বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

একজন বুড়ো মানুষ-১৭, নিরুপমা বরগোহাঞি, অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদঃ বাসুদেব দাস,

  একজন বুড়ো মানুষ-১৭,

নিরুপমা বরগোহাঞি,

অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদঃ বাসুদেব দাস,


(১৭)

সঞ্জয় আর কিছু বলল না, চোখ দুটো বুজে  মনে মনে পড়ে রইল.। আর সে দিকে তাকিয়ে বিজয় ভরালীর বুকটা একটা অব্যক্ত বেদনায় মোচড় দিয়ে উঠল। সঞ্জয়ের এত কম অসুখ-বিসুখ হয় যে তাকে এভাবে বিছানায় পড়ে থাকতে দেখা দৃশ্যের কথা মনেই পড়ে না। সেইজন্য যেন এখন তাকে একটা বড় অসহায় শিশু বলে মনে হতে লাগল। তাঁর বড় ইচ্ছে হল যেন তিনি উঠে গিয়ে সঞ্জয়ের কপালে একটু হাত বুলিয়ে দেয়,, কিন্তু ইচ্ছে হলেও তিনি চেয়ার থেকে নাড়াচাড়া করতে পারলেন না, সামনে বইটা মেলে নিয়ে সেখানে তিনি পাথরের মূর্তির মত বসে রইলেন আর তারপরে তার মনের চোখের সামনে এসে দাঁড়ালো একটি নারীমূর্তি। ইলা। কিন্তু আজ সেই মুখ হাসি ভরা নয়, উদ্বেগে কাতর। পোনার যখন ছয় সাত  বছর বয়স তখন তার বোধহয় একবার এভাবে সর্দি জ্বর হয়েছিল। বিজয় ভরালীর মনে পড়ে গেল। তিনি এখন  দেখা এই উদ্বিগ্নতায় ভরা মুখ নিয়ে ইলা পোনার বিছানার কাছে বসে ছিল। বিছানা কিন্তু তখন এত ধবধবে পরিস্কার ছিল না। এমনকি পোনাকে দেখার জন্য তখন কোনো ডাক্তার ও আসেনি। ইলা দিন-রাত তার কাছে বসে বসে গরম তেলে রসুন ভিজিয়ে সেই তেল তার বুকে পিঠে মালিশ করে দিয়েছিল ।বিকেলবেলা গরম জলে পা ধুইয়ে সেই গরম তেল দিয়ে সেক দিয়েছিল। মাথা টিপে, হাত পা টিপে, তার কাছে বসে ছিল ইলা। বিজয় ভরালীরও বার দুয়েক সর্দি জ্বর হওয়ার সময় এই একই পরিচর্যায় ইলা তাকে সুস্থ করে তুলেছিল। কিন্তু এখন সেই পরিচর্যার বদলে ডাক্তার এবং প্রেসক্রিপশনে লেখা নানা ওষুধপত্র এসেছে। মাথাটা টিপে দিলে পোনা কিছুটা আরাম পেত নাকি? কিন্তু বিজয় ভরালী নড়াচড়া করতে পারলেন না। চেয়ারে স্তব্ধ হয়ে বসে রইলেন। বিজয় ভরালীর তন্ময়তা ভাঙলো পুনরায় ছেলের কণ্ঠস্বরে -'তুমি ভাত খাও গিয়ে বাবা-'
' ভাত?ও হ‍্যাঁ, এগারোটা বাজে দেখছি, পোনার টেম্পারেচারটা নেওয়ার সময়ও হয়ে গেছে এখন,  ওর খাবার ব্যবস্থাও করতে হবে-।' বিজয় ভরালী তৎপর হয়ে উঠলেন।
সঞ্জয় কিন্তু প্রায় কিছুই খেতে পারছিল না - না কি খাচ্ছিল না? ভাতের পাতে বসে হাত দিয়ে ভাতগুলি নাড়াচাড়া করতে করতে বিজয় ভরালী ভাবলেন কমলার উপরে অভিমান করেই কিছু খেল না নাকি পোনা? কিন্তু অভিমান কথাটাও আজকের যুগের আধুনিকা মেয়ের ক্ষেত্রে খাটে না নাকি- স্বাধীন দেশের স্বাধীন মেয়ে কমলা। এখনও সে চার দেওয়ালের মধ্যে আবদ্ধ থেকে স্বামীর সেবা শুশ্রূষা করে ঘরোয়া জঞ্জাল শেষ করে, ছেলে মেয়ে লালন পালন করে, জীবনটাকে শেষ করে দিতে পারে কি? কখন ও পারে না। তাছাড়া বিজয় ভরালী পুরোনো যুগের মানুষ হলেও সেটা নিশ্চয় চান না।  মেয়েরা চিরদিন বাড়ির চার সীমানার মধ্যে বন্দী হয়ে থাকুক সেটাকে তিনি কখনও  মেনে নিতে পারেন না। আগের দিনে সত্যিই অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের অনেক অত্যাচারে জর্জরিত হতে হত। বউ হিসেবে শাশুড়ি ননদিনীর অত্যাচার, স্ত্রী হিসেবে স্বামীর অত্যাচার বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে কোনো ধরনের সম্বন্ধ না থাকা কোনো বিষয়েই  নিজের মতামত বলতে না থাকা সত্যিই বড় দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হত সেই সময়ের নারীদের। এখন যে তারা মুক্তি পেয়েছে সেটা বড় ভালো কথা। এতে বিজয় ভরালী খুবই সন্তুষ্ট। তাদের সময়ে পথে-ঘাটে মেয়েদের খুব কমই দেখা যেত, যুবতী মেয়েদের তো আর ও কম কম দেখা যেত। অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যেই এই দ্রুত পরিবর্তন সাধিত হল। এখন যেন ঝাঁকে ঝাঁকে মেয়েরা, যুবতীরা, আধবয়সী মহিলারা, রাস্তায় বেরিয়ে এসেছে এখন যুবতী মেয়েদের যেমন সপ্রতিভ পোশাক, সপ্রতিভ চলাফেরা পৃথিবীর কাউকে পরোয়া না করা ভাব নিয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে দেখে  বিজয় ভরালীর বুড়ো চোখ বিষ্ময়ে বিস্ফারিত হয়ে যায়। সত্যিই এই দ্রুত নারী জাগরণ বড় শুভ লক্ষ্মণ-কিন্তু-কিন্তু-বিজয় ভরালীর পুরোনো দিনের কুসংস্কারাচ্ছনন্ন মনটা যেন একটু কুঁচকে যায় -প্রকৃত স্বাধীনতা বড় ভালো জিনিস, তা মনের মুক্তি আনে,মনের প্রসারতা বৃদ্ধি করে-কিন্তু স্বাধীনতার নামে তার অপব‍্যবহার?  এই যে মেয়েরা এতটা স্বাধীন হয়েছে- তা মেয়েদের মনকে মুক্ত প্রগতিশীল করে তুলেছে কি? আধুনিক অসমিয়া পত্রপত্রিকায় পড়া কিছু বীভৎস গল্প-উপন্যাসের কথা বিজয় ভরালীর মনে পড়ে যায়। কেবল বই পড়ে জীবন কাটানো মানুষ বিজয় ভরালী, তাই সমস্ত ধরনের লেখা তিনি পড়েন। আর এখনকার পত্রপত্রিকায় কি লিখেছে তা জানার জন্য তিনি অসমীয়া পত্র পত্রিকা পড়েন এবং সেই সব পড়ে তিনি অনেক আধুনিক লেখকের পাণ্ডিত্য  এবং সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ শক্তির  প্রতি সশ্রদ্ধ প্রশংসার ভাবও পোষণ করেন কিন্তু তার মধ্যেও এরকম কিছু গল্প উপন্যাস পড়েছেন যা পড়ে তিনি মাঝেমধ্যে বিমূঢ় হয়ে পড়েছেন । বিজয় ভরালী তখন  ভেবেছেন -' অসমীয়া যুবতীরা স্বাধীন হয়ে এই মুক্তির জীবন কাটাচ্ছে নাকি? অন্তত রাস্তায় দেখা  যুবক-যুবতীর কিছু অংশ নিশ্চয়  এই জীবনকে বেছে নিয়েছে। সেসব পড়ে তখন তার মনে পড়ে যায় রাসেলের একটা কথা -'two things ,viz . Motor-cars and contraceptives have revolutionized the modern civilization…'
একটুখানি খাওয়া ভাতের থালায় এক গ্লাস জল ঢেলে দিয়ে চেয়ারটা একটু জোরেই টেনে বিজয় ভরালী খাবার টেবিল থেকে উঠে এলেন। তারপরে গামছায় হাতদুটি মুছতে মুছতে মনটাকে খুব কঠোর করার চেষ্টা করে নিজের মনে বিড়বিড় করলেন-’আজ কমলা স্কুল থেকে এলে ওকে কয়েকদিন ছুটি নিতে বলব। স্বামীর অসুখের সময় কোনো মহিলা এভাবে স্বামীকে ফেলে রেখে যাওয়া উচিত নয় ।
কিন্তু সেই ভাবা কথা তার মনের মধ্যেই থেকে গেল।বিকেলে কমলা স্কুল থেকে এসে তাকে সঞ্জয়ের জ্বরের কথা জিজ্ঞেস করল, কী খেয়েছে,না  খেয়েছে জিজ্ঞেস করল, আর তারপরে যখন কমলা সঞ্জয়ের কাছে গিয়ে তার কপালে হাত দিয়ে জ্বরের উত্তাপ পরীক্ষা করল,বিজয় ভরালী  ধীরে ধীরে ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। কমলাকে বলার কথাটা তার মনের মধ্যেই অকথিত থেকে গেল। 
তিন চারদিন ধরে জ্বরে ভুগে  সঞ্জয় তারপর একদিন ভালো হয়ে উঠল।...পৃথিবীতে সব কিছুর শেষ আছে। একদিন বিজয় ভরালীরও জীবনের শেষ সময় এসে উপস্থিত হল।

আটপৌরে কবিতা ৩৪৬-৩৪৮ || অলোক বিশ্বাস || "i-যুগ"-এর কবিতা

 আটপৌরে কবিতা ৩৪৬-৩৪৮|| অলোক বিশ্বাস || "i-যুগ"-এর কবিতা


আটপৌরে কবিতা : অলোক বিশ্বাস
------------------------
৩৪৬.
উত্তেজনা+উত্তেজক+উত্তেজিত+
বাক্যবন্ধে+
ভেন্নতা+ভাব+ভৌগলিকতা+অশেষ
৩৪৭.
রাইফেল+বিপরীতধর্মিতা+ভাঙচুর+
সংকল্পে+
ভাষা+ক্যানভাস+জাতিক+আন্তর্জাতি
৩৪৮.
উৎসমূল+বহির্দেশ+পূর্ণস্বরে+
দূরের+
জনগণ+দৃষ্টিকোণ+স্নিগ্ধ+স্বমূর্তিতে

চ্যাটমোড লিখনশৈলীতে লেখা কবিতা-৮৩ || সৌমিত্র রায় || "i-যুগ"-এর কবিতা

 চ্যাটমোড লিখনশৈলীতে লেখা কবিতা-৮৩

সৌমিত্র রায় 

"i-যুগ"-এর কবিতা

কাঁটাগড় (কাদড়া-উত্তরবিল); ২৫-০২-২০২১; দুপুর ১২:৪০; ড্রয়ারের ভেতর ৷ ভীষণ অসহিষ্ণুতা দেখাচ্ছে ৷ সেই ড্রয়ারের চাবিকাঠি ৷৷ সেই অসহিষ্ণুতায় ৷ জড়ানো অন্ধকার ৷ বুঝে উঠতে পারছে না ৷ টেবিলে পড়া রোদের তীব্রতা ৷৷ এভাবেই চলছে ৷৷ সহিষ্ণু মানুষ ৷ লাইনে দাঁড়িয়ে ৷৷ আসছে ৷ কথা বলছে ৷৷ শূন্যের হাওয়াস্রোতে ৷ এর সব ৷ জানালায় বেঁধেছে সম্পর্ক ৷৷ সবাই দেখতে জানে না ৷ সবাই বলতে জানে না ৷ যারা জানে ৷ যারা বুঝতে পারছে ৷ তাদের একজন ড্রয়ার খুলে চাবিকাঠি বের করলো ৷৷ চাবি পড়লো ড্রয়ারে ৷৷ কে যেন খুঁজছিল ? আসলে সে-ই কি অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছিল ? প্রশ্ন করছে দেওয়াল ৷ সব মিলিয়ে গেল ৷ একটা ঝনঝন শব্দে ৷ আহা নিয়ম ৷৷ || আনন্দ ||

বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

নস্টালজিয়া ৩৭ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় ||

 নস্টালজিয়া ৩৭

পৃথা চট্টোপাধ্যায়


নস্টালজিয়া ৩৭
পৃথা চট্টোপাধ্যায়

খুব ছোটবেলার কথা লিখতে কেন যে এত ভালো লাগে জানি না। টুকটুক করে মনে পড়ে যায় কত কিছু। আমাদের শৈশব ঘিরে বাবা-মায়ের স্নেহ ও সান্নিধ্য খুব বেশি ছিল বলেই হয়তো আমাদের মন  এত কোমল ভাবে গড়ে উঠেছিল। আজকের অধিকাংশ শিশু নানা কারণে বাবা মায়ের মিলিত স্নেহ ভালবাসা থেকে অনেক ক্ষেত্রেই বঞ্চিত হয় দেখে আমার খুব কষ্ট হয়। সন্তানকে একটু সময় দিতে হবে এটা অভিভাবকদের মনে রাখা খুব দরকার। আগে যৌথ পরিবার ছিল বলে মা বাবা না পারলেও ছোটদের সঙ্গীর অভাব হত না। দাদু ঠাকুমা এদের কাছে অনেক আদর, প্রশ্রয় ও সুশিক্ষা পেত ছোটরা।
আমার মা ছিল ঘোরতর সংসারী। সংসারের কাজকর্ম, পূজার্চনা, আমাদের পড়াশোনার প্রতি সজাগ দৃষ্টি ছিল তার। বাবার অবশ্য আড্ডার অভ্যাস ছিল। অফিসের পরে অথবা ছুটির দিনে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতো। এ নিয়ে অনেক সময়ই বাবা মায়ের মধ্যে মতান্তর হতো। আমার ছোটবেলায় দেখেছি বাবার তাস খেলার নেশা ছিল। পরে অবশ্য বাবা আর তাস খেলত না।
একদিনের কথা আমার বেশ মনে পড়ে। সেদিন রাতে খুব লোডশেডিং। চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার।ঝড় বৃষ্টি হচ্ছিল। সেই দুর্যোগের রাতে মা আমাদের দুই বোনকে নিয়ে একা বাবার জন্য অপেক্ষা করছিল। আমার ভাই তখনো হয় নি।সেইসময় টিভি বা টেলিফোন ছিল না আমাদের মত অধিকাংশ বাড়িতে। মোবাইল তো দেশেই আসে নি। মা ঝড়ের তান্ডবে দুর্গানাম জপ করছিল। ঠাকুর দেবতার উপর মায়ের ছিল অগাধ বিশ্বাস। কত রাত মনে নেই তবে ঝড় একটু কমলে বাবা ফিরতেই মা খুব রাগারাগি করতে লাগল বাবা এই দুর্যোগের রাতে এত দেরিতে আড্ডা দিয়ে ফেরার জন্য। বাবা বেশ রসিক প্রকৃতির মানুষ ছিল। আর মা গম্ভীর রাগী স্বভাবের। বাবা হঠাৎ একটু কেমন জড়িয়ে কথা বলতে লাগল মায়ের সঙ্গে। মা সন্দিগ্ধ ভাবে বাবাকে দেখতে লাগল। বাবা একটা বড় কাচের বোতল বের করে ঢকঢক করে সামান্য কিছুটা খেয়ে মাকে সেটা রেখে দিতে বললো। আমরা জীবনে বাবাকে মদ্যপান করতে দেখি নি। অথচ সেই রাত্রে মা অন্ধকারে সেটা কীসের বোতল না দেখে ভয়ঙ্কর রেগে বোতলের পানিয়টুকু ঢেলে ফেলেছিল উঠোনে। বাবা তখন বুঝতে পারে নি। আমরাও ঘুমিয়ে পড়েছিলাম তারপরে। পরদিন সকালে দেখি উঠোনে সেই পানীয় পদার্থের চারপাশে থিকথিক করছে নানা রঙের পিঁপড়ে। মা যাকে কোনো নেশার দ্রব্য ভেবেছিল সেটা আসলে ছিল অরেঞ্জ স্কোয়াস। সকালে নিজের নির্বুদ্ধিতার কারনে মায়ের মুখ ছিল থমথমে আর বাবা মুচকি হাসছিল। আমি অরেঞ্জ স্কোয়াস নষ্ট হওয়ায় খুব দুঃখ পেয়েছিলাম। আমাদের বাড়িতে তখন খুব কমই এসব ফলের রস আনা হোতো।আমরা ফলমূল খেতেই অভ্যস্ত ছিলাম। মা বাবাকে শুধু বলেছিল , ঐ দুর্যোগের রাতে এরকম ন্যাকামি না করলে দামি ফলের রসটা এভাবে নষ্ট হতো না। 

চ্যাটমোড লিখনশৈলীতে লেখা কবিতা-৮২ || সৌমিত্র রায় || "i-যুগ"-এর কবিতা

 চ্যাটমোড লিখনশৈলীতে লেখা কবিতা-৮২

সৌমিত্র রায় 

"i-যুগ"-এর কবিতা

চলন্ত গাড়ি; ২৪-০২-২০২১; সন্ধ্যা ৬:৫১; তাঁবু ৷ শ্রমিকদের ৷ ক্লান্ত ৷ তবুও আনন্দের প্রকাশে ৷ রাস্তার ধারে ৷৷ ভোট আসছে ৷ ব্যস্ত সবাই ৷৷ শ্রমিকরাও ৷৷ উনানের আঁচে ৷ কোনো ব্যর্থ স্মৃতি ৷ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখছে না ৷৷ পথ ৷ পথের শ্রমিক ৷ তাঁবু ৷ সবাই মেতে আছে ৷ ভোটের উৎসবে ৷ || আনন্দ ||

শব্দব্রাউজ ১০৮ || নীলাঞ্জন কুমার | | "i-যুগ"-এর কবিতা

 শব্দব্রাউজ ১০৮ || নীলাঞ্জন কুমার 

                        | "i-যুগ"-এর কবিতা


শব্দব্রাউজ ১০৮ । নীলাঞ্জন কুমার


তেঘরিয়া মেন রোড । বিপাশা আবাসন । সকাল ৮টা ৪০মিনিট ২৪ । ২। ২০২১। আনন্দের যে প্রকৃত মানে তাকে খুঁজে ফেরা এখন জীবনের প্রধান লক্ষ্য ।আনন্দ এলে শান্তি , শান্তি এলে আনন্দ এই দুই রূপ প্রত্যক্ষ করি ।



শব্দসূত্র : সারাক্ষণ আনন্দ যাপন


সারাক্ষণ নিজেকে ধিক্কার দিয়ে মনকে আনন্দে ফেরাই । মন বড় বিক্ষিপ্ত তাই তাকে তো শাসন করতেই হয়!  রাখি কাজে । নিজেকে খুইয়ে ফেলতে কে চায়!  সারাক্ষণ নিজেকে সঁপি অদেখা প্রোজ্জ্বল জীবনের কাছে । যাকে দেখার আকাঙ্ক্ষা পেয়ে বসেছে ।
 


আনন্দই বাঁচাতে পারে । দুঃখকে তুড়ি মেরে নাচিয়ে বেশ আছি । ভালো আছি সমস্ত ছলনা ভুলে থাকতে । আমি কোনওদিন দোসর করবোনা ভুলে ভরা জীবন ।


যাপন যেমনই হোক ভাল হোক  জীবন্ত হোক এই চাই । মেঘের ঘর সাজাই । সময় কাটে । এভাবেতো  আরেক যাপন ঘটে যায় ।






আটপৌরে কবিতা ৩৪৩-৩৪৫ || অলোক বিশ্বাস || "i-যুগ"-এর কবিতা

 আটপৌরে কবিতা ৩৪৩-৩৪৫|| অলোক বিশ্বাস || "i-যুগ"-এর কবিতা


আটপৌরে কবিতা : অলোক বিশ্বাস
-------------------------
৩৪৩.
বহুতল+ভাষায়+নিম্নতল+
ভাষায়+
আলোময়+দিব্যধাম+পর্যটনে+আজান
৩৪৪.
ভাষাপ্রতিমা+আত্মনির্ভর+প্রবহমান+
ধ্যানে+
ধারণায়+অতীতে+বর্তমানে+পুনরাবৃত্ত
৩৪৫.
চিহ্ন+একমাত্রিক+বহুমাত্রিক+
চিৎমাত্রিকতা+
চিহ্ন+চিত্তে+দৃশ্যময়+গতিসঞ্চারী

মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

কিছু বই কিছু কথা-২৯৩ || বাড়ি ফেরার পথ : রাজদীপ ভট্টাচার্য || আলোচক- অলোক বিশ্বাস

 কিছু বই কিছু কথা-২৯৩  || বাড়ি ফেরার পথ : রাজদীপ ভট্টাচার্য || আলোচক- অলোক বিশ্বাস



বাড়ি ফেরার পথ : রাজীব ভট্টাচার্য
আলোচক : অলোক বিশ্বাস

আমরা যারা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য সিলেবাসে দীর্ঘদিন পরিক্রমা করতে করতে আর কিছু সনাতনী বাঙালিয়ানার ঐতিহ্যপূর্ণ সাহিত্য পত্রিকা পাঠ কোরে বাংলা কবিতা বা পদ্যর একটা পাকাপাকি চেহারা তৈরি কোরে ফেলেছি কবিতা পাঠের বা আবৃত্তির আসরে শুনতে চেয়েছি মাত্র ওই সিলেবাসভুক্ত কবিতাবলীকেই, তারা এক অন্যতর অভিজ্ঞতা বা সমস্যার মুখোমুখি হবো রাজদীপ ভট্টাচার্য সৃজনিত ১৬ পৃষ্ঠার কাব্য পুস্তিকাটি নিরীক্ষণ কোরে। প্রেমের কবিতাকে যে কতো ভয়ংকর সুন্দর করা যায়, দেখে চমকে উঠলাম আমি। গোটা কবিতাটিকে আগে তুলে নিই। কবিতাটির আলাদা শিরোনাম নেই। 'বাড়ি ফেরার পথ' গ্রন্থভুক্ত ২২ সংখ্যক কবিতা--- "ভরা পূর্ণিমায় ছাদে যেতে নেই। যখন বুঝলাম তাকিয়ে দেখি আকাশে পতাকার মতো চাঁদ। তার সামনে আঙ্গুল নাড়ছে নারকেল গাছের পাতা। তখন তোমার দিকে ফিরে তাকাতেই সে এক ম্যাজিক--- সারা গায়ে হলদে-কালো ডোরাকাটা দাগ, তুমিও অবাক হয়ে দেখলে আমাকে। বাঘ ও বাঘিনীর কদাচিৎ দেখা হয় আজকাল, আর দেখা হলে আকাশে হলুদ চাঁদ ওঠে।" কবি রাজদীপ ভট্টাচার্য ২০১০ সময়কাল থেকে লেখায় পর্যটনে নেমেছেন বলে তাঁকে আমি প্রথম দশকের কবি হিসেবে চিহ্নিত করছি। এবার কবিতাটির দিকে দৃষ্টি দিয়ে আমরা একটা শব্দে ফোকাস করি, শব্দটি হলো 'ম্যাজিক'। কবিতায় যে ম্যাজিকালিটি আছে সেটা ওই শব্দেই স্পষ্ট। আর শব্দটা প্রয়োগ না করলেও জাদুবাস্তবতা কি আমাদের অধরা থেকে যেতো ? কবিতায় ব্যবহৃত ভরা পূর্ণিমার রঙ কেমন সকলের জানা। সেই চাঁদকে কবি 'পতাকার মতো চাঁদ' বলেছেন। এই অবধি ঠিক ছিল প্রবহমান কবিতার বিচারে। কিন্তু, তারপর থেকেই বিশাল শিফ্ট ঘটলো কবিতায়। পাঠকের মগ্নচেতনা যেন ঝাঁকানি খেলো যখন কবিতার প্রেমিক হঠাৎ প্রেমিকার শরীরে হলুদ-কালো ডোরাকাটা দাগ দেখতে পেলো। আর পরিণামে প্রেমিকাও প্রেমিকের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে তাকিয়ে রইলো। অবশেষে কবি নিত্য বর্তমান ক্রিয়ার কাল ব্যবহারে বলেছেন--- "বাঘ ও বাঘিনীর কদাচিৎ দেখা হয় আজকাল, আর দেখা হলে আকাশে হলুদ চাঁদ ওঠে।" প্রেমিকা প্রেমিকের শরীরে হলুদ-কালো ডোরাকাটা দাগ দেখেছিলো কিনা, সেটা কবি লেখেননি। কবি লিখেছেন শুধু প্রেমিকা প্রেমিককে দেখে অবাক হয়েছিল। অবাক হওয়ারটা অবশ্যই প্রেমিকের অবাক হবার  সমপরিমাণ ছিলো। সেটার ইঙ্গিত আছে কবিতায়। এরপর কবি আর কোনো রাখঢাক রাখেননি। সরাসরি বলেছেন--- 'বাঘ বাঘিনীর কদাচিৎ দেখা হয় আজকাল, আর দেখা হলে আকাশে হলুদ চাঁদ ওঠে।' পূর্ণিমার ভরা আলোয় ছাদে ওঠার রোমান্টিকতা এবং এর সঙ্গে নারকেল গাছের আঙ্গুল সেই রোমান্টিকতাকে আরো প্রসারিত করেছে। আগেই বলে নিই, নারকেল গাছের নড়াকে কবি 'আঙ্গুল নাড়া' মনে করেছেন। এখানে যেমন নারকোল গাছকে পারসনিফায়েড করা হয়েছে তেমনি আদরের হাত বোলানোর প্রসঙ্গটি প্রচ্ছন্ন থাকেনি। আরো দুটি অবস্থা সৃষ্টি হলো। ১. প্রেমিক প্রেমিকাকে কবি বাঘ -বাঘিনীতে রূপান্তরিত করলেন। ২. পূর্ণিমার চাঁদের রঙকে হলুদ করা হলো। পুরো ব্যাপারটিকে কবি ম্যাজিকাল রিয়েলিটির আধারে নির্মাণ করলেন। অবশ্য এর সঙ্গে একটি কঠিন বাস্তবতার সম্পর্ক আছে। সেই সম্পর্ককে টানলে ম্যাজিকাল রিয়ালিটিকে আপাতভাবে সরিয়ে রাখতে হয়। ব্যাপারটিতে জড়িয়ে আছে তীব্র মনস্তাত্ত্বিক প্রসঙ্গ। কবিতার প্রথমে নবাচক বাক্য ব্যবহার কোরে সেই মনস্তাত্ত্বিক প্রসঙ্গকে জোরালো করেছেন কবি। পূর্ণিমায় ছাদে যেতে না চাওয়ার পিছনে কি জীবনের সংকটজনক কোনো ঘটনা বা সম্পর্কের বিচ্ছিন্নতার আভাস আছে?। আছে কি দাম্পত্য কলহের কোনো পূর্ব সূত্র ? প্রেমিক প্রেমিকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ? তবু, উল্লিখিত চরিত্র দুটি ছাদে গেলো এবং পরস্পরের শরীরে দেখতে পেলো হলদে-কালো ডোরাকাটা দাগ যা হিংস্রতার প্রতীক। কবি যদিও স্পষ্ট করেছেন সেভাবেই উল্লেখ কোরে। দুজনকে চিহ্নিত করেছেন বাঘ-বাঘিনী রূপে। এই উল্লেখের মধ্যে হয়তো কোনো প্রাণীকুলের স্বভাবজাত মিলনের অবস্থাকে পাঠক নিতে পারতো। কিন্তু পূর্ণিমার চাঁদকে যখন কবি তাদের চোখ দিয়ে হলুদ কোরে দেখাচ্ছেন, তখন মানুষের আবহমান মানসিক সংকট চিত্রিত হচ্ছে এধরণের মেটাফোরের মাধ্যমে। যাইহোক, জাদু বাস্তবতা এবং সম্পর্কের সংকট উভয়ই ফোকাসড হলো ২২ সংখ্যক কবিতায়।
#
'বাড়ি ফেরার পথ' বইটিতে মন খারাপের প্রসঙ্গ এসেছে অনেকবার। ৯ সংখ্য  কবিতায় কবি সহজ স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন--- "মন খারাপ পেরোতে পেরোতে যাওয়া। যাকে ছুঁই, যেখানে ছুঁই শুধু বিষণ্ণতা। ঘুম ভেঙে উঠে তাঁবুর ছাদ থেকে, ভোরের দরজা থেকে বরফ সরাই।" কবি লক্ষ্য করেছেন, পাখিদের বিস্কুট ভেঙে ভেঙে দিলেও তারা বেশিক্ষণ থাকে না। হয়তো তারা মানুষের সঙ্গ সন্দেহ করে। হয়তো পাখিদের মানুষের মতো বিষণ্ণতায় ভোগার কোনো ব্যাপার নেই। তাই তারা মানুষের কাছে থাকার প্রয়োজনীয়তা ততোটা ভাবে না। তারা সহজে উড়ে যায়। কবি পারে না, মানুষ পারে না এতো সহজে উড়ে অন্য কোথাও চলে যেতে। সারাজীবন মানুষকে বরফ সরিয়ে যেতে হয়। এই বরফের আর এক নাম বিষণ্ণতা। এই বিষণ্ণতা থেকেই কবি ১০ সংখ্যক কবিতায় লিখছেন "এই পৃথিবীকে বেশি প্রশ্রয় দিও না।...এই পৃথিবীকে বেশি আদর দিও না আর, ছেড়ে যেতে বড় কষ্ট হবে!" মধ্যবিত্ত মানুষের মন কোনো কিছুতেই শান্তি পায় না। সকল প্রকার দুঃখ, দুঃস্বপ্ন, শোকবার্তা, একা একা কান্না, নালিশ, অভিমান ইত্যাদি মানসিক অবস্থার মধ্যে তার সর্বদা যাতায়াত। এর থেকে তার মুক্তি নেই। এর কোনো চিরকালীন সমাধান নাগরিক মধ্যবিত্তের জানা নেই। মাঝে মাঝে জীবনের মতো তার বাঁচতে ইচ্ছা করে। কবি 'মাঝে মাঝে' শব্দ ব্যবহার করেছেন বাঁচার ইচ্ছা প্রকাশে। এর অর্থ হলো সবসময় মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনের মতো বাঁচার উপায় সম্ভবনাহীন। কবি সেই ঘুম না আসা স্বপ্ন আর দুঃস্বপ্ন মেশানো মধ্যবিত্তের একজন। একটি দুর্ঘটনা দেখে মধ্যবিত্ত মানুষের অবস্থান কেমন হয়, সেটা স্পষ্ট হয়েছে কিছু পংক্তিতে ১২ সংখ্যক কবিতায়--- "ট্রেনে কাটা লাশ দেখলে আমি অদ্ভুত ভয় পাই। প্রথমে কয়েক পা পিছিয়ে আসি। তারপর ঘুরপথে আড়চোখে উৎসাহী ভিড়কে দূরে ঠেলে পার হই। অথচ, আমার স্বপ্নে ফিরে ফিরে আসে দ্বিখণ্ডিত দেহ। আমি তাকাতে চাই না। তবু মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে কারা আমাকে দেখায়। আমি স্তম্ভিত চোখে দেখি শুয়ে আছি পাথর শয্যায়..."
#
মাত্র এক ফর্মার বই। ২৭ টি কবিতা। টানা গদ্য ফর্মে লেখা। সমস্ত কবিতায় টানটান নাগরিক ভাষা। পদ্যের কোনো মেদ নেই। নেই অলঙ্কার উৎপ্রেক্ষা তথা বাকপ্রতিমা নির্মাণের প্রবণতা। নেই ছন্দের দোলাদুলি। সাদামাটা গদ্যে আন্তরিক সহজ উচ্চারণ।।কোনো কৃত্রিমতা নেই। কোনো ভাষাবিপ্লব বা ভাষাজটিল খেলা নেই। নেই কোনো সামাজিক আন্দোলনের বা সমাজবাস্তবতা মূলক আবেগের প্যানপ্যানানি। কবি বাড়ি ফেরার পথের কথা বললেও, সেটা যে কতো কঠিন, কতো রহস্যময়, সেটা যে কতো খোঁজাখুঁজির ব্যাপার, এই পোয়েটিক ডিক্সন আয়ত্ত করেছেন কবিতার জীবনে। মনখারাপের কথা যদিও কবিতায় সারাক্ষণ মেঘের মতো বিরাজ করে না, এও সত্য। শিশুর মনখারাপের যে তাৎক্ষণিকতা আমরা লক্ষ্য করি, রাজদীপ ভট্টাচার্যর কবিতায়ও মনখারাপের স্থান সেভাবেই তাৎক্ষণিক। তা নাহলে কেন তিনি লিখবেন--- "প্রত্যেকের বুকের ভিতর কিছু গোপন সুড়ঙ্গ থাকে। মায়াবী ঢাকনা খুললেই কোথাও মা দুপুরের শেষে বসে সাবান কাচছে। ঘষে ঘষে পাজামার পায়া থেকে শুষে নিচ্ছে সাইকেলের কালি...আর আমি এইসব সুড়ঙ্গের মুখ চুপি চুপি ঢাকা দিয়ে রাখছি আড়ালে।" ভালো লাগলো যে কবিতার বইটি কাব্য বিষয়ক কোনো সংস্কার ছাড়াই লেখা হয়েছে। ভাষাকে তিনি সাম্প্রতিকতায় সংশ্লিষ্ট করেছেন। আপডেটেড ভাষায় লিখেছেন প্রতিটি কবিতা। আর মুহূর্তের অবস্থা ও ইভেন্টের বিবৃতিকে কবিতার নিজস্ব জাদুকাঠির ছোঁয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছেন যেমন নিজের মনের বিচারের কাছে, তেমনি পাঠকের প্রত্যাশাকে নিশ্চিত হৃদয়ের কোথায় গুরুত্ব সহকারে বিচার্য কোরে রেখেছেন। তিনি অকৃত্রিম ভাবে ১৭ সংখ্যক কবিতায় জানিয়েছেন--- "আমার কবিতাই আমার জীবন।"


একজন বুড়ো মানুষ-১৭, নিরুপমা বরগোহাঞি, অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদঃ বাসুদেব দাস,

   একজন বুড়ো মানুষ-১৭, নিরুপমা বরগোহাঞি , অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদঃ বাসুদেব দাস, (১৭) সঞ্জয় আর কিছু বলল না, চোখ দুটো বুজে  মনে মনে পড়ে রই...