চলো পাল্টাই

চলো পাল্টাই
চিন্তন। মন্থন। চিরন্তন।

মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০২২

স্মৃতিকথা -২৩ এই আমি চরিত্র ।। নীলাঞ্জন কুমার ।। Nilanjan Kumar

 স্মৃতিকথা -২৩


                          এই আমি চরিত্র

                            নীলাঞ্জন কুমার





                           ( গত মাসের পর)

                                 । । ২৩।।

বাবা মায়ের আশীর্বাদে  যেমন তেমন করে পাস করে গেলাম হায়ার সেকেন্ডারি । তখন যেমন তেমন করে পাস করাটাই ছিল বিরাট ব্যাপার ।১৯৭৫ সালে হায়ার সেকেন্ডারিতে পাস করেছিল সম্ভবত আট কি নয় শতাংশ ছাত্রছাত্রীরা ।আমি তাদের মধ্যে অবশ্যই অন্যতম । সুতরাং আমায় কে আর পায়! বাড়িতে বেশ আনন্দ,  মায়ের বেশি আনন্দ কারণ বাউন্ডুলেটা এ যাত্রা রক্ষা পেল । পরের যাত্রা কি হবে ভগবান জানেন । এবার ভরতি হওয়ার পালা কলেজে । বিনা ঝন্ঞ্ঝাটে মেদিনীপুর কলেজে ভর্তি হয়ে গেলাম । তখন এখনকারমতো লাইন দিতে হত না । মেদিনীপুর কলেজ মেদিনীপুর কলিজিয়েট স্কুল থেকে এক পাঁচিলের দুরত্ব ।  স্কুলে শুধু ছেলেরা পড়তো । কলেজ এসে মহিলাদের সঙ্গে একসঙ্গে পড়ার  স্বাদ পেলাম । প্রথম প্রথম আমাদের মধ্যে জড়ত্ব ছিল । মেয়েরা ছেলেদের সঙ্গে কথা বলতো না প্রথমের দিকে ।ওরা একজোট হয়ে থাকতো । তারপর দুপক্ষের মধ্যে জড়ত্ব কাটতে শুরু করলো ।  তখন সব মেয়েরা শাড়ি পরে আসতো কলেজে । কলেজে ক্লাসঘর ছাড়া আর একটি অত্যন্ত অন্তরঙ্গ জায়গা ছিল তা হল লাইব্রেরি হল। হাজার হাজার বই সেলফে । ছেলেমেয়েরা বই দিচ্ছে নিচ্ছে ।দেখতে ভালো লাগতো । লাইব্রেরি ঢুকতেই যে জিনিষটি  আমার ভীষণ ভালো লাগতো তা হল গেটের পাশেই বেন্ঞ্চের ওপর বোর্ড দিয়ে আটকানো দু-একটি কবিতার দেওয়াল পত্রিকা । আমার খুব ইচ্ছে হত পত্রিকাগুলোয় কবিতা শিখি । কিন্তু প্রথম প্রথম কলেজে এসেছি । বেশ নতুন পরিবেশ । চারদিকে ছেলেমেয়েরা ঘোরাঘুরি করছে । সিনিয়র ছাত্রছাত্রীরা  অন্তরঙ্গভাবে  মেলামেশা করছে । আমার তরুণ মন সেসব মেয়ে দেখতো । মনে মনে  ইচ্ছে টিচ্ছে যে হত না তা বলবো না । কিন্তু ওই পর্যন্তই । তবে আমার বেশি ইচ্ছে ছিল সাহিত্য আর সাহিত্য । রাতের বেলা ঘুমোনোর আগে ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করে শুতে যেতাম যাতে ভালো কবিতা লিখে উঠতে পারি। তখন খ্যাতি বুঝতাম না । ভালো লেখার আকাঙ্ক্ষা চেপে বসেছিল । বেশ কিছু লেখা লিখে ফেলেছি কিন্তু তা মনঃপূত হচ্ছিল না বলে দু বছর কোথাও লেখা প্রকাশের উদ্যোগ নিইনি । সময়ের সঙ্গে কলেজে বন্ধু হতে শুরু করলো স্বাভাবিক নিয়মে । কলেজিয়েট স্কুলে কিছু ছেলে আমার সঙ্গে পাস করে কলেজে পড়া শুরু করলো । সে সময় পাসকোর্সে তিন বছর পড়তে হত কলেজে । ফাস্ট ইয়ার,  সেকেন্ড ইয়ার ও ফাইনাল ইয়ার । ফাস্ট ইয়ার মানে নিয়ম মেনে ক্লাস করো,  ঘুরে বেড়াও,  খেলে বেড়াও আর কলেজের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নাও,  বাড়িতে পড়াশোনা ত্যাগ করো । সেকেন্ড ইয়ার থেকে কলেজ ছাত্র ছাত্রীরা সিরিয়াস হতো ও ফাইনাল পাস করে চাকরি করতো । এই ছিল সে সময় নিয়ম। তখন আমরা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীভূত ছিলাম । মেদিনীপুরে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়নি । মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়নি । মাত্র তিনটি কলেজ মেদিনীপুর কলেজ , কৈবল্যদায়িনী কলেজ অব কমার্স আর মহিলাদের জন্য গোপ কলেজ । গোপ কলেজ যাবার জন্য বাসের ব্যবস্থা ছিল । আমার ছোড়দি গোপ কলেজ থেকে পাস করেছিল । ওই কলেজের প্রকৃত নাম রাজা নরেন্দ্রলাল খান মহিলা মহাবিদ্যালয় । বড়দি আমি আর দাদা মেদিনীপুর কলেজের থেকে পাস করা । তাছাড়া আর একটি কলেজ আছে  সেটি বি টি কলেজ ।  এছাড়া একটি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ মেদিনীপুর আছে ।
               কলেজে ফাস্ট ইয়ারে পড়ার সময় কবিতার জন্য ব্যাপক উন্মাদনা শুরু হয়ে গেল ।তখন কাগজে কাগজে চিঠিপত্র লেখা আর পোষাচ্ছে না  । নিজের কবিতা ছাপার জন্য ভীষণ ভীষণ ব্যস্ত হয়ে উঠলাম ।
আমার এক বন্ধু তাপস দাস মেদিনীপুরের হাঁসপুকুর এলাকাতে থাকতো । আমি সেখানে নিয়মিত যেতাম । তার সঙ্গে পরিকল্পনা করলাম ছোট্ট বই ছাপতে হবে । তাতে থাকবে আমার কিছু কবিতা আর একটি গল্প । নাম দেওয়া হবে ' জরাজীর্ণ বাড়ির দলে '  । সেইমতো কর্ণেলগোলায় আমাদের বাসার কাছে রূপলেখা প্রেসে গিয়ে  দরদাম শুরু করি । দরদাম করে  ২০০ কপি অস্টোত্তর শতনাম মার্কা  বই এর কস্টিং হল ৯০ টাকা । তাপস আমাকে অনেক কষ্টে ৩০ টাকা দিয়েছিল বাড়িতে  লুকিয়ে । বাকি ৬০ টাকা কি করে জোগাড় হবে তা নিয়ে আমাদের কি দুশ্চিন্তা ! হঠাৎ মনে হল আমার কাছে সাঁই বাবার একটা লকেট আছে । যা দাদার ছিল । সেটি লুকিয়ে বিক্রি করলাম । পেলাম ১০টাকা । বাকি  ৫০ টাকা  বাড়ি থেকে টাকা সরিয়ে টরিয়ে টাকা আর লেখা জমা দিলাম প্রেসে । বই বেরলো । সে যে কি কুচ্ছিত বই হলো তা কহতব্য নয় । কিন্তু নিজের নাম আর কবিতা দেখে আমার সে কি আনন্দ!  কিছু বই বিক্রি হল বন্ধুদের কাছে । বইটির দাম ছিল ৩৫ পয়সা । বিক্রি হল ২৫ পয়সায় । অতি সামান্য বিক্রি হতেই আমার আনন্দ চতুর্গুণ । আমি তখন কলেজে কবি বলে  কিছু ছাত্রর কাছে পরিচিত হচ্ছি । মনে আছে 'জরাজীর্ণ বাড়ির দলে' -র মধ্যে কয়েকটি লেখা এই বয়সেও অবাক করে । একটি ছেলে যা মাত্র ষোল সতের বছরেকি করে লিখতে পারে ভেবে বিস্মৃত হই । কবিতার নাম ' 'আবরণ' যার প্রথম দুটি লাইন:  ' ওরা কেউদেখেনা আমাক/  ওরা দেখে আমার রঙিন সোয়েটার ।  ' যা তখন একজন গ্রামীণ  ছেলের কাছে পাওয়া দুষ্কর ছিল ।

                                                  ( চলবে)






শব্দব্রাউজ ৬১৪ ।। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-614, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৬১৪ ।। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-614, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ- ৬১৪ ।। নীলাঞ্জন কুমার

প্রুডেন্ট প্রাণা । গড়িয়া । ৩।১০। ২২। সকাল ৭টা ১০মিনিট ।


শব্দসূত্র: মেঘের সাজে আকাশ



মেঘ সেজেছে মেঘলা রঙে

মাটিতে বৃষ্টি ফোঁটা

বাজছে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ

পুজো এসেছে ।



রঙ জমিয়ে বাংলা মাতে

সকাল দুপুর সন্ধ্যে বিকেল ।



সূর্য মেঘের লুকোচুরি

আকাশ জুড়ে

এই তো শরৎ । এই তো জীবন ।


আটপৌরে ৩৬১|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 361, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ৩৬১|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 361, by Sudip Biswas




৩৬১.

আয়োজন


জীবনপাত্র। পরাণখানি। উপহার।


আলোছায়া


 মায়াবী জাল মরণের দ্বার।

সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০২২

একটি ধারাভাষ্য ।। চিরঞ্জীব হালদার ।। কবিতা, Chiranjib Haldar

একটি ধারাভাষ্য

চিরঞ্জীব হালদার



কুরুক্ষেত্রের আগে কোন ফুচকা দোকানীর সাথে

একটু ইয়ে জমাবার ইচ্ছে ছিল

যদি তা না পাই তাহলে সুলভ কমপ্লেক্সের কোন ঘুম ঘুম রাজপুত্রের কাছে দুদন্ড ছানবিন হেতু সময় ধার্য রাখা দরকার


এই প্রান্তরে এন্ট্রি নেওয়ার আগে প্রত্যেকের ঘোড়াকে কিছু গোপন কৌশল গিলিয়ে দিতো তাদের প্রেমিকারা


রম্ভা তার সুবর্ণখোচিত মেয়েলি পোষাক টা কোন লেনদেন ছাড়া সুলভ কমপ্লেক্সের ছোঁড়াটাকে এভাবে 

বিলিয়ে দেওয়ার পিছনে কোন মাষ্টার মাইন্ড ছিল কিনা কে বলে দেবে

এসবে মধ্যে আমার দায়িত্ব শুধু সরল ধারাভাষ্যের



আটপৌরে ৩৬০|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 360, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ৩৬০|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 360, by Sudip Biswas




৩৬০.

মহালয়া 


ভোরের। আমেজে। জরিপ। 


ভদ্রাসন


ইথারে সুরারঞ্জিত দেবী সুরেশ্বরী।

শব্দব্রাউজ ৬১৩ ।। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-613, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৬১৩ ।। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-613, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ- ৬১৩ ।। নীলাঞ্জন কুমার

প্রুডেন্ট প্রাণা । গড়িয়া । ২। ১০। ২০২২। সকাল সাতটা ত্রিশ মিনিট ।


শব্দসূত্র: নাও শরতের অন্ঞ্জলি



নাও নিয়ে নাও

যত আছে কলুষ

দাও পুণ্য ।



শরতের স্নিগ্ধতা

মেখে

গাই নব জীবনের গান ।



অন্ঞ্জলি শুধু সঙ্গীতে নয়

স্থিরতাতেও

থাক তার পরিচয় ।

রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০২২

হে আমার স্বদেশ- ২২ সন্তোষ কুমার কর্মকার মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ– বাসুদেব দাস, Swadesh Kumar Karmakar

হে আমার স্বদেশ- ২২

সন্তোষ কুমার কর্মকার

মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ– বাসুদেব দাস







  লেখক পরিচিতি-- সন্তোষ কুমার কর্মকার একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, শিশু সাহিত্যিক এবং অনুবাদক।বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলায় ১৯৫৩ সনে শ্রীকর্মকারের জন্ম হয়।পিতা কানাইলাল কর্মকার। ভারত স্বাধীন হওয়ার পরে সপরিবারে ভারতে চলে আসেন। প্রাথমিক শিক্ষা অসমের বরপেটায়।গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত  বিভাগে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। রচিত উপন্যাস গুলি যথাক্রমে গৃহভূমি, শঙ্খ ধ্বনি, পদাতিক, সুবর্ণরেখা,অ  মোর আপোনার দেশ, কালান্তরর কথকতা, শিপার সন্ধানত, ইত্যাদি। ছোটগল্প,বেশ কিছু শিশু উপন্যাস এবং অনুবাদ গ্রন্থ রচনা করেন।২০২১ সনের এপ্রিল মাসে এই মহান লেখকের মৃত্যু হয়।১৯৯৬ সনে ভারতীয় ভাষা পরিষদ পুরস্কার, ১৯৯৮ সনে অসম সাহিত্য সভার সীতানাথ ব্রহ্ম  পুরস্কার এবং ২০২০ সনে সাহিত‍্যাচার্য সৈয়দ আব্দুল মালিক উপন্যাসশ্রী পুরস্কার লাভ করেন ।


   আলোচ্য উপন্যাস ' হে আমার স্বদেশ' (অ’ মোর আপোনার দেশ) অসমের অন্যতম সাহিত্যিক, ঠাকুর পরিবারের জামাই, সাহিত্যরথী লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়ার জীবনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।এই উপন্যাসে বেজবরুয়ার চেতনায় কীভাবে জাতীয়তাবাদ অঙ্কুরিত হয়েছিল, বেজবরুয়ার জাতীয়তাবাদের স্বরূপ, রবীন্দ্রনাথের জাতীয়তাবাদের সঙ্গে  বেজবরুয়ার জাতীয়তাবাদের তুলনা, ইউরোপীয় নবজাগরণের প্রেক্ষাপটে ভারত তথা অসমের নবজাগরণের উন্মেষ, জাতীয়তাবাদী বেজবরুয়ার  সংগ্রাম, অসম বাংলার সাংস্কৃতিক সমন্বয় আলোচিত হয়েছে।এই উপন্যাসের চরিত্র রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে ঠাকুরবাড়ির মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ, বলেন্দ্রনাথ,প্রজ্ঞাসুন্দরী ,অন‍্যদিকে অসমের হেমচন্দ্র গোস্বামী, গুণাভিরাম বরুয়া,চন্দ্রকুমার আগরওয়ালা -উনবিংশ শতকের অসম বাংলার অনেক স্বনামধন্য পুরুষই উপন্যাসের পাতায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

প্রসঙ্গত বলে রাখি শ্রীমতী কর্মকার উপন্যাসটির প্রায় আড়াইশো পাতার মতো অনুবাদ করেছিলেন।তবে আমি প্ৰয়োজন অনুসারে উপন্যাসটিকে আবার নতুন করে একেবারে প্রথম থেকে অনুবাদ করেছি। বলাবাহুল্য শ্রীমতী কর্মকারের  অনুবাদ আমাকে অনেকটাই সাহায্য করেছে। এই সুযোগে আমি তার কাছে আমার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। পরিশেষে দৈনিক বাংলা পত্রিকা(অন লাইন)উপন্যাসটি ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করতে আগ্ৰহী হওয়ায় তাদেরকে আমার কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

(২২)

একটা পরিতৃপ্তির ভাব নিয়ে বাড়ি ফিরে এল। কিন্তু বাইরে কাছারি ঘরটাতে গম্ভীর হয়ে বসে থাকা ভোলানাথের দিকে তাকিয়ে লক্ষ্মীনাথ সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল।

 এমনিতেই গতিশীল ব্যক্তিত্বের অধিকারী যদিও ভোলানাথের সম্মুখে সে কিছু পরিমাণে সংকুচিত হয়ে পড়ে। মানুষটা কেবল প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন,সুকৌশলী ব্যবসায়ী নয়, কাজকর্মেও শৃঙ্খলাপরায়ণ এবং সময়ানুবর্তী।

'তুমি আসবে বলে দেড় ঘন্টা ধরে বটুবাবু এবং কেদারবাবুকে বসিয়ে রাখলাম। তারপরেও তোমার দেখা-দেখি নেই বলে তারা চলে গেল।'

'আজ অ.ভা.উ.সা.র একটা সভা ছিল।' লক্ষ্মীনাথ বলল,' সভায় একটা সিরিয়াস বিষয় ডিসকাস হল।'

'ওহো, আজ পেমেন্ট করব বলে বটুবাবুকে কথা দিয়েছিলাম।'

ক্রোধ মিশ্রিত বিরক্তির সঙ্গে ভোলানাথ বলল,' টাকা‐পয়সা,চেকবুক সমস্ত কিছু তোমার সঙ্গে থাকে। পেমেন্ট করা তো তোমার কাজ। কোথাও কিছু প্রোগ্রাম তৈরি হলে তোমার জানিয়ে যাওয়া উচিত।এতক্ষণ অপেক্ষা করেও পেমেন্ট না পেয়ে বটুবাবু আমাদের উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন না।'

'না অসন্তুষ্ট হবেন না।এতদিনে বটুবাবু আমাদের ঘরোয়া মানুষ হয়ে পড়েছেন।'

'ঘরোয়া মানুষ হয়ে পড়েছেন মানে?' ভোলানাথের রাগ বেড়ে গেল,' ব্যবসায় প্রতিশ্রুতি অনুসারে সময়ে লেনদেন করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসা চলে বিশ্বাসের ওপর। একবার বিশ্বাস ভঙ্গ হলে সেই বিশ্বাস ফিরে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।'

তাঁর রাগ হয়েছে দেখে নিজের ভুল স্বীকার করে লক্ষ্মীনাথ বলল,' ঠিক আছে, কাল ব্যাংক খোলার আগেই বটুবাবু যাতে পেমেন্ট পায়, আমি তার দায়িত্ব নিলাম।'

এভাবে বলার পরেই লক্ষ্মীনাথের মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। তারপরে সে ভেতরে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল।'

'দাঁড়াও‐।'সঙ্গে সঙ্গে কণ্ঠস্বর কোমল করে ভোলানাথ লক্ষ্মীনাথকে ডাকল,'বস, এখানে বসো‐।'

লক্ষ্মীনাথের বসার ইচ্ছা নেই। মেয়েটি জন্ম হওয়ার তিন মাস পরে জোড়াসাঁকো থেকে প্রজ্ঞাকে এই বাড়িতে নিয়ে এসেছে। নবজাত‐কন্যা শিশুটির জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস-পত্র কিছু আনতে হবে। তাছাড়া মেয়েটিকে দেখাশোনা করার জন্য মাসিক ছয় টাকা বেতনে একজন 'ওয়েট নার্স' রেখেছে। গত কয়েক মাস বিশ্রাম নেবার পরে প্রসূতি প্রজ্ঞা সুস্থ হয়ে উঠেছে। এই কয়েক মাসেই শিশুটি মানুষ চিনতে পারছে। কাছে গেলেই গলা ঘুরিয়ে অবোধ চোখে তাকায়। তাকিয়েই হাসি। স্বর্গীয় সুষমামন্ডিত ঐশ্বর্যময় হাসি। জোড়াসাঁকো থাকার সময় তাকে কোলে নেবার জন্য মহিলাদের মধ্যে হুলুস্থল পড়ে যেত। প্রত্যেকের মুখে 'ফুলের মতো টুকটুকে মেয়ে'। লক্ষ্মীনাথ আদরের মেয়ের নাম রেখেছে 'সুরভি'। এত ছোটো, এত কোমল তার শরীর… কী জানি ব্যথা পায় এই আশঙ্কায় লক্ষ্মীনাথ তাকে কোলে নিতেও সাহস করে না। কিন্তু পাশে বসে তার দিকে তাকিয়ে থাকে।সকালে নিউমার্কেট গিয়েছিল। নিউমার্কেট থেকে ফিরে এসেই অ.ভা.উ.সা.র সভায় যেতে হল, আজ সুরভির কাছে বসতে পারেনি। এখন তাকে দেখতে ইচ্ছা করছে। এদিকে,প্রজ্ঞা‐প্রজ্ঞাও নিশ্চয় তার জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে।

ইচ্ছা করছিল না যদিও লক্ষ্মীনাথ ভোলানাথের কথার অবাধ্য হতে পারল না। ভোলানাথ বসে থাকা টেবিলের বিপরীত দিকে চেয়ারে বসল।

' সভার আলোচ্য বিষয়টা কি ছিল?'

   কিছুক্ষণের বিরতি নিয়ে লক্ষ্মীনাথ সংক্ষেপে বলল। আগ্রহের সঙ্গে শুনে গম্ভীর কণ্ঠে ভোলানাথ বলল,'বুঝেছ বেজ, রাজনৈতিকভাবে না লেগে এভাবে আবেদন নিবেদনের দ্বারা বিশেষ কাজ হবে না। তথাপি তোমরা তোমাদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে উচিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছ। আমার কথাটা হল‐ অসমিয়াদের উচ্চ শিক্ষার প্রয়োজন, ভাষা সাহিত্যের প্রয়োজন… বাণিজ্য অর্থনীতির কি প্রয়োজন নেই?'

লক্ষ্মীনাথ হুঁচোট খেল। অস্ফুটকণ্ঠে বলে উঠল,' বাণিজ্য-অর্থনীতি!'

' কথাটা তোমার কাছে আশ্চর্যের মনে হতে পারে। তথাপি আমার মতে যা সত্য, সেটা আমাকে বলতেই হবে।দেখ,আগের দিনগুলির কথা আলাদা ছিল। এখন মানে আমরা যে অসম থেকে কলকাতায় এলাম‐ এখানে কিন্তু অর্থই আমাদের ধরে রেখেছে। অর্থের জন্যই ভারতের এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে দৌড়াদৌড়ি করছি। অর্থের জন্য এই বাণিজ্য। অর্থ লাভের জন্যই বাণিজ্যে এত কৌশল, মানুষকে এত তোষামোদ করা। কিছুক্ষণ আগে আমি যে তোমার ওপরে রাগ করলাম,সেটাও সেই বাণিজ্যের সুনাম রক্ষা করার জন্য। আর মনে রাখবে,বাণিজ্য করে অর্থ উপার্জন করতে পারছি বলেই কলকাতার মতো মহানগরে এভাবে ঘর ভাড়া করে গাড়ি-ঘোড়া চাকর-বাকর নিয়ে আরাম-আয়েশের জীবন কাটাতে পারছি। অর্থই আমাদের ভাগ্যকে নিয়ন্ত্রণ করে। এখন কোনো কারনে এই অর্থ উপার্জনের উপায় বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের কিন্তু পোঁটলা‐পুঁটলি নিয়ে কলকাতা ছাড়তে হবে।'

ইতিমধ্যে সাহিত্যিক হিসেবে লক্ষ্মীনাথ সুনাম অর্জন করেছে। সেই সুনাম তার মনে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলেছে। হাতে কাপ নিয়ে সাদা কাগজের ওপরে শব্দের অর্থ ব্যঞ্জক সারি সৃষ্টি করাটা তাঁর প্রিয় কাজ। সেই কাজের মাধ্যমে সে স্বদেশ-স্বজাতির উপকার করে চলেছে বলেই ভাবে। কিন্তু ভোলানাথ ব্যবসা করে অর্থ উপার্জনের কথা বলে আসলে কী বোঝাতে চাইছে লক্ষ্মীনাথ বুঝতে পারল না। সে কুচকুচে কালো দাড়িতে রহস্যময় ভোলানাথের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।

'তারপর তুমি যে বললে‐'অসমের চীফ কমিশনার হেনরি কটন সাহেব তাঁর রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন যে প্রেজেন্ট আসামিস জেনারেশন ইজ ডিপেন্ডেন্ট অন বেঙ্গল এন্ড বেঙ্গলিজ'‐ এটা তুমি অস্বীকার করতে পার কি?'

লক্ষ্মীনাথ চেয়ারটাতে সোজা হয়ে বসল।

'অন্যের কথায় দরকার নেই,এই যে আজ আমরা এখানে উড মার্চেন্ট‐।' ভোলানাথ বলে গেল,' আমাদের কথাই ধরনা কেন। আমরা নিমতলা গোলার গিরীশ বোস, কালীকৃষ্ণ প্রামাণিক, অতুল কৃষ্ণ ঘোষ, বটুকৃষ্ণ পালের উপরে ডিপেন্ডেন্ট নই কি? তারপর তুমি যে অসমিয়া ভাষা–সাহিত্যের সাধনা করতে শুরু করেছ,অবশ্য তুমি অনেকটাই এগিয়ে গেছ, ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে বলেই আমার বিশ্বাস– তুমি কি তোমার সাহিত্য রচনার ব্যাকগ্রাউন্ড কেবল নিজেই বলে ভাব নাকি?'

'ভাবিনা।'

'তার মানে অরিজিনাল ব্যাকগ্রাউন্ড অসমের শিবসাগর যদিও তোমার মনের সাহিত্য-সংস্কৃতিকে পরিপুষ্ট করেছে বেঙ্গল,বাঙালি মনীষা,বিশেষ করে ঠাকুরবাড়ির সাংস্কৃতিক পরিবেশ।'

'আমি অস্বীকার করি না।'ছোটো একটি নিশ্বাস ফেলে লক্ষ্মীনাথ বলল,' কিন্তু অনন্তকাল পর্যন্ত আমরা তাদের প্রভাবে প্রভাবান্বিত হয়ে থাকলে হবে না।এই প্রভাব বা নির্ভরশীলতার পাশ থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে অসময়ে জাতির মুক্তি হবে না।'

কথাটা বলতে লক্ষীনাথের কণ্ঠস্বরে উষ্মা প্রকাশ পেল। তারপরে সে অস্থির হয়ে পড়ল। এতই অস্থির হয়ে পড়ল যে ভোলানাথের সামনে বসে থাকাটা সম্ভব হল না।

ভেতর মহলে এসেই লক্ষ্মীনাথ প্রজ্ঞার মুখোমুখি হল। এতক্ষণ অধীর আগ্রহে প্রজ্ঞা লক্ষ্মীনাথের জন্য অপেক্ষা করছিল। লক্ষ্মীনাথের বাড়ি আসাটা প্রজ্ঞা কাজের ছেলে বদ্রিনাথের কাছ থেকে জানতে পেরেছে। কিন্তু এসেই যে ভোলানাথের সঙ্গে বসে বিতর্কে অবতীর্ণ হল, তাতে প্রজ্ঞা চিন্তিত হয়ে পড়েছে। খারাপ কিছু ঘটেছে নাকি প্রজ্ঞা জিজ্ঞেস করল। লক্ষ্মীনাথ প্রজ্ঞার সঙ্গে ব্যবসা সংক্রান্ত কথাগুলি এত বিস্তৃতভাবে আলোচনা করে না। কিছুক্ষণ আগে ভোলানাথের সঙ্গে যে সমস্ত আলোচনা বা বিতর্ক হল, সেগুলো তো বলা সম্ভবই নয়।অন্যপ্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলে পোশাক বদলাল। স্নান করে এসে বিকেলের জলপান খেল। তারপরে শোবার ঘরের বিছানায় শুয়ে থাকা শিশুকন্যা সুরভির কাছে বসল।

সুরভির দিকে তাকাতেই লক্ষ্মীনাথের অন্তরটা অপত্য স্নেহের অমল ধারায় সিক্ত হয়ে পড়ল। এতদিনে সুরভিও পিতাকে ভালোভাবে চিনতে পেরে গেছে। কাছে বসার সঙ্গে সঙ্গে গলা ঘুরিয়ে বাবার দিকে তাকিয়েই হেসে ফেলল। তারপরে ফুর্তিতে হাত-পা নাড়াতে লাগল। তারমানে তাকে কোলে নিতে হবে। সে ব্যথা পাবে ভেবে শুরুতে লক্ষ্মীনাথ তাকে কোলে নিতে ভয় পেত। এখন সে তাকে কোলে নিতে পারে। কোলে তুলে নিয়ে তার কোমল কোমল হাত-পা গুলিতে হাত বুলিয়ে আদর করল, লাল গালে আলগোছে চুমু খেল। তাতে সুরভির হাসি আরও বেড়ে গেল।

'ওগো সুরভি সুন্দরীর মা,এই দেখ তোমার মেয়ের কী আনন্দ!'

'সারাদিন পর বাবাকে পেয়েছে। মেয়ের আনন্দ তো হবেই।'

প্রজ্ঞা বলল,'তা তুমি যে ওকে সুরভি সুন্দরী বললে!'

'প্রজ্ঞাসুন্দরীর কন্যার নাম তো সুরভি সুন্দরীই হবে।'

'না বাপু,মেয়েদের নামের সঙ্গে 'সুন্দরী' লাগানোটা সেকেলে হয়ে গেছে। তুমি ওকে শুধু সুরভি বলে ডাকবে।আচ্ছা–।'

কিছু একটা বলতে গিয়েও প্রজ্ঞা থেমে গেল।

পত্নীর দিকে তাকিয়ে লক্ষ্মীনাথ স্বভাবসুলভ মজা করার সুরে বলল,' শ্রীদাস মহারাণীর মনের কথা জানতে আগ্রহী।'

' ভোলানাথ দাদা তো তোমার থেকে প্রায় এগারো বছরের বড়ো। এখনও তিনি বিয়ে–থা করছেন না কেন,বলতো?'

' সে আমি কেমন করে বলব?'

' তিনি তো তোমার বন্ধুর মতো। ওর সঙ্গে তোমার এত কথা হয়,একসঙ্গে এত ঘুরে বেড়াও- বিয়ের কথা হয়না!'

' না। বন্ধুর মতো হলেও আমি ওঁকে শ্রদ্ধা করি।ওর পার্সোনাল ম্যাটার নিয়ে কথা বলি না। আর শোনো, তোমার একটি ভালো খবর আছে।' লক্ষ্মীনাথ প্রসঙ্গ পরিবর্তন করল,' আজ সভায় যাওয়ার পথে রাধাকান্ত বাবুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল।' ইন্ডিয়ান মিরর' পত্রিকায় যে তোমার লেখা 'আমিষ ও নিরামিষ আহার' বইটির বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম, বইটি ভালো বিক্রি হচ্ছে। আর বিক্রি হবে নাই বা কেন,বল–অমন বই তো বাংলা ভাষায় আর একটি নেই। আমি এখন কন্যার সঙ্গে পত্নী গর্বেও গৌরব অনুভব করছি। তোমার স্বামী বলে কলকাতায় আমারও একটা পজিশন হবে।'

' কী যে আবোল-তাবোল বল না! ওই বইটি সাহিত্য নয় যে কবি-সাহিত্যিকদের মতো আমারও নাম হবে।'

' নাগো, তোমার বইটা সত্যিই ভালো হয়েছে। রান্নার বই বলে বইটির একটা মূল্য থাকবেই। আমি ভাবছি, বইটির অসমিয়া অনুবাদ ছাপাব।'

'সে কাজ তো তোমাকেই করতে হবে।প্রজ্ঞা বলল আচ্ছা বেবির যে অন্নপ্রাশন দিতে হবে সে খেয়াল আছে ?'

কেন খেয়াল থাকবে না,বেশ খেয়াল আছে। আমি শুধু গিন্নি মাতার আদেশের অপেক্ষা করছি। আদেশ হওয়া মাত্র এই দাস সমস্ত বন্দোবস্ত করে ফেলবে।

'ও, তোমার কথার যে কি ছিরি! মুখে যা আসে তাই বলবে!'

'ওমা, খারাপ কি বললাম? কোথায় ভুল হল?'

' তুমি আমাকে গিন্নি মাতা বললে, আমি তোমার গিন্নি মাতা? আর তুমি আমার দাস? স্বামী হয়ে ওভাবে তুমি আমাকে বলতে পার?'

ক্রোধে প্রজ্ঞার মুখ আরক্তিম হয়ে উঠল।

লক্ষ্মীনাথ হাসতে লাগল। কথায় কথায় ক্ষেপিয়ে প্রজ্ঞাকে বিরক্ত করা, এটা ওটা বলে প্রজ্ঞাকে রাগিয়ে দেওয়া তার স্বভাব। স্বামীর এই স্বভাবের অন্তরালে যে অবিমিশ্র ভালোবাসা এবং অন্তরের গভীর অনুরাগ, প্রজ্ঞা তা জানে। তার জন্যই লক্ষ্মীনাথের প্রতি তার ক্রোধ-অভিমান খুবই ক্ষণস্থায়ী। স্বামীকে হাসতে দেখে সেও হাসতে লাগল।

' দেখ বাপু, মেয়ে হওয়ার পর বাড়িতে প্রথম ফাংশন হবে।' প্রজ্ঞা বলল,' অন্নপ্রাশনে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাইকে নেমন্তন্ন করবে কিন্তু।'

' হ্যাঁ, হবে। প্রজ্ঞাসুন্দরী দেবীর আজ্ঞা মতো সবই হবে।'

সকালে ভোলানাথকে হাওড়া স্টেশনে ট্রেনে উঠিয়ে দিয়ে লক্ষ্মীনাথ বাড়ি ফিরে এল। টিকায়েতের ট্রাই সাইকেলটা ব্যান্টিক স্ট্রিটের একটি দোকানে মেরামত করতে দিয়েছিল। দশ টাকার বিনিময়ে ভালোই মেরামত করেছে । সেটাতে উঠে লক্ষ্মীনাথ ইডেন গার্ডেনে বেড়াতে গেল। এত ভালো লাগলো যে রবিবার দিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই সেটা নিয়ে বের হল। ছাত্ররা থাকা মেসগুলিতে গিয়ে প্রত্যেকের সঙ্গে দেখা করল। পরের দিন জোড়াসাঁকো গেল এবং বিকেলে কেলেডিয়ান ডকে গিয়ে অতুলকৃষ্ণ বাবুর সঙ্গে দেখা করল।

সুরভির অন্নপ্রাশনের জন্য দিন তারিখ ঠিক হল। সেপ্টেম্বরের ২৮ তারিখ। তার জন্য ট্রাইসাইকেলটা করে জোড়াসাঁকো, পার্ক স্ট্রিট, বালিগঞ্জ, কাশিয়াবাগান, বেনে পুকুরের ডাক্তার মুখার্জি, ভায়রা ব্যারিস্টার আশুতোষ চৌধুরী, গোষ্ঠ বাবু, ধীরা দিদি এবং ডক্টর ইউ. ডি ব্যানার্জীর বাড়িতে গিয়ে নিমন্ত্রণ করল। সঙ্গে ব্যবসায়িক স্বার্থে সম্পর্ক গড়ে উঠা কালীকৃষ্ণ প্রামাণিক, অতুলকৃষ্ণ ঘোষ, বটুকৃষ্ণ পালও লক্ষ্মীনাথের সবিনয় নিমন্ত্রণ থেকে বাদ পড়ল না। সেদিনই বিকেল বেলা অ.ভা.উ.সা সভায় ' অসমীয়া ভাষা'র পঞ্চম অংশ পাঠ করল। পরের দিন ভোলানাথ কলকাতায় ফিরে এলে লক্ষ্মীনাথ তার কাছ থেকে দুদিনের ছুটি নিয়ে অন্নপ্রাশনের জোগাড় করতে লাগল।

অন্নপ্রাশনের দিন আত্মীয়-স্বজন এবং নিমন্ত্রিতদের উপস্থিতিতে গোপীকৃষ্ণ লেনের ঘরটি বেশ আনন্দমুখর হয়ে উঠল। সুরভি প্রত্যেকেরই আপনজন, অতি আদরের। অন্নপ্রাশনের আনুষ্ঠানিকতাটুকু করার আগে স্নান করিয়ে নতুন কাপড়, সোনার চেইন, হাতে বালা পরিয়ে তাকে সাজানো হল। তাতে তাকে আরও সুন্দর,আরও আদুরে দেখাল। তাকে কোলে নিয়ে আদর করার জন্য মহিলাদের মধ্যে কাড়াকাড়ি পড়ে গেল।

ব্যবসার কথায় ভোলানাথ সময়ানুবর্তী এবং শৃঙ্খলাপরায়ণ হলেও আজ তার ভাইঝির (সবার সামনে ভোলানাথ লক্ষ্মীনাথকে নিজের ভাই বলে সম্বোধন করে) অন্নপ্রাশন। সেই হিসেবে অকৃতদার ভোলানাথ জ‍্যাঠার দায়িত্ব পালন করতে লাগল। খরচের জন্য লক্ষ্মীনাথকে টাকা দেওয়া ছাড়া অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য নিজেই রাঁধুনীদের সঙ্গে থেকে সবকিছু দেখাশোনা করতে লাগল। দুপুর থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়নের পর্ব শুরু হল। এই ক্ষেত্রেও ভোলানাথ সবাইকে আদর-যত্ন করতে দেখে লক্ষ্মীনাথের ভালো লাগল। সত্যিই তিনি যেন বাড়ির একজন বয়োজ্যেষ্ঠ অভিভাবক।

বিকেলের দিকে একটি গাড়িতে জোড়াসাঁকো থেকে এলেন সরলা, ইন্দিরা(বিবি), ভারতের প্রথম আইসিএস সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা, রবীন্দ্রনাথ, লক্ষ্মীনাথের সম্বন্ধী হিতেন্দ্রনাথ,শোভনা এবং সুষমা।তাঁরা লক্ষ্মীনাথের শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়, কুটুম্ব। তাদের আদর-টাদরের কথাটা একটু আলাদা। ভোলানাথ এবং লক্ষ্মীনাথের সঙ্গে প্রাথমিক কুশল বিনিময়ের পরে তারা ভেতরমহলে প্রজ্ঞা এবং সুরভির সঙ্গে বসল।

রবীন্দ্রনাথ মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কনিষ্ঠ পুত্র। লক্ষ্মীনাথের শ্বশুর হেমেন্দ্রনাথ মহর্ষির তৃতীয় পুত্র। তাই কাকা শ্বশুর যদিও রবীন্দ্রনাথ লক্ষ্মীনাথের চেয়ে মাত্র চার বছরের বড়ো। কুচকুচে কালো দাড়ি, দীর্ঘ চুল, রিমলেস চশমার নিচে আলোক দীপ্ত বড়ো বড়ো চোখ, চলাফেরায় জমিদারি আভিজাত্য থাকা রবীন্দ্রনাথের কাছে দাঁড়ালে চেহারা-ব্যক্তিত্বে লক্ষ্মীনাথকে ছোটো বলে মনে হয় না। তাছাড়া বিয়ের পরে ঠাকুরবাড়িতে থাকা সময়টুকুতে অসমিয়া ভাষার স্বতন্ত্রতা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে লক্ষ্মীনাথের মতবিরোধ হওয়ায় যে তিক্ততার সৃষ্টি হয়েছিল, সেটাও ইতিমধ্যে নাই হয়ে গেছে। তারপরে দুজনের মধ্যে একাধিকবার বার্তালাপ হয়েছে। এখন রবীন্দ্রনাথ তার সঙ্গে সমীহের ভাব নিয়ে কথা বলে। লক্ষ্মীনাথ কিছু বললে আগ্রহের সঙ্গে শুনে এবং সাহিত্য এবং ভারতীয় দর্শনের ওপরে জ্ঞানের গভীরতা বুঝতে পেরে উদারভাবে লক্ষ্মীনাথকে প্রশংসা করে। লক্ষ্মীনাথও রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ মনোযোগের সঙ্গে অধ্যয়ন করে এবং তার সান্নিধ্যে গেলেই দুজনেই মননশীল আলোচনায় মগ্ন হয়।

কিন্তু আজ যাদের সঙ্গে এই ধরনের একটি উৎসবমুখর পরিবেশে এসেছেন, আলোচনা সম্ভব নয়। সুরভিকে হৃদয় উজার করে আশীর্বাদ করে সহজাত রসিকতার সুরে রবীন্দ্রনাথ বললেন,'ওরে, এখনই তুই যেমন সোনার দেশের রাজকন্যার মতো সুন্দরী, বয়সকালে তোকে পাওয়ার জন্য স্বপ্নপুরীর রাজকুমারদের মধ্যে দেখছি ভয়ংকর যুদ্ধ লেগে যাবে।'

কাছেই প্রজ্ঞা দাঁড়িয়ে রয়েছে। কপট রাগ দেখিয়ে বলল,' রবি কাকা, তুমি বাপু দয়া করে অমন কথাটি বল না।'

' কেন, কী অন্যায় বললুম?'

' আমার মেয়ের চোখ লেগে যাবে।'

ওর সঙ্গে ভাব করে আমিই তাহলে ওকে আমার গিন্নি করে নেব।'

রবীন্দ্রনাথের কথা শুনে সবাই হেসে উঠল। তারপরে রবীন্দ্রনাথের প্রস্তাব অনুসারে ঠাকুর বাড়ি থেকে আগত প্রত্যেকেই একটি একটি করে গান গাইল। গানগুলির অধিকাংশই রবীন্দ্রনাথের রচনা। শুধু বিদূষী ইন্দিরা গান না গেয়ে সুরভির উদ্দেশ্যে নিজে লিখে আনা একটা কবিতা আবৃত্তি করল।

নিমন্ত্রিত অতিথিরা এখনও আসছে। তাদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য লক্ষ্মীনাথ শ্বশুরবাড়ি থেকে আসা আত্মীয় কুটুমবাদের সঙ্গে বেশিক্ষণ বসতে পারল না। কিন্তু অন্নপ্রাশনকে উদ্দেশ্য করে রবীন্দ্রনাথ সহ তারা সুরভিকে যেভাবে আশীর্বাদ করল, তাকে উদ্দেশ্য করে যেভাবে গান গাইল, কবিতা আবৃত্তি করল, তাতে লক্ষীনাথের পিতৃহৃদয় ভরে উঠল।

আমন্ত্রিতরা এসে পরম তৃপ্তিতে ভোজন করে সুরভিকে আশীর্বাদ করায় অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠানটি সর্বতোভাবে সাফল্যমন্ডিত হয়ে উঠল। রাত সাড়ে দশটার সময় বাড়ির চাকর-বাকর, সহিস, আহার করার পরে বাড়িটা নির্জন হয়ে পড়ল। প্রায় দেড়শো অতিথির গুরুভোজনের আয়োজন করা, অতিথিদের আপ্যায়ন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিরামহীন ভাবে খাটনি… লক্ষ্মীনাথ ক্লান্ত হয়ে পড়ল। বেশি ক্লান্ত লাগলে খেতে ইচ্ছা করে না, না খেয়েই সে বিছানা নিতে যাচ্ছিল। কিন্তু প্রজ্ঞার জন্য খেতে হল। খাওয়ার পরে ভালো লাগল। তখনই তার মায়ের কথা মনে পড়ল। মানসপটে ভেসে উঠল স্বর্গবাসী পিতার মুখটা। পিতার উপস্থিত থাকার প্রশ্নই উঠে না। সুরভির জন্য আয়োজিত মঙ্গল অনুষ্ঠানে যদি মা উপস্থিত থাকতে পারতেন!

লক্ষ্মীনাথের মনটা খারাপ হয়ে গেল। তারপরেই স্মৃতি তাকে নিয়ে গেল শিবসাগরের তাদের গোঁসাই ঘরে। গোঁসাই ঘরে কীর্তন, দশম,ঘোষা, রত্নাবলী পুথি রেখে তার ওপরে পাপড়িতে পাপড়িতে সোনার এবং রুপোর ফুল লাগানো একটা সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা বেদী। বেদীর ডানপাশে একই সারিতে আলাদাভাবে শালগ্রামশিলা গুলি রাখা হয়েছিল এবং পিতৃদেব নিজে সেগুলির পূজা করতেন। বেদীর বাঁ পাশে একই সারিতে আলাদাভাবে কালো পাথরের একটা বড়ো কৃষ্ণমূর্তিও রাখা ছিল। তাদেরই বাড়ির একজন পুরোহিতের মাধ্যমে এই মূর্তিটির পূজা করানো হত। বেদী এবং কৃষ্ণের মূর্তি রাখা সিংহাসনের সামনে মাহ-চালের শরাই নিবেদন করা হত। বেদীর দিকে মুখ করে বসে নাম গাইয়েরা দিনে তিন প্রসঙ্গ নাম গান করতেন। বাবা পুজো করার সময়ই হাতে খোল করতাল নিয়ে নাম গান শুরু করতেন। অন্যান্য মানুষেরা কিছু দূরে দুসারি করে বসে সেই নাম গান গাইতেন। তখন অমল এক বিভূতি,এক মধুর ব্যঞ্জনা এবং এক সাত্ত্বিক বোধে বাড়ির প্রত্যেকের মন আপ্লুত হয়ে পড়ত।… আজ সুরভির মাঙ্গলিক এই অনুষ্ঠানে যতটুকু হল, এটাও কম নয়। তথাপি লক্ষ্মীনাথের মনে হল যেন সুরভির জন্য কিছু একটা করতে বাকি থেকে গেল।

পরের দিন সকালে উঠেই লক্ষ্মীনাথ প্রজ্ঞাকে জানাল,' পরি, আগামী রবিবার নাম প্রসঙ্গের একটি অনুষ্ঠান করব।'

' শংকরদেব উৎসব?'

' শংকরদেব উৎসব নয়। এটা সুরভির মঙ্গলের জন্য নাম- কীর্তন।'

' ঠিক আছে ,কর। তবে আমি তো নাম–কীর্তনের নীতি-নিয়ম কিছুই জানিনা।' প্রজ্ঞা বলল আমাকে শিখিয়ে-বুঝিয়ে দিও। সেই অনুসারে আমি আয়োজন করে দেব।'

' তোমাকে কিছু করতে হবে না।'

' কিছু করতে হবে না মানে? মেয়ের জন্য বাড়িতে একটা অনুষ্ঠান হবে। মেয়ের মা হয়ে আমি কিছু করব না, এটা কোনো কথা হল?'

প্রজ্ঞা এভাবে বলায় লক্ষ্মীনাথ খুশি হল। প্রজ্ঞার কোল থেকে সুরভিকে নিজের কোলে নিয়ে আদর করে চুমু খেয়ে তখনই নাম- প্রসঙ্গ অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা করে ফেলল।

সকালে শেক্সপিয়ারের 'টেমিং অফ দ্য শ্ৰিউ' শেষ করে সামনের দিকে কাছারিতে বসে জার্ডিন কোম্পানিকে দুটি চিঠি লিখল। গত সপ্তাহে কলকাতা ব্যাংকে ১০০০ টাকা জমা দেওয়া, জার্ডিন কোম্পানিকে পাঁচ হাজার টাকার চেক দেওয়া,রয় পেন্দ্রকে ২০০০ কপি লেটার পেপার ছাপানোর জন্য ৫০ টাকা দেওয়া, রাধানাথ বাগচীর কাছ থেকে সাতশ টাকার চেকটি বেঙ্গল ব্যাংকে জমা দেওয়া, গিরিশ বাবুকে ৫০০ টাকা দেওয়া ইত্যাদি হিসেবের খাতায় লিখল। তারপরে ট্রাই সাইকেলটা নিয়ে বের হল। কলেজ স্ট্রিট, প্রতাপ চ্যাটার্জি লেনের মেসগুলিতে গিয়ে অসমিয়া ছাত্রদের রবিবার দুপুর বেলা আয়োজন করতে চলা নাম প্রসঙ্গে ডাকল। সঙ্গে তাদের মধ্যে কে কে নাম গাইবে, কতজন ভকত হবে, কে খোল বরতাল বাজারে, কে গৃহস্থকে আশীর্বাদ করবে এসবই ঠিক করে এল।অ.ভা.উ.সা সভার সদস্যদের মধ্যে ১০ নম্বর পটলডাঙ্গায় গিয়ে উকিল ঘনশ্যামবরুয়া এবং রত্নাকান্ত বরকাকতিকে বলে এল। নিমন্ত্রণ শেষ করে বাড়ি ফেরার সময় নাম প্রসঙ্গের জন্য মাহ-চাল, কলা আপেল আঙ্গুর ইত্যাদি ফল এবং উপস্থিত ভক্তদের জলখাবার খাওয়ানোর জন্য যে যে জিনিসের প্রয়োজন সেগুলি কিনে আনল।

আসানসোল থেকে এসে নামপ্রসঙ্গ পাতার জন্য লক্ষ্মীনাথের উদ্যোগ দেখে ভোলানাথ খুশি হল না।

' শোনো বেজ, সেদিন অন্নপ্রাশন হল। এক সপ্তাহ পার না হতেই পুনরায় নামপ্রসঙ্গের আয়োজন করেছ।’

‘অন্নপ্রাশনের দিন মায়ের কথা মনে পড়ল। তার পর থেকেই মনটা অস্থির হয়ে পড়েছে,দাাদা।’ লক্ষ্মীনাথ বলল,নাম প্রসঙ্গ করলে হয়তো মনটা শান্ত হবে-।

‘ঘন ঘন এই ধরনের অনুষ্ঠান করা ব্যবসায়ের পক্ষে ক্ষতিকর।’বিরক্তি প্রকাশ করে ভোলানাথ বলল,কলকাতার বাইরেও বিহার,উড়িষ্যা,উত্তরপ্রদেশ,মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত আমাদের কোম্পানির নাম প্রচার হয়েছে।প্রত্যেক সপ্তাহে বাইরে গিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি,পৃ্থক পৃ্থক সংস্থা,রেলের ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে যে যোগাযোগ করছি তার জন্য সাপ্লাইয়ের পরিমাণ বেড়েছে। এখন একদিন বসে যাওয়া মানেই নতুন কিছু যোগাযোগ হারানো ।তার ফলে অনেক টাকা লোকসান হয়ে যাবে।এই সপ্তাহের শনিবার পর্যন্ত তোমাকে নিয়ে পুনরায় আসানসোল, আসানসোলে একদিন থেকে মোকাম, মোকামে এক বেলা থেকে সমস্তিপুর যাব বলে প্লেন করলাম। ফিরে আসতে তিন দিন লাগবে কিন্তু তুমি এদিকে পুনরায় রবিবার পর্যন্ত নাম প্রসঙ্গ আয়োজন করার জন্য সবাইকে ডেকে নিয়েছ!'

অবশ্য লক্ষ্মীনাথের ওপরে ভোলানাথের ক্রোধ-বিরক্তি প্রকাশ করার কারণ আছে। কলকাতার বাইরের রাজ্যে বি-ব্রাদারস কোম্পানির সম্প্রসারণ করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রচেষ্টার তুলনা হয় না। অবিবাহিত ভোলানাথের পারিবারিক দায়-দায়িত্ব নেই, উৎসব-পার্বণ জন্মদিন ইত্যাদি কিছু একটা হলে লক্ষ্মীনাথ যেভাবে প্রজ্ঞাকে নিয়ে জোড়াসাঁকো বিজিতলার রোড অথবা অন্য কোথাও যায়, সেসব ও ভোলানাথের নেই। অসমিয়া ভাষার সাহিত্যের সেবা করা ছাড়া টাউনহলে বিখ্যাত কোনো জননেতার জ্ঞানোন্মেষকারী বক্তৃতা শোনার জন্য বা স্টার-ন্যাসনাল- বেঙ্গল রঙ্গমঞ্চে মঞ্চস্থ হওয়া নতুন নাটক উপভোগ করার জন্য লক্ষ্মীনাথ যেভাবে আগ্রহ প্রকাশ করে, ভোলানাথ সেরকম আগ্রহ অনুভব করে না। ভোলানাথের একমাত্র চিন্তা হল ব্যবসার উন্নতি, ব্যবসার সম্প্রসারণ করে পুঁজি বৃদ্ধি। কিন্তু লক্ষ্মীনাথের মধ্যে ততটা দেখতে না পেয়ে ভোলানাথ হতাশ হয়, রাগ করে। লক্ষ্মীনাথের আরও একটি স্বভাব ভোলানাথ পছন্দ করে না। সেটা হল লক্ষ্মীনাথ আয় দেখে ব্যয় করতে শেখেনি। বিয়ে করে ঘর-সংসার পেতেছে, একটি মেয়ের পিতা হয়েছে‐ এখনও সে এই বিষয়ে সচেতন হল না। এই স্বভাবটি যে ভবিষ্যতে আর্থিক দিকে অসুবিধায় ফেলবে,এটা লক্ষ্মীনাথ বুঝতে চেষ্টা করে না।

'দাদা, কলকাতায় থেকে ব্যবসা করছি বলেই আমাদের ধর্ম-সংস্কৃতি কিছুই থাকবে না ?'লক্ষ্মীনাথ বলল,'এখানকার দুর্গোৎসব, মাঘোৎসব,বসন্ত উৎসব ইত্যাদি কত দেখব? এসব আমার হৃদয়-মনকে তৃপ্ত করে না।'

'বেজ, কলকাতা আমাদের ঘর নয়। আমরা এখানে ব্যবসা করছি। আমাদের উদ্দেশ্য হল, বি- ব্রাদার্স কোম্পানিকে এক নম্বর উড মার্চেন্টের ফার্মরূপে দাঁড় করানো। আমি তোমাকে আবার বলছি, ভাষা-সাহিত্য, ধর্ম-সংস্কৃতি, হৃদয়-মন চেতনা, বোধের জিনিস। এই হৃদয়-মন চেতনা-বোধ আমাদের এই পেটটির ওপরে থাকে । আহারের সাহায্যে পেটটাকে ঠান্ডা না রাখলে ভাষা- সাহিত্য ধর্ম- সংস্কৃতি হয় না ।'

ভোলানাথ কঠিন কন্ঠে বলল।

লক্ষ্মীনাথের রাগ হল। তা বলে প্রকাশ করল না। চাপা ক্ষোভের সুরে বলল,' ঠিক আছে,ট্যুর প্রোগ্রামটা দুদিনের জন্য পিছিয়ে দিন। রবিবার নাম প্রসঙ্গ করে সোমবার সকালে আসানসোলের ট্রেন ধরব।'

হতাশ ভোলানাথ ধীরে ধীরে একটি তপ্ত নিশ্বাস ছাড়ল।


আটপৌরে ৩৫৯|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 359, by Sudip Biswas

 আটপৌরে ৩৫৯|| সুদীপ বিশ্বাস-এর কবিতা, Atpoure 359, by Sudip Biswas




৩৫৯. আনন্দিনী


শারদীয়। সমারোহ। সানন্দা। 


স্মার্টফোন 


ছড়িয়েছে জীবনের আবাহনী স্তব।

শব্দব্রাউজ ৬১২ ।। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-612, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ৬১২ ।। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse-612, Nilanjan Kumar



শব্দব্রাউজ- ৬১২ ।। নীলাঞ্জন কুমার

প্রুডেন্ট প্রাণা । গড়িয়া । ১।১০।২২। দুপুর ১২টা ১০মিনিট ।


শব্দসূত্র: ক্ষম হে ক্ষম



ক্ষমার ভেতর দিয়ে

ছুটে আসে

প্রিয়তা।


হে নিঃশব্দ, আমায় নাও

প্রিয় শব্দ জড়ো হোক মনে

কোলাহল যেন ছুঁতে না পারে ।



ক্ষম হে ক্ষম

অজ্ঞানতা,

তাতে কি জ্ঞানী হতে পারব!


শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০২২

এক নদীর ইতিবৃত্ত ।। চিরঞ্জীব হালদার ।। কবিতা, Chiranjib Haldar

এক নদীর ইতিবৃত্ত

চিরঞ্জীব হালদার



দারিয়া ফো আর রেহানার মধ্যে এক

মনু নদীর সংমিশ্রন

মেয়েটাকে ঘিরে থাকে কয়েক গ্যালন বিষাক্ত দ্বাররক্ষী


সাইবেরিয়া থেকে আমাজন দারিয়া তার জন‌্য

একবস্ত্র নির্মাণ হেতু পদব্রজে

যা ভেদ করে পৃথিবীর কোন সুসভ্য ধর্ষক

রেহানার গুপ্ত রাজধানীকক্ষে প্রবেশের ছাড়পত্র পাবেনা


ব্রেজনেভ ও রাধাকৃষ্ণান আপনারা কি বলেন

তার রক্তবর্ণ মৃতরজ্জু  থেকে 

একদিন ঈশ্বর আবির্ভূত হবেন


রেহানার এক নদীর নাম


৩০-৯-২২

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...