Tuesday, November 6, 2018

অভাবী পেটের কথা তপন মণ্ডল অলফণি

অভাবী পেটের কথা

তপন মণ্ডল অলফণি

খিদেগুলো বড্ড বেশি করে বাসা বাঁধছে আমার অভাবী পেটে /
বাঁহাতি যোগ্যতায় লাল ফিতের বাঁধনে হলুদ সার্টিফিকেটের রঙ /

#
এরপর যে ছেলেটি মনের সঙ্গে লড়াই করতে করতে হেরে গেল /
তার আত্মহননের কথা ছাপা হলো কাগজের প্রথম পাতায় /

#
গড়ে দেওয়া স্বপ্নের কথা কোথাও বলা হলো না /
বলা হলো না সার্টিফিকেটগুলো আসলে কি কাজে লাগবে /

#
শুধু বলা হলো খিদেগুলো তো অভাবী পেটে
              বেশি করে করে বাসা বাঁধবেই

Monday, November 5, 2018

সংকল্প কবিতা ৷৷ চেয়েছি যতটা পারি

সংকল্প কবিতা ৷৷ চেয়েছি যতটা পারি

সৌমিত্র রায়

ভোরের ভেতর যেযার প্রত্যেকেরই আলাদা আলাদা ভোর জাগে
আজকাল কেউ কেউ তাকে জোর করে ঘুম পাড়িয়ে রাখে

৫-১১-২০১৮ ৷ সকাল ৬টা২৬~ এই যে সময় , ভোরের সাথে আমার ভোরকে মিশিয়ে দিতে চেয়েছি যতটা পারি ৷ এতে কি পৃথিবীতে কোনো শুভ সূচনা হল ?

আমার ভেতর আমাকে জাগিয়ে আমি কবিতায় বাঁচি
আজ~ অফিস যাবো, দুটি অফিসে ডিউটি আমার, সেরে নেবো
পথে ট্রেনের গতিতে আমার বিশ্রামরত চিন্তনপ্রক্রিয়া রিদম খুঁজে নেবে নিশ্চিত
এও এক সংকল্প , থাকবো আনন্দে, আনন্দে লিখবো...

ফিরে এসে প্রুফ দেখবো

বেশি কিছু সংকল্প নেই আজ, ভোরের ভেতরকার ভোর, বড় উদার,সে দিল~
সংকল্প সার্থক করার আলো, দেহমনে মেখে নিচ্ছি এই....
৷৷ আনন্দ ৷৷


লাশের উপর জাতি গঠন হয় না। ।। শৈলেন দাস।।

লাশের উপর জাতি গঠন হয় না।

।। শৈলেন দাস।।

লাশের উপর জাতি গঠন হয় না।

নিজেদের অস্তিত্ব সুরক্ষিত করতে
অন্যকে মেরে ফেলার ভাবনা
মানবিকতার পরিপন্থী
সভ্য জাতি তা প্রত্যাখ্যান করবেই
বুলেটের শাসনে কারও মঙ্গল হয়না।

বিভেদের বীজ বিকশিত
লোহিতে মিশছে  রক্তের স্রোত
জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসছে হায়না
খিলঞ্জীয়া ভাবনায় উদ্বেল
অ-সম ভূমিতে আজ আর কেউ
'মানুষ মানুষের জন্য' এই কথা কয়না!

Sunday, November 4, 2018

সন্ন্যাস/বিশ্বজিৎ

সন্ন্যাস/বিশ্বজিৎ
 -------------
১)
  স্বপ্ন দেখতে
  এখন ভয় পাই।
  খানা-খন্দ,নর্দমায়
  ভরে গেছে প্রতিধ্বনি

২)
  অর্থহীন,অর্থহীনতায়
  সব গবেষণা জল…

৩)
  পোকার শরীরে
  ক্যালপল কাজ করে না

৪)
  ভালোবাসতে,বাসতে
  সন্ন্যাসী হয়ে গেলাম।


#বিশ্বজিৎ/শ্যামনগর/৯৬৭৪৪০৯১৬৪#


Saturday, November 3, 2018

রঙিন/সংস্কৃতি ব্যানার্জী

রঙিন/সংস্কৃতি ব্যানার্জী
-------------------------

কত আয়োজনে মোমবাতি পুড়ছে
আলোর ভেতর আলোয় ,গুড়ো অন্ধকার
লোপাট হতে হতে…জড়ো হচ্ছে ফেনা।
মুঠোতে শুধুই সতর্কবাণী!
হোঁচট সামলে তানপুরায়

ঝড় উঠছে.…



Tuesday, October 30, 2018

গোপেশ রায় । 1

কবিতা
আর এক সময়
- গোপেশ রায় ।
যে সময়ে কামনা বাসনারা
ক্লান্তির জাল বোনে পরমতায় -
সুপ্তির মায়াবনে মাদুর পাতে বিহঙ্গ
তখনইতো, ভালোবাসার অদ্ভূত নক্সিকাঁথায়
আলপনার জল ছড়ায় রহস্যময় গল্পগাথা ।
যে গ্লপের নায়ক আছে নায়িকা আছে
আছে চাউমিন খাওয়া বিকেল গোধূলি
বাসন্তী রং বাতাস, আছে প্রথম দর্শন
প্রথম কথার লজ্জা জড়ানো বিন্ম্রতা
দীঘল চোখের অবাক বৈভবমালা ।
কামনার স্বেদবিন্দু ঝরানো রাত
নিঃশব্দে ফরসা হতে হতে ওঠে নূতন সূর্য,
সেতো জানেনা পুরাতন সময়ের কথা
দুঃখ কথা বেদনার ব্যথা, শোক সন্তাপের গাথা
আনন্দ, জয়, বিজ্‌য় পরাজয় কার
কতোটুকু ছড়ানো কিংবা জড়ানো -!
সে নিত্য নূতন জানে না অতীত
সে আসে এবং যায় -
এসময়ে সুগন্ধি তরলে স্নান করে
স্বপ্ন-সুন্দরি ।
উষার অঙ্গনে ওঠে ঝর্ণাভাঙা গান
শুরু হয় নিখিলের বার্তা দিতে
আর এক সময় ...

Monday, October 29, 2018

টুকি, একটি রূপকথার মেয়ে ৷ দিলীপ বাইন

টুকি, একটি রূপকথার মেয়ে
………………………….
তোর কষ্টে কেঁদে ফেলেছিল যে রূপকথা
তার আইলাইনে ভিজতে চেয়েছিলাম আমিও
শৈশব-১
শৈশবে যেতে হোলে প্রথমে বোনের বাড়ি যাই
তারপর সবিতাদির তৈরি চা খেতে খেতে
টুকির সাথে গল্প কোরি অপটু ভাষায়
আমরা ভাইবোনের পুরোনো দেশে হাঁটতে যাই
ওই দ্যাখ অপু। গাঙ্গু। বুড়ি। নাগপুরিয়ার দোকান।
জলের ট্যাঙ্ক। স্টেশন। পাহাড়।
টুকি বুঝতে চেষ্টা করে আমার শৈশব
হেসে জানান দ্যায় কিছু
টুকির ছোটো ছোটো হাত ধরে পৌঁছে যাই শৈশবে
ওর টাইমজোনে
টুকির বাড়ির ভেতরে অ্যাকটা কলতলা আছে
টুকিও কলতলার আকাশের বিস্ময়ে হারিয়ে যায়
বোন বলে–কতো বড় বড় কুশি হোয়েছে দ্যাখ। অ্যাক, দুই, তিন
টুকিতো অতটা বাড়ছে না
ওর দেরিতে বেড়ে ওঠার শব্দটা তাই দীর্ঘতর করে উদাসীনতা
জানিস তো, উদাসীনতা সমৃদ্ধ করে আমাদের
নিজেকে নিজের বন্ধু কোরে তোলে
অ্যাকা হাঁটতে হাঁটতে লিখে ফ্যালে শৈশবের স্লেট
কখন যে স্লেটটা অ্যাকটা ক্যানভাস হোয়ে ওঠে
টুকি, তোর ক্যানভাসে বিকেলগুলো হাঁটতে শুরু করেছে দ্যাখ…
( চলছে… )

Sunday, October 28, 2018

দীনেশ দাশ

কবি দীনেশ দাশ (৬ সেপ্টেম্বর ১৯১৩ – ১৩ মার্চ ১৯৮৫) এক আবর্তসংকুল সময়খণ্ডের এক উল্লেখযোগ্য কবি। সে সময়কাল গত শতকের চল্লিশের দশক। সে ছিল বাংলার এক দুঃস্বপ্নের সময়। ভীষ্ম পিতামহের মতো বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতিকে দীর্ঘ প্রতিপালনের পর কবিগুরু প্রয়াত হলেন। দ্বিতীয় বিশ্বমহাযুদ্ধে শত্রুপক্ষ একেবারে সদর দরজায় এসে হানা দিয়েছিল। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে (পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে কুখ্যাত) কয়েক লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। তাড় পর ১৯৪৬ সালে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা ও স্বাধীনতা ও দেশ বিভাজনের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুহারা।
ক্লাস নাইনে পড়ার সময় মাত্র পনেরো বছর বয়সে মহাত্মা গান্ধীর লবণ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে সাময়িক ভাবে লেখাপড়ায় ছেদ ঘটে। এক বছর বাদে আবার শিক্ষার জগতে ফিরে এসে ১৯৩০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৩২তে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে বিপ্লবাত্মক স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দেন। ১৯৩৩ সালে বিএ ক্লাসে ভর্তি হলেও সেই বিপ্লবী আন্দোলন ও সাহিত্য চর্চার জন্য গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে পারলেন না। ১৯৩৩ সালে দেশ পত্রিকায় প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। ১৯৩৫ সালে খয়েরবাড়ি চা বাগানে চাকরির সূত্রে কারশিয়াং চলে আসেন। সেখানে গান্ধীবাদী মতাদর্শের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে না পেরে দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় চাকরি ছেড়ে কলকাতায় ফিরে আসেন এবং শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৩৬ সালে বানপন্থী মতবাদে আকৃষ্ট হয়ে মার্ক্স, এঙ্গেলস, রালফ ফক্সের রচনা পাঠ করে এক নতুন ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পড়েন। এই চিন্তামানসই তাঁর কবিতাকে বিশেষ ভাবে প্রভাবিত করেছে আমৃত্যু। ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর সাড়াজাগানো ‘কাস্তে’ কবিতা। এই কবিতাটি আধুনিক বাংলা কবিতার এক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যায় এবং তিনি প্রায় রাতারাতি মেহনতী মানুষের জীবনযন্ত্রণা প্রকাশের মুখপাত্র হয়ে ওঠেন। ‘কাস্তে’ কবিতায় শুক্ল পক্ষের পঞ্চমীর বাঁকা চাঁদটাকে তিনি শ্রমজীবী কৃষকের ফসল কাটার ক্ষুরধার অস্ত্র কাস্তের সঙ্গে তুলনা করেন। যে চাঁদ এত কাল কাব্যজগতে প্রেম ও সৌন্দর্যের লাবণ্যময় প্রতীক ছিল তাকে তিনি খেটে খাওয়া মানুষের সংগ্রামের হাতিয়ার করে তুললেন। এমন একটি বৈপ্লবিক চিন্তার তিনিই পথিকৃৎ।

দীনেশ দাশ

কবি দীনেশ দাশ (৬ সেপ্টেম্বর ১৯১৩ – ১৩ মার্চ ১৯৮৫) এক আবর্তসংকুল সময়খণ্ডের এক উল্লেখযোগ্য কবি। সে সময়কাল গত শতকের চল্লিশের দশক। সে ছিল বাংলার এক দুঃস্বপ্নের সময়। ভীষ্ম পিতামহের মতো বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতিকে দীর্ঘ প্রতিপালনের পর কবিগুরু প্রয়াত হলেন। দ্বিতীয় বিশ্বমহাযুদ্ধে শত্রুপক্ষ একেবারে সদর দরজায় এসে হানা দিয়েছিল। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে (পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে কুখ্যাত) কয়েক লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। তাড় পর ১৯৪৬ সালে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা ও স্বাধীনতা ও দেশ বিভাজনের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুহারা।
ক্লাস নাইনে পড়ার সময় মাত্র পনেরো বছর বয়সে মহাত্মা গান্ধীর লবণ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে সাময়িক ভাবে লেখাপড়ায় ছেদ ঘটে। এক বছর বাদে আবার শিক্ষার জগতে ফিরে এসে ১৯৩০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৩২তে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে বিপ্লবাত্মক স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দেন। ১৯৩৩ সালে বিএ ক্লাসে ভর্তি হলেও সেই বিপ্লবী আন্দোলন ও সাহিত্য চর্চার জন্য গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে পারলেন না। ১৯৩৩ সালে দেশ পত্রিকায় প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। ১৯৩৫ সালে খয়েরবাড়ি চা বাগানে চাকরির সূত্রে কারশিয়াং চলে আসেন। সেখানে গান্ধীবাদী মতাদর্শের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে না পেরে দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় চাকরি ছেড়ে কলকাতায় ফিরে আসেন এবং শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৩৬ সালে বানপন্থী মতবাদে আকৃষ্ট হয়ে মার্ক্স, এঙ্গেলস, রালফ ফক্সের রচনা পাঠ করে এক নতুন ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পড়েন। এই চিন্তামানসই তাঁর কবিতাকে বিশেষ ভাবে প্রভাবিত করেছে আমৃত্যু। ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর সাড়াজাগানো ‘কাস্তে’ কবিতা। এই কবিতাটি আধুনিক বাংলা কবিতার এক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যায় এবং তিনি প্রায় রাতারাতি মেহনতী মানুষের জীবনযন্ত্রণা প্রকাশের মুখপাত্র হয়ে ওঠেন। ‘কাস্তে’ কবিতায় শুক্ল পক্ষের পঞ্চমীর বাঁকা চাঁদটাকে তিনি শ্রমজীবী কৃষকের ফসল কাটার ক্ষুরধার অস্ত্র কাস্তের সঙ্গে তুলনা করেন। যে চাঁদ এত কাল কাব্যজগতে প্রেম ও সৌন্দর্যের লাবণ্যময় প্রতীক ছিল তাকে তিনি খেটে খাওয়া মানুষের সংগ্রামের হাতিয়ার করে তুললেন। এমন একটি বৈপ্লবিক চিন্তার তিনিই পথিকৃৎ।
পরবর্তী সময়ে বামপন্থী মতধারার আরেক কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য পূর্ণিমার চাঁদকে ঝলসানো রুটির সঙ্গে তুলনা করে অমরত্ব পেয়েছেন।

অভাবী পেটের কথা তপন মণ্ডল অলফণি

অভাবী পেটের কথা তপন মণ্ডল অলফণি খিদেগুলো বড্ড বেশি করে বাসা বাঁধছে আমার অভাবী পেটে / বাঁহাতি যোগ্যতায় লাল ফিতের বাঁধনে হলুদ সার্টিফিকে...