শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০২২

শব্দব্রাউজ ৫১৮ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-518, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫১৮ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-518, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ- ৫১৮ ।। নীলাঞ্জন কুমার

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ২৯। ৬। ২২। সকাল সাতটা পন্ঞ্চাশ মিনিট ।



শব্দসূত্র: কল্পনা বাস্তব হলে



কল্পনামতো যদি জেদ থাকে তবে তা বাস্তবে আসতে দেরি হয় না । শুরু থেকে ছুঁয়ে থাকলে তৃষ্ণা আর মন ভরতি উন্মাদনা, তবে জীবন কেমন সাজানো গোছানো হয়ে যায় । এসব দেখলে আমার অবাক আনন্দ ।


অতীতের ভুল, বাস্তবের সাফল্যের দিনে ভেসে উঠলে হাসি পায় । অথচ ভুল না থাকলে দুঃখ থেকে মুক্তি পাওয়া যেত কি?


কল্পনা বাস্তব হলে আনন্দ আর শান্তি প্রশ্বাস হয়ে সারা শরীরে চারিয়ে যায় । তখনই হয় আসল মুক্তি ।

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০২২

আটপৌরে ২৭৫|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 275, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ২৭৫|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 275, by Sudip Biswas



২৭৫

শব্দব্রাউজ ৫১৭ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-517, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫১৭ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-517, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ- ৫১৭ ।। নীলাঞ্জন কুমার

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা ।২৮। ৬। ২০২২। সকাল সাতটা ।


শব্দসূত্র: সত্যি, তিন সত্যি



সত্যিকে যেভাবে গ্রহণ করেছি যেখানে মিথ্যের দাসত্ব কিভাবে সহ্য হতে পারে? সত্যির সামনে দাঁড়ালে যে স্বস্তি তাকে অস্বীকার করা যায় না । সত্যি কথা তাই আপনা থেকে বুঝিয়ে দেয় মানুষের চরিত্র । তাকে বিশ্বাস করে নিতে ইচ্ছে হয় ।



একবার দু'বার মিথ্যেকে ক্ষমা করা যায় । সতর্ক করা যায় । কিন্তু তিন তিনবার নাস্তি । মিথ্যে যাদের চরিত্রে তারা কি মানুষের ভালোবাসা পায়? 



যা খুশি বলো যা খুশি করো সব সত্যিকারের সামনে করো । মন খুলে বলো নিখুঁত সত্য ।তোমায় দেখে বুঝে নেব তুমি প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠছো ।

বুধবার, ২৯ জুন, ২০২২

আটপৌরে ২৭৪|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 274, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ২৭৪|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 274, by Sudip Biswas



২৭৪
 দীক্ষা

গভীরার্থ। পরমার্থে। তর্জমা। 

দেবদ্বিজে

জীবনের উত্তরণ নবজীবনের উৎসবে।

শব্দব্রাউজ ৫১৬ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-516, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫১৬ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-516, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ- ৫১৬ ।। নীলাঞ্জন কুমার

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ২৭। ৬। ২০২২। সকাল ৮টা ৪০ মিনিট ।


শব্দসূত্র: হ্যাঁ, বলতে দাও



হ্যাঁ, আর নিজের সঙ্গে শুধু শুধু কথা নয়। বলে যাও, অহেতুকই উচ্চস্বরে বলে যাও । সব কোলাহল মিশে ঘোরাফেরা করুক ব্রম্ভ্রান্ডে। তারপর তা একসময় আবার ফিরে আসুক।



চুপ শব্দটি জীবন থেকে বাদ দিয়ে বলো , প্রশ্ন করো ।

জেরবার করে দাও প্রশ্নবাণে ।



দাও শব্দ দাও । শব্দ থেকে ব্রম্ভ্রস্বাদ । তার থেকে শান্তি ।

মঙ্গলবার, ২৮ জুন, ২০২২

শব্দব্রাউজ ৫১৫ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-515, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫১৫ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-515, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ- ৫১৫ ।। নীলাঞ্জন কুমার

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ২৭। ৬। ২০২২। সকাল ৮টা ৪০ মিনিট ।


শব্দসূত্র: হ্যাঁ, বলতে দাও



হ্যাঁ, আর নিজের সঙ্গে শুধু শুধু কথা নয়। বলে যাও, অহেতুকই উচ্চস্বরে বলে যাও । সব কোলাহল মিশে ঘোরাফেরা করুক ব্রম্ভ্রান্ডে। তারপর তা একসময় আবার ফিরে আসুক।



চুপ শব্দটি জীবন থেকে বাদ দিয়ে বলো , প্রশ্ন করো ।

জেরবার করে দাও প্রশ্নবাণে ।



দাও শব্দ দাও । শব্দ থেকে ব্রম্ভ্রস্বাদ । তার থেকে শান্তি ।

আটপৌরে ২৭৩|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 273, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ২৭৩|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 273, by Sudip Biswas



২৭৩.
আতিথেয়

কৃতজ্ঞতা। অকৃত্রিম। ব্যক্তি-মৌলিক।

সহায়িকা

দেবপ্রতিমায় অভ্যর্থনা তন্ময় ভাষায়।

সোমবার, ২৭ জুন, ২০২২

হে আমার স্বদেশ- ১৪ সন্তোষ কুমার কর্মকার মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ– বাসুদেব দাস, He Amar Swadesh

হে আমার স্বদেশ- ১৪

সন্তোষ কুমার কর্মকার

মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ– বাসুদেব দাস




  লেখক পরিচিতি-- সন্তোষ কুমার কর্মকার একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, শিশু সাহিত্যিক এবং অনুবাদক।বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলায় ১৯৫৩ সনে শ্রীকর্মকারের জন্ম হয়।পিতা কানাইলাল কর্মকার। ভারত স্বাধীন হওয়ার পরে সপরিবারে ভারতে চলে আসেন। প্রাথমিক শিক্ষা অসমের বরপেটায়।গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত  বিভাগে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। রচিত উপন্যাস গুলি যথাক্রমে গৃহভূমি, শঙ্খ ধ্বনি, পদাতিক, সুবর্ণরেখা,অ  মোর আপোনার দেশ, কালান্তরর কথকতা, শিপার সন্ধানত, ইত্যাদি। ছোটগল্প,বেশ কিছু শিশু উপন্যাস এবং অনুবাদ গ্রন্থ রচনা করেন।২০২১ সনের এপ্রিল মাসে এই মহান লেখকের মৃত্যু হয়।১৯৯৬ সনে ভারতীয় ভাষা পরিষদ পুরস্কার, ১৯৯৮ সনে অসম সাহিত্য সভার সীতানাথ ব্রহ্ম  পুরস্কার এবং ২০২০ সনে সাহিত‍্যাচার্য সৈয়দ আব্দুল মালিক উপন্যাসশ্রী পুরস্কার লাভ করেন ।


   আলোচ্য উপন্যাস ' হে আমার স্বদেশ' (অ’ মোর আপোনার দেশ) অসমের অন্যতম সাহিত্যিক, ঠাকুর পরিবারের জামাই, সাহিত্যরথী লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়ার জীবনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।এই উপন্যাসে বেজবরুয়ার চেতনায় কীভাবে জাতীয়তাবাদ অঙ্কুরিত হয়েছিল, বেজবরুয়ার জাতীয়তাবাদের স্বরূপ, রবীন্দ্রনাথের জাতীয়তাবাদের সঙ্গে  বেজবরুয়ার জাতীয়তাবাদের তুলনা, ইউরোপীয় নবজাগরণের প্রেক্ষাপটে ভারত তথা অসমের নবজাগরণের উন্মেষ, জাতীয়তাবাদী বেজবরুয়ার  সংগ্রাম, অসম বাংলার সাংস্কৃতিক সমন্বয় আলোচিত হয়েছে।এই উপন্যাসের চরিত্র রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে ঠাকুরবাড়ির মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ, বলেন্দ্রনাথ,প্রজ্ঞাসুন্দরী ,অন‍্যদিকে অসমের হেমচন্দ্র গোস্বামী, গুণাভিরাম বরুয়া,চন্দ্রকুমার আগরওয়ালা -উনবিংশ শতকের অসম বাংলার অনেক স্বনামধন্য পুরুষই উপন্যাসের পাতায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

প্রসঙ্গত বলে রাখি শ্রীমতী কর্মকার উপন্যাসটির প্রায় আড়াইশো পাতার মতো অনুবাদ করেছিলেন।তবে আমি প্ৰয়োজন অনুসারে উপন্যাসটিকে আবার নতুন করে একেবারে প্রথম থেকে অনুবাদ করেছি। বলাবাহুল্য শ্রীমতী কর্মকারের  অনুবাদ আমাকে অনেকটাই সাহায্য করেছে। এই সুযোগে আমি তার কাছে আমার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। পরিশেষে দৈনিক বাংলা পত্রিকা(অন লাইন)উপন্যাসটি ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করতে আগ্ৰহী হওয়ায় তাদেরকে আমার কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

(১৪)

  টেলিগ্রামটা পাঠিয়ে ভেতরে ভেতরে সংকল্পবদ্ধ হলেও লক্ষ্মীনাথ স্বস্তি পেল না। মা বাবার কথা ভেবে অস্থির হয়ে পড়ল। খারাপ লাগতে লাগল। কিন্তু এখন আর কোনো উপায় নেই। শিবসাগরে মা-বাবা, দাদা বৌদিরা লক্ষ্মীনাথকে কিছু না জানিয়ে কোনো একজনকে বাড়ির বউ করে আনবে বলে ঠিক করল, বাড়ির প্রত্যেকেই একত্রিত হয়ে তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি কথায় সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে এম এ এবং আইন পড়তে থাকা একজন যুবকের পছন্দ-অপছন্দের, মতামতে গুরুত্ব দিল না। এই মনোভাবটাই লক্ষ্মীনাথকে অভিমানী করে তুলল। এদিকে কলকাতায় পড়তে আসা একদল অসমিয়া ছাত্র যে ঠাকুরবাড়ির কন্যার সঙ্গে তাঁর বিয়ের বন্দোবস্থ হওয়াটা নিয়ে হুলস্থুল করতে শুরু করেছে –এটাও লক্ষ্মীনাথের সংকল্পটাকে আরও দৃঢ় করে তুলল। না,সে কোনো অন‍্যায় করছে না। তাই,সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন হবে না। তার জন্যই ঠাকুরবাড়ির দুজন বিশ্বস্ত কর্মচারীর সঙ্গে বৈকন্ঠ নাথ দত্ত এসে চন্দ্রকুমার হেমচন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে লক্ষ্মীনাথের কীভাবে বিয়ে হবে, কোথা থেকে কতজন বরযাত্রী যাবে, সবকিছু চূড়ান্ত করল। উভয়পক্ষের নাম-ঠিকানা শুদ্ধ করে কাগজে লিখে নিল । জোনাকী যেখানে ছাপা হয় সেই ' কলকাতা প্রিন্টিং হাউস'এ বিয়ের চিঠি ছাপানো হল। চন্দ্রকুমার এবং হেমচন্দ্রের সঙ্গে বসে কাকে কাকে নিমন্ত্রণ করা হবে তার একটা তালিকা প্রস্তুত করা হল।

বিবাহ একটা শুভ অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে আত্মীয়-স্বজন এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা বর কনের মঙ্গলময় জীবন কামনা করে আশীর্বাদ দেয়। কিন্তু লক্ষ্মীনাথের বিয়েতে আত্মীয়-স্বজনের অনুমতি

নেই।এদিকে তার আর্থিক প্রাচুর্যও এতটা নেই। তাই এই শুভ অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে কিনা, তা নিয়ে একটা আশঙ্কা দেখা দিল। তথাপি, তারমধ্যে সাহস এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে হেম গোঁসাই এবং মাজিউর সাহায্য নিয়ে লক্ষ্মীনাথ বিয়ের প্রস্তুতি চালাতে লাগল। কলকাতায় নিজেদের বাড়িঘর নেই। আত্মীয়-স্বজনের সংখ্যাও সীমিত। তাই বিয়ে বলে বললেই যে ঘরোয়া আচার সংস্কারের কথা থাকে, সেইসব পালন করার জন্য বাড়ির মহিলা মহলে যে উৎসাহ উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়, দশ বারো দিন আগে থেকে আত্মীয়-স্বজন কুটুমদের আগমনে বাড়িতে যে কোলাহলের সৃষ্টি হয়, সেসব হবে না।

সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও মেসের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে লেগে দুই নম্বর ভবানীচরণ দত্ত লেন মেসটিকে বরের ঘর হিসেবে সাজিয়ে তুলল। এই মেসবাড়ি থেকেই লক্ষ্মীনাথ বন্ধুবান্ধব এবং আমন্ত্রিতদের সঙ্গে নিয়ে বররূপে প্রজ্ঞাসুন্দরীকে বিয়ে করার জন্য জোড়াসাঁকো যাত্রা করবে।এদিকে নিমন্ত্রণ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। রায়বাহাদুর গুণাভিরামকে নিমন্ত্রণ করা হল।গঙ্গা গোবিন্দফুকন এখন ও কলকাতায় রয়েছে। চন্দ্রকুমারকে সঙ্গে নিয়ে লক্ষ্মীনাথ তাকেও নিমন্ত্রণ করতে এল। কিন্তু ফুকন মহাশয় অন্যান্য দিনের মতো লক্ষ্মীনাথ চন্দ্রকুমারকে আদর যত্ন করে ভেতরে নিয়ে গেল না। তার মুখটা গম্ভীর দেখে লক্ষ্মীনাথের মনে একটা সন্দেহ জাগল। ফুকন মহাশয়েরও এই বিয়েতে সমর্থন নেই নাকি?

'কী হল, কাকু? আপনি আমার ওপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন নাকি?' বিনয়ের সঙ্গে লক্ষ্মীনাথ জিজ্ঞেস করল।

'না, কেন অসন্তুষ্ট হব?'

' না, মনে হচ্ছে আপনি ভেতরে ভেতরে আমার উপর রাগ করে রয়েছেন। আমি কি কোনো অন্যায় করেছি?'

' সেরকম কিছু নয়, লক্ষ্মী। গঙ্গা গোবিন্দফুকন বললেন,' তোমাকে বলতে খারাপ লাগছে। এদিকে না বললেও নয়–।'

' আপনি বলুন।'

' বললে খারাপ পাবে।'

' না খারাপ পাব না।'

' কথাটা দুর্ভাগ্যজনক। আর খারাপ পাবে না বললেও কথাগুলি শুনে তোমার খারাপ লাগবেই।'

ফুকন বললেন,' জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির কন্যার সঙ্গে বন্দোবস্ত হওয়া তোমার বিয়েটা ভেঙ্গে দেবার জন্য শিবসাগর থেকে আমার কাছে কয়েকটি টেলিগ্রাম এসেছে।'

' বিয়ে ভেঙ্গে দেবার জন্য আপনার কাছে টেলিগ্রাম এসেছে!' অস্ফুট কন্ঠে চন্দ্রকুমার বলে উঠল।

লক্ষ্মীনাথ চুপ।

' কে টেলিগ্রাম করেছে?'

' দুটো করেছে দীন দাদা। একটা গোবিন্দ করেছে।

গোবিন্দেরটা আজ সাড়ে চারটার সময় পেয়েছি।

চন্দ্রকুমার নিঃশব্দ। লক্ষ্মীনাথ শান্ত। কিন্তু তার অন্তরটা জ্বলছে।

' সঙ্গে এই খবরও পেয়েছি যে দীনদাদা শিবসাগরের কালীপ্রসাদ চলিহা এবং কয়েকজন বয়স্ক মানুষকে বাড়িতে ডেকে এনে ঠাকুরদের ওপরে মামলা করে ক্ষতিপূরণের সঙ্গে তোমাকে কীভাবে দখল করতে পারবে, তার জন্য জল্পনা-কল্পনা করছে।'

এবার লক্ষ্মীনাথের সত্যিই খারাপ লাগল। অন্তরের যন্ত্রণাটা কয়েকগুণ বেড়ে গেল। বিদ্যা বুদ্ধি বিচার জ্ঞানে বাবা প্রবীণ। শিক্ষা বিস্তারের জন্য বিদ্যালয় গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তৎপর, আয়ুর্বেদিক ওষুধ দিয়ে দুঃখিদের রোগ শুশ্রূষা করে তোলার জন্য এত সেবা-যত্ন করে, প্রতিদিন বাড়িতে শাস্ত্রজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে শাস্ত্র পাঠ আলোচনা করে, উদার বৈষ্ণব ধর্মের প্রতি নিষ্ঠা প্রকাশ করে। অথচ নিজের পুত্রের বিয়ের কথাটা নিয়ে তিনি এতো অনুদার, এত সংকীর্ণ হয়ে পড়েছেন। লক্ষ্মীনাথের পছন্দ-অপছন্দের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে তার ভবিষ্যতের কথা না ভেবে , আক্রোশমূলক মনোভাবের সঙ্গে বাবা বন্দোবস্ত হওয়া বিয়েটা ভেঙ্গে দেবার জন্য মামলা করার চক্রান্ত করছেন ।

বাবার কথা ভেবে লক্ষ্মীনাথের লজ্জা হল। তারপরে অভিমানী হয়ে পড়ল। নিমেষের মধ্যে লজ্জা, মন খারাপ এবং অভিমান ক্রোধে রূপান্তরিত হল।

' কাকু, আপনি আমাদের ঘরের মানুষের মতো। তাই খোলাখুলিভাবে আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করছি–।' ক্রোধ চেপে লক্ষ্মীনাথ বলল,' ইতিমধ্যে বিয়ের সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে। দুই পক্ষই বিয়ের জোগাড় যন্ত্র করে ফেলেছে।এমনকি নিমন্ত্রণপত্র ছাপিয়ে বিয়েতে ডাকার কাজটাও প্রায় শেষ করে ফেলেছে। এরকম অবস্থায় আমার করণীয় কি !'

গঙ্গাগোবিন্দের চোখেমুখে বিব্রতভাব ফুটে উঠল। অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে তিনি বললেন ‘আমার হিসেবে ব্যাপারটা জটিল হয়ে পড়েছে ।'

হেমচন্দ্র বলল, ‘আপনি তাহলে মেসোমশাই এবং গোবিন্দ দাদা পাঠানো টেলিগ্রাম অনুসরণ করে বন্দোবস্ত হওয়া এই বিয়েটা ভেঙ্গে দিতে বলছেন?'

' সে কথা কেন বলব? না, গোবিন্দ এবং দীনদাদা টেলিগ্রাম পাঠালেও আমি কখনও সেরকম কিছু করতে বলব না।' গঙ্গা গোবিন্দ ফুকন বললেন, কিন্তু আমি চাই, এই ব্যাপারে তোমরা একটা বোঝাবুঝি করে নাও।'

' বাবা ঠাকুরবাড়ির ওপরে মামলা করে আমাকে উদ্ধার করার জন্য উকিলের সঙ্গে পরামর্শ করেছে যখন – এতে আর কিছুই বোঝাবুঝির নেই কাকু।' লক্ষ্মীনাথের কণ্ঠস্বরে উষ্মা,' এদিকে আমি কোনোমতেই এই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে পারব না। তাই আমি আপনাকে আমার বিয়েতে ডেকেছি। বিয়ের দিন কিছুক্ষণের জন্য দেখা দিয়ে আপনি আমাকে আশীর্বাদ করবেন বলে আশা রাখছি।'

ফুকন মহাশয়কে সবিনয়ে বিয়েতে নিমন্ত্রণ জানাতে গিয়ে লক্ষ্মীনাথের কণ্ঠস্বরটা ভারী হয়ে উঠল।তারপরে ফুকনের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সীমাহীন মনখারাপ নিয়ে ম্লানমুখে মেসে ফিরে এল।

পথে চন্দ্রকুমার তাকে বোঝাল। বিশেষ করে গোবিন্দদাদার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে ভালো করে

 বুঝিয়ে বলার উপর গুরুত্ব আরোপ করল।খারাপ পেয়েছে, তাহলেও আধুনিক মনের গোবিন্দ দাদা লক্ষ্মীনাথের বিয়ের কথাটা বুঝতে পারবে, বুঝতে পেরে একটা ইতিবাচক ভূমিকা নিয়ে বাবার সঙ্গে বোঝাবুঝিতে আসার একটা পথ বের হবে বলেও চন্দ্রকুমারের মনে হল। কিন্তু লক্ষ্মীনাথের মনের অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে পড়েছে যে পরামর্শটা তার কানেই ঢুকল না। মেসে এসে নিজের রুমে ঢুকে বিছানায় বসল। খারাপ লাগছে,ক্লান্ত লাগছে, এরকম মনে হচ্ছে যে পিতা মাতার আশীর্বাদ না পাওয়ার জন্য তার জীবনে অভিশাপ নেমে আসবে। পুনরায় লক্ষ্মীনাথ বিচলিত হয়ে পড়ল। বিবাহটা যে মিলন,এই মিলন যে এক আনন্দময় পরিপূর্ণতা। এই মিলনের পরেই যে সাংসারিক জীবন গড়ার সোনালি স্বপ্ন দেখা… এসব অর্থহীন হয়ে পড়ল বলে মনে হল।

মনটা যেন কী রকম হয়ে গেল। যে সংকল্পের সঙ্গে ঠাকুরবাড়ির কন্যাকে বিয়ে করবে বলে আত্মবিশ্বাসের সুরে গঙ্গাগোবিন্দ ফুকনকে বলল তা নাই হয়ে গেল। এবার তার মনে প্রশ্ন জাগল, এভাবে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সত্যিই সে কোনো অন্যায় করেছে নাকি? ঠাকুরবাড়ির কন্যাকে বিয়ে করার প্রসঙ্গে বাবা দাদা যদি এতটাই খারাপ পেয়ে থাকেন তাহলে বিয়ে করার প্রয়োজন নেই। তাবলে, তারা যাকে পছন্দ করে রেখেছে লক্ষ্মীনাথ তাকে বিয়ে করতে পারবে না। প্রজ্ঞাসুন্দরীকে বিয়ে করতে না পারলে সে চিরকুমার হয়ে থাকবে।

এইসব যন্ত্রণাদায়ক ভাবনা লক্ষ্মীনাথকে অস্থির করে তুলল। অবশেষে বালিশের নিচ থেকে ফোটোটা বের করল। লক্ষ্মীনাথ দেখল, একান্ত মনে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ফটোটার মধ্যে তার মন একটা আশ্রয় খুঁজে পেল। তখনই মনে পড়ল রায়বাহাদুর গুণাভিরাম বরুয়ার কথা। আজ থেকে ত্রিশ বছর আগে বিধবা বিষ্ণুপ্রিয়াকে বিয়ে করে তিনি নতুন করে জীবন শুরু করেছিলেন। ত্রিশ বছর আগে তিনি যদি যুগের প্রচলিত অন্ধ সংস্কার অতিক্রম করে এগোতে পেরেছিলেন তাহলে লক্ষ্মীনাথ কেন আজকের এই বাধা-বিপত্তি গুলিকে গুরুত্ব না দিয়ে এগোতে পারবে না? অন্যদিকে, সেদিন চন্দ্রকুমার ঠিকই বলেছে, ধর্মীয় সংস্কারের চেয়ে মানবীয় ভাব অনুভূতির মূল্য অধিক। প্রজ্ঞাসুন্দরীর সঙ্গে ইতিমধ্যেই তার হৃদয়ের আবেগ জড়িত হয়ে পড়েছে। এই আবেগ-অনুভূতিকে তাকে মর্যাদা দিতেই হবে। এইভাবে ভাবার পরে অন্তরে সৃষ্টি হওয়া বিচলিত ভাবটা দূরীভূত হল। দেহের ক্লান্তি ও অবসাদ দূর হল।

তখনই মেসের চাকর হরি ঘরে প্রবেশ করে খবর দিল যে বাইরে একজন ভদ্রলোক অপেক্ষা করে রয়েছেন। তিনি লক্ষ্মীনাথের সঙ্গে দেখা করতে চান। ফোটোটা বালিশের নিচে রেখে লক্ষ্মীনাথ মানুষটাকে ভেতরে নিয়ে আসার জন্য হরিকে নির্দেশ দিল।

ভদ্রলোক ঘরের ভেতর প্রবেশ করলেন। লক্ষ্মীনাথকে নমস্কার জানিয়ে তিনি বললেন,' আমার নাম বিনোদবিহারী ভট্টাচার্য। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির কর্তামশাইয়ের নির্দেশে আমি আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।

' কর্তামশাই!'

' মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয়। আমি ওর কাছারিতে কাজ করি।'

পরনে ধুতি পাঞ্জাবি। চোখে ফিতা লাগানো চশমা। বয়সে বড় যদিও ভদ্রলোকটি লক্ষ্মীনাথের সঙ্গে সম্মানের সঙ্গে কথা বলছে।

লক্ষ্মীনাথ ও শিষ্টাচার সহকারে বলল,' বসুন।'

তিনি চেয়ারটাতে বসলেন।

' বলুন কর্তামশাই কেন আপনাকে আমার কাছে পাঠালেন?'

লক্ষ্মীনাথের দিকে কিছুক্ষণের জন্য তাকিয়ে থেকে বিনোদবিহারী ভট্টাচার্য্য বললেন,' আপনার সঙ্গে ইতিমধ্যে কর্তামশাইয়ের তৃতীয় পুত্র পরলোকগত হেমেন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয়ের দ্বিতীয়া কন্যা প্রজ্ঞাসুন্দরীর বিয়ের পাকা কথা হয়েছে। বিয়ের দিন লগ্নও ধার্য হয়েছে।'

'হ্যাঁ, মার্চ মাসের এগারো তারিখ।' লক্ষ্মীনাথ বলল।

' কিন্তু বিয়ের 'কন্ডিশন' মানে দেনা-পাওনার ব্যাপারে আপনার সঙ্গে এখনও কোনো আলোচনা হয়নি।' বিনোদবিহারী ভট্টাচার্য্য বললেন,' তাই কর্তামশাই আমাকে পাঠিয়ে আপনার দাবির বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। অনুগ্রহপূর্বক আপনি যদি আমাকে জানান–।'

লক্ষ্মীনাথ গম্ভীর হয়ে পড়ল। বঙ্গদেশে পাত্রপক্ষ কন‍্যার অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা চায় এবং এটা নিয়ে রীতিমতো দরদস্তুর করার পরে একটা মীমাংসাতে এলে পড়েই বিয়ে হয়। এটা যে একটি জঘন্য কুপ্রথা, বাঙালিরাও তা স্বীকার করে। কিন্তু কার্যত বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা লাভ করা বি এ এম এ পাস করাদের মধ‍্যেও এখন এটা চলছে। তার জন্য বহু কন্যাদায়গ্রস্ত বাঙালি পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে। অনেক পরিবারে বিবাহিতা মেয়ে বাবাকে নিশিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য স্ব-ইচ্ছায় আফিং পান করে বা আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয়।

লক্ষ্মীনাথকে গম্ভীর হয়ে পড়তে দেখে ভদ্রলোকটি অবাক হলেন।

' মানে কথাটা হল– বিয়ের যৌতুক বলে কথা আর কি। আপনি বিবাহ করতে যাচ্ছেন–।' ভট্টাচার্য্য ব্যাখ্যা করতে লাগলেন, আপনি কন্যা পক্ষের কাছ থেকে কত টাকা নগদ–?'

' বুঝেছি, আমি প্রথমেই বুঝতে পেরেছি। লক্ষ্মীনাথ বলল,' আপনি গিয়ে কর্তামশাইকে বলবেন, অসমের অসমিয়াদের মধ্যে ধন নিয়ে বিবাহ করার প্রথা নেই। অসমিয়ারা এই প্রথাকে অন্তরের গভীর থেকে ঘৃণা করে।'

' বলছেন কি!'

' আরও শুনুন–।' লক্ষ্মীনাথের কণ্ঠস্বর এবার একটু কঠিন হয়ে এল,' কর্তামশাইকে এটাও জানাবেন যে আমি বাংলাদেশের শিক্ষিত সুমার্জিত এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরিবারের সঙ্গে বৈবাহিক সম্বন্ধের দ্বারা আত্মীয়তা করতে চলেছি। ব্যবসায়ীদের মতো দরদাম করে সেই সম্বন্ধটাকে হেয় এবং অপমানিত করতে চাই না।'

লক্ষ্মীনাথের শেষের কথাগুলি রূঢ় হয়ে পড়ল। কর্মচারীটির মুখ কালো হয়ে গেল। মাথা নিচু করে কিছুক্ষণ বসে থেকে ম্লান মুখে বললেন ,' বুঝতে পেরেছি, যৌতুকের টাকার ব্যাপারটা আপনার মোটেই ভালো লাগেনি। অনুগ্রহ করে আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি আপনার কথা কর্তামশাইকে বুঝিয়ে বলব। আচ্ছা, আমি তাহলে আসি।'

গঙ্গাগোবিন্দ ফুকনকে নিমন্ত্রণ জানাতে গিয়ে ঠাকুরবাড়ির সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে বাবা এবং তাদের অবস্থান নিয়ে যে মানসিক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছিল, এখন তা দূর হয়ে গেল।

অসমের রাজবৈদ্য দীননাথ বেজবরুয়ার পুত্র লক্ষ্মীনাথের সঙ্গে বঙ্গের অভিজাত জমিদার এবং সাংস্কৃতিক চেতনাসম্পন্ন পুরুষ মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৌত্রী প্রজ্ঞাসুন্দরীর বিবাহ। এটি সাধারণ বিবাহ নয়। একজন অসমিয়া যুবকের সঙ্গে একজন বাঙালি কন্যার বিবাহ।

কিন্তু অসমিয়া বরের বিয়ের বাসর অসমে নয়। বিয়ের বাসর হল কলকাতার দুই নম্বর ভবানীচরণ দত্ত লেনের একটি মেস। এই মেস থেকে বরকে নিয়ে বরযাত্রীরা জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি যাত্রা করবে। বর এবং বরের সঙ্গে শুভার্থী আত্মীয় এবং বন্ধুরা মহা উৎসাহের সঙ্গে বের হল। কলকাতায় পড়াশোনা করতে আসা অসমিয়া ছাত্রদের মধ্যে লক্ষ্মীনাথ যেরকম উজ্জ্বল রত্ন সেইভাবে বঙ্গের জমিদার এবং সম্ভ্রান্ত ঠাকুর পরিবারের কন্যা সন্তান প্রজ্ঞাসুন্দরী ও সর্বগুণসম্পন্না। গত কয়েক মাস ধরে এই বিয়ে নিয়ে অনেক আলোচনা, অনেক বিতর্ক, অনেক বাধা বিপত্তির ঢেউ উঠেছে। স্বাভাবিকভাবেই বিয়েটা কলকাতাবাসী অসমিয়া এবং বাঙ্গালিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

 বরযাত্রীরা বরকে নিয়ে ঠাকুরবাড়ির বিশাল গেটের সামনে গাড়ি থেকে নামল। সঙ্গে সঙ্গে উর্দিপরা সিপাহি কয়েকজন সালাম জানিয়ে সেখান থেকে সরে দাঁড়াল। অদূরে মল্লিকা শোভিত ডালা নিয়ে সাজপোশাকে অভিজাত সুন্দরী মহিলা এবং যুবতিরা অপেক্ষা করছিল। বরযাত্রীদের সঙ্গে বরকে দেখেই তারা উলুধ্বনি দিয়ে উঠল। সঙ্গে বেজে উঠল ব্যান্ড পার্টি। মহিলারা বরবেশী লক্ষ্মীনাথকে বরণ করে নেবার জন্য এগিয়ে এল।

বর লক্ষ্মীনাথকে দেখে মহিলারা 'ওমা,কী সুন্দর বর গো',' বর দেখছি একেবারে রাজপুত্র', চেহারাও আমাদের জ্যোতি দাদার মতো',' প্রজ্ঞার কপাল ভালোই বলতে হবে' ইত্যাদি মন্তব্য করতে লাগল। তারমধ্যেই বর বরণের অনুষ্ঠান হয়ে গেল। এইটুকু সময়ের মধ্যে কয়েকজন রূপসী যুবতি লক্ষ্মীনাথ এবং তার দুই পাশে থাকা চন্দ্রকুমার হেমচন্দ্রের সঙ্গে লঘু হাস্যরসে অংশগ্রহণ করল। তারপরে তারা লক্ষ্মীনাথকে এগিয়ে নিয়ে ভেতরে বর এবং বরযাত্রীদের বসার জন্য বিশেষভাবে আয়োজন করা মখমলের তাকিয়া থাকা সাদা সুকোমল বিছানায় বসতে দিল।

অনেকদিন পরে ঠাকুরবাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান হচ্ছে। তার মধ্যে আবার কন্যার পিতা অকালে স্বর্গবাসী। অতিথি অভ্যাগতদের কেউ যাতে তা অনুভব না করে তার জন্য ঠাকুরবাড়ির মুকুটমণি মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ সবাইকে বিশেষভাবে নজর দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। মহর্ষির পুত্র-কন্যা পুত্রবধূ- জামাই পৌত্র পৌত্রীরা… আত্মীয় কুটুম্ব বন্ধুবান্ধব , কলকাতার সাহিত্য কলা ক্ষেত্রের বিখ্যাত ব্যক্তিরা, কলকাতার কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকবৃন্দ, হাই কোর্টের জজ ব্যারিস্টাররা এমনকি উচ্চপদস্থ সাহেবরাও এই বিয়েতে সম্মানীয় অতিথি। ঝাড়বাতিতে শোভিত বিশাল বিবাহ মন্ডপে চেয়ার পেতে দিয়ে অতিথিদের বসার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। আমন্ত্রিতদের গেটের সামনে ফিনফিনে ধুতি-পাঞ্জাবি পরা সুদর্শন সুধীন্দ্রনাথ এবং বলেন্দ্রনাথ আন্তরিক অভ্যর্থনা জানিয়ে তাদের ভেতরে ডেকে এনে বসাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে সুগন্ধি শরবত। অন্যদিকে, ওদিকে চলছে আপ্যায়ন। সেখানে বয়োজ্যেষ্ঠ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ তদারকি করছেন। ঠাকুর পরিবারের কর্তামশাই, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ, বড় ছেলে দ্বিজেন্দ্রনাথ, দ্বিতীয় পুত্র সত্যেন্দ্রনাথ ভেতর মহলে অতি বিশিষ্ট অতিথিদের আপ্যায়নে ব্যস্ত। বিবাহ বাসরের দক্ষিণ দিকে কবি রবীন্দ্রনাথ তার ভক্তদের নিয়ে হাস‍্যালাপে মগ্ন। সবকিছু মিলিয়ে সত্যিই অভিজাত উৎসবমুখর এক বাতাবরণ।

এরকম একটি পরিবেশে এসে অসমিয়া তরুণ ছাত্রদের মনে কিছু পরিমাণে হীনমন্যতার বোধ সৃষ্টি হলেও তারা শান্ত এবং সুসংহত। প্রজ্ঞাসুন্দরীর বোন স্থানীয় যুবতিদের সঙ্গে বরযাত্রীরা সকৌতুক পরিহাসে হাসিয়ে এক আনন্দ মুখর পরিবেশ সৃষ্টি করল। কিন্তু লক্ষ্মীনাথের অন্তরটা ব্যথিত হয়ে পড়ল। আজ তার শুভ পরিণয় হতে চলেছে, অথচ তার সঙ্গে বাড়ির কোনো একজন অভিভাবক নেই, নেই কোনো একজন ভাই বা বোন, নেই শিবসাগর থেকে আসা কোনো একজন আত্মীয়। লক্ষ্মীনাথের মনটা দুর্বল হয়ে পড়ল। পুনরায় তাঁর মনে সেই আশঙ্কার সৃষ্টি হল, মা-বাবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে করতে চলেছে। এভাবে বিয়ে করে সে কি সুখী হতে পারবে?

ঠিক তখনই মহিলারা লক্ষ্মীনাথকে বিয়ের মূল মন্ডপে নিয়ে গেল।

এটা সর্বসাধারণ বাঙ্গালিদের বিয়ে নয়। বিয়েটা হবে ব্রাহ্মসমাজের বিধিমতে। এই বিয়েতে হোমের আয়োজন হবে না। শালগ্রাম শিলা থাকবে না। হোমের আয়োজন এবং শালগ্রাম শিলা ছাড়া হিন্দু বিয়ের সমস্ত আচার পালন করা হবে। বিয়ের মন্ডপে বসার সঙ্গে সঙ্গে পুনরায় উলুধ্বনি এবং ব্যান্ড পার্টির বাজনা বেজে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে চারপাশে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ল।

পুরোহিতের বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে তার অনুসরণে লক্ষ্মীনাথকে মন্ত্র উচ্চারণ করতে হল। তারপরে আরও একবার উলুধ্বনি দিয়ে অন্দরমহল থেকে কয়েকজন মহিলা কনে রূপী প্রজ্ঞাসুন্দরীকে এনে বিবাহ মন্ডপের কাছে দাঁড় করাল। মূল মণ্ডপে বরের সামনে বসার আগে কনের সঙ্গে বরের 'শুভদৃষ্টি পর্ব' সম্পন্ন করা হবে। লক্ষ্মীনাথ ইতিপূর্বে কখনও স্বচক্ষে প্রজ্ঞাসুন্দরীকে দেখে নি। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে ভাবী সহধর্মিনীর মুখ দেখতে পাবে। চার চোখের মিলন হবে। লক্ষ্মীনাথ ভেতরে ভেতরে রোমাঞ্চিত হয়ে পড়ল। স্ত্রী আচার শেষ হওয়ার পরে বর-কনের শুভদৃষ্টি হয়। লক্ষ্মীনাথ এবং প্রজ্ঞাসুন্দরীকে মুখোমুখি করে দাঁড় করান হল। লক্ষ্মীনাথ প্রজ্ঞাসুন্দরীর দিকে তাকাল। প্রজ্ঞাসুন্দরী ধীরে ধীরে মাথা তুলে লক্ষ্মীনাথের দিকে তাকিয়ে প্রথমে কিছু অবাক হল, তারপরই ফিক করে হেসে ফেলল। লক্ষ্মীনাথের মনে অনির্বচনীয় এক শিহরণ খেলে গেল এবং সে ও হেসে ফেলল।

বন্ধুবর্গ এবং কন্যা পক্ষের কমবেশি মহিলাদের হাসি ঠাট্টার মধ্যে শুভ দৃষ্টি সম্পন্ন হওয়ার পরে বর কনেকে মুখোমুখি করে বসানো হল।পুনরায় কিছু মন্ত্রোচ্চারণ… মন্ত্র উচ্চারণ করে কনে সম্প্রদান, তারপরে বর-কনের চাদরের বন্ধন।সেই বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আরম্ভ হল বর-কনের পবিত্র' 'সপ্তপদী গমন' । বর লক্ষ্মীনাথ আগে আগে।তার সঙ্গে চাদরের বন্ধনে আবদ্ধ কন্যা প্রজ্ঞাসুন্দরী পেছন পেছন। কাছে সারি পেতে দাঁড়িয়ে থাকা গুরুস্থানীয় আত্মীয়-স্বজন এবং শুভার্থীরা মঙ্গল কামনা করে সপ্তপদী গমণরত বর-কনের ওপরে পুষ্পবৃষ্টি করতে লাগল।

সঙ্গে বর-কনেকে পতি পত্নী রূপে বরণ করে সমবেত হওয়া বয়স্ক মহিলারা গাইলেন,

' আয়রে আয় সোনার জামাই

             বরণ করি শাঁখ বাজায়ে।

দেখ যেন যেয়ো নাকো

              ছাদনাতলায় মন হারিয়ে

বাসর ঘর।

মহিলারা প্রজ্ঞাকে বাসর ঘরে নিয়ে এল। তারা অনেকক্ষণ লক্ষ্মীনাথের সঙ্গে হাস্যপরিহাস করল। সেই হাস্যপরিহাসে লক্ষ্মীনাথও সমান অংশগ্রহণ করল। অবশেষে 'শুভ মধুযামিনী' বলে সম্ভাষণ জানিয়ে তারা বিদায় নিল। প্রজ্ঞা দরজা বন্ধ করতেই লক্ষ্মীনাথের দেহ মন রোমাঞ্চিত হয়ে উঠল। লক্ষ্মীনাথ প্রজ্ঞার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল। প্রজ্ঞার ঠোঁটদুটিতেও মোহময়ী হাসি। একে অপরকে হাসির দ্বারা সম্ভাষণ জানাল। কিন্তু লক্ষ্মীনাথের মনে কেমন যেন একটা সংকোচের ভাব। প্রজ্ঞার সামনে থেকে সরে গিয়ে দক্ষিণের খোলা জানালার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। বাইরে নির্জন হয়ে পড়া রাতের জোড়াসাঁকো। ঘর দুয়ার রাস্তাঘাটের ওপরে পাতলা কুয়াশা ভেসে বেড়াচ্ছে। কিছুক্ষণ সেগুলি দেখে এক পা দু পা করে এগিয়ে গিয়ে রজনীগন্ধা চামেলি ইত্যাদি সুগন্ধি ফুলে সাজানো বিছানায় বসল‌।

' ক্লান্ত লাগছে বুঝি?'

' একটু লাগছে বৈকি!' একটা তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলে লক্ষ্মীনাথ বলল,' বিয়ে করাটা বড্ড ঝামেলার দেখছি । কত রকম যে নিয়ম মানতে হয়।'

' তবু বাপু ছেলেদের কমই মানতে হয়। আমাকে যে কত দিন উপোস থাকতে হল।' লক্ষ্মীনাথের খুব কাছে এসে প্রজ্ঞা বলল,' খুব খারাপ লাগছে? বাতাস করব?'

'না না ততটা ক্লান্ত হইনি।'

' তুমি যে তেমন কিছু খেলেই না। রান্নাবান্না ভালো হয়নি?'

' সারাদিন যা ধকল গেল । ক্ষুধা শুকিয়ে গেছে।'

' তোমার জন্য দুধ রাখা আছে।বিয়ের রাতে বরকে দুধ খাওয়াতে হয়, এখন খাবে? আনব?'

' এখন থাক।এসো, আমার কাছে এসে বস।'

প্রজ্ঞা লক্ষ্মীনাথের বাঁ দিকে বসল। এতোটুকু কথাবার্তা বলতেই দুজনের মধ্যে জড়তা সংকোচ নাই হয়ে গেল। দুজনের প্রতি দুজনের ভাবটা এরকম যেন আগে থেকেই একে অপরকে জানে। আগে থেকেই নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা আছে।

'তোমার নাম প্রজ্ঞাসুন্দরী। কে দিল এমন একটি কঠিন নাম?'

' কেন তোমার পছন্দ হয়নি?'

' খুব পছন্দের নাম।' হাসতে হাসতে লক্ষ্মীনাথ বলল। কিন্তু উচ্চারণ করতে বেশ জোর দিতে হয়। আমি কিন্তু এই নামটা সহজ করে নেব। আমি তোমাকে'পরি' বলে ডাকব।'

'ওমা, এটাই তো আমার ডাকনাম।'

' বাহঃ ভালোই হল। আমিও যদি তোমাকে এই নামে ডাকি খারাপ পাবে?'

'কেন খারাপ পাব? ইচ্ছে করলে তুমি অন্য নামও রাখতে পার।'

'না, অন্য নাম রাখব না।পরি নামটাই বেশ ভালো। আচ্ছা শুভদৃষ্টির সময় তুমি যে ফিক করে হেসে ফেললে – ব্যাপার কী বলতো?'

প্রজ্ঞা গভীরদৃষ্টিতে লক্ষ্মীনাথের মুখের দিকে তাকাল।তাঁর আয়ত চোখ জোড়ায় ভালোবাসা, অনন্ত অনুরাগ।

' আমি যে তোমাকে স্বপ্নে দেখেছিলাম গো।' সে বলল, 'শুভদৃষ্টির সময় স্বপ্ন দেখার কথাটা মনে পড়ে গেল।'

' বিয়ের আগে আমাকে কখনও দেখনি। তথাপি যে স্বপ্নে দেখলে!'

' কেন দেখলাম জানিনে? কিন্তু স্বপ্নে দেখার মতোই তো তুমি।'

' স্বপ্নে দেখার মতোই আমি!'

'হ‍্যাঁগো । বিশ্বাস কর, এই তোমার গা ছুয়ে বলছি।' প্রজ্ঞার কন্ঠে আবেগ,' সেই মুখ, সেই চোখ ,সেই নাক, সেই কপাল। আর জান, এতদিন যেন আমি তোমাকেই খুঁজছিলাম। তার জন্যই আমার অন্য কাউকে পছন্দ হয়নি।তোমাকে পেয়ে আমার জীবন ধন্য হল। আজ আমার সাত জন্মের তপস্যা সফল হল।'

তারপরে সে আর দূরে সরে থাকতে পারল না। নিজের অজান্তেই লক্ষ্মীনাথের কাছে চলে এল।

' এদিকে আমার কি হয়েছিল জান?' লক্ষ্মীনাথের কন্ঠে অনুরাগের আবেশ,' একের পর এক বিয়ের প্রস্তাব আসছিল। সব প্রস্তাব অস্বীকার করে যাচ্ছিলাম। তাছাড়া এম এর সঙ্গে বি এল পাস করে নিজে স্বাধীনভাবে কিছু একটা না করা পর্যন্ত বিয়ে করব না বলে শপথ নিয়েছিলাম। কিন্তু যে মুহূর্তে তোমার ফোটোগ্রাফ হাতে পড়ল সেই মুহূর্তে সব ওলট পালট হয়ে গেল। সংকল্পের কথা বেমালুম ভুলে গেলাম। তুমি জীবনসঙ্গিনী হবে বলে আমার মনে এক আলোড়নের সৃষ্টি হল। প্রত্যেকদিন তিন-চারবার করে তোমার ফোটোটা দেখতে লাগলাম। তখন এমন মনে হত যেন আমার দিকে তুমি তাকিয়ে রয়েছ। আমার সঙ্গে কথা বলছ, যেন তুমি আমার পরম আত্মীয়। তোমার সঙ্গে আমার জন্ম জন্মান্তরের সম্পর্ক। কেমন করে এমনটা হল বলতো ?সম্ভব ,ঈশ্বরের ইচ্ছাতেই এমনটাই হল। অস্ফুট কন্ঠে লক্ষ্মীনাথ বলল,' ঈশ্বরই আমাদের এমন করে মিলিয়ে দিলেন। প্রজ্ঞা একদৃষ্টে তাকিয়ে রয়েছে লক্ষ্মীনাথের দিকে। তাকিয়ে থাকতে থাকতে তার চোখজোড়া সজল হয়ে উঠল। সঙ্গে তার মাথার ঘোমটা খসে পড়ল। অপরুপা প্রজ্ঞার রূপ লক্ষীনাথকে শিহরিত করে তুলল।তাঁর স্পর্শ কাতর বাম হাত প্রজ্ঞাসুন্দরীর পিঠের দিকে এগিয়ে গেল। প্রজ্ঞার নিরাভরণ পিঠে স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর হাতটা কেঁপে উঠল। লক্ষ্মীনাথ অনুভব করল, প্রজ্ঞা তো বাঙালি রমণী। প্রজ্ঞার কথা-বার্তা, সাজ পোশাক, চাল-চলনে বঙ্গ সংস্কৃতির ঐশ্বর্য। আর এতক্ষণ পর্যন্ত প্রজ্ঞার সঙ্গে যেভাবে ভাবের আদান প্রদান করল, সে সবও বাংলা ভাষায় করল। বাড়ির অবিভাবকরা নির্বাচন করা মেয়েটিকে বিয়ে করলে মাতৃভাষায় ভাব বিনিময় করতে পারত। এটাই লক্ষ্মীনাথের মনে একটা জড়তার সৃষ্টি করল। তবে এখন আর উপায় নেই। প্রজ্ঞা যে অসমিয়া বলতে পারে না। সে ভিন্ন ভাষা-ভাষী। তবে ভিন্ন-ভাষী হলেও দুজনের মধ্যে হৃদয়াবেগের কোনো অভাব নেই।


শব্দব্রাউজ ৫১৪ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-514, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫১৪ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-514, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ- ৫১৪ ।। নীলাঞ্জন কুমার

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ২৫। ৬। ২২। সকাল সাতটা পন্ঞ্চাশ মিনিট ।



শব্দসূত্র: তুই আমায় ছুঁয়ে যা



তুই ছুঁয়ে দিলেই নাচে প্রেম

সব বাস্তব ওলটপালট ।


আবেগ আমায় খায়

আনে মোহ ।


ছুঁতেই পারি তোর রক্তমাংস

তোর জনন, ইন্দ্রিয় ।


যা বললেই কি তখন যাবো ?

আমার যে সর্বনাশ হয়ে গেছে !


আটপৌরে ২৭২|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 272, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ২৭২|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 272, by Sudip Biswas



২৭২.
স্পর্শটুকু

অজ্ঞাতপূর্ব। অনাবিষ্কৃত। অনাবিলে। 

আনন্দসুধা

নদীজল ফুলে ফুলে ঢ'লে।

রবিবার, ২৬ জুন, ২০২২

আটপৌরে ২৭১|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 271, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ২৭১|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 271, by Sudip Biswas



২৭১.
স্বর্ণসুধা

পরিপূর্ণ। অবকাশে। পৃথিবীগ্রাম।

প্রভাত-উৎসবে

ঢালো প্রাণ মনোরম নিকুঞ্জে।

শব্দব্রাউজ ৫১৩ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-513, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫১৩ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-513, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ- ৫১৩ ।। নীলাঞ্জন কুমার

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ২৪। ৬। ২০২২। সকাল আটটা ।

শব্দসূত্র : খুলে যাবে এই দ্বার

খুলে দাও বন্ধন ডোর । ভেসে বেড়াই উড়ে বেড়াই । নিষ্পাপ মন আমার সঙ্গে থাক । আমি হাসি শুধু হাসি ।

সেই অট্টহাসি ছড়িয়ে যাক দিক দিগন্তরে ।

যাবে যাক লভ্যাংশ । হিসেবের যন্ত্রণা থেকে তখন মুক্তি । তখন শব্দসন্ধান আরো সুচারু ।

এই জীবন উজ্জ্বল এক ঝাঁক পায়রা হতে চায় । হা হা ।

দুয়ার খুলে রাখো । আমি যাবো । থাকবো । আজীবন । চোখে চোখ রাখবো । ভাসবো । গাইবো ' প্রেমের জোয়ারে ভাসালে দোঁহারে '।

শনিবার, ২৫ জুন, ২০২২

আটপৌরে ২৭০|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 270, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ২৭০|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 270, by Sudip Biswas



২৭০.
মহাসত্য

নিত্যজীবন। অনিবার্য। শক্তিক্ষয়।

যোগাযোগ 

 বন্ধন-বিধৃত মহাবিশ্বে যৌথ প্রযোজনা।

শব্দব্রাউজ ৫১২ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-512, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫১২ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-512, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ- ৫১২ ।। নীলাঞ্জন কুমার


বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ২৩। ৬। ২০২২। সকাল ছ টা পন্ঞ্চাশ মিনিট ।



শব্দসূত্র: সারাদিন তোমায় ভেবে


১।

সারাদিন ধরে এক ধারা এক রুটিন ক্রমশ অভ্যাসে সারাদিন ধরে পৃথিবীর যাবতীয় চিন্তা আমার ভাবনায়।সারাদিন ধরে নির্ভুল শব্দের সন্ধানে ব্যস্ত ব্যস্ত আর ব্যস্ত



২।

তোমায় সমুদ্র দেব বলে সমুদ্রের কাছে ছুটে যাই

তোমায় ভালোবাসা দেব বলে দিগন্ত রঙিন করে তুলি

তোমায় স্বপ্ন দেব বলে তোমার চোখ মধুময় ।



৩।

ভেবে দেখি মানুষের কাছে কতদিন দাঁড়াতে পারি

ভেবে দেখি এই ছোট্ট জীবন ঠিক কতখানি আমার

ভেবে দেখি স্মৃতি বিজড়িত দিন কতখানি আমায় ছোঁয়।

শুক্রবার, ২৪ জুন, ২০২২

আটপৌরে ২৬৯|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 269, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ২৬৯|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 269, by Sudip Biswas



২৬৯.
উপলক্ষ 

অপরিদৃশ্য।সম্মিলিত।রক্তস্রোতে। 

বিশ্লেষণ 

ভাবময় সময়ের পথে আত্মদর্শন।

শব্দব্রাউজ ৫১১ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-511, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫১১ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-511, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ- ৫১১ ।। নীলাঞ্জন কুমার

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ২২। ৬। ২২।সকাল ৮টা ।


শব্দসূত্র: কথোপকথনে সময় হারায়


বড় বেশি কথোপকথন চলছে সব জায়গায় । বড় বেশি গোলা উক্তি করে দিন কাটাচ্ছে হাজারো মানুষ । আলটপকা মন্তব্যের মধ্যে মজা নিয়ে জনারণ্যে মিশে যাচ্ছে ।


বোঝা যাচ্ছে সময় কিভাবে হারাচ্ছি আমরা। ভুলত্রুটির ভেতর দিয়ে সে সময় আর ফিরে আসছে না ।


হারাই উপার্জন । হারাই যৌবন । হারাই প্রিয়তা নিজের দোষে । কথোপকথন মানুষের ভেতর রয়ে যায় আজীবন । কখনো কখনো অবদমন থেকে উঠে এসে ছড়িয়ে যায় ।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০২২

শব্দব্রাউজ ৫১০ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-510, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫১০ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-510, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ- ৫১০ ।। নীলাঞ্জন কুমার


বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ২১। ৬। ২০২২। সকাল সাতটা পন্ঞ্চাশ মিনিট

শব্দসূত্র: আপনা হাত জগন্নাথ


আপনা জীবন ছুটে মরে সুখের জন্যে । সুখের জন্য ছুঁয়ে থাকি প্রেম । প্রেম থেকে অর্গাজম । মুগ্ধ নয়ন মেলে দিয়ে নারীর চোখে চোখ রেখে সুখ খুঁজি ।

হাত কি ভীষণ দামী! বড় অলৌকিক! সব বাস্তব হাতে এলে অভিজ্ঞতা তৈরি হয় ।নিখুঁত জীবন গড়ে তুলতে সাহায্য করে ।

জগন্নাথের হয়তো হাত নেই , কিন্তু আমরা তাঁর অদৃশ্য হাত দিয়ে আশীর্বাদ চাই । হাজারো মানুষ তার সামনে ভীড় জমাই । কি আশ্চর্য!

আটপৌরে ২৬৮|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 268, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ২৬৮|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 268, by Sudip Biswas



২৬৮.
সমন্বিত 

চেতনায়। ব্যক্ত-অব্যক্ত। বস্তুজগৎ। 

পরম্পরায় 

উদ্ভাসিত অসীম আনন্দের মিলনায়তন।

বুধবার, ২২ জুন, ২০২২

কিছু বই কিছু কথা- -২৯৬। নীলাঞ্জন কুমার বায়োপলিটিক্স । পাপড়ি গুহ নিয়োগী । বৈভাষিক, ভদ্রকালী হুগলি

কিছু বই কিছু কথা- -২৯৬। নীলাঞ্জন কুমার




বায়োপলিটিক্স । পাপড়ি গুহ নিয়োগী । বৈভাষিক,  ভদ্রকালী হুগলি ।
একশো কুড়ি টাকা ।

কবি পাপড়ি গুহ নিয়োগীর ' বায়োপলিটিক্স ' বইটি কোচবিহারের এক অনুষ্ঠানে উপহার পেয়ে ও পড়ে বিশেষ উপকৃত হয়েছি বলা যায় । কবি পাপড়ির কবিতা র তীব্রতা ও তীক্ষ্মতা তাকে বিরাট স্প্যানে দাঁড় করিয়ে দেয় । যদি এই কবির কবিতার ভূমিকা কাব্যগ্রন্থে প্রকাশ করা স্রেফ বাহুল্য মাত্র তবু যিনি এর ভূমিকা লিখেছেন তিনি এই কবিকে ঠিকঠাক ধরতে পেরেছেন বলে বাহবা দিতে হয় । ভূমিকাকারের কথায় ' কবিতা তো আসলে একটা বিদ্রোহ ' কিংবা ' শাসকের চোখে চোখ রেখে গর্জে ওঠেন তিনি তাঁর ' বায়োপলিটিক্স ' কাব্যগ্রন্থেরপ্রতিটি কবিতায় ' কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি কবিতায়,'  এ কথা কাব্যগ্রন্থটি পড়তে পড়তে সহমত হতে হয় । ' মাদারচোদ এখন ছেলেমেয়েদের লিরিক 'এর মতো কবিতার লাইন পাপড়ির কবিতার প্রতিবাদী দিকটি বিশেষভাবে চিনতে সাহায্য করে।
              কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতাটি আমায় তন্ময় করে: ' মৃত্যু/  ঠিক আছে/ মৃতদেহ! ' ( ' খেদ ') বর্তমান বাস্তবকে  ঠিকরে সামনে তুলে আনে ।এছাড়াও তাঁর কবিতায় জ্বালাময়ী পংক্তি পাই:  ' ওরা অন্ডকোষের ঘা চেটে/  বগল চেটে/  হাতল তৈরি করে ' ( জবাতন্ত্র '), ' মানুষের বাজারে সব যখন জট পাকিয়ে যায়/  সম্পূর্ণ নগ্ন আমরা ধীরে ধীরে দালাল হয়ে উঠি '( ' দেশদ্রোহীর ডায়েরি -৭') , ' ঈশ্বরকে আলিঙ্গন করে দেখিয়ে দেব/  মানচিত্রে অস্ত্রোপচারের ভিডিও ' ( ' দেশদ্রোহীর ডায়েরি- ৬) , 'আজকাল থুথু গিলে/বাক্ স্বাধীনতা নিয়ে আত্মহত্যা আঁকি ' ( সেলিব্রেশন '), ' ক্রমাগত আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি/ জ্বর, কাশি শ্বাসকষ্টের চেয়েও/  আজকাল পেটকে ভয় করে '  ( ' একটু শুনবেন স্যার ') সত্যি সত্যি তিনি সমাজের হৃৎপিন্ড উপড়ে আমাদের সামনে দেখাতে চেষ্টা করেছেন । হিরণ মিত্রের করা প্রচ্ছদ বর্তমান সময়ের কথা আমাদের শোনান তাঁর মুন্সিয়ানা দিয়ে ।




শব্দব্রাউজ ৫০৯ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-509, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫০৯ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-509, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ- ৫০৯ ।। নীলাঞ্জন কুমার


বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ২০। ৬। ২০২২। সকাল ৭টা ৫০মিনিট ।



শব্দসূত্র: কেউ দিলো না রা



১। কেউ উচিত কথা বলতে গিয়ে গলা নিচু করে বলে । নির্ভয়ে অসংখ্য গালিগালাজ ছুঁড়ে দিতে পারে না । কেউ খুশি মতো গানের ভেতর শ্লীল অশ্লীল খোঁজে। কাব্য গঙ্গাজলে ধুয়ে পড়ে ।



২। সকাল দিলো শুধু হিসেবের ইঙ্গিত । এভাবে নিত্য জীবনের স্বাদ । তন্ময়তা কোথায়? হা হা ....



৩। না, এই জীবন এভাবেই যেতে হবে । না হলে তুমি আস্তাকুড়ে । নায্য স্বীকৃতি উধাও ।



৪। রা কাড়লে দন্ড । ফেসবুক বড় সতর্ক ।

আটপৌরে ২৬৭|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 267, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ২৬৭|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 267, by Sudip Biswas



২৬৭.
প্রকারান্তর

তৃপ্ত-সন্তুষ্ট। জীবনপথ। আকুলিত। 

প্রবাহধারায়

অনুনাদিত শক্তিপুঞ্জে সতত অনুভব।

মঙ্গলবার, ২১ জুন, ২০২২

আটপৌরে ২৬৬ || সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 266, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ২৬৬|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 266, by Sudip Biswas



২৬৬.
প্রাণের খেলা 

উতল।প্রাণে।ফাগুন-হার।

হৃদিকমলে

শয়ন স্বপন নীল সরোবর।

শব্দব্রাউজ ৫০৮ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-508, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫০৮ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-508, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ- ৫০৮ ।। নীলাঞ্জন কুমার

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ১৯। ৬। ২০২২। সকাল ৯টা ২০ মিনিট ।



শব্দসূত্র: বাঁধন ছিঁড়ে উড়ে যা



বাঁধন হরেক প্রকারের । কোনোটা কষ্টের কোনোটা সুখের । কোনটা বাস্তব কোনোটা অলীক । উন্মন মনের ছন্দ স্বচ্ছন্দ হতে চায় যে বাঁধনে , তাকে স্বপ্নে দেখা পেতে হয় । সে বাঁধন ছিঁড়ে জেগে উঠতে ইচ্ছেই করে না ।



বাস্তবের শেকল অনেক মেহনতে ছিঁড়ি । প্রেম বাঁধন ছিঁড়তে গেলে বুকে বাজে । চোখ ভরা জল কোথা থেকে গড়িয়ে পড়ে মাটিতে ।



মন উড়তে চায় । তবু সে ফিরে আসে এই খাঁচায় । এখানেই জিত সত্তার । হা হা ।



যা বললেই যাওয়া যায় না । তার জন্যে ইচ্ছে লাগে । সে ইচ্ছে নিয়ে কত দূরদূরান্তরে ছুটে যাওয়া .....



সোমবার, ২০ জুন, ২০২২

আটপৌরে ২৬৫ || সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 265, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ২৬৫|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 265, by Sudip Biswas



২৬৫.
বুনোপথ

চার্ণককুমার। অকাল -মানুষ। স্বপ্নজাল।  

ইতিহাস 

তিমিরেই আলোচনা আজ তিলোত্তমা।

শব্দব্রাউজ ৫০৭ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-507, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫০৭ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-507, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ- ৫০৭ ।। নীলাঞ্জন কুমার


বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ১৮। ৬। ২০২২। সকাল সাড়ে আটটা ।



শব্দসূত্র: ঘর বানালাম শুন্যের মাঝে



প্রকৃত ঘর কি পাওয়া যায়? ঘরের মিষ্টি স্বপ্ন যখন বুকে বাসা বাঁধে, তখন উল্লাস আপনিই গড়ে ওঠে ।



ঘর বানানোর হাজারো হ্যাপা । ভালো মন্দের তত্ত্ব তখন হাজির । লোকে বলার ওপর নির্ভর করে সুন্দর অসুন্দর । আমার আনন্দ হতাশা ।



শূন্যের সঙ্গে দোস্তি করে ঘর বানাই ।শূন্য আমাকে উজাড় করে দিতে চায় । ঘর বাড়ি ভালো মন্দ যদিও আমার দায় ।



ঘরের ভেতরে যে ঘর তাতে অনেক আবডাল । ঠিক মনের মতো । অনায়াসে উলঙ্গ হতে পারা যায় ।

রবিবার, ১৯ জুন, ২০২২

কিছু বই কিছু কথা - ২৯৫ । নীলাঞ্জন কুমার জাদুটোনা । দেবান্ঞ্জন চক্রবর্তী । নিউ ভারত সাহিত্য কুটির

কিছু বই কিছু কথা - ২৯৫ । নীলাঞ্জন কুমার




জাদুটোনা । দেবান্ঞ্জন চক্রবর্তী । নিউ ভারত সাহিত্য কুটির
, কলকাতা- ৯ । একশো টাকা ।


কবি দেবান্ঞ্জন চক্রবর্তীর বাংলা কবিতার জগতে স্থান আছে বলা বাহুল্য ।আমবা তাঁর সদ্য প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ' জাদুটোনা ' যদি পড়ে ফেলি তবে তার ভূমিকার ভেতর এক অমোঘ সত্য তুলে ধরেছেন তা দেখতে পাই , যা হল: ' কাব্যের মাদকতায় আচ্ছন্ন হলে একদিকে যেমন জীবনে অনেক অতৃপ্তি আসে অন্যদিকে সেটি রঙে-রসে- রূপে- বর্ণে- গন্ধে ভরে ওঠে । ' কবি প্রকৃতার্থে সেই বর্ণে গন্ধে জাদুতে মেতেছেন যা স্রেফ হাতসাফাই নয় । তাঁর পংক্তিতে দেখতে পাই:  ' খানিকটা পুষ্টিকর মেঘ আর কুন্ঠাহীন জ্যোৎস্না ও রোদ/  সকলেই পেয়ে থাকে পাখি ও পাথরও ....' ( ' কোটরসর-  তীরথগড় ') , ' দারিদ্র্য রেখার নীচে ' যে মেয়েরা গান গায়,  খুনসুটি করে/  তাদের প্রশ্ন করি,  রঙিন মাছের চাষ কোথায় শেখেন ।' (' দারিদ্র্য রেখার নীচে ') , ' মার খাওয়া বাংলা ভাষা আশ্রয় নিচ্ছে জঙ্গলে/  অপমানে তার পিঠ বেঁকে গিয়ে দেওয়ালে ঠেকেছে/  হেমব্রম সরেন হাঁসদা দের ঘরে ঘরে এখন তার নবজন্মের নামতা ... ( 'ভালো পাহাড় ') ।
                কবি দেবান্ঞ্জনের কবিতার চরিত্রে রয়েছে নতুন শব্দের মাধ্যমে নতুন নতুন চিন্তার প্রকাশের কথা ভাবা । কবি বহু দেখেছেন আর দেখেছেন বলে অবলীলায় বলতে পারেন:  ' কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের পায়ের শব্দ শিকারী শোনেনি ।/ যুবতীরা ভয়ে রাত জেগে শুয়ে আছে '( দয়াময়)  , কোন কোন মানুষও জীবন প্রবাহে/  ছেড়ে দেওয়া ভূতজালে ধরা পড়ে,  বন্দী থাকে আজীবন .....' ( ' 'ভূতজাল')।
                কবির এই ভাবনা যে এই আলোচককে তাড়িত করবে একথা সঠিক । তাঁর পরবর্তী কাব্যগ্রন্থের দিকে তাকিয়ে রইলাম । প্রচ্ছদ কবিকৃত । আরো ভাবনার অবকাশ ছিল ।

আটপৌরে ২৬৪|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 264, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ২৬৪|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 264, by Sudip Biswas



২৬৪.
গোপনতা

শ্যাওলার। শিয়ামেন। স্বপনচারিনী। 

নীলজলে

নিয়েছে নিয়মিত নীতিমালা সিন্ধুকাল।

শব্দব্রাউজ ৫০৬ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-506, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫০৬ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-506, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ- ৫০৬ ।। নীলাঞ্জন কুমার

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ১৭। ৬। ২০২২।সকাল সাতটা পন্ঞ্চাশ মিনিট ।


শব্দসূত্র: সকালে সুন্দর শব্দের নেশায়


সকালে বাতাসের সঙ্গে শব্দ উড়ে আসে । সে শব্দ ধরি ।

কাগজে লিখি । আর নিজেকে শব্দ শিকারী ভাবি ।

সুন্দর শব্দ আমায় ভালো থাকতে শেখায় । সুন্দরতর শব্দের আকাঙ্ক্ষায় থাকি ।

শব্দের নেশায় যে মাতলামো তা মহূয়ার নেশাকে হার মানায় । মিশে যাই শব্দ অনুভবে ।

সকাল । সুন্দর । শব্দ । নেশা । আমি । ব্রম্ভ্রান্ড। এই জীবন এমনি করে যায় তো যাক না ।


শনিবার, ১৮ জুন, ২০২২

শব্দব্রাউজ ৫০৫ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-505, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫০৫ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-505, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ- ৫০৫ ।। নীলাঞ্জন কুমার

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ১৬। ৬। ২০২২। সকাল সাতটা পন্ঞ্চাশ মিনিট ।



শব্দসূত্র: ছিলাম আছি থাকবো



অতীতে ছিলাম বর্তমানে আছি আর ভবিষ্যতেও থাকবো এ বিশ্বাসে শব্দ উঠে আসে অভ্যন্তরে । নিরবে বিদ্যুৎ বয় রক্তে ।



আছি পরিশ্রমে, সত্যে । আছি জীবন পাত্র পরিপূর্ণ করতে । নিশিদিন এভাবে ।



থাকবো চিরতরে । এ মন্ত্র আমায় টানে । শব্দ বয় তাকে বাছাই করে কাগজে কলমে টেনে আনি । থাকবো হে থাকবো । এ আত্মবিশ্বাস অতি আত্মবিশ্বাস নয় ।

আটপৌরে ২৬৩|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 263, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ২৬৩|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 263, by Sudip Biswas



২৬৩.
মান্দাস

করমজল। ধর্মজ্ঞানহীন।এয়োতী। 

সওয়ার 

বেহুলাবাংলার অকূল সুদূরে শ্রীমতী।

শুক্রবার, ১৭ জুন, ২০২২

আটপৌরে ২৬২|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 262, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ২৬২|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 262, by Sudip Biswas



২৬২.
সিন্ধুতটে 

প্রশান্ত। করপুটতল। কতদূরে। 


ভুসুকুপাদ-সমীপে

আধপোড়া কপাল খরজল প্রাণ-ভ্রমরে।

শব্দব্রাউজ ৫০৪ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-504, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫০৪ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-504, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ- ৫০৪ ।। নীলাঞ্জন কুমার


বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা ।১৫।৬। ২২। সময় সাড়ে আটটা ।



শব্দসূত্র: কানে বাজে পোটোগান



কানের ভেতর দিয়ে মরমে গিয়ে যে শব্দ আকুল করে তোলে, তা আমাকে দলিত মথিত করে । ক্ষমাই বলুন কিংবা অনুগ্রহই বলুন আমরা প্রসন্ন হয়ে সব পূরণ করে দিই । কানে পোটোগান বাজলে আমরা দুলে উঠি তার সুরে ।



বাজে গান, বেশি করে বাজে । বাজে শব্দের ছোঁয়া সর্বত্র । বাজে নিন্দা আমাদের ভেতরে আলাদা তৃপ্তি দেয় । আহা! আমরা কত সাধারণ, ভোঁতা তরবারির মতো ।



পোটোগানের দর বাড়ছে হে । শিল্প বাবুদের ডিজিটাল ক্যামেরা তাকে বন্দি করছে । তারপর লুটে নেওয়া গান চ্যানেলে চ্যানেলে ঘুরে বৈভব বাড়ে । আমরা শুনি আর শুনি

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০২২

আটপৌরে ২৬১|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 261, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ২৬১|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 261, by Sudip Biswas



২৬১.
কাল্পনিক 

অস্তিত্বের। কয়েকজন। কালপুরুষ। 

ভিতরঘরে

ফরাস বিছিয়েছি কালো মুখের।

শব্দব্রাউজ ৫০৩ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-503, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫০৩ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-503, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ ৫০৩

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ১৪। ৬। ২২। সময় সকাল আটটা ।



শব্দসূত্র: সুখের ঘরের চাবিকাঠি



১। সুখ দুদিনের হলেও

        তার ছাপ

                    মোছা যায় না ।


২। ঘর ভর্তি সুন্দর

      বন্ধ ঘরে

                  অসহ্য ।


৩। চাবিকাঠি খুঁজে না পেলে

     যে বিপর্যয়

      শত ধাক্কা সমাধান করতে পারে না ।উজ- ৫০৩ ।। নীলাঞ্জন কুমার

বুধবার, ১৫ জুন, ২০২২

আটপৌরে ২৬০|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 260, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ২৬০|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 260, by Sudip Biswas



২৬০.
আঁখি বনে

চপল। আঁখি। বনের-পাখি।

বসন্তপঞ্চমে

জীবনের সন্ধানে হোক পরিচয়।

শব্দব্রাউজ ৫০২ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-502, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫০২ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-502, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ- ৫০২ ।। নীলাঞ্জন কুমার

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ১৩। ৬। ২২। সময় সকাল আটটা ।

শব্দসূত্র: কফি হাউসে সৃজনের গভীরে


কফি হাউসের ভাঙা সিঁড়ি একটা করে পেরতে পেরতে পৌঁছে যাই সৃজনে যে কখন! কালো কফির সঙ্গে আড্ডার সুরে হিন্দোল বাজে। নন্দিতাকমলঅরূপমৃণাল আমিসুভাষ মিলেমিশে সেই সুরে গান গাই নিজস্ব ভাষায় ।

কবিতার সৃজন আমায় ভালোবাসে । প্রতিদিন তাকে নিয়ে খেলাধূলা । নিঃশ্বাস প্রশ্বাস তখন তীব্র । ফুসফুসে বাড়তি অক্সিজেন । আমি বুঝি আমার আয়ু বাড়ছে । বাড়ছে বাড়ছে বাড়ছেই ।

গভীরে আছি । তবু অতৃপ্ত । আরো গভীর । আরো গভীর । আরো গভীরের আকাঙ্ক্ষা আমায় বাঁচিয়ে রাখে ।



মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০২২

আটপৌরে ২৫৯|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 259, by Sudip Biswas

আটপৌরে ২৫৯|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 259, by Sudip Biswas



২৫৯.
আকুলতা 

তোমারি। খোঁজে। এসেছি।

ফাগুনমাস 

হৃদয়ের দখিনবায় তোমার বসবাস।

শব্দব্রাউজ ৫০১ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-501, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫০১ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-501, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ- ৫০১ ।। নীলাঞ্জন কুমার

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা ।১২। ৬। ২০২২। সময় সকাল ন ' টা ।

শব্দসূত্র: ছোট ছোট কথার ভেতরে


ছোট কথার ভেতর

হরেক শব্দ উঠে আসে

                            অদৃশ্য থেকে ।


ছোট শব্দকণা

জুড়ে জুড়ে যে কথা

                   অবলীলায় বলে চলি !


কথার ভেতর থেকে

কথা উপচে ওঠে

                   অজান্তে ।


ভেতরের অলৌকিক উপলব্ধি

কেমন করে গ্রাস করে সকলকে ,

                                        কেউ ভাবে ?


Student Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...