বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১১৫ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


১১৫.
কবিতাপাক্ষিক ৫০০ সংখ্যায় মোহম্মদ শাহবুদ্দিন ফিরোজ সম্পর্কে কী লিখেছিলাম , সেটা পড় ফেলুন :
' কবিতাপাক্ষিক ' - এর প্রায় প্রথমযুগে শাহবুদ্দিন-এর আত্মপ্রকাশ।
প্রান্তিকতাকে প্রাধান্য দেওয়া কবিতাপাক্ষিক-এর গৃহীত সিদ্ধান্ত।সেই সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে শাহবুদ্দিন-এর বেড়ে ওঠা।
গ্রাম্য-কবিতা নয় , এই সময়ের যেসব বৈশিষ্ট্য বা চিহ্ন দেখা যায় মোহম্মদ শাহবুদ্দিন ফিরোজ সেগুলিকে প্রাধান্য দেন তাঁর কবিতায়।
সে কারণেই তাঁর কবিতা স্বপ্ন দেখতে সাহায্য করে '
অরিজিন্যাল মেদিনীপুরের , দীর্ঘদিন মুম্বাই-তে ছিল কর্মসূত্রে , বারাসতের কাজিপাড়ায় ছিল ।
সম্ভবত মেদিনীপুরে বিদ্যুৎ পালের ' নয়ন ' পত্রিকার অনুষ্ঠানে প্রথম দেখাদেখি হয়।
শাহবুদ্দিন কপা-র প্রথমযুগের কবি , এটার প্রমাণ দাখিল করছি :
কপা ১৩৫ -তে শাহবুদ্দিন -এর তিনটি কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল।
তিন নম্বর কবিতাটির নাম :
কী কী উৎসর্গ করতে পারি তোমাকে

১.একগুচ্ছ বন্ধ্যা জমির অভিশাপ।
২.একরাশ ভেসে যাওয়া স্বপ্নচারী স্রোত।
৩. বিকলাঙ্গ অথবা মৃত শিশু যে জীবিত প্রতি বিস্ফোরণে।
৪. জীবনসংগ্রামে শহিদ হওয়ার আংশিক পুরস্কার। এই কবিতাগুলি যে গ্রাম্য , এই অপবাদ কে দেবেন !
কবিতাপাক্ষিক ১৩৯ সংখ্যার ' এই পক্ষের কবি ' ছিল মোহম্মদ শাহবুদ্দিন ফিরোজ। মোট আটটি কবিতা ।'
' স্মৃতি দর্পণে বন্ধু সিরিজ '।
মোট বন্ধুর সংখ্যা ৮। কবিতাগুলির নাম জানাটা এখানে বাধ্যতামূলক  ।
১॥ ছোট্ট সাথী ২॥ হিমাংশুশেখর প্রাথমিক বিদ্যালয়
৩॥ প্রদীপ পিরির সবজি দোকান  বন্ধ এখন !
৪॥ আলিমের জীবন যাপন ৫॥ ফুচকাওয়ালা বিনোদ
৬॥ শ্রীমান কবি দেবাশিস   ৭॥ কেবল নেটওয়ার্কে দেবু  ৮॥  সাজেদা খাতুন ।
এই আটটি কবিতার শিরোনাম চিনিয়ে দিচ্ছে শাহাবুদ্দিন-কে। শৈশব , স্কুলজীবন ,সাম্প্রতিক বন্ধুজনেরা ধরা ৩রইল কবিতায়।
কপা ৫০০ থেকে কয়েকটা উদ্ধৃতি দিচ্ছি। পড়তে থাকুন :
১. তাসের দেশে এক প্রেম জন্ম নেয়
২. ইউকেলিপটাসের গন্ধে বিশেষ কোনও ব্রান্ডনেম/
                                                 মনে পড়ে।
৩. রাতজাগার ভিতর একটা শিল্প থাকে।
৪. লেখার টেবিলে স্বপ্নদানি , মিথ , এপিটাফ থেকে বন্ডপেপার/অন্যমনস্কতা কাটানোর জন্য হিজিবিজি ছবির অ্যালবাম/ নস্ট্যালজিয়া।
৫. যা শোনাবো বলে ঘুরছি / দরজায় দরজায়....
যা পড়বো বলে খুঁজেছি মঞ্চ ,
সেটা তো অনেক  শহর দূরে ! / আজও লেখা হয়নি ...
৬. মানুষ যদি স্বপ্ন দেখে ,/ তবে স্বপ্নরা মানুষ দেখে না কেন ?
৭. অক্ষর চেনা শৈশব থেকে, বাক্যরচনা যৌবনে।
৮.সূর্যের আলো ছোঁয়ার জন্য হাত বাড়িয়েছি/ বলেছি ' শব্দ ' এসো;
৯. সামান্যতম কথাতেই গড়ে ওঠে--- / প্রাচীন সভ্যতার লোকালয় ...
১০.  নির্জনে ভাসা কান্নাগুলো , সঞ্চয়ের প্রয়োজন হয়নি।
এইসব নিয়েই মোহম্মদ শাহবুদ্দিন ফিরোজ। কখনো ফিরোজ বলি , কখনো বা শাহবুদ্দিন। ডাকে কিছু যায় আসে না।
শাহবুদ্দিনের একটা বড়ো গুণ , ও কখনো একা থাকে না , কবিতার সঙ্গে থাকে , কবিদের সঙ্গে থাকে। একে বলা যায় কবিসংঘ-এ থাকা।
প্রথমে নিরুক্ত , এখন টার্মিনাস , এইসব নিয়েই মোহম্মদ শাহবুদ্দিন ফিরোজ-এর কবিতাযাপন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শব্দব্রাউজ ৩০ || নীলাঞ্জন কুমার || "আই-যুগ"-এর কবিতা

  শব্দব্রাউজ  ৩০  ||  নীলাঞ্জন কুমার বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া ২৯।১১।২০২০ সকাল ৮-৩২ মিনিট । পান্নালাল ভট্টাচার্যের কথা খুব মনে পড়ছে । তাঁর শ্যামা...