Wednesday, September 23, 2020

উনত্রিশ পয়েন্ট ফাইভ - ৪৪ || সোমনাথ বেনিয়া || কবিতা

 কবিতা


উনত্রিশ পয়েন্ট ফাইভ - ৪৪ / সোমনাথ বেনিয়া



জাগতিক সব কাজে গন্ধ আছে, জানে সময়, জানে মহাকাল

গতিরেখা বরাবর ছুটলে একসময় হাতের মুঠোয় মথিত শৈলমালা

চিন্তার ভিতর রাখো উইপোকা, খেয়ে নিক যত মৌলবাদী অভিঘাত

দেখো সমস্ত মানচিত্র ফুলের বাগান, চরাচরে গুনগুনরত ভ্রমরের দল

বিরহ সরিয়ে রাখো, রাখো নানাবিধ লৌকিকতা, চারিদিক পাতাবাহার

দ্রাঘিমাংশ পেরিয়ে ভূগোলকে বুঝে নিতে পায়ের স্পন্দন যথেষ্ট

যেহেতু ঘূর্ণন, ট‍্যানজেন্ট বরাবর ঝুলিয়ে দাও ব‍্যাগভর্তি পুত্তলিকতা

কোনো রক্তপাত নেই, একসময় মানুষের বিকল্প প্রকৃত মানুষ হবে

যারা নাস্তিকতার গান গেয়ে ট্রেকিঙে গিয়েছিল, সুন্দর‌ই ঈশ্বর, জানে কি

ইতিহাস ব‌ইয়ের ডগ ইয়ার পাতার চর্চিতফুল হৃদয়ের একান্তর কোণে

হয়ত এই সেই গান যা শোনা হয়েছিল স্টেশনে, অন্ধের ঠোঁটের প্রযত্নে

যৌবন বর্ষায় ঢেকে থাকে বলে আশ্বিনের মেঘ উদাস, ঈশানে হারায়

হাত ধরার গল্প শুনতে কাশ ফুলের গায়ে লুকোনো শীত কোথায়

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || স্ক্রিন বেয়ে ঝরে যায় জ্বলন্ত ম্যাট্রিক্স || পার্থসারথি উপাধ্যায়

 কিছু বই কিছু কথা। নীলাঞ্জন কুমার 



স্ক্রিন বেয়ে ঝরে যায় জ্বলন্ত ম্যাট্রিক্স । পার্থসারথি উপাধ্যায় । পঁয়ত্রিশ টাকা । 


' আমি হাটুরে লোক,  ধুলো পায়ে ঠিক হেঁটে যাবো- / তোমাদের স্বপ্নের ভিতর ....' ( ' অনন্তকাল হেঁটে যাবো ') - র মতো উচ্চারণের কাছে আকর্ষিত হওয়া যে কোন কবিতাপ্রেমীর ভেতরে স্বাভাবিক ব্যাপার । পার্থসারথি উপাধ্যায়ের  কবিতায়  দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসকে সন্মান জানাতেই হয় । তিনি তাঁর কবিতায়  সম্পূর্ণ নিজস্ব স্টাইলে যখন বলেন:  ' মগজে ডিজেল ধোঁওয়া , রেব্যান, / রোদের ফালি- / ভালো থেকো প্রিয় বিকেল ' (হাইওয়ের কবিতা- ৪')তখন আজকের কাঙ্খিত কবিতার কাছাকাছি তাঁর উচ্চারণ নিয়ে আসেন ।

            পার্থসারথির বেশ বড়সড় শিরোনামের কাব্যগ্রন্থ ' স্ক্রিন বেয়ে ঝরে যায় জ্বলন্ত ম্যাট্রিক্স ' -এ ছুঁয়ে থাকে চলমান চিত্রের বৈশিষ্ট্য,  যার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় । সে কারণে তিনি যখন উচ্চারণ করেন: ' হে নাগরী দেখ  মায়াপথ পাতা/  এই ময়লা শহরের পাতায় পাতায় ।'   (  ' হাইওয়ের কবিতা- ৫')  তখন তিনি যে নিজেকে ক্ষুদ্রতর ' আমি ' থেকে বৃহত্তর ' আমি ' তে আনতে চাইছেন লেখনীর গুণে বুঝতে পারি । 

       কবির কবিতার শব্দচয়নে  আছে নতুনত্ব ও প্রয়োজনীয় স্মার্টনেস । সত্তরের পুরোনো কাব্য প্রবৃত্তি কাটিয়ে ওঠার প্রয়াস দেখা গেছে কাব্যগ্রন্থে  , সীমানা বাড়িয়েছেন  তাঁর কাব্যজগতের। তাই ভিত বেশ শক্ত,  তার ওপর ঘরবাড়ি গড়া যায় আস্তে আস্তে । পার্থ র পথ চলার সাফল্য পেতে ধৈর্য ধরতেই হবে ।সন্দীপ দাসের প্রচ্ছদে অহেতুক যৌনতা প্রশ্রয় পেয়েছে । ইঙ্গিতও স্পষ্ট নয় ।

আটপৌরে কবিতা ৮১১-৮১৫ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

আটপৌরে কবিতা

নীলাঞ্জন কুমার



৮১১

গভীর/  অনন্ত/  অতুল
        ) সমুদ্র  (
ভাবলে কেমন রোমান্ঞ্চিত হই !

৮১২

সুউচ্চ/  শৃঙ্গ/  বিস্ময়
     )  পর্বত  (
চেনা হলেও কত অচেনা!

৮১৩

প্রাণ/  শক্তি/  বোধ
       ) জীবন্ত  (
সবার যেন কল্যাণ হয় ।

৮১৪

ইঙ্গিত/  উপেক্ষা/  কটুক্তি
       ) অপমানজনক  (
কখনো সখনো হতাশা আনে ।

৮১৫

ঠগ/ মস্তান/  ডন
     ) দুর্বৃত্ত (
আছে অর্থ নিষ্ঠুর মৃত্যু ।


সৌমিত্র রায়- এর জন্য গদ্য ১৪২ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায়- এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৪২.

উত্তরবঙ্গে দ্বিতীয় সফর জলপাইগুড়ি এবং মালদা।

২৩ আগস্ট  ২০০৩ শনিবার দুপুর ৩ টেয় সুভাষমঞ্চ , বাবুপাড়া , জলপাইগুড়ির অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন চামেলী সাহা এবং শৈবাল বসু। তবে আমার যতদূর মনে আছে এই উৎসবের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন অমিতাভ মৈত্র। আমি ভুলও লিখতে পারি । ভুল লিখলে ক্ষমা করে দেবেন। এখন অনুভব করছি সময়  অনুযায়ী বা সময়ের দূরত্বের কারণে সত্যেরও বদল হয়ে যায়। একারণে সব সত্যকে কি আমরা আপেক্ষিক সত্য বলতে পারি।

উঠেছিলাম  জলপাইগুড়ি সার্কিট হাউসে। তাও অমিতাভ -র সৌজন্যে।

আমাদের যে উদ্দেশ্য নিয়ে জলপাইগুড়ি যাওয়া তা সাকসেস হয়েছিল , এটা বলার জন্য কোনো সাক্ষী-সাবুদের প্রয়োজন নেই।

রাত্রিবাস জলপাইগুড়ি।

পরের দিন বাসযাত্রা আমাদের পৌঁছে দিয়েছিল মালদা। 

প্রথমেই প্রশান্ত গুহ মজুমদারের বাড়ি বা সরকারি আবাসনে। সেখান থেকে বিনয় সরকার অতিথি আবাসে। মালদা জিলা পরিষদের পরিচালনায় এই গেস্টহাউসের ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা চোখে পড়েছিল। অনুষ্ঠান ছিল মালদা কালেকটরেটের সামনে রামকিংকর বেইজ প্রদর্শশালায়। বিকেল সাড়ে ৫ টায়। আয়োজক হিসেবে নাম ছিল অভিষেক, মালদা-র পক্ষে তানিয়া গুহমজুমদার এবং সুখেন্দু দাস-এর। 

 আমরা কিছুক্ষণ আগেই পৌঁছে গিয়েছিলাম সভাঘরে। 

মনে আছে তৃপ্তি সান্ত্রা-কে নিয়ে এসেছিল ওর কন্যা। একটি স্কুটিতে ।ওর মেয়ে তখন স্কুলের শেষ কিংবা কলেজের শুরুতে। আমার হাতে তখন কিছুটা সময় অবশিষ্ট ছিল। আমি তৃপ্তি-র মেয়েকে বলেছিলাম , আমাকে তোমার স্কুটির পেছনে তুলে নাও। একটু ঘুরব। ওর মেয়ে আনন্দের সঙ্গে আমাকে পেছনে বসিয়ে মিনিট ১৫ -র একটা ট্রিপ , সেই ঘটনাটা এখনো মনে আছে। কে গান গেয়েছিল তা মনে নেই। আদৌ শুরুর গান ছিল কিনা সেটাও মনে নাই ৷

 প্রশান্ত গুহমজুমদার পরিবেশিত তথ্য অনুযায়ী মুরারি সিংহ গৌরাঙ্গ মিত্র যূথিকা এবং আমি কলকাতা থেকে গিয়েছিলাম। 

তৃপ্তি সান্ত্রা পলাশ গঙ্গোপাধ্যায় রাজীব সিংহ সহ আরো অনেকেই উপস্থিত ছিল।

প্রশান্ত আরো জানিয়ে আমি দীর্ঘ সময় ধরে এই ১০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানকে ৫০ টি প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলাম কেন , তা ব্যাখ্যা করেছিলাম।

রাতেই ফেরার বাস ধরেছিলাম।

Tuesday, September 22, 2020

বিষ্ময়কর চিহ্নের পিঠে... || আমিনুল ইসলাম || কবিতা

বিষ্ময়কর চিহ্নের পিঠে... 

আমিনুল ইসলাম 


ফ্লাইং কিস!

মানেই-

কাঠবিড়ালির লেজে 

ঢেউ ... 


একটা সি-বিচের স্বপ্ন 


ক্যামেরায়...


ভিজুয়াল বার্তালাপ-

১দিকে গভীর রাত

আর

অন্য প্রান্তে প্রভাত!


যূথিকা ফুল মায়ের আর ১ক নাম

মা মানেই ১কটি ফ্লাইং কিসের দুপুর 

আর

রজনীগন্ধা হলো বিছানার 

আদর আগলে প্রভাতের সহচর 


পিতার মতোই সেও বালিশের কোনে স্বপ্নময়!

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার মানচিত্র ছিঁড়ে মধুমাস । অমিত কাশ্যপ

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার 



মানচিত্র ছিঁড়ে মধুমাস । অমিত কাশ্যপ । সারঙ্গ প্রকাশনী । পন্ঞ্চাশ টাকা । 


কখনো কখনো কোনো কোনো কবির কবিতায় অমোঘ ব্যন্জ্ঞনা উঠে আসে অজান্তে । সে ব্যন্জ্ঞনার ভেতরে জড়িয়ে থাকে অবধারিতভাবে কবিতা , তখন সে স্বাদ অত্যন্ত স্বাদু হয়ে ওঠে ভাবনায় মননে ও চেতনায় । কবি অমিত কাশ্যপের কবিতার সিগনেচার তেমনই,  যেমন: ' ঘর রূপ নিতে থাকে অখন্ডমন্ডলাকার/  ঈশ্বর ঘুরে চলেন সাবলীল ' ( ' ঘুম- ৪), '   আমি রাই,  ও কালা/  ও আর বাঁশি বাজায় না/  মোবাইলে ডেকে নেয় '। ( ' জল বিলাশ - ১৩') ।

                কবির কবিতা দীর্ঘ দিন ধরে পড়ে চলার কল্যাণে বুঝতে পারি তাঁর ধীরে ধীরে কবিতার ভেতরে ঢুকে পড়ার গতিপ্রকৃতি । তাঁর কবিতা লেখার অনবরত অভ্যেসের কারণে যে কবিতার জন্য অনিবার্য তাগিদ ফুটে ওঠে তার যদি সুদিকটি দেখি তবে বুঝে নেব সেই কারণেই তিনি প্রাণবন্ত ও গতিশীল । ফলে সচেতন ভাবে কবিতায়  কুশলী পরিবর্তন করতে পারেন ,  মোচড়  দিতে পারেন ইচ্ছেমতো  ।

                কবির ' মানচিত্র ছিঁড়ে মধুমাস ' কার্যত সেই অভ্যেসের ফসল । তাঁর কবিতা জোর করে বুঝতে হয় না,  আপনিই অনুরণিত হয় । তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ:  ' হাত বাধ্য থাকলেও শরীর নয়/  শরীর ছুঁয়ে যায়  কৃষ্ণ গহ্বর থেকে সমুদ্র মন্থন '  ( ' শরীর- ৪' ) ,  বিশ্বাসী শহর/  হাতে হাতে মানববন্ধনের ইস্তাহার ছড়িয়ে যাচ্ছে । ' ( ' ক্যানভাস- ৪')। না,  কিছুতেই প্রচ্ছদকার সৈকত নায়ককে প্রশংসা করা গেল না প্রচ্ছদকর্মের জন্য । কাব্যগ্রন্থের ইমেজ টেনে আনে না ।

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১৪১ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক বিভাগ

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৪১.

এবার উত্তরবঙ্গ সফর করা যাক। ভ্রমণে নয় , কবিতা-পাক্ষিক-এর ১০ বছর পূর্তি উৎসবের সফর। একে কবিতা-সফরও বলা যেতে পারে।

আমরা উত্তরবঙ্গকে দুই পর্বে ভাগ করে নিয়েছিলাম।

প্রথম পর্বে ছিল কোচবিহার এবং শিলিগুড়ি। জুলাই -এর ৫ এবং ৬ ।  ২০০৩ ।

প্রায় ২২ ঘণ্টা বাসজার্নি করে কোচবিহার বাস ডিপোতে পৌঁছেছিলাম ৫ জুলাই ।আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল সুবীর সরকার বিপুল আচার্য সহ আরো কয়েকজন। আমরাও দলে ভারী ছিলাম।

সকাল ১০ টায় উৎসব শুরুর কথা ছিল। কিন্তু বাসের যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য মালদাতে বসে থাকতে হয়েছিল ঘণ্টা তিনেক। কলকাতা থেকে আমরা অনেকেই গিয়েছিলাম। শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় জানাল এই দলে ছিলাম : নাসের হোসেন শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় মুরারি সিংহ যূথিকা এবং আমি।

মঞ্চের নামকরণ  হয়েছিল কালজয়ী কথাকার অমিয়ভূষণ মজুমদারের নামে।আয়োজক : সুবীর সরকার এবং বিপুল আচার্য। কবি অরবিন্দ সরকার তখন কোচবিহারের জেলা তথ্য আধিকারিক।

এসবই আমাদের অনুকূলে ছিল। বর্ণময় ছিল ওই উৎসব।

একটি অপ্রিয় ঘটনা ঘটেছিল। আমরা কিছুদিন তা মনে রেখেছিলাম। তারপর ভুলে গিয়েছিলাম। এখনো ভুলে থাকতে চাই।

কোচবিহার থেকে শিলিগুড়ি বাসযাত্রা।মনে আছে ভোরবেলার বাস ধরেছিলাম।

শিলিগুড়ি পৌঁছে শান্তনু চলে গেল এর তুতো দাদা প্রণব চট্টোপাধ্যায়-এর বাড়ি।প্রণব তখন আকাশবাণী শিলিগুড়ির আধিকারিক। এই অনুষ্ঠান ওর পূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছিলাম। একথা উল্লেখ না করলে অন্যায় হবে।

আয়োজক ছিলেন তপন মজুমদার এবং কবি অসীম দাস। তপন মজুমদার Books - এর কর্ণধার। কবিতা পাক্ষিকের শুভার্থী। বন্ধুজন। কবিতাপাক্ষিক পত্রিকা এবং প্রকাশনীর বই বিক্রির একমাত্র আশ্রয় ছিলেন তপনবাবু এবং Books.

অনুষ্ঠানটি হয়েছিল রামকিংকর সভাগৃহ , তথ্যকেন্দ্র , শিলিগুড়ি।আমরা সকলে তো ছিলাম। সরকারি সভাঘর।শিলিগুড়ির প্রায় সকল কবিলেখকের আন্তরিকতায় আমরা সমৃদ্ধ হয়েছিলাম।

দুপুর দুটো থেকে প্রায় সন্ধে পর্যন্ত কবিতাপাঠ গান এবং আলোচনায়  পূর্ণ ছিল সভাঘর।

উষ্ণ ভালোবাসা নিয়ে রাতের বাস ধরেছিলাম। 

কলকাতা ফিরে পরের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি।

এখন মনে হচ্ছে একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম তিন মাস। গ্রামেগঞ্জে যেমন ঠাকুরের ভর হয় , আমাদেরও মনে হয় কবিতার ভর হয়েছিল । এটাকে কিছুতেই গাগলামি বলতে পারি না । এটা কবিতাযাপনের একটা অধ্যায়। যাঁরা এখন লিখতে এসেছেন , আগামীদিনে যাঁরা লিখতে আসবেন , তাঁরা জানবেন কবিতার ভন্য , শুধুমাত্র কবিতার জন্য এই সফর আমরা করতে বাধ্য হয়েছিলাম কেন। 

এই লেখার শেষ পর্বে আমি এর উত্তর দেব। আমার বিবেচনার সেই উত্তরের জন্য পড়তে থাকুন এই গদ্য। সৌমিত্র রায় -এর জন্য লেখা এই গদ্যটি।

আটপৌরে কবিতা ৮০৬-৮১০ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

 আটপৌরে কবিতা

নীলাঞ্জন কুমার


৮০৬

সুষমা/  প্রকৃতি/  মানবতা
        )  নারী  (
যাঁর গর্ভে সবাই জাত ।


৮০৭

নির্ঝঞ্ঝাট/  আটপৌরে/  নিরভিমান
           )   ভদ্রলোক (
   মার্জিত হয়ে কাটে দিনকাল ।

৮০৮

একান্নবর্তি/  সহমর্মি / সমচিন্তক
          ) অবিচ্ছিন্ন (
    হলে বেশ সাহস বাড়ে ।

৮০৯

ধৈর্য / সময়/  আশা
    )  প্রতীক্ষা  (
করি শুধু সময়ের জন্য ।

৮১০

ঋণহীন / প্রতীকী/  বৈবাহিক
       ) কনকান্ঞ্জলী  (
সে বড় বিষাদের মুহূর্ত ।


নস্টালজিয়া ১৭ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

নস্টালজিয়া ১৭

পৃথা চট্টোপাধ্যায় 



"আশ্বিনের মাঝামাঝি   উঠিল বাজনা বাজি / পূজার সময় এলো কাছে" এ শুধু নিছকই কবিতা ছিল না আমার ছোটবেলায়, এই কবিতার অনুভবের ব্যাপ্তি ছিল শৈশবের মন জুড়ে। এই বছরটা (২০২০)আমাদের সবার  জীবনেই  সমস্ত অভিজ্ঞতার  বাইরে। তাই এবারের সঙ্গে কোনো সময়ের তুলনা করা যায় না। তখন  আশ্বিন মাস এলেই আকাশের রং কেমন পাল্টে যেত,বাতাসে শিউলির সুবাস, কাশের বনে লাগত দোলা।আমার  ছোটবেলার একটা স্বভাব ছিল কবিতায় প্রকৃতির যে রূপ বর্ণনা পড়তাম তার সঙ্গে বাস্তবকে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করতাম। এটা শিশুকাল থেকে আপনা হতেই গড়ে উঠেছিল। "এসেছে শরৎ হিমের পরশ" পড়তে পড়তে "আমলকি বন কাঁপে যেন তার বুক করে দুরু দুরু " পড়লেই অপূর্ব অনুভবে রোমাঞ্চিত হতাম। আমলকি গাছ তখন দেখি নি , অথচ সেই গাছের পাতা খসে যাওয়ার সময় সমাগত জেনে  আমার মন কী এক বিষণ্ণতায় ছেয়ে যেত যেন। 

   এই আশ্বিনে মনে পড়ে ঘাসের  বনে,  গাছের পাতায় খুব ফড়িং এর ওড়াউড়ি হত। তখন নানা রঙের প্রজাপতিও দেখতাম ফুলে ফুলে উড়ে বেড়াতে। আগে ই বলেছি আমাদের বাড়িতে অনেক  ফুলগাছ ছিল। তাই হয়ত প্রজাপতি আসত সেই সব ফুলের মধু পান করতে ।আমার ছোটবেলায় ফড়িং ধরার নেশা ছিল। তাই বলে কখনই তাদের  ধরে ডানা ছিঁড়ে ফেলতাম না। পুজোর আগে এ এক আনন্দের বহিঃপ্রকাশ। তখন আমাদের  এ এক খেলা ছিল। চারিদিকে পুজো পুজো ভাব জাগলে মনেও লাগত খুশির ছোঁয়া। আমরা তখন  জানতাম কোথায় বেশি ফড়িং ওড়ে। আমাদের বাড়ির কাছে  ফাক্কু নবাবের একটা মস্ত বাগান ছিল।  সেখানে  আম, জাম  কাঁঠাল, ফলসা এসব অনেক বড় বড় গাছ ছিল। সেখানে ঘাসের জমিতে অনেক ফড়িং উড়ত। আমরা ছেলে মেয়ে অনেকে মিলে সেখানে ফড়িং ধরার খেলায় মাততাম। ফড়িং ধরে তাদের কচি ঘাস খাওয়াতাম।খেলি হলে আবার তাদের উড়িয়ে  দিতাম । এই সময়ে আমরা ঘুড়িও  ওড়াতাম খুব। আমরা খোলা ছাদে ঘুড়ি ওড়াতাম বলে মা ঠাকুমার কাছে বকাও খেতাম । আমাদের বাড়িতে নারকেল গাছ থাকায় ঘুড়ি ওড়ানোর অসুবিধা হত। তাই ঘুড়ি লাটাই নিয়ে চলে যেতাম  প্রতিবেশী বন্ধু তেওয়ারিদের বাগানে। তবে সত্যি বলতে কি  আমার এসবের আয়োজনটাই ছিল বেশি,  আমার ঘুড়ি বেশি উঁচুতে উড়ত না। আমার ঘুড়ি লাটাই অন্যরা নিয়ে ওড়াতো আর আমি ঘাসের জমিতে বসে দূর আকাশে রং বেরং এর  ঘুড়ির ওড়া দেখে মুক্তির আনন্দ উপভোগ করতাম।

Monday, September 21, 2020

বিশ্বজিৎ || ঘোড়া || কবিতা

 বিশ্বজিৎ

ঘোড়া



তুমি বরাবর শিক্ষা নিতে

ভালবাসো।শিক্ষার ভেতরেও

একটা শিক্ষা থাকে।অচেনা

গলির ঘ্রাণ...


রক্ত আছে

মাংস আছে


তুমিও বোঝ

নদী কীভাবে বাঁক নেয়।

উনত্রিশ পয়েন্ট ফাইভ - ৪৪ || সোমনাথ বেনিয়া || কবিতা

 কবিতা উনত্রিশ পয়েন্ট ফাইভ - ৪৪ / সোমনাথ বেনিয়া জাগতিক সব কাজে গন্ধ আছে, জানে সময়, জানে মহাকাল গতিরেখা বরাবর ছুটলে একসময় হাতের মুঠোয় মথিত শৈ...