Friday, July 3, 2020

পূরবী~ ১৩ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস

পূরবী~ ১৩
অভিজিৎ চৌধুরী



এমন অনুর্বর হয়নি কখনও তাঁর সৃজনভূমি। গান লেখা যেন শেষ হয়ে এলো।দিনু যতোদিন ছিল সংগীত ভবন মুখরিত থাকত।নাটমঞ্চেও সে ছিল রাজা।গায়ক আগেই গেছিল,এখন যেন গীতিকারও বিদায় নিলো।স্বরলিপি তিনি কখনও লিখতে পারতেন না।শুরুতে লিখতেন জ্যোতিদাদা,ইন্দিরা আর অনেকে।তারপর দিনু এসে একাই সামলে নিলো স্বরলিপির ঝক্কি।স্মৃতিশক্তিও ছিল অসাধারণ। কিছু একবার শুনলে ভুলতো না।


প্রিয়জনের চলে যাওয়াতেও গান কখনও তাঁকে ছেড়ে যায়ইনি। কন্যা মাধুরীলতা দীর্ঘ রোগভোগের পর মারা গেলো।মন বড় পীড়িত।অন্ধকারে চুপচাপ বসে আছেন।তারায় আকাশ ছেয়ে রয়েছে।দিনুর ঘর থেকে ছেলেদের গান শেখার শব্দ পান তিনি।দ্বারিক গৃহে থাকত দিনু।এখন সে ঘর শূন্য দেখে দীর্ঘশ্বাস উঠে আসে অজান্তেই।দেহলিতে গিয়ে থাকলে দিনুর সঙ্গে মুখোমুখি দেখা হতো।


মাকে দাহ করে তীর্থ বেদনা অনুভব করেছে কিন্তু পারলৌকিক ক্রিয়ার উপাচার,বিধি সেই শোক যেন শিথিল করে দিয়েছিল।

বাবার বেলা অফিসে যেতে হতো।লৌকিক ক্রিয়া আসল বেদনাকে ঢেকে দেয়।

কান্না আসে অবদমিত স্মৃতি থেকে।সে যেন রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলতে চাই,এতো বড় আত্মখণ্ডন!

ছিল আর ছিল না এই মস্তো ফাঁকের মাঝখানে জীবন তার আপন বেগে চলেছে।যেন মানুষের যাওয়া আসা দিনরাত্রির খেলা।কতো রাতে তীর্থ দেখেছে মৃত মানুষেরা প্রিয়তমরা তার চারপাশে এসে বসেছে।সেই হাসি, সেই কলহাস্য।

কামুর আউটসাইডারে এক নিরপেক্ষ শোকহীনতায় আচ্ছন্ন ছিল নায়ক।তার মধ্যে বেদনা ছিল নিশ্চয় কিন্তু যেন আলাদা আরোপিত কিছু নয়।তাই হয়তো মাধুরীলতার মৃত্যুতেও শান্তিনিকেতনের শারদোৎসব বন্ধ করেননি।যদিও সেবার জমলো না।

গ্রিসের নতুন চিন্তা-চেতনার কবিতা || রুদ্র কিংশুক || থানোস গোগোস- এর কবিতা

গ্রিসের নতুন চিন্তা-চেতনার কবিতা 
রুদ্র কিংশুক 
থানোস গোগোস- এর কবিতা


থানোস গোগোস (Thanos Gogos, 1985)-এর জন্ম গ্রিসের লারিসা শহরে।  তিনি Thraka নামক একটি সাহিত্যপত্রিকা ও প্রকাশনার প্রতিষ্ঠাতা। এ পর্যন্ত প্রকাশিত তাঁর দুইটি কবিতাগ্রন্থ ফেয়ার প্লে গ্রাউন্ড দুইটি কবিতাগ্রন্থ ফেয়ার প্লে গ্রাউন্ড কবিতাগ্রন্থ ফেয়ার প্লে গ্রাউন্ড (২০১৩) এবং গ্লাসগো (২০1৪)। তাঁর কবিতা ক্রোয়েশিয়ান ইংরেজি রুশ এবং স্লোভেনিয়ান ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

১.
আনুপূঙ্খিক তবুও অস্মরণীয়

ঈশ্বর
যোনি-ছাপ

নরম
নীল
শব্দ

 যখন তিনি ভেলকিতে তৈরি করেন
রাতের ভেতর
লোহা

ঈশ্বর
মুখোশপরা
 প্রতিশোধকারী

ভালোবাসা ও তোমার যুক্তিহীনতা
"কাঠঠোকরার থেকে মুক্তি"

তিনি
প্রচলিতমত বিরুদ্ধ

আমার চিরস্থায়ী অ্যালুমিনিয়াম দাঁত

লিঙ্গবোধহীন

যখন তারা উলঙ্গ সময়কে কাটাছেঁড়া করে
আর তুমি বেপরোয়াভাবে তাকে আঁকড়ে ধরো

 ঈশ্বর থাকেন
আত্মরোপিত

উৎপাদনের সম্পূর্ণ পরীক্ষায় প্রস্তুত প্রস্তুত

২.
কবিতা ১

কঠিনতম বুক
ছোট্ট ফুল থেকে নির্মিত
যা কিছুই তুমি এখন ভাঙো তার উপর তার উপর
সে ছড়াবে
কেবল
বরফ

৩.
কবিতা ২

আমাদের এখন এত বেশি বেশি বলার আছে
আমরা পাথর ধরে আছি

আর আমরা ভিড়ের ভেতর গাড়ি চালাই
 হারানো রাস্তা, তুমি চালাকি করো

যা কিছু এখন আছে তুমি তার সব
 তুমি ধরো আমি বলি আমি ছুঁড়ি আমি হাসি

আর আমি হেসেই চলি
যদিও তুমি অন্য জায়গায় চলে যাও

৪.
কবিতা ৩
তুমি এক হাতে ধরেছিলে ছিলে ছিলে ধরেছিলে ছিলে ছিলে ছোট্ট মেয়েটিক
 অন্যহাতে আমাকে

 আর আমি ধরেছিলাম
গাছপালা
জলাশয়
 পশুপাখি

 সারাটা শীত ধরে শীত ধরে

রক্তদান শিবির


রক্তদান শিবির


নিজস্ব সংবাদ, কেশিয়াড়ি ০৩-০৭-২০২০ ||'করোনা' আর তার ফলে ঘটে যাওয়া এই কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে থাকার জন্য মানুষের বড়োই অভাব এ সমাজে। হাসপাতাল গুলোতে রক্তের বড়োই আকাল পড়েছে।আর সেই অভাব কিছুটা হলেও নিরসনের জন্য, যৌথভাবে স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের উদ্যোগ গ্রহণ করলো কেশিয়াড়ী ব্লকের "বিদ্যাসাগর জন্ম দ্বি-শত বর্ষ উৎযাপন কমিটি"ও "নালন্দা এডুকেশন সার্ভিস সোসাইটি"।কেশিয়াড়ী ব্লকের অন্তর্গত"খাজরা" বাজার সন্নিকটে খাজরা এস.সি.এম হাইস্কুলে আজ ৩রা জুলাই এই মহান উদ্যোগ অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৩৫জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করলেন এবং এই মহৎ কর্মসম্পাদনে সম্পূর্ণরূপে সহযোগিতা করেছেন খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সেইসঙ্গে লাদাখের গালওয়াল  সীমান্তে যে কুড়িজন বীর জওয়ান শহীদ হয়েছেন,তাদের প্রতিও যোগ্য শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন যৌথ সংগঠনের সদস্যবৃন্দ। শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে। প্রবাদপ্রতিম পুরুষ বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় পণ্ডিত ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরকে।রক্তদান জীবন দান এই মহান উদ্যোগকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য উপস্থিত ছিলেন বিদ্যাসাগর দ্বিশতবর্ষ উৎযাপন কমিটির পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সহ সভাপতি'হরেকৃষ্ণ সামন্ত'।জেলার সহ সম্পাদক'প্রভাত ভট্টাচার্য্য,কেশিয়াড়ী ব্লক কমিটির সভাপতি'সুভাষ চন্দ্র জানা',সম্পাদক প্রবীর ভট্টাচার্য্য,খাজরা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক'সঞ্জয় মোদক' ও নালন্দা সোসাইটির সম্পাদক'চয়ন বেরা' ও সভাপতি'প্রবীর পাত্র', প্রমুখরা।এ হেন কর্মসূচি এই প্রথম নয়,যৌথ সংগঠনের সদস্যবৃন্দ পুরো লকডাউন পরিস্থিতিতে ধারাবাহিকভাবে অভাবী মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে।কখনো শুকনো খাবার তুলে দেওয়া, আবার কখনো রান্না করা খাবার তুলে দেওয়া প্রভৃতি সেবামূলক কাজ এই প্রত্যন্ত এলাকা জুড়ে ক্রমান্বয়ে বজায় রেখেছে।

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

দিনকাল । অজয় নাগ । মাতৃমুখ । ত্রিশ টাকা ।

অজয় নাগ বেশ কিছু ছোট কবিতা লিখেছেন। যেগুলো তন্নিষ্ঠ হয়ে পড়লে বোঝা যায় তাঁর এই ছোট কবিতাগুলি কতখানি দামী হয়ে ওঠে পাঠকের কাছে । তাঁর এই ধরনের এক ফর্মার কাব্য পুস্তিকা ' দিনকাল '-তে তার অন্যথা হয়নি : ' প্রতিটি জন্ম আমায় মনে করায়/  আমি বন্দি /মৃত্যু এসে খুলে দেবে বাহির ? ' ,
' পুরানো গল্পেরা বাইরে চেয়ার সাজায় না/  হাঁটতে হাঁটতে দেখি  - / সামনে পেছনে সাবধানের নোটিশ ' ,
' অপেক্ষায় শাদা ক্যানভাস/  বাইরে চলমান রঙরেখা ' ,
বৃষ্টির পাঠশালায় পৃথিবী আদিম ছাত্র ' -র মতো পংক্তি এর সত্যতা তুলে ধরে ।
               কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় এক সময়ে ' ছিন্ন বিচ্ছিন্ন ' নামে একটি ছোট কবিতার বই প্রকাশ করেছিলেন, তার ভেতরে দীর্ঘদিন মশগুল থাকার কারণে ছোট কবিতার যে রূপ পাই তা ফেলে দেবার নয় অজয় নাগ সেই রূপ কে এক টানটান অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছেন বলে তাকে পড়ে ফেলতে হয় দ্রুত ।
              কবির আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক দুই তিন লাইনের কবিতা বারবার টানে,  যেমন:  ' বীজ বুনতে নুন জোগাড়ে/  মুখ ঘুরিয়ে সময়/ মানুষ বড় অসহায় ',
' শুধুমাত্র  তোমার জন্যেই ন্যায় অন্যায়/ হে আমার অকরুণ প্রেম; ' আমার সূর্যের আলোয় তোমার আঁধার ক্ষয়ে যাক/  অবশেষে দেখি- আলো নয় অন্ধকার তোমায় রক্ষা করে । '
             অজয় নাগের কবিতার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে ইচ্ছে হয় । যা তাঁর গঠন, যুক্তি , উচ্চারণ ,ব্যন্জ্ঞনা, দ্যোতনা মিলেমিশে অন্য স্রোত বয়ে নিয়ে যায় রক্তে । কবিকৃত প্রচ্ছদটি অন্য রকমের ।কবি চিত্রশিল্পী নন; তবু তাঁর পরিকল্পনার ভেতর দিয়ে কবিতার  বই এর প্রচ্ছদ হিসেবে স্বাদু হয়ে ওঠে ।

সৌমিত্র রায় এর জন্য গদ্য ৬০ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

৬০.
অনেকেই ভাবছেন আমি কেবলই বিভিন্ন অনুষ্ঠানের রিপোটার্জ দিয়ে প্রমাণ করতে চাইছি আমরা কতটা অনুষ্ঠান-পটু ছিলাম। তাঁদের চিন্তার মধ্যে খুব একটা অন্যায় কিছু দেখছি না। ভুলটা আমারই। আমি কি দেখাতে চাইছি আমার সঙ্গে কবিতার রথী- মহারথীরা কত সংখ্যায় ছিলেন !
তা তো লেখার কথা ছিল না। লেখার কথা , কবিতাপাক্ষিক প্রকাশের আগে বাংলাকবিতা ঠিক কেমন ছিল , আর কবিতাপাক্ষিক প্রকাশের পর বাংলাকবিতার ঠিক কী কী পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল বা হল।
এই প্রকল্পে আমি আগে একবার এই পক্ষের কবি শিরোনামে কাদের কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল, তার উল্লেখ করেছিলাম মাত্র । কেবলমাত্র নাম বললেই সবটা উন্মোচিত হয় না। আলোচনায় আনতে হবে কবিতাকে।
সেই কাজ শুরু করেদিলাম এই পর্ব থেকেই।

আমার প্রথম নাম : রোশনারা মিশ্র। এবং তার 'স্কুলমিথ '।
এই রোশনারা মিশ্র মেদিনীপুরের। কবিতাপাক্ষিক -এর অনুষ্ঠানে প্রথম দেখি।আমাদের যুক্ত কমিটির ব্রজেনদার মেয়ে মুঙ্কা-র সহপাঠী ছিল রোশনারা এবং মউলি।
রোশনারা-র স্কুলমিথ ১ প্রকাশিত হয়  কবিতাপাক্ষিক ১১- ১২ সংখ্যায়।তারিখ :16 অক্টোবর 1993।
কবিতাপাক্ষিক ১৭ তে রোশনারা মিশ্র -- এই পক্ষের কবি । যার প্রকাশকাল 08 জানুয়ারি 1994। এই সংখ্যায় একসঙ্গে চারটিই স্কুলমিথ সিরিজের ।আমার মনে আছে এই কবিতাগুলি কবিতাপাক্ষিক পাঠকের কাছে মিথে রূপান্তরিত হয়েছিল । আমি কয়েক টুকরো উদ্ধৃতি দিতে বাধ্য হচ্ছি । হে প্রিয় পাঠক , আপনার সামনে উপস্থিত করছি নতুন কবিতা।
'  মিস রুথ ড্যানিয়েলস আমাদের রূপকথায় আছেন ,যসব আকন্দবীজ ফেটে যাচ্ছে বাতাসের টানে তার ধূসর আঁশের মধ্যেই বেড়ে উঠেছিলেন তিনি , ওই তাঁর সাইকেলের ঘণ্টি বেজে উঠল মফসসল নোতরদামে ...... '
' প্রত্যেক মেয়েদের স্কুলে থাকে অজস্র দমচাপা গল্প ; গল্পের সোনাঝুরি গাছ, অজস্র গল্পের ঝুরোঝুরো হলুদ রেণু , গল্পের মেহগিনিগুঁড়ি , কাষ্ঠল , ভাঙাচোরা ছালওঠা গল্পের বিবর্ণ ছাপ , গল্পের টানাগাড়িবারান্দা , লাল , নীল , সবুজ গল্প সাইকেল ঢলে আছে এ ওর গায়ে ....... '
 আমি অধ্যাপক নই। আমি কেবলমাত্র পাঠক এখন। কেন ভালো লাগল , সেই অনুভবকে বিশ্লেষণ করতে শিখিনি। ভালো লাগল মানে ভালো লাগল। আমাকে স্পর্শ করেছিল। সেই ভালোলাগাটা এখনো স্থায়ী আছে। হিসেব করুন , 1994- এর জানুয়ারি থেকে 2020- জুলাই !
জানিয়ে রাখি রোশনারা তখন সবে স্কুল ডিঙিয়ে কলেজে। তার স্কুল জুড়ে মিস রুথ ড্যানিয়েলস , যাঁকে সে চোখেও দ্যাখেনি।
ধন্যবাদ রোশনারা , তুমি স্কুলমিথ না লিখলে আমি সাক্ষাৎকার কিংবা নোটবই -এর কবিতাগুলি লিখতে পারতাম না ।
আগামীকাল নতুন কবি, নতুন কবিতা

আটপৌরে কবিতা ৪০৬- ৪১০ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা
নীলাঞ্জন কুমার


৪০৬

লাথি/  কিল/ চড়
   ) মার (
দুষ্কৃতীদের জন্য প্রকৃত ওষুধ ।

৪০৭

বিস্কোরণ/ ব্ল্যাকহোল/ আগুন
        ) নক্ষত্র  (
অনন্ত সময় জ্বলছে জ্বলবে ।

৪০৮

তরল/ কঠিন/ বায়বীয়
     ) পদার্থ  (
দেখছি বুঝছি ভাবছি শিখছি ।

৪০৯

স্বাভাবিক /অস্বাভাবিক/ রহস্য
          ) সংবাদ (
খবরের কাগজের শব্দে জাগে ।

৪১০

বোকা/ গবেট/ বেয়াক্কেলে
     ) মানুষ  (
বাকি মানুষের তামাশার পাত্র ।

আম্ফান বিধ্বস্ত সুন্দরবনে আলো ট্রাস্টের ত্রাণ বিতরণ...

আম্ফান বিধ্বস্ত সুন্দরবনে আলো ট্রাস্টের ত্রাণ বিতরণ 
      
নিজস্ব সংবাদদাতা,কুলতলী, দক্ষিণ ২৪ পরগণা ||
কোলকাতা কেন্দ্রীক ও দক্ষিণ বঙ্গের বিভিন্ন জেলায় কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আজ সুন্দরবন এলাকার দক্ষিণ ২৪ পরগণা
জেলার অন্তর্গত কুলতলী ব্লকের বৈকুন্ঠপুর গ্রামের 50 টি পরিবারের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেওয়া হলো। ত্রাণ হিসেবে শুকনো খাবার তুলে দেওয়া হয়। যেমন চিড়া, মুড়ি, বাতাসা, সয়াবিন, সিমুই, বিস্কুট, গায়ে মাখা সাবান, কাপড় কাচা সাবান, কোলগেট, ধূপ, দেশলাই ও মাস্ক। ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শুরুর আগে শহীদ ভারতীয় সেনা জওয়ানদের শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতা পালন করা হয়। পাশাপাশি করোনা আবহে স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়।উপস্থিত ছিলেন আলো ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কমল কৃষ্ণ কুইলা, সমাজসেবী হরিপদ কুইলা, বীনাপাণি কুইলা, নমিতা কুইলা ও সুব্রত দাস।
 সমস্ত শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় আগামীদিনে
সুন্দরবনে তাঁদের সংগঠনের উদ্যোগে আরও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান আলো ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কমল কৃষ্ণ কুইলা।পাশাপাশি কমলবাবু আরও জানান,এই গ্রামের পঞ্চাশটির টির বেশি শিশুর হাতে আগামীদিনে আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

টিভি_বুকের ব্লা ব্লা || অভিজিৎ দাসকর্মকার || কবিতা

টিভি_বুকের ব্লা ব্লা
অভিজিৎ দাসকর্মকার 



টিভিটা চালাও। লিবার্টি রয়েছে, তবুও বাইরে যাবেন না। কোমার বাঁকিয়ে নেচে নিন। মেয়ের চুল বেঁধে দিন। আমরা ২০ সেকেন্ড অপেক্ষা করছি, ফেসবুকে বোতাম খুলে স্টোরি দিন, উফ্ হাঁপিয়ে উঠলাম ____
এখনো অনেক ব্লা ব্লা বা ব্লক ব্লক বাতেলা ছটফট করছে এক নিশ্বাসে। তার মাঝেই———
  উষ্মা প্রকাশ করছে এই নববর্ষ সংখ্যায়।

সমুদ্রে গতবছর যারা নাইতে গিয়েছিল তাদের ছবি আসছে মেমোরি হয়ে____
নববর্ষের হলুদ শাড়ি। ক্লিন সেভড সঙ্গ-সেলফি। তারসাথে যারা রক্তদানার মধ্যে ছেলেখেলা করছে তাদের ক্রিয়া আর পদে, জোড় ভাঙা চলছে।

 হুমকি আর ভাইরাল এগুলো কি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নয়!__

এইযো ৭ মিনিট ধরে
আগামীর জাতীয় ঐক্য
প্রক্রিয়ার বিবর্তন
পশ্চিমে জোড়-বিজোড় শব্দ-প্যারাসাইট 
এইসব নিয়ে লাইভ করলাম এগুলো কিন্তু কেউই অমেরুদণ্ডী নয়,
সবাই অ্যান্টবডি খুঁজছে।
তবে এরা ব্রাউন সুন্দরীর হাসি টিভিতে দ্যাখে আর ভ্রূ কুঁচকে সেলফি পোস্টায় ____

*

Thursday, July 2, 2020

তথ্যপ্রযুক্তি যুগের কবিতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা "টিপস্ কবিতা" প্রসঙ্গে || সৌমিত্র রায়

তথ্যপ্রযুক্তি যুগের কবিতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা "টিপস্ কবিতা" প্রসঙ্গে
© সৌমিত্র রায়
ISBN: 978-81-933729-0-6 (তথ্যপ্রযুক্তি যুগের কবিতা)




বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে মানবসভ্যতা - একথা অস্বীকার করার উপায় নেই ৷ প্রভূত উন্নতি ৷ তথাপি যেদিকে তাকাই সে টিভির পর্দা হোক, বাড়িতে সকাল সকাল পৌঁছে যাওয়া সংবাদপত্র হোক কিংবা অফিস আদালত দোকানদারি নানাক্ষেত্রে চর্চার প্রধান বিষয় যেন "কেউই ভালো নেই" ৷ আরো একটু খোলসা করে বললে - কারো মনেই যেন "শান্তি" কিংবা "আনন্দ" চিহ্নমাত্র নেই ৷ তা কবিসমাজের বৃহত্তর ক্ষেত্রেও বিস্তৃত ৷ এই যুগ আই-যুগ ৷ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এই সময় যেমন "সলিউশনের সময়" ৷ আমরা i-প্রজন্মের কবি, এই সলিউশনে আমরাই বা পিছিয়ে থাকবো কেন ? নবযুগ এই আই-যুগের কবিতায় আমরা শেয়ার করতে থাকি অসামান্য আদর্শ নিয়ে সামান্য প্রয়াস "টিপস্ কবিতা" ( Tips Poems ) ৷ চলুন বন্ধুরা, Rhythmic Tips Poems পাঠের মধ্য দিয়ে আমাদের আলোচনায় প্রবেশ করি ৷

"টিপস্ কবিতা" প্রসঙ্গে "রিদমিক টিপস্"
...
সৌমিত্র রায়

       সেপ্টেম্বর ; ২০১৭ ; মেদিনীপুর
                       || শান্তি ||
                             |
দিনযাপনের খুঁটিনাটি; নানান রকম টিপস্ ~
কাব্যকথার প্রক্রিয়াতে ধ্যান-ধারণার মিক্স~
         থাকতে ৷ ভালো | রাখতে ৷ ভালো
                   কাব্য যায় না বৃথা
      পড়তে ৷ জানতে ৷ ভাবতে ৷ মানতে
             ~ বেটার "টিপস্ কবিতা"~
                                |
                        || আনন্দ ||

টিপস্ পোয়েমজ (Tips Poems) বা টিপস্ কবিতা হল এই সময়ের কবিতাচর্চায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা ৷ বিধি মেনে প্রক্রিয়াজাত একটি "রিদমিক টিপস্ কবিতা" পাঠের মাধ্যমে আজ আমরা তথ্যপ্রযুক্তি যুগের কবিতা আলোচনার এই পর্বে প্রবেশ করেছি ৷

এই যে নবযুগ, এই যুগ "আই-যুগ" ৷ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সফল প্রসারে, সময়ের চাহিদা অনুসারে, মানবসভ্যতা ইন্টারনেটে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এবং রিয়েল টাইম স্পিরিচুয়ালাইজেশনের দিশায় প্রত্যেকেই যে যার আত্মশক্তিকে সম্মৃদ্ধ করার প্রয়াসে মেতেছে, সেখানেও "টিপস্ কবিতা" অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বলে আমি মনে করি ৷

সভ্যতায় কোভিড-১৯ সমস্যা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে সময়ের চাহিদা অনুসারে ভার্চুয়াল মাধ্যম সভ্যতায় কতটা জরুরি হয়ে পড়েছে এবং স্ব স্ব বিশ্বাস অর্থাৎ অন্তর্চেতনায় আত্মবিশ্বাসের পরিচর্যার ক্ষেত্রেও ইমিউনিটি ধরে রাখা বা শ্রীবৃদ্ধি ঘটাতে ব্যক্তির সশক্তিকরণ কতটা জরুরি হয়ে উঠেছে ৷ এই যেমন অনলাইনে অফিস করা, অনলাইনে মিটিং, অনলাইনেই ছাত্রীছাত্রদের পাঠগ্রহণ, অনলাইনে বেচাকেনা ইত্যাদি ৷ আবার অন্যদিকে সময় মতো যোগাভ্যাস, সময়ের কাজ সময়ে সেরে নেওয়া, সময়ে ঘুমোতে যাওয়া সময়ে ঘুম থেকে ওঠার প্রয়োজনীয়তার অনুভব ইত্যাদি ৷ এক্ষেত্রে সভ্যতার পূণর্গঠনে "টিপস্ কবিতা" অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে আমি মনে করি ৷
কিন্তু কীভাবে ?
এর উত্তর পেতে আমাদের "টিপস্ কবিতা" সম্পর্কে আরো একটু বিস্তারিত আলোকপাত করতে হবে, জানতে হবে কিছু তথ্যও (কারণ এটা তথ্যপ্রযুক্তির যুগ, তাই না ? হা হা হা...) ৷

বন্ধুরা, তথ্যপ্রযুক্তি যুগে আমরা বলি কবিতা হল সাহিত্যের অত্যন্ত জনপ্রিয় টেকনিক্যাল শাখা ৷ আমরা কবিতার লেখার বিষয়টিকে সময়োপযোগী চেতনায় বলে থাকি "কবিতার প্রক্রিয়াজাতকরণ" | কবিতার এই প্রক্রিয়াজাতকরণের ধারণার কাজটি সুনিপুণভাবে করতে গেলে আপনাকে বুঝে নিতে হবে কবিতা আসলেই টেকনিকসর্বস্ব ৷ যথাযথ টেকনিকছাড়া কবিতা মানসম্পন্ন হতে পারে না ৷ "তথ্যপ্রযুক্তি যুগের কবিতা" (২০১৭, i-সোসাইটি) গ্রন্থে "চিন্তাসূত্র-৭৫" ১৫১তম পৃষ্ঠায় এই কবিতার বর্ণণা ও উদাহরন আছে ৷ এখানে "টিপস্ কবিতা"-কে ইঙ্গিত কবিতাও বলা হয়েছে ৷ বলা হয়েছে, "পরামর্শধর্মী ইঙ্গিতপূর্ণ তথ্য ও চিন্তনের প্রক্রিয়াজাতকরণের কবিতাই হল "টিপস্ পোয়েমজ/ইঙ্গিত কবিতা" ৷ শূন্য দশকের সূচনালগ্নে কোন যুক্তিতে কবিতাকে সংজ্ঞায়িত করেছিলাম সেই কথাটিও স্মরণে রাখা প্রয়োজন ৷ এই গ্রন্থে সেকথাও আছে ৷ যে অক্ষর/সংখ্যা/চিহ্ন/শব্দ প্রক্রিয়াজাতকরণের ভাষায় এককভাবে বা সমষ্টিগতভাবে পাঠে/শ্রবণে/স্মরণে তুলনামূলক দীর্ঘ চিন্তনের সূত্রপাত ঘটায়, তা-ই কবিতা ৷

এবার গোড়ার কথায় ফিরে যাই ! এই সময়ের কবিতাচর্চায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা টিপস্ পোয়েমজ (Tips Poems) বা টিপস্ কবিতা তাহলে কী ? টিপস্ পোয়েমজ (Tips Poems) বা টিপস্ কবিতা হল পরামর্শধর্মী সেইসব কবিতা যা কবির সুনির্দিষ্ট কিছু অভিজ্ঞতার/ পরামর্শধর্মী ইঙ্গিতপূর্ণ তথ্য ও চিন্তনের নির্ধারিত টেকনিকে প্রক্রিয়াজাত প্রকাশ ৷ এই কবিতার শুরুতেও প্রক্রিয়াজাতকরণের স্থান, সময়, তারিখ উল্লিখিত থাকে, থাকে "আনন্দ" বা "শান্তি" শব্দের প্রকাশ এবং শেষেও অবশ্যই "শান্তি" কিংবা "আনন্দ" শব্দ প্রক্রিয়াজাত হয় ৷

হাংরি ইত্যাদি উচ্ছৃংক্ষল কবিতা-যাপনের প্রভাবে এখনো দিশেহারা সময় ৷ কিন্তু এই যুগ i-যুগ ৷ এই যুগ সলিউশনের যুগ ৷ তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির এই সময়পর্বে দিনযাপনের খুঁটিনাটির নানান রকম পরামর্শধর্মী টিপস্ যা আমাদের ভালো রাখতে এবং ভালো থাকতে সাহায্য করতে পারে এই ধারণায় প্রক্রিয়াজাত হয় "টিপস্ কবিতা" ৷

***গঠনতন্ত্রের ভিত্তিতে "টিপস্ কবিতা" (Tips Poems)  তিন প্রকারের ৷ ১) রিদমিক্স টিপস্ কবিতা (Rhythmix Tips Poems) ২) রিদমিক টিপস্ কবিতা (Rhythmic Tips Poems) এবং ৩) নন-রিদমিক টিপস্ কবিতা ( Non-Rhythmic Tips Poems) ৷ এবার এই তিন প্রকারের "টিপস্ কবিতা"র টেকনিক-বিধি সম্পর্কে আলোকপাতে আসি ৷

***রিদমিক্স টিপস্ কবিতা এবং তার প্রক্রিয়াজাতকরণের টেকনিক-বিধি

এবার আসি রিদমিক্স টিপস্ পোয়েমজ ( Rhythmix Tips Poems) বা রিদমিক্স টিপস্ কবিতা প্রসঙ্গে ৷ টিপস্ কবিতার যা যা উদ্দেশ্য, ধারণা তা অটুট থাকছে এখানে ৷ তবে এখানে কবিতার গঠনতন্ত্রের দিকটি গুরুত্বপূর্ণ ৷ সে সম্পর্কে বলি, ১) কবিতার শুরুতে প্রক্রিয়াজাতকরণের স্থান, সময়, তারিখ উল্লিখিত থাকে, ২) এরপর "আনন্দ" কিংবা "শান্তি" শব্দ , ৩) এরপর এক বা একাধিক শুধুমাত্র স্পেশাল ক্যারেক্টার, ৪) এরপর দুলাইন রিদম অর্থাৎ পদ্যছন্দ থাকছে, তিন লাইন নন-রিদম, আবার দুলাইন রিদম, এরপর আবার তিন লাইন নন-রিদম এবং শেষে দুলাইন রিদম থাকছে, এভাবেই প্রক্রিয়াজাত হয় রিদমিক্স টিপস্ কবিতা ৷ ৫) এক বা একাধিক শুধুমাত্র স্পেশাল ক্যারেক্টার ৬) "আনন্দ" কিংবা "শান্তি" শব্দ ৷ সবেমিলে মোট ১৭ লাইনের কবিতা ৷


***রিদমিক টিপস্ কবিতা ও তার প্রক্রিয়াজাতকরণের টেকনিক-বিধি

রিদমিক টিপস্ কবিতা (Rhythmic Tips Poems) হয় ১১ লাইনের ৷ ১) প্রথম লাইনে স্থান, তারিখ, সময়; ২) দ্বিতীয় লাইনে "আনন্দ" কিংবা "শান্তি" শব্দ ; ৩) তৃতীয় লাইনে স্পেশাল ক্যারেক্টার ৪) চতুর্থ থেকে নবম লাইন রিদমিক অর্থাৎ পদ্যছন্দ ; ৫) দশম লাইনে স্পেশাল ক্যারেক্টার;
৬) একাদশ লাইনে "শান্তি" কিংবা "আনন্দ" ৷

*** "নন-রিদমিক টিপস্ কবিতা" এবং তার প্রক্রিয়াজাতকরণের টেকনিক-বিধি

"নন-রিদমিক টিপস্ কবিতা"-র (Non-rhythmic Tips Poems)  লিখন প্রণালীতে শুরুতে স্থান, তারিখ, সময় এবং দ্বিতীয় লাইনে "শান্তি" কিংবা "আনন্দ" শব্দ এবং এরপর নন-রিদমিক বা গদ্যছন্দে প্রক্রিয়াজাতকরণ ৷ শেষে অবশ্যই "শান্তি" কিংবা "আনন্দ" শব্দ দিয়ে সুন্দরভাবে সমাপ্তি ৷ সবে মিলে সর্বাধিক ১৬ লাইন হবে এই কবিতা ৷ এক লাইনেও হতে পারে ৷ তবে ১৬ লাইন অতিক্রম করলে তা বিধিভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হবে ৷

কবিতা হল সাহিত্যের জনপ্রিয়তম টেকনিক্যাল শাখা ৷ কৌশলগত দিক দিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট কবিতার বিধিভঙ্গ হওয়া চলবে না ৷ এই শৃঙ্খলায় আমাদের এই শুভ উদ্যোগ এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে ৷ এবার এক নজরে কয়েকটি তথ্য পড়ে নেওয়া যাক ৷

**এক নজরে~

** "টিপস্ কবিতা" ধারণার উদ্ভাবক কে ?
~ আই-যুগ অর্থাৎ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগে "টিপস্ কবিতা" ধারণার উদ্ভাবনা করেন কবি সৌমিত্র রায় ৷ ( পরশ্রীকাতর বাংলার কবিসমাজে নিজের কথা নির্লজ্জের মতো নিজেকেই তুলে ধরতে হয় যে ৷ নইলে যে কেউ আত্মসাৎ করে নেবে ৷ নিশ্চিত ৷ )

**কবে প্রথম প্রক্রিয়াজাত হয় টিপস্ কবিতা ?
উত্তর~ প্রথম "টিপস্ কবিতা" লিখি ১৯ এপ্রিল ২০০২ তারিখ, সকাল সাড়ে ৬ টায় ৷

**প্রথম প্রক্রিয়াজাত "টিপস্ কবিতার" শিরোনাম কী ?
উত্তর~ প্রথম প্রক্রিয়াজাত "টিপস্ কবিতার" শিরোনাম হল "চোখের পরিচর্যা করি" ৷

** "তথ্যপ্রযুক্তি যুগের কবিতা" গ্রন্থে কততম চিন্তাসূত্র এই "টিপস্ কবিতা" ?
উত্তর~ ২০১৭ সালে প্রকাশিত সৌমিত্র রায় প্রক্রিয়াজাত "তথ্যপ্রযুক্তি যুগের কবিতা" গ্রন্থে "টিপস্ কবিতা"-র চিন্তাসূত্রর ক্রম- ৭৫ ৷

তো এই হল টিপস্ কবিতা এবং তার রকমভেদে নন-রিদমিক টিপস্ কবিতা, রিদমিক টিপস্ কবিতা এবং রিদমিক্স টিপস্ কবিতা প্রসঙ্গ ৷ এবার আগামিপর্ব থেকে পরপর ক্রমান্বয়ে নানান রকম "টিপস্ কবিতা" পড়তে থাকবো ৷ শুভ হোক ৷
        |
|| আনন্দ ||

গ্রিসের নতুন চিন্তাচেতনার কবিতা || রুদ্র কিংশুক || পারভিনা মারভিন-এর কবিতা

গ্রিসের নতুন চিন্তাচেতনার কবিতা
রুদ্র  কিংশুক
পারভিনা মারভিন-এর কবিতা


পারভিনা মারভিন (Parvina Marvin, 1987) জন্ম গ্রিসের আথেন্সে। এবং তাঁর বড় হয়ে ওঠা সাইরস দ্বীপে অবস্থিত এরমৌপোলিশ শহরে। তিনি  প্রথমে ইতিহাস বিষয়ে লেখাপড়া করলেও পরবর্তীকালে টাকিস সিনোপোলুস ফাউন্ডেশনের অধীনে কবিতা নিয়ে লেখাপড়া করেন এবং পরবর্তীকালে কবিতায় হয়ে ওঠে তাঁর জীবন। তাঁর কবিতা, থিয়েটার সংক্রান্ত লেখালেখি এবং শিশুসাহিত্য অনলাইন অনলাইন অনলাইন এবং প্রিন্ট ম্যাগাজিনে বহুল পরিমাণে প্রকাশিত। প্রথমদিকে তাঁর কবিতা সেভাবে গুরুত্ব না পেলেও ধীরে ধীরে পাঠকমহলে পাঠকমহলে তাঁর কবিতা গৃহীত হয়। তার  ব্লগ Teflon-এর মধ্য দিয়ে তিনি বিস্তীর্ণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেন তাঁর কবিতা।

১.
আগাছা

সমস্ত আগাছা তুলে ফেলা আমার উচিত ছিল না না--
 একটা গোড়া আর পড়ে নেই।
এখন, এই বঞ্চনার ঋতুতে,
 দ‍্যাখো কী পড়ে থাকে:
আমাদের খালি মাঠ
আর মাঝখানে আমি, জাহাজডোবা
আরাধ্য জন
জীবন-মৃত্যু কারবারি পাখি,
 রক্তস্নাত উকুন,
 আর চারপাশে ছড়ানো শস্যের স্মৃতি।

২.
পুরোপুরি ব্যার্ত‍্য

 আমাদের সন্তান সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত, অপরাধ নিয়েছিল
আর, গর্ভপাতের কিছুটা আগেই, রহস্যজনক মিসক্যারেজ।
 দ্ব্যর্থহীন আত্মহনন। কি পরিহাস!
 আমাদের অনন্য জীব
এখন অনন্য ছোট্ট কীট
 হাসপাতাল বর্জ্যের ভেতরে।
 আমি দুঃখিত নই।
তোমার  কী ,প্রিয় ?
এসো বুঝে নাও চোখের জল।
 আমি যদি তাকে হাতের উপর নিয়ে তোমাকে দেখাতাম, মুখ ফেরাতে।
 যাইহোক তুমি কী ভেবেছিলে এ নিয়ে?
ঠিক আর একটা ছোট্ট মৃত্যু, মর্যাদাহীন নয়, কারণ
 কোন পারলৌকিক ক্রিয়া ছিল না।

পূরবী~ ১৩ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস

পূরবী~ ১৩ অভিজিৎ চৌধুরী এমন অনুর্বর হয়নি কখনও তাঁর সৃজনভূমি। গান লেখা যেন শেষ হয়ে এলো।দিনু যতোদিন ছিল সংগীত ভবন মুখরিত থাকত।নাট...