বই আলোচনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বই আলোচনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৪ জুন, ২০২৩

কফি হাউসে শৈলদহ পত্রিকা উদ্বোধন, Shailadaha

কফি হাউসে শৈলদহ পত্রিকা উদ্বোধন



নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ৩ জুন ।।  শনিবার বিকেলে কলকাতার কলেজস্ট্রিটের ইন্ডিয়ান কফি হাউসে কুড়ি বছর ধরে নিয়মিত প্রকাশিত হওয়া এ সময়ের জনপ্রিয় পত্রিকা

' শৈলদহ ' র বিংশতিতম বর্ষ প্রথম সংখ্যা উদ্বোধন করলেন বিশিষ্ট কবি সম্পাদক প্রাবন্ধিক ও সমালোচক নীলাঞ্জন কুমার । অনাড়ম্বর এই সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি সম্পাদক কমল তরফদার,  কবি অজয় নাগ,  কবি নন্দিতা সেন বন্দোপাধ্যায় ও শৈলদহ পত্রিকা সম্পাদক কবি নীলিমা সরকার প্রমুখ সাহিত্য জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ । পত্রিকার দীর্ঘ জীবন ও সাফল্য কামনা করেন মাননীয় উদ্বোধক নীলাঞ্জন কুমার ।

সোমবার, ২২ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন  কুমার

অনুভব অস্থিমজ্জায় । অশোক চক্রবর্তী । দিবারাত্রির কাব্য । একশো পঁচিশ টাকা ।

একএকটা সাধারণ মানের কবিতার ভেতরে যখন আলোচনা স্বার্থে পংক্তি খুঁজে বেড়াই, তখন কিছু কিছু পংক্তি ধরা দেয় । অশোক চক্রবর্তীর কবিতার বই ' অনুভব অস্থিমজ্জায় '-তে সেভাবে পংক্তি এসেছে । যেমন: ' এখনো মরাইয়ে/  হরপ্পা মহেন্ঞ্জোদড়োর ঘামগন্ধ । ' ,( ' ঘাম'-রক্ত ') ' তোমরাও সঙ্গে থাকো গরম ভাতের/  ঘ্রাণ ভাগ করে নেব/  পৃথিবীর মানুষের সাথে ।' ( ' সঙ্গে থাকো ')।
          বোঝা যাচ্ছে বুকেতে মোচড় মারার মতো তেমন পংক্তি এগুলো নয় । সত্যি বলতে কি , অশোক চক্রবর্তী  চেষ্টা করেছেন , কিন্তু পৌঁছোতে গেলে ভেতরের থেকে এক উন্মাদনা গড়ে ওঠার বিষয় থাকে,  তা তাঁর ভেতর নেই । ফলে তিনি আরো দুটি কবিতার বইয়ের লেখক হলেও প্রকৃত পাঠকের মন জয় করতে এখনো তিনি পারেন নি ।
             তবে একথা বলতে হয় অশোক বাবুর ভেতরে এক আপাত সারল্য আছে । যা কবিতায় ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করেন । তাকে নিবিড় করার কৌশল জানতে হবে , না হলে মাঠে মারা যাবে ।
         বইয়ের ব্লার্বে লেখা আছে :  'এই মানুষটির কবিতার জগতে প্রকরণের বৈচিত্র্য চর্চা হয়তো তেমন নেই,কিন্তু নিখাদ বিশ্বাসের স্বতস্ফূর্ত উচ্চারণ আছে ।' এ সত্য ব্লার্বে  খুব একটা লেখা হয় না । বৈচিত্র্য আসতেই হবে নচেৎ হবে না , তাঁকে বুঝতে হবে । ফয়সন অরফিয়াসের প্রচ্ছদ ভালো লাগে ।

রবিবার, ২১ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

বিলাসীবালা এবং । শান্তি সিংহ । দে পাবলিকেশনস। ষাট টাকা ।

' হাভাতে- বাপটা তার মা মরা বিটির নাম/ বড় আদরে দিয়েছিল/  বিলাসীবালা ' ('বিলাসীবালা ') কিংবা, ' উড়ন্ত সাপের চেয়ে হিলহিলে লাউডগা আরও ভয়ংকর / ঘোর লাগা যুবক জানে না । ' ( হিলহিলে লাউডগা ')-র মতো কবিতার লাইন লিখে ফেলার জন্য এখনো আমাদের মধ্যে আছেন প্রবীণ কবি শান্তি সিংহ । তিনি দেখেছেন গ্রামীণ সংস্কৃতি, রাজনীতি । তাঁর অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে তিনি যা আমাদের দেন তার মধ্যে সততা লেগে থাকে বলে আমরা তাঁর সৃষ্টির প্রতি আকর্ষিত হই ।
            কবির সাম্প্রতিক কাব্যগ্রন্থ ' বিলাসীবালা এবং '-এ তিনি দেখিয়েছেন জীবনের প্রায় সমস্ত দিক যা গ্রামীণ অবস্থানের   নিঃশ্বাস প্রশ্বাসে বয়ে চলেছে । গ্রামীণ জীবন যেন তাঁর চোখের সামনে সারাক্ষণ । পুরুলিয়ায়এক সময়ে বসবাসকারী ও লোকসংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তাঁর কবিতাতে তার প্রভাব আছে ।যেমন:  ' জামের মন্ঞ্জরী জাগে গাছে গাছে/ বায়সের মিলনের ঋতু/ হলুদ খেজুর -কাঁদি  টোপা টোপা, আঃ কী চিকন! ( ভাঙা তোরঙ্গের বুকে) ।
      কবি শান্তি সিংহ সেই কবি যাঁকে বুঝতে গেলে আরো সময় লাগে । যদিও তিনি সহজ সরল উচ্চারণে কথা বলেন । কিন্তু গভীরতা অগাধ । কবিতার ভেতরে কবিতা খোঁজার জন্য বসে থাকা মানুষেরা তাঁকে পছন্দ করবেন সেই ক্যারিশমার জন্য । প্রচ্ছদে নতুনত্ব নেই, শুধু সন্দীপ দেয়াসীর এই প্রচ্ছদে কালার কম্বিনেশনকে
কিছু  দাম দিতে হয় ।

শনিবার, ২০ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

গগন সমগ্র । প্রফুল্ল পাল ।পাঠক । ষাট টাকা

    কবিতার ভেতর দিয়ে মানুষ কত কি দেখে! কত কি ভাবে!  কত চমৎকার উপহার দেয়!  অহর্নিশ কবিতার  সঙ্গে থাকতে গিয়ে যে সমর্পণ উঠে আসে তাকে কোন নাম দেওয়া যায়!  জানা নেই ।যে কবি লেখেন: ' বেদবাইবেলকোরাণ ত্রিপিটক দাস ক্যাপিটালের পাতা ভরে যাবে গগনে/ সেই রকম আমারও মনে হয়েছিল আর সকলে যেমন ভাবছে আজকাল ।' , কিংবা, ' আর বারবধূর লজ্জাবিষয়ক কঠোর প্রবন্ধে যা আছে তা না বলাই ভালো ' তাকে কত নম্বর দেওয়া যায়? কেউ কি উত্তর দিতে পারবেন? অন্ততঃ প্রফুল্ল পালের  ' গগন সমগ্র ' র জন্য  (যার ভেতরে এই পংক্তিগুলি গ্রন্থিত আছে) তার মাপ করা বেশ অসুবিধেজনক ।
          গগনকে কত রকম ভাবে দেখানো যায় তা প্রফুল্ল পাল বিবৃত করেছেন অত্যন্ত সমর্থনযোগ্য সচেতন ও নির্বিকার ভাবে । তিনি বলেন: 'বাচ্চা যেমন ডিমে ভরা/  ভাতের মধ্যে গগন ভরা । ' গগন আছে সব কিছুর ভেতরে, শুধু খুঁজে নেবে নিজের মননের মধ্যে দিয়ে । প্রফুল্ল পাল লিখেছেন তাঁর মতো করে । তাঁর নাম কামানোর কোন দায় নেই ।প্রান্তিক এক গ্রামীণ মফস্বলে থেকে গগন দেখেন , বোঝেন, ভাবেন, তার স্বাদ গ্রহণ করেন । কতজন তা পারে?
             সবশেষে বলা যায় , মানবতা আর গগনকে মিলিয়ে দেন তিনি । আসে রাজনীতি , লোভ । যেমন:
' গগনের কাছে লাল চালের ভাতের লোভ আর/ কালোকে কালো সাদাকে সাদা বলার স্পর্ধা ।' ব্রেভো!
দেবাশিস সাহা ছেঁড়া খোঁড়া ভূমিকায় গগন অর্থাৎ অনন্ত আকাশকে যেভাবে চিন্হিত করেছন তাতে বাহাদুরি আছে ।

শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

আমি শবর বলছি । দেবাশিস লাহা । রূপকথা প্রকাশন । দুশো টাকা ।

চার  ফর্মার বইয়ের দাম দুশো হোক বা যাই হোক,    প্রকৃত পাঠক অবশ্যই খোঁজে সেই কবিতা, যা দামের মূল্য দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না । কবি দেবাশিস লাহার কবিতা পড়ে মাথায় প্রশ্ন জাগে, তাঁর কবিতাকে বাঃ না বলে আঃ বলতে ইচ্ছে হয় কেন?  উত্তর নেই । তাঁর সাম্প্রতিক কাব্যগ্রন্থ ' আমি শবর বলছি ' এমন কাব্যগ্রন্থ যার ভেতর ছুঁয়ে ফেললে মন্ত্রমুগ্ধ হতে হয় । তাই এ সব পংক্তি বারবার পড়তে ইচ্ছে জাগে: ' কোথাও হাতকে আমি পাখি হতে দেখি না; তবু সুতীব্র গরমে ফ্যান বন্ধ করে দিই; হে তালপাখা তুমি উর্ধগামী হও ।' (' হাতপাখা ') , ' তখনও লড়াইয়ের শ্লোগান তুলছিল/ মৃতদেহের থুতু ছেটানোর অধিকার দেওয়া হোক । ' ( থুতু ')।
            দেবাশিসের প্রতিবাদ অন্যান্য কবিদের থেকে বেশ কিছুটা আলাদা । তার যেকোনো প্রতিবাদী উচ্চারণ ট্যুইস্ট করে: ' মৃতদেহ নিয়ে খিল্লি করতে নেই; / তারা যেখানে গেছে তোমরাও সেখানে যাবে । '
( মৃতদেহ নিয়ে খিল্লি করতে নেই) । পাশাপাশি দেবাশিস অত্যন্ত স্মার্টভাবে ধোঁয়ার অনুষঙ্গে অবাক করা কবিতা লেখেন: ' তবু সিগারেটে টান দেওয়া মাত্র যেন মনে হয় রোদ্দুর নয় ,জ্যোৎস্না নয় , ধোঁয়া আমি শুধুই ধোঁয়া হয়ে  যাচ্ছি ।'
       ' আমি শবর বলছি ' সেই বই যার জন্য অপেক্ষা করার দরকার পড়ে । লিখতে গিয়ে থামতে হয় প্রকৃত মূল্যায়নের জন্য । প্রবীর মন্ডলের প্রচ্ছদ দেখার মতো, তবে বই ও কবির নাম বড়বড় হরফে ছাপাতে কিছুটা বৈসাদৃশ্যও ঘটেছে ।

বুধবার, ১৭ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা  । নীলাঞ্জন কুমার

দেখা শেখার স্কুল । দেবাশিস সাহা । আলো পৃথিবী । ত্রিশ টাকা ।

কবি দেবাশিস সাহার ১ ফর্মার কাব্য পুস্তিকা ' দেখা শেখার স্কুল ' আপাতভাবে পড়তে মাত্র মিনিট দশেকের বেশি লাগার কথা নয় । তার প্রভাব থেকে যাবে বহু বহু সময় জুড়ে । পাঠকরা যদি খুঁজেপেতে  দৈবাৎ এ পুস্তিকা  পেয়ে যান ও পড়ে ফেলেন তবে বুঝবেন এর ভেতরে আছে জীবনের কতখানি সান্নিধ্য যা আমাদের ভেতর আবর্তিত হবে , যেমন: 'খিদে কে/  প্রতিপক্ষ ভেবে/  রাগে ফুটতে থাকে গরম ভাত ' (' রাগ') প্রকৃষ্ট উদাহরণ ।
       দেবাশিস সাহা র এ পর্যন্ত দশটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, তার মধ্যে বুঝতে পারি তিনি   কিভাবে তৈরি করেছেন নিজেকে  লক্ষ্য সামনে রেখে ।  জানেন যে লক্ষ্য পেরতে হলে হার্ডল ডিঙিয়ে যেতে হবে । দেবাশিস তাই করেছে, সেজন্য লিখতে পারেন: ' অন্ধ সন্তান/ পাপে পা দিয়ে /।খুঁজে বেড়ায় ঈশ্বরের ঘর । ' (  ' ভোর ') নয়তো ' গাছেদের প্রণাম ছায়া হয়ে গড়িয়ে যায়/ মিছিলের দিকে । ' ( ' স্পর্শ ') , ' কথা বলতে বলতে/ একসঙ্গে হাঁটলে/ ছোট হয়ে যায় পৃথিবী।' ( ' কথান্তর- ৪') ইত্যাদি ইত্যাদি ।
          দেবাশিস দেখাচ্ছেন চিত্ররূপময়তার ভেতর দিয়ে মানুষের কথা বলার জোশ । যা করা কঠিন । কলাকৈবল্যবাদীদের ভেতরে মানুষকে নস্যাৎ করার খেলা চলে , তাকে তিনি জয় করেছেন । দেবাশীষ সাহার  ( গ্রন্থকার নয়) এ প্রচ্ছদটি শিক্ষিত করার মতো।

সোমবার, ১৫ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার


নির্বাচিত কবিতা । নমিতা চৌধুরী । দে'জ পাবলিশিং ।

অধ্যাপিকা সুমিতা চক্রবর্তী তাঁর ভূমিকায় নমিতা চৌধুরী র 'নির্বাচিত কবিতা 'প্রসঙ্গে একটি অত্যন্ত
  সমর্থনযোগ্য কথা বলেছেন, তা হল : ' নমিতা চৌধুরীর কবিতায়  প্রকৃতির মতোই এক স্বচ্ছতা আছে।' কবির দীর্ঘ কবিতা  জীবনের ভেতরে তাঁর প্রকাশিত একুশটি কবিতার বই এর ভেতরে পনেরোটি কবিতার  বইয়ের নির্বাচিত কবিতার জন্য অন্যান্য বইগুলোর ক্ষেত্রে অপূর্ণতা থেকে যায় । তবে প্রকৃতির স্বচ্ছতা মাখা কবিতার  সন্ধান পাই এখানে:  ' জীবনের পাশাপাশি বহুদূর হেঁটে চলে যাব/ যেইখানে অসম্ভব গান,/ছড়ানো ছিটানো আছে রোদের মতন।'(' একটি কবিতারজন্য), বা , ' মেয়েটি জেনেছে পথ । পথের ঠিকানা/  যেমন জেনেছে সে শিকারির স্বচ্ছ প্রকৃতি । '( মেয়েটি ')।
             কবির নিজস্ব জিজ্ঞাসা , অন্বেষণ, ব্যর্থতার জন্য কান্না সব আমরা পাই এই নির্বাচিত কবিতার ভেতরে । তার সত্ত্বা চিন্হিত করে তাঁর আবেগীয় দিক যা একজন কবি যিনি নারী হিসেবে জন্মেছেন তাকে ছুঁয়ে যায় । যেমন: ' ডাইনে নয় বাঁয়ে নয় এপাশে নয় ওপাশে নয়/ শুধু হ্যাঙারে ঝোলানো একটা জামা হয়ে টিকে আছি ।' ( 'হ্যাঙারে ঝোলানো জামার মতো '),  আছে, ' চোর এবং মন্ত্রী/  মন্ত্রী এবং চোরেদের গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে/ একাকার করে তোলে । ' বাহবা পাওয়ার মতো নম্র অথচ তীব্র কবিতা ।
        '  নির্বাচিত কবিতা '-য় আলোচনার অনেক কিছুই থাকে । তবে এখানে তার সারসংক্ষেপ করা হল অবস্থার বিচারে । প্রচ্ছদের প্রশ্নে বলি,  প্রচ্ছদকারের নামটি যদি যোগেন চৌধুরী না হত, তবে নিরপেক্ষভাবে এ প্রচ্ছদ দেখে আলোচনার পাঠকবর্গ কি বলতেন  (প্রচ্ছদ চিত্র দেওয়া আছে) তা এই প্রচ্ছদের ক্ষেত্রে বলুন ।

রবিবার, ১৪ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

কবিতার কথা কাটাকাটি । উপেক্ষিৎ শর্মা । সাহিত্য জগৎ । একশো কুড়ি টাকা ।

প্রকৃত সমালোচক কোনদিন বন্ধুকৃত্য করে না ।প্রকৃত সমালোচকের কাছে পরিচিত অপরিচিত লেখকের লেখা সমান মূল্যবান । তাই লেখকেরা প্রকৃত সমালোচককে ভরসা করেন । তাঁরা সম্মান জানিয়ে তাঁদের বই দেন প্রকৃত মন্তব্য পাওয়ার জন্য ।
       এই 'প্রকৃত ' শব্দটি অনেকবার লেখার একটিমাত্র কারণ, এর বাইরে জগৎ আছে । বিরাট । রাস্তায় পুলিশের ঘুষ খাবার মতো ওপেন সিক্রেট!  উপেক্ষিৎ শর্মাকে যদি খুব ভালো কবি বলে ফেলি তাহলে ওই পুলিশের ব্যাপার হবে । তবে তাঁর সাম্প্রতিক কাব্যগ্রন্থ
' কবিতার কথা কাটাকাটি ' মধ্যে চলে যাওয়ার মতো পংক্তির অভাব নেই, যার দিকে দৃষ্টি যায় কিন্তু কিছুক্ষণ পর তা মুছে যায় মন থেকে । প্রমাণস্বরূপ  দেখাতে চাই:
' সমূহ জীবন দিয়ে আটকে রেখেছি ভয় ও বার্ধক্য । দরজায় । পর্দার আড়ালে । ' , ' সবাই যেভাবে আছে সেইভাবে আমি/ হাঁটিচলিখাইশুই এবং হাঁটি   যেভাবে সবাই ...'।
        উপেক্ষিৎ শর্মার কাব্যগ্রন্থে যে কটি দীর্ঘ কবিতা আছে তাকে শ্রমের অপচয় বলে মনে করি ।থিয়েটারে যেমন বাজে অভিনেতা বেশিক্ষণ স্টেজ শেয়ার করার জন্য সময় নষ্ট করে আর সিনেমায় ফুটেজ খায়, তেমনি হয়ে উঠেছে এই কবিতা । উপেক্ষিৎ শর্মা এখানে কাটাকাটির খেলা নয় বাজে শব্দের  জোড়া লাগানোর খেলা দেখিয়েছেন । দেবান্ঞ্জনা চ্যাটার্জির প্রচ্ছদ সাদাসিধে হলেও মনোগ্রাহী ।

শনিবার, ১৩ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা।  নীলাঞ্জন কুমার

সময়ের শাদা কালো । অজয় নাগ । মাতৃমুখ । ত্রিশ টাকা ।

বিশিষ্ট কবি অজয় নাগের ১৯৭২ থেকে আজ পর্যন্ত যে ২৪টি  কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে বেশির ভাগ পড়ে থাকার কারণে এই কবির  কাব্যপথ নিয়ে বিশেষভাবে ওয়াকিবহাল থাকায় আলোচনার ক্ষেত্রে তা সুবিধে করে দেয় । কবির সাম্প্রতিক কাব্য পুস্তিকা ' সময়ের শাদা কালো '-র ৭৪টি খন্ড কবিতার ক্ষেত্রে তিনি এ সময়ের দোলাচল আঁকার চেষ্টা করেছেন । তাই পড়ে আনন্দ পাই : ' মাটির বুকে শিউলি ভোরের ঝরা পৃথিবী/ জ্যোৎস্নায়  রজনীগন্ধা রক্ত/  আমি লিখি জীবন স্রোতে  ঠিকানা ' নয়তো ' আমার আনন্দ সকলে ভাগ করে নেবে/ আমার দুঃখ সকলের ভাবি.../ এখন লোকালয়ের কালো কালো মেঘ/ সুখ শোক কারা ভাগ করে নেবে? '
       আসলে সময় বড় বিচিত্র তাকে যেমন ছোঁয়া যায় না তেমনি ধরতে গেলে পালায় । শুধু ছাপ রেখে যায় । সময়ের ঠিকানা খোঁজার যারা চেষ্টা করেন তারা জানেন এ দুঃসাধ্য কাজে তাঁরা সফল হতে পারবেন না । তবু তাঁরা করেন যেমন কবি অজয় নাগ ।
       সে কারণেই তিনি কবি । আর কবি বলেই তিনি লেখেন:  ' হরিণ আজ বাঘের মুন্ডু পরেছে/ বাঘ হরিণের  / আরশোলা প্রজাপতির..../ তোমার বাগান সাজাচ্ছে বাসনা/  তুমি শুধুই তুমি হয়ে/ কতদিন বসে থাকবে ' , ' যারা এসেছিলেন চলে গেছেন-/ তুমি স্নান করোনি/ ঢেকে রেখেছ মলিনতা/ তোমার মেধার শরীরে ' ইত্যাদি ইত্যাদি ।
         হয়তো তাঁর কবিতা আপাত আহামরি নয় । তবু ভেতরে  ঢুকতে ঢুকতে তল হারায় । সেজন্যই তাঁকে পড়ি । আবিষ্কার করি । নিজেকে । কবিকৃত প্রচ্ছদ বিমূর্ত উপলব্ধি নিয়ে মনে ঘিরে থাকে ।

বুধবার, ১০ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || দহন

কিছু বই কিছু কথা।  নীলাঞ্জন কুমার


দহন ।  সুকুমার সাহা । সহযাত্রী ।চল্লিশ টাকা ।

'পান চিবোতে চিবোতে রণনেতা এলেন/ যোনির ক্ষত নাকি গভীরতা পরীক্ষা করে বললেন, /-ছবিগুলো ক্যালেন্ডারে করে জনগণের সামনে/ঝুলিয়ে দেওয়া উচিত ।' - এর মতো যে কবি কবিতা লেখেন সেই কবি আবার ' বলার কথা সময় মত/ যদি না পারো বলতে/ অদ্য লাভ হতেও পারে/ তবে, রক্ষে হয়না শেষটা । '-র
মতো কবিতা লিখতে পারে তা সুকুমার সাহার 'দহন ' কাব্যগ্রন্থ না পড়লে বিশ্বাস হতো না।  কবিতা বাছাই
নিয়ে কবির  কিছু কাণ্ডজ্ঞান থাকা উচিত বলে মনে করি । অন্তত নিজে না পারলে  কোন বিদগ্ধ কবিতা বোদ্ধাকে দেখিয়ে নিতে পারতেন তবে অহেতুক দীর্ঘ কুচ্ছিত কবিতা ছেপে পাঠককে কষ্ট দিতে পারতেন না ।
          আঁৎকে উঠি যখন পাই: ' নাচ কেতকী নাচ/ স্বপ্ন মেদুর আলতো চোখে/ আমায় একটু খ্যাচ- 'এর মতো বিভৎস কিছু এই বইটিতে । বলতে দ্বিধা নেই,  শতকরা আটানব্বই ভাগ কবিতার বই কোন মতেই কবিতার বই নয় । এইপত্রিকায় এ ধরনের বেশ কিছু কবির বই- এর সন্ধান আপনারা পেয়েছেন , যা কদর্য বইয়ের উদাহরণ হিসেবে নির্বাচিত করে মিউজিয়ামে রাখা যেতে পারে ।
          আমিত দাসের প্রচ্ছদ আদৌ কোন প্রচ্ছদ নয় ।
দহনের কবির কবিতার প্রতি মনোযোগ থাকলে তিনি ভালো লিখতে পারতেন । অন্তত এখানে উল্লিখিত প্রথম পংক্তি থেকে বোঝা যায় ।  এখন তিনি কি সে শ্রম করবেন?  এটি লাখ টাকার প্রশ্ন ।

মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার


রেশমা এবার পরচুলা খুলে রাখি । মানসকুমার চিনি । বাকপ্রতিমা ।কুড়ি টাকা ।

কবি মানসকুমার চিনির কবিতার  দীর্ঘ পথ নিয়ে আমরা যারা কিছুটা জানি , তারা বুঝি সে পথে কাঁটা কতটা ভয়ঙ্কর । কিন্তু তার কাব্যগ্রন্থ 'রেশমা এবার পরচুলা খুলে রাখি 'তে  তিনি নিজের মনকে উজাড় করেছেন একদম নিরাভরণ অবস্থায়, যা তাকে খুঁজে নিতে সাহায্য করে। যখন তিনি লেখেন ' কতদূর .. কতদূর .../ মন তীব্র গতিতে ছুটে গেলে/ ভালোবাসা তির ও ধনুকে বিঁধে যায় '  কিংবা ' মনের আর দোষ/ সে শুধু জলের মতো ঘুরে ঘুরে চলে/ নদী থেকে সমুদ্রে ' তখন তার ভেতর সেই রূপ প্রত্যক্ষ করি ।পরচুলার মধ্যে যে আলগা সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে ও তাকে খুলে ফেললে আসল মানুষটি দৃশ্যমান হয়, তা তিনি প্রত্যক্ষ করতে চেয়েছেন । প্রেম কতখানি গভীরভাবে আঁকড়ে ধরে থাকতে পারে, তাঁর  প্রিয় পংক্তি তিনি উচ্চারণ করেন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে: 'পুড়ে গেছে আমার সুখ/  আমার আনন্দ ভাসতে ভাসতে/ খাদের কিনারায় ঝরে পড়ে বৃষ্টি হয়ে ।'  কিংবা 'ঘর ছেড়ে পালানোর পর/ আর কী কী  পড়ে থাকে? / এ প্রেমের কবিতা/ আমারই রক্তে
লেখা ' ।
             মানসের প্রেমের কবিতার ভেতরের প্রেম কোন গোলা বস্তু নয় বা স্রেফ অর্গাজম কেন্দ্রিক কিছু বিষয়ও নয় । তাই পাই পরিচ্ছন্ন রূপে যা প্রেমকে গাঢ় করে ভাবতে ভালোবাসে ।প্রচ্ছদকারের নামহীন প্রচ্ছদটি কেন এখানে প্রচ্ছদ হিসেবে নির্বাচিত হল বোঝা গেল না ।

শনিবার, ৬ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || একুশ প্রেমের কবিতা

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

একুশ কবির প্রেমের কবিতা । সম্পাদনা- কমল তরফদার । সন্নিধি প্রকাশনী । একশো কুড়ি টাকা ।

১৯৩৫থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে যাঁদের জন্ম সে সব কবিদের মধ্যে বেশ পোক্ত হাতে বেছে নেওয়া কমল তরফদার সম্পাদিত 'একুশ কবির প্রেমের কবিতা ' পড়ে  বোঝা যায় বইটিতে প্রেমবোধক কবিতার  ঘাটতি নেই । প্রেম করা সোজা বিষয়, কিন্তু প্রেমের কবিতা লেখা ততটাই কঠিন । অনেকটা কাঁটার ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার মতো । সম্পাদক যে একুশ কবিকে বেছেছেন তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগের প্রেমের কবিতা লেখা যে  'চুটকিয়োঁ কা খেল' তা  কবিতা পড়ে বুঝে নিতে দেরি  হয় না । অথচ  তুষার রায় ,মণিভূষণ ভট্টাচার্য, মানিক চক্রবর্তীর মতো কবি যাঁরা তেমন প্রেমের কবিতা লিখতেন না  ,তাদের কবিতা বেছে কি সুন্দর প্রেমের কবিতার সংকলন সাজিয়েছেন সম্পাদক!
       একুশ কবির কবিতায় প্রেম সম্পর্কিত মনোভাবের যে পার্থক্য আছে ',যেমন তুষার রায়ের ' দেবতার মতো চোখে তোমাকে দেখেছি/  আলো নাও অন্ধকার নাও, তুমি নারী ।'(তুমি নারী), আবার মণিভূষণ ভট্টাচার্যের   সারা শরীর ঘিরে উঠলো ধ্বনি, / হারিয়ে এলে কলেজ তোড়া '( সোমবার রাত্রে)।এবাদে যাঁরা লিখেছেন তাদের মধ্যে দেবী রায়,  রত্নেশ্বর হাজরা, মানিক চক্রবর্তী, কমল তরফদার, দীপেন রায়, দেবারতি মিত্রের কবিতা পড়ে আনন্দ লাগে ।
           কমল তরফদারকে দেখছি তিনি যে কাজটি করছেন তার ভেতরে আন্তরিকতা ভরপুর ।অর্জুন বসু রায় প্রচ্ছদের দিক থেকে এক নতুন বার্তা বহন করেছেন।

শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

কালপুরুষের ইস্তাহার । সুনেন্দু পাত্র । দি সী বুক এজেন্সি । একশো টাকা ।

নতুন নতুন লিখতে শুরু করলে মাথায় কিছু ফর্মুলা    নড়াচড়া করে ।যেমন ক্ষোভের কথা, প্রেমট্রেম ব্যাপার, রাজনীতি , বিবেকানন্দ দিক, সম্পর্কের জোড়াতালি, হিন্দু মুসলিম ইত্যাদি । তার সঙ্গে শুরু হয় শব্দ হাতড়ানো । সুনেন্দু পাত্রের 'কালপুরুষের ইস্তাহার ' কাব্যগ্রন্থে এসব জমজমাট । তবু তার মধ্যে স্বাদ বদল করে দেয়:  'ওহে তুমুল বৃষ্টি, পারলে এখানে রেখে যেও/  তোমার সবুজ গন্ধের ডাকটিকিট । ' (বৃষ্টি)  'দেখেছি জলের নিজস্ব কোন ভাষ্য নেই/ বধিরতার নীরব চাহনি ছাড়া । (' অনাহূত এক নির্জনতা ')-র মতো কিছু লাইন ।
         আর পাঁচটা কবিতা বই এর মতো  কাব্যগ্রন্থটিকে মানুষ ভুলবে কারণ কবির শব্দ চেতনা ও শব্দচয়ন প্রাথমিক পর্বে আছে । ভাবলে আশ্চর্য লাগে কবির শুভার্থীরা তাকে পরিণত না হওয়া পর্যন্ত কাব্যগ্রন্থ প্রকাশে বাধা দিলেন না কেন?
       কবিদের বোঝা উচিত একটি কাব্যগ্রন্থ মানে কবির প্রতি পাঠকের মনে দীর্ঘ ছাপ থেকে যাওয়া । কুড়ি বছর পর বইটির যদি চুলচেরা হয় সেখানে তাকে বইটির জন্য লজ্জাবোধ করতে হবে । কারণ তখন তিনি অনেক পরিণত  হবেন। রাজদীপ পুরী প্রচ্ছদে  মর্যাদা বজায় রেখেছেন। তাঁর কালার কম্বিনেশন জ্ঞানের জন্য বাহবা দিতেই হয় ।

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

চূর্ণলিপি । মন্দিরা রায় । দিবারাত্রির কাব্য । একশো পঁচিশ টাকা ।

কবি মন্দিরা রায় যখন কবিতা লেখেন তখন কথা বলে ওঠে নীরবতা ।খুলে যায় গোপনতা ।আপনি আপনি সুর বেজে ওঠে তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে । তার প্রমাণ:  ' মেয়েটি জলের টিপ বুকে করে/  নিয়ে গেল ঘরে/  গোধূলি- সন্ধ্যার পরে/ ম্যাজিক ছড়াল সাদা যুঁই।' কিংবা,' শিয়রে রূপোর কাঁটা, ভাগ্যিস ঘুমিয়ে পড়িনি ।/ কিশোরী অবুঝ ভারি। পায়ে হেঁটে আন্  বাড়ি  যায় । '  মন্দিরা কম লেখেন বলে তার ভেতরে জমাট বাঁধে তন্ময়তা , উথাল পাতাল করে বেরিয়ে পড়ার জন্য,  ঠিক তখনই তিনি কলম ধরেন । ভালো লাগে তাঁর এই প্রক্রিয়া ।
             মন্দিরা তেমন পরিচিতি পাননি তাঁর কম দেখার কারণে । তিনি এসব তুচ্ছ ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামান নি।
তাই লিখতে পেরেছেন : ' উল্টো চাঁদের ছায়া গন্ডুষে ভেসে ভেসে যায় ।, ' স্থিরতার ঢেউ ভাঙে কান পেতে শুনেছো/ কখনো।'
           মন্দিরার প্রধান বন্ধু নিঃসঙ্গতা ।যারা তাঁর সঙ্গে কথা বলে ।  হৈ হৈ করে । মুহূর্ত থেকে মুহূর্তে তিনি নতুন নতুন আবিষ্কারের মতো শব্দ ছন্দ করায়ত্ত করেন : 'কালাপাহাড়ের দেশে উর্ধমুখ আদেখলার মতো । বলো তুমি কত সহিষ্ণুতা চাও? ' তার প্রমাণ ।
      বহুদিনের কবিতাযাপনে মন্দিরার বই সংখ্যা পাঁচ । তাঁর তাড়াহুড়ো নেই । এতো ভালো কবিতা আরো পড়তে মন চায় । ফয়সল অরফিয়াসের প্রচ্ছদ বেশ নতুন ধারার । কিছুটা সেকেলে আঙ্গিকে প্রচ্ছদটি খুলেছে ।

রবিবার, ৩১ মে, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || প্রাত্যহিক বই আলোচনা

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার 

সেদিন ও এদিনের কবিতা । কেষ্ট চট্টোপাধ্যায় । শ্রমশ্রী প্রকাশনী । একশো টাকা ।

পাঁচ ফর্মার পেপার ব্যাক এই কাব্যগ্রন্থ স্বাভাবিকভাবেই প্রবীণ বামপন্থী কবি কেষ্ট চট্টোপাধ্যায়ের পুরনো ও নতুন কবিতার মেলবন্ধনের প্রয়াস বলতে পারা যায় । তাঁর  'সেদিন ও এদিনের কবিতা ' -র ভেতরে সে স্বাদ পুরোদস্তুর । শুরু হয়েছে ১৯৮৯ সালে লেখা 'কবিতার অন্দরমহলে 'র মাধ্যমে । তাতে চমকে ওঠার মতো না হলেও ভাবনার কথা তিনি রেখে যান: ' আমি এইমাত্র শ্মশানে পুড়িয়ে এলাম প্রথম সত্তা ।' কবি বইটির অবশ্য বাম ভিত্তিক তা ' কিছু কথা'-তে পাই: ' আমাদের বিশ্বাস বাঁ দিক ঘেঁষে যেতে চায় ।'
               সে কারণে  তাঁকে লিখতে দেখি কটাক্ষ করে: ' ' কবিরা ইলিশ উৎসব করে/ কবিতায় নেই । কবিরা বিশ্ব কবিতায়  ঘোরে/ পা মাটিতে নেই । ' কিংবা তাঁর অনু কবিতা  : মশাই- /টাকার পেছনে ছুটিনি/  মিছিলে গিয়েছি /।নেতাও হতে চাইনি/  কবিতা লিখেছি।'
           বামপন্থী কবিদের মন খারাপ হলেও বলতে হয় তাঁরা  নিজেদের সমালোচনার পথে যান না । বামপন্থী সময় বাদ দিয়ে তিনি এসময় নিয়ে কটূক্তি করেছেন, যেমন:  ' শুনেছো- / গৌতম দেবের ছেলে নাকি যাচ্ছে তৃণমূলে / রমলাও যাচ্ছে/ কাল আসছে কার্ল মার্কস/
সেও কি ঘাসফুলে যাবে? '
           কেষ্ট চট্টোপাধ্যায়ের জীবন কবিতা সম্পৃক্ত হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অতিসরলীকরণের কারণে বইটি জমলো না । তবু তাঁর এবয়সে লেখিলিখি আমাদের বড় প্রাপ্তি । সন্ঞ্জীব  চৌধুরীর প্রচ্ছদ সেকেলে স্টাইল তুলে ধরেছেন মার্জিত ভাবে ।

শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || স্তব্ধতার গান শোনো

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার 


স্তব্ধতার গান শোনো। শঙ্কর বসু । একুশ শতক। একশো টাকা ।


কবিতায় অহেতুক পান্ডিত্য দেখানোর প্রলোভন অনেক কবির ভেতর বিদ্যমান । শুধুমাত্র সেরিব্রাল কবিতা তাই আলোচনার ভেতর আসেনা। জনমানসে তা বেশ ভালো রকম পরিত্যাজ্য হয় । দুর্বোধ্য কবিতা নামেকিছুকবিতা লিখে নিজেকে জ্ঞানী প্রতিপন্ন করার বিষয়টি সত্তর দশকে বেশ দেখা গিয়েছিল,  এখন তা অস্তমিত । কবি শঙ্কর বসু  দীর্ঘদিন কবিতা গল্প লিখে যাচ্ছেন, কিন্তু দেখা যাচ্ছে কবিতার ভেতরে তিনি পাণ্ডিত্যের ধারকাছ দিয়ে যাচ্ছেন  না । তাঁর সাম্প্রতিক কাব্যগ্রন্থ ' স্তব্ধতার গান শোনো ' -তে যে মেজাজ খুঁজে পাই, যেমন:  ' অজস্র দুঃখের ক্যানভাসে/ লুকিয়ে আছে আমাদের স্বাধীনতা । ' (স্বাধীনতা- স্বাধীনতা) বা, '' রিমোট কন্ট্রোলে শাসন  করছি/  তোমাদের আত্মাকে - আজও এই মুহুর্তে ' (ভারতবর্ষ আজ')।
        শঙ্কর বসু সেই মাপের কবি যিনি অহেতুক জনপ্রিয়তায় লালায়িত নন। তাঁর কবিতা কখনো কখনো কাগজে পাওয়া যায় । তিনি কবিতাকে অনেক
দিন ধরে মনে পুষে তারপর প্রকাশ করেন : ' আমাদের মাঝখানে এখনও প্রশ্ন আসে/  কেন বিচ্ছেদের বিষ গোপন, বিন্দু বিন্দু দহন ?'(প্রশ্ন ) এর মধ্যে দিয়ে তা বুঝতে পারা যায় ।
            এ বই কতখানি সচেতন পাঠকের যাবে, কতখানি তার সমাদর হবে বোঝা দায় । তবু যদি পাঠক
মগ্ন হয়ে পড়েন তবে তিনি পাবেন এক বিশেষ স্বাদ । যার মধ্যে রয়েছে ভালোবাসা, ক্ষোভ, নিম্নগ্রামের আস্ফালন ইত্যাদি ইত্যাদি । তাঁর তির্যক কবিতাগুলি বেশ টানে । প্রবীর আচার্যের প্রচ্ছদ টেনে রাখে,  তাঁর ড্রয়িং ভেতরে মোচড় দেয় ।

সোমবার, ২৫ মে, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

চিতা জ্বলে উঠতে দেরি হবে । সৌমেন সাউ । জলদর্চি ।ষাট টাকা।

দুঃখ বোধ মানুষকে চিতা কিংবা শ্মশানের কথা ভাবায় । জন্ম মৃত্যুর মধ্যে যে ঘটনা প্রবাহ নয়তো কর্মের দিক আমাদের দুঃখ বাড়ায় কারণ সুখের থেকে দুঃখের সময় বেশি কাটে আমাদের ভেতরে । দুঃখের ছটফটানি থেকে প্রকৃত কবিতা উঠে আসে জানি আর তা দেখি সৌমেন সাউ- এর কবিতায়। তাঁর ' চিতা জ্বলে উঠতে দেরী হবে '
এগারো বছর আগে পড়া কাব্যগ্রন্থটি আবার পড়ে বুঝতে পারি এক একটি পংক্তি কি করে এখনো প্রাসঙ্গিক হয়ে যায় !
   ' অলৌকিক ছাই এসে রাঙাতে রাঙাতে বলে/ কী খাবে কফি না চা?/চেয়ারে বসে হেসে ওঠে পৌষমাস।' কিংবা, ' ইচ্ছা মৃত্যু কাঁধে  নিয়ে/ তাই দেখে একা একা হেসে ওঠে/ ও পাড়ার ভিখারি বালক । ' - এর মতো কবিতার সামনে এক অবাক দুঃখ বিরাজ করে । যে দুঃখের কোন নির্দিষ্ট নাম নেই,  স্রেফ অনুভবে তাকে পালন করতে হয় ।
              ঝাড়গ্রামের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে সৌমেনের বসবাস বলে হয়তো তার ভেতরের বিস্ময়,  দেখার চোখ  ও কল্পনা জিইয়ে আছে ।সে কারণে ক্লাসের ফাস্টবয়ের মতো অত্যন্ত নিচু স্বরে তিনি তাঁর কথাগুলো বলেন যা ঠিক জায়গায় বিদ্ধ করে ।' গ্রামে থাকি তাই বুঝি/  বলতে গিয়ে বলতে পারি না- /ওই পাতাখসা হল শুরু/ সারারাত বক্ষ দুরু দুরু '-র মতো দেখার চোখকে হিংসে করতে ইচ্ছে হয় ।কমলেশ নন্দের প্রচ্ছদের স্বাদ তাঁর অন্যান্য প্রচ্ছদগুলির মতো মর্মস্পর্শী ।

শনিবার, ১৬ মে, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || জললিপি । কুমারেশ চক্রবর্তী

কিছু বই কিছু কথা ।। নীলাঞ্জন কুমার 

জললিপি । কুমারেশ চক্রবর্তী । একুশ  শতক।একশো টাকা।

অত্যন্ত সাদামাটার ভেতর দিয়ে প্রায় চোখে আঙুল দিয়ে কোন কবি আমাদের দেখায় বিশ্বের সমস্যা ও তার মতো করে সমাধানের ইঙ্গিত ছুঁড়ে দেন তখন সাবাসি তাঁকে দিতে হয় । কবি কুমারেশ চক্রবর্তীর ' জললিপি তাঁর সাম্প্রতিক কাব্যগ্রন্থ । 'কেন সে পন্ঞ্চায়েতের অফিসেও তার সততার / শংসাপত্র চেয়ে- / আজকাল দাঁড়িয়ে থাকে নীরব বিস্ময়ে !' কিংবা 'আত্মপক্ষ সমর্থনের চতুরতায়/  নিজেকেই  রাজসাক্ষী করে দেয় -/ তার কোন পছন্দের আদালতে ...'-র মতো লাইন কবির  ক্ষোভ ঠিকঠাক ধরিয়ে দেয়। কুমারেশের কবিতায় ব্যঙ্গাত্মক দিকটি অবশ্য প্রশংসনীয় ।তাঁর কবিতা সংযম হারায় না, যদিও অনেক সময় উচ্চগ্রামের কথা বলে বক্তব্যকে জোর দেন । 'বুথ দখলের পরেও তো কিছু লোক/ শীর্ণ মুঠোগুলো পাকিয়ে সোচ্চারে/ যেমন পুননির্বাচনের দাবি তোলে।' আমার কথাকে সমর্থন করবে ।
            কুমারেশের কবিতার গতিধারা বলে দেয় তিনি স্বপ্ন দেখেন ক্ষুধা তৃষ্ণা হীন এক সমাজের ।তার সামনে দাঁড়িয়ে এদের জন্য কবিতা লেখার তাগিদ তাঁকে পেয়ে বসে ।সেখানে তিনি কবিতা ও বিবৃতির ভেদ করতে পারেন।
          এ কবির কবিতা পড়তে হয় কারণ তাঁর কবিতার ভেতরে ভালো লাগা মিশে থাকে ।যা এখনকার মাথার ওপর দিয়ে চলে যাওয়া কবিতার কাছে পাওয়া যায় না।
কবি পূর্বনির্ধারিত কোন ধ্যান ধারণার সঙ্গে নিজেকে সঁপে দিতে নারাজ ।কবি ও  চিত্রশিল্পী  শ্যামল জানার প্রচ্ছদ দাগ কাটে ।

রবিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

বই আলোচনা । বাংলা ।। নবপর্যায়-৬০৬ । অষ্টম বর্ষ । ০২ -০৯-২০১৮ । আলোচনায় : রাহুল গঙ্গোপাধ্যায়

পত্রিকা "দহগ্রাস"

বাংলা সাহিত্যে চিরকালই অতিচালাকি ছিলো।কিন্তু, সাময়িকী-কে প্রশ্রয় দিলে ~ একটা স্ট্যান্ড পয়েন্ট এসে পৌঁছাই আমরা।যারা এই সময়কে ধরতে পারছেন না, বলছেন "আঙুরফল টক"।অর্থাৎ, দুর্বোধ্য / অশ্লীল / জটিল, ইত্যাদি ভৌত প্রবচন আমদানি করে ~ বাংলা সাহিত্যের ব্যক্তিগত মালিকানা ও দখলদারিকে কায়েম রাখতে চাইছেন।অতীতেও এসব ছিলো।অতীতেও এসব আমদানির কাউন্টার রিঅ্যাকশন্ ছিলো ~ কখনো দায়িত্ব নিয়ে, কখনো স্রেফ খেয়ালে।বেদ / গীতা / চর্যাপদ / কালিদাস /পয়ার / চন্ডিদাস / মাইকেল / রবীন্দ্রনাথ / জীবনানন্দ / বিনয় / হাংরি / শ্রুতি : ইত্যাদি কতো চাই।এই কাউন্টারকরণের জায়গাটি যেন আবহমান কালের।স্বপ্রকাশের কথা বা স্বআবিষ্কার, যা এই ডিজিটাল সময়ের চরমতম শ্লোগান, আরো উস্কে দিচ্ছে কাউন্টার রিঅ্যাকশন্।যেমন : 'দহগ্রাস' পত্রিকার উদ্বোধনী সংখ্যাটি ~ যার প্রচ্ছদেই রয়েছে "কাব্যমার্গ ঢালাইয়ের কবিতা ডোজার" কথাটি।১১জন কবির কবিতায় সমৃদ্ধ সংখ্যা ~ যেন একটি টিম : যারা কবিতার বুলডোজার চালিয়ে কাব্যমুক্তি পুনর্দখলের দাবি জানাচ্ছে
প্রথমেই মলয় রায়চৌধুরী ওপেন করছেন ~ মলয়দাস বাউলের দেহতত্ত্ব (বানানটি যদিও দেহতত্ব আছে)।বর্তমান মধ্যবিত্ত দোগলাপন (দোদুল্যমানতা) : ঘটছে ডোমনী থেকে সাম্রাজ্যবাদের সাফোকেশন্।২য় গোড়াপত্তনকারী হলেন অনুপম মুখোপাধ্যায় ~ রমণডাঙা কবিতাগুচ্ছ নিয়ে।৩য় কবি চয়ন দাশ, বর্ধমানে বাড়ি, প্রমিসিং : কারন, কবিতা নিয়ে প্রচুর প্রশ্ন ও দ্বন্দ্ব, তার ভিতর প্রতিনিয়ত।শিরোনাম ~ আরেকটা উত্তল সাঁকোর কবিতা।তার যাপন নিয়ে, নির্ভয়ে তুলছেন অমোঘ বিদ্যুৎের মতো প্রশ্নচিহ্ন।যেনো নিজেকে পুড়িয়ে শুদ্ধতার পরিসর।মৌমিতা মিত্র (চিনতাম না।কিন্তু ইচ্ছে করে, কারন : লেখনীটি খাসা ও সৎ) ~ সোফিয়া লিখেছেন।শুরুতেই রয়েছে, সোফিয়া লরেন নয়, সোফিয়া রোবোটকে নিয়ে।দলদাস, আনুগত্যের পূর্বশর্ত।যান্ত্রিকতার দলদাস হয়ে ওঠা মানুষেরা, যদি ঘুম ভাঙে।পরবর্তী মিডল্ অর্ডার : সুব্রত ঘোষ ~ বিপ্লবী কবিতা নিয়ে।কবির কবিতা নিয়ে আলোচনা করি, এটা এই অধমের কাছে দুঃসাধ্য।তবে, "যৌথ স্বর্গগুলো খোদাই আছে হরি মুদির দোকানে / - রামকিঙ্কর বেইজ টু, ছ্যাকরাগাড়ির রেজোলিউশন" ~ কবিতাটির এটুকুই যথেষ্ট।এবারে দেখা যায়, কৌস্তুভ গাঙ্গু্লীর কবিতা ~ প্রত্ন অর্গান।খননে অভিষিক্ত হোক নবীন শুদ্ধতা, শুদ্ধ সময়।অ্যাডভারটাইজমেন্টে বলা আচ্ছে দিন নয়।"বাস্তুকার পিরামিডকে উল্টে দিলে / আমি এক চতুর্থাংশ দ্বার প্রত্ন খুঁড়েছি" ~ এক অমোঘ সত্যের কথা।এরপর যেন, উইকেটরক্ষক - ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় শুভ আঢ্য, এই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ কবি।লিখেছেন ~ অযৌন জনন, কবিতা এবং কিছু অসংলগ্নতা।শক্তি নিত্য, কিন্তু অনিত্য শক্তির প্রয়োগ।শুভ-র দীর্ঘ কবিতায়, কথাটি বড়ো ধারাবাহিক।এবারে যাঁরা আসছেন ~ টেইলএন্ডার নন্, আমরা বলবো বোলার (বোদ্ধারা বলেন : প্রকৃত ম্যাচ উইনার্স)।যেমন, শানু চৌধুরী ~ রুস্তম & সদকা।দুটি কবিতাতেই মনে হয়, অনায়াসে ১৫০ কি.মি. / প্রতি ঘন্টা ~ "ভাঙাঘড়ির স্বর কেটে তুলে নেওয়া / জলের গজল / এইতো তোমার কানন!"।এরপর, রাহুল গাঙ্গুলী ~ মানে এই লেখক : ২টি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক কবিতায়।তারপর, মণিদীপা সেন : ২টি কবিতায় ~ ননসেন্স & একটি পাওয়ার কাট এবং....। "ঋতুমতী হওয়ার আগের কিছুদিন শিবলিঙ্গকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় লাগে কথাটা ভেঙে দেখলেই শিখে নেওয়া সহজ যে চিরসত্যের উক্তি পরিবর্তনে সময়ের কাল"।শেষের কবি শুভম চক্রবর্তী ~ আদিম বিবর গন্ধ।এক বিশেষ দিনকালের সূর্যছায়া যেন।"তোমাকে তুমুল করার পর / চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ি, জানলা খোলা থাকে"

দহগ্রাস স্রেফ বুলডোজারই চালাচ্ছে নয়, খুঁড়ে আনছে ডোমনীর শুদ্ধ সচ্ছতা।শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানাই গোটা টিম-কে।পরিশেষে সনৎ মাইতির সৃষ্ট প্রচ্ছদকে কুর্ণিশ


রবিবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৮

বই আলোচনা । বাংলা ।। নবপর্যায়-৫৯৯ । অষ্টম বর্ষ । ২৬-০৮-২০১৮ । আলোচক- বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়

সন্ধ্যানদীর দিকে হাঁটে মেয়ে , কাঁখে তার আলোর কলস - তৃষ্ণা বসাকের কবিতা
বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়



 যেহেতু আমার কোনদিন জন্ম হয়নি ,
তাই আমি এমনকী একটা এককোষী প্রাণীও
কীভাবে বেঁচে থাকে - শিখে উঠতে পারিনি ।(জন্মহীন)
 এই জন্মহীন রূপান্তরের মধ্যে এক মৌলিক আত্মীয়তার সম্পর্ক লিপিবদ্ধ করেন কবি । সাংস্কৃতিক ঐতিহাসিক এমনকী জৈবনিক বাস্তবতা অনুযায়ী বোধের বিবর্তন এবং চলিষ্ণুতা তাঁর দৃষ্টিতে ধরা পড়ে । তারই আবহে নিজেকে গড়ে নিতে চান এক প্রত্যাখানের ভেতর বসন্তের পুষ্পপাত্রে । একে কি জন্ম বলব আমরা ? এ আসলে আত্ম আবিস্কারনিজের ভেতরের আণবিক অবস্থানকে এক স্বনিরীক্ষার উপকূলভুমির উপর দাঁড় করানো । বহিরঙ্গের আচ্ছাদন ভেদ করে আমরা যদি ক্রমশ স্থির হতে থাকি তাঁর কবিতার চারণভুমিতে তাহলে কী দেখব আমরা ? দেখব যে তৃষ্ণা খুঁজে ফিরছেন এক লৌকিক সরণি যেখানে লেগে আছে অলক্ষ্যের দাগ । ব্যক্তিগত অনুভবকে অতিজীবিত করে তোলার প্রয়াস । অসুখের ভেতর জমতে থাকে ওষুধের ফাঁকা স্ট্রিপ যা দিয়ে তিনি নিরাময়সন্ধানী পুতুলের চশমা বানান । কবিতায় দৃশ্য তৈরি করাই তাঁর কাজ । জীবনের টুকরো টুকরো দেখাগুলো শব্দের বন্ধনীতে গেঁথে রাখেন তিনি । আর দেখেন সন্ধ্যানদীর দিকে হাঁটে মেয়ে , কাঁখে তার আলোর কলস (আলো )এবং তার কান্নার প্রপাত ঝুরি বেয়ে নেমে আসছে দুপুরের কোলে প্রতিদিনকার জীবনযাপনে বাস্তব এবং বাস্তবাতিরিক্ত যে রূপ এবং চরিত্র দেখা যায় , অনুভবলিপির আড়ালে বেজে ওঠে তাই প্রতিফলিত হয় তার শৈল্পিক অভিব্যক্তিতে
সেই শীর্ণ পথটি ধরে
 সরসর বয়ে যায় হাওয়া
 যেন খাঁ খাঁ দুপুর, পুরুষেরা কাজে গেছে
নারীরা তৈরি করে নিয়েছে স্নানের আড়াল
 আমি দুপুরের বুক খুঁড়ে কেবলই বালি তুলে আনি (অপেক্ষার পর )
শুধু বালি নয় এক আশ্চর্য খননকৌশলও তুলে আনেন গভীর অবলোকনের মাধ্যমে। এই পর্যবেক্ষনের ভেতর কোন অস্পষ্টতা নেই , ভনিতা নেই নেই কোন নাটকীয় প্রয়াস বরং আছে এক সোচ্চার ঘোষণা আয়নার সামনে দাঁড়ালে নিজেকে নগ্ন নয় আরও বেশি লজ্জানিবারক মনে হয়রহস্য অতল এক প্রতিবিম্ব ভেসে আসে কবিতার দর্পনে
তোমার শরীর
অচেনার লিপির মতো
 অনেকক্ষণ ধরে হাতড়াচ্ছি , পড়তে পারছি না
কী লেখা এখানে ?
 সমর্পণ ? প্রত্যাখান ?
 উল্লাস ? গরল ?
না বসন্তের ইস্তাহার ? (শরীর ১ ,,)
জন্ম আসলে এক ছায়া । রহস্যের ছায়া । নির্জনের মুঠো থেকে ধ্রুপদী সংকেতের মতো ফুটে ওঠা বনফুল । শরীরের কোষে কোষে জোছনাসমগ্রের উদ্বোধন । সমস্তই শুরু হয় ছায়ার ভেতর থেকে এই কৃষ্ণবিবরের অনন্ত গভীরে সৃষ্টির মুদ্রাদোষ লুকিয়ে রেখেছে কেউ । তাইআমার বাবা মা নিরোধের ব্যবহার করলেই /যে আমার আসা ঠেকানো যেত তা নয়/ আমি আসলে অনেক আগেই রওনা হয়ে পড়েছিলাম ,/ একটা ব্ল্যাকহোলের মধ্যে ” (একটি জাতকের কাহিনী ) এই পরিক্রমন তো অনাদিকাল থেকে গ্রহানুপুঞ্জের জন্মলগ্ন থেকে জীবনের সুত্রপাত যখন কিংবা আরও আরও প্রাচীনতার উপলখন্ড পেরিয়ে বিরতিহীন চলাচলের সুচনাবিন্দু থেকে
 হাঁটতে হাঁটতে হাঁটতে
দেখলাম তখনও বেশ অন্ধকার, সীমান্তরক্ষীরা ঘুমোচ্ছে ।
আমি তাদের ঘুমের তলা দিয়ে সুড়ু করে গলে
একটা নীল জাগরূক মশারীর ভেতর ঢুকে পড়লাম ,
সেখানে দুটো শরীর , নির্বসন ও চক্ষুহীন ,
 পরস্পরকে হাতড়ে পাগলের মতো কিছু খুঁজছিল ,
আমি আবার একটা কৃষ্ণগহ্বরে সুড়ু করে ঢুকে পড়লাম । (একটি জাতকের কাহিনী)  
এই মহাজাগতিক পথের গভীরে রহস্যের কুয়াশা জড়িয়ে রয়ে গেছে অনিকেত বাঁক ।যা স্তব্ধতার বাস্পে জারিত এক উৎসব । এই পথ ব্যক্তিগত । প্রতিপক্ষহীন এক অনন্ত চলাচল
আবারও কোন জন্ম আমার জন্য অপেক্ষা করে আছে
এর বীজের মধ্যে ।
আবার দীর্ণ হতে হতে
 আবার জন্মাতে ও জন্ম দিতে দিতে
 এতদিনে আমি নির্বাণের জন্য প্রস্তুত ।
এরপরও বিলাপ করব না
হা যুবক,
 তুমি এত বৃষ্টি নিয়ে এলে , সব বৃথা গেল ? (জন্মান্তর )
বৃথা নয় এই আয়োজন । গাছের ছায়ায় ঠাণ্ডা মেরে থাকা পথ থেকেই তৃষ্ণা তুলে আনেন ছুটন্ত রাস্তার শেকড় বাকড় কুসুমের পাতারা লাল হয়ে থাকে , এত লাল যে ফুল বলে বিভ্রম হয় । বহন করেন আকাশের নীল চাঁদ , সোনালি সুতোর কারুকাজ আর বিগতজন্মের বিস্ফোরক । যে পথে সন্ধ্যে জমে তাকে চৌচির করে আলো হয় , ভয়ের নির্বাণ চার ফর্মার এই কাব্যগ্রন্থে একটি সাদাপৃষ্টা কেন ? তা স্পষ্ট বোঝা গেলনা ।এতে কি পাঠককে আরও একটি কবিতা পড়বার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হল না ? বইয়ে কোন কোন ব্লার্ব নেই, একে ব্যক্তিগতভাবে অসঙ্গতি বলছি না কিন্তু কোন পরিস্থিতির উপর দাঁড়িয়ে কবিতাগুলির নির্মাণভূমি রচিত হয়েছিল তা জানলে সুবিধে হয় । শেষে কবির ছবি থাকলেও সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নেই এরও কোন বিশ্লেষণ বোঝা গেলনা । প্রচ্ছদ তাৎপর্যপূর্ণ । সুন্দর গেটআপ ।


অজাততক সমগ্র থেকে।। তৃষ্ণা বসাক ।।কলিকাতা লেটারপ্রেস ।। প্রচ্ছদ – মারুত কাশ্যপ ।।১০০ টাকা।। 

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...