শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১৭৩ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৭৩.

আজ মুরারি সিংহ-র কথা। ২০০৩ - মুরারির কবিতা-পাক্ষিক কমন ছিল একবার দেখে নেওয়া যাক।মুরারি সিংহ-র কবিতাপাক্ষিক থেকে পড়তে থাকুন :

' আরো অনেকের মতোই আমার কাছেও কবিতাপাক্ষিক এখন একটি বিশুদ্ধ আবেগের নাম।

' কবিতাপাক্ষিক' নামটা উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে তার আগে ' আমাদের ' শব্দটি অনায়াসেই বসে যায়। এর মধ্যে কোনোরকম গড়াপেটা নেই। জোর-জবরদস্তি নেই। কষ্টকল্পনা নেই। শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো এটাও একটা স্বাভাবিক ঘটনা।'

এর পরের অংশে বর্ধমান বইমেলায় কবিতাপাক্ষিকের সঙ্গে পরিচয়ের কথা জানিয়ে ছিল মুরারি।সেখানে মুরারি জানিয়েছিল  সে বাঁকুড়ার এক গণ্ডগ্রামের ছেলে। আই পি টি এ , জমিদখলের লড়াই পার করে কর্মজীবন, ঝাড়গ্রাম, বালুরঘাট হয়ে বর্ধমান।

এরপর আবার মুরারি-কথায় :

' তারপর কেটে গেছে সাড়ে পাঁচ বছর। কবিতাপাক্ষিকের সংসার আরো বড়ো হচ্ছে।কোচবিহারের সুবীর সরকার থেকে মেদিনীপুরের মানসকুমার চিনি। কীর্ণাহারের রহিম রাজা থেকে জামশেদপুরের শ্যামল শীল । অতি প্রবীণ গদাধর দাস অথবা দীপংকর ঘোষ থেকে অতি নবীন সৌমিত্র রায় অথবা অতি নবীনা দিনিকা বসু --- এ যেন অসীম বিস্তার। অগ্রজদের আমরা যেমন মাথা নত করে শ্রদ্ধা জানাই নবাগতদেরও তেমনি মুহূর্তে আপন করে নিই।

নতুন কলম ধরা ছেলেমেয়েদের কাছে তো কবিতা-পাক্ষিক এখন এক অতি বড়ো ভরসাস্থল।বাংলাভাষায় যাঁরা সাহিত্যচর্চা করেন সবাই আমাদের বন্ধু। গত দশ বছরে কবিতাপাক্ষিকের পাতায় পাতায় যত নতুন কবিতা বা কবিতার আলোচনা প্রকাশিত হয়েছে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের ইতিহাসে তার তুলনা নেই। সাম্প্রতিক সময়ে যাঁরা লিখতে এসেছেন তাঁদের মধ্যে খুব কমজনই আছেন যাঁদের কোনো না কোনো লেখা পাক্ষিকে ছাপা হয়নি। অনেক ছেলেমেয়ে তো  কবিতাপাক্ষিক দিয়েই শুরু করেছেন।কবিতাপাক্ষিকের আর একটি অনন্য কৃতিত্ব আছে সেটা না বললে কথা সম্পূর্ণ হয় না তা হল আমাদের মতো অনেক প্রান্তিক মানুষ যারা হয়তো সারাজীবন কবিতার পাঠক হয়েই কাটিয়ে দিত তাদের অনেককে খুঁজে বের করে তাদের দিয়ে অনেক কবিতা লিখিয়ে নেওয়া । '

মুরারি-র লেখার শেষ অংশ :

' বিংশ শতাব্দীর শেষ দশক অথবা একবিংশ শতাব্দীর প্রথমটা কবিতাপাক্ষিকের দশক ছিল কিনা তার বিচার করবে ভাবীকাল তবে খুব বুড়ো হয়েও আমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে তারা তাদের নাতিপুতিদের কাছে অন্তত একটা কথা খুব গর্বের সঙ্গে বলতে পারব যে আমি এই কবিতাপাক্ষিক পরিবারেরই একজন সদস্য । '

এই মুরারি সিংহ লিখিত রচনাটির আমার কোনো ব্যক্তিগত সংযোজনের প্রয়োজন নেই।

ভালো থাকুন। এই শারদোৎসব অনেকটাই অন্যরকম তা আমরা জেনে গেছি। আমরা , যারা সৃষ্টিকর্মের সঙ্গে যুক্ত , তারা সকলেই জানি আমাদের করণীয় কী।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সবাই মিলে সিনেমা হলে ২১ || সিনেমা ও বিরতি || কান্তিরঞ্জন দে

  সবাই মিলে সিনেমা হলে ( ২১) সিনেমা ও বিরতি  কান্তিরঞ্জন দে        নমস্কার ।  উৎসবকালীন বিরতির পর আবার ফিরে এলাম । আমরা যখন সবাই মিলে সিনেমা...