Wednesday, September 2, 2020

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১২১ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য
প্রভাত চৌধুরী


১২১.
কেউ কি জয়ন্ত ভৌমিক-এর সন্ধান জানেন ? যে জয়ন্ত ভৌমিক কবিতাপাক্ষিক ৩২ - এ ঘোষণা করেছিল --- ' আজ বিকেলে একটি গাছের কোষ্ঠীচক্র তৈরি করলাম ---- '
গত কুড়ি বছর জয়ন্ত-কে দেখিনি। কোথায় আছে , কেমন আছে , কিছুই জানি না। জানি ৩ সি ফ্ল্যাট ,৯/২ বি , ওরিয়েন্ট রো , কলকাতা ৭০০ ০১৭ , ঠিকানায় থাকত। আর প্রতি সপ্তাহে কবিতাপাক্ষিক দপ্তরে নিয়মিত হাজির থাকত। আমাকে সমৃদ্ধ করত।
যাঁরা কবিতাপাক্ষিক ক্যালেন্ডার পড়তে জানেন না , তাঁদের জানিয়ে রাখি :
কবিতাপাক্ষিক ৩২ =  ২৭ আগস্ট ,১৯৯৪ ।
ওই সংখ্যায় জয়ন্ত ভৌমিক-এর কপা-তে আত্মপ্রকাশ। ওই সংখ্যাতে জয়ন্ত-র তিনটি কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল। প্রথমেই গুচ্ছকবিতা। যাঁরা জয়ন্ত-কে ভাগ্যবান ভাবছেন , আমি তাঁদের বিরোধিতা করছি । আমি মনে করছি আমরা , টিম কবিতাপাক্ষিক ভাগ্যবান। জয়ন্ত কবিতাপাক্ষিকের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছিল সেসময়।
জয়ন্ত যে কবিতাটিতে গাছের কোষ্ঠীচক্র তৈরি করার কথা বলেছিল ,  সেই কবিতাতেই বলেছিল , ' বলবো কবে হবে ফল ,'
আর কবিতাটি কীভাবে শেষ করেছিল , পড়ুন :
' আমি আকাশের গায়ে বিরাট বারোটি ঘর করে / যেখানে সেখানে বসাবো সূর্যচন্দ্র আমি যেখানে খুশি/
ছড়িয়ে ছিটিয়ে চলবো দুহাতে কেতু মঙ্গল শনি রাহু বুধ !...
কবিতাটির নাম : জ্যোতিষী।
পরের কবিতা : শীতাতপ।
' উঠে চলো রামধনু-পথে সব রিনিকিমহল ---
ছুটে এসো বৃষ্টিগান , মেঘ করে এসো ,
  কে বলে তা শিহরিত শরীরের দিন ? ---'
পরের কবিতারটির নাম : সুযোগ ।
' দ্যাখো ' এই শব্দটির আগেই ' বোঝো ' এই শব্দটিকে
              দৌড়োবার সুযোগ করে দাও ---
 তিনটি কবিতার শেষে কবির নাম-ঠিকানা ছাপা হত তখন। সেখানে আমার দেওয়া ঠিকানার সঙ্গে পার্কসার্কাস শব্দটি যুক্ত করে নিন। আর যুক্ত করে নিলেই জয়ন্ত ভৌমিক প্রদত্ত ঘোর থেকে মুক্ত হতে পারব। এবং যেতে পারব কপা ৪৫-এ ।
কবিতা : পল্লব যোশী উপাখ্যান।
' কীভাবে দাঁড়ালে তুমি ডানদিক ঘুরে আরও একটি ডানদিকে ঠিক ?
জিজ্ঞাসা-চিহ্ন দিয়ে শেষ হয়েছে প্রথম পঙ্ ক্তিটি।
তারপরের তিন লাইন :
' আর বাঁ -পাশটাকে দ্যাখাও গ্যালো না বলে
তুমি কি ভাবলে কোথাও আমি স্বপ্নের মানে বুঝিনি তাই/ তোমার হাসিখুশী এক্ষুণি হয়ে গেল পল্লবী যোশী ?--- '
 আর কবিতাটি কীভাবে শেষ করছে জয়ন্ত , সেটাও জেনে রাখা বাধ্যতামূলক।
'তুলে ধরলেন আলো : /এবং যাতে-না হারিয়ে ফেলি রাস্তা-খোঁজার খেই / এই বাগুইআটির জলাজংলার ভিতর / খুব সাবধানে তাই পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন পল্লবী যোশী আমাদের ...।'
মনে রাখবেন কবি জয়ন্ত ভৌমিক লিখেছিল , পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবার কথা !
কিন্তু কোথায় চলে গেল জয়ন্ত ! এখনো জানা হল না।
কবিতাপাক্ষিক ৫১ ,জয়ন্ত-র কবিতাটির নাম :
যেমন , যেরকম ও যেভাবে ।
এই কবিতাটি থেকে এলোপাতাড়িভাবে কয়েকটি লাইন :
' পড়ে গেলাম / যেভাবে ল্যাম্পপোস্ট থেকে রাস্তায় পড়ে যায় আলো --- '
' এবং সেই দেখতে দেখতেই পা পিছলে আমি/ পড়ে গেলাম, / যেভাবে হাতের লক্ষ্মী পড়ে যায় পায়ে /এবং পড়ে যেতে সেই লক্ষ্মীকে আবার / ধরেও নিলাম ,/যেরকম করে গানেরা ধরে ফ্যালে ঠিকরে- পড়া সুর '
জয়ন্ত ভৌমিক -এর কবিতার এই যে চলন তা বাংলাকবিতার পাঠক গ্রহণ করেছিল ভালোবাসার সঙ্গে। জয়ন্ত সেই ভালোবাসার ঋণ পরিশোধ করেনি।
এটুকুই জানাবার ছিল।

No comments:

Post a Comment

ঈশ্বর || ইয়াসিন খান || কবিতা

  ঈশ্বর  ইয়াসিন খান একটা  বোধ কাজ করে মানুষের কাছে যাই একটা স্বপ্ন দেখি  আমার ঈশ্বর সাধনা  বাংলা মায়ের কোলে  গ্রাম আর নগর জীবন জুড়ে  অক্ষর আ...