মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০

দশটি হাইকু || ফটিক চৌধুরী || কবিতা

 দশটি হাইকু

ফটিক চৌধুরী



১. রবিঠাকুর

কাছে টানে নীরবে

বাড়ায় হাত।


২.প্রাণের টানে

কবিতায় এসেছি

কবিতা জানে!


৩.রাত বাড়ুক

আসবে সুপ্রভাত

তোমার জন্য।


৪.ঘুমের ঘোরে

তোমাকে প্রতিরাতে

কাছেই পাই।


৫.দিবস রাতি

চোখেরই পাতায়

জীবন মাখি।


৬.আমি অতল

খুঁজি, তুমি যেখানে

থাক গভীরে।


৭.কিসের টানে

চেয়ে আকাশ পানে

মনই জানে।


৮. পুরনো দিন

পথের পাশে জমে

কুড়িয়ে নেবে?


৯.ভীষণ খরা

প্রবল ধারাপাত

আসুক জরা।


১০.প্রহর গোনো

দেখ যমদূত কী

আছে দাঁড়িয়ে!

আটপৌরে কবিতা ৯৪৬-৯৫০ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক

আটপৌরে কবিতা

নীলাঞ্জন কুমার

৯৪৬

স্থায়ী/  অধিকার/  বাসিন্দা
      ) পাকাপাকি  (
হলে তবে সন্মান আসে ।

৯৪৭

গন্ধ/  স্বাদ/  লোভ
   ) খোসবাই  (
আমাদের খিদে বাড়িয়ে দেয় !

৯৪৮

বিশিষ্ট/  গভীর/  মনোযোগ
        ) তাৎপর্যপূর্ণ  (
কিছুটা আমাদের আশ্রয় বাড়ায় ।

৯৪৯

সংযত/  লক্ষ্যমাত্রা/  সুন্দর
       ) মাত্রাবোধ  (
না থাকলে সব তালগোল ।

৯৫০

গোঁড়ামি/  ভেদ/ সাম্প্রদায়িক
       ) জাতধর্ম  (
মানুষকে ক্রমাগত বিচ্ছিন্ন করে ।

কিছু বই কিছু কথা। নীলাঞ্জন কুমার উটের শহর । নমিতা চৌধুরী । চেতনা

 কিছু বই কিছু কথা। নীলাঞ্জন কুমার 




উটের শহর । নমিতা চৌধুরী । চেতনা । আঠারো টাকা ।



ভিন্ন ভিন্ন কবির কবিতায়  আলাদা আলাদা চেতনার গুণে কবিতা জীবন্ত হয়ে ওঠে । সেই জীবনের সন্ধানে ধাবিত হয় কাব্যসম্বল মানুষজন । তাই যখন:  ' দেখেছি কিভাবে স্বেদ রক্ত মাখামাখি/  বিকলাঙ্গ একটি নতুন দিন/  সাদা ধবধবে নার্সের কোলে চোখ বুজে ঘুমিয়ে রয়েছে । ' ( নিদ্রাহীনতা ') এর মতো  কবিতাকণা কোন পাঠক পান , তখন তাঁর ভেতরে কেমন স্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে!  কবি নমিতা চৌধুরীর  'উটের শহর ' কাব্যগ্রন্থে আছে এ ধরনের অজস্র পংক্তি,  যা আজ থেকে বাইশ বছর আগে প্রকাশিত হয়েছিল ।

                 নমিতার কবিতাতে আরো পাই:  '  ধুলোর ক্লান্তি মেখে দরজায়/  চর্যাপদ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন / শব্দ থেকে শব্দ ঘুরে বসি '( ' পর্বান্তর ' ), 'জন্মহীন দাগের মতন - / নীলজলে গুলে যাচ্ছে সময় ' ( ' প্রজন্ম কথায় ') , ' আলতা পায়ে অন্ধবধির জানে/  প্রকৃতির বিবাহ মঙ্গল ।' ( ' তিনকন্যা '), ' সেই সব এলোমেলো ভাষা শব্দহীন/  বৃক্ষের কোটরে নিম খুন ডেকে আনে ' ( ' নিম খুন ' ) এর মতো  উজ্জ্বল পংক্তি তাঁর লেখা পড়ার চাহিদা বাড়ায় । 

                 একথা বলা যেতে পারে,   কবি এই সব নিম্নগ্রামের কবিতার ভেতরে বেছে নেন কিছু প্রত্যয়। তিনি নিঃশব্দে কিছু ম্যাজিক উপহার দেন,  যার জন্যে গিলি গিলি গে, অ্যাবরা ড্যাবরা উচ্চারণ করে পাঠকের মনকে বিক্ষিপ্ত করতে হয় না । ' উটের শহর ' সেই পর্যায়ের কাব্যগ্রন্থ যা সত্যেরসামনে দাঁড় করাতে শেখায় , বাজারী কবিদের মতো ভান শেখায় না । 

                  কবির সত্যকে আবিষ্কার করা পাঠকের কর্তব্য , যা মেখে নিতে হয় মনের গোপন কোণে । হিরণ মিত্রের প্রচ্ছদচিত্র ব্যতিক্রমী ।  বর্তমানে তিনি এই ধরনের প্রচ্ছদ পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। প্রচ্ছদটি অসামান্য চেতনার ফলশ্রুতি বলে ধারনা জন্মায় ।

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১৬৯ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৬৯.

এবার রাজকল্যাণ চেল। আমার এই লেখাটিতে বেশ অনেকবার রাজকল্যাণের প্রসঙ্গ এসেছে। সেইসব প্রসঙ্গে আমি রাজকল্যাণ সম্বন্ধীয় বহুকথা বলেছি। এবার আমি একটিও আমার কথা বলব না। পুরোটাই রাজকল্যাণ যা লিখেছিল , আমি সেগুলি আপনাদের পড়াতে চাইছি। পড়তে থাকুন :

' এই মুহূর্তে বাংলা কবিতার রাজ্যে বৃহত্তম পরিবার অবশ্যই কবিতাপাক্ষিক পরিবার। শুধু আসমুদ্র হিমাচল নয় , কবি প্রেমেন্দ্র মিত্র কথিত --" দক্ষিণে সুন্দরবন।উত্তরে টেরাইও নয়।"আরৌ দূরে ভারতবর্ষের অন্যত্র থেকে বিশ্বেরও বিভিন্ন প্রান্তে এ পরিবারের পারিবারিক সীমানা বিস্তৃত। ঘরকুনো বাঙালির এই অভাবনীয় সৃষ্টি অবশ্যই একদিন বাংলা কবিতার ইতিহাসে সশ্রদ্ধ স্বীকারোক্তি আদায় করে নেবেই , বৃহত্তম দ্বিতীয় কীর্তি হিসেবেই। কেননা পরিবারের সংজ্ঞাই যখন বদলে যাচ্ছে , কবি প্রভাত চৌধুরীর এই অনন্য প্রয়াস, একটি কবিতা পত্রিকাকে নিয়ে এই স্বপ্নরচনার প্রতি আজ আমরা উদাসীন থাকলেও ভবিষ্যতে আমাদের মেনে নিতেই হবে। '

' কবিতাপাক্ষিকের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেকটা শহর বনাম শহরতলির মতন। কবিতাপাক্ষিকের একজন পাঠকরূপে। এই পাক্ষিক পত্রিকাটি যে কবিতাধারার তন্নিষ্ঠ প্রচারক , পোস্টমডার্ন কবিতা আমার কাছে এই কবিতার ফর্ম এবং কনটেন্ট মারাত্মক ইন্টারেস্টিং। একই রকম লেখা পড়তে পড়তে একঘেয়ে এই আমি  ওই ধারার কবিতাগুলির ভবিষ্যৎ পরিণতির দিকে চেয়ে আছি। '

 এরপর রাজকল্যাণ চেল লিখেছিল কবিতাপাক্ষিক - এর ২য় বর্ষপূর্তি উৎসবের যাবতীয়। এই যাবতীয়-র মধ্যে প্রস্তুতিসভা থেকে উৎসবকথা। 

আমি যখন এই বর্ষ পূর্তি উৎসবের কথা রিপোর্টিং করেছিলাম , তখন যা বলেছিলাম , তার সঙ্গে রাজকল্যাণ পরিবেশিত এই তথ্যগুলি যোগ করা আমার অবশ্য কর্তব্য। রাজকল্যাণ লিখেছিল :

' এই  কবিতা উৎসব পরিকল্পনাটির রূপরেখা তৈরি হয়েছিল প্রভাত চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রায় ১০/১৫ জন তরুণ প্রধান শিল্পী ও কবির উপস্থিতিতে বেলিয়াতোড়ে , ডা: দীপংকর মাজীর ভদ্রাসনে বসে ।' এখানে আমার প্রতিবাদ স্থাপন করছি। প্রতিবাদ - স্মারকটি হল : ওই উৎসবের যাবতীয় কর্মকাণ্ড কবি রাজকল্যাণ চেল - এর নির্দেশে প্রতিপালিত হয়েছিল। আমি সজ্ঞানে এই স্বীকারোক্তি করলাম। রাজকল্যাণ আমাকে সামনে রেখে পেছন থেকে সব কাজের বা প্রতিটি পদক্ষেপের মনিটরিং করেছিল রাজকল্যাণ। কে সভাপতি হবেন থেকে কে সঞ্চালনা করবেন, সবকিছু ঠিক করেছিল রাজকল্যাণ। কারণ বাঁকুড়া আমার জন্মস্থান হতে পারে , সে সময় বাঁকুড়া আমার কাছে পুরোটাই অপরিচিত ছিল। কার্যত রাজকল্যাণের নির্দেশ পালন করতে আমি বাধ্য ছিলাম।

ফুরিয়ে আসছে দিন || সুধাংশুরঞ্জন সাহা || কবিতা

 দীর্ঘ কবিতা

                                                  

ফুরিয়ে আসছে দিন

সুধাংশুরঞ্জন সাহা



পৃথিবীর সবকিছু বদলে যাচ্ছে অনবরত ‌।

মাটি জল বায়ু আর ভূ-বৈচিত্রে সেই কবে যেন

বেসামাল এক ধাক্কা লেগেছিল হঠাৎ করেই।

ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব হল উনবিংশ শতাব্দীতে।

মানুষের চোখে এক প্রকৌশল ডানা মেলেছিল।

মানুষও ভেবেছিল তারা সব বদলাতে পারে।

#

সুফল কিছু মিলেছে জীবনের গুণগতমানে ।

কালক্রমে দেখা গেল, জল বাতাস দূষিত হচ্ছে।

ভূবৈচিত্র ক্রমে ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে ।

একে একে হারাচ্ছিল বাস্তুতন্ত্রের সব চরিত্র।

কার্যকারিতা হারায় তার যাবতীয় উপাদান।

আট লক্ষ বছরের ইতিহাসে যা ঘটেনি তাই

ঘটে চলল পঞ্চাশ ষাট বছরের ব্যবধানে।

সবচেয়ে উষ্ণতম হয়ে উঠল এই শতাব্দী ।

#

আমার শহর এক উষ্ণতম দ্বীপের মতন ।

কলকাতা শহরকে দিশেহারা দেখিনি এমন। 

নানা প্রশ্ন উড়ে আসে,জবাব কঠিন হয় ক্রমে !

শিল্প বিপ্লবের পরে, কার্বন, বিষাক্ত কার্বনই

বেশি মিশেছে বাতাসে,  কমপক্ষে চল্লিশ শতাংশ 

তার আবহমন্ডল গিলেছে সাত আট দশকে । 

#

আমাদের পৃথিবীর যে তিন শতাংশ জল, সেই

জল এই শতাব্দীর মাঝেই উষ্ণ হয়ে উঠবে ।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই শতাব্দীর মাঝামাঝি

উত্তর মেরু অঞ্চল আর হিমালয় অঞ্চলের

জমে থাকা বরফও দ্রুত গলতে শুরু করবে ।

সমুদ্রতল উঁচুতে উঠছে আমাদের অলক্ষ্যে ।

সমীক্ষা বলছে, গত এক শতাব্দীতে আমাদের

সুন্দরবনের ভূমি ক্ষয়ে গেছে ভয়াবহভাবে ।

#

আর সাগর এগিয়ে গেছে কয়েক কিলোমিটার ।

বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে গেছে কয়েক কোটি হেক্টর, 

দিন, মাস ও বছর আমাদের অক্সিজেন দিয়ে  

বেঁচে থাকতে সাহায্য করে সহজ সরল বন।

কত কৃষিজমি আর চারণভূমি হারিয়েছে জাত !

আমাদের ব্যবহৃত কত হাজার টন প্লাষ্টিক...

#

কত পরিমাণ বর্জ্য তৈরি করে সে হিসেব কেউ

রাখে না নির্ঘাৎ, এই অঢেল বর্জ্য সমুদ্রে মেশে।

অক্সিজেন শূন্যতায় ভোগে সমুদ্রের কিছু অংশ,

যেখানে কোন উদ্ভিদ কিংবা প্রাণী বাঁচবে না আর।

মাত্র চল্লিশ বছরে অসংখ্য প্রজাতি লুপ্তপ্রায় ।

গবেষকদের মতে, সংখ্যাও কমেছে ততোধিক।

সবচেয়ে বেশি কমে গেছে মিষ্টি জলের প্রাণীই।

কীটনাশক অথবা কেমিক্যাল সারও ঘাতক  ।

#

বাস্তব্যবিদ্য্যায় বলে,পৃথিবীর মানুষের জন্য

বেঁচে থাকার জন্যই মাথাপিছু জমি চাই যতো

এখন পাওয়া যায় মোটামুটি  অর্ধেকটা তার

অর্থাৎ জনসংখ্যার জন্য চাই দ্বিতীয় পৃথিবী ।

এতো অভাবে মানুষ তাহলে বেঁচে আছে কীভাবে ?

ভূগর্ভস্থ জলস্তর, বায়ুর উপাদান বিষিয়ে !

#

মানুষ প্রতিনিয়ত গোপনে ধ্বংস করে নিজেকে 

জানেনা, মিনিটে  মুছে দিচ্ছে কত অরণ্যসম্পদ 

এই ভাবেই ক্রমশ বিপন্নতা ঘনিয়ে আসছে ।

অবশেষে মানুষই মানুষের প্রকৃত ঘাতক।

এই ধ্বংসলীলা যদি চলতে থাকে অবাধে তবে,

পৃথিবীতে মানুষের আয়ু দ্রুত ফুরিয়ে আসছে ।

ফুরিয়ে আসছে দিন, গোনা শুরু ধ্বংসের প্রহর ।

করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক তারই পূর্বাভাস !


----------------------------------------

সুধাংশুরঞ্জন সাহা

৫৭/৬এ/২  সন্তোষ রায় রোড

শিবম অ্যাপার্টমেন্টস

কলকাতা - ৭০০০০৮

কথা : ৮৬৯৭৯০০৬০৬

সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার ||কবিতার ক্যাম্প ভালোপাহাড় ৫ । সম্পাদনা: কমল চক্রবর্তী

 কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার 



কবিতার ক্যাম্প ভালোপাহাড় ৫ । সম্পাদনা:  কমল চক্রবর্তী । ভালোপাহাড় ছাপাভুবন । পন্ঞ্চাশ টাকা ।


কবি কমল চক্রবর্তীর ব্রেনচাইল্ড পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের ভালোপাহাড়ে পন্ঞ্চম বর্ষ কবিতা ক্যাম্পের স্মৃতি ভরপুর এক কবিতা সংকলন এই 'কবিতার ক্যাম্প ভালোপাহাড় ৫ ' তে পাই বিভিন্ন ধারার কবিতা যা পড়তে আনন্দ আনে । সংকলনটি থেকে জানা যায়, ক্যাম্পের আহ্বায়ক  বারীন ঘোষাল সহ তেরো জন এই ক্যাম্পে যোগ দিয়েছিলেন । তার মধ্যে এই ক্যাম্পে লেখা কিছু কবিতা পড়তে আনন্দ আনে,     যেমন কবি  দেবান্ঞ্জন দাসের:  ' হারানো চশমায়/  মাইল মাইল টমেটো চাষ/  এমন গোলগাল সন্ধে/  মনে পড়লেই দুঃখ বিলাস লাগে '(' টমেটো চাষ ') , কবি দেবাশিস সাহার কবিতা:  ' মাঠে জো/  নতুন বৌয়ের সাধ/  আতপ চালের গন্ধে অঘ্রাণ/  চাষিঘরে ঘড়া ঘড়া আলো ' , কবি স্বপন রায়ের: ' সে যে কি তেপান্তর কি ভাবে যেন আকাশের  গায়ে/ টপ্পাই টাঙিয়ে দিয়েছে ' 

( ' বর্ধমানের টোকা ')।

           সংকলনের প্রধান আকর্ষণ বলা যেতে পারে  সম্পাদক কমল চক্রবর্তীর ভূমিকা,  তিনি তাক লাগান যখন বলেন:  ' শারদীয়া উপন্যাস বা শত শত কবিতা লেখেন যে সব কবি/  সাহিত্যিক,  তাঁরা!  মাসে তিনটে চারটে বাচ্চা । হয় নাকি । .....কোন বিজ্ঞানে ! ফলে হচ্ছে কাঠের পুতুল,  কাঠের কুকুর, মাটির পুতুল! ' এই সত্যবচনের জন্য কমল বাবুকে ধন্যবাদ ।

               কবিতার ক্যাম্প আর হয় কিনা জানা নেই,  সারা বইটির ভেতরে ক্যাম্পে লেখা কবিতাগুলির সামনে দাঁড়িয়ে বলতে ইচ্ছে হয় ' আরো চাই আরো চাই ' । ধূর্জটি প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের প্রচ্ছদ শারদীয় উৎসব চিন্তনকে প্রকট করে ।

নদীর তালে তালে || পার্থ সারথি চক্রবর্তী || কবিতা

 

নদীর তালে তালে  

পার্থ সারথি চক্রবর্তী 



যেখানে নিঃশব্দে মিশেছে আমার স্মৃতি-
    পাহাড়ি খরস্রোতা নদীর সঙ্গে, 
বাঁকে বাঁকে মিশে গেছে বয়ে আসা 
     পাথরের আপাত কাঠিন্য।
কখনো মনে করায় আদিম উৎসমুখ
কখনো বা হারিয়ে যাওয়া কপট সুখ।
বারবার তাও কেন ফিরে ফিরে যাই 
কোন এক অজানা পরশপাথরের টানে।
     প্রাণভোমরা যেন নদীর চলায়
অদ্ভুত এক নৃত্যনাট্য দেখায়, তালে তালে ।

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১৬৮ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

 সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৬৮.

মৃত্যুঞ্জয় সেন আমাদের দশকের কবি এবং গদ্যকার।ইউনাইটেড ব্যাঙ্কের বিশাল বাড়িটিতে একসময় যাতায়াত ছিল। সূত্র : স্নেহাকর ভট্টাচার্য-র সঙ্গে দেখা- সাক্ষাৎ।  সেটা ছিল কবিপত্র-কাল। আবার এই কবিতাপাক্ষিক পর্বে মৃত্যুঞ্জয় সেন। কবিতাপাক্ষিকের প্রস্তুতিপর্বে।

আমরা প্রথম যেবার বইমেলা দৈনিক বের করেছিলাম সেবার মৃত্যুঞ্জয়ের সূর্যতোরণ-এ দৈনিকের পেজ মেকাপ করতে গিয়েছিলাম।

আমাদের কবিতাপাক্ষিক লেখাটি মৃত্যুঞ্জয় সেন শেষ করেছিলেন কীভাবে সেটা পড়ে নিন :

' এই কাগজের সঙ্গে যাঁরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত , তাঁদের প্রতি , তাঁদের গৌরবকাহিনির প্রতি থাকল আমার চিরদিনের মুগ্ধতা '।

আমরাও মুগ্ধ মৃত্যুঞ্জয় , আপনিও আমাদের পরিবারের একজন ছিলেন। এখনো আছেন ।


কালীকৃষ্ণ গুহ তখন, অর্থাৎ  ২০০৩ - এ লিখেছিল : প্রভাতের সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের বয়স প্রায় চল্লিশ বছর ---

একদম। হ্যাঁ , লেখালেখির শুরুতে । আমাদের যখন সাম্প্রতিক , কালীকৃষ্ণদের তখন ক্রান্তদর্শী , সুনীথ মজুমদারদের তখন প্রতিবিম্ব , মৃণাল বসুচৌধুরীদের তখন শ্রুতি।

পত্রিকা ভিন্ন , লেখার জগৎ ভিন্ন ; তবু বন্ধুত্ব ছিল অভিন্ন , অটুট।

আজ এখন ২০২০ । 

এখন বন্ধুত্বের অঙ্ক করা যাক। 

২০২০ --- ২০০৩  = ১৭ 

আর ৪০ + ১৭ = ৫৭

এই ৫৭ বছরের বন্ধুত্ব আমাদের। এখনো অটুট। আমার প্রথম জীবনের অনেকের কাছেই আমি ভিন্ন গ্রহের মানুষ। আমি অচ্ছুত ।কিন্তু একমাত্র কালীকৃষ্ণ এখন আমাকে অস্বীকার করে না। আমার বন্ধুত্বকে মনে রাখে। আমি কৃতজ্ঞ।

আমি কালীকৃষ্ণ গুহ উবাচ বলে কিছু আপনাদের পড়াতে চাইছি :

' বলা বাহুল্য , লেখালেখির মূল্যবোধের দিক থেকে আমি একজন পুরোনো লোক।প্রায় জরাগ্রস্ত। প্রভাতের সঙ্গে আমার ধ্যানধারণার বিশেষ কোনো মিল নেই। তবু প্রভাত আমাকে তার সঙ্গে রাখলো।আমাকে কবিতাপাক্ষিকে লিখে যেতে বললো। '

' প্রভাত বললো সে আমার নির্বাচিত কবিতা বের করতে চায়। '।

 " আমার 'নির্বাচিত কবিতা ' প্রকাশিত হল , '

এসব কালীকৃষ্ণ-র কথা। এবার আমার একটি সাফল্য-র কথা শুনিয়ে রাখি :

সিউড়িতে কালীকৃষ্ণ কেন্দ্রিক একটি অনুষ্ঠান ছিল। আমি আমন্ত্রিত ছিলাম। সময় মতো পৌঁছে গিয়েছিলাম সিউড়ি। ছিলাম ইরিগেশন বাংলোয় যুক্ত কমিটির কমরেডদের ব্যবস্থাপনায়। পরদিন অনুষ্ঠানে গেলাম। হলে বসার জায়গা পেয়েই আমি ধন্য হয়েছিলাম। কেউই আমাকে মঞ্চে কিছু বলার জন্য আমন্ত্রণ করেনি।এমনকী বন্ধুবর কালীকৃষ্ণ গুহও নির্বাক ছিল। এই সাফল্য আমাকে গর্বিত করেছিল ।তারপরও কিন্তু কবিতাপাক্ষিকের দরজা কালীকৃষ্ণ-র জন্য সদাসর্বদা উন্মুক্ত ছিল।

কালীকৃষ্ণ আরো যা বলেছিল তার কয়েক লাইন :

' কবিতাপাক্ষিক দশ বছর ধরে নিয়মিত নিরবচ্ছিন্নভাবে কীভাবে প্রকাশিত হতে পারল ভাবতে অবাক হতে হয়। পত্রিকার পাশাপাশি অগণিত বই , কবিসম্মেশন , তর্কবিতর্ক। প্রভাতের জীবনে কোনো বিশ্রামের দরকার নেই ? নাকি এই বিপুল কর্মকাণ্ডের মধ্যেই তার বিশ্রামের একটা পাটাতন রাখা আছে ? '

ঠিক তা-ই কালীকৃষ্ণ। আমি আমার বরাদ্দ কাজের মধ্যেই একটা  বিশ্রামের ' ময়ূর সিংহাসন ' পেতে রাখি। পাটাতন বড়ো ঠুনকো ! আমি তো মধ্যস্বত্বভোগী জমিদারের বংশধর।আমাকে পাঠাতন মানায় না। আমার চাই ' ময়ূর সিংহাসন ' !

দশটি হাইকু || ফটিক চৌধুরী || কবিতা

  দশটি হাইকু ফটিক চৌধুরী ১. রবিঠাকুর কাছে টানে নীরবে বাড়ায় হাত। ২.প্রাণের টানে কবিতায় এসেছি কবিতা জানে! ৩.রাত বাড়ুক আসবে সুপ্রভাত তোমার ...