসুদেব দাস


ঢল নেমেছে

জ্যোৎস্নার

ঢেকে দিয়েছে কুয়াশা

একটি চাদর।

বুক থেকেই জ্যোৎস্না

সীমান্তে

অনন্ত অন্ধকার

অস্পষ্টতায় অপেক্ষা করছে

নিস্তব্ধ মা

আত্মীয় স্বজন শূন্য

ঘর ছেড়ে খুঁজছে

ফিরে আসার পথ।


জ্যোৎস্না

আমার বিষাদের পথ।


শুভ্র ঐরাবতে উঠে

এই পথ দিয়েই চলে গেল

আমার মা আমার বাবা

অজানা নির্জনতায়।


ঘন্টা বাজানো ছেলেটি


মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ- বাসুদেব দাস

ঘন্টা বাজিয়ে ছেলেটি চলে গেল

সঙ্গে নিয়ে গেল গ্রামটির কণ্ঠস্বর

আঁকাবাঁকা পথ দিয়ে

আমাকেও নিয়ে গেল।


সোনালি আকাশ লতা

ঘিরে ধরেছে ঝুপড়ি শেওড়া গাছ।

চাল কুমড়ো রোদে জ্বলজ্বল করছে

মৃদু বাতাসের ঝির ঝিরে গুণগুণ অশ্বত্থের পাতায়।


কানের পাশ দিয়ে ফুরুৎ করে

একটা শালিক উড়ে গেল।




শূন্য পুষ্করিণী


মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ- বাসুদেব দাস

নিজের অজান্তে

নদীটা শুকিয়েছে

বুকে বালুচর  বেড়েই চলেছে।


তোমার পুষ্করিণীতেও জল নেই 

ফিরে এলাম

আমি

আর

আমার শূন্য কলশ।

 














Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...