Sunday, August 19, 2018

বই আলোচনা । বাংলা ।। নবপর্যায়-৫৯২ । অষ্টম বর্ষ ।১৯ -০৮-২০১৮ । আলোচনায় : রাহুল গঙ্গোপাধ্যায়


বই আলোচনা । লোচনায় : রাহুল গঙ্গোপাধ্যায়


-----------------------------------------------------------
 ব্লেড রানার।কবি - শুভ আঢ্য


কবিতার প্রাথমিক শর্তগুলির মধ্যে সবচেয়ে অপরিহার্য অংশটি হলো প্রকৃত পর্যবেক্ষণ।আর এই সৎ পর্যবেক্ষণের চলার পথে ~ কবি একলা ও নিরাকর।যা হবার নয়, তাই যেনো সত্যি।তাই যেনো কোনো মুহূর্তকালে বাস্তবোচিত।পথ জটিল ~ তবে ভুল বা ঠিকের মাত্রা সময়ের নিরিখে।আর (সময় + পর্যবেক্ষণ), এর সঠিক যৌথ প্রতিফলনই কবি যখন প্রকাশ করেন ~ পাঠকের কাছে কবিতা।কবির কাছে নিজেকে আবিষ্কার।ঠিক এরকমই পথ চলার প্রকাশ নিয়ে তরুণ কবি শুভ আঢ্যর প্রথম বই 'ব্লেড রানার'।নিজের মুহূর্তকালকে যেনো মাইক্রোস্কোপে দেখার আত্মকথন।বইটির প্রচ্ছদটি কবিতাগুলির মতোই গভীর








শুরুতেই পাঠককে উদ্দেশ্য করে কবি বলছেন "সানফ্লাওয়ার থেকে তেল বের করে যে লেখা ও নিজেকে রয়্যাল প্রমাণ করার চক্কর, এক্স-রে ভেদী সে সব দৃষ্টি গচ্ছিত রেখেছি আপনার জন্যই।" দুটি দীর্ঘ কবিতা এবং চারটি কবিতা সিরিজ ~ মোট ছয়টি কবিতা বইটিতে আছে।প্রথম কবিতাটি একটি দীর্ঘ কবিতা (সম্ভাবনাময় একটা দিন থেকে ডুবুরি যা কিছু দেখে), যা শূন্যকাল ওয়েবজিন ১৫ তে প্রকাশিত ~ "বোধ থেকে জারিয়ে নেওয়ার রান্নার মশলায় আঙু্ল / কম পড়ে যাচ্ছে যখন, আপনি ফিরে আসছেন সেই / ন্যাশানাল জিয়োগ্রাফিকের কাছেই, পরিবর্তন এক টাই ছেড়ে স্নিপড্রেস পরে নিচ্ছে আর ঘড়িতে জাস্ট 10:47 PM"।পরবর্তী কবিতাগুচ্ছ ব্লেড রানার, যার শুরু হয়েছে কবি সব্যসাচী সান্যালের লেখা দুটি লাইন দিয়ে।এখানে শুভ লিখছেন "ভাসমান কর্কের ছিপি ছাড়া প্লবতা মানে / এখন বুঝি না কিছুই, আমার আর আর্কিমিডিস নেই কোনো" ~ মোট বাইশটি কবিতা এই পর্বে রয়েছে।পরবর্তী অংশ ~ শিরোনাম : স্বপ্ন মধ্য ও পরবর্তী পর্যায়।এটিও একটি দীর্ঘ কবিতা, যার শেষ পর্যায়ে ~ "মৃতদেহ থেকে রাইগার মর্টিসের সময়টায় মেয়েটার কথা / কেউ না কেউ ভেবে থাকবে, পুরোনো শহররের / কোনো না কোনো ভুলে যাওয়া ঠিকানা থেকে / মেয়েটা চিনবে নতুন শহরের মানচিত্র"। এরপর পনেরোটি কবিতা নিয়ে, আরো একটি গুচ্ছ কবিতার সিরিজ ~ চিনা ব্যারাকের দোকান।এরপর আরো একটি কবিতা সিরিজ ~ পাভলভের সুস্থতা ও অসুস্থতাজনিত কথোপকথন।যেখানে, চূড়ান্ত এক নির্মাণ ঘটেছে বিনির্মাণ আঙ্গিকে।সপ্তাহের প্রতিটা বার, সময় মাত্রা ব্যবহার এবং বিভিন্ন ওষুধপত্রের নাম প্রয়োগ ~ আলাদা এক প্রত্যয় এনেছে।এই পর্বের শেষ কবিতা (রোববার, একটা অতিপ্রাকৃত ছুটির দিন) শেষ হয়েছে এইভাবে ~ "আপনি মগজের কন্ট্রোলরুমে বার্তা পাঠিয়ে / থামলেন, যদিও হাসির পর স্যালাইভা আমি কন্ট্রোল করতে শিখিনি।" শেষ কবিতাগুচ্ছ ~ অন্ধের কবিতা যা কিছু।ষোলোটি কবিতা।প্রতিটিই একে অন্যের স্তরভেদ করে উত্তরণ।যেমন ~ "স্তেপ থেকে কতগুলো চোখ উড়ছে / তাদের অন্তর্কলহ থেকে সঠিক দৃশ্যায়ন করতে পারছেন না / ক্যামেরাম্যানটি, আমি বুঝতে পারছি ফ্রিজ শট পরের / পর চলে গেলে আলো বেগে, স্থায়ী হয় না কিছুই"।বইটি এক ভিন্ন বাস্তবতার ম্যাজিকে জারিত।সুতরাং বইটি সংগ্রহ তারাই করবেন, যারা সময়চিন্তনে ভিন্ন প্রকৃতির কবিতায় বিশ্বাসী।

No comments:

Post a Comment

পূরবী~ ১৫ || অভিজিৎ চৌধুরী || ধারাবাহিক উপন্যাস

পূরবী~ ১৫ অভিজিৎ চৌধুরী শূন্য হাতে ফিরি হে নাথ, পথে পথে। আপন মনে অনেকদিন পর গাইছিল তীর্থ।হচ্ছে না,লীনা বলল। যদুভট্ট বালকদের কানাড়া...