বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০২২

আটপৌরে ৩২৩|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 323, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ৩২৩|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 323, by Sudip Biswas



৩২৩

শিরোনাম 


সুদূরমগ্নতা। ব্যতিরেক। পরিণাম। 


যুক্তিযুক্ত


চিরকাল সহযাত্রীরা জমিয়েছে গান।

শব্দব্রাউজ ৫৬৫ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-565, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫৬৫ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-565, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ- ৫৬৫


বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ১৬। ৮। ২২। সকাল সাতটা পনেরো মিনিট ।


শব্দসূত্র: হরিহর আত্মা



উত্তাল জীবনে হরিহর আত্মার

দেখা আজকের দিনে নাস্তি ।

যে যার মতো সম্রাট হয়ে

বসে থাকে অলৌকিক সাম্রাজ্যে ।

বিষাক্ত সময়ে শূন্যতার ভেতরে

নিজেকে তখন দাস মনে হয় ।



আত্মাকে যেমন চালাও তেমনি কি চলে?

শরীরের সঙ্গে সঙ্গে আত্মা জ্বললেও

সে সহানুভূতি পায়?


মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট, ২০২২

শব্দব্রাউজ ৫৬৪ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-564, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫৬৪ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-564, Nilanjan Kumar




শব্দব্রাউজ- ৫৬৪

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা ।১৫। ৮। ২২। সকাল সাতটা পঁয়ত্রিশ মিনিট ।


শব্দসূত্র: শ্রাবণ দিন যায়



শ্রাবণ ধারা হল সারা

তুলো মেঘের ওড়ার পালা ।


ওলটপালট দিনের ভেতর

উদাস হাওয়া হয় না কাতর ।


যায় যায় প্রিয় বৃষ্টি ধারা

আমি যেন আপন হারা ।


আটপৌরে ৩২২|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 322, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ৩২২|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 322, by Sudip Biswas



৩২২

 ওভারকোট


 প্রস্তরখন্ডের।  তৃষ্ণার্তি। বিষাদ।


 আত্মচরিত


কেন তুমি একাকী অনন্ত!

সোমবার, ১৫ আগস্ট, ২০২২

শব্দব্রাউজ ৫৬৩ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-563, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫৬৩ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-563, Nilanjan Kumar




শব্দব্রাউজ- ৫৬৩

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ১৪। ৮। ২২। সকাল আটটা কুড়ি মিনিট ।


শব্দসূত্র: দাস হয়ে উঠি



দাসানুদাসেও হাজারো অভিজ্ঞতা ,

নিঃশব্দে যাপন করি ।


কি করে কি হয়ে যায়!

বুঝতে বুঝতে দিন কাবার ।



কোনদিন দুর্বার হয়ে উঠি না বলে

দাসানুদাস ভিত্তিক শব্দ গভীরে পাক খায় ।

আটপৌরে ৩২১|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 321, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ৩২১|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 321, by Sudip Biswas



৩২১.

প্রণয় 

ধান্যশষ্য। বিচ্ছিন্ন। কপোতাক্ষ।


নীলিমার 


অপেক্ষায় দোয়েল ও কোয়েল।

রবিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২২

শব্দব্রাউজ ৫৬২ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-562, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫৬২ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-562, Nilanjan Kumar




শব্দব্রাউজ- ৫৬২

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ১৩। ৮। ২২। সকাল আটটা পাঁচ মিনিট ।



শব্দসূত্র: চেয়েছি প্রেরণা ভালোবাসা



১। চেয়েছি ভালো থাকার স্বাদ গন্ধ

      চেয়েছি নির্মল শুদ্ধ সময় ।


২। প্রেরণা দেয় এগোনোর পথনির্দেশ

     প্রেরণা দেয় স্নিগ্ধ অনুপ্রেরণা ।


৩। ভালোবাসা কেন যে হিসেবের বাইরে?

      ভালোবাসা আদিম সত্য ছুঁতে চায় ।

আটপৌরে ৩২০|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 320, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ৩২০|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 320, by Sudip Biswas



৩২০.

বিষাদ


চন্দ্রালোক। একদিন। নদীবিধৌত।


অপেক্ষায়


দহনপোশাক দাঁড়িয়ে একাকী মলিন।

শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

আটপৌরে ৩১৯|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 319, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ৩১৯|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 319, by Sudip Biswas



৩১৯.

রাষ্ট্র


বাগদিপাড়ার।অচলায়তনে। স্বাধীনতা।


পতাকার


মতো উড়ুক্কু কালো টাকা।

শব্দব্রাউজ ৫৬১ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-561, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫৬১ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-561, Nilanjan Kumar




শব্দব্রাউজ- ৫৬১

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ১২। ৮।২২। সময় সকাল সাতটা পন্ঞ্চাশ মিনিট ।



শব্দসূত্র: এইভাবে একদিন



এইভাবে চলতে চলতে

কোথা থেকে পাল্টে যাই ।

তখন নিজেকে বুঝতে

বড় কঠিন লাগে ।



একদিন নিঃশেষ হওয়ার আগে

সত্যিই কি মৃত্যুরেখা

দেখা যায়?

শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২

শব্দব্রাউজ ৫৬০ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-560, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫৬০ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-560, Nilanjan Kumar




শব্দব্রাউজ- ৫৬০

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ১০। ৮। ২২। সময় সকাল সাতটা চল্লিশ মিনিট ।



শব্দসূত্র: মনে বনে কোণে


১। মন ছাড়া শরীর

     শরীর ছাড়া মন

      ভাবনার বাইরে ।


২। বনের স্তব্ধতার সামনে

       দাঁড়িয়ে প্রাণনা খুঁজি ।


        মুহূর্তগুলো জমে থাকে বুকে ।


৩। বুকের কোণে বেহিসেবি অঙ্গ

        মনের কোণে অসম্পৃক্ত যাপন


       কখন যে শান্ত হয়ে যায় !


আটপৌরে ৩১৮|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 318, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ৩১৮|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 318, by Sudip Biswas



৩১৮.

ঘাট


তরী। তরঙ্গ।তরুণী। 


দিলদরিয়া


পারাপারে একমাত্র মাঝি অন্তর্যামী।

বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০২২

চিরঞ্জীব হালদার ।। কবিতা ।। আর্জি , Chiranjib Roy

চিরঞ্জীব হালদার ।। কবিতা

আর্জি


চিরঞ্জীব হালদার



আমার পূর্বপুরুষের নাম যদি তুকারাম হয়

তাহলে কি

আমার প্রপিতামহের পাশ্চাত্য সংস্করণ যদি ইবসেন হয় তাহলে কি

যদি আমার দিদিমার বান্ধবী মীনকুমারী হয়



ঠিক কখন আপনি একা একা দক্ষিণ বারান্দার খিড়কির কপাট খুলে ঝাঁপ দেবেন গরম নেহাইয়ের উপর

ধর্ষনের সব চিহ্ন মুছে যাওয়ার পরেও

কোন গ্লানি ছাড়াই শহরের মেডিকেল ভান্ডারে

অনিয়ন্ত্রিত ঘুমের বড়ি চুরি করতে সফল হবেন

বৈরাম খাঁ তার চরিতনামা লেখার আগে

প্ল্যানচেটে নাদির শাহকে ডেকে নেবেন 


আলাদিন অন্তত একবারের জন্য ভার্জিনিয়া উলফের শেষ সাক্ষাতকার নেওয়া যায় কিনা ভেবে দেখবেন

আপনার প্রদীপকে বলুন মরা নদীর জল

যেন ফুসমন্তর হয়ে ওঠে

শব্দব্রাউজ ৫৫৯ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-559, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫৫৯ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-559, Nilanjan Kumar




শব্দব্রাউজ- ৫৫৯

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ৯।৮। ২২। সকাল ৭টা পঁয়তাল্লিশ মিনিট ।

শব্দসূত্র: মন রাঙালো কে

মনের হাজারো চর্চা নিয়ে হাজারো শব্দ কি করে যে গড়ে ওঠে ! মন হারালে আবার ঠিক জায়গায় ফিরে আসে । এ বিস্ময় আজন্ম ।

মন রাঙায় যে, তাকে দেখতে বড় ইচ্ছে । দীর্ঘ খুশি যে ছড়ায় তাকে আলিঙ্গন করতে পারলে স্বপ্ন সার্থক। মন কত কিছু চায়!

আর কে আছে মন ছাড়া!

আটপৌরে ৩১৭|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 317, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ৩১৭|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 317, by Sudip Biswas



৩১৭.

গল্প 

শুরুর।কথাকলি।এলোমেলো।  

করনীয়নির্ধারনে 

বেনজির জাফর স্যার মার্সাল।

বুধবার, ১০ আগস্ট, ২০২২

শব্দব্রাউজ ৫৫৮ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-558, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫৫৮ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-558, Nilanjan Kumar




শব্দব্রাউজ- ৫৫৮


বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ৮।৮। ২২। সকাল সাতটা পন্ঞ্চাশ মিনিট ।


শব্দসূত্র: সোনালী দিন যায়


সোনালী জীবনের জন্য

হা- পিত্যেশ নিয়ে আমৃত্যু ।


দিন আমায় বাস্তবে ভাসায়

রাত স্বপ্নে ।


মরি হায় চলে যায়

দিন চলে যায় ।

আটপৌরে ৩১৬|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 316, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ৩১৬|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 316, by Sudip Biswas



৩১৬.

অচিন্তনীয় 

জারজ।কলরব। বিকারগ্রহ।

আবাসজ্ঞানারোহন

অপাপভূমিতে রোপন করি মগ্নতা।

মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট, ২০২২

আটপৌরে ৩১৫|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 315, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ৩১৫|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 315, by Sudip Biswas



৩১৫.

প্রান্তকথা

আমাদের। চিরন্তনী। ভদ্রাসন।

ঘটাচ্ছাদনে

আমাদের নির্বাহিত বিধৈত ইতিহাস।

শব্দব্রাউজ ৫৫৭ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-557, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫৫৭ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-557, Nilanjan Kumar




শব্দব্রাউজ- ৫৫৭

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ৭।৮। ২০২২। সকাল নয়টা ।



শব্দসূত্র: মাখব ব্রজের রাঙা ধুলি



১। মাখব এ জীবনে

      নীরবতা অনবরত

                              মনে ।


২। ব্রজের গোপাল ঘরে ঘরে

     দোল খায়

      আপন সত্ত্বায় ।


৩। রাঙা মন চেয়ে থাকে

      নারীচোখে

      স্বপ্নেও সে চোখ ভাসে ।


৪। ধূলি ধূসর সময়

      আজন্ম

      ভাবলে দমবন্ধ লাগে ।




সোমবার, ৮ আগস্ট, ২০২২

শব্দব্রাউজ ৫৫৬ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-556, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫৫৬ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-556, Nilanjan Kumar




শব্দব্রাউজ- ৫৫৬

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ৬। ৮। ২২। সকাল সাতটা পনেরো মিনিট ।

শব্দসূত্র: দিন গেল সন্ধ্যে হল

দিন শেষের বাজনা আপনি বেজে যায় । তুচ্ছ জীবন এভাবে রাত্রির দিকে এগোয় ।

গেল গেল বলতে বলতে চলে গেলে দুঃখ ঘরের কোণে জমা হয়ে যায় ।

সন্ধ্যের পর মৃত্যুগন্ধ শরীরের সামনে ঘোরে । হাত ভরতি আলিঙ্গন মৃত্যুকে কখন যে গ্রাস করে ।

মৃত্যুদিন পার হলে স্মৃতি থাকে । কখনো কখনো অবদমন থেকে উঠে আসে ।

আটপৌরে ৩১৪|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 314, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ৩১৪|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 314, by Sudip Biswas



৩১৪.

দীর্ঘিকার


মৃত্তিকার। ধারকতত্ত্ব। অবসিত।

চন্দ্রকিরন

প্রগলভ অলৌকিক কৌমুদীর অপার।

আটপৌরে ৩১৩|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 313, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ৩১৩|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 313, by Sudip Biswas



৩১৩.


অবনত


 মস্তকের। ছায়া। দেখে। 


চমৎকৃত 


মদীয় প্রলম্বিত বর্ণময়তার গোপকথা।

রবিবার, ৭ আগস্ট, ২০২২

শব্দব্রাউজ ৫৫৫ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-555, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫৫৫ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-555, Nilanjan Kumar




শব্দব্রাউজ- ৫৫৫

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ৫।৮।২২। সকাল সাতটা চল্লিশ মিনিট ।



শব্দসূত্র: হৈ চৈ হল্লা



হৈ চৈ ছাড়া পোষায় না

নির্ভুল পিকনিক ,

উন্মাদনারও বড্ড প্রয়োজন ।



হল্লার ভেতর থেকে গড়ে ওঠে

প্রতিবাদ নয়তো বিশৃঙ্খলা ,

স্বাদে বুঝে নিতে হয় ।



হৈ চৈ হল্লা চলবেই

তবু

নিঃসঙ্গতার সঙ্গে প্রেম হয়ে যায় ।

নির্দয় সময়ের অভিজ্ঞান ।। উত্তর বিশ্বাস ।। কবিতা, Uttar Biswas

নির্দয় সময়ের অভিজ্ঞান

উত্তর বিশ্বাস 



হাত ছাড়ো,

সূর্যকে সামনে রেখে

একাকী হেঁটে হেঁটে যাও নদীর কাছে।

মরমি বাতাসের হৃদয় থেকে বিশুদ্ধ অক্সিজেন নিয়ে কথা বলো পাখিদের সাথে, সঞ্চারমান মেঘেদের সাথে।


তারপর

সমস্ত মুখোশ পুড়িয়ে অরণ্যের কাছে গিয়ে দাঁড়াও,

সেখানে বন্ধুত্বের ছায়া নিয়ে বৃক্ষেরা অপেক্ষা করে আছে অনন্তকাল।

ধৈর্য ধরো,

সূচনা করো নতুন জীবনের

ভুল বুঝোনা মহানুভব পৃথিবীকে।

মাটিকে স্পর্শ করো মায়ের মতো,

ঘাস ও ফুলের ঘ্রাণ নাও অনাবিল ঘ্রাণ ,

পিঁপড়ে ও হাতীদের কাছ শিখে নাও স্বজাত্যবোধ।


হাত ছাড়ো,

মৃত্যুর নৈঃশব্দে নির্মোহ আকাশের দিকে তাকাও,

শুধু দূরে থাকো

মানুষ থেকে অনেক দূরে

অন্তত এই নির্দয় সময়ে যতটা দূরত্বে থাকা সম্ভব।


©উত্তর বিশ্বাস

শনিবার, ৬ আগস্ট, ২০২২

কিছু বই কিছু কথা - ২৯৭ । নীলাঞ্জন কুমার নোনা বাতাসের রং। দীপঙ্কর সরকার, Dipankar Sarkar

কিছু বই কিছু কথা - ২৯৭ । নীলাঞ্জন কুমার



নোনা বাতাসের রং। দীপঙ্কর সরকার । পাঠক । কলকাতা- ৯। আশি টাকা ।


' বস্তুত যেখানেই যাই না কেন/  যা কিছুই লিখে থাকি সবেতেই/  ছুঁয়ে থাকে সময়ের হাত । ' নয়তো ' আগুনের  ভাষা লেখা হবে এই পড়ন্ত/  বিকেলে,  অলুক বহুব্রীহি সমাসের মতো/  নির্লিপ্ত থাকবে তার সকল ঠিকানা ' -র মতো পংক্তি পড়ে যে কোন কবিতার পাঠক বুঝতেই পারবেন যে কবি দীপঙ্কর সরকারের ভেতর কবিতা গড়ে উঠেছে । তবে কাব্যগ্রন্থের অতি সামান্য কিছু কবিতায় ছড়ানো ছেটানো আছে তাঁর নিম্নগ্রামের আকর্ষণী উচ্চারণ যা কবিতাপ্রেমী পাঠককে তন্নিষ্ঠ করবে ।
               বছর ছয়েক আগে  ( ২০১৬ সালে)  প্রকাশিত এই কাব্যগ্রন্থে কবি তাঁর নিজস্ব ভাষা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন । কিন্তু প্রকৃত অর্থে এখনো সফলতা পাননি । কিছু অহেতুক পংক্তি যা পাঠককে বোঝানোর তাগিদে লেখা হয়েছে তা না লিখলেও চলতো,  কারণ রহস্য ফুটে ওঠেনি । কবি সময়কে ছুঁতে চেয়েছেন তাঁর মতো করে কিন্তু তা ছুঁতে গেলে কবিকে আরো কুশলী হতে হবে ও কবিতা সাধনার জায়গায় আনতে হবে তা কবির বোঝা উচিত ।
            একথা সত্যি যে কবির দশটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হওয়ার পরে এই গ্রন্থের বহুলাংশ কোনভাবে আগ্রহ আনেনা । উক্ত দুটি পংক্তি ছাড়া বইটির আদ্যোপান্ত পড়ে তেমন জুতসই পংক্তির সন্ধানও পাওয়া গেল না ।এটি বড় দুঃখের বিষয় । ফলে কাব্যগ্রন্থটি বড় একঘেয়ে হয়ে গেছে ।দেবাশিস সাহার প্রচ্ছদ যথা যথা ।

শব্দব্রাউজ ৫৫৪ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-554, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫৫৪ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-554, Nilanjan Kumar




শব্দব্রাউজ- ৫৫৪

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ৪। ৮। ২২। সকাল সাতটা চল্লিশ মিনিট ।



শব্দসূত্র: ভালোবাসি বলে ভালোবাসি বলি না



ভালোবাসি বলতে গেলে

থমকে যাই

সে কি লজ্জা না অন্য কিছু ।



বলাবলির ভেতর থেকে

বোঝা যায় না

সত্যি না মিথ্যে

বড় বেশি জরিপ করতে হয় ।



ভালোবাসার চোখ অন্যরকম

তাকে

যে কেউ দেখে বুঝতে পারে ।



বলি না শব্দে, কিন্তু তৃষ্ণা

ছুটিয়ে মারে

দিন রাত তুমি তুমি করে ।

আটপৌরে ৩১২|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 312, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ৩১২|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 312, by Sudip Biswas



৩১২

উদভ্রান্ত 


একমাত্রিক। প্রতিবন্ধকতা। জীবনজুড়ে।


অন্তর্দাহ


জীবনের অসহিষ্ণু মৃত্যু বিভাজিকা।

শুক্রবার, ৫ আগস্ট, ২০২২

শব্দব্রাউজ ৫৫৩ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-553, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫৫৩ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-553, Nilanjan Kumar




শব্দব্রাউজ- ৫৫৩

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ৩। ৮। ২২। সকাল সাতটা ত্রিশ মিনিট ।



শব্দসূত্র: সাগর গর্জনের কাছাকাছি



সাগর ডাকে

নোনা জলে জড়াই ,

এভাবে আনন্দ যাপন ।



সাগর গর্জনের সঙ্গে

সখ্যতা করি, 

আমি আর নিঃসঙ্গ হই না ।



বালিয়াড়ির কাছাকাছি এলে

নীল সমুদ্রের প্রেম

জাগায় রমনের তাগিদ ।

আটপৌরে ৩১১|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 311, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ৩১১|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 311, by Sudip Biswas



৩১১.

মরণ


নিখিল-নাস্তি। বেদনাবিলতা। দহনান্তিকদিনে।


কাঙাল-ভোরে


জ্বলছে আগুন ছিন্নমালা শয্যাতলে।

বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০২২

শব্দব্রাউজ ৫৫২ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-552, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫৫২ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-552, Nilanjan Kumar




শব্দব্রাউজ- ৫৫২

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ২। ৮।২০২২। সকাল সাতটা ত্রিশ মিনিট ।



শব্দসূত্র: শুধু একটাই তুমি



শুধু বই । শুধু মনন। শুধু কল্পনা । শুধু যন্ত্রণা । শুধু কবিতা যাপন । এই জীবনে একমাত্র স্বর্গীয় মুক্তির চাবিকাঠি ।



হ্যাঁ একটাই জীবন যারা বলে আমি তাকে কিভাবে মানবো ? স্বপ্নে পূর্বজন্ম ভেসে ওঠে । কল্পনায় পূর্বজন্মের ছবি । যে বোঝে সে বোঝে ।



তুমি এলে শিহরণ । তুমি এলে শব্দে শব্দে চকমকি আগুন জ্বলে । হয়ে ওঠে শব্দব্রাউজ ।

আটপৌরে ৩১০|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 310, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ৩১০|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 310, by Sudip Biswas



৩১০.

বজ্রযানী 


বিদ্যুৎলতা। নিমেষের। শোভাবর্ধন।


অঙ্গদখানি


জীবনের আকুলতা অস্তিত্বের আকাশে।

বুধবার, ৩ আগস্ট, ২০২২

আটপৌরে ৩০৯ || সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 309, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ৩০৯ || সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 309, by Sudip Biswas



৩০৯.

চেতনা 


তীব্রতা। ঝলসানো। জাগরণসম।


রক্তরবির


রাগে মনোহর লাগে বেদনা।

শব্দব্রাউজ ৫৫১ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-550, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫৫১ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-550, Nilanjan Kumar




শব্দব্রাউজ- ৫৫১

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ১। ৮। ২২। সকাল আটটা পনেরো মিনিট ।



শব্দসূত্র: সোনার হরিণ চাই



বৈভব দেখানোর অস্ত্র

শুধুই সোনা? 

মনন কি বৈভব নয়?



সোনার হরিণকে দেখতে তো

সবাই চায়, 

তাহলে সীতা দোষী হবে কেন? 



চাই বলতেই পাওয়া যায় না ,

পাওয়ার জন্য

               চাতুর্য প্রয়োজন ।


মঙ্গলবার, ২ আগস্ট, ২০২২

স্মৃতিকথা- ২১ ।। এই আমি চরিত্র ।। নীলাঞ্জন কুমার ।। ( গত মাসের পর)

 স্মৃতিকথা- ২১

                              এই আমি চরিত্র


                              নীলাঞ্জন কুমার


                            ( গত মাসের পর)   



                                ।। ২১।।


সে সময় স্বাভাবিকভাবেই ভবিষ্যৎ চিন্তা করার মতো অবস্থান আমার ছিল না । নিম্ন মধ্যবিত্ত এক পরিবারের মধ্যে জন্ম হওয়া এই আমি চরিত্রটি  তখন কল্পনার পাখা মেলে ভাসছে বলা যায় । মেদিনীপুর শহরে আবার আসার পর বলা যায় কিছু কিছু পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ হয় । তাদের কেউ কেউ ক্লাস থ্রি পর্যন্ত পড়েছে অলিগন্ঞ্জ প্রাইমারি স্কুলে ।যাহোক এবার শুরু হল পড়ার বাইরের বই পড়ার আনন্দ । বাড়িতে বাবা মা কখনো সখনো বাড়িতে শোভা বাড়ানোর জন্য কবিতার বই কিনে আনতো । নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ' উলঙ্গ রাজা' আমি বাবার কেনা বই থেকে পড়েছি । তাছাড়া আমার দাদার সে সময় সামান্য হলেও সাহিত্য স্পৃহা জন্মেছিল । দাদা বাড়িতে তার বন্ধুদের কাছ থেকে আনতো কৃত্তিবাস পত্রিকার তৎকালীন সংখ্যা ।দাদার সে সময়ের বিশেষ বন্ধু ছিল অচিন্ত্য নন্দী । যিনি এখন আমার বিশেষ কবি বন্ধু । দাদা তাঁর কাছ থেকেও আনতো সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের,  অজিত বাইরী,  মতি মুখোপাধ্যায়,  বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের  কবিতার বই      ।আমি সেগুলো পড়তাম আর ভাবতাম কোনদিনও আমি এরকম লিখতে পারবো !
                 কর্ণেলগোলার ভাড়া বাড়িতে তখন আসতেন মায়ের ছোটমামা কেষ্ট চক্রবর্তী । তিনি থাকতেন শহরের বক্সি বাজারে । উনি ছিলেন মেদিনীপুরের তৎকালীন সময়ের নামকরা কবি ও  গীতিকার । রবীন্দ্রনাথের ধারায় তাঁর লেখা মেদিনীপুরে বেশ জনপ্রিয় ছিল । যদিও ওঁর কোন কাব্যগ্রন্থ কোনদিনও বেরোয়নি । তবু বহু পুরনো পত্রিকাতে  তাঁর অন্তমিলের কবিতা ছড়া ব্যাপকভাবে প্রকাশ পেত মেদিনীপুর জেলায় ।সেই সময় মেদিনীপুরে একই স্তরের তিনজন কবিতা লেখক খ্যাতিলাভ করেন । তাঁরা হলেন কেষ্ট চক্রবর্তী,  বিভূতি বিদ্যাবিনোদ,  সু-মো-দে ( যাঁর পুরো নাম ছিল সুরেন্দ্র মোহন দে ) সকলেই এখন প্রয়াত । কিন্তু দুর্ভাগ্য এই,  তাঁরা মেদিনীপুর জেলার বাইরে নিজেকে নিয়ে যেতে পারেন নি । কেষ্ট চক্রবর্তীকে আমি চশমা দাদুন বলে ডাকতাম । বড় বেলায় ছোট দাদু বলতাম । এছাড়া আমরা বিশেষ করে দিদিরা নাম দিয়েছিল 'এভারগ্রিন দাদু '। উনি রেডিওতে গান লিখতেন ।তাঁর বেশ কিছু গান রেডিওতে শুনেছি । দু-একটি ছায়াছবিতে  তাঁর লেখা গান রেকর্ড হয়েছিল ।
               ছোট দাদুন  মাঝে মধ্যে তাঁর কেনা সদ্য বেরোন টেপ রেকর্ডারটি আমাদের বাড়ি নিয়ে আসতেন । তখন আমাদের কি আনন্দ!  আমরা ওঁনার যন্ত্রটিতে আমাদের গান রেকর্ড  করতাম । আসলে তিনি ছিলেন আমাদের কাছে আনন্দের ঝলকানি । আমার ওঁর কাছে বায়না ছিল তাঁকে আমাদের বাসাতে এসে একটা করে ছড়া বা কবিতা লিখে যেতে হবে । তার জন্য আমি খাতাও কিনেছিলাম । উনি নিয়মিত সে দাবি মানতেন । তাছাড়া মাঝে মধ্যে আমাদের জন্য ছন্দের ছড়া বা কবিতা লিখে পোস্ট করতেন । বলতে হয় ছোট দাদুন আমার লেখার ক্ষেত্রে কিছুটা প্রেরণা এনে দিয়েছিল । ওঁর দেখাদেখি আমি গান লিখতে শুরু করেছিলাম । তখন আমি ক্লাস টেনে পড়ি । প্রথম যে গান লিখেছিলাম সেটির প্রথম অংশ: ' মন আজ মেতেছে/ তবু যাই চলে/ কেন শুধু বাধা দাও/  দুয়ার দাও খুলে/  মন তবু মানে না/  তুমি ছাড়া জানে না ।' এই অযৌক্তিক গানটির সুরও দিয়েছিলাম । যা হয়েছিল  কিম্ভূতকিমাকার। এর পরের গান ছিল: 'দোল এসেছে দোল/ হৃদয় তুফান তোল/  প্রাণে আজ তুমুল লহর/  পর আজ খুশির ঝালর/  বাজাও মধুর বোল' ইত্যাদি ইত্যাদি । যার সুরও দিয়েছিলাম । যা মাঝে মধ্যে এখনও গুণ গুণ  করি । এর পরের গান সামান্য পরিণত হল । তার প্রথম অংশ  : ' এ হিয়ায় কাঁটার ব্যথা/  কত আর সইব বলো/  এ হিয়ার জ্বালা যত/  কত আর কইব বলো । ' এভাবে বেশ কিছু গান লেখা ও সুর দেওয়া শুরু হল । যেমন ময়মনসিংহের গীতিরূপ ' সোনাই মাধব ' -এর একটি গান অনুসারে লিখলাম ' বন্ধুরে হে, ঝএ বন্ধু কইবাম তোরে/ বউ আমার রাইগ্যা গিয়া বইস্যা আছে গোঁসাঘরে । ' অথবা শ্যামা সঙ্গীত ' তোকে যদি নাই পেলাম মা/  নামাবলী কি বা হবে/  অরূপ রতন যদি না পাই/  মানিক রতন কি বা হবে ।''ইত্যাদি ইত্যাদি।
                     তখন কার্যত গান আমায় পেয়ে বসেছে ।
গান গাইছি লিখছি সুর দিচ্ছি , ভাবছি আর মনে মনে কিশোর কুমার হওয়ার কথা চিন্তা করছি ।পাশাপাশি কবিতাও চলছে ঢিমেতালে । সে সময়ের কবিতাগুলো 
(অবশ্যই ছাপার অযোগ্য) তখন আমার কাছে যেন বুকের মধ্যে ধরে রাখার মতো ব্যাপার! তখন ভাবতেই
পারছি না কি করে আমি লিখে যাচ্ছি , গানে সুর দিচ্ছি ইত্যাদি ইত্যাদি । সামনে হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষা  (তখন ক্লাস ইলেভেনের পর হায়ার সেকেন্ডারি ফাইনাল হত) কিন্তু আমি মজে আছি গান কবিতাতে।বাড়িতে পড়াশোনা তথৈবচ । তবে নিয়মিত ক্লাস যত্ন করে করতাম । কেরিয়ার বিষয়ে ভাবনা ব্যাপারটা ছিল না। ।মুক্ত বিহঙ্গ হয়ে কাটাচ্ছি সময় ।আমরা যা আনন্দ করেছি জীবনে তা এখনকার ছেলেপুলেরা কল্পনাতে আনতে পারবে না। সে কারণে আমাদের আর্থিক কেরিয়ার তেমন গড়ে ওঠেনি,  কিন্তু তাতে আমার কোনদুঃখ নেই । কারণ আমি যা হতে চেয়েছিলাম তা শত কেরিয়ার নিয়ে স্বপ্ন দেখলে হয় না । অবশ্য কতখানি স্বপ্ন সফল করতে পারব তা জানি না । তবে হাজার বাঁক নিয়ে রসেবসে আছি ।
                                           ( চলবে)



শব্দব্রাউজ ৫৫০ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-550, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫৫০ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-550, Nilanjan Kumar






শব্দব্রাউজ- ৫৫০

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ৩১। ৭। ২২। সময় ৮টা ৪০ মিনিট ।



শব্দসূত্র: আমাকে আমার করে দাও



আমাকে আমার করতে পারে কেবল আমি । উন্মাদ প্রেমের কাছে আমিত্ব বলে কিছু থাকে না ।



' আমার সাধ না মিটিল ' গান প্রেমোন্মাদ সময়ে মূল্যহীন । গড়ে চলে অহংহীন মুহূর্ত । রিপু তখন আশীর্বাদ!



কেমন করে আমাকে আমার করতে পারি? প্রেমিকার অর্গাজম নিয়ে কাটুম কুটুম খেলায় মত্ত হয়ে জিততে তখন ব্যস্ত ।


দাও প্রিয়তা । নিপুণ করে ।

আটপৌরে ৩০৮ || সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 308, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ৩০৮ || সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 308, by Sudip Biswas



৩০৮.

অনুরূপা 


একঘেয়েমি।কামনার। আলফানসো।


অস্তিত্ব 


খুঁজে চলছে জীবনের নিঃসঙ্গতা।

সোমবার, ১ আগস্ট, ২০২২

আটপৌরে ৩০৭ || সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 307, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ৩০৭ || সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 307, by Sudip Biswas



৩০৭.

চিরায়ত 


বিভূতি। স্রেফ। অনুবাদ। 


কল্পনার 


বয়ে চলা চুপকথা ঊর্বর।

শব্দব্রাউজ ৫৪৯ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-549, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫৪৯ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-549, Nilanjan Kumar






শব্দব্রাউজ- ৫৪৯

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ৩০। ৭। ২২। সময় ৭টা ৩০মিনিট ।



শব্দসূত্র: খেলা ভাঙার খেলা



আস্তে আস্তে পেঁয়াজ ছাড়ানোর মতো রহস্য ছড়ানোর খেলা দেখতে যারা মেতে, তারা জানে না ফলাফলে শূন্য । খেলা ভাঙার খেলা যেদিন শেষ হবে সে ভয়ংকর দিন কারোর মাথায় নেই ।



ভাঙার ভেতর থেকে গড়ে উঠবেই নব প্রজন্ম । তারা অভিজ্ঞতা দিয়ে সব শিখবে । সত্যি ইতিহাস প্রকাশ পাবে তাদের হাত ধরে ।



খেলা হবে বলতে বলতে যারা বাজার মাতায় , তারা দুর্দিনে অদৃশ্য । এ খেলা চলছে নিরন্তর । কেউ কারো দায় নেয় না ।

রবিবার, ৩১ জুলাই, ২০২২

হে আমার স্বদেশ- ১৮ ।। সন্তোষ কুমার কর্মকার ।। মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ– বাসুদেব দাস, Hey Amar Swadesh

 হে আমার স্বদেশ- ১৮

সন্তোষ কুমার কর্মকার

মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ– বাসুদেব দাস







  লেখক পরিচিতি-- সন্তোষ কুমার কর্মকার একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, শিশু সাহিত্যিক এবং অনুবাদক।বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলায় ১৯৫৩ সনে শ্রীকর্মকারের জন্ম হয়।পিতা কানাইলাল কর্মকার। ভারত স্বাধীন হওয়ার পরে সপরিবারে ভারতে চলে আসেন। প্রাথমিক শিক্ষা অসমের বরপেটায়।গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত  বিভাগে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। রচিত উপন্যাস গুলি যথাক্রমে গৃহভূমি, শঙ্খ ধ্বনি, পদাতিক, সুবর্ণরেখা,অ  মোর আপোনার দেশ, কালান্তরর কথকতা, শিপার সন্ধানত, ইত্যাদি। ছোটগল্প,বেশ কিছু শিশু উপন্যাস এবং অনুবাদ গ্রন্থ রচনা করেন।২০২১ সনের এপ্রিল মাসে এই মহান লেখকের মৃত্যু হয়।১৯৯৬ সনে ভারতীয় ভাষা পরিষদ পুরস্কার, ১৯৯৮ সনে অসম সাহিত্য সভার সীতানাথ ব্রহ্ম  পুরস্কার এবং ২০২০ সনে সাহিত‍্যাচার্য সৈয়দ আব্দুল মালিক উপন্যাসশ্রী পুরস্কার লাভ করেন ।


   আলোচ্য উপন্যাস ' হে আমার স্বদেশ' (অ’ মোর আপোনার দেশ) অসমের অন্যতম সাহিত্যিক, ঠাকুর পরিবারের জামাই, সাহিত্যরথী লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়ার জীবনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।এই উপন্যাসে বেজবরুয়ার চেতনায় কীভাবে জাতীয়তাবাদ অঙ্কুরিত হয়েছিল, বেজবরুয়ার জাতীয়তাবাদের স্বরূপ, রবীন্দ্রনাথের জাতীয়তাবাদের সঙ্গে  বেজবরুয়ার জাতীয়তাবাদের তুলনা, ইউরোপীয় নবজাগরণের প্রেক্ষাপটে ভারত তথা অসমের নবজাগরণের উন্মেষ, জাতীয়তাবাদী বেজবরুয়ার  সংগ্রাম, অসম বাংলার সাংস্কৃতিক সমন্বয় আলোচিত হয়েছে।এই উপন্যাসের চরিত্র রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে ঠাকুরবাড়ির মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ, বলেন্দ্রনাথ,প্রজ্ঞাসুন্দরী ,অন‍্যদিকে অসমের হেমচন্দ্র গোস্বামী, গুণাভিরাম বরুয়া,চন্দ্রকুমার আগরওয়ালা -উনবিংশ শতকের অসম বাংলার অনেক স্বনামধন্য পুরুষই উপন্যাসের পাতায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

প্রসঙ্গত বলে রাখি শ্রীমতী কর্মকার উপন্যাসটির প্রায় আড়াইশো পাতার মতো অনুবাদ করেছিলেন।তবে আমি প্ৰয়োজন অনুসারে উপন্যাসটিকে আবার নতুন করে একেবারে প্রথম থেকে অনুবাদ করেছি। বলাবাহুল্য শ্রীমতী কর্মকারের  অনুবাদ আমাকে অনেকটাই সাহায্য করেছে। এই সুযোগে আমি তার কাছে আমার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। পরিশেষে দৈনিক বাংলা পত্রিকা(অন লাইন)উপন্যাসটি ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করতে আগ্ৰহী হওয়ায় তাদেরকে আমার কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।(১৮)

সতীর্থদের সঙ্গে নিয়ে লক্ষ্মীনাথ প্রতিকূলতার মধ্যেও মাতৃভাষা এবং সাহিত্যের উন্নতির জন্য অ. ভা. উ. সা সভার গঠন করেছিল। তার কিছুদিন পরেই তাঁরা ' জোনাকী' প্রকাশ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সাহিত্য সৃষ্টির এক বাতাবরণ গড়ে তুলল। জোনাকীর জনপ্রিয়তা এবং নিজের সৃষ্টির বিরামহীন ধারা সমালোচক নিন্দুকদের চুপ করালো এবং প্রত্যেকেই লক্ষ্মীনাথের প্রতিভাকে স্বীকার করে নিল। এদিকে ঠাকুরবাড়ির সঙ্গে বৈবাহিক সম্বন্ধ স্থাপন করায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছিল, বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল; সেগুলিও স্বাভাবিক হয়ে এল। কিন্তু দুটি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া, তারপরে গুনাভিরাম বরুয়ার মৃত্যু… লক্ষ্মীনাথ চেষ্টা করেও হতাশা এবং শোকের বেদনা থেকে রক্ষা পেল না। এদিকে প্রজ্ঞার সঙ্গে তাঁর দ্বৈত জীবন আরম্ভ হয়েছে। এই দ্বৈত জীবনের সফল রূপায়ণ করে তোলা যাবে পৃথক একটি বাড়িতে সংসার পাতার মাধ্যমে । তার জন্য চাই উপার্জনের কোনো সুনিশ্চিত উপায়। কিন্তু উপার্জনের বিষয়ে লক্ষ্মীনাথ এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তার জন্যই তাঁর কাজকর্মে একাগ্রতা নেই, সুখভোগে এত আগ্রহ আসক্তি নেই ।

তবু নিজেকে সামলে রাখে । চন্দ্রকুমার কলকাতায় থাকে না, হেমচন্দ্র অন্য জায়গায় থাকার ফলে আগের মতো ঘন ঘন দেখা-সাক্ষাৎ হয় না । ভোলানাথের সঙ্গে বন্ধুত্ব হলেও তাকে দুঃখ, মন- খারাপ,সমস্যা, সংকটের কথা সেভাবে বলে না । এদিকে বয়সে ভোলানাথ লক্ষ্মীনাথের চেয়ে দশ এগারো বছরের বড় । তাছাড়া তিনি চন্দ্রকুমার-হেমচন্দ্রের মতো সংবেদনশীল মনের মানুষ নয়। তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য হল ব্যবসা। সব সময়ই লাভের চিন্তা করা ভোলানাথের কাছে মনের কথা বলা যায় না।

কিন্তু প্রজ্ঞার ভালোবাসা-সংবেদনশীলতার সামনে লক্ষ্মীনাথ নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারেনা । অন্তরের আকুলতায় হৃদয়ের আবেগে প্রজ্ঞা তার দুঃখ– মন খারাপ বুঝতে পারে। অবশেষে প্রজ্ঞার সামনে সমস্ত কথা প্রকাশ করল। গুনাভিরামের মৃত্যুর জন্য লক্ষ্মীনাথকে শোকে কাতর হতে দেখে প্রজ্ঞা বলল, কারও কাছেই মৃত্যু কাম্য নয়। কেউ মৃত্যুকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারে না। তবু মৃত্যু আসে। অসহনীয় হলেও মৃত্যুকে স্বীকার করে নিতেই হবে ।

একটা তপ্ত নিশ্বাস ফেলে ক্লান্ত দেহে লক্ষ্মীনাথ তার বিছানায় আশ্রয় নিল । পূব দিকের জানালার কাছে চেয়ারে বসে প্রজ্ঞা কাপড় সেলাই করছিল। লক্ষ্মীনাথকে অসময়ে বিছানা নিতে দেখে হাতের কাপড় এবং সূঁই সুতো রেখে প্রজ্ঞা স্বামীর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল তিনি কেন মন খারাপ করে থাকেন ? অন্য কোনো কারণে ভেতরে ভেতরে খারাপ পাচ্ছেন নাকি?

লক্ষ্মীনাথ তখন বি এ পাশ করার পরে সরকার তাকে হাকিমের পদে যোগদান করার জন্য অনুরোধ করার কথা বলল। বাড়ির প্রত্যেকেই চেয়েছিল সে হাকিম হোক। কিন্তু ইংরেজের অধীনে চাকরি করবে না, আরও পড়াশোনা করবে বলে সবাইকে আশ্বাস দিয়ে বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে এসেছিল। আইন পাস করে কলকাতা হাইকোর্টে ওকালতির পেশাকে গ্রহণ করবে বলে স্থির করেছিল। কিন্তু পরীক্ষায় অকৃতকার্য হল, তারপরে মামলায় হেরে তার উকিল হওয়ার আশা একেবারে চুরমার হয়ে গেল। এটা তার পক্ষে কতটা বেদনাদায়ক, ডিগ্রি লাভ করতে সক্ষম না হওয়াটা কতটা লজ্জার কথা!

প্রজ্ঞা বলল, পরীক্ষায় পাশ- ফেল থাকেই। তারপরে ডিগ্রির কথা– রবি কাকার তো কোনো ডিগ্রিই নেই। রবি কাকার কি শিক্ষা জ্ঞান কম? এদিকে পরীক্ষার আগের দুটো মাস মেসে থেকে অসুস্থ ভোলানাথবাবুর সেবা করলে, তখন প্রজ্ঞাই ঠাকুরবাড়িতে থেকে তাকে পড়াশোনা করতে বলেছিল। এখানে থেকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিলে নিশ্চয় পাশ করতে। তারপরে প্রজ্ঞা তাকে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে অনুরোধ করল।

লক্ষ্মীনাথ পলকহীন দৃষ্টিতে প্রজ্ঞার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, পড়াশোনা করার চেয়ে এখন আয় উপার্জনের কথা ভাবাটা বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। তার জন্যই প্রজ্ঞার ডান হাতের উপর নিজের হাতটা রেখে লক্ষ্মীনাথ বলল, ঠাকুরবাড়ি থেকে বেরিয়ে তাঁরা এখন আলাদাভাবে নিজেদের ঘর-সংসার পাতবে।

'এ বাড়িতে তোমার অসুবিধা হচ্ছে?'

' এখানে কোনো অসুবিধা নেই, পরি। বরঞ্চ এখানে তো শুধু আরাম। কিন্তু আমাকে নিয়ে তোমার যে নিজের সংসার গড়ার সেটা কি এখানে থাকলে কোনোদিন সম্ভব হবে?'

' তা কী করে সম্ভব?'

তারপরে লক্ষ্মীনাথ ধীরে ধীরে গম্ভীর কণ্ঠে বলল, প্রজ্ঞা এই ঘরের– এই রাজপ্রাসাদ সদৃশ বিশাল ঠাকুরবাড়ির মায়া ছাড়তে হবে। ঠাকুরবাড়ি ছাড়াটা প্রজ্ঞার পক্ষে বেদনাদায়ক। বেদনাদায়ক হলেও স্বামীর সঙ্গে পৃথকভাবে সাংসারিক জীবন গঢ়ার জন্য এই কষ্ট বেদনা সহ্য করতেই হবে। এদিকে লক্ষ্মীনাথ কর্তামশাইর মতো জমিদার নয়। কলকাতায় তার কোনো বিষয় সম্পত্তি নেই। নতুন সংসার পাতার জন্য বাইরে বাড়ি একটা ভাড়া নিতে হবে। বাড়ির বড়ো গেট থাকবে না, দারোয়ান থাকবে না, সামনের দিকে সযত্ন লালিত ফুলের বাগান থাকবে না, বিশাল বারান্দা থাকবে না, সুদৃশ্য আসবাবে সজ্জিত বিশাল বৈঠকখানা ঘর বা কাছারি ঘর থাকবে না, রান্নাবান্না করার জন্য ঠাকুর থাকবে না–।

প্রজ্ঞা আর বলতে দিল না। ডানহাতে লক্ষ্মীনাথের মুখ চাপা দিয়ে বলল,' হবে আর বলতে হবে না। আর কিছু না থাকলেও তুমি তো থাকবে। তুমি থাকলেই হবে। তোমার থেকেই আমি সব পাব।

' শুধু সঙ্গেই থাকব না। সঙ্গে থেকে এই শর্মা সবদিক থেকে তোমাকে সাহায্য করবে। তোমার সঙ্গে থেকে তোমার সংসারের প্রয়োজনে জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ পর্যন্ত করবে।' প্রজ্ঞার কোমল হাত ধরে চুমু খেয়ে লক্ষ্মীনাথ বলল,' তাই ভাবছিলাম কি, আয় উপার্জনের উপায় তো একটা চাই। ভোলা দাদার সঙ্গে কাঠের ব্যবসায়ে লেগে যাই।'

' কাঠের ব্যবসা! তুমি কাঠের ব্যবসা করাটা–!'

' দ্বিজেন জ্যাঠামশাই ' অশ্রুমতি',' সরোজিনী' নাটক লিখে নাট্যকার। তিনি সুবিখ্যাত দার্শনিক। অথচ কলকাতায় সর্বপ্রথম স্বদেশী জাহাজ চালিয়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছিলেন। আর আমি কাঠের ব্যবসা করতে পারব না? তাছাড়া, এই ব্যবসার মূল ব্যক্তি হলেন ভোলানাথ দাদা। আমি তার অ্যাসিস্ট্যান্ট হয়ে কাজ করব।'

' ঠিক আছে। যা ভালো বুঝ কর।'

' এমন করে বললে যে! আমার প্রতি তোমার বিশ্বাস জাগছে না বুঝি?'

' বিশ্বাস কেন জাগবে না,বল?' কাতরভাবে লক্ষ্মীনাথের দিকে তাকিয়ে প্রজ্ঞা বলল' এখন তো তুমিই আমার সব। তোমার যা চলার পথ, আমাকে তো সেই পথেই চলতে হবে।'

শোবার ঘরের বিছানায় বসে দুজনের মধ্যে মত বিনিময় হল। এভাবে কথাবার্তা বলে একে অপরকে বুঝতে পারল। সহৃদয়তার সঙ্গে একে অপরের দুঃখ- কষ্ট উপলব্ধি করল। তারপর দুজনেই সেই দুঃখ কষ্ট নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিল। ভাড়া ঘরে থেকে ঘর সংসার শুরু করার কথা শুনে প্রথমে প্রজ্ঞা চিন্তিত হয়ে পড়েছিল। তারপরে সেও পৃথকভাবে বসবাস করার গুরুত্ব বুঝতে পেরে মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে নিল। এদিকে সমস্ত কথা খোলাখুলি ভাবে বলতে পেরে লক্ষ্মীনাথেরও ভালো লাগল। কিছুদিন ধরে ভোগ করতে থাকা কষ্ট যন্ত্রণা অনেকখানি কমে গেল ।

লক্ষ্মীনাথ পুনরায় কাজকর্মে মনোযোগ দিল। জোনাকীর আরও একটি সংখ্যার কাজ শেষ হল। নিজের লেখাও এগিয়ে চলল। সঙ্গে ভোলানাথ বরুয়ার সঙ্গে দেখা করে কাঠের ব্যবসা করবে বলে সম্মতি জানাল। ভোলানাথ অবাক হল।

'কী হল, আপনার সঙ্গে ব্যবসা করব বলে বলায় এত অবাক হলেন যে!'

' তুমি আমার বিজনেস পার্টনার হওয়াটা অনেকদিন আগেই চেয়েছিলাম। কিন্তু–' ভোলানাথ বরুয়া বলল,' সাহিত্যের অঙ্গনে বিচরণ করা মানুষ তুমি। মন থেকে তুমি ব্যবসাকে মেনে নিতে পারবে কিনা সে বিষয়ে আমার সন্দেহ ছিল। '

'কী আর করব দাদা ! লক্ষ্মীনাথের কণ্ঠস্বর গম্ভীর, কলেজ স্ট্রিটের মেসে থাকার সময় আমরা অ. ভা. উ. সা সভা প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। প্রস্তুতি সভায় বিনন্দ বরদলৈ জাতির উন্নতির জন্য অর্থনৈতিক- রাজনৈতিক স্বতন্ত্রতার কথা বলেছিল। তখন আমরা তার কথায় গুরুত্ব দিইনি। এখন অনুভব করছি, বিনন্দের কথার যথেষ্ট প্রাসঙ্গিকতা ছিল। আর দুর্ভাগ্যের কথা এই চেতনাটা আমার মনে দেরি করে জাগল। ব্যক্তিগত জীবনে পৃথকভাবে বসবাস করতে গিয়ে কথাটার গুরুত্ব বুঝতে পারলাম। এখন আমার অর্থ চাই। ঘর সংসার চালানোর জন্য অর্থ উপার্জনের একটি সুনিশ্চিত উপায় চাই।'

' এম এ এবং আইন পরীক্ষায় তোমার ফলাফল খারাপ হল। আগামীবার পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হও। '

' মামলা করে যেভাবে হারলাম, তারপরে আমি আর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার সীমায় প্রবেশ করব না। তাই ব্যবসায় নিজেকে নিয়োজিত করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই।'

রোমান্টিক চেতনা ভাব- অনুভূতি এবং বৌদ্ধিক বিকাশের ক্ষেত্রে উল্লেখনীয় অবদান জোগায়। কিন্তু সেই সবের আতিশয্যে অনেক ক্ষেত্রে বহু প্রতিভাধর ব্যক্তিই বাস্তবতা হারিয়ে ফেলে। লক্ষ্মীনাথের ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছিল। তার জন্যই বিয়ের আগে সে আর্থিক স্বনির্ভরতার কথাটার গুরুত্ব বুঝতে পেরেও নিজের ক্ষেত্রে তার রূপায়ণ করতে পারেনি।

তাই তার কিছু কষ্ট হল। এই কষ্টের জন্যই ঠাকুর বাড়ির আর্থিক স্বচ্ছলতার মধ্যে লালিত পালিত হওয়া প্রজ্ঞাকে আরও কিছুদিন আশঙ্কায় ভুগতে হল। কিন্তু লক্ষ্মীনাথ পরিশ্রমী এবং কর্মে নিষ্ঠাবান। ভোলানাথের সঙ্গে আন্তরিকতা নিয়ে ব্যবসায় লেগে পড়ল।তাঁর নিজের গাড়ি নেই, ঘোড়া নেই ,কেরানি মুহুরিও নেই। ব্যবসায়িক বুদ্ধি সম্পন্ন ভোলানাথ বরুয়ার সঙ্গে লক্ষ্মীনাথ ' নিতাই গৌর দুই ভাই' হয়ে প্রতিদিন একসঙ্গে ট্রাম অথবা পদব্রজে ব্যবসায়ের কাজে লেগে পড়ল।

ভোলানাথের গায়ে খাকি কোট এবং মাথায় কালো অথবা ছাই বর্ণের টুপি, হাতে ছাতা। এদিকে লক্ষ্মীনাথের মাথা থেকে পা পর্যন্ত ইউরোপীয় পোশাক। দুধে আলতা গায়ের রং। একেবারে সাহেব।সুচতুর ভোলানাথ চালচলনে যেমন তৎপর, কথাবার্তাতেও তেমনই প্রাণবন্ত। ব্যবসা সংক্রান্ত কাজে বেরিয়ে ট্রাম থেকে নেমে পদব্রজের আশ্রয় নিলেই সে গুণগুণ করে ওঠে,

' চল রে মন যাইরে কাশী,

বাবা বিশ্বনাথকে দেখে আসি।

কাশী গেলে দেখতে পাব,

কত শত যোগী ঋষি।'

এভাবে কিছুদিনের মধ্যে তারা ব্যবসায় সাফল্যের মুখ দেখতে পেল। ব্যবসায় সাফল্য মানেই লাভ, প্রভূত অর্থ উপার্জন। লক্ষ্মীনাথ শোভারাম বসাক লেনে মোটামুটি একটা ভালো বাড়ি ভাড়ায় নিল। নতুন করে রং করিয়ে ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রজ্ঞাকে নিয়ে এসে নতুন করে সংসার পাততে উদ্যোগী হল।

বিধবা মা, দাদা- বোন, আত্মীয়-স্বজন এবং বিশাল ঠাকুরবাড়ির জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশ ছেড়ে আসার সময় প্রজ্ঞার দুচোখ দিয়ে জল পড়ছিল।তা বলে সে কিন্তু কাতর হল না। বরং ভাড়ায় নেওয়া নতুন বাড়িটা এসে নিজের হাতে দাদারা কিনে দেওয়া সাংসারিক জিনিসপত্র সাজিয়ে সাত দিনের মধ্যে সমস্ত কিছু ঠিকঠাক করে ফেলল। এই বাড়ির বাইরের ঘরে লক্ষ্মীনাথ জোনাকীর কার্যালয় স্থাপন করল। ইতিমধ্যে ব্যবসায় সহায়ক রূপে ভোলানাথ তাদের বংশের গোপীনাথ বরুয়াকে নিয়ে এল। ব্যবসার কাজের অতিরিক্ত লক্ষ্মীনাথ এই গোপীনাথকে জোনাকী কার্যালয়ের হিসেবপত্র রাখার কাজে নিয়োগ করল।

সমস্ত দিক দিয়ে লক্ষ্মীনাথ একটা সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে এগোতে লাগল। সংসারের কাজকর্মে অভিজ্ঞা প্রজ্ঞার জন্য কিছুদিনের মধ্যেই সংসারে একটা শৃংখলা এল । লক্ষ্মীনাথও মানসিক স্থিরতা ফিরে পেল ।

বি এ পড়ার জন্য চন্দ্রকুমার পাটনায় চলে যাওয়ার পরে কিছুদিনের জন্য হেমচন্দ্র লক্ষ্মীনাথের সঙ্গে একটা মেসে ছিল । লক্ষ্মীনাথ বিয়ে করার তিন মাস পরে দুজনের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হল । এদিকে এফএ পাশ করে হেমচন্দ্র বি এ ক্লাসে নাম লিখিয়ে পাঠ্যপুথি পড়ার চেয়ে জোনাকীর কাজে বেশি ব্যস্ত ছিল । সম্পাদক না হয়েও সম্পাদনার প্রায় সমস্ত কাজে সে আন্তরিকভাবে সাহায্য করত। তার জন্য পড়াশোনায় খুব একটা মনোযোগ দিতে পারত না। তাই তার পক্ষে বি এ ডিগ্রি লাভ করা সম্ভব হল না। হতাশ হেমচন্দ্র অসমে ফিরে যাবে বলে স্থির করল।

অসমে যাওয়ার আগের দিন লক্ষ্মীনাথের সঙ্গে দেখা করার জন্য হেমচন্দ্র শোভারাম বসাক লেনের ভাড়াবাড়িতে এল। লক্ষ্মীনাথ তাকে আদর যত্ন করে ভেতরে এনে বসাল। ছাড়াছাড়ি হওয়ার পরে দেখা হলেও কথা- বার্তা বলার সুবিধা ছিল না । অনেকদিন পরে আজ দুজন কাছাকাছি বসে কথা বলতে লাগল। জোনাকীতে লেখা লেখক কবিদের বিষয় থেকে কাঠের ব্যবসায় লক্ষ্মীনাথ লাভ করা বিচিত্র অভিজ্ঞতা …. অনেক কথাই আলোচনা হল।তাঁদের আলোচনার মধ্যে ভেতর থেকে প্রজ্ঞা এসে হেম চন্দ্রের কুশল বার্তা জিজ্ঞেস করল। চা মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করল।

' অসমে ফিরে যাবে, বি এ ডিগ্রিটা নিয়ে যেতে পারলে ভালো হত।'

'কী আর করব, বেজ!' হেমচন্দ্র বলল কপালের দোষ দেওয়াটা ঠিক হবে না । পড়াশোনায় আমার যত্নের অভাব ছিল ।'

'এটাই আসল কারণ,হেম গোঁসাই।' লক্ষ্মীনাথের কন্ঠেও আক্ষেপের সুর,' প্রয়োজনীয় অধ্যয়ন এবং যত্নের অভাবে আমিও এম এ এবং আইন পরীক্ষায় সফল হতে পারলাম না। তাই অদৃষ্টে নেই, কপালের লেখা ইত্যাদি বলে নিজের অক্ষমতা প্রকাশ না করাটাই ভালো। তবে অসমে গিয়ে কী করবে?'

' পুরোনো অসমের ইতিহাসের সঙ্গে ভট্টদেবের কথা গীতার ওপরে কাজ করার একটা ইচ্ছা আছে । দেখি কী করতে পারি ?'

'জীবিকার একটা উপায় বের করতে হবে তো।'

' কিছু একটা করব। আচ্ছা একটা কথা ছিল ,বেজ–'

'বল।'

' বিয়ে-সাদি করে ঘর সংসার পাতলে। ভোলানাথ দাদার সঙ্গে কলকাতায় ব্যবসা করতে শুরু করলে। এইসব দেখে শুনে এরকম মনে হচ্ছে যেন তুমি কলকাতায় স্থায়ীভাবে থেকে যাবে।'

এই কথাটা নিয়ে লক্ষ্মীনাথের মনেও একটা প্রতিক্রিয়া হয়েছে। বাড়ি থেকে বাবার চিঠি এসেছে, প্রজ্ঞাকে নিয়ে বাড়ি যেতে হবে। বাবার কথা হল, এম এ পাশের সঙ্গে আইনের ডিগ্রি যখন নেওয়া হল না, তখন অসমে ফিরে যেতে হবে। সরকারি চাকরি নিয়ে অসমেই থাকতে হবে। কিন্তু অসমে গিয়ে ইংরেজ সরকারের চাকরি করার ইচ্ছে তার নেই । জীবিকার জন্য ভোলানাথের সঙ্গে কলকাতায় যে কাঠের ব্যবসা শুরু করেছে এই সুবিধা অসমে নেই। তার চেয়েও বড় কথা হল কলকাতার যে বৌদ্ধিক- সাংস্কৃতিক পরিবেশ এটাও অসমে এখনও সৃষ্টি হয়নি। অসমে জীবনের গতি এতই মন্থর যে কিছুদিন থাকার পরই তার মনপ্রাণ অস্থির হয়ে উঠে।

চিন্তিত লক্ষ্মীনাথ বলল, স্থায়ীভাবে থাকার কথা না ভাবলেও এই মুহূর্তে আমাকে কলকাতাতেই থাকতে হবে।'

' তুমি অসমে থাকলে তোমাকে কেন্দ্র করেও সাহিত্যের পরিমণ্ডল একটা গড়ে উঠত। তোমার দ্বারা অনেকেই অনুপ্রাণিত হত। নগাঁও শহরে রায়বাহাদুর গুনাভিরাম বরুয়া যখন হাকিমের চাকরি করতেন তখন আমরা তার কাছ থেকে যথেষ্ট অনুপ্রেরণা পেয়েছিলাম । সাহিত্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে তিনি আমাদের সাহায্য করেছিলেন । এখন আমরা লিখছি পরবর্তীকালে আমাদের প্রজন্মও যাতে লিখতে পারে , আমাদের কি সেটা দেখা উচিত না ?'

' তুমি ঠিকই বলেছ গোঁসাই।' লক্ষ্মীনাথ বলল,' অবসর নেবার পরে কলকাতায় এসে রায় বাহাদুর কলকাতা স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন বলে জানতে পেরে আমিও তাকে এই অনুরোধ করেছিলাম। কলকাতায় থাকার সপক্ষে পারিবারিক কারণ দেখানো ছাড়া তিনি কি বলেছিলেন জান?'

'বলতো–।'

' বিদেশে থেকেও মাতৃভাষার সেবা করা যায়।' লক্ষ্মীনাথ বলল,' তিনি বলা এই কথাটা যে সত্যি, সেটা গত চার বছরে আমাদের কাজকর্মের দ্বারা প্রমাণিত হল। আমরা যে অ. ভা. উ. সা সভা গঠন করলাম, জোনাকী প্রকাশ করে এত সফলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি, এসবই তো এই কলকাতাতে থেকেই হল।'

' তবু–?'

' আমি না থাকলেও মাজিউ, পদ্মনাথ, সত্যনাথ, আনন্দচন্দ্র, হিতেশ্বর, চন্দ্রধর, তুমি– তোমরা অসমে থাকবে। তাছাড়া কলকাতায় থাকলেও আমি জোনাকীর সম্পাদনার কাজ করেই যাব। তাই জোনাকীর মাধ্যমে তোমাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ থাকবেই।'

তারপরে হেমচন্দ্র আর কিছু বলল না। অব্যক্ত একটা মন খারাপ নিয়ে সে বিদায় নিল।

হেমচন্দ্রের কথাগুলিতে মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমির প্রতি অনুরাগ প্রকাশ পেল। হেমচন্দ্রের এই অনুরাগ লক্ষ্মীনাথের অন্তরেও রয়েছে। মাতৃভূমির কথা ভেবে তার মনটাও ভারী হয়ে পড়ল।

হেমচন্দ্রকে বিদায় দিয়ে লক্ষ্মীনাথ ভেতরে প্রবেশ করল। প্রজ্ঞা ঘরোয়া কাজে ব্যস্ত। কাজের মেয়ে রাখলেও সে সবসময়ের জন্য থাকে না। নির্দিষ্ট কাজটুকু করে চলে যায়। বাকি সময়ে সমস্ত কিছু একাই করতে হয়– প্রজ্ঞার অসুবিধা হচ্ছে। কিন্তু তার জন্য কোনো অভিযোগ নেই। বিরক্তি নেই।

কোনো ধরনের ভূমিকা না করে লক্ষ্মীনাথ জিজ্ঞেস করল, সে যদি অসমে যায়, অসমে বসবাস করতে শুরু করে, তাতে প্রজ্ঞার কোনো আপত্তি আছে কিনা?'

' তুমি যেখানে থাকবে, আমাকে তো সেখানেই থাকতে হবে।'

বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর। কিন্তু লক্ষ্মীনাথ ভালোভাবেই জানে, ঠাকুর বাড়ির কোনো সদস্যই কলকাতার বাইরে অন্য জায়গায় থাকতে চায়না। এমনকি বঙ্গের ঢাকা, বিক্রমপুর, চিটাগাং, খুলনা, যশোরেও যেতে চায়না। তার মধ্যে অসম– অসম সম্পর্কে তাদের ধারণা খারাপ এবং তার প্রভাব প্রজ্ঞার উপরে পড়াটা খুবই স্বাভাবিক। তাই অসমে স্থায়ীভাবে থাকার কথাটার প্রত্যক্ষ বিরোধিতা না করলেও অন্তর থেকে প্রজ্ঞা চাইবে না।

অভিমানের সুরে প্রজ্ঞা বলল, স্থায়ীভাবে থাকার বিষয়ে বিবেচনা করার আগে লক্ষ্মীনাথ কি একবার তাকে অসমে নিয়ে যাবে না? বিয়ে হওয়ার তিন বছর পার হয়ে গেল। এখন পর্যন্ত তার শ্বশুরবাড়ি দেখার সৌভাগ্য হল না। বাপের বাড়ি থেকে এখানে এই ভাড়া ঘরে আসার গত চার মাস ধরে অসমে যাওয়ার কথা শুনছে, এটা ওটা অসুবিধার কথা বলে লক্ষ্মীনাথ বারবার যাওয়াটা পিছিয়ে দিচ্ছে।

না, এবার যেতেই হবে। বাবার স্বাস্থ্যটা ভালো নয়। মা বাবা প্রজ্ঞাকে দেখতে চাইছে। কিন্তু লক্ষ্মীনাথ প্রজ্ঞার পূজনীয় দাদাদের কথা উল্লেখ করে বলল যে তারা তাকে অসমে পাঠাতে চাইবে না। অসম দূরে, অসম বনে জঙ্গলে ভরা, অসমে কালাজ্বর–।

লক্ষ্মীনাথের কন্ঠে ব্যঙ্গাত্মক সুর প্রকাশ পাওয়ায় প্রজ্ঞা চটে উঠল,' বাজে কথা বল না। বরের সঙ্গে আমি আমার শ্বশুরবাড়ি যাব। তার জন্য ওরা আমাকে বাধা দিতে পারে না।'

মুচকি হেসে লক্ষ্মীনাথ বলল,' আসামে তোমার নিরাপত্তা সুরক্ষিত কিনা এ নিয়ে তাদের চিন্তা করাটা স্বাভাবিক।'

' ওরা যখন তোমার সঙ্গে আমাকে বিয়ে দিল, তখন থেকেই আমার নিরাপত্তার ব্যাপারটা তোমার উপর বর্তেছে।' প্রজ্ঞা বলল,' এ নিয়ে আমি বাপু তর্ক করতে চাই না। কথাটা হল, তোমার সঙ্গে আমিও আসাম যাব। আর শোনো, কয়েক মাস ধরে যাওয়া হবে বলে কথা চলছে– আমি বাড়ির সবার জন্য কাপড় কিনে নিয়েছি। বাবার জন্য একটা ভালো বেনারসি ধুতি আনতে হবে। এগুলির সঙ্গে বাবার ওয়েল পেইন্টিংটাও নিয়ে যাব।'

' ওয়েল পেইন্টিংটা নিয়ে যাবে!'

' কেন, অসুবিধাটা কী?'

' এতদূর! ট্রেইন, তারপর জাহাজ– নিয়ে যাওয়াটা ঝামেলা!'

' আমরা যেতে পারলে বাবার ওয়েলপেন্টিং টাও যাবে। আজই বিকেলে বেরিয়ে তুমি বাবার ধুতিটা কিনে আনবে।ওয়েল পেইন্টিংটা ভালোভাবে প্যাকিং করার জন্য কাগজও আনতে হবে।'

অসমে যাত্রার দিন ঠিক করা হল। খবরটা শুনে যথারীতি দাদারা বাধা দিল। ঠাকুর বাড়ির মহিলা মন্ডলের দুই একজন এ কথাও বলল যে অসমে যাচ্ছে যখন প্রজ্ঞা আর ফিরে আসবে না। তাদের এই অহেতুক আশঙ্কাটা লক্ষ্মীনাথকে ভীষণভাবে বিরক্ত করল। তবে কাউকে কিছু বলল না। সহৃদয়া শাশুড়ি মায়ের সম্মতি এবং প্রজ্ঞার আন্তরিক ইচ্ছার জন্য বাধা নিষেধগুলি দূর হল।

অবশেষে যাত্রার জন্য প্রস্তুত হল।

অসমে যাত্রা।

ঠাকুরবাড়ির কন্যা প্রজ্ঞাসুন্দরীকে সঙ্গে নিয়ে

লক্ষ্মীনাথের গৃহভূমি অসমে যাত্রা ।

এতদিন লক্ষ্মীনাথের কাছে এটা একটি স্বপ্ন ছিল । এখন সেই স্বপ্ন বাস্তব রূপ নিতে চলেছে ।

জোড়াসাঁকো থেকে বিদায় নিয়ে শোভারাম বসাক লেনে নিজের বাড়ি, সেখান থেকে জিনিসপত্র নিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে শিয়ালদহ স্টেশন। শিয়ালদহ থেকে ট্রেইনে গোয়ালন্দ। গোয়ালন্দ থেকে জলপথে উজিয়ে আসামে…।

কলকাতার বাইরে কত নতুন নতুন জায়গা, কত নতুন পরিবেশ, কত বিচিত্র বেশে বিচিত্র চরিত্রের সহযাত্রী। দীর্ঘ যাত্রাপথে খাওয়া-দাওয়ার অসুবিধা, ঘুমোনোর কষ্ট … অথচ অনভ্যস্ত প্রজ্ঞার চোখে মুখে অস্বস্তি নেই বা বিরক্তির চিহ্নমাত্র নেই। সঙ্গে স্বামী রয়েছে, এ পথ স্বামীর পরিচিত। তাই যাত্রাপথের কোনো অসুবিধাই প্রজ্ঞার অসুবিধা বলে মনে হচ্ছে না। বরং নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সঙ্গে ভ্রমণের আনন্দে প্রজ্ঞা উৎফুল্ল হয়ে পড়েছে। সেও উপভোগ করছে। স্বামীর সঙ্গে বসে কিশোরীসুলভ কৌতূহল নিয়ে এটা কি, ওটা কি জায়গাটার নাম কি এসব প্রশ্ন করছে। লক্ষ্মীনাথও পরম উৎসাহের সঙ্গে সমস্ত বুঝিয়ে বলছে। ধুবড়ি পার করে এবং একরাত জাহাজের কেবিনে কাটিয়ে গুয়াহাটিতে এল। গুয়াহাটি থেকে জাহাজ এগিয়ে গেল উজনি অসমের দিকে।

নদী বক্ষে চলমান জাহাজে প্রভাত। প্রভাতের আলো বহিঃ প্রকৃতিকে সপ্রাণ করে তুলল। কিছুক্ষণ পরে পূব দিগন্তে অরুণাভের উদয় হবে । সেই অরুণাভের প্রথম কিরণের অপূর্ব শোভা প্রত্যক্ষ করার জন্য লক্ষ্মীনাথ প্রজ্ঞাকে নিয়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে এল। ওপরের ডেকের আরাম চেয়ারটাতে দুজনেই পূবের দিকে মুখ করে বসল। সকালে ঘুম থেকে উঠেই কেবিনের বাথরুমে হাত পা ধুয়ে প্রজ্ঞা বাসন্তী রঙের শাড়ি পরেছে । ভেজা চুলগুলি তার পিঠে বিন্যস্ত । চোখে মুখে কোমল সজীবতা।

এদিকে হেমন্তের স্নিগ্ধতায় ব্রহ্মপুত্রের দুই পারের মাঠে শালিধান হেলছে দুলছে, কাছে কাছে ছবির মতো গ্রামগুলিতে জনপদ কর্মমুখর হয়ে উঠেছে, সবকিছু মিলিয়ে বিশ্ব প্রকৃতির এক অপূর্ব দৃশ্য! লক্ষ্মীনাথ দৃষ্টি মেলে উদার প্রকৃতির দিকে তাকাচ্ছে আর তাকাচ্ছে প্রিয়তমা পত্নীর মুখের দিকে । তখনই পূব দিগন্তে রক্তিম আভা নিয়ে সূর্যের উদয় হল। সূর্যের প্রথম কিরণ প্রজ্ঞার মুখের ওপরে পড়তেই লক্ষ্মীনাথের মনে পড়ে গেল সেই স্বপ্নটির কথা কলকাতার জুরি গাড়ির জানালার কাছে বসে যাওয়া অপরূপ এক নারী, গাড়ির গতিবেগের সঙ্গে নুপুরের ঝুনঝুন শব্দ… এবার লক্ষ্মীনাথ দৃষ্টি ফেরাতে পারল না।

'কী দেখছ এমন করে?'

ভাবনার আবেশে আড়ষ্ট কন্ঠে লক্ষ্মীনাথ বলল,' তোমাকেই দেখছি।'

' ইস, এভাবে দেখছ যেন আমাদের শুভদৃষ্টি হল।'

' শুধু শুভদৃষ্টি নয়গো,পরি। মনে হচ্ছে যেন হৃদয় দিয়ে জয় করে অপরূপা রাজকন্যাকে নিয়ে বিজয় নিশান উড়িয়ে রাজপথে নিজের সাম্রাজ্যের দিকে যাত্রা করেছি।'

' আবার কাব্য!'

' তুমিই তো আমার এই কাব্যের উৎস, প্রিয়ে।'

' বেশ!' মধুর হেসে প্রজ্ঞা বলল,' তোমাদের বাড়ি এই প্রথম যাচ্ছি– তোমাদের বাড়ির নিয়ম-নীতি সব আলাদা। কোথায় কি করতে হবে আমাকে শিখিয়ে- বুঝিয়ে দেবে কিন্তু।'

অবশেষে লক্ষ্মীনাথ সস্ত্রীক সগৃহে পদার্পণ করল। নিমেষের মধ্যে খবরটা ছড়িয়ে পড়ল।

ঘরগুলি থেকে সবাই বেরিয়ে এল। পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনরা এল। লক্ষ্মীনাথ কলকাতা থেকে শিবসাগরে এল। এবার বৌমাকেও সঙ্গে নিয়ে এল। বৌমা কলকাতার বিখ্যাত ঠাকুরবাড়ির বিদূষী কন্যা। প্রত্যেকেই ঘিরে ধরল। অবাক হয়ে প্রজ্ঞার সাজ পোশাক, দেহের অলংকার, রূপ সৌন্দর্য দেখল। তারপরে লক্ষ্মীনাথের বৌদিরা আদর যত্ন করে প্রজ্ঞাকে ভেতরে নিয়ে গেল। বৌমাকে পেয়ে ঠানেশ্বরীর আনন্দ আর ধরে না । বৈঠকখানা ঘরে পুথি পড়তে থাকা দীননাথও খবর পেয়ে লাঠিটা নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে এল।

এদিকে কলকাতা থেকে সাবধানে এবং অক্ষত অবস্থায় ওয়েল পেইন্টিংটা আনা হয়েছে। অন্যান্য কাপড় এবং উপহারের সঙ্গে বাবার জন্য আনা হয়েছে বেনারসি সিল্কের একটি ধুতি। পিতাকে আসতে দেখে লক্ষ্মীনাথ ওয়েল পেন্টিংটার ওপরের কাগজটা সরিয়ে দিল। প্রজ্ঞা সুটকেস খুলে ধুতিটা নিয়ে এল। বাবা শ্বশুরের হাতে সেটা তুলে দিয়ে প্রজ্ঞা তার দুটি পা স্পর্শ করে প্রণাম জানাল। তারপরে দুই হাতে ওয়েল পেন্টিংটা দীননাথের দিকে এগিয়ে দিল।

বয়স এবং বাতের অসুখে দুর্বল হয়ে পড়া দীননাথ প্রজ্ঞার দিকে স্থির হয়ে তাকিয়ে রইল। এ যে দেখছি সর্বগুণ লক্ষণযুক্ত অপরূপ সুন্দরী কন্যা । এর চোখে মুখে ভাব বিকারে দেখছি খারাপ কিছুই নেই। নেই অশুচি বা অপবিত্রতার কোনো চিহ্ন। আর এত রূপসী! মেখেলা চাদরের পরিবর্তে শাড়ি ব্লাউজেও তাকে অভিজাত বলে মনে হচ্ছে । কীভাবে একে অবহেলা করবে?...দীননাথের ডান হাতটা কাঁপছে। বাঁধানো পেইন্টিংটা নিতে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,' এটা কি?'

'এটা আপনার একটি তৈলচিত্র, বাবা।' লক্ষ্মীনাথ বলল,' আপনার ছোটো একটি ফোটোগ্রাফ এনলার্জ করে তার থেকে এটি এঁকেছে।'

স্নেহকাতর পিতা দীননাথ আবেগে আকুল হয়ে প্রজ্ঞাকে বলল, 'বৌমা, তুমি আমার ছবি আঁকলে!'

ছবিটার দিকে তাকিয়ে দীননাথের চোখ দুটি সজল হয়ে পড়ল। তারপরে তিনি বড়ো সন্তোষ মনে বৌমাকে আশীর্বাদ করতে লাগলেন ।


চিরঞ্জীব হালদার ।। কবিতা ।। টিপ ।।Tip

চিরঞ্জীব হালদার ।। কবিতা

টিপ



টিপ


টিপ বিক্রি করা ফেরিওয়ালা জানে না

ক্রেতা আর ব্যবহারকারীর ভেতর একাকী কোন 

জেব্রা ক্রসিং আছে কিনা

জানে না দিনের সাদা দাগেরা নিরুদ্দিষ্ট রাতের তল্পী বাহক কিনা


টিপ পরার আগে আর ঠেবড়ে য়াওয়া পর

কারা তার জন্য ঠিকানাহীন তরমুজ এর খোঁজ রাখে

আমাদের বিষিয়ে ওঠা যন্ত্রণা গুলোর পক্ষে 

কোন টিপ কতটা সফল প্রক্সিবাজ

মিলন চাহুনি ছাড়া তাহারা এক একজন আমায়িক ইতিহাস


টিপের আজ্ঞাবাহক দ্যুতির কাছে মেধার জ্যামিতিক ইচ্ছে গুলো প্রায়শঃ নৈঋত নক্ষত্র

কে যেন সেই ফিরিওয়ালার সন্ধানে সোস্যাল সাইটে

অকথ্য চমৎকার এক না লেখা কবিতা


বাবু টিপ কিনবেন টিপ

যে কখনো মিথ্য সাক্ষ্য দেয়না

শব্দব্রাউজ ৫৪৮ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-548, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫৪৮ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-548, Nilanjan Kumar






শব্দব্রাউজ- ৫৪৮

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ২৯। ৭। ২০২২। সকাল সাতটা ।


শব্দসূত্র: হিসেবী দিনক্ষণ



সকাল সকাল হিসেবী মানসিকতা নিয়ে থাকা মানেই সারা দিনের জলান্ঞ্জলি । লাফিং ক্লাবে জোরদার হা হা করেও তাকে দূর করা সম্ভব নয় । সুতরাং নিজেকে সাজাই আনন্দ দিয়ে । তাতেই শান্তি ।



কত দিনক্ষণ পেরিয়ে এসেও হিসেব করার মতো জড়িয়ে । ভোর হতেই দরদাম শুরু করি দোকানে নয়তো নিজের সঙ্গে ।এই সত্য তোমার আমার সঙ্গে । এই সত্য তোমার আমার সবার । হা হা ...

আটপৌরে ৩০৬ || সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 306, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ৩০৬ || সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 306, by Sudip Biswas




৩০৬

অতিক্রম 


আলোকপাত। ওষ্ঠাধারণ। স্মারকচিত্র। 


যাতায়াত 


খেয়ালে রাগ সম্ভাবনা নেই।

শনিবার, ৩০ জুলাই, ২০২২

আটপৌরে ৩০৫ || সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 305, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ৩০৫ || সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 305, by Sudip Biswas




৩০৫

ঘুম


টাকার। পাহাড়ের। উটবিকার।


উন্নয়ন 


আমার মেয়ে অঘোরে ঘুমোচ্ছে।

শব্দব্রাউজ ৫৪৭ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-547, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫৪৭ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-547, Nilanjan Kumar






শব্দব্রাউজ- ৫৪৭

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ২৮। ৭। ২২। সকাল- ৭টা ৫০মিনিট



শব্দসূত্র: চোখের আড়াল হলে



১। প্রেমিকা চোখের আড়াল হলেই প্রেমিক হতাশ । প্রেমিকাও তাই । এখানে ভ্রষ্ট কিছু চলে না ।



২। আমার প্রেম আড়ালেই থাকে । তাকে খোঁজার খেলায় হরেক মজা । হা হা ...



৩। তোমার কাছেই এলাম বলতে বলতে প্রেমিক প্রেমিকা একসঙ্গে হলে, আলিঙ্গনে বন্দি হয় ।


শুক্রবার, ২৯ জুলাই, ২০২২

শব্দব্রাউজ ৫৪৬ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-546, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫৪৬ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-546, Nilanjan Kumar






শব্দব্রাউজ- ৫৪৬

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ২৭। ৭। ২২। সকাল সাতটা পন্ঞ্চাশ মিনিট ।



শব্দসূত্র: দিব্যি দিয়ে বলছি



দিব্যি দিলে তার মান্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে না । গৃহস্থীদের দিব্যিতে বেশ ভয় । তারা দয়ামায়া দিয়ে সেই দিব্যিকে দিব্বি পুষে রাখে ।



দিব্যি দিয়ে নিজেকেও শুদ্ধ প্রমাণ করা যায় । এই সমাজে । ' কসম সে 'বলে ভালোবাসা জাহির করলে প্রেমিকা গদগদ ।



শব্দব্রহ্ম মানেই কি শুধু বলে চলা! দিব্যি, কসম, বিচার কক্ষে গীতায় হাত হরেক মিথ্যেকে কাছে টানে ।

কারচুপি কোথা থেকে স্বাভাবিকভাবে মানুষ শিখে যায় ।

আটপৌরে ৩০৪ || সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 304, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ৩০৪ || সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 304, by Sudip Biswas




৩০৪

চিরঞ্জীব হালদার ।। ২টি কবিতা ।। Chiranjib ,

চিরঞ্জীব হালদার-এর ২টি কবিতা



প্রেমিক


প্রেমের সুষম বন্টন নিয়ে যদি প্রশ্ন ওঠে

যদি গার্গী কে প্রশ্ন করা হয় 

আপনার ভাতার  আপনাকে না আপনার সতিনকে 

উপহার দেবে  দৈবেবাকযুদ্ধের পাওয়া হরিন

পশুরও কিছু জ্ঞান-গম্মি অবশিষ্ট আছে


আমাদের রসিক ঢেমনামি আর মস্করার ভেতর যে নদী 

তার দুকুল প্লাবিত জোয়ারে ভেসে যাচ্ছেন জনগনেশ

 আপনি কখন টাকমাথা মহিলার সাথে মেকানিক্যাল ড্রিল করবেন অবশ্য বুঝে উঠতে বেলা পার

আসলে তিনি একজন পরচুলা দপ্তরের আধিকারিক


এই নিন আমার অভিভাষণ পরিচয় পর্ব

এটা এক স্বদেশ লাঞ্ছিত নায়কের কলকাকলি ভাবতে পারেন


আপনি কি জানতেন পূর্ব পরিকল্পিত সড়কপথ

 চুম্বন কারীগরদের চিঠির অলৌকিক হরফেরা

ইউরেকা ইউরেকা বলে এগিয়ে আসছে আপনার

প্রমান সাইজের কাট আউটের দিকে


দেখো কেমন হেসে ওঠে অর্বাচীন হরিন


২৭-২-২২


প্রযত্নে যাঁতা


নিতান্ত সাধারণ প্রেমিক অভাবী

জেনে রাখো একমাত্র কবিতা সতিন

নিঃশুল্ক আমার সঙ্গে কি যাবি

শ্মশানে চঃ আমাদের দাউ দাউ দিন


গৃহস্থ জেগে থাকে আমরাও থাকি

গুনে গেঁথে ইট কেনা আর কেনা জল

সবার কি ডানাভ্রম থাকে কোন পাখি

তবুও তালপাতার নীল ভূমন্ডল


আমাদের প্রশ্ন করে ঘি মুক্ত ঋণ

একাত্তরে বিষপান এক ছেঁড়া কাঁথা

যতটা কমিউনিষ্ট ততটা দক্ষিণ

হৃদয় ঘোরালে আমরা ঘুরন্ত যাঁতা


২৯-৭-২২

বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০২২

আটপৌরে ৩০৩ || সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 303, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ৩০৩ || সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 303, by Sudip Biswas




৩০৩.

হেঁয়ালি 


সামান্য। উপমারহিত। সামাজিক। 


মেজাজ 


ইশারায় ওড়ানো ফুলের সুবাতাস।

শব্দব্রাউজ ৫৪৫ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-545, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৫৪৫ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-545, Nilanjan Kumar






শব্দব্রাউজ- ৫৪৫

বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড কলকাতা । ২৬। ৭। ২২। সকাল সাতটা চল্লিশ মিনিট ।



শব্দসূত্র: যত দোষ নন্দ ঘোষ



এখন সকালের বিষ কাগজে যত দোষের কথা । শুধু চোখের জল । তা পড়তে পড়তে অজান্তে সব দোষ গিয়ে পড়ে সমাজের মাথার দিকে । কে দোষী কে নির্দোষ এসব তত্ত্বকথা কাগজ ছুঁড়ে দেয় । আমাদের চক্ষু চড়কগাছে চড়ে !

নন্দ ঘোষের দল তো থাকবেই । তাদের বাঁধা হবে ।মহামান্য সূক্ষ্ম আইন ঘেঁটে বিচার করে কেস

সামলাবেন । আসল দোষী বাইরে মুক্ত বাতাস নেবে ।

মুক্ত বিহঙ্গ হয়ে বলবে ' জিও কাকা '।

বুধবার, ২৭ জুলাই, ২০২২

আটপৌরে ৩০২ || সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 302, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ৩০২ || সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 302, by Sudip Biswas




৩০২.

সুপর্ণা


আলোয়ান। আলোচনা। আকাশগান।


আবাহনী 


এসো সঙ্গীতসুধারসে নবনির্মিত শুরুয়াৎ।

Student Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...