Thursday, September 20, 2018

দুঃখ কবির বন্ধু । গোপেশ দে । বাংলা - ৬২৪ । ২০-০৯-২০১৮

দুঃখ কবির বন্ধু
গোপেশ দে

দুঃখ কবির বন্ধু
কেননা দুঃখকে আশ্রয় করেই কবির
বেড়ে ওঠা
কবি দুঃখ না পেলে লিখবে টা কি
শুনি ?
পৃথিবীর গাছে গাছে কত ফুল ফোটে
সাগর মহাসাগরের নীল ফেনা কতটা
সুতিব্র
হয়
সপ্তাশ্চর্য ক্রমে ক্রমে তৈরি হওয়ার
পর ও
কত আশ্চর্য থেকে যায়
কবির বুকে সাতটা মহাসাগরের গর্জন
সর্বদাই ওঠা নামা করে
কত ফুল ফোটে আর লিখে রাখে মলিন
খাতার
পান্ডুলিপি
তার বলার অবকাশ রাখেনা
কবির বিষন্ন চেহারা খুঁজে মরে
সভ্যতার পূঁজ
পৃথিবীর পিরামিডগুলোর ভিতরে
গোলাপ
তারাই ফোটাতে জানে
হলুদ পিচুটি মাখা পথের
শিশুটি সবাইকে ফাঁকি দিলেও
কবিকে দিতে পারেনা
তার অন্তঃচক্ষু গিলে ফেলে হলুদ
পিচুটি
আর সোনার হরফে লেখা থাকে
কবিতা
হ্যালুশিনেশন কি কবির বড় বন্ধু ?
সিজোফ্রেনিয়া ?
কিংবা তিনি কি এস্কেপিস্ট ?
পেসিমিস্ট ?
ওপটিমিস্ট ?
দুঃখই কবির বড় বন্ধু
#

Wednesday, September 19, 2018

পোস্টমডার্ন ও কাব্যযোগ-২ । মুরারি সিংহ । বাংলা । ১৯-০৯-২০১৮

পোস্টমডার্ন ও কাব্যযোগ

মুরারি সিংহ


(২)


যোগের সময় হিসেবে ঊষাকালকে বেছে নেওয়া হয়। কারণ সারা রাত ঘুমের মধ্যে দিয়ে শরীর ও মন বিশ্রাম নেবার পর সেই ব্রাহ্ম-মুহুর্তে তারা আবার নতুন করে জেগে ওঠে। ধরিত্রীও জেগে ওঠে আরেক নতুন সম্ভাবনা নিয়ে। জেগে ওঠে পাখি ও প্রকৃতি। বাতাস অনেকতাই কলুষ-মুক্ত থাকে। সেখানে অকসিজেনের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। বিশেষ করে ফাঁকা মাঠে। সুতরাং এই সময়ে যোগাভ্যাস করাটা সব দিক দিয়েই বেশ ইতিবাচকআর যোগ ব্যাপারটাও শুধু মনের সঙ্গে মনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তা হয়ে যায় মনের সঙ্গে প্রকৃতির যোগ পৃথিবীর যোগ বা আর একটু বিস্তারে গেলে মহাপৃথিবীর যোগ। যা মনকেও প্রসারিত করে, মনের উদারতা বাড়ায়, মনের গ্রহণক্ষমতাও কিছু বেড়ে যায়। মানুষের ব্যক্তিত্ত্বও উন্নত হয়।
এরপর যদি খানিক অতীতের পাতা ওলটাই তাহলে দেখতে পাব যোগ ব্যাপারটা ভারতীয় ঐতিহ্যে বেশ প্রাচীন। ভারতীয় সভ্যতার আদিপর্বে এদেশে যখন আর্য-আগ্রাসন শুরু হয়নি, অর্থাৎ সেই হরপ্পা-মহেঞ্জোদড়োর আমলেও যে যোগের চর্চা ছিল মাটি খুঁড়ে তার পাথুরে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ প্রসঙ্গে আমি সিন্ধু-সভ্যতার সেই প্রাচীন ধ্যানি-মূর্তিটির কথা পাঠকদের মনে করিয়ে দিতে চাই, পশু-পরিবৃত সেই মূর্তিতিকে গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা আদিতম যোগি-মূর্তি হিসেবে চিহ্নিত করে তার নাম দিয়েছেন পশুপতি। কেউ কেউ তার মধ্যে শিবের আদিরূপটিকেও খুঁজে পেয়েছেন, যদিও তখন বৈদিক-ব্রাহ্মণ্য ধর্মের সূচনা হয়নি। নানান চিহ্ন-প্রকরণ দেখে অনুমান করা যায় প্রাচীন সিন্ধু-উপত্যকা বা অনার্য-ভারতের জনগণের মধ্যে তন্ত্রধর্মের প্রচলন ছিল, যা একেবারেই লোকায়তিক। যোগ সেই তন্ত্রধর্মেরই একটা অংশ।
এই উপমাহাদেশে আর্য-যুগ শুরু হবার পরেও উপরতলার প্রাতিষ্ঠানিক বৈদিক-ব্রাহ্মণ্য ধর্মের সমান্তরালে প্রান্তিক জনপদে লোকসমাজে তন্ত্রধর্মই চালু ছিল। আর্য-অনার্য সংঘাত ও সমন্বয়ের প্রক্রিয়ায় ধীরে ধীরে সেই তন্ত্রধর্মের ঊর্ধগমন হয় এবং লোকসমাজে তার জনপ্রিয়তার চাপে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মও সেই তন্ত্রকে আত্তীকরণ ও আত্মস্যাৎ-এর চেষ্টা করে এবং সেটি ঘটে বৌদ্ধধর্মের হাত ধরে।

মন শুধু উদাসী বাউল । গোপেশ দে । বাংলা-৬২৩ । ১৯-০৯-২০১৮

মন শুধু উদাসী বাউল
 গোপেশ দে

সময়ের ডানামেলা সন্ধ্যায়
পথের মাঝে পড়ে থাকা কোনো স্মৃতি
তুলতে গিয়ে কেঁদে উঠে মন।
চোখের সড়ক দিয়ে
জলের রেলগাড়ি
নেমে আসে রোমন্থনের ক্লাইম্যাক্স ভেসে।
আমি শুধু প্রতীক্ষায় রত
উদাসী হাওয়ারা সব ট্রামে চেপে
আগন্তুক ভেবে
আমার শরীরে লাগিয়ে দিক
আলতো করে।
ট্রামে বসে জানালার পাশে
বসলেই মন শুধু উদাসী বাউল



Tuesday, September 18, 2018

শব্দব্রাউজ :: শূন্যের অস্তিত্ব ; কবিতারা .. সৌমিত্র রায়

শব্দব্রাউজ :: শূন্যের অস্তিত্ব ; কবিতারা
....................................
সৌমিত্র রায়

মেদিনীপুর ; ১৮-০৯-২০১৮ ; সকাল ৭টা ২৯ ; কাব্যযোগ শেষে এন্ড্রয়েড ছুঁয়েই কিছু লিখতে চাইছি ৷ এই যে সকাল সকাল দেহ-মনের পরিচর্যা এবং আবার কবিতায় বসা ৷ এইভাবেই সময়কে কাজে লাগানো ; এটাই স্বব্যবস্থাপনা আমার ৷

শব্দসূত্র :: কাশ দুলছে নদীর পাড়ে

কাশ ; রাশি রাশি কাশ ৷ ভোরের হাওয়ায় ; তাদের দুলুনি ; রঙ ছড়াচ্ছে কবির বুকে, তাও অদৃশ্য ৷ কাশের নিজের কোনো রঙ নেই ৷ কাঁসাইয়ের ঢেউয়ের নিরন্তর জন্মমৃত্যু , শূন্যের অস্তিত্বকেই বুকে ধরে বেঁচে আছে অনন্তকাল ৷ কবিমন ; আকাশ ; ঢেউ-চিন্তন ; নদীর গতিপথে অনন্ত রহস্য আঁকছে ৷

দুলছে অজস্র বাবলার পাতা ; অস্থির ৷ এমন ছন্দে আমার কবিতারাও জানিয়ে দিচ্ছে : কবিতা তো সাহিত্যের টেকনিক্যাল শাখা ৷ জীবন-চেতনার সেরা টেকনোলজি ৷ সব মাত্রারা ফুরফুরে হাওয়ার অস্তিত্বে ৷ শ্বাস-প্রশ্বাসের নিরন্তর রিদম কবিতার প্রযুক্তিতে ৷ দুলে ওঠা, অক্ষরে নিহিত প্রাণ ৷

নদীর ঠিকানা ; নদী মনে রাখে না ৷ সব ঢেউ ; জন্মমৃত্যু ; ঠিকানাবিহীন ৷ স্রোত একটাই ৷ ফেসবুকে অজস্র কবিতার মতো ৷

পাড়ে যে মেয়েটি বসে ৷ হাতে জাল ৷ নেমেছিলো জলে ৷ ওর জেলে-রঙা কাপড়ে কাশের দুলুনি নেই ৷ তাকানোতে শূন্যতার আলো ৷ কোঁচড়ের মাছেরাও বুঝিয়ে দিচ্ছে ~ জল ; কাশ ; জীবনের সবটুকু বর্ণহীন ৷ রোদের রহস্য ছাড়া ৷

কাশ দুলছে নদীর পাড়ে ৷ দুপুরে বিষাক্ত যে রোদ ; ভোরে তা-ই ঔষধি ! দুপুরে যে জীবন বিবর্ণ, সকালে বর্ণময় ৷ রোদ রঙা কাশে ৷ নদী পাড়ে ৷ ৷৷ শান্তি ৷৷

পোস্টমডার্ন ও কাব্যযোগ । মুরারি সিংহ । বাংলা । ১৮-০৯-২০১৮

লেখাটি কয়েক বছর আগে আই-সোসাইটি 'কাব্যযোগ' সংখ্যায় প্রকাশিত । একটু ফিরে দেখা । 

পোস্টমডার্ন ও কাব্যযোগ

মুরারি সিংহ







 শূন্য দশকের কবি সৌমিত্র রায়। কবিতাকে আপডেট করার ব্যাপারে বহুদিন হল নানান ভাবনা-চিন্তা করছে। সেই ভাবনারই নবতম পদক্ষেপটির নাম কাব্যযোগ। অর্থাৎ কবিতার সঙ্গে যোগের মিলন ঘটানো।

 এই প্রকল্পটির অংশ হিসেবে মেদিনীপুর শহরের কিছু কবি-বন্ধু খুব সকাল সকাল শহরের মধ্যেই জামবাগানে মিলিত হন। হাঁটা-হাঁটি শরীর-চর্চা ও যোগাভ্যাস করেন। কবিতা পড়েন। মোবাইলে গান চালানো হয় 'প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে মোরে   আরো আরো আরো দাও প্রাণ' সেই সঙ্গে পাখিদের ও কুকুরদের খাবার বিলোনো। এই বাগানের বিশাল মাঠে আরো আরো অনেকে আসেন ফুটবল খেলা শরীর-চর্চা ছুটোছুটি অভ্যাস করতে। কেউ কেউ হয়ত সকালের মুক্ত বায়ু-সেবনের জন্যেও। কবি-বন্ধুদের সঙ্গে তাদেরও আলাপচারিতা হয়। পারস্পরিক ভাব-বিনিময় হয়।

 সৌমিত্র একদিন সকালে আমাকেও সেখানে টেনে নিয়ে গেল। সেদিন আবার ছিল রাখি-বন্ধন। সুতরাং অন্যান্য কাজকর্মের পাশাপাশি পরস্পরকে রাখি পরানো ও চকলেট খাওয়ানোও হল। সকালটা ভালোই কাটলো। তো সৌমিত্রর ইচ্ছে এই ব্যাপারটা নিয়ে আমি কিছু লিখি। ও হ্যাঁ সৌমিত্র আবার ইদানিং একটি অনলাইন কবিতা দৈনিক বের করছে। নিয়মিত।

 সৌমিত্রর অনুরোধে অগত্যা কলম ধরতে হল তার আগে বিষয়টা নিয়ে কিছুটা ভাবতেও হল।

 প্রথমেই নতুন শব্দবন্ধটির উপর নজর বোলালাম। লক্ষ করলাম কাব্যযোগ কথাটির দুটি অংশ। প্রথমটি কাব্য, দ্বিতিয়টি যোগ। কাব্য এবং যোগ দুটির সঙ্গেই আমাদের পরিচয় আছে। আলাদা আলাদা ভাবে। আমাদের মধ্য যেমন বিস্তর কবিতা-অনুরাগী আছেন তেমনি যোগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এমন মানুষজনও কিছু কম নেই। আবার একটু খুঁজে দেখলে একই সঙ্গে কবিতা ও যোগের ভক্ত তেমন  লোকও বেশ কিছু মিলে যাবে। কিন্তু কাব্যযোগ ব্যাপারটি যেহেতু অভিনব তাই সেটি কী বস্তু একটু আলোচনা করা যাক। 


 আগে যোগ ব্যাপারটিও কিছুটা বিশ্লেষণের প্রয়োজন। কী যোগ কেন যোগ কীভাবে যোগ – এসব প্রশ্ন মনে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। যোগ ব্যাপারটিকে আমরা চিনি ও জানি একটা আধ্যত্মিক প্রেক্ষাপটে। আমরা জানি ঈশ্বরের সাধনায় যাঁরা সিদ্ধি লাভ করেছেন তাঁরা সব যোগী-পুরুষ। কিন্তু এখান এই পোস্টমডার্ন সময়ের আয়নায়, মাননীয় পাঠক, আমি যোগকে আমি একটু অন্য দিক থেকে দেখতে বলব। যার সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার কোনো সম্পর্ক নেই। এবং সত্যি বলতে কী আমার মনে হয় ধর্ম ও সমাজের উদ্ভবের একেবারে আদিতে যোগের সঙ্গে সমাজের শিষ্ট অংশে প্রচলিত ঈশ্বর-সাধনার কোন সেতু–বন্ধন ছিল না। বরং তা ছিল প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের বিপরীতে লোকসমাজে পালিত একটি ফলিত শিল্প বিশেষ। হ্যাঁ যোগকে এখানে আমি খুব সচেতন ভাবেই শিল্প বলতে চাইছি, যা মানব-সম্পদের বিকাশ ও তাকে যথাযথ প্রয়োগের কাজে লাগানো হত। বর্তমান সময়ের তথ্য-প্রযুক্তি জৈব-প্রযুক্তি প্রভৃতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একে মানব-প্রযুক্তিও বলা যায়।  

 আমার ধারণাটা কিছুটা খোলসা করেই বলি। এমনিতে যোগ বলতে সাধারণত আমরা বুঝি সংযোজন। একটি বিষয় বা বস্তুর সঙ্গে আরেকটিকে যুক্ত করা। এখানেও যোগের সেই অর্থে কোনো হেরফের ঘটেনি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সেই সংযোজনের আগে কী পরি বা কী। অর্থাৎ কীসের সঙ্গে কীসের সে মিলন। তার উত্তরে বলা যায় এই যোগ মনের সঙ্গে মনের। আমরা জানি মনের নানান স্তর আছে। তার খুঁটিনাটির ভিতর না ঢুকে মনকে মোটামুটি দুটি অংশে ভাগ করতে পার। একটি বাইরের মন। যে অহরহ আমাদের সঙ্গে আছে, চারপাশে যা কিছু ঘটছে তার উপর নজর রাখছে। চট-জলদি কিছু ভেবে নিচ্ছে। সেই ভাবনার সঙ্গে তাল মিলিয়েই আমাদের কাজকর্ম পরিচালিত হচ্ছে। অন্য মনটি্র অবস্থান কিন্তু ভেতরে বা অন্তরে বা বাইরের মনেরও গভীরে। বিশেষ বিশেষ সময়ে বিশেষ প্রয়োজনে আমরা সেই ভিতরের মনটির সঙ্গে কথা বলি। যে জন্য বলা হয় কোনো বিষয় একটু গভীরভাবে চিন্তা করে দেখা বা বলা। যোগ হচ্ছে আসলে আমাদের বাইরে মনের সঙ্গে সেই ভেতরের মনের মনের সংযোগ স্থাপন। একেই কেউ কেউ বলেন ধ্যান বা meditation। একথা আজ সবাই স্বীকার করেন এই ধ্যানের দ্বারা মনোযোগ বা মনঃসংযোগ বাড়ে। অর্থাৎ সেই বাইরের মনের সঙ্গে গভীর মনের যোগ। তাতে করে বাইরের মন অনেকটাই শান্ত হয়। চিন্তার গভীরতা ও তীক্ষ্ণতা বাড়ে। জীবনের অনেক সমস্যা যা অন্য সময়ে বেশ জটিল ও কঠিন বলে মনে হয়, সেগুলিকেও তখন সহজ মনে হয়। ফলে মন অনেকটাই টেনশন-মুক্ত হয়। মনের হারানো স্ফূর্তি ফি্রে আসে। নিজেকে খুব হালকা ও ফুরেফুরে লাগে। সব মিলিয়ে কাজের এনার্জি অনেক বেড়ে যায়। সারা দিনটা বেশ ভালো কাটে। এই তো গেল মনের দিক। যোগের আরেকটা দিক আছে। সেটা নানাবিধ আসনের মাধমে শারীরিক কসরত। তাতে করে শরীরের অনেক স্থবিরতা কেটে যায়। ব্যথা বেদনা মেদ ইত্যাদিরও বেশ কিছু উপশম হয়। এখন বড় বড় চিকিৎসকরাও আসন করার কথা বলেন, কারণ নিয়মিত যোগাভ্যাস চালিয়ে যেতে পারলে শরীরকে অনেক বেশি সচল রাখা যায়। এক কথায় যোগের মাধ্যমে শরীর ও মন দুই সুস্থ থাকে।
                                                                                                                                                                            ( চলছে ) 

Monday, September 17, 2018

কাব্যযোগ :: বিবেকাসন

কাব্যযোগ :: বিবেকাসন

চিন্তাসূত্র: তথ্যপ্রযুক্তি যুগের কবিতা



কবিতা নিরন্তর চিন্তন সৃষ্টি করে ৷ কবিতা যিনি লেখেন, নিরন্তর চিন্তা করতে করতেই লেখেন ৷ যিনি পড়েন, তিনিও চিন্তা করতে করতেই পড়েন ৷

আর ধ্যান হল নিরন্তর চিন্তন সৃষ্টি ৷ তাই কবিতাও এক প্রকার ধ্যানযোগ ৷ কবি মাত্রই যোগী ৷

বিবেকাসন হল নিজের বিবেক পরিচর্যার জন্য নিরন্তর চিন্তন সৃষ্টির বিশেষ প্রক্রিয়া ৷ খুব সহজ ৷ অভ্যাসে চিন্তনের ডাইরেকসন ঠিক রাখা যায় ৷

যে কোনো আসনে অবস্থান করে যে কোনো মুদ্রায় স্থির থেকে নিরন্তর নিজের বিবেকে পজিটিভ চিন্তন জাগ্রত করা ৷ দিনের সূচনায় বিবেক পরিচর্যার জন্য অন্তত ১০ মিনিট বিবেকাসনের অভ্যাসে ব্যক্তিত্ব সুন্দর হয় ৷ দিনের নানান কাজে সফলতা আসে ৷

যোগ-কবিতা লিখেও এই বিবেকের পজিটিভ পরিচর্যা সম্ভব ৷ তাও বিবেকাসনের চলমান পরিচর্যা ৷ অর্থাৎ চিন্তন,দৃষ্টি স্থির থাকলেও কলম চলে ৷ কিন্তু খেয়াল রাখতে হয় যেন লক্ষ্যের বাইরে কোনো ভুলভাল চিন্তনের না অনধিকার প্রবেশ ঘটে ৷

বিবেক-বিপর্যয়ের এই সময়ে আলাদা করে প্রত্যেকেরই এই আসন অভ্যাসে চিন্তনের সিস্টেমে সুস্বাস্থ্য জাগ্রত হয় ৷

ছবি- প্রতীকী
৷৷ শান্তি ৷৷



কাঁচকলা খাও গোপেশ দে । বাংলা-৬২১ । ১৭-০৯-২০১৮

কাঁচকলা খাও
গোপেশ দে

চলছে ভালোই
মেজাজ চড়া-
মাথায় ওঠা ফারেনহাইট
উষ্ণ তপ্ত রোদের মত।
রোদের ঘরে আমার আবাস
সুবাস ছড়ায় জানলা জুড়ে
দুখের সুবাস বেজায় কড়া
ভোম্বল বাবু ক্যাবলা কবি
মেজাজ দেখায় মেল্যানকোলির
মফস্বলের পিঠে ফোঁড়া
ঘুমের ঘরে একলা যখন।
তোমার রাগটা ফুলন দেবীর
মাপ চাওয়াটাও অভিনয় হয়
অভিমানের স্টেজেতে।
আমার মনটা বেজায় কালো
ভোম্বল বাবু ক্যাবলা ছবি
কাঁচকলা খাও ভেড়া হয়ে।


Sunday, September 16, 2018

কলকাতার কফিহাউসে আই- সোসাইটি দিবসের আড্ডা । বাংলা । ১৬-০৯-২০১৮


কলকাতার কফিহাউসে আই- সোসাইটি দিবসের আড্ডা 



কলকাতা ; ১৬-০৯-২০১৮ ; আই-সোসাইটি নিউজ ।। গত ১৫ সেপ্টেম্বর শনিবার কলকাতার কফিহাউজে অনুষ্ঠিত হল আই-সোসাইটির সাপ্তাহিক সাহিত্য-আড্ডা । প্রযুক্তি, যোগ ও কবিতার মেলবন্ধনে আনন্দময় জীবনের প্রচারের জন্য সপ্তাহের শনিবার দিনটিতে আই-সোসাইটি দিবস পালন করা হয় । হয় আড্ডা, গান, কবিতাপাঠ, অনলাইন লাইভ, এম-কোলাজ চর্চার কর্মশালা ইত্যাদি । গতকাল কফিহাউসের এই আড্ডায় আড্ডা চা-কফি-খাওয়াদাওয়ার ফাঁকেই চলে "রেডিও আই-সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল''-এর ফেসবুক লাইভ । লাইভে কবিতা পড়েন তাপস রায় সুশীল পাঁজা অলোক বিশ্বাস প্রমুখ । শান্তিময় মুখোপাধ্যায় শোনান তাঁর বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতার কথা । শেষের দিকে বাংলা কবিতার বিবর্তনে আই-সোসাইটির ভূমিকা তথা আই-চিন্তন, কাব্যযোগ ইত্যাদি কনসেপ্ট নিয়ে বিস্তারিত আলাচারিতা চলে প্রেমাঙ্কুর মৈত্র এবং সৌমিত্র রায়-এর মধ্যে । উপস্থিত ছিলেন সমরেশেন্দু বৈদ্য প্রগতি মাইতি স্বপন শর্মা প্রমুখ । 











সব বিপর্যয়ের মূলে পাশ্চাত্য
বিজ্ঞান-চেতনা নির্ভর জীবনযাপন
সৌমিত্র

বদলে যাবে নদীপথ
হাজার ব্যাজার মতামত
ম্লান করে

বজ্ররব ঘনঘন
কাঁপিয়ে দিয়ে প্রাণমন
অম্বরে

বুক ফাটিয়ে জল-মাটির
ভূকম্পন ও সুনামী তীর
আগ্রাসী

ঝলসে দেওয়া সূর্যরোষ
হে মানুষ তোর যে আক্রোশ
তার বেশী

ভয় পেয়ো না লক্ষ্মীটি
নেই আমাদের ঝক্কিটি
তার মানে ?

এই বাণিজ্য বিজ্ঞানে
শঁপেছি সব সজ্ঞানে
সেই জানে ৷

৷৷ শান্তি ৷৷
চ্যাট মোড :: ব্যাজার; বাজারে
.............................................
সৌমিত্র রায়

কেওড়াপুকুর ৷ ১৬-০৯-২০১৮ ৷ সকাল ৭টা ৩৯ 
তাকিয়ে আছে ৷ কলা ৷ ঝাঁকে ঝাঁকে ৷ 
চাউনি @ তোমাতে নয় ৷ @ উদরে ৷ তোমার ৷ )( আসলে, 
দেখা যায় ~ 
চোখ, চোখের নাগাল ; চাউনি~ অদৃশ্য
দাঁড়িপাল্লা ; ডিজিটাল ; সংখ্যাতত্ত্ব মানে ~ 
বাজারের চাউনিও ;
 দৃষ্টি ৷ নোটবন্দী ৷ ভোটবন্দী ৷ সভ্যতা ৷ 
বাসের জানালা ৷ 
সরকারি বেল ৷ গন্তব্য ~ হাওড়া
উচ্ছে ৷ আলু ৷ পটল ৷ বেগুন ৷ ঢেঁড়ষ ৷ স্নানে রাঙানো ৷
চোখ বুজি
ভাবি
রান্নাঘর ৷ রান্নাঘর ৷ রান্নাঘর << 
দেখি } দৃশ্য ৷ দৃশ্যান্তরে~₹ 
ঘাম ৷ মানিয়ে নেওয়া বিরক্তি ৷ যাপনে ৷ দিনযাপনে ৷ আনন্দ ৷

দুঃখ কবির বন্ধু । গোপেশ দে । বাংলা - ৬২৪ । ২০-০৯-২০১৮

দুঃখ কবির বন্ধু গোপেশ দে দুঃখ কবির বন্ধু কেননা দুঃখকে আশ্রয় করেই কবির বেড়ে ওঠা কবি দুঃখ না পেলে লিখবে টা কি শুনি ? পৃথিবীর গাছে গাছ...