অনুবাদ কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অনুবাদ কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২১

প্রেমের ফল্গুধারা বইয়ে দাও ।। রুদ্র সিংহ মটক ।। মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদঃ বাসুদেব দাস

প্রেমের ফল্গুধারা বইয়ে দাও

রুদ্র সিংহ মটক 

মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদঃ বাসুদেব দাস 



প্রেমের ফল্গুধারা বইয়ে দাও 

মধ্যযুগীয় ধর্মের আফিঙ খেয়ে 

এখন যে মাতাল সময় 


মসজিদে আগুন জ্বলে 

মন্দিরের স্বর্ণচূড়া খসে 

কেঁপে উঠে দেশের মানচিত্র 


আকাশে ছড়ায় ভয়ের 

কালো মেঘ শঙ্কার ভূত 

কুটি কুটি করে খাই প্রেমের সবুজ 

শুষে নিই 

বিশ্বাসের রক্ত 


শ্বাস প্রশ্বাস কীভাবে নিই

বাতাস ছাপিয়ে বিস্ফোরণের গান 


এখানে রামের রক্তে জ্বলে আজানের প্রদীপ 

রহিমের রক্তে 

শুদ্ধ হয় মন্দিরের বেদী


আমরা যে মানুষ কীভাবে সই

রক্তক্ষরিত মাটির প্রজ্বলিত মুখ।


ঈশ্বরকে বারবার শাপ দিয়েছি 

আল্লাকে অভিশাপ 

এসো পুনরায় বিশ্বাসের হাত মেলে 

একে অপরকে আলিঙ্গণ করি,

চুমু খাই একে অপরকে 

ধর্মহীন এই পাপের পৃথিবীতে  



মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২১

কবি অজিত গগৈ ।। অনুবাদ কবিতাগুচ্ছ ।। অনুবাদ করেছেন বাসুদেব দাস, Ajit Gagai

কবি অজিত গগৈ ।। অনুবাদ কবিতাগুচ্ছ ।। অনুবাদ করেছেন বাসুদেব দাস 



কবি পরিচিতি–১৯৬৮ সনে  কবি অজিত গগৈ জন্মগ্রহণ করেন।'অরণ‍্যর শোভাযাত্রা' কবির  প্রথম কাব্য সংকলন।২০০৬ সনে মুনীন বরকটকী  পুরস্কার লাভ করেন। কবির  একাধিক কাব্য সংকলন প্রকাশিত হয়েছে।'জীবনর সুরীয়া বাঁহী' কবির  একমাত্র গল্প সংকলন।




 ঘুম

অজিত গগৈ

মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ- বাসুদেব দাস


উঠ ঘুম

কত পড়ে থাক বিছানায়


রাত দুপুর হল

মিনতি করছি– উঠ,

তুমি উঠলেই অর্থময় হবে অন্ধকার।


এই অন্ধকারে বাস্তবের স্বপ্নে মত্ত  একদল মানুষ

রক্তিম চোখ ,শ্বাপদের মতো আচরণ

নিজের ছাল ছাড়ানোর জন্য প্রায় প্রস্তুত!


ঘুম... তোমার মধ্য দিয়ে দেখা স্বপ্ন সুন্দর

বাস্তবে দেখা স্বপ্ন ভয়ঙ্কর।

ভয়ংকর স্বপ্ন দহন করছে সময়

হে ঘুম, তুমি উঠ; উঠ…

উজাগরি মানুষের চোখে চোখে গড়িয়ে  যাও

সপ্তসুর হয়ে বেজে উঠ বুকে

স্বপ্ন হয়ে নেচে উঠ আত্মায়।


মানুষগুলি ঘুমিয়ে পড়ুক

নতুন করে জেগে উঠার জন্য।


কবিতার শব ব্যবচ্ছেদ

অজিত গগৈ 

মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ– বাসুদেব দাস


মর্গ থেকে তুলে এনে

সুতীক্ষ্ণ ছুরিতে ব্যবচ্ছেদ করছি এই কবিতার শব।


জাঁকজমক পোশাক পরিয়ে উলঙ্গ করেছি কবিতাকে,

শব্দালঙ্কার,  অর্থালঙ্কারকে;

' কবিতা' শব্দকে মুক্তি দিয়েছি আভিধানিক অর্থ থেকে।


কবিরা বারবার চুম্বন করায় অঙ্গারের মতো কালো হয়ে পড়েছিল

কবিতার দুটি ঠোঁট,

জান্তব আচরণে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল শরীর...।


( কবিদের অনেকেই ইতিমধ্যে কবিতা কে ধর্ষণ করে পালিয়ে গেছে

খ্যাতির শীর্ষবিন্দুতে,

অনেককে আটক করা হয়েছে পুরস্কারের বন্দিশালায়!)


ঘৃণ্য হয়ে কবিতা গন্ধ ছড়াচ্ছে,

আমি বিদীর্ণ করেছি কবিতার বক্ষস্থল;

ছিন্নভিন্ন করেছি জরায়ু, হাতুড়ি মেরে ভেদ করেছি

মগজ।


অক্ষরে

অজিত গগৈ 

মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ– বাসুদেব দাস


স্বপ্নের চারা- অঙ্কুর খুঁজে বেড়াচ্ছি অক্ষরে 

অক্ষরের চিপরাং নিয়ে খুঁড়ছি পাথর

অক্ষরের মৈ বানিয়েছি আকাশের চাঁদ- সূর্যের জন্য

তোমার-আমার দুই গ্রামের মধ্যে সেতু বেঁধেছি


অন্ধকারকে অন্ধকার বলে দেখাতে চাইছি,

আলোর সবাক ছবি আঁকতে চাইছি

অক্ষরে…


অক্ষরের শিকল দিয়ে বাঁধার কথা ভাবছি একে অপরকে


অক্ষরগুলি মাটিতে ছড়িয়ে  দিয়েছি

গজিয়ে উঠুক…

বটবৃক্ষের মতো ছায়া দিক


অক্ষরের  দীর্ঘ হাতগুলি মানুষের হাত হোক,

অক্ষরের পা দিয়ে মানুষ লাফিয়ে পার হোক খারাপ সময়


সমূহ বই থেকে, কম্পিউটারের স্টোরেজ থেকে দলে দলে

বেরিয়ে আসা অক্ষর একদিন

আকাশ থেকে ছোঁ নেমে আসা তারার সঙ্গে অন্তরঙ্গ

আলাপ করবে…

চোখ দিয়ে আমি এরকম একটা স্বপ্ন দেখেছি।

------

টীকা -

চিপরাং–মাটি খনন করার এক ধরনের লোহার অস্ত্র।


পলু -জীবন

অজিত গগৈ

মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ– বাসুদেব দাস


আত্মগোপন?

না। নিজের পথ বন্ধ করে

তোমার জন্য একটা পথ কেটেছি?

তপস্যা?

হতে পারে। এই মহাশূন্যতায় নিজের মুখের আঁশে 

নিজেকে বেঁধে ফেলেছি,

তোমাকে মুক্ত করার জন্য।

নিজেই নিজের পক্ষ আর বিপক্ষ হয়ে

এক ভয়ঙ্কর খেলা খেলছি ।

নিজেকে হারাচ্ছি

আবার জেতাচ্ছি…

দক্ষ খেলোয়াড় হয়েছি,

তোমার সঙ্গে না হারা- না জেতা খেলা একটা খেলার জন্য

আর বাতাসের বাগানে মরার জন্য!

-------

টীকা-

পলু-পাট,মুগা,এণ্ডি আদির পোকা।

শরীর

অজিত গগৈ

মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ– বাসুদেব দাস


শরীরের জন্যই ক্ষুধা আর বিদ্রোহ,

শরীরের জন্যই প্রার্থনা;

শরীরের জন্যই অমরত্ব আর নির্বাণ


'...মধ্যে ক্ষমা চকিত হরিণী প্রেক্ষণা নিম্ন নাভি…'

––--------আর ––-------

'বুক খাল , চোখ লাল…'

––------ তারপরে–---–-----

' অস্থির এই সংসার!'


ক্ষণভঙ্গুর বলে জানার পরেও

শরীর ডাকে শরীরকে,

শরীর খুঁড়ে শরীরকে;

শরীর মারে শরীরকে







মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২১

অনুবাদ কবিতা ।। হেমাঙ্গ কুমার দত্ত ।। মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ -বাসুদেব দাস, 33

অনুবাদ কবিতা 

হেমাঙ্গ কুমার দত্ত

মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ -বাসুদেব দাস





বন্দীশালার কবিতা

হেমাঙ্গ কুমার দত্ত

মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ -বাসুদেব দাস

এক মুহূর্তের জন্য আমাকে মুক্তি দাও

আমি পরীক্ষা করে দেখতে চাই পৃথিবীকে

জানতে চাই বাইরের মুক্ত পৃথিবী

গোপনে কতটা সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ার ফলে

একটি ঘরে পাঠানো হয় এত মানুষকে


এক মুহূর্তের জন্য আমাকে মুক্তি দাও

আমি পরীক্ষা করে দেখতে চাই পৃথিবীকে

সেখানে ব্যক্তি কতটা স্থানু আর জড় বলে

প্রয়োজন নেই তাদের দেওয়ালের


এক মুহূর্তের জন্য আমাকে মুক্তি দাও

আমি পরীক্ষা করে দেখতে চাই পৃথিবীকে

বুঝতে চাই এই বন্দীশালায়

অপরাধগুলি সত্যিই বন্দী কিনা

শাস্তিগুলিই এখানে বন্দী


ধর্মযুদ্ধ

হেমাঙ্গ কুমার দত্ত

মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ -বাসুদেব দাস

কখনও ঈশ্বর অনুভব করে

প্রয়োজন তার শোধিত হওয়ার


সময়ের সংক্রমণের সমস্ত প্রলেপ মুছে

পুনরায় একবার নিজেকে উজ্জ্বল করে দেখার


সেদিন ঈশ্বর পৃথিবীতে আগুন জ্বালেন

পৃথিবী জ্বলে পোড়া তাপে শোধিত হয় ঈশ্বর


জীবন্ত দাহ এবং দাহ সংস্কারের পরে

এক টুকরো আগুন ছাই হয়ে মাটির বুকে

(আত্মা স্বর্গে যাক বা না যাক

শরীর ধীরে ধীরে বিলীন পাতালে)

নিচে আগুন নিভতে না চাওয়া শিখা

সুপ্রভ হয়ে ঈশ্বরের ওপরে

(পৃথিবী থেকে তাকালে

কালো ধোয়ার সঙ্গে একসঙ্গে দেখা যায়)


একদিন আগুন নিভে যায়

পুনরায় জেগে ওঠে ঘর রাজপথ বাজার এবং মন্দির


নতুন যুগের আশীষ কামনা করে

জ্বলে উঠে মন্দিরে একটি প্রদীপ


পরবর্তীকালে পৃথিবী জ্বালানোর জন্য

সেই ক্ষুদ্র অস্ত্র ঈশ্বরকে মানুষের উপহার


ভিক্ষা

হেমাঙ্গ কুমার দত্ত

মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ-বাসুদেব দাস

আধুলিটা নেবার সময়

তুমি হেসে বললে অনেক পেয়েছ


আধুলিটা দেবার সময়

আমিও ভেবেছিলাম ইস বেশি দিলাম


হিসেবের সমতায়

দেখিয়ে গেলে বাংলোয় পরিবৃত আমার দীনতা


অন্য ইউরেকা

(আর্কিমিডিসের কাছে ক্ষমা প্রার্থনায়)

হেমাঙ্গ কুমার দত্ত

মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ -বাসুদেব দাস

আর্কিমিডিস স্নান করা ঘরে কী পেল কী পেল 

রাজমুকুটে ভেঁজালের পরিমাণ?

বড় ভালো হল এখন মুকুটগুলি আরও বেশি মুকুট হবে 

রাজারা আরও বেশি রাজা 


এইবার বেশি সোনায় মুকুট ভারী এবং 

এত ওজন বয়ে বেড়ানো রাজার কাজ নয়


রাজা এবার তাই সিংহাসনে বসে থাকবে রুটিনের বেশিরভাগ সময় 

রাজকবির চোখে দেখবে প্রজার বর্তমান 

যাজকের হাতে নির্মাণ করবে ভবিষ্যৎ

-রাজা এবার বেশি করে রাজা   


রাজা হবে বেশি করে রাজা গুণে বেড়ে 

সংখ্যায় বাড়বে তাঁর রাণী

রাজা এবার পুরোপুরি আইনসম্মত

অন্যের মতো রাজা ভাঙ্গে না পরিবর্তন করে আইন 


রাজা এবার রাজ্যের সীমা পার হয়েও রাজা 

দিগ্বিজয়ই যেহেতু রাজার স্বাভাবিক বিদেশ-ভ্রমণ 

-রাজা এবার বেশি করে রাজা


সমস্যা হল রাজা বেশি করে রাজা হলে 

প্রজা হয়ে পড়ে বেশি করে প্রজা

  

পাব্লিক কল

হেমাঙ্গ কুমার দত্ত

মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ-- বাসুদেব দাস


হ‍্যালো কেমন আছ, কেমন আছেন ইনি

মনে পড়ছে খুব– তাই

কতদিন হল সেই তখনই দেখা হওয়া শেষবার


না না, কিছুই জানতে পারিনি

বাঃ সুন্দর, কোথায় ঠিক হল

ভালো খবরতো, ভাগ্যের কথা আজকাল এভাবে


কী বললে, মারা গেছে, কবে, কী হয়েছিল

ইস অকালে, বড় ভালো ছিল

শৈশবে একবার যাবার পরে আমাকে যে, আসতেই  দিচ্ছিল না

বিশ্বাস করা শক্ত, সত্যিই


ঠিক আছে, রাখছি তাহলে

তুমিতো বুঝতেই পারছ

সত্যিই, বেড়ে গেছে কথার খরচ

হাসির খরচ, দুঃখের খরচ,প্রেমের খরচ

সীমিত শব্দ– মিনিটে মেপে–

সীমিত ভাবোচ্ছাস


কবি পরিচিতি--১৯৭৩ সনে অসমের দরং জেলার টংলায়  কবি হেমাঙ্গ কুমার দত্তের জন্ম হয়। পিতা হরিহর দত্ত এবং মাতা  তিলোত্তমা দত্ত।২০০০ সনে তার একমাত্র কাব্য সংকলন' অথবা' প্রকাশিত হয়।২০০২ সনে সংকলনটি মুনীন বরকটকী   পুরস্কার লাভ করে।২০০৬ সনে কবি নিরুদ্দিষ্ট হন।









Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...