সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

কিছু বই কিছু কথা ২৮৬ । অলোক বিশ্বাস ৷ আমি ঈশ্বরকে দেখেছি পাথরের মূর্তিতে নয় লিঙ্গে ৷ মৃৃৃৃৃৃত্যুঞ্জয় জানা

 কিছু বই কিছু কথা ২৮৬ । অলোক বিশ্বাস



আমি ঈশ্বরকে দেখছি পাথরের মূর্তিতে নয় লিঙ্গে : মৃতুঞ্জয় জানা
আলোচক : অলোক বিশ্বাস

সামাজিক পরিবেশ, বৃহত্তর পারিবারিক পরিবেশ, রাজনৈতিক পরিবেশ--- এসব বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল কবি মৃত্যুঞ্জয় জানা। এই সংবেদনশীলতা যেমন প্রত্যক্ষরূপে ধার করা নয়, তেমনি আবহমান কালের চিহ্ন থেকেও খুব দূরে নয়। কবির নিজস্ব বিশ্বে সংবেদনশীলতার পৃথক ব্যঞ্জনা আমরা দেখেছি বহুক্ষেত্রে। মৃত্যুঞ্জয় জানার কবিতায় কাব্যিক পরিশীলনের প্রসঙ্গটি সংহতরূপে পেয়েছি আমি। কবির সাম্প্রতিক প্রকাশ : 'আমি ঈশ্বরকে দেখছি পাথরের মূর্তিতে নয় লিঙ্গে'। গ্রন্থটিতে ৪৮ টি কবিতা, শিরোনামহীন। প্রতিটি কবিতা সহজ মানুষের সহজ কণ্ঠের ভাষা, তাঁর বেঁচে থাকার ভাষা, তাঁর অস্তিত্বের লড়াইয়ের ভাষা। কবি মৃত্যুঞ্জয় জানা সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার ভাষাকে রূপান্তরিত করেছেন কবিতার ভাষায়। যে ভাষা সামাজিক মানুষের কাছ থেকে শুনি সমাজের বিভিন্ন পরিসরে, তাকেই পরিশীলিত রূপ দিয়েছেন কবি তাঁর সকল কবিতায়। প্রতিটি কবিতায় সহজবোধ্যতার মধ্যে প্রয়োগ করেছেন কবিতার নিজস্ব নন্দনকলার কারুকাজ। প্রথম পাঠেই কবিতাগুলো সরাসরি পাঠককে দ্রুত সংবেদনশীল করে তুলবে। প্রতিকবিতার(anti-poetry) একাধিক গুণে ভরা মৃত্যুঞ্জয় জানার উক্ত গ্রন্থের কবিতাগুলো। কবির হার্দিক অনুভব বিস্তারিত হয়েছে সংহত ভাষায়। প্রাতিস্বিক রূপ অর্জন করেছে নিশ্চিতভাবে। মাটির একেবারে সান্নিধ্যে থাকা কবির প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা কাব্যময় ভাষায় লিপিত হয়েছে। সহৃদয় আন্তরিক ভাবনায় লেখা প্রতিটি কবিতা। কবির সক্রিয় মনের উত্তাল অবস্থা বাক্যে বাক্যে প্রতিফলিত। সর্বত্র পরিশীলিত রূপ সেই ভাষার। কনফেশনাল কবিতার ঐতিহ্যকে কবি মর্যাদা দিয়েছেন এই কাব্যে। পরিবেশের প্রকৃত বন্ধুর ভূমিকা পালন করতে দেখছি কবিতার ভিতরে কথাবলা মানুষটিকে--- "একটি ঘর তৈরি করে যেতে অবিরাম চেষ্টা করছি/বাঘ আর হরিণ ছানা খেলা করবে/বিড়াল কাঠবিড়ালিকে আদর করবে/ঝলমল রোদ্দুরে সেতো স্বর্গ"(১৫ সংখ্যক কবিতা)। এই গ্রন্থে কবি মানুষের বিবেককে সর্বদা জাগরুক রাখার প্রত্যাশা করেছেন। চেয়েছেন সর্ব সাধারণের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসার সেতু নির্মাণ। প্রকৃতির মধ্যে যে শান্তি, যে অম্লান নিরবতা বিরাজ করে, কবিতাগুলোতে বেজে উঠেছে সেসবের আবাহন। মানুষের অস্তিত্বকে বাঁচিয়ে রাখার ছবি প্রতীকায়িত করেছেন একটি কাগজের নৌকার মাধ্যমে--- "নদীর জলে ডুবে গেছে নদী/কাগজের নৌকাটি/তবুও ভেসে আসে ঢেউয়ে অচেনা কূলে"(৩৫ সংখ্যক কবিতা)। প্রান্তিক মানুষের দেশ চিত্রিত হয়েছে কিছু কবিতায়। কবির জন্য অনেক শুভকামনা।

২টি মন্তব্য:

নীলিমা সাহা-র আটপৌরে ৩৭৩-৩৭৫ নীলিমা সাহা //Nilima Saha, Atpoure Poems 373-375,

  নীলিমা সাহা-র আটপৌরে ৩৭৩-৩৭৫ নীলিমা সাহা //Nilima Saha, Atpoure Poems 373 -375,   নীলিমা সাহার আটপৌরে