রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ৭৬ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক বিভাগ

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


৭৬.
 গতকাল ছিলাম দুর্গাপুরে। আজ ধরমপুর , ইন্দপুর , বাঁকুড়া। অর্থাৎ ভূদেব কর - এর বাড়িতে। পথ দেখিয়ে নিয়ে গিয়েছিল সুব্রত চেল। অনেকটা জায়গা নিয়ে বাড়ি। বাড়ির ভেতরেই বাগান। বাগানের গাছগুলি নবীন গাছ। আর অবাক হবার পালা : প্রত্যেকটি গাছের ডালে ঝুলছে পোস্টার। কবিতার পোস্টার।আর সেই কবিতাগুলির রচয়িতা আমি। সোজাকথায়
' প্রভাত চৌধুরী-র কবিতার নির্বাচিত পঙ্ ক্তিমালা।
একই সঙ্গে আনন্দ এবং বিস্ময়।
সেদিন আমি ভূদেবের বাড়িতে মাংস রান্না করেছিলাম। ওখান থেকে গিয়েছিলাম মুকুটমণিপুর।
সে অন্য গল্প।  এখন প্রবেশ করা যাক ভূদেব করের কবিতায়। কপা ৪৮ সংখ্যা।  দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উৎসবের ঠিক আগের সংখ্যায়। ওই সংখ্যায় বাঁকুড়ায় বসবাস কারী কবিদের লেখাই বেশি ছিল।ওই সংখ্যায় সুব্রত চেল সচ্চিদানন্দ হালদার নয়ন রায় মোহন সিংহ স্বরূপ চন্দ প্রণব চট্টোপাধ্যায় আনন্দ দাস  প্রদীপ হালদার প্রলয় মুখোপাধ্যায় সত্যসাধন চেল ভূদেব কর নির্মল রায় রামকৃষ্ণ মাজী অনিন্দ্য রায় কৌশিক বাজারী সুব্রত পণ্ডিত প্রদীপ কর -দের পাশাপাশি বিনয় মজুমদার সন্দীপ বিশ্বাস -এরও কবিতা ছিল।
ভূদেব-এর কবিতাটির নাম : একটি ঘোষণা।
 ' তোমরা জেনে আশ্বস্ত হবে ফুটো অল্প ছোটো বড়ো হলেও / কুমিরগুলি মোটামুটি একই চোখের জল  বজায় রাখেন ।'
 কপা ৬০- এ ভূদেব কর লিখেছিল ' আমি যা বলতে চাই '। কী বলতে চেয়েছিল পড়ুন :
' আমি যা বলতে চাই ঘাসগুলির কথা যে সমস্ত ঘাসগুলি / জন্মের পর জন্ম বাবা ও তার বাবা এবং  কিছু কিছু অকালে মরা/ মা তাদের চলাচলের পথে মাড়িয়ে যেত ...  ...
 কবিতাপাক্ষিক ৮২ -তে ছিল ভূদেবের দুটি কবিতা।একক প্রদর্শনী এবং শেষ চিঠি । কবিতাদুটি থেকে কয়েকটি করে লাইন :
১ ॥  যার তলদেশে কোনো ধোঁয়ার তো পাহাড় নেই
        কোনো নদীর ইশারা নেই , এক চিলতে
         সবুজ উপত্যকা ও কয়েকটি নীলাভ গাছের
          মাথায় / মেঘের আশ্বাস নেই
২ ॥  ঈশ্বর জানেন এরকম প্রায়শই হয় ।
       তবু এত হলুদের ব্যবহার এত বিচ্ছিরি লাল রং
                          চন্দনের গন্ধ
       মন পোড়ানো এরকম ব্যাকুল সানাই আমি ভেবে
       দেখিনি।
 শারদীয়  1996 -এ ভূদেব কর লিখেছিল ' কুশল সংবাদ ' । সংবাদটি কতটা কুশল , তা দ্যাখা যেতেই পারে। আপনারাও দেখতে পারেন :
' ভালো আছি মানেই এক ধরনের ছিটেবেড়ার আড়াল / সাদা চাদরে ঢেকে দিচ্ছি শরীরময় ক্ষত '
এই লেখার পাঠকদের সামনে উপস্থিত করছি ওই শারদীয় সংখ্যাটিতে  অগ্রজ কবিদের উপস্থিতির তালিকা। নামগুলো পড়তে থাকুন :
অরুণ মিত্র নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আলোক সরকার অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত বিনয় মজুমদার উৎপলকুমার বসু পূর্ণেন্দু পত্রী সমীর রায়চৌধুরী দিব্যেন্দু পালিত  ভূমেন্দ্র গুহ পার্থসারথি চৌধুরী , এই নামগুলি।
আর সেই সঙ্গে আমার সময়ের কবিদের নামগুলি অনুমান করে লিখে নিন , 70 পারসেন্ট মিলে যাবে।
যাঁরা অভিযোগ করেন আমি অকারণে অগ্রজদের অপমান করতাম , তাঁদের কল্পনাকে  আমি করুণা করলাম মাত্র।
আরো একটা অভিযোগ আছে আমার সম্পর্কে আমি আধুনিককালের কবি সমাজকে মর্যাদার চোখে দেখি না। এটাও ভুল।এই যে শুভশ্রী রায় , ভূদেব কর বা প্রদীপ কর প্রমুখ কবিদের যথেষ্ট মর্যাদার সঙ্গে , সম্মানের সঙ্গে কবিতাপাক্ষিকে স্থান করে দিয়েছি। আমি একজনকেও বহুরৈখিক কবিতা লিখতে ফরমান জারি করিনি।
এজন্য কবিতাপাক্ষিক -এর ইতিহাসে এদের স্থান দিলাম। আমি এখনো মনে করি ভূদেব কর এখনো কবিতাপাক্ষিকেরই কবি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

পূরবী-৪৫ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক বিভাগ

পূরবী-৪৫ অভিজিৎ চৌধুরী।। একটা আহ্বান থাকত সেই সমস্ত পুজোর দিনগুলিতে।আকাশের রোদ্দুরের।শরতেরও।আর প্রতিমার সঙ্গে মায়ের গায়ের গন্ধেরও।কোন কোন মু...