বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ১৯৯ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক গদ্য

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



১৯৯.

শুভাশিস গঙ্গোপাধ্যায় তখন তো সম্পাদকমণ্ডলীর একজন ছিল। তাসত্ত্বেও আলাদা করে মতামত প্রদানের কেন প্রয়োজন হয়েছিল , মনে পড়ছে না।শুভাশিস কী এমন নতুন কথা বা তথ্য পরিবেশন করেছিল যা সম্পাদকমণ্ডলী -র বক্তব্যে অনুপস্থিত ছিল। এত প্রশ্ন করার কোনো অর্থই নেই , বরং পড়ে নেওয়া যাক শুভাশিস তার নিজের লেখায় ঠিক কী বলতে চেয়েছিল। 

' সমস্যাটা আসলে অন্য জায়গায়।

একজন পবিত্র সরকার অপবিত্র কোনো কর্ম করলেন কিনা, ব্যাপারটা তা নয়। একজন পবিত্র সরকার তাঁর শিক্ষাগত মান গোপন করে অন্যায় কোনো সুবিধে পেলেন কিনা , ব্যাপারটা তাও নয়। আসলে ব্যাপারটা অনেক আলাদা। আসলে এধরনের ব্যাপারগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।  সমস্যাটা মূল্যবোধে।'  শুভাশিস আরো লিখেছিল :

'  জাল স্ট্যাম পেপার, জাল সার্টিফিকেট ,জাল ভোটার ,জাল রেশনকার্ড , জাল নেতা , জাল ডিগ্রি ---

এমনভাবে ঘিরে রয়েছে আমাদের এই সর্বব্যাপী জালিয়াতির চোরাস্রোতে যে আমরা কোনো জালিয়াতিতেই অবাক হই না আর।'

' আসলে যে দেশের শিল্প সাহিত্য শিক্ষা ধর্ম সবকিছুর মূলে , সবকিছুর চালিকাশক্তি হল রাজনীতি , রাজনীতির নেতাদের আশীর্বাদ। সেদেশে অন্য কিছু তো ঘটতেই পারে না। এটা একেবারেই খাপে খাপে মেলানো অঙ্ক। এর অন্যথা হয় কী করে। '

শুভাশিসের শেষের অংশটাও পড়ে নেওয়া যাক :

'  চারদিকে সোরগোল হচ্ছে বড়ো। কাগজে কাগজে স্তম্ভ। বিধানসভায় লম্ফঝম্ফ। দেখেশুনে মনে হয় বেশ তো ছিলাম চোখ বুজে। চোখ বুজলে জগৎটাকে বেশ পছন্দসই সাজিয়ে নেওয়া যায় নিজের মতো । বাইরের আলো অন্য জগতের ছবিগুলোকে পৌঁছে দেয় না তো চোখে। নিজের মতো করে দৃশ্যগুলি সাজিয়ে নেওয়া যায় বেশ।'

' হঠাৎ যে কী হল। জাল ডিগ্রি জাল ডিগ্রি বলে কী গণ্ডগোল চারপাশে ! বিস্ময়ের যেন অন্ত নেই আর।এই ঘোর বিস্ময় কীসের জন্য ? ...   ...   ...

' আসলে সংশয় , বিস্ময় --- এই শব্দগুলি আজকাল এত বিস্মিত করে ---'

শুভাশিসের বক্তব্যের সঙ্গ কবিতাপাক্ষিকের সম্পাদকমণ্ডলীর বক্তব্যের দৃষ্টিভঙ্গীর একটা  মৌলিক  পার্থক্য ছিল , বেশ বোঝা যাচ্ছে। আমি তা দেখিয়ে দিচ্ছি না। মাননীয় পাঠক তা নিজচোখে দেখে নিন।

স্বপন চক্রবর্তী লিখেছেন তিনি কবিতাপাক্ষিকের নিয়মিত পাঠক। তিনি লিখেছিলেন :

' পবিত্রভূষণ সরকার , যিনি পবিত্র সরকার নামে আমাদের অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি তাঁকে নিয়ে তাঁর শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ' ডক্টরেট ' ভূষণ নিয়ে যে বিতর্ক চলছে তাতেঅংশগ্রহণ করতে খানিকটা ইতস্তত করছিলাম। কিন্তু পরে দেখলাম ' কবিতাপাক্ষিক ' চাইছেন আমরা যারা কবিতাপাক্ষিক

-এর নিয়মিত পাঠক তারা এই বিতর্কে খোলামনে আলোচনা করি তাই দু-চার কথা খোলামনে জানালাম।'

' প্রথম কথা, সত্য যা তা সত্যই। মাঝে মাঝে সত্যের উপলব্ধি খুব কঠিন হয় , মন মানতে চায় না তবু তা সত্যই। অতএব পবিত্রবাবু যদি সত্যিই শিকাগো বিশ্ব -বিদ্যালয়ের ' ডক্টরেট ' ডিগ্রি না পেয়ে তা ব্যবহার করে থাকেন তবে তা গর্হিত অপরাধ।এখন শ্রদ্ধেয় পবিত্রবাবুর উচিত তাঁর সম্বন্ধে এই বিতর্কে যে কষ্ট আমরা পাচ্ছি তা লাঘব করা। '

আমি একটা কথা মাথা উঁচু করে বলতে চাই এই ঘটনা ছিল ' ঘোর- বামফ্রন্ট ' জামানায় । আমি ব্যক্তিগতভাবে বামচিন্তার মানুষ। তখনো ছিলাম। এখনো আছি। তখন যে ঘুণ বামফ্রন্ট বা সিপিএম -এর অন্দরে ধরতে শুরু করেছিল তা ক্রমশ ধ্বংসের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। এখন হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া বাকি ৯৮ জনই অসৎ।

আসলে কে কোন দলের পক্ষে সেটা কখনোই বিবেচ্য হতে পারে না। দেখতে হবে সে বা তিনি সত্যের পক্ষে কিনা !

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অবহেলা || দীপক মজুমদার || অন্যান্য কবিতা

অবহেলা দীপক মজুমদার আর গোপন রাখব না আমাদের সম্পর্কের ইতিবৃত্ত।  শব্দের খাঁজে লুকানো গোলাপের উষ্ণতা। ঝাউবনের নির্জনতায় জৌলুস সম্পৃক্তি। প্রি...