বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ৮০ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


৮০.
বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় আশুতোষ কলেজের। হাজরা থেকে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের দূরত্ব হাঁটারাস্তা। সেসময় বিনায়ক যাদবপুরের দিকে থাকতো। ওকে যোধপুর পার্ক- লেক গার্ডেন - এর ধর্মস্থানগুলিকে পাশ কাটিয়ে আসতে হত হরিশ চ্যাটার্জিতে। এর জন্য পুরো কৃতিত্ব বাংলার বাঘের। বা আশুতোষ কলেজের। বাংলার বাঘের কোনো বিকল্প নেই। বিনায়ক তখন তার মাস্টারমশাই শুভংকর চক্রবর্তীর কথা খুব বলত। ভাবত আশুতোষে একটা ঘর নিয়ে কবিতাপাঠের আসর বসুক। তা হয়ে ওঠেনি। আমি ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারিনি বলেই।
সেসব গল্পকথা তোলা থাক।
বিনায়ক কবিতাপাক্ষিক ইনিংস শুরু করেছিল  দ্বিতীয় লাইন থেকে।কপা ৫১ । পড়তে থাকি দ্বিতীয় লাইন :
' দ্বিতীয় লাইন আজ ঘুম ভেঙে জেগে উঠছে হঠাৎ ।
দ্বিতীয় লাইন মুছে ফেলছে
'  প্রথম লাইন স্বপ্নে পাওয়া '/ কথাটা।
আর শেষের সেই ভয়ংকর লাইনটি পড়ছি , শুনুন :
' দ্বিতীয় লাইন আজ কবিতাকে স্বভাব-চরিত্র পাল্টাতে বলছে '।
আমি প্রকৃতই মুগ্ধ হয়েছিলাম। মনে রাখবেন তখনো কিন্তু ' সাক্ষাৎকার ' প্রকাশিত হয়নি।
কপা ৬৮ -এ বিনায়কের ' অন্তরাল ' প্রকাশিত হল।
' গোপালের গেঞ্জি পরুন !
গোপালের জাঙ্গিয়া পরুন ।
তাহলে গোপাল কী পড়বে ? '
এই অমোঘ প্রশ্নটি শুনিয়েছিল বিনায়ক । আমি ভাবতে বসেছিলাম : এই প্রশ্নটি বিনায়ক পেল কোথায়।
ওই কবিতার আরো কিছুটা :
' আচ্ছা লেখা যাক গোপাল অশিষ্ট
গোপাল এক আহাম্মক যার সাত জায়গায়... ...
ইস দুর্গন্ধ ! '
খুব খোলাখুলি বলে রাখি একটা কথা , সেসময় আমার মনে হয়েছিল আমার এক বড়ো প্রাপ্তি
বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিনায়ক সেসময় যা যা লিখেছে তার সবটুকুই ওর নিজস্ব অর্জন।
কবিতাপাক্ষিক ৭৪ - এ বিনায়কের চারটি ছোটো কবিতা ছিল। কবিতাগুলির অংশ বিশেষ দেখে নেওয়া যাক।
১॥ সূর্যের ভিতরে একজন থাকেন ।
      গায়ে গেরুয়া শাল ,হাতে লাঠি , খড়ম থেকে
       চন্দনের গন্ধ।
২॥ এগারোই করার কথা ছিল।      পঁচিশ অবধি
       টানলাম।
এই কবিতাটির নাম আত্মহত্যা। নামটা জানার পর আর একবার পড়ে দেখুন।
এগারোই আত্মহত্যা করার কথা ছিল।পঁচিশ অবধি টানলাম। শেষে লিখেছিল : কারও কপালে পুত্রশোক থাকলে / আমি তো খণ্ডাতে পারি না !
৩॥ ভালোবাসি না।অথচ তোমাদেরই লিখি।
কবিতাটির নাম : সাপ ব্যাঙ।
৪॥ রাস্তা পার হচ্ছিলাম।
      হাতের ওপর লরি , পিঠে জিপ
      নীল স্কার্ট , সাদা টুপি হাত ধরল ----
      ' এভাবে নয় , চারদিক লক্ষ করে '  ...
      যদি তোমায় সঙ্গে নিয়েই পেরোই ?
কপা ৮৮ - তে বিনায়কের ছ-টি কবিতা। এগুলিতে আমি কবিতার নামকে গুরুত্ব দিয়ে কবিতা দিচ্ছি।
সাপ  ॥ কাচের ভিতর শুয়ে থাক ।
কুমির ॥ নদীর মধ্যে জল / পাশে তুমি।
হৃদয়পুর ॥ অন্ধ গুটি গুটি এগোচ্ছে স্বপ্নের দিকে ;
দর্শক ॥ আমার দুটো হাত নেই।/ সত্যি বলতে , দুটো পাও  বেশ কিছুদিন হল খুঁজে পাচ্ছি না ...
গদাধর চাটুজ্যে ॥ দশদিক থেকে নবগ্রহ যদি ছুড়ে মারে ডেকচি , কড়াই , / স্বপ্ন আসবেই ...
মায়াবন বিহারিণী ॥ চেনাচূর দিই --- খাও না। /
ছোলাভাজা --- পছন্দ নয়। / মহেশ আগরওয়ালা  আইশক্রিম নিয়ে আসে ,
এই আমার কাছে বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ।পরবর্তী সময়ের বিনায়ক আমার কাছে অপরিচিত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

একগুচ্ছ হাইকু || সুধাংশুরঞ্জন সাহা || কবিতা

একগুচ্ছ হাইকু সুধাংশুরঞ্জন সাহা (এক) আমার আছে নানা রঙের পাখি মায়াবী চোখে । (দুই) দুদিন ছিল একটু মনমরা ঘরে বাইরে । (তিন) আজ আবার মানুষ মেখেছ...