বুধবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২০

সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য ২১৯ || প্রভাত চৌধুরী || ধারাবাহিক বিভাগ

 সৌমিত্র রায় - এর জন্য গদ্য

প্রভাত চৌধুরী



২১৯.

আমার প্রিয় পাঠকদের কেউ কেউ আমার দেমাক-এর কারণ জানতে চান। মুখে বা মুখ ফুটে কেউ-ই বলেননি। আমি অনুমান করেছি মাত্র । এই অনুমান- কে সম্মান জানিয়ে কিছু তো লিখতেই হবে। যদি এমন হয় ,  আমার একজন পাঠকও আমাকে দেমাকি না ভাবতেও পারেন , তাহলেও অন্তরিক্ষ থেকে যখন লেখার আগে এসে উপস্থিত হল , তখন আমার নিজের কাছেই এর জবাবদিহি করতে হবে। 

আপনাদের অজানা নয় , আমি যে কোনো শব্দকে ভালোভাবে জানা তথা বোঝার জন্য অভিধান নামক ছাতাটির আশ্রয় গ্রহণ করি।

সেখানে কী পেলাম তা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।

দেমাক , দেমাগ (< আ দিমাগ ) বি --- অহংকার , গর্ব , গুমোর ।

অভিধান আমাকে জানিয়ে দিল :

১ ॥  মূল শব্দটি আরবি ,' দিমাগ ' - এর উৎস।

২॥ এটি বিশেষ্য ।

৩ ॥ এর আভিধানিক অর্থ  :  অহংকার , গর্ব , গুমোর।


এই অর্থ জানার পর আমার উত্তর হল  :

ক . আমি অহংকারী

খ . আমি গর্বিত বা গর্ব অনুভব করি

গ. আমার বেশ গুমোর আছে


তাহলে এরপর আপনিও আমাকে অহংকারী ভাবতে পারেন। বা আমাকে অহংকারী ভাবটাকে আমি অস্বীকার করবো না। এখন আপনি কী করবেন সেই সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে। আপনার কাজ আপনি করবেন। আমি সেখানে নিরপেক্ষ।

কিন্ত আমার নিজের কাছে আমি দায়বদ্ধ আমার   ' 'দিমাগ-'- এর কারণ বা উৎস কোথায় , তা স্পষ্ট করে জানাতে।

সেই কারণ আমি একাধিক বার বলেছি , লিখেছি । তবু আরো একবার লিখছি। এমন অনেক ঘটনা , যা এই লেখাতেও আপনারা পড়েছেন , তবু আরো একবার পড়তে বাধ্য হচ্ছেন , আমি আরো একবার লিখছি বলে।

প্রথমেই জানিয়ে রাখি , আমার উৎসে আরব নেই। আর আরব না থাকলেও আমার দেমাক থাকবে না , এটা মেনে নিতে পারলাম না। আমি গর্বের সঙ্গে বলি আমার দেমাক যেমন আছে , ঠিক তেমনি দিমাগও আছে।

আর দিমাগ-এর উৎস সন্ধানে আপনাদের আরবদেশে যেতে হবে না। আশেপাশে কয়েক পা আমার সঙ্গে পা মেলালেই আমার দেমাকের  দ্যাখা পেয়ে যাবেন।

কদিন আগে কবিতাপাক্ষিক-এর ১০ বছর পূর্তি উৎসবের ঘটনাবলিতে মিশে আছে আমার দেমাগ। আমি সেই দেমাকগুলিকে  পরপর সাজিয়ে পরিবেশন করি , যাতে সকলের বুঝতে কোনো অসুবিধা যাতে না হয়। কোনো আড়াল নয়। কোনো লুকোচুরি নয়। কোনো হেঁয়ালিও নয়। সোজা কথা সোজা পথেই আসুক।

  চলুন যাওয়া যাক সোনামুখী । বাঁকুড়ার এক প্রাচীন জনপদ। আজকের তারিখটাকে গ্রীষ্মকালের যে কোনো একটা তারিখ বানিয়ে নিন। হাঁটুন বা হাঁটতে থাকুন আমার সঙ্গে সঙ্গে। আপনি আমার সঙ্গে বর্ধমান থেকে আড়াই ঘণ্টা বাস-জার্নি করে এসেছেন।  আপনি রিক্সা চেপে গন্তব্যে যেতে পারতেন। আমার একগুয়েমির জন্য আপনি হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন। মাথার ওপর ছাতাও নেই। ছাতি ফেটে যাবার উপক্রম। হঠাৎ আপনি শুনলেন :

কবিদের মাথায় রোদ লাগে না।

আমার মুখ-নিসৃত কথাটি শোনার পর আপনার চারদিক থেকে যাবতীয় গরম উধাও হয়ে গেল । আপনি মেনে নিলেন :

কবিদের মাথায় রোদ লাগে না।

আপনি দেখতে পেলেন একজন বৃদ্ধ মানুষ ঠিক এই রকম পরিস্থিতিতে এক দৃঢ় সংকল্পে গাছ লাগিয়ে চলেছেন ।  গরমকালের শান্তিনিকেতনে ।

এরপর তো আপনার গরম লাগার প্রশ্নই আসে না।


 এরপর চলুন রঘুনাথগঞ্জ যাওয়া যাক। মনে করুন তখন বর্ষাকাল। আপনি আমার সঙ্গে হাঁটছেন। অনুষ্ঠানস্থলের দিকে। বিকেলের দিকে। শুরু হল ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। আপনি মাথা বাঁচাতে ব্যস্ত। আমি সেই সংকট মুহূর্তে বলে ফেললাম :

 কবিদের গায়ে বৃষ্টির জল পড়লে , সেই বৃষ্টিজল আতরে রূপান্তরিত হয়।

আপনি বিশ্বাস করলেন কিনা সেটা কোনো বলাটা কোনো ফ্যাক্টর নয় , আমার বলাটাই মানুষ মনে রাখবে। বিশ্বাস না হলে বৃষ্টিদিনে আমার সঙ্গে চলুন শান্তিনিকেতনে । আমি যাঁকে অনুসরণ করে ওখানে বা সর্বত্র হাঁটাহাঁটি করি , আর  আমার পেছনে আপনি হাঁটতে থাকুন । বৃষ্টি আসুক ঝিরিঝিরি। আপনার ঘ্রাণেন্দ্রিয় জানিয়ে দেবে পরিপ্রেক্ষিত আতরগন্ধে ভরে উঠেছে।


এই বলতে পারাটাই আমার দিমাগ। এই জন্য আমি আমার দিমাগ। এই জন্য আমি বলেছিলাম বা লিখেছিলাম : 

আমার একটা পা কাঠের অন্যটা আরবদেশের এক বাদামি ঘোড়ার।

কাজেই আরবি দিমাগ আমার থাকবেই , আপনি এই দেমাক-কে অহংকার-এ রূপান্তর করে নিতে পারেন , বাসনা হলে ।

আপনার মনোবাসনা পূর্ণ হোক।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নস্টালজিয়া ৩২ || পৃথা চট্টোপাধ্যায় || ন্যানো টেক্সট

  নস্টালজিয়া ৩২ পৃথা চট্টোপাধ্যায় নস্টালজিয়া ৩২ পৃথা চট্টোপাধ্যায়  আমার শৈশবের বেশ কিছুটা সময় কেটেছিল সাগরদিঘিতে। বাবা তখন ওখানে  বিডিও অফিস...