শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০

সবাই মিলে সিনেমা হলে (১৯) || কান্তিরঞ্জন দে || উৎসব ও সিনেমা

সবাই মিলে সিনেমা হলে (১৯)

কান্তিরঞ্জন দে



উৎসব ও সিনেমা

------------------------------


       সিনেমা নিজেই একটা উৎসবের সমান ।  সবাই মিলে  সিনেমা দেখা কিংবা দেখতে যাওয়া একটা উৎসব । অনেকগুলো  সৃষ্টিশীল মানুষ  মিলে একটা সিনেমা তৈরি  একটা সমবেত উদযাপন । বর্তমান যুগে  একা একা সিনেমা যদিও  বা  দেখা যায়  , একা একা সিনেমা বানানো একেবারেই অসম্ভব ।


       সিনেমা কিসের  উৎসব ? কিসের আবার ? দৃষ্টিসুখের । প্রায় দু ঘন্টা কিংবা কাছাকাছি সময় ধরে আমরা ( বড় অথবা ছোট )  পর্দায় যে গল্পটি উপভোগ করি ----তা তো আসলে এক ধরণের বিনোদনই । অনেকে ভাবেন , বিনোদন মানে শুধুই হাসি , শুধুই আনন্দ । কিন্তু গভীর আনন্দেও তো আমাদের চোখে কখনও কখনও জল আসে । আসে না কি ? ভারতীয় হোক , অথবা পাশ্চাত্যের-----নন্দনতত্ত্ব বলে , এ-ও  এক ধরণের  গভীথ বিনোদন । ইংরিজিতে এর একটা গুরুগম্ভীর নাম আছে----- ক্যাথারাসিস । আবার , নায়ক- নায়িকার দুঃখে   কাঁদে  না , এমন পাষণ্ড দর্শক কেউ আছে নাকি । ওই  কান্নাও আমাদের চিত্তকে বিশুদ্ধ করে । এ-ও একধরণের  ক্যাথারাসিস বা আত্মমোক্ষণ ।


          যাই হোক, অতশত জটিল তাত্ত্বিক আলোচনায় আমরা যাব না । ভারতবর্ষ মহাকাব্যের দেশ । এ দেশের মানুষ  গোষ্ঠীগতভাবে  পাশ্চাত্যের  মানুষের  চেয়ে  অনেক বেশি আবেগ নির্ভর । অতএব, এ দেশে খুব বেশি যুক্তি বুদ্ধি নির্ভর  শুকনো ইন্টেলেকচুয়াল সিনেমা বানালে  দর্শক আনুকূল্য পাওয়া ভীষণ মুস্কিল । এ কথা বহুবছর ধরে বারেবারে প্রমাণিত ।


        সত্যজিৎ রায়ের কথাই ধরুন না । তাঁর তৈরি  পথের পাঁচালী দেখতে দেখতে কাঁদেন না , বা কাঁদেন নি , এমন দর্শক ভূ-ভারতে আছে নাকি ?  ভিন রাজ্যের কিংবা , ভিন দেশের অ-বাংলাভাষী মানুষেরা , এমনকি সাহেব-মেমরা পর্যন্ত , আজও পথের পাঁচালী দেখে চোখ মুছতে মুছতে হল থেকে বেরোন । এ হচ্ছে এক উঁচু স্তরের বিনোদন । সিনেমার গল্পের বিষয়বস্তু যত গভীর রসের হবে , পরিচালক যত গভীর দক্ষতার সঙ্গে সিনেমার ভাষার সার্থক প্রয়োগ ঘটিয়ে তাকে পর্দায় হাজির করতে পারবেন ------ দর্শক তত বেশি গভীর রসের বিনোদন পাবেন । অবশ্য,   দর্শককেও তার জন্য নিজেকে তৈরি করতে হবে বৈ কি । এ দুনিয়ায় মুফতে , বিনা পরিশ্রমে কোনও দিন কিছু পাওয়া যায় ?


       এই কথাতেই ফিরে আসি আমাদের বিগত কয়েকদিনের আলোচনায় । দর্শক সিনেমা দেখায় নিজেকে শিক্ষিত করতে চাইলে ,তাকে  শিল্প সংস্কৃতির প্রতিটি শাখা বিষয়েই ন্যূনত  ধারণাটুকু নিয়ে রাখতে হবে । আর  চিত্র পরিচালক হতে চাইলে তো প্রতিটি শিল্প মাধ্যম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতেই হবে।


       আগের দুটো কিস্তিতে সিনেমার সঙ্গে সাহিত্যের সম্পর্ক নিয়ে কিছু কথা বলেছিলাম । আগামীতে এ বিষয়ে আরও কিছু কথা বলে নিয়ে ভিন্ন প্রসঙ্গে যাব"খন ।


      শেষে আবার বলি , শারদ উৎসব যেমন শুধুমাত্র ঠাকুর দেখার ব্যাপার নয় , গভীর অনুচিন্তনের ব্যাপারও বটে । সিনেমাও তেমনি শুধুই চোখের খিদে মেটানোর ব্যাপার নয় ।

     যারা অতশত সাতপাঁচ ভাবতে রাজি নন, এমন কি, তেমন মানুষজনও   উৎসবের পাঁচদিনের মধ্যে একদিন , ঘোরাঘুরি , ঠাকুর দেখা , রেস্টুরেন্টে ভালোমন্দ খাওয়া দাওয়া-র পাশাপাশি  সপরিবারে সিনেমা দেখার জন্যও বরাদ্দ রাখেন।


       সিনেমা এখানেই বাঙালির কাছে উৎসবের অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে ওঠে ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিক্ষা-জীবন || চার্লস মিথুন || অন্যান্য কবিতা

শিক্ষা-জীবন চার্লস মিথুন জগৎ মাঝে জন্ম নিয়েই, শিক্ষা জীবন শুরু। শেখার বয়স শেষ হবে না, হও না যতই বড়॥ মায়ের কাছে শিখবে প্রথম, প্রাণের কথা বলা।...