শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১৩৮ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী





১৩৮.

আমার কাছে দক্ষিণেশ্বরের পরিচিত আত্মজন বলতে ড: প্রদীপ ঘোষ। তাঁর কাছে পৌঁছনোর জন্য যেতে হবে ১৬ /৭ বাচস্পতি রোড। তো পৌঁছে গেলাম সবান্ধব।বসার ঘরটি রূপান্তরিত হয়েছে সভাগৃহে। এসে গেছেন সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়। উপস্থিত উৎপল ফকির এবং সহজ মা। আর আমাদের ফুল টিম।অনুষ্ঠানে সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য এখন শুনতে পাই। যদিও ক্যালেন্ডারে সেদিন ২ আগস্ট , শনিবার।

আর সহজ মা এবং উৎপল ফকির মাতিয়ে দিয়েছিল উৎসবকে। আমাদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল।


৩ আগস্ট ছিল বারুইপুর। ঘরোয়া অনুষ্ঠান। কবি-সাহিত্যিক জয়দীপ চক্রবর্তী-র বাড়ির এই সমাবেশ ছিল আন্তরিকতায় পরিপূর্ণ। কলকাতা থেকে গিয়েছিলাম ধীমান চক্রবর্তী রামকিশোর ভট্টাচার্য নাসের হোসেন ঠাকুরদাস চট্টোপাধ্যায় এবং আমি।


কবিতাপাক্ষিক-এর ১০ বছর পূর্তি উৎসবের কথা লিখে চলেছি। ২৪ তম অনুষ্ঠানটি ছিল কাটোয়া মহকুমার খাজুরডিহি-তে। প্রখ্যাত বোলানগান রচয়িতা মধুসূদন ঘোষালের জন্মভিটা খাজুরডিহি।

বিশেষ আকর্ষণ ছিল মধুসূদন ঘোষালের সুযোগ্য পুত্র নীরদবরণ ঘোষালের বোলানগান। আহ্বায়ক : 'অজয় ' এবং ' বিস্তৃতি ' পত্রিকার পক্ষে দীপংকর ঘোষ তারকেশ্বর চট্টরাজ অসিত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাপসকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। এঁরা এবং আমি  একটি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রকাশ করে প্রয়াত মধুসূদন ঘোষালের স্ত্রী রেখা ঘোষালের হাতে তুলে দিয়েছিলাম আমি।

তাপসকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত ' বিস্তৃতি '-র বিশেষ বোলান সংখ্যার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেছিলাম আমি। তারকেশ্বর চট্টরাজ সম্পাদিত 

' অজয় '- এর তারাশঙ্কর সংখ্যার প্রকাশ করেছিল মুরারি সিংহ।

এই উপলক্ষে অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের  ' খাজুরডিহি গ্রাম পরিচিতি ' শীর্ষক একটি গ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছিল।

তখন বর্ষাকাল। ধান রোয়ার কাজ শেষ করে হাজার খানেক মানুষের জমায়েত। আমার মনে হয়েছিল যেনবা রাজনৈতিক সমাবেশ। কবিতার অনুষ্ঠানে এই জমায়েত আমার ভাবনাতেও ছিল না। আমার বিশ্বাস , তা প্রকাশ করতেও কোনো দ্বিধা নেই। এই অনুষ্ঠানের যাবতীয় কৃতিত্ব  খাজুরডিহির বাসিন্দা কবি-ফটোগ্রাফার অসিত বন্দ্যোপাধ্যায় , তাপসকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় , ভগবাহাদুর সিং প্রমুখ কবিদের।

আমার বলার ডাক এল। ছোটো মঞ্চ। দর্শক বা শ্রোতারা সব খোলা আকাশের নীচে। বলতে শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হল বৃষ্টি। কে যেন আমার মাথার ওপর ছাতা ধরতে এগিয়ে এসেছিল। আমি ছাতা সরিয়ে দিয়ে বলেছিলাম :

এত মানুষ সারাদিন কৃষিকাজে ব্যস্ত ছিল। বৃষ্টিতে কাজ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি।বা ছাতার তলায় আশ্রয় নেয়নি। কবিতা লেখাও তো কৃষিকাজ।  মানবজমিন

রইল পতিত আবাদ করলে ফলত সোনা, ভোলা মন কৃষি কাজ জানো না। কৃষিকাজ যেমন সৃজন , ঠিক তেমনি কবিতালেখাও সৃজন।

তার সমবেত করতালি। আমি ধন্য। এত বছর কবিতা লিখে যা পেয়েছি , খাজুরডিহির মানুষেরা যা দিয়েছেন তার সঙ্গে কোনো তুলনা চলে না। খাজুরডিহির মানুষ আমাকে শ্রেষ্ঠতম পুরস্কারটি তুলে দিয়েছিল আমার হৃদয়ে। আবার বলছি আমি ধন্য।

পরের দিন কাটোয়া-র অনুষ্ঠান। আজকের রাতটা লজ অশোক -এ কাটানো যাক।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আশ্চর্য সহবাস || শ্রাবণী গুপ্ত || কবিতা

আশ্চর্য সহবাস শ্রাবণী গুপ্ত একটা গোটা জীবন আমরা গাছের বেড়ে ওঠা দেখলাম জাফরীর মতো আলো-ছায়া এসে পড়ল আমাদের গায়ে, হৃদয়ে তবু ঘৃণা করতে গিয়ে আম...