Tuesday, August 18, 2020

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য ১০৬ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক বিভাগ

সৌমিত্র রায় -এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী

১০৬.
কাটোয়া হল কবিতাপাক্ষিকের একটি পীঠস্থান। এখানে আমাদের সাধনক্ষেত্রও বটে। কাটোয়া প্রায় সমস্ত কবি-লেখক- শিল্পী-বুদ্ধিজীবী সেই সূত্রে আমাদের আত্মজন।
আর এই আত্মজনেদের একজন হল জপমালা ঘোষরায়। আমি যতবার কাটোয়া গেছি প্রায় প্রতিবার
তপন রায়দের সুবোধস্মৃতি রোডের নির্জন বাড়িটিতে গেছি ।জপমালার স্বামী তপন আমার একান্ত প্রিয়জন।ওর মোটরবাইক আমাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে গেছে জায়গায়। বর্ধমান বইমেলায় স্টল হত কবিতাপাক্ষিকের। একবার মেলার পুরো সাতদিন তপনের পুলিশ আবাসনে টানা ছিলাম। সেসব আপ্যায়নের কথা ভুলে যাবো কেন !
তবে এসবের মূলে ছিল কবিতাপাক্ষিকের কর্মযজ্ঞ।
আমরা চেয়ে বাংলাকবিতাকে একটা প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে দেওয়া। জপমালা ছিল প্রথম সারির অ্যাক্টিভিস্ট ।
এই কথাটি আমি লিখে দিলাম আর আপনারা মেনে নিলেন সেটা হতে পারে না। প্রমাণ দাখিল করতে হবে।প্রমাণ দিতে আমি প্রস্তুত। পড়তে থাকুন জপমালা ঘোষরায়-এর কিছু কবিতার কিছু  লাইন :
১॥ সব সাজেশন ফেল , ঝান্ডুবামেও যাচ্ছে না মুন্নিঘটিত বদনাম , বদনামঘটিত মাথাব্যাথা
২॥  কদম্বের পাতা বেয়ে নেমে যাওয়া একশ আট মোম শরীরের গলনাঙ্ক।
৩॥ আন্ত্রিক টানের দিকে গুটিয়ে নিয়েছি স্বপ্ন পা। অথচ পা বাড়ালেই পার হওয়া যেত কোনাকুনি আকাশ, দু-একটা রাশিচক্র।
৪॥ কোনো ব্লগ লেখার দরকার নেই।ননফর্মালSMS করে শুধু নিজের কথা বল,
জপমালা ঘোষরায়-এর উপস্থিতিটা কি দ্যাখা যাচ্ছে , খালি চোখে দেখতে না পেলেও ক্ষতি নেই। আমি শুরু করে দেবো সেকেন্ড লাইন অফ অ্যাকশান।
এবার আমার ঝাঁপি থেকে বের করছি ' স্ক্যানার ও রাজীবলোচন ' ১ থেকে ১৫ । যার মধ্যে আবার ২ক, ২খ আছে। ৩ এবং ৪ -এরেও ক-খ আছে। ৭ - ৮ - ৯- এও ক - খ আছে।
এখন প্রশ্ন হল ২ -এর ক- খ না করে ২ -৩ ও করা যেত। কিন্তু জপমালা সেটা করেনি। কেন করেনি , এর উত্তর দেবার দায়িত্ব আমার নয়।তবু  স্বতোপ্রণদিত হয়ে উত্তরটা দিয়ে দিচ্ছি। জপমালা এখানে গণিতের তথা গণনার পদ্ধতিতে অতিরিক্ত  সংযোজন করতে তৎপর ছিল বলেই ।
এখন দ্যাখা দরকার স্ক্যানারটির সঙ্গে রাজীবলোচনের সম্পর্কটা কেমন !
আর সেটা জানতে গেলে কবিতাই শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। দেখুন এবং দ্যাখার পাশাপাশি পড়ুনও।
১॥ তোর চোখে কখনও পদ্ম ফুটেছিল অথবা ফোটেনি তোর নাম রাজীবলোচন ,
২॥ ঘনিয়ে ওঠা রসায়ন থেকে পৌঁছে গেলাম রসাতলে।
৩॥ আজ আমি কেমন যেন ডানা ঝাপটে ঝাপটে কাউকে কিছু বলতে চাইছি।
৪॥ স্ফুটনাঙ্কের পিছনে থেকে যাবে তোর ইকনমি।
৫॥ টক্সিক প্লাজমার ভিতর কণিকারা জেগে উঠবে নিজস্ব আনুপাতিক বিন্যাসে,
৬॥ কোনোকিছু ভাঙার সময় বৃষ্টি হলে ভালো হয় ,
৭॥  যেটা দেখছিস , একটা ভ্রষ্ট গাছের ওয়ালম্যাট ,
৮॥ নিষিদ্ধ শব্দেরা পা বেয়ে নেমে গেছিল গলিত বীর্যের মতো।
৯॥ শব্দই ব্রহ্ম একথা মেনে নিয়ঃ শব্দের ভিতর খুঁজে নিতে পারি নিভৃত জলকণা।
আমরা কি রাজীবলোচনের স্ক্যানরিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করব !

No comments:

Post a Comment

সবাই মিলে সিনেমা হলে (১৪) || কান্তিরঞ্জন দে || কিভাবে সিনেমা " দেখব ?"

  সবাই মিলে সিনেমা হলে (১৪) কিভাবে সিনেমা "  দেখব ?"        সত্যি সত্যি যদি সিনেমার রূপ রস দৃশ্যসুখ উপভোগ করতে চান, তাহলে আগ্রহের ...