মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০

শব্দব্রাউজ ৩০ || নীলাঞ্জন কুমার || "আই-যুগ"-এর কবিতা

 শব্দব্রাউজ  ৩০  ||  নীলাঞ্জন কুমার



বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া ২৯।১১।২০২০ সকাল ৮-৩২ মিনিট । পান্নালাল ভট্টাচার্যের কথা খুব মনে পড়ছে । তাঁর শ্যামাসঙ্গীত কেন আমায় বিশেষ দৃষ্টিকোণে টেনে নিয়ে যায় বুঝিনা । হাজারো সাধের এক কণা সাধ কি মেটেনি আমার?  না শুধুই মরিচিকা,  ভাবতে ভাবতে দিন যায় ।



শব্দসূত্র : সাধ না মিটিল



সাধ আর সাধ্যের ভেতর প্রভেদ আছে । সাধের নানাস্থানি দিক সাধ্যের প্রলেপ লেগে সংযত থাকা অভ্যাস করে । দুরন্ত জীবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তবু  প্রশ্রয় দিতে হয়  শপিংমল,  বাহারি কন্টিনেন্টাল । ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স আর লোভ যদি এক ভাবে বাড়তো!  প্রগতির বিবরণ দিতে দিতে কফির পেয়ালায় তুফান তোলার  মতো প্রাজ্ঞভান ,  তৃতীয় নয়ন ঠিক ধরে নিয়ে মন থেকে তাকে বাতিল করে । বাতিল হন ভোগ্যপণ্যের দাস, সেলফোনে মাছের চপের রেসিপির চ্যাটের মালকিনবৃন্দ । যার সাধ সাধ্য দুটোই নেই,  সেতো তার মত থেকে যাবে অবিকৃত ।পোষাকী বৈচিত্র্য তাকে ধরতে আসবেই না ।



সকল ফুরিয়ে যাবে জেনেও ' সাধ না মিটিল আশা না পুরিল ' গেয়ে উঠি ঈশ্বরের জন্য নয় , ভোগ্যপণ্যের কথা ভেবে  । হা হা এইতো  চিন্তাধারা । সকাল থেকে রাত শুধু বিজ্ঞাপন, কি আর হবে,  এ ছাড়া!

স্মৃতিকথা || এই আমি চরিত্র -৬ || নীলাঞ্জন কুমার ||

 স্মৃতিকথা


                          এই আমি চরিত্র

                            নীলাঞ্জন কুমার


                           (গত মাসের পর) 




                                    ।। ৬।।


আমি বাবা মা দুই দিক থেকে দাদু দিদিমার সঙ্গ পাইনি । মায়ের দিক থেকে দাদু মারা গিয়েছিলেন মায়ের বিয়ের আগে , দিদিমা আমাদের জন্মের আগে । ঠাকুমা দেখিনি, তিনি গত হয়েছিলেন ওভারি ক্যানসারে ছোড়দির জন্মের আগে । ঠাকুর্দাকে দেখেছিলাম বোধ হওয়ার আগে । মায়ের দিক থেকে বলতে গেলে  , মায়ের দাদু ছিলেন একজন শাস্ত্রজ্ঞ পন্ডিত । যিনি সে সময় একটি পাঁজির উপদেষ্টা ছিলেন । তাঁর গঙ্গায় অন্তর্জলীও হয়েছিল , সেই মৃত্যুর কথা শোনার পর মায়ের ঠাম্মাও দেহ রাখেন । যা সেই সময়ের বড় খবরের কাগজে প্রকাশিত হয়েছিল । চার ভাইবোনদের ভেতরে মা ছিল বড় । দাদু ছিলেন কলকাতার শিপিং কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মচারী , তিনি নাটকও করতেন । ছবি বিশ্বাসের সঙ্গে সখ্যতা ছিল । মা ছিলেন পড়াশোনা গানবাজনাতে বিশেষ পটু । ক্লাস ফোরে তৎকালীন বৃত্তি  বা জলপানি পরীক্ষাতে মা বৃত্তি পেয়েছিল । যা সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছিল । বৃত্তি পাওয়ার ফলস্বরূপ মা ডবল প্রমোশন পেয়ে সিক্সে গিয়ে বসেছিল । তবে তার জন্য  মা পরিবারের কাছে সম্মানের বদলে বিদ্রুপ পেয়েছিল বেশি । তারা মাকে ঠেস দিয়ে বলেছিল, কণাকে (মাকে এই নামে ডাকা হত ) দেখছি ওর মা বাবা  জজ ব্যারিস্টার করবে ।  কিন্তু মা তাঁদের মোক্ষম জবাব দিতে পারেনি দাদুর আকাল মৃত্যুর কারণে । অত্যন্ত গরিব অবস্থান ম্যাট্রিক পাশ করার আগে মাকে সারা সংসারে হাল ধরতে হয় । সে সময় মা টিউশনি করে সংসার চালিয়েছে । কিছুকাল রাজেন তরফদারের কাছে গান শিখেও দাদুর মৃত্যুর জন্য ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেনি । বড় মামা বিয়ে করলেও তাঁর সংসারের প্রতি টান কম ছিলো । বর্তমানে তিনি সন্ন্যাসী জীবন যাপন করছে । সদ্য   প্রয়াত  মেজমামা বৈদ্যবাটিতে একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতো। রাজস্থান ক্লাবের  ফুটবলার ছিলো। ছোটমামা সম্পর্কে তেমন কিছুই জানি না । মা তাকে নিয়ে কোন কথা বলতো না । তবে এটুকু জেনেছিলাম,  দাদুর মৃত্যুর পর লাগামছাড়া হয়ে মামা বদসঙ্গে পড়ে গিয়েছিল । চুরি ছিনতাই করে  থানা পুলিশ হয়েছিল । পরে নিজেকে শুধরে নিয়ে কলকাতার কিছু মন্দিরে ও বাড়িতে  নিত্য পুজো করতো। পরে এক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ।
        সত্যি বলতে কি মায়ের দিক দিয়ে কিছু জানলেও কিন্তু ছোট্ট বয়স থেকে বাবার দিকে তেমন জানতে পারিনি । পরবর্তীকালে তা নিয়ে আগ্রহ জাগেনি । ফলে বাবার দিকটি প্রায় শূন্য অবস্থায় থেকে গিয়েছিল । মাকে  মাঝেমধ্যে  শ্বশুরবাড়ি নিয়ে বিষোদ্গার করতে শুনেছি । কিন্তু আমার তাতে কোন কৌতুহল গড়ে ওঠেনি ।
          আমাদের চার ভাইবোনদের মধ্যে বয়সের তারতম্য থাকলেও আমি ও ছোড়দি  ( যাকে কোনদিন দিদি ডাকিনি,  ডাকনাম '' লিলু ' বলতাম)  ছিলাম পিঠোপিঠি । ফলে অন্যান্যদের থেকে সখ্যতা ছিল বেশি। বড় দাদা দিদিকে ভয় পেতাম । তারাও তেমন আমায় পাত্তাটাত্তা দিতো না । এভাবে বোধজন্ম হওয়ার বছর দুয়েক কেটে গেল । মাঝেমধ্যে  বর্ণপরিচয় আর ধারাপাত নিয়ে বাবা নয়তো মা পড়াতে বসাতো। আমার আধো আধো  কথার অআকখ  বলা বাড়ির সকলকে মজা দিতো বুঝতে পারতাম । আমার কথার ভেতরে বেশ মজার বিশেষত্ব ছিল,  যেমন বলকে বলতাম 'বত',  মারবেল গুলিকে বলতাম ' গুই ' । বাবা অফিসে যাবার সময় আমার একমাত্র আবদার ছিল , ' গুই আনবে বত আনবে '। ধোকার ডালনা খুব পছন্দ ছিল,  আমি বলতাম ' হা- বড়া ' , এমন কত কি!  দিদিরা ' মন মোর মেঘের সঙ্গী ' গানের সঙ্গে নাচ করলে আমিও তাদের সঙ্গে নেচে উঠতাম । পাঁচ বছরে দিদিদের সঙ্গে অলিগন্ঞ্জ প্রাইমারি স্কুলে যেতাম স্কুল স্কুল খেলা করতে । তাকে বলা হত ' ইনফ্যান্ট ' । আমার  ' খেলা ' শেষ হলে লিলুর পাশে বসে ওর পড়া শুনতাম ।
ওর সহপাঠীরাও আমাকে বেশ পছন্দ করতো।
                                                   
                                                         ( চলবে)

বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষ্যে মেদিনীপুর শহরে পদযাত্রা

বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষ্যে মেদিনীপুর শহরে পদযাত্রা

নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর || এইডস্ দিবসে মানুষকে সচেতনতার বার্তা দিতে পদযাত্রা হলো মেদিনীপুর শহরে। মঙ্গলবার সকালে বিশ্ব এইডস্ দিবসে এই রোগ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে মেদিনীপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সংকল্প ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং অন্যান্য সংগঠনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হলো একটি সচেতনতা মূলক পদযাত্রা ও পথসভা। এদিন সকালে মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলের সামনে থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে পঞ্চুর চক,হেড পোস্ট অফিস রোড, গান্ধী মোড়,বিদ‍্যাসাগর মোড় হয়ে আবার গন্ধীমোড়ে এসে পথসভার মধ‍্য দিয়ে শেষ হয়।

সচেতনতা মূলক মাইক প্রচার ও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে জনগণের উদ্দেশ্যে সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়। সংকল্প ফাউন্ডেশনের আহ্বানে এদিনের পদযাত্রায়  সংকল্প ফাউন্ডেশনের পাশাপাশি  মেদিনীপুর  সমন্বয সংস্থা, জঙ্গলমহল উদ‍্যোগ,, হেল্পিংহ‍্যান্ড ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, শ্রদ্ধা ফাউন্ডেশনের সদস্য-সদস‍্যারা উপস্থিত ছিলেন।এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংকল্প ফাউন্ডেশনের অন‍্যতম উপদেষ্টা সমাজসেবী গোপাল সাহা, সংকল্প ফাউন্ডেশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদিকা পারমিতা সাউ, পিন্টু সাউ,রত্না দে, নরোত্তম দে,ড.শান্তনু পান্ডা, ইন্দ্রদীপ সিনহা, মেদিনীপুর সমন্বয় সংস্থার মেদিনীপুর শহর ইউনিটের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক মৃত‍্যুঞ্জয় খাটুয়া, অমিতাভ দাশ, অরূপ দাস, জঙ্গলমহল উদ‍্যোগের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা শাখার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক সুব্রত মহাপাত্র, সুদীপ কুমার খাঁড়া, নরসিংহ দাস, হেল্পিংহ‍্যান্ড ওয়েলফেয়ার সোসাইটির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ সুদীপ্তা দে,শ্রদ্ধা ফাউন্ডেশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিকাশ ধাড়া,জয়দীপ ঘোষ প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রতিমা রানা, মুনমুন ঘোষ, বিশ্বজিৎ সাউ,অর্ণব পাত্র,অনীশ সাউ সহ অন‍্যান‍্য সমাজকর্মীরা। পথসভায় বক্তব্য রাখেন গোপাল সাহা,মৃত‍্যুঞ্জয় খাটুয়া, সুদীপ কুমার খাঁড়া, সুদীপ্তা দে প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন ড.শান্তনু পান্ডা। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান সংকল্প ফাউন্ডেশনের সম্পাদিকা পারমিতা সাউ।

আটপৌরে কবিতা ৮৮-৯০ || অলোক বিশ্বাস || "আই-যুগ"-এর কবিতা

আটপৌরে কবিতা : অলোক বিশ্বাস



৮৮.
প্রত্যাদিষ্ট স্বরধ্বনিও বলছে
কোভিড 
কেবলই তাহারই দিকে ঢলছে

৮৯.
কলকাতার সঙ্গে কোভিডের
সন্ধি
মল্লার প্রেমিক বেদনায় ঘরবন্দি

৯০.
প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা করছে
কোভিড
কর্পোরেট ছেড়ে পালাচ্ছে প্রদীপ

কিছু বই কিছু কথা ২০৯ || নীলাঞ্জন কুমার || কুয়াশা ঘেরা রাস্তার শব্দ || অদীপ ঘোষ

 কিছু বই কিছু কথা ২০৯।   নীলাঞ্জন কুমার



কুয়াশা ঘেরা রাস্তার শব্দ । অদীপ ঘোষ । পাণ্ডুলিপি । পঁচিশ টাকা ।



কবিতা যে কতটা সহজ সরল হতে পারে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ যদি পেতে চান তবে অদীপ ঘোষের  'কুয়াশা ঘেরা রাস্তার শব্দ ' পড়ে নেওয়া উচিত । নিত্যাকার ঘটনাবহুল দিনাতিপাতের ভেতর থেকে খুঁড়ে খুঁড়ে তিনি অনায়াসে দক্ষতার সঙ্গে বের করে আনেন পার্থিত কবিতা । তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ:  ' কসাইও কোনদিন শনির কেমন দশা বুঝতে চায়নি/  সে শুধু ঘুমের মধ্যে মাঝে মাঝে ছাগলের আর্তস্বর শোনে/  তার স্বপ্নে মাঝে মাঝে ঝুলন্ত পাঁঠারা দোল খায় । ' ( ঐতিহ্য ') , 'দেখবেন,  শহরের মানুষেরা বরফ বেশি পছন্দ করে/  বেসিনের কল খুলে অনায়াসে কবিতার গভীরে ঢুকিয়ে নেয় । ' ( ' বরফ প্রিয়তা ')।
         অদীপের এই পাঁচ নম্বর বইটির সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে গিয়ে বুঝি কবির মনন কতখানি কবিতা সম্পৃক্ত । প্রকৃত কবির মতো কোন বাড়তি উল্লাস নেই , তার চিন্তার ভেতর দিয়ে যেভাবে ব্যতিক্রমী দিক উঠে আসে
তার থেকে হাজারো  প্রশংসা কম বলে মনে হয় । পংক্তি হিসেবে তুলে ধরা যায়: ' কয়েকটা শুকনো কাগজ শুধু পিছু পিছু ছুটে যাচ্ছে/  একটা সম্পূর্ণ কবিতার প্রত্যাশায়।' (  '  ফেরা ') , ' এক সময় ঈশ্বর বাধ্য হয়ে মারা যান/  ফাঁক পেয়ে মানুষ ভগবান বনে যেতে থাকে ।' ( ' ঈশ্বরের মৃত্যু ')।
           এই কবিকে যত পড়া যায়, তত নতুন ভাবনা গড়ায় গভীরে । কখনো কখনো ভয় হয়,  এই বুঝি সরে গিয়ে উচ্চগ্রামে কিছু লিখে ফেললেন । কিন্তু তা ঘটেনি । ফলে সুন্দর আবহ গড়ে তুলেছেন বইটিতে তিনি । তাঁর কবিতার থেকে তরুণেরা শিখে নিতে পারেন সরল কবিতার ভেতরে রহস্যসন্ঞ্চারের কৌশল । কবিকৃত প্রচ্ছদ পরিচালনায় তিনি সহজ ও সরলের ভেতর দিয়ে পরিব্রাজকের  স্বপ্ন ব্যক্ত করেন।  তাঁকে শাবাশি দিতে হয় ।

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ২১১ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



২১১.

 কবিতাপাক্ষিক ৩০০ সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখন অবধি পরিবেশন করা হয়নি। বা আমি করিনি। সেটি হল এই বিশেষ সংখ্যাটিতে জানানো হয়েছিল :

সম্পাদনা : প্রভাত চৌধুরী নাসের হোসেন ।

দুটি নামের মধ্যে কোনো কমা কিংবা এবং অথবা ও ছিল না। প্রয়োজন ছিল না বলেই। অর্থাৎ সম্পদকমণ্ডলী কিংবা এডিটোরিয়াল টিম ছিল না , খাতায়-কলমে।  আদতে টিম তো ছিলই। টিমের সকলের সর্বাকরণ সহযোগিতা তথা সমর্থন ছাড়া আমরা দু-জন এই বিশাল কর্মকাণ্ড  সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারতাম না ।

এই সংকলনটি সম্পর্কে গুটিকয় জরুরি তথ্য জানিয়ে রাখছি।

ডি টি পি হয়েছিল : কবিতাপাক্ষিক ডেস্ক-এ ।

মুদ্রণ : কল্যাণী প্রিন্টার্স , ১৭ কানাই ধর লেন ।

বাঁধাই : শ্রীকৃষ্ণ বাইন্ডিং ওয়ার্কস , ১০১ বি , বৈঠকখানা রোড।

কবিতাপাক্ষিকের পক্ষে যূথিকা চৌধুরী কর্তৃক ৩৬ডি , হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট , কলকাতা ৭০০ ০২৬ থেকে প্রকাশিত।

মূল্য বা দাম : ১০০ টাকা।

কপি রাইট : কবিতাচর্চাকেন্দ্র , কাদাকুলি , ছান্দার , বাঁকুড়া ।

এই তথ্যগুলি পরবর্তীকালের পাঠকদের পক্ষে জেনে রাখাটা কর্তব্য।


এই সংকলনে প্রকাশিত সমস্ত কবিতাই কবিতাপাক্ষিক ১ থেকে ২৯৯ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়ে ছিল।

বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হবে , ২৯৯ সংখ্যায় প্রকাশিত নীলার্ণব চক্রবর্তী সোম মুখোপাধ্যায় শ্রীপার্থ চট্টোপাধ্যায় রাহুল ঘোষ এবং উত্তম চৌধুরী-র কবিতা সংকলনে স্থান পেয়েছিল। আলাদা করে উল্লেখ করতে হয় উত্তম চৌধুরী-র কবিতাটির কথা। যেখানে উত্তম লিখেছিল :

' অবশ্যই তিনশোতম সংখ্যার জন্য তিনশো সেকেন্ড হাততালি --- মানে পাঁচ মিনিট এবং তিনশোটি হাত মানে দেড়শোজন মানুষ হলঘরে থাকবেনই।

উত্তম আরো লিখেছিল :

বাইরে তিনশোটি পতাকা--- লাল,নীল ,হলুদ , সবুজ এবং তিনশোটি না হোক শূন্য দুটি বাদ দিয়ে অন্তত তিনটি সাদা ধবধবে পায়রার আকাশে উড়ান আর তিনবার সমস্বরে জয়ধ্বনি। এবং হলঘরের ভেতরে অন্তত তিনশো মিনিট দুর্দান্ত কবিতাপাঠ আর জমজমাট আড্ডার মাঝে পোস্টমডার্ন বাকশস্যের উত্তাপ নেওয়া ।'

 এই লেখার অধিকাংশ পাঠক জানেন উত্তম চৌধুরী আলিপুরের বা আলিপুরদুয়ারের। উত্তম ৩০০ -উৎসবের প্রায় একমাস আগে দেখতে পেয়েছিল যাবতীয় আয়োজন-কে। মনে রাখতে হবে তখন আমাদের হাতে হাতে ধরা-র মতো 4G প্রযুক্তি চালু হয়নি । আমি এর নাম দিলাম আত্মীয়তা-র নিজস্ব যোগসূত্র ।

নাকি আমরাই ওই কবিতাটি পড়ার পর আমাদের অনুষ্ঠান বা কবিতাউৎসবের ডিটেলস নির্ধারণ করেছিলাম।

তবে এটুকু বলতে আমার দ্বিধা নেই আমি কিঞ্চিৎ বাবু-কালচারের প্রতিনিধিত্ব করার কারণেই পায়রা ওড়ানোটা উত্তমের কবিতা থেকে নিইনি । কেবল বাবু-কালচার নয় ' পায়রা ওড়ানোর ' সঙ্গে শান্তি-আন্দোলনের একটা গা- ঘেঁষাঘেষির কারণেও  হতে পারে।

বাবু-কালচার এবং শান্তি -আন্দোলন , এই দুটির মধ্যে যে কোনো একটি-তে টিক চিহ্ন লাগিয়ে ভাবতে থাকুন , আমি আগামীকালের লেখার কথা ভাবতে বসে যাই।

সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০

আটপৌরে কবিতা ৮৫-৮৭ || অলোক বিশ্বাস || "আই-যুগ"-এর কবিতা

আটপৌরে কবিতা : অলোক বিশ্বাস



৮৫.
কোভিড হস্পিটাল ছাড়িয়ে
ভালোবাসা
লেখা গাড়ি পড়েছে দাঁড়িয়ে

৮৬.
লিখছি কোভিড ডায়রি
বারেবারে
পেন ফস্কে যাচ্ছে মাইরি

৮৭.
প্রত্যাশিত পথেই যাচ্ছি
তথাপি
অদৃশ্য কোভিডের দেখা পাচ্ছি

নস্টালজিয়া ২৬ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

 নস্টালজিয়া ২৬

পৃথা চট্টোপাধ্যায় 



'তুমি পারবে না ' এই কথাটা ছোটদের কখনই বলতে নেই। বিশেষ করে মা যদি শিশুকে বারবার বলতে থাকে 'তুমি পারবে না' শিশুর মনের মধ্যে একটা অদ্ভুত ধারণা জন্মে যায় যে মা যখন বলছে তখন আমি পারব না। যত কঠিন কিছু হোক শিশুটিকে যদি বারবার উৎসাহিত করা হয় 'তুমি পারবে'  তাহলে অনেক সাহস আর মনোবল খুঁজে পায় সে, জীবনের কঠিন বাধা অনায়াসে অতিক্রম করতে শেখে। এই  'আমি পারি'(I can) মন্ত্রে শৈশব ও কৈশোর থেকেই শিশু কিশোরদের দীক্ষিত করে তুলতে হয় এই অভিজ্ঞতা আমার ব্যক্তিগত  জীবন সঞ্জাত। 

খুব শান্ত আর ভিতু ছিলাম ছোটবেলা থেকেই। শান্ত শিষ্ট আমার স্বভাব, কিন্তু অহেতুক  ভয়টা মা নিজের অজান্তেই আমার  মনের মধ্যে  তৈরি করে দিয়েছিল এটা আমি বড় হয়ে বুঝতে পেরেছি । আমার আগে ও পরে যে দুটি সন্তান মায়ের জন্মেছিল  তাদের শৈশবই মৃত্যু হয়েছিল।  একটির জন্মের পরেই আর একজনের তিনমাসে পক্স হয়ে। আমিও প্রি ম্যাচিওর বেবিছিলাম,  আট মাসের শুরুতেই জন্মেছিলাম। সময়ের আগেই এত শান্ত মেয়েটি কীভাবে যে ছটফট করে পৃথিবীর আলো দেখতে বেড়িয়ে এসেছিল জানি না। অনেক যত্নে সাধ্য সাধনা করে আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল মা- বাবা। ছোটবেলায় টাইফয়েড হয়েছিল তিন বার। বারবার জ্বর হতো আর তখন ডাক্তার কিছুতেই ভাত খেতে দিত না বলে আমার খুব খারাপ লাগত। যাই হোক  এইসব কারণে  আমাকে মা পক্ষীমাতার মত ডানা দিয়ে  আগলে বড় করে তুলেছিল। পরে অবশ্য এই আমাকেই জীবনের অজস্র ঝড় ঝামেলা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে  বারবার  অনেক বেশি আর আমার  'পারব না'  এই গন্ডি ভেঙে বেরিয়ে আসতে খুব কষ্ট হয়েছে । আসলে ছোটবেলা থেকেই  মায়ের মনে আমার জন্য সবসময় একটা ভয় ছিল ,যদি কিছু হয়ে যায়! খুব আলতো করে রাখতে চেষ্টা করত আমাকে সবরকম বিপদ আপদের হাত থেকে।  পড়াশোনা ছাড়া কোনো কাজ আমাকে করতে দিত না মা। ফলে আমি অনেক বড় পর্যন্ত ভয়ে দেশলাই জ্বালাতেও পারতাম না। চা ছাড়া আর কোনো কিছু করতে পারতাম না বিয়ের সময়েও আমার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা একথা জানে। যে কোনো কাজ করতে গেলেই মা বলত 'তুই পারবি না', এটা অতিমাত্রায় স্নেহের বশে বলা, কিন্তু সেটা আমার মনে গেঁথে বসেছিল। আমি সব কাজ থেকে গুটিয়ে রাখতাম নিজেকে 'পারব না' ভেবে। পড়াশোনার ক্ষেত্রে কখনো "পারবে না" এই কথা মা বলত না। তবুও  মায়ের অজস্র  'না' আমার জীবনে সব কাজের মধ্যেই  কিছুটা নেগেটিভ প্রতিক্রিয়া করেছিল , আমার মনোবল নষ্ট করেছিল বড় হয়ে তা উপলব্ধি করেছি। পড়াশোনা ও জীবনের শিক্ষায় এই 'না'-এর গন্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করেছি।  মাকেও বলতাম সে কথা, মাও পরে বুঝতে পেরেছিল।

শব্দব্রাউজ ৩০ || নীলাঞ্জন কুমার || "আই-যুগ"-এর কবিতা

  শব্দব্রাউজ  ৩০  ||  নীলাঞ্জন কুমার বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া ২৯।১১।২০২০ সকাল ৮-৩২ মিনিট । পান্নালাল ভট্টাচার্যের কথা খুব মনে পড়ছে । তাঁর শ্যামা...