রবিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১৯৫ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৯৫.

কবিতাচর্চাকেন্দ্র-র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান হয়েছিল ১৫ জুন ২০০৪ । আর ঠিক তার পরের মাসেই ছিল মাদলে বসে  ১০০টি সমবায়ী কবিতা লেখার আয়োজন।

২৫ - ২৬ জুলাই ২০০৪ -এ ছিল সমবায়ী কবিতা লেখার দিন। আর ২৪ জুলাই সকাল ৬টা ১৫-র ব্ল্যাক  ডায়মন্ড এক্সপ্রেস ধরার জন্য গিয়েছিলাম হাওড়া স্টেশন। তখন এ সি লাগত না। রিজার্ভ করা লাগত না। স্টেশনে যেতাম। লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে ট্রেনে উঠতাম। সেদিন যখন হাওড়া পৌঁছলাম তখন দেখলাম ৫টা ৫-এর কর্ডলাইন লোকাল পেয়ে গেলাম। বর্ধমান পর্যন্ত এগিয়ে থাকলাম। তখন বাসস্টান্ড ছিল তিনকোনিয়ায় ।  আগেভাগে জানিয়ে রাখি আজ অবধি বহুবার বর্দধমান গেছি। তিনকোনিয়া বাসস্টান্ডেও গেছি। কিন্তু ওই স্টান্ডের তিনটি কোণ কোনোদিন দেখতে পাইনি। দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহনের বাস। ছান্দার-কাদাকুলি । আগের দিন 

'মাদল'- এ দরজা বসেছিল আগের দিন। সেদিন বসানো হল দুটো জানলা। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি দরজা এবং জানলা সবই লোহার এবং লোহার পাতের। কারণ  উইপোকার মুখ থেকে বাঁচানোর জন্য লোহা।সেদিন রান্নার জায়গা পরিষ্কার করা হল। তৈরি হল উনোন। পুকুরপাড়ের শুকনো ডালপালা সংগ্রহ করে রাখা হল। ধরিয়ে দেওয়া হল উনোন , কাঁচামাটি শুকোনোর জন্য। কিছুক্ষণের মধ্যেই কাজ শেষ।

পরদিন ২৪ জুলাই , কবিতালেখার প্রথম দিন। ভোরবেলা গেলাম বেলেতোড় , বাজার করতে। ফিরে এসে  মৌরলামাছের জন্য নতুনপুকুর।

ব্ল্যাক ডায়মন্ডে কয়েকজনের আসার কথা। তাদের রিসিভ করতে আবার বেলেতোড়। প্রথম বাসে এসেছিল বরুণ সরকার। পরের বাসে শুভাশিস আর ইন্দ্রাণী। বাকিরা ট্রেন ধরতে পারেনি নাসের আর গৌরাঙ্গ। হাওড়া ব্রিজে একটা ট্রাক উল্টে যাওয়ায় সমস্যা। বাড়িতে জলখাবার খেয়ে কাগজপত্র নিয়ে মাদল ।

এরপর একে একে এসে পড়ল স্নেহাশিস মুখোপাধ্যায় প্রদীপ চক্রবর্তী পিনাকীরঞ্জন সামন্ত স্বরূপ চক্রবর্ততি তিমিরকান্তি অনুপম মুখোপাধ্যায় সৌমিত্র রায় এবং নাসের হোসেন।

সাড়ে ১২টায় পৌঁছে গেল গৌরাঙ্গ অমিতাভ মৈত্র রিমি দে ।

প্রথম অধিবেশন ১২টা ৩০ থেকে ১টা ৩০। লেখা হয়েছিল ৩৬টা কবিতা।

শুরু করেছিলাম আমি। লিখেছিলাম :

' মাদলে বসে যে কবিতাগুলি লেখা হবে, প্রথমে ঠিক হোক কবিতাগুলি / মাদল থেকে কতদূর যাবে ?

লেখা প্রসঙ্গে বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় যে কাগজে এই সমবায়ী কবিতাগুলি লেখা হয়েছিল তা আমার লেখার কাগজে। আমি এক্সিকিউটিভ বন্ড কাগজ কিনে কাটাকাটি করে রুলিং করিয়ে নিই। পেন্সিল রুলিং। এক পৃষ্ঠায় ৩৮ লাইন। বেশ দামি কাগজ । অনেকেই জানেন আমি বুদ্ধদেব বসু-কে আমার আদর্শ সম্পাদক মনে করি। আমি একজন কবিতালেখকের পাঠানো কবিতা পড়ার আগে বিচার করি সে কবিতা-র প্রতি কতটা আগ্রহী ।কবিতাকে কতটা আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেছে। কতটা ভালোবাসা মেশানো আছে কবিতালেখার সঙ্গে। এসব বিচার করার পর কবিতার মান বিচার করি। এতে অনেকের কাছে  অপ্রিয়।আরো একটা বেশ কিছুদিন ধরে বিচার করি কবিতাটি আধুনিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হল কিনা। 

কাগজের কথা বলতে গিয়ে আরো অনেক কথা বলে ফেললাম। 

প্রথম পর্বের পর দুপুর খাওয়া। খিচুড়ি আর মৌরলা মাছ ভাজা।

তারপর দ্বিতীয় অধিবেশন দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৫টা। লেখা হয়েছিল ১৯টি কবিতা । এই অধিবেশনের শেষদিকে এসে পৌঁছেছিল রুদ্র কিংশুক। বলে রাখা ভালো এই সমবায়ী কবিতা লেখার কনসেপ্টটা রুদ্র-র। ওই প্রথম বাংলাভাষায় সমবায়ী কবিতা লিখেছিল। রুদ্র তার স্ত্রী কমলিকার সঙ্গে বেশ কয়েকটি সমবায়ী কবিতা লিখেছিল আগেই। তবে অনেকে মিলে একত্রে এক জায়গায় বসে যে কবিতা লেখা সম্ভব তা কিন্তু ' মাদলে লেখা কবিতা ' -ই চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

দ্বিতীয় অধিবেশনের পর ফিরে গিয়েছিল অমিতাভ মৈত্র রিমি দে পিনাকীরঞ্জন সামন্ত প্রদীপ চক্রবর্তী স্নেহাশিস মুখোপাধ্যায় তিমিরকান্তি স্বরূপ চক্রবর্তী সত্যসাধন এবং রাজকল্যাণ চেল ।

বিকেলের জলখাবারের পর সন্ধে ৭টায় শুরু হয়েছিল তৃতীয় অধিবেশন। একটু পরেই লোডশেডিং । লেখা স্থগিত রেখে বেরিয়ে পড়লাম টর্চ হাতে। চন্দ্রশোভিত পথে জঙ্গলের দিকে। ছান্দারের  রেললাইনের পাশে ডোমপাড়ায়

বাড়িতে আলো-অন্ধকারে বাজনদাররা ক্ল্যারিওনেট বাজাচ্ছিল।  বেশ কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটির পর ফিরে এসে দেখি বিদ্যুৎবাবু ফিরে এসেছেন। 

তৃতীয় অধিবেশনে লেখা হয়েছিল মোট ২০টি কবিতা।

বাকি কথা আগামীকাল

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সবাই মিলে সিনেমা হলে ২১ || সিনেমা ও বিরতি || কান্তিরঞ্জন দে

  সবাই মিলে সিনেমা হলে ( ২১) সিনেমা ও বিরতি  কান্তিরঞ্জন দে        নমস্কার ।  উৎসবকালীন বিরতির পর আবার ফিরে এলাম । আমরা যখন সবাই মিলে সিনেমা...