Friday, August 21, 2020

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১০৯ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক বিভাগ

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


১০৯.
আমি প্রথম কীর্ণাহার গিয়েছিলাম তার সাল-তারিখ মনে নেই। খোঁজখবর করলে জানা যেত । তবে তার জন্য আনেকগুলি ফোন করতে হত। ফোন করলাম না। কারণ এই লেখায় অনিবার্য নয় ।তবে গিয়েছিলাভ বিশিষ্ট শোলা-শিল্পী অনন্ত মালাকারের বাড়ি। বিশ্বাস করুন আমার পাড়ার অশোকচক্র ক্লাবের সরস্বতী প্রতিমা ডেলিভারি নেবার জন্য ।অনন্ত নারকেল ছোবরা দিয়ে প্রতিমা বানিয়েছিল।এটা বেশ মনে আছে। আর মনে আছে একবার রহিম রাজা সঙ্গে করে বহরমপুরে নিয়ে গিয়েছিল তিনজন তরুণ কবিকে। তারা কবিতা শুনিয়েছিল। সেটাই আমার কাছে কবিতাপাক্ষিক টু কীর্ণাহার পৌঁছবার প্রথম পথ। যদিও স্থানটির নাম বহরমপুর। এরপর সেই পথ পৌঁছেগিয়েছিল কাটোয়া । বইমেলা না লিটল ম্যাগাজিন মেলা সেটা ঠিক মনে পড়ছে না। তবে টিম কীর্ণাহার -এর সঙ্গে দ্বিতীয় যোগাযোগবিন্দু হল কাটোয়া।
প্রথমে বহরমপুর পরে কাটোয়া , তাহলে কীর্ণাহার কি মানচিত্রে ছিল না ! এই জিজ্ঞাসার জবাব আছে। তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
রহিম রাজা সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিল বহরমপুরে আমার কাছে, এটা আগেই লিখেছি। এখন সেই তিনজনের নামগুলি শুনে রাখুন :
বিষ্ণু চক্রবর্তী , শান্তনু রায়চৌধুরী এবং নীলাদ্রি ভট্টাচার্য।তিনজন বেকার যুবক।
যোগসূত্র রহিম রাজা। রহিমের সঙ্গে যোগাযোগের সুতোটা আবার মুর্শিদাবাদে , এবাদুল হক কিংবা  নুরুল আমিন বিশ্বাস হল সেই সেতু । তাহলে কি কীর্ণাহারের নাসিম এ আলমের কোনো ভূমিকা ছিল না। আমি সেটা দেখতে পাচ্ছি না কেন ? আমার চোখে কি কোনো বালি পড়েছে ? তবে রহিমের সঙ্গে কলকাতার একটা সরাসরি যোগাযোগ ছিল।
রহিম কবিতা বারোমাস নামে একটা পত্রিকা প্রকাশ করত। পরে পত্রিকাটির নাম দেওয়া হয় গুপিযন্ত্র।
রহিমের সূত্রেই আমার দ্বিতীয়বার কীর্ণাহার যাওয়া।
জেনেছিলাম তথা দেখেছিলাম  কীর্ণাহার শিবচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে বিশিষ্ট শিক্ষক অরুণ রায় মশায় এইসব তরুণদের প্রশ্রয় দিতেন। এটা না বললে কীর্ণাহার-ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যেত ।
জানিয়ে রাখছি কয়েকটি তথ্য।
কবিতাপাক্ষিক ২৫০ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছিল
১৯ এপ্রিল ,২০০৩ ।
সংখ্যাটির মূলবিষয় : নবীনবরণ ।
আর ওই সংখ্যার মলাটে লেখা ছিল :
বাঁকুড়া বেলিয়াতোড় কীর্ণাহার কাটোয়া তারকেশ্বর শেওড়াফুলি কোচবিহার দুর্গাপুর মধ্যমগ্রাম রঘুনাথগঞ্জ বিবেকানন্দ প্রভৃতি অঞ্চলের নবীন- নবীনারা কেমন লিখছেন কী লিখছেন সেটাই দেখার বিয়য় , পড়ার বষয়ও।
যাঁরা লিখেছেন তাঁদের মধ্য থেকে কীর্ণাহার-কে টার্গেট করলাম , এ-লেখাটির জন্য। কীর্ণাহারের মোট চারজন ছিলেন :
বিষ্ণু চক্রবর্তী শান্তনু রায়চৌধুরী নীলাদ্রি ভট্টাচার্য এবং আমিনুল ইসলাম।
কই , আমিনুলের নাম তো এই পর্বে আগে কখনো উল্লেখ করিনি। তাহলে আমিনুল কি অন্তরিক্ষ থেকে কবিতা পাঠিয়েছিল।
ওই সংখ্যায় বিষ্ণু চক্রবর্তী-র মোট ৬ টি কবিতা ছাপা হয়েছিল। ওই  ছ-টি কবিতার থেকে কিছু নিদর্শন দেখাতে চাইছি  ।তাহলে বোজা যাবে কী কারণে ওদের বরণ করা হয়েছিল।
কবিতাটির নাম : পাপোশ। বিষ্ণু লিখেছিল :
একটি পাপোশ নিয়ে কবিতা লেখার সময় / মনে পড়েছিল ধুলোকণাদের স্মরণসভা/ উদ্ যাপন কমিটির প্রধান আহ্বায়ক/  ঘাসের উপরেই শুরু করে দিলেন সুগন্ধী/ ঘাস-তেলের উদ্বায়ী বক্তৃতা।
কবিতার নাম : সাদা রঙের মধ্যে। বিষ্ণু দেখতে পেল :
একমাত্র সাদা রঙের মধ্যেই খোলাখুলি/ সবকিছু বলা হয়েছে এতদিন ,
আবার 'ইঁদুরজাতীয় ' কবিতাটিতে পেলাম :
ভূগোলের অঙ্কে সমস্ত ইঁদুরজাতীয় প্রাণী/ বরাবর কাঁচা--- এরকম দু- একটি প্রণীকে / খুব কাছ থেকে দেখব বলে বিস্তৃত ভূমিরূপের / উপর হেঁটে গেলে দেখতে পাই চারদিকে অজস্র/নরম গাণিতিক চিহ্নগুলির কোনোটিতে / এইসব প্রাণীরা আজও বেঁচে আছে ।
ছ-লাইনের কবিতাটি তুলে ধরার অর্থ এই নবীনবরণ সংখ্যাটিতে আমি যে স্বজনপোষণ কিংবা কোনো পক্ষপাতিত্ব দেখাইনি এটাই প্রমাণ করার জন্য।
কার কাছে প্রমাণ দিতে হবে , এর উত্তর হল নিজের কাজে নিজের কাজকে প্রমাণ করতে হয় মাঝেমধ্যে।না হলে বিশ্বাসে মরচে পড়ে যাবে।
আগামীকালও কীর্ণাহার-পর্ব চলবে।

No comments:

Post a Comment

সবাই মিলে সিনেমা হলে (১৪) || কান্তিরঞ্জন দে || কিভাবে সিনেমা " দেখব ?"

  সবাই মিলে সিনেমা হলে (১৪) কিভাবে সিনেমা "  দেখব ?"        সত্যি সত্যি যদি সিনেমার রূপ রস দৃশ্যসুখ উপভোগ করতে চান, তাহলে আগ্রহের ...