শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০

সবাই মিলে সিনেমা হলে~ ৪ || কান্তিরঞ্জন দে || প্রতি শনিবার

সবাই মিলে সিনেমা হলে~ ৪
কান্তিরঞ্জন দে



আপনি কোন্ দলে ?

      বাঙালি সিনেমা হলে কেন যায় ? কেন আবার ? সিনেমা দেখতে । কিন্তু কোন সিনেমা?

       কেউ যায় , সুন্দর নায়ক-নায়িকা দেখতে । কেউ যায় ঝিংকা - চাকা  নাচা গানার টানে । আবার কেউ যায় ঢিসুম ঢিসুম মারপিট আর দুর্ধর্ষ  অ্যাকশন দেখে পয়সা উশুল করতে ।

       অন্য আরেক অংশের দর্শক অবশ্য যান , গভীর সংবেদনশীল গল্পের টানে । বাস্তবনির্ভর  দক্ষ পরিচালনা এবং বিশ্বাসযোগ্য অভিনয় দেখতে । তারা অবশ্য সংখ্যালঘু ।
      হ্যাঁ , আজ এই ২০২০ সালেও দর্শক হিসেবে  তারা  সংখ্যায় নেহাৎই কম । কথাটা মর্মান্তিক হলেও সত্যি ।

      দুঃখজনক  হলেও সত্যি, আজও এ দেশের বহু মানুষের কাছে সিনেমা শুধুই ফুর্তির বিষয় । জন্মলগ্নে সিনেমা ছিল একটা বিস্ময় আর কৌতূহলের ব্যাপার । আরও বেশি বেশি লোককে  সিনেমাহলে টেনে আনবার জন্যে ক্রমশ নতুন নতুন কায়দা কানুনের জন্ম হতে লাগল । যন্ত্রপাতি , গল্পের , এবং গল্প বলার নতুন নতুন ক্রিয়া কৌশল ।
      গল্পে এল আবেগ ।  কান্নাকাটি , প্রেম -  -ভালোবাসা , এবং  নাচগান এবং মারামারি ।

       বাংলা সিনেমার বাজেট বরাবরই কম। তাই এখানে সাংসারিক - সামাজিক বিষয়ের ওপর বেশি বেশি জোর দেওয়া বাড়ল । দর্শক যদি প্রেম - রোম্যান্স আর হাসি কান্নায় মজে পয়সা উশুল মনে করে খুশি মনে বাড়ি ফিরতে পারে , তাহলে প্রযোজকেরও পয়সা উশুল হয় ।

     বাংলা সিনেমা সেই  ছক ভেঙে আজও যে খুব বেশি বেরোতে পেরেছে , এ কথা জোর দিয়ে বলা যায় না । তার মূল কারণ ----- অশিক্ষা ।
      আজ থেকে ৪৬- ৪৭ বছর আগে সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন , যতদিন না সার্বিকভাবে শিক্ষার প্রসার ঘটছে , ততদিন এ দেশে  চলচ্চিত্র সাক্ষরতাও খুব বেশি বাড়বার আশা করা যায় না ।

      পশ্চিমবঙ্গে ইদানীং  স্কুলকলেজের শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা অনেক বেড়েছে , কোনও সন্দেহ নেই । কিন্তু সিনেমা যে শুধু অযৌক্তিক নাচাগানা , ভাঁড়ামো , মারপিট , কান্নাকাটি এবং ফুর্তি এবং  দু-ঘন্টার  আমোদের বিষয় নয় , এমন চলচ্চিত্র - সাক্ষর মানুষ আর ক'জন ??

      সিনেমা শুধুই টাইমপাশ , আমোদ ।
    অথবা সিনেমা  , গভীর ভাবনা , গভীরভাবে প্রকাশের একটি শিল্পিত মাধ্যম।

      আপনি কোন দলে ?

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

একগুচ্ছ হাইকু || সুধাংশুরঞ্জন সাহা || কবিতা

একগুচ্ছ হাইকু সুধাংশুরঞ্জন সাহা (এক) আমার আছে নানা রঙের পাখি মায়াবী চোখে । (দুই) দুদিন ছিল একটু মনমরা ঘরে বাইরে । (তিন) আজ আবার মানুষ মেখেছ...