রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ৯৭ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

৯৭.
সুব্রত চেল ফোনে জানালো প্রলয় মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু-তারিখ।
০৮. ১০.২০০০ ।ওই দিনটা ছিল বিজয়াদশমী।
আজ বলব প্রদীপ হালদার - এর কথা। প্রথম কথাটি হল :  ' আমি বাঁকুড়ার লোক ' বলে যত্রতত্র  বুক বাজিয়ে থাকি। আজ নয় , স্কুলকাল থেকেই। বছরে দু-সপ্তাহ বাঁকুড়া-ভ্রমণ সঙ্গ করে পকেটে করে নিয়ে যেতাম কাচ-ফল। যা আমি বাঁকুড়ার তা প্রমাণ করার জন্য। কারণ আমি বাঁকুড়ার লোক হয়েও শুশুনিয়া দেখিনি। বিষ্ণুপুর দেখিনি। এমন দিনও ছিল আমার। ঠিক সেই সময়ে সুব্রত চেল-কে বললাম : আমাদের শুশুনিয়া নিয়ে চল। সেই দলে প্রদীপ হালদার ছিল।সেই ভ্রমণের আগে থেকেই প্রদীপের সঙ্গে ঘনিষ্টতা ছিল। এবং প্রদীপ হালদারের কবিতার সঙ্গেও পরিচিত ছিলাম। কেমন ছিল সে পরিচয় , সেটা জানানোটা আমার দায়িত্ব।
প্রদীপ হালদার ২৩.০৯.১৯৯৪ - এ লিখেছিল :
' স্বপ্নসন্ত্রাস কালীন রিপোর্ট ' কবিতাটি। যা ছাপা হয়েছিল কপা ৪৬ সংখ্যায়। প্রকাশকাল : ২৫ মার্চ ১৯৯৫ ।
প্রদীপ কীভাবে রিপোর্টটি লেখা শুরু করেছিল সেটা পড়া যাক :
' তারপর হিমশূন্যতায় টেনে হিঁচড়ে বের করা হল আমাকে। '
আর শেষ হয়েছিল :
' কার্নিসে তিনটি কাক গাইতে লাগল কোরাস , কেবলই তিনটি কাক ... '
কাকের সংখ্যা নিয়ে অধ্যাপকীয় সুলভ কোনো প্রশ্ন করার কোনো অধিকার আমার নেই। কারণ আমি অধ্যাপক নই।
প্রদীপের ' রাত্রিযাপন ' - এর তিন টুকরো থেকে তিনটি চিহ্ন :
১॥ আর , অদ্ভুত হালকা হয়ে আমি ভেসে বেড়াচ্ছি,
     রাত্রির প্যারালালে
২॥ চাকরি খুঁজতে খুঁজতে দিনগুলি ডিঙিয়ে যাই।
৩॥ ... কাল বাসস্টপে খুউব শান্ত দাঁড়াবো , ভাবি ,
    আজ উলটে দিই টাইমপিস।
প্রদীপ হালদারের বাসস্থান সম্পর্কে বাংলাকবিতার পাঠকের কোনো পরিচয় নেই। বেলেতোড়ের পাশে , হাঁটাপথে বনগাঁ । যেখানে গন্ধ বলতে ধানসেদ্ধ-র গন্ধ। আর শব্দ বলতে মুড়িভাজার শব্দ। সেখান থেকে প্রদীপ দেখাচ্ছে : রাত্রির প্যারালাল।
বলছে : দিনগুলি ডিঙিয়ে যাবার কথা। ভাবছে টাইমপিস উলটে দেবার কথা।
প্রদীপকে অভিনন্দন জানিয়ে শেষ করব না। শেষ করব অভিবাদন জানিয়ে।
আনন্দ দাসের বাড়ি বনগাঁতে। অর্থাৎ প্রদীপ হালদারের প্রতিবেশি ।
এখন কবিতাপাক্ষিক -এর ১৪ সংখ্যায় আনন্দ- র কবিতা থেকে জানতে পারছি ওর বাসনার কথা :
' প্রতিদিন ভাবি মানুষের কাছে যাব
কিন্তু দৈনিক দুর্ঘটনা
আমার পালক খসিয়ে ফ্যালে ।'
আমি যতদূর চিনিজানি আনন্দকে , ও কিন্তু মানুষের সঙ্গেই থেকেছে।
আনন্দ দাস ' সুজাতা ' শিরোনামের কবিতাটিতে লিখেছিল :
' তেমন একটা বটের ছায়ায়
ঈশ্বরের জন্য চুপ করে বসা যেত।'
কিন্তু আজকের সুজাতা
' সারাদিন মাঠে মাঠে শাক তুলে
পায়েসের কথা গ্যাছে ভুলে ।'
অর্থাৎ আনন্দ-র অবস্থান মানুষের পাশেই।
ওই সময় আশিসকুমার রায়ও আমাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কপা ১৩ তে তার লেখাতে দেখতে পাচ্ছি আশিস লিখেছিল :
 ' চাপে ও তাপে / নদীরও গতি বদলায় ,'
এই দ্যাখার মধ্যে নিজস্বতা দেখতে পাচ্ছি।
আবার আশিসের ' খেলাঘর ' -এ দেখতে পেলাম
' চাঁদের আলো তোমার শরীর থেকে / মোম গলে যায়।আশিস একটা ছোটো পত্রিকা করত। যামিনী। আশিস তো শিল্পী যামিনী রায় -র প্রতিবেশি।
এই পর্বে একটা উল্লেখযোগ্য তথা ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ করতে চাইছি।
আমাদের একটা ঘর হয়েছিল ।ঘরটির নাম দিয়েছিলাম মাদল । ২৪ জুলাই ২০০৪ - এ মোট ১৭ জন কবি সমবায়ী প্রথায় মোট ১০০ টি কবিতা লিখেছিলাম। বাংলাকবিতার ইতিহাসে এটি একটি  মনে রাখার মতো ঘটনা ।
এখন বলার কথা হল , এই ১৭ জন কবির মধ্যে একজন ছিল তিমিরকান্তি । এখানে উল্লেখ করার কারণ এখন তো বেলিয়াতোড় চ্যাপ্টার শেষ করতে চাইছি । আর তিমিরকান্তি তো এখনো আমার কাছে বেলেতোড়ের তিমিরকান্তি !

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আটপৌরে কবিতা ৮৫-৮৭ || অলোক বিশ্বাস || "আই-যুগ"-এর কবিতা

আটপৌরে কবিতা : অলোক বিশ্বাস ৮৫. কোভিড হস্পিটাল ছাড়িয়ে ভালোবাসা লেখা গাড়ি পড়েছে দাঁড়িয়ে ৮৬. লিখছি কোভিড ডায়রি বারেবারে পেন ফস্কে যাচ্ছ...