শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১৫৯ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৫৯.

গতকাল লিখেছিলাম আজ শঙ্করনাথ চক্রবর্তী-র 'নাট্যশালার লিফলেট ' দুটি পড়ব এবং তার পাঠ- প্রতিক্রিয়া লিখব। পড়া শুরু করলাম। প্রথমেই :

 ' যে-কোনো বেড়ালের সঙ্গে ব্যালেনৃত্যের সম্পর্ক 'এই শুরুর লাইনটির সৃষ্টিকর্তা রূপে শঙ্করনাথ-কে অভিনন্দন জানাবার সুযোগ নেই। নেই কেন ! আছে তো  । বাংলাকবিতার পাঠক-কে জানাতে হবে আমার প্রতিক্রিয়া । আমি দায়বদ্ধ।

আর একবার পড়া যাক। পড়ার পর একটা  সাবেকি দাড়িপাল্লা সংগ্রহ করুন। সেই দাড়িপাল্লার একদিকে একটি বেড়ালকে রাখুন , অন্যদিকে ব্যালেনৃত্যের একটি এপিসোড। দেখুন সেখান থেকে কোনো কাচঘরের জানলা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে কিনা ! অথবা ' নিচুমাথার পানপাত্র ' অথবা ' কচ্ছপরঙা আকাশ ' কিংবা ' কর্ণসুবর্ণের সাদাপাতা '। এবং তার সঙ্গে ' প্রাকহোমেরীয় সন্ত্রাসের ঘোড়ার সান্ধ্যভোজন' ।শুরুতেই বলে রাখি এই অনুষঙ্গগুলি আমি অন্তরিক্ষ থেকে পাইনি। পেয়েছি নাট্যশালার লিফলেট নম্বর ১ থেকে। যে লিফলেটগুলির প্রচারক শঙ্করনাথ চক্রবর্তী।

একটা এগিয়ে দেখতে পেলাম :

' বাতিল ও বোবা হয়ে যাবার আগে / যম-নচিকেতার বাক্যালাপ মাদুরের একপাশে রাখুন '

তাই রাখলুম শঙ্করনাথ ।এবং দেখলাম এবং জানলাম :

' অমরত্ব না পৃথিবীমন্থন / প্রসূতির কাছে এই প্রশ্ন খুব হয়তো সাবেকি নয় '

এবং

' পোষা প্রাণীটির মাতৃভাষায় ভেজাল নেই '

 আরো দু-কদম এগিয়ে যাওয়া যাক :

 ' তিমির চোয়ালের ছায়ায় এই পারাপার প্রত্যক্ষ করতে/ দিনেমার রূপকথার পরিদের ঘুম ভাঙাও '

এবার নাট্যশালার ১ নম্বর লিফলেটটি পাঠকদের দৃষ্টিগোচর করাতে সক্ষম হলাম কিনা , তা বিচারের ভার আমার ওপর বর্তায় না। শ্রদ্ধেয় পাঠক-সম্প্রদায়

আধুনিকতা থেকে কতটা অগ্রসর হতে সক্ষম হয়েছেন , সেটাই প্রধান বিচার্য -বিষয় ।

 প্রথম লিফলেটের শেষ ৩ লাইন পড়ে নিচ্ছি এবং পড়াতেও চাইছি :

' কাচের বাংলোয় আর্টিলারির ঘেরাটোপ থেকে/ তার ভূমিকা উদ্ধার করে আনাই যায় / যদি নরবলির পরে কবিতাই প্রতিপক্ষ হয়ে আসে '

এবার দ্বিতীয় লিফলেট বা নাট্টশালার লিফলেট : ২ ,যেখানে শুরুটা :

' আমার নীরবতা ভঙ্গ কোরো না / শামুকের গর্ভে তিন তাসের প্রস্তুতি/ সযত্নে রেখেছি ',

এবার অন্যকোনো  নীরবতা ভাঙার আগে গুটিকয় ব্যক্তিগত কথা বলে রাখতে চাইছি ।যেগুলি শঙ্করনাথের কবিতার অন্তর্গত নয়। সেগুলিকে আমার নিজস্ব বোঝাপড়ার জন্য লিখে তার তলা থেকে লিখুন :

১ ॥ এই লিফলেটটি কোন নাট্যশালার 

২ ॥ সেই নাট্টশালায় অভিনীত হচ্ছে নাটকটির নাম

৩ ॥ এই লিফলেটটি প্রবেশ-পথে বিতরণ করা হবে কি

      না এটি দর্শকেরা আসনগ্রহণের পর তাদের হাতে 

       দেওয়া হবে

৪ ॥ লিফলেট কোন কাগজে মুদ্রিত ,কোন কালিতে

৫ ॥ কোন পদ্ধতিতে 

এইগুলির উত্তর দেবেন কবিতার পাঠকেরা। তবে  যে যার মতো করেই উত্তর দেবেন । মনে রাখবেন উত্তরদানের এই সুবিধা কোনো পরীক্ষাতেই দেওয়া হয় না। যত রকম উত্তর পাওয়া যাবে তত বেশি সমৃদ্ধ হবে প্রশ্নমালা তথা কবিতা দুটি। লিফলেটদুটি।

ফিরে আসি লিফলেট ২ -তে। ওখানে দেখি :

জোকারের পোশাক পরে নাচঘরে ঢুকে পড়লে দেখি / কঙ্কালের মৈথুননৃত্য সেলুলয়েডে ধরতে গিয়ে / তোমার ঘাড় ঘুরে গেছে/ মাথার ল্যাজটি বুকের ওপর/ কাটা টিকটিকির পশ্চাৎদেশ হয়ে লাফাচ্ছে


এগুলিকে কল্পদৃশ্য ইনডেক্সে রাখতে চাইছি না। এগুলি পরাবাস্তবও নয়। এগুলি সব অতিবাস্তব দৃষ্টান্ত। যা পোস্টমডার্ন কালখণ্ডের বাকশস্য।

এরপর আছে : ডাইনিদের গান , দুর্গের কার্পেট ,বেশ্যাজার্নালের পাতা এবং হাড়ের কাঠিন্য পরীক্ষা করার থাবা ইত্যাদি রত্নাবলি।

পরিশেষে শঙ্করনাথ জানিয়েছে : ' কেননা আমাদের দেশে কবির তো অভাব হয়নি / অকবিই লুপ্ত প্রজাতি হয়ে দাঁড়াচ্ছে '

এই শেষ জরুরি বাক্যটির ওপর দাঁড়িয়ে আছে সমগ্র কবি- অকবি সমাজ।

 শঙ্করনাথের মৃত্যুর পর ভুবনডাঙার জন্য আমিনুল একটা গদ্য দিতে বলেছিল। হাতের নাগালের মধ্যে কোনো ডকুমেন্ট না থাকায় লিখতে পারিনি। এখন যে কেউ এটি সৌমিত্র রায়- এর অনুমতি নিয়ে ছাপতে পারেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আশ্চর্য সহবাস || শ্রাবণী গুপ্ত || কবিতা

আশ্চর্য সহবাস শ্রাবণী গুপ্ত একটা গোটা জীবন আমরা গাছের বেড়ে ওঠা দেখলাম জাফরীর মতো আলো-ছায়া এসে পড়ল আমাদের গায়ে, হৃদয়ে তবু ঘৃণা করতে গিয়ে আম...