সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০২১

নীলিমা সাহা-র আটপৌরে ১২৭-১২৯ নীলিমা সাহা //Nilima Saha, Atpoure Poems

 নীলিমা সাহা-র আটপৌরে ১২৭-১২৯

নীলিমা সাহা //Nilima Saha, Atpoure Poems





 নীলিমা সাহার আটপৌরে

 ১১৭) কাকভোর  থেকে   কাকসন্ধ্যা
                    শ্রাবণ
          পাঠ করে চলেছে অগ্নিপুরাণ

১১৮) ভেতরে কিছু  ভাঙছে
                 ক্ষয়গুলো
           জানালার মরিচায় অক্ষর নিষেক
 
১১৯)      মেঘেদের  যুদ্ধ-যুদ্ধ  খেলা
                     অষ্টপ্রহর
               শিরোনামহীন সঙ্কটে আহ্নিক  জীবন
                   

অরুণ দাস || Z - চেতনার কবিতা

 অরুণ দাস || Z - চেতনার কবিতা


চল্লিশ .


হৃদয়ে লেখা ডায়েরী
.............................

রাত পরীরা জেগে ওঠে ...  বৃষ্টিভেজা নিখোঁজ মনের কোনে৷ জ্যোৎস্না হাসে নিঝুম রাতে ৷

সাজাই গোপন বর্ণ
        মাছগন্ধী মেয়েদের
             ঘুমহীন রাতের গন্ধে

পলক পড়বে না জেনেও
           নিঃস্পলকে
              ছুঁয়ে ফেলি স্পর্শসুখ

মনের খবর রাখা
         সেই দুষ্টু মেযে
                মরা পাথরে
                     এঁকে রাখে
                             ময়ূবীস্পর্শ

..... তোমাকে লিখি
শুধু স্পর্শে নয় ,
অনুভবেও ভালোবাসা হয় ৷

আটপৌরে কবিতা ৭৯৬-৭৯৮ || অলোক বিশ্বাস Alok Biswas || "i-যুগ"-এর কবিতা || Atpoure poems.

 আটপৌরে কবিতা ৭৯৫-৭৯৭ || অলোক বিশ্বাস Alok Biswas || "i-যুগ"-এর কবিতা || Atpoure poems.





আটপৌরে কবিতা : অলোক বিশ্বাস

৭৯৬.
কাঞ্চনমূল্য দিয়েছি বৃষ্টিকে।
ততোই
আঁধার ঘনিয়ে এসেছে গুরুপদে।
৭৯৭.
একবিংশের কল্পনাহীন ভুবনে
ঝরো
অবিরাম বৃষ্টি অশাস্ত্রীয় চুম্বনে।
৭৯৮.
আত্মপরভেদরহিত অবস্থার বৃষ্টিকে
সঙ্গতিপূর্ণ
আকাশে দীর্ঘক্ষণ উচ্চারিত দেখছি।

আটপৌরে কবিতাগুচ্ছ ~১৪/৬ || "আই-যুগ"-এর কবিতা দেবযানী বসু || Atpoure poems, Debjani Basu

 আটপৌরে কবিতাগুচ্ছ ~১৪/৬ || "আই-যুগ"-এর কবিতা

দেবযানী বসু || Atpoure poems, Debjani Basu






আটপৌরে ১৪/৬


১. বেহুঁশ তানপুরা

লবঙ্গধোঁয়া । উর্দুশ্লোক । অলিভতেল ।
                 সংলাপে
সবুজ সংকেতের ফোয়ারা উচ্ছ্রিত ।

২. দয়া দিদি হলে প্রেম দাদা

গ্ৰহাণু। অনুগ্ৰহ । অন্যভেনাস ।
              গ্ৰাহ্য
পাখির জিভে সমগ্ৰজীবনীর চিপস্ ।

৩. শান্তির বারি ইচ্ছারক্তে

লাল - কামনা। সাদা - কল্যান। নীল - শান্তি।
                    ভরাকোটাল
ছাপিয়ে একটু এগোলেই সমুদ্রাবয়ব ।

 

শব্দব্রাউজ ২৫৩ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ২৫৩ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ ২৫৩ । নীলাঞ্জন কুমার

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা ২৬। ৭।২১। সকাল দশটা ।



শব্দসূত্র:  দৃরে বহুদূরে

১।

না হয় দূর দেখা হল ভ্রমণে
না হয় থাকা হল কিছু আনমনে
না হয় নতুন কিছু হল জাগরুক
না হয়  বিস্ময় কিছু নয় আসুক ।

২।

বহুদূর ফুরিয়ে গেলে আরো বহুদূর
বহুদূর ভুলিয়ে দেয় সমস্ত অন্তঃপুর
বহুদূর জড়িয়ে ধরে নিতান্ত আদরে
বহুদূর ডাকে শূধু  একান্ত সাদরে ।

রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০২১

আটপৌরে কবিতাগুচ্ছ ~১৪/৫ || "আই-যুগ"-এর কবিতা দেবযানী বসু || Atpoure poems, Debjani Basu

 আটপৌরে কবিতাগুচ্ছ ~১৪/৫ || "আই-যুগ"-এর কবিতা

দেবযানী বসু || Atpoure poems, Debjani Basu






আটপৌরে ১৪/৫

১. লোডশেডিং হবে অজানিত

পতিতজমি। শবক্ষেত্র । পচাশরীর ।
                  নক্ষত্রশিকারীর
ছায়া ভেংচি কাটল হঠাৎ ।

২. বিশ্রাম সাবধান অ্যাকশন

বোধন-পর্ব । রোদন - পর্ব । নিধন - পর্ব ।
                 গুলিগালা
পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে।

৩. ঠোঁটে দাঁড়সহ ওড়ে পাখি

পেয়ারা । আপেল । কমলালেবু ।
             অনধিকার
বেদানার রক্তাক্ত আর্তনাদ ছড়িয়েছি ।

পূরবী~ ৫৮, অভিজিৎ চৌধুরী || Purabi- 58

 

পূরবী~ ৫৮
অভিজিৎ চৌধুরী



তীর্থের আজকে ম্যাজিস্ট্রেট ডিউটি।ইনকোয়েস্ট বা সুরত হাল।এই বসুন্ধরায় থাকতে না পেরে কারুর অকালে চলে যাওয়া।আত্মহনন বা খুন।
মৃত্যু কখনও অভিপ্রেত নয় তবে সে এক অপ্রতিরোধ্য শাসক।স্বাভাবিক নিয়মে চলে গেলে শরীর একটু আধটু জানান দেয়।ট্যাক্সিডার্মি করতে আর কিছুই হয় না।
বাইশে শ্রাবণ এগিয়ে আসছে।হাওয়ায় ভাসছে আমি যে গান গেয়েছিলেম জীর্ণ পাতার ঝরার বেলায়।
পাতা জীর্ণ হলে ঝরে পড়ে।গাছে আবার নতুন পাতা আসে! মানুষের কি তেমন হয়! পুরোনো হাঁটু বিদায় নিয়ে নতুন হাঁটু।চিকিৎসা শাস্ত্র বলছে হয়ইতো।জীবক ভদ্র তো কতো অঙ্গ প্রত্যঙ্গ লতা পাতা দিয়েও প্রতিস্থাপন করতেন।তখন গৌতম বুদ্ধ জরায় আক্রান্ত।জীবক বললেন,মহাত্মন্, আপনি চাইলে আরো কয়েক বছর আপনাকে রেখে দিতে পারি।থাকবেন!
তথাগত বললেন,না।আমি ফেলে আসা অযুত জন্ম দেখতে পাচ্ছি।আর নয়।
রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন,আমি প্রকৃতির সন্তান।আমাকে গাছের পাতার মতোন ঝরে পড়তে দাও।
অস্ত্রোপচারে লাগছে তাঁর।ডাক্তার বললেন,ওঁর এসব মনের রোগ।লাগতে পারে না।
অবন ঠাকুর ফিরে গেলেন।রবিককাকা নিশ্চল শুয়ে রয়েছেন, এ তিনি সহ্য করতে পারবেন না।
তারপর কি বলতে পেরেছিলেন- মনেরে আজ কহো যে,/ ভালো মন্দ যাহাই আসুক/ সত্যেরে লও সহজে।
কখন যেন লিখেছিলেন,জীবনকন্টকপথে যেতে হবে নীরবে একাকী/সুখে দুঃখে ধৈর্য ধরি,বিরলে মুছিয়া অশ্রু আঁখি.....
তারপর ছিন্নপত্র আসে একালের কবির কাছে।মনে পড়ে যখন বোটে বসে লিখতুম,চারিদিকে জল বয়ে চলেছে মৃদু কলধ্বনিতে,দূরে দেখা যায়বালির চর ধূধূ করছে,আমি লিখেই চলেছি... 

নিঃস্বার্থ জ্ঞান সাধনা || হোমেন বরগোহাঞি || মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ- বাসুদেব দাস Basudeb Das

 নিঃস্বার্থ জ্ঞান সাধনা

হোমেন বরগোহাঞি

মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ- বাসুদেব দাস




ইংরেজ ঐতিহাসিক জিএম ট্টেভেলিয়ন পাশ্চাত্য সভ্যতার বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন–' জ্ঞানের নিঃস্বার্থ অন্বেষণই  হল পশ্চিমা সভ্যতার মূল জীবনী-শক্তি।' এর অর্থ হল এই যে পশ্চিমের মানুষ কোনো ব্যক্তিগত পুরস্কার বা প্রতিদানের আশা করে জ্ঞানের সাধনা করে না, তাদের কাছে জ্ঞান লাভই  হল জ্ঞানচর্চার একমাত্র পুরস্কার।

ইলেকট্রিক উদাহরণস্বরূপ আমরা ডেনিস দিদেরোর কথা উল্লেখ করতে পারি। বিশ্ব বিখ্যাত ফরাসি বিশ্বকোষের তিনি ছিলেন প্রধান সম্পাদক। প্রথম অবস্থায় তাঁর সহযোগী ছিলেন বিখ্যাত গণিতজ্ঞ d'Alembert কিন্তু রাজ রোষে  পড়ার ভয়ে একটা সময়ে তিনি দিদেরোর সঙ্গ ছেড়ে দিলেন। ফরাসি বিশ্বকোষের কয়েকটি খন্ড দিদেরোকে একাই সম্পাদনা করতে হল। অষ্টম খন্ড ফরাসি বিশ্বকোষের ভূমিকাতে দিদেরো লিখেছেন–' বিশ্রাম কী জিনিস বুঝে উঠার আগেই আমাদের জীবনের গত কুড়িটা বছর পার হয়ে গেল। কার ও কাছ থেকে ধন্যবাদ বা পুরস্কার আশা না করে আমরা দিনের পর দিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেছিলাম, রাতগুলি উজাগরে  থেকে আমাদের প্রতীক্ষা করতে হয়েছিল নিন্দুকের ঈর্ষা বহন করে আনা দুর্যোগের কথা ভেবে। আমাদের উপরের যেকোন সময়ে নেমে আসতে পারে আক্রমণের ভয়ে আমরা অনেকবার এমন একটি সম্ভাবনার কথা বল চিন্তা করতে বাধ্য হয়েছিলামঃ আমরা নিজেদের পরিবার, বন্ধুবর্গ এবং দেশ বাসী থেকে বিদায় নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাব নাকি? কিন্তু আমরা আমাদের দেশকে ভালোবেসে ছিলাম এবং সব সময়ই এই আশা করেছিলাম যে আমাদের বিরুদ্ধে চলতে থাকা বৈরিতার অবসান ঘটবে এবং আমরা নিশ্চয় সুবিচার পাব। হে আমার দেশবাসী এবং বন্ধুরা, আপনারা যত কঠোর ভাবেই আমাদের কাজের বিচার করুন না কেন, কিন্তু আপনারা এক কথা নিশ্চয়ই জানবেন যে যে একমুঠো  মানুষ বিশ্বকোষ প্রনয়নের কাজ টা হাতে নিয়ে তা সম্পূর্ণ করেছে, তারা নিজের মত এবং আদর্শের জন্য সমাজ থেকে বহিস্কৃত এবং লাঞ্চিত হয়েছে, সত্যের প্রতি অবিচল অনুরোধ ছড়া তারা কারও কাছ থেকে কোনো উৎসাহ উদ্দীপনা পায়নি, তিন চার জন ব্যবসায়ী মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সামান্য অর্থ সাহায্য ছাড়া তারা আর কার ও কাছ থেকে কোনো ধরনের সাহায্য পায়নি।'

এই ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির বিরুদ্ধে অবিরাম যুদ্ধ করে ডেনিস দিদেরো ফরাসি  বিশ্বকোষের সম্পাদনা করা ছাড়াও তিনি নিজে একা ১,২৫১ টি বিষয়ের প্রবন্ধ লিখেছিলেন। প্রবন্ধ গুলির জন্য সংগ্রহ করা তথ্যগুলি যাতে নির্ভুল হয় তা সুনিশ্চিত করার জন্য তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করেছিলেন। তার উদাহরণ হিসেবে মাত্র একটি কথা বললেই যথেষ্ট হবে। তাকে যখন ফরাসি বস্ত্রশিল্পের বিষয়ে প্রবন্ধ লিখতে হয়েছিল তখন বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জানার জন্য তিনি নিজে কয়েকটি কাপড়ের কলে কাজ করেছিলেন।

অবশ্য উপরের কথা থেকে এরকম একটি ধারণা করলে ভুল হবে যে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় যতগুলি বিশ্বকোষ লেখা হয়েছে তার প্রত্যেকটি ফরাসি বিশ্বকোষের মতো বৈপ্লবিক এবং যুগান্তকারী ঘটনা বলে পরিগণিত হয়েছে। ফরাসি বিশ্বকোষের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল যে সমস্ত প্রতিক্রিয়াশীল ধ্যান ধারণার ওপরে ভিত্তি করে স্বৈরাচারী রাজতন্ত্র , যাজকতন্ত্র এবং মধ্যযুগের কুসংস্কার টিকে ছিল, সেই ধ্যান ধারণার অবসান ঘটিয়ে মানুষের মন যুক্তিবাদী চিন্তা এবং আধুনিক মানব তন্ত্রী আদর্শের জন্য প্রস্তুত করে তোলা। সেইজন্যই ফরাসি রাজতন্ত্র এবং যাজকতন্ত্রের সঙ্গে ফরাসি বিশ্বকোষ বাদীদের প্রচন্ড সংঘর্ষ হয়েছিল।

এক বিশেষ ঐতিহাসিক পটভূমিতে ফরাসি বিশ্বকোষের যে বৈপ্লবিক ভূমিকা ছিল সেই একই ভূমিকা অন্য বিশ্বকোষ গুলি দাবি করতে পারে না। এখন বিশ্বকোষ বললে আমরা যে জিনিসটা বুঝি তাহল সমগ্র মানবজাতির পুঞ্জিভূত জ্ঞানের সার–সংগ্রহ। পৃথিবীতে যত জ্ঞাতব্য বিষয় আছে সেই সমস্ত বিষয় গুলির  তথ্য সংগ্রহ করে বিষয়ের গুরুত্ব অনুসারে দীর্ঘ বা ছোট প্রবন্ধ লিখে যে বইতে সন্নিবিষ্ট করা হয় তাকেই বিশ্বকোষ বলা হয়। এই তথ্য সংগ্রহের কাজটিও অতি সহজ হয়ে পড়েছে, কারণ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় ইতিমধ্যে অসংখ্য বিশ্বকোষ লেখা হয়েছে। জাতির মাতৃ ভাষায় লিখিত বিশ্বকোষ গুলি বর্তমান যুগে লোক শিক্ষার একটি প্রধান মাধ্যম বলে পরিগণিত হয়েছে। ভারতের সমস্ত প্রধান ভাষাতেই এক  বা একাধিক বিশ্বকোষ রয়েছে। নেই কেবল অসমিয়া ভাষায়। মাতৃভাষায় বিশ্বকোষ থাকলে ইংরেজি বা অন্যান্য বিদেশি ভাষা না জানা মানুষেরাও সেই বিশ্বকোষের সাহায্য নিয়ে নানা বিষয়ে জ্ঞান আহরণ করতে পারে। বর্তমান যুগকে তথ্য বিস্ফোরণের যুগ বলা হয়ে থাকে। গ্রামেগঞ্জে বাস করা সাধারণ মানুষকেও রেডিও, টেলিভিশন এবং খবরের কাগজের মাধ্যমে প্রতিদিন নতুন শব্দ শুনতে হয়। পাশের সরকারি গ্রন্থাগারে যদি অসমিয়া বিশ্বকোষ থাকে , তাহলে মানুষ সেখানে দৌড়ে গিয়ে বিশ্বকোষ খুলে নিয়ে নতুন নতুন বিষয়ের জ্ঞান আহরণ করতে পারে। একুশ শতকের যে নতুন সমাজ সৃষ্টি হবে তা হবে Knowledge based Society, অর্থাৎ সেই সমাজের ভিত হবে জ্ঞান। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে জ্ঞানের বিস্তার করায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে মাতৃ ভাষায় রচিত বিশ্বকোষ।

অসমিয়া ভাষায় বিশ্বকোষ অসমের শিক্ষিত সমাজের সামনে একটি বিশাল  প্রত‍্যাহ্বান হয়ে দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন বৌদ্ধিক কেন্দ্র এবং সংস্থা হাতে নেওয়া বিশ্বকোষ অভিধান এবং সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি প্রণয়নের কাজ অর্ধ সমাপ্ত করে রেখে ফেলে রাখতে হয়েছে অসমিয়া শিক্ষিত সমাজের আলস্য এবং অসহযোগিতার জন্য । এর ফলে জাতিটার মনোবল ভেঙ্গে গিয়েছে । বড় কাজ করার জন্য যে ধরনের আত্মবিশ্বাসে প্রয়োজন তার অভাব দেখা দিয়েছে । প্রস্তাবিত অসমীয়া বিশ্বকোষের দুটি খন্ড যদি আমরা নির্দিষ্ট সময়ে প্রণয়ন এবং প্রকাশ করে বের করতে পারি তাহলে সেই হারানো আত্মবিশ্বাস আমরা বহু পরিমাণে ফিরে পাব। এই বিভাগে এর আগে এইচ জি ওয়েলসের কথা লেখা হয়েছিল ।তিনি হাজার হাজার বই পড়ে এবং সেইসবের সারসংগ্রহ করে মাত্র এক বছরের ভেতরে লিখে ফেলেছিলেন সাড়ে চার লক্ষ শব্দের বিশ্ব ইতিহাসের রূপরেখা ।আজ ডেনিস দিদেরোর উদাহরণ উত্থাপিত করা হল। এই সমস্ত লোকের নিঃস্বার্থ জ্ঞান-তপস‍্যা এবং শ্রম সহিষ্ণুতার আদর্শ অনুসরণ করতে পারলেই আমরা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সভ্য জাতিগুলির মধ্যে নিজের আসন দাবি করতে পারব ।


শব্দব্রাউজ ২৫২ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ২৫২ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ ২৫২ । নীলাঞ্জন কুমার

শব্দসূত্র:  মন আমার


চন্ঞ্চল মনের থেকে ছুটে আসে
কখনো অবাস্তব কখনো বাস্তবতা ।
উল্লাস নয়তো হতাশা মিলিয়ে মিশিয়ে
যে মন, তাকে বাঁধার কোন মানে হয় না ।
তাকে আদরে ভাসাই ।


না হয় আমার মধ্যেই থাক হতাশা মনস্তাপ
আর আনন্দ উল্লাস । সব নিয়ে তো আমি ।
কখনো সখনো হয়তো সফলতা আর সার্থকতা
নিয়ে ছুটে চলি ।

অরুণ দাস || Z - চেতনার কবিতা

 অরুণ দাস || Z - চেতনার কবিতা


Z - চেতনার কবিতা
..............................


আটত্রিশ .

একদিন শূন্য হবো জেনেও
শূন্যতা নিয়ে বসে থাকি রোজ 
...............................

তোর মনে পড়ে ... অসংখ্য উদাস তারা আর নির্মেঘ আকাশের নিচে সে সব সবুজ আর্তনাদ ?
পাহাড়-জঙ্গল - পাথরে হয়ে ওঠা দুটি মানুষের , হলুদ নিঃশ্বাসে, সে সব একাত্ম মৃত্যুলিপি ?
চমৎকার চাঁদ যেন রহস্যময় হয়ে উঠেছিল তোর পলাশ শরীরের বিন্দুতে বিন্দুতে ৷ 
এই বোধহয় বিন্দুতে সিন্ধু খোঁজা ৷
এই বোধহয় সিন্ধুডুব ছমছমে জ্যোৎস্নায় আগুন শরীরের শীতসাঁতার ৷
আজ লিখি :
আমাদের নগ্ন নির্জন শরীর জুড়ে অগুনতি চাঁদের চাদর ৷ আর দীর্ঘশ্বাস ভেজা সে সব পলাশমুখর দিনলিপি৷


ঊনচল্লিশ .

তোর শরীরের লাল মাটির পথ পেরিয়ে জঙ্গল৷ 
তুলোর শরীরী ভাঁজে শিশির ভেজা বুনো ফুল ৷ 
বুকের পাতাদের ফাঁক দিয়ে ঝরে পড়া   
সূর্য ৷ 
বুনো গন্ধে জমে ওঠা ছায়ায় বন্য হই ৷ ঝিঁঝিঁরা নেমে আসে নাম না জানা পাহাড় বেয়ে ৷ মৃত্যু লিখি জংলি জলে ৷
লিখি - চাঁদহীন রাত
শীত পাখিদের ডানা
কালচে নীল আকাশের ইশারায়, খসে পড়া তারা৷
সতর্ক পা ফেলে অজানা ফুল
বাতাস ভেজে,
বৃষ্টি ভেজা সেই কিশোরীগন্ধে৷

আটপৌরে কবিতা ৭৯৩-৭৯৫ || অলোক বিশ্বাস Alok Biswas || "i-যুগ"-এর কবিতা || Atpoure poems.

 আটপৌরে কবিতা ৭৯২-৭৯৪ || অলোক বিশ্বাস Alok Biswas || "i-যুগ"-এর কবিতা || Atpoure poems.





আটপৌরে কবিতা : অলোক বিশ্বাস

৭৯৩.
ব্যাগভর্তি বর্ষাকাল শিরোনামটা
একার 
নয়, আন্তর্জাতিক রঙে রোপিত।
৭৯৪.
ভাস্কর্যের ওপর পাঠান্তরে
বৃষ্টি
পাখিদের বিষ্টা ধুয়ে দিচ্ছে
৭৯৫.
বালিশে নির্জনতায় শুনতে
পাই
বৃষ্টিরা বিছনা ছাড়তে বলছে

নীলিমা সাহা-র আটপৌরে ১২৪-১২৬ নীলিমা সাহা //Nilima Saha, Atpoure Poems

  নীলিমা সাহা-র আটপৌরে ১২৪-১২৬

নীলিমা সাহা //Nilima Saha, Atpoure Poems





 নীলিমা সাহার আটপৌরে

১১৪) স্বাধীনতা  একান্ত  গোপন
                      বিপ্লব 
         কেবলই  কম্পমান কালের পাখনায়

১১৫)  স্বাধীনতা  ঘরেরই  কেউ
                   বিমূর্ত 
         রক্তবীজে খুবলায়  নির্বাক  স্বদেশ 

১১৬)  স্বাধীনতা । রৌদ্রস্নান। দীর্ঘভাষা
                   শ্রমণ
           স্বপ্নসুতোয় বাঁধা বিশুদ্ধ  রচনা 

শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১

আটপৌরে কবিতাগুচ্ছ ~১৪/৪ || "আই-যুগ"-এর কবিতা দেবযানী বসু || Atpoure poems, Debjani Basu

 আটপৌরে কবিতাগুচ্ছ ~১৪/৪ || "আই-যুগ"-এর কবিতা

দেবযানী বসু || Atpoure poems, Debjani Basu






আটপৌরে ১৪/৪


১. কন্যেরা রূপকথায় সুন্দর, বন্যেরা

অবদমন। ডুবসাঁতার। হাঁসফাঁস ।
               সত্যিসত্যি
পলায়নপরকে সিংহনীতি ছাড়পত্র দেয়।

২. অকালপুরুষ লুব্ধক ছুঁড়ে মারে
 
ছবিপছন্দ । অপছন্দ । জাগরছন্দ ।
                 হাঁসেদের
অন্নপ্রাশন গাছের ঘুম কাড়ে।

৩. পাড়ার গিরগিটিরা কর্মব্যস্ত ।

এপাড়া। ওপাড়া । বেপাড়া ।
               পাঞ্চজন্য
ভালো কুড়িয়ে আমাদের ভালো।

 

নীলিমা সাহা-র আটপৌরে ১২১-১২৩ নীলিমা সাহা //Nilima Saha, Atpoure Poems

 নীলিমা সাহা-র আটপৌরে ১২১-১২৩

নীলিমা সাহা //Nilima Saha, Atpoure Poems





 নীলিমা সাহার আটপৌরে

১২১)   দহন । ব্যাধি  । দীর্ঘশ্বাস 
                  < বিরহ  >
               রাতের শিয়রে নীল ব্যথা 

১২২)  মন ।স্বপ্ন । ইচ্ছে
               ছুটছে
          ট্রাফিক  সিগন্যালেও অদ্ভুত চালক 

১১৩)স্বাধীনতার ছিন্ন শির
              করুণা 
      জাগলেও  পরবাসে  অহিফেনময় যাপন

আটপৌরে কবিতা ৭৯০-৭৯১ || অলোক বিশ্বাস Alok Biswas || "i-যুগ"-এর কবিতা || Atpoure poems.

 আটপৌরে কবিতা ৭৯০-৭৯১ || অলোক বিশ্বাস Alok Biswas || "i-যুগ"-এর কবিতা || Atpoure poems.





আটপৌরে কবিতা : অলোক বিশ্বাস

৭৯০.
রবিবারের বর্ষাকে সোমবারে
দেখলে
আমার কান্নাগুলো নাচানাচি করে
৭৯১.
সোমবারের বর্ষা পুরোটাই
হোক
মঙ্গলবারের নিজস্ব বর্ষা আছে।
৭৯২.
মঙ্গলবারের বর্ষায় ধর্মগন্ধ
থাকলে
বুধবারে অন্য বর্ষাকে ডাকি

অরুণ দাস || Z - চেতনার কবিতা

 অরুণ দাস || Z - চেতনার কবিতা


Z - চেতনার কবিতা
..............................

ছত্রিশ .

১.

হয়তো সব পথ একদিন শেষ হবে বলেই .... শান্ত সমুদ্র অনায়াসে ভিজিয়ে দেয় সোনালী সৈকত ৷
ভালোবাসাহীন নিশ্চিত পাখির ডাকে উন্মাদ বৃষ্টি মুছে দেয় পথ ৷ 
আজ দুচোখ ভরে ভেসে যাই জোয়ারের ডাকে ৷ 
মাতাল গানে চৌচির হতে হতে শিখি .... সে সব প্রাণহীন দিনলিপি৷
............

সমুদ্র একদিন চিনে নেয় গোধূলির
আকাশ ৷ ভাঙা মেঘের মধ্যে অনায়াসে হারিয়ে যায় , দিন শেষের আলো ৷

২.

আজ, লালচে আভামাখা গালে , তোর 
এই যে লাজুক ঝরে পড়া ..... লিখে রাখি ভেজা বালির অক্ষরে ৷
হাঁটি, হাঁটতে থাকি
নিঝুম অন্ধকারে
.....বুকের মধ্যে যতটা অন্ধ মেঘ জমলে , স্বপ্ন ছুঁয়ে হারিয়ে যাই তোর ঘুমের অতলে ৷


সাঁইত্রিশ .

১.


চূর্নী, আজ সেই উদ্দাম নদী জেগে ওঠে 
উচ্ছ্বল যৌবন 
পাখির চেয়েও প্রেমময় 
প্রতিবিম্ব
পূর্ণ মেঘ ও কুয়াসা
শরীর জুড়ে সারি সারি
                      হোটেল ৷
ছিমছাম ছায়ালাপ
ছুঁয়ে ফেলে আগুন আগাছা ৷
উধাও জৌলুস
ঝলমলে হয়ে ওঠে যুবতী 
                          সকালে ৷
সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসা
                   তৃষ্ণার্ত চোখ
গূহ্য গুহা
নিকষ অন্ধকারে ছুয়ে ফেলে
                             ইচ্ছেঘুম ৷
.... তুই , শুধু তুই জানিস চূর্ণী
কাকেরা কেন কাকভোরে ছুঁতে চায় আশাহীন অন্বেষণ ?

২.

সরু সুড়ঙ্গ বেয়ে নিভৃতে নামে
                      সরীসৃপ শরীর
আজ যেন শেষ নিশ্বাস ভরে নিই,
খোলা আকাশের নিচে
অন্ধ সময় হারাতে চায়
ঝুপ করে নেমে আসা 
                           অন্ধকারে ৷

শব্দব্রাউজ ২৫১ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ২৫১ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ ২৫১ । নীলাঞ্জন কুমার

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড ২৪।৭। ২১ সকাল নটা।

শব্দসূত্র:  প্রথাগত  উপাচার


সাজাই প্রথাগত ভাবে সমস্ত
মঙ্গলজনক অর্ঘ্য ।বোঝাই নিজেকে
এই হল তৃপ্তিদায়ক্ উপকরণ,  যা দিয়ে
তুষ্ঠ করা যেতে পারে পরমারাধ্যকে ।
সাজাই জীবন এভাবে যাতে শান্তি আনন্দ
আমায় ঘিরে রাখে ।


উপচারে ভরিয়ে দেখাই বৈভব,
ভক্তি উধাও । কানাকড়ির তুচ্ছ্
অনুভব আমায় বাঁধে ।

শুক্রবার, ২৩ জুলাই, ২০২১

শব্দব্রাউজ ২৫০ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ২৫০ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ ২৫০ । নীলাঞ্জন কুমার

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা ২৩। ৭। ২১ সকাল সাড়ে আটটা ।


শব্দসূত্র: আড়ি ভাব


আড়ির ভেতরের ঘৃণা বোঝা যায় ।
কোনটা স্থায়ী আড়ি কোনটা তাৎক্ষণিক  ,
বিষয় বুঝিয়ে দেয় । সে পুষে থাকে
গোপনে বুকে ।


ভাব হলে দিগন্ত খোলা হাট,  চারদিকে
হা হা হাসি শরীর মন খুশি করে । ভাব হলে
উল্লাস আসে । প্রিয় দিন যেন সামনে!
ভাব হলে অনন্ত আমার সামনে। তাকে ধরি, 
খেলা করি ।

অরুণ দাস || Z - চেতনার কবিতা

 অরুণ দাস || Z - চেতনার কবিতা



Z - চেতনার কবিতা

..............................



চৌত্রিশ .


স্বপ্নকে ছুঁয়ে মিথ্যেই বলি

স্বপ্নহীন হবো না আর

                       কৃষ্ণকলি ৷


১.


তোর মূর্ছনায় জেগে উঠি ৷

ঘুমহীন শরীরে ছোট্ট অবসর ৷

উর্বর ভোর জাগে

নাম না জানা পাখির ডাকে

রূপকথা রাত খুলে,

ইচ্ছে স্বপ্ন 

           লিখে রাখি 

                       রোজ

লিখে রাখি 

         মৌনমুখর 

                নিস্তব্ধ দিন ৷

জলছবি ছুঁয়ে থাকা পাহাড়

মূর্ত মূর্তহীন নদী

প্রজাপতি ছুঁয়ে যায় যে

                             আগুন

কুয়াশা মেঘ ছুঁয়ে থাকি

            অনামি শরীর জুড়ে

সবুজ গালিচায় ভরে নিই

                              মৃত নদী

একফালি সোহাগে

একফালি স্বপ্নহীন সোহাগে ৷


২.


চূর্ণী, নীল  পাহাড়ের

ক্যানভাসে আজ লিখে রাখি ...সে সব সবুজ দিন ৷ অন্ধকার শিখে যাওয়া জোনাকী বর্ণ ৷

মৃত শামুক লিখে রাখে

          শেষ বিদায়ের পথ

              স্বপ্নহীন স্বপ্নের পথ ৷


পঁয়ত্রিশ .


এক জীবনে কত মৃত্যু জমা হলে

তিন সত্যি চেনা যায় নিজেকে?


১.


স্নিগ্ধ কাশের মেঘ মেখে থাকি,

বর্ষাভীরু চোখে ৷

আধো ঘুম অন্ধকারে,

ছুঁয়ে থাকা ইশারায় ৷

তোর শরীরের সবুজ ভাঁজ

খরস্রোতা শীতল হ্রদ

পর্দাভেজা চমক

আহ্লাদ আকাশ যেন 

            খসে পড়ে অনায়াসে

পাহাড়ী গন্ধ বুঁদ

                  তোর ত্রিশূল বুক

চুলচেরা চুম্বনে 

                   ঝরে পড়া রাত ৷


২.


তোর লাজুক ঠোঁটের আলতো  

বাতাসে, লিখে রাখি ফেরারী রোদের গন্ধ ৷

ঝুলন্ত চাঁদে পাতা ঝরার ছন্দ

দুরন্ত প্রাণ

ক্লান্ত জ্যোৎস্নায় গভীর 

                         গোপন স্নান ৷


.........


বল চূর্ণী ,

এক জীবনে

কত শত মৃত্যু জমলে

সত্যি সত্যি চেনা যায় 

                      নিজেকে?

আটপৌরে কবিতা ৭৮৭-৭৮৯ || অলোক বিশ্বাস Alok Biswas || "i-যুগ"-এর কবিতা || Atpoure poems.

 আটপৌরে কবিতা ৭৮৭-৭৮৯ || অলোক বিশ্বাস Alok Biswas || "i-যুগ"-এর কবিতা || Atpoure poems.





আটপৌরে কবিতা : অলোক বিশ্বাস

৭৮৭.
বৃষ্টি যদি রাজনৈতিক
হতো
দুর্দশার শেষ থাকতো না।
৭৮৮.
বৃষ্টি এবং কবির
সম্পর্কের
কোনো ব্যাখ্যা মানায় না।
৭৮৯.
বৃষ্টিতে স্নান কোরে
কবির
ভাষাজগৎ পুনরায় উত্থিত হয়।

নীলিমা সাহা-র আটপৌরে ১২৭-১২৯ নীলিমা সাহা //Nilima Saha, Atpoure Poems

  নীলিমা সাহা-র আটপৌরে ১২৭-১২৯ নীলিমা সাহা //Nilima Saha, Atpoure Poems   নীলিমা সাহার আটপৌরে  ১১৭) কাকভোর  থেকে   কাকসন্ধ্যা               ...