Book Review লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Book Review লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

কিছু বই কিছু কথা  । নীলাঞ্জন কুমার

পুতুলের সংজ্ঞা । তীর্থংকর সুমিত । আহোরি ।পনেরো টাকা ।

যখন কোন সম্প্রতি কবিতা লিখতে আসা তরুণতম কবি ' বহুদিন আমি অন্ধকারকে মুড়েছি বইয়ের পাতায় । ' কিংবা  ' ক্ষয়ে যাওয়া নদী/  পাতারা বিছিয়েছে যাওয়ার পথে/  জ্যামিতিক সম্পাদ্যে জীবন ... ' এর মতো পংক্তি লিখে ফেলতে পারে তখন আশা জেগে ওঠে । তীর্থংকর সুমিত এই আশা জাগিয়ে তোলে তাঁর কবিতার পকেট বুক ' পুতুলের সংজ্ঞা '-র মাধ্যমে । অতি ক্ষীণতনু বইটির ভেতর থেকে এখন তেমন উল্লেখযোগ্য
কিছু পাওয়া সম্ভব নয়। অনেকাংশে গঠনগত ভুলভ্রান্তি, কখনো সরলীকরণকে অতিসরলীকরণ করার ঝোঁক ইত্যাদি তাঁকে সমালোচিত করতে পারে, কিন্তু মাঝেমধ্যে  বেরিয়ে আসা স্ফুলিঙ্গ তাঁর কবিতার প্রতি মগ্ন করে ।
          ' পুতুলের সংজ্ঞা ' যদিও ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্য
হবে না, তবু একে অমর্যাদাকর কিছু বলা সঙ্গত হবে না । কবির কবিতা বাছার দিক দিয়ে ত্রুটি থাকলেও তিনি অজান্তে ছড়িয়ে দেন উপরের পংক্তির মতো পংক্তি যা
সাম্প্রতিকতম কবির ক্ষেত্রে বিশেষ প্রাপ্তি ।
           কবির এরকম পংক্তি আরো পাই,  তা হল  : ' ফেলে আসা রাস্তায়/  কঙ্কালেরা নৃত্যশুরু করে দিয়েছে/  কিছু হাড় মাস মজ্জা/  আমি চেয়ে থাকি উদ্দাম স্রোতের দিকে .... ' ( ' স্রোতের দিকে ' )।
               কবিকে অনেক দূর যেতে হবে । তিনি কবিতা লিখুন, ছুঁয়ে থাকুন সময় । গড়ে তুলুন নির্ভুল শব্দচয়ন ।
হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচ্ছদ সাধারণ হলেও চিন্তাধারা
মনোগ্রাহী ।

সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

কুশপুত্তলিকা । দেবজ্যোতি রায় । অস্ট্রিক । সত্তর টাকা।

কোন তরুণ কবি যখন কবিতা লেখার আগ্রহ নিয়ে যাপন শুরু করে তখন তার কবিতার ভেতরে শব্দের প্রাচুর্য থাকলেও কবিতা কতখানি যৌক্তিক হচ্ছে সে নিয়ে খেয়াল থাকে না । কারণ কবির আবেগীয় দিক কবিতার তত্ত্ব ব্যকরণ দৃশ্য দর্শনের ভেতর না ঢুকে স্রেফ কবিতা কবিতা খেলা খেলতেই ব্যস্ত থাকে । তাই কবিতা অব্যর্থ হতে হতেও হয়ে ওঠে না । যেমন ঘটেছে কবি দেবজ্যোতি রায়ের ''কুশপুত্তলিকা ' কাব্যগ্রন্থে । কবি চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি । তাঁর চেষ্টার স্বাদ পেয়েছি এসব পংক্তিতে  :  ' সড়কের নীচে রোজ লেখা হয়/  ক্ষুধিত পাষাণ পাঠ প্রকল্প । ' ( ' জাতীয় সড়ক ') , ' দ্যাখো তুড়ি মেরে বলে উঠছে খগেন তনয়/  আই অ্যাম আ কমপ্লান বয় । ' ( স্বপ্ন '), ' ধর্ম ঠাকুরের থানে ঢিল বাঁধে অদৃশ্য বাসনা । ' ( ' অন্তরাল ') ইত্যাদি ইত্যাদি ।
         ' কবির কবিতা পড়তে পড়তে মনে হয় কবি এখনো বিভ্রান্ত আছেন কবিতা নিয়ে । নিজের ভেতর এক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিয়ে তিনি তাকে পরিশিলিত না করে বরং বিপর্যয়ের মুখে নিয়ে আসছেন । তাঁকে আরো শান্ত  হতে হবে । সময় অনেক তাড়াহুড়ো নেই ।
            দেবজ্যোতি রায়ের  কবিতায় তেমন চমকে দেবার  কোন ব্যাপার নেই । এটা তাঁর বিশেষত্ব ।কবি নিশ্চিন্তে লিখুন । কবির কবিতা আরো পড়ার জন্য পরবর্তী কাব্যগ্রন্থের অপেক্ষায় থাকলাম । সৌম্যেন পালের প্রচ্ছদে আছে গমকহীন কাজ , ভালোবাসা যায় ।

শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

সাত আকাশের তারা । রাধেশ্যাম আধিকারী । পাঠক । আশি টাকা ।

কোন কোন কাব্যগ্রন্থের পাঠক হিসেবে নিজেকে খুব অসহায় মনে হয় । যখন তার ভেতরে কবিতা পাবার চেষ্টা করেও বিফল হই । তাদের কবি বলবো না অন্য কিছু সে নিয়ে চিন্তা হয় । সেই সব কাব্যগ্রন্থের বেচারা পাঠক হিসেবে নিজেকে বিষোদগার করতে ইচ্ছে হয়, কেন এ বইটির জন্য এত সময় নষ্ট করলাম!কবি রাধেশ্যাম অধিকারীর ' সাত আকাশের তারা ' বইটি পড়ে এই অবস্থাই ঘটেছে । ভালো ছাপা,  রাজদীপ পুরীর সুন্দর প্রচ্ছদ  ( যার সঙ্গে কবিতার  কিছুই মেলেনা) আর ভালো কাগজের মিশ্রণে যে চিজটি পরিবেশিত হয়েছে তাকে কোনমতে কবিতা বলা যায় না হলফ করে বলতে পারি ।
      কিছু প্রকাশকদের ভেতরে এতই টাকার লালসা তারা এ ধরনের বই  বিন্দুমাত্র না পড়েই প্রকাশ করে ।
তারা  নিজের টাকা দিয়ে আদৌ এ বই প্রকাশ করতেন কি? অগোছালো কবিতা লেখন, যেমন: ' সবাই যখন কৃষ্ণ ভজে/  আমি ভজিব রাধা/ চোখের জলে ভাসিয়ে দেব/  পূজার বেদি বাঁধা ।' কিংবা 'ধুলো দিয়ে গড়া ' প্রথম প্রতিকৃতি/ সৌজন্যে জটিল থেকে জটিলতার জীবন প্রবাহ- ' ( 'অস্পষ্ট বর্ণ ') - এর মতো কুচ্ছিত কবিতা পংক্তি আর পড়তে হত না ।
        বস্তুত বইটি কিৎসু হয়নি । কবিকে জানতে হবে, শিখতে হবে । ৩২বছরের এ কবি সে বিষয়ে মগ্ন হলে পৌঢ়ত্বে গিয়ে উচিত কবিতা লিখতে পারবেন বলে মনে করি ।

শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

দিনকাল । অজয় নাগ । মাতৃমুখ । ত্রিশ টাকা ।

অজয় নাগ বেশ কিছু ছোট কবিতা লিখেছেন। যেগুলো তন্নিষ্ঠ হয়ে পড়লে বোঝা যায় তাঁর এই ছোট কবিতাগুলি কতখানি দামী হয়ে ওঠে পাঠকের কাছে । তাঁর এই ধরনের এক ফর্মার কাব্য পুস্তিকা ' দিনকাল '-তে তার অন্যথা হয়নি : ' প্রতিটি জন্ম আমায় মনে করায়/  আমি বন্দি /মৃত্যু এসে খুলে দেবে বাহির ? ' ,
' পুরানো গল্পেরা বাইরে চেয়ার সাজায় না/  হাঁটতে হাঁটতে দেখি  - / সামনে পেছনে সাবধানের নোটিশ ' ,
' অপেক্ষায় শাদা ক্যানভাস/  বাইরে চলমান রঙরেখা ' ,
বৃষ্টির পাঠশালায় পৃথিবী আদিম ছাত্র ' -র মতো পংক্তি এর সত্যতা তুলে ধরে ।
               কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় এক সময়ে ' ছিন্ন বিচ্ছিন্ন ' নামে একটি ছোট কবিতার বই প্রকাশ করেছিলেন, তার ভেতরে দীর্ঘদিন মশগুল থাকার কারণে ছোট কবিতার যে রূপ পাই তা ফেলে দেবার নয় অজয় নাগ সেই রূপ কে এক টানটান অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছেন বলে তাকে পড়ে ফেলতে হয় দ্রুত ।
              কবির আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক দুই তিন লাইনের কবিতা বারবার টানে,  যেমন:  ' বীজ বুনতে নুন জোগাড়ে/  মুখ ঘুরিয়ে সময়/ মানুষ বড় অসহায় ',
' শুধুমাত্র  তোমার জন্যেই ন্যায় অন্যায়/ হে আমার অকরুণ প্রেম; ' আমার সূর্যের আলোয় তোমার আঁধার ক্ষয়ে যাক/  অবশেষে দেখি- আলো নয় অন্ধকার তোমায় রক্ষা করে । '
             অজয় নাগের কবিতার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে ইচ্ছে হয় । যা তাঁর গঠন, যুক্তি , উচ্চারণ ,ব্যন্জ্ঞনা, দ্যোতনা মিলেমিশে অন্য স্রোত বয়ে নিয়ে যায় রক্তে । কবিকৃত প্রচ্ছদটি অন্য রকমের ।কবি চিত্রশিল্পী নন; তবু তাঁর পরিকল্পনার ভেতর দিয়ে কবিতার  বই এর প্রচ্ছদ হিসেবে স্বাদু হয়ে ওঠে ।

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

হলদে গোধূলির বাইপাস । অসীম ভুঁইয়া ।দিগন্ত পাবলিকেশন । একশো টাকা ।

কবি অসীম ভুঁইয়ার তিন লাইনের কবিতাগুলির  ভেতরে তাঁর পরিশ্রম , চেষ্টা, অভ্যেসের ছাপ থাকলেও  তিনি কিন্তু তেমন ভাবে উতরে যেতে পারেননি, অভিজ্ঞতার কারণে ।ছোট কবিতা লিখতে যে ব্যাপক গভীরতা ও চিন্তনের প্রয়োজন তা নেই এই কবির ভেতরে । তাঁর সাম্প্রতিক কাব্যগ্রন্থ 'হলদে গোধূলির বাইপাস ' সে কারণে মন ভরাতে পারলো না । তবু অভ্যেসের গুণে তিনি সামান্য কয়েকটি কবিতার কাছে দাঁড় করাতে পেরেছেন । যেমন :'কুবাই ব্রিজে পড়ে আছে হলুদ সন্ধ্যা/  নদীটির বুকে শুকনো দাগ /কবেই বয়ে গেছে জীবনের কাটাকুটি বাঁক ।' (হলুদ সন্ধ্যা), 'স্কুলের গেটে স্তব্ধ বিকেল অজানা এক আলো/ চিনতে গিয়ে ছিটকে পড়ি আমি/  হঠাৎ বুকে পথ খুঁজে দেয় আমার অন্তর্যামী ।' ( আলো) -র মতো উচ্চারণ ।
          তাঁর এই বইটি আদ্যন্ত পড়ে বোঝা যায় তিনি নিজেকে খুঁজতে  ও বুঝতে চান আরো আরো, যা একজন প্রকৃত   কবির  পক্ষে বিশেষ প্রয়োজন । এর প্রমাণ পাওয়া যায়: ' কষ্ট লিখেছি শুকনো পাতায়/  পরিক্রমায় কালো দাগ/ ধীরে ধীরে মিলিয়ে গিয়ে হয়েছি নির্বাক  ' ( নির্বাক) -এর মতো কবিতায় ।
        কবির প্রতিভার প্রতি কোন সংশয় নেই । তাঁর দেখার চোখ চমৎকার, কাব্যিক মানসিকতায় অপূর্ব বোঝাপড়া আছে । চাই বেশি পর্যবেক্ষণ যা অভিজ্ঞতায় হবে ।মৃগাঙ্ক চক্রবর্তীর প্রচ্ছদে  নামাঙ্কন ভালো । রঙের ব্যবহারে সচেতনতার প্রয়োজন ।

বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

স্বপ্ন পুরাণ । মানসকুমার চিনি । শ্রীরামপুর প্রেস । তিরিশ টাকা ।

'এই সেই মরণকাল জড়াল অক্ষররূপে/ যেন রাত্রি ডাকছে খুব বিকেল স্বরে ' অথবা, ' পৃথিবীর প্রতীক যদি কবিতা হয়/ সে শুকনো অক্ষরে আখর নির্বিশেষ ব্রহ্মস্বাদ  জানে ; -র মতো কবিতা প্রায় নিয়মিত আমাদের উপহার দেন কবি মানসকুমার চিনি ।মানসের সাম্প্রতিক কাব্যগ্রন্থ  ' স্বপ্ন পুরাণ ' ( প্রকাশ:  ২০১৯ )-এ আছে এ ধরণের অজস্র কাব্য উপাদান যা রক্তে সংবহিত হয় । মানস আরো লেখেন:  ' গাঢ় হচ্ছে শূন্যতা, বুকে পাথর জমেছে/ নিয়তি কার? তোমার না আমার? ' ' ভেঙ্গে পড়া সেতু থেকে চাঁদ উঠেছে, / প্রাচীন সম্পর্ক জেনেছে বুঝি? '- র মতো টানটান কবিতা পংক্তি
 ।
          মানসের কবিতা ভাবনার গাঢ়তা আমাদের তাঁর প্রতি আকর্ষণ করতে বাধ্য ।তাঁর কবিতা ধারার সঙ্গে যাঁরা পরিচিত, তারা বোঝেন এই অপ্রান্ঞ্জল  কবিতাগুলির জন্য সময় দিতে হয়, যার থেকে সুফল পাওয়া যায় ।
            এ কবির কবিতার তীর্যকতা ও তাঁর দেখা চোখের  তীব্রতা আমাদের তার কবিতার কাছে নিয়ে যায় : ' গ্রাম থেকে আসছে/ কাটা মুন্ডুর দীর্ঘ মিছিল/  যদি তুলি না ধরি তাহলে অভিশাপ '( 'শিল্পবোধ)  , ' কপালে পাথর ঠুকে জন্মায় ঈশ্বর/   বিপন্ন তোমার দিব্যগাছ/ বাঁশির শব্দ তাড়া করে ।' ( 'পাথর')-এর মতো পংক্তি আমাদের অন্তত কিছুক্ষণ  তাদের কাছে দাঁড় করিয়ে রাখে । প্রচ্ছদের ভাবনা ভালো, তবে অন্য কিছু ভাবনা ভাবলে আরো ভালো হতো ।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা  । নীলাঞ্জন কুমার

জন্মের ভিটেমাটি । সপ্তর্ষি রায় । সারঙ্গ প্রকাশনী । একশো টাকা ।

অগোছালো কিছু কবিতা, তাতে মুক্তিরাম মাইতির রঙ সর্বস্ব দায়সারা  প্রচ্ছদ বাঁধাইছাঁদাই করে কাব্যগ্রন্থ হিসেবে পাঠকের কাছে বিতরণ করার মধ্যে ব্যক্তি আনন্দ থাকতে পারে । কিন্তু তা কতটা বিরক্তিকর
সপ্তর্ষি রায়ের ' জন্মের ভিটেমাটি ' পড়া পাঠক নিশ্চিত বুঝেছেন । কাব্যগ্রন্থের ভেতরে যে টিউনিং পাঠককে ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন তা এখানে অনুপস্থিত । তিনি : ' মাটির ভেতর বীজের মতো/ উঠবে জেগে এক প্রভাতে ' কিংবা ' শব্দহীন মৃত্যু আজ / অমোঘ আশার শব্দ খোঁজে' র মতো মুছে যাওয়া পংক্তি  উপহার দেন ।
তাকে গ্রহণ করা কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে ।
      যারা কবিতা খুব তুচ্ছ বিষয়,  প্রতিদিন দশটি করে লেখা যায় ইত্যাদি ইত্যাদি ভেবে থাকেন ,সিরিয়াস পাঠক তাদের মধ্যে একজন  হিসেবে এই কবিতাকারকে  বিবেচনা করলে তা দোষের হবে না । তা  আরওয়ালের ওপর অথবা কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়র উদ্দেশ্যে হোক না কেন ।
         কোন ভালো পত্রিকায় কবিতা প্রকাশ হলে তিনি যে কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের উপযোগী তা নিশ্চয়ই নয়, এ কবির বোঝা উচিত ।

সোমবার, ২৯ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || প্রাত্যহিক বিভাগ

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার


চন্দন বনের রুদ্ধ সংগীত । বিশ্বজিৎ রায় । সারঙ্গ প্রকাশনী । একশো টাকা ।

' সম্ভাবনাগুলি মিহি গুঁড়ো হয়ে মিশে যায়/  অন্তর্জালে বেজে ওঠে/  স্বপ্ন মাদল ...' নয়তো ' ধুলোমাটি মেখে/ নদীতে পা ডুবিয়ে বসে থাকব, আর/ ভাটিয়ালি বাজিয়ে লিখব/  নতুন জীবনের কবিতা ...'-র মতো কবিতার লাইন উপহার দেওয়ার কবি বিশ্বজিৎ রায় তাঁর সাম্প্রতিক কাব্যগ্রন্থ ' চন্দন বনের রুদ্ধ সংগীত ' -এ ক্রমশ আরো বেশি প্রত্যাশা গড়ে তোলেন । বিশ্বজিৎ লেখেন তাঁর মতো নিজস্ব কৌশলে, তাঁর লেখার ডিকসনে থাকে জীবনকে ধরাছোঁয়ার সঙ্গে লেগে থাকা মায়ান্ঞ্জন, যা অস্বীকার করা যায় না । সে কারণে: ' রাতে টুকরো চাঁদের আলো নেমে এসে/  স্নিগ্ধ আদর বুলিয়ে দিয়ে যায় আমার সর্বাঙ্গে ....' -র মতো পংক্তি চিত্তে  আরাম দিয়ে যায় ।
            বিশ্বজিৎ ঠিক যতখানি ভালোমানুষ  তাঁর কবিতায় ঠিক ততটাই ভালোমানুষির সন্ধান পাই । তাঁর কবিতা অহেতুক স্মার্ট নয়, সচেতন কবিতা পাঠক যা চান তাই তিনি নিরিবিলিতে ছড়িয়ে দেন । অহেতুক জটিলতার ভেতরে তিনি নেই ।
          কবির সমস্ত বই পড়ে ফেলার কল্যাণে বলতে পারি , তাঁর কবিতা প্রতিটি কাব্যগ্রন্থে আলাদা আলাদা উচ্চারণ দিতে সচেষ্ট । ব্যন্জ্ঞনায় ঘিরে রাখে পাঠককে ।
সেখানে কবির  ত্রুটি ধরা গৌণ ।
            আমরা আশা করব বিশ্বজিৎ ' আমার পোশাক খুলে পড়ে, / আমার উর্ধাঙ্গে আলো/ নিম্নাঙ্গে অন্ধকার খেলে যায় '-এর মতো বোধকে বশ করে নেওয়া কবিতা আরো উপহার দেবেন । মুক্তিরাম মাইতির প্রচ্ছদের দিকে তাকিয়ে একটাই শব্দ উচ্চারণ করা যায়,' ওয়াও ' ।

রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || প্রাত্যহিক বিভাগ

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

স্বরবর্ণ জলে পড়ে গেছে । অদীপ ঘোষ । পাঠক । একশো টাকা।

সমালোচনা করতে গিয়ে দেখতে পাচ্ছি বেশির ভাগ কবির ভেতরে অহেতুক বেশি বেশি কথা বলার প্রবণতা  মজ্জাগত । দামী কমদামী মধ্যদামী কবিদের ভেতর এই প্রবণতা যে কি সর্বনাশ করে যাচ্ছে তা সে সব ধৃতরাষ্ট্রদের কে বোঝাবে! একই কথা বলার মধ্যে পাঠককে গবেট ভেবে নেওয়া ছাড়া আর যে কিছু থাকে না তা গরিষ্ঠাংশ কবিরা ভাবে না।অবশ্য কবি অদীপ ঘোষ উজ্জ্বল ব্যতিক্রম । তাই তিনি কবিতা সেরে ফেলেন দুই থেকে পনের কুড়ি লাইনের মধ্যে যা এক লহমায় কবির ভাবনা সচেতন পাঠকের মনে সন্ঞ্চারিত করতে যথেষ্ট বলে মনে করি । আর যখন তাঁর সাম্প্রতিক কাব্যগ্রন্থ  ' স্বরবর্ণ জলে পড়ে গেছে '-র ভেতরে: ' মদের নেশায় চুর আরেক ঈশ্বর মুখে চালান করল ঈশ্বরের ভগ্নাংশ/ বাড়ি ফিরে মাতালটা কালসিটে এঁকে দিল বৌয়ের গতরে । ' ( ' জীবশীব ') তখন কবিতার ক্যারিশমা বোঝা যায় ।
        কবি আগের কাব্যগ্রন্থগুলির থেকে বেশ সরে এসেছেন , তাঁর কবিতায় সামাজিক অবস্থান টের পাওয়া যাচ্ছে ।  নেই শব্দের কেরামতি, আছে জীবনভিত্তিক কবিতার উপাদান । তার প্রমাণ তিনি দেন  এসব কবিতায় : ' পাহাড় কতটা উঁচু মানুষ তা মাঝে মাঝে মাপে/  পাহাড়ের তাতে কোন হেলদোল নেই ' ( 'মহান ') , ' অহংকার আসলে একটা অসুখ/ চূড়ান্ত নিঃসঙ্গতায় তার নিরাময় ' ( ' রোগারোগ্য ')-র মতো দুলাইনের কবিতাগুলি ।
          অদীপের কবিতা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার অবকাশ আছে,  তবে এখন নয় । অন্য কোথাও অন্য কোনখানে । দেবাশিস সাহার  প্রচ্ছদ কেবলমাত্র ভালোই বলা যায় ।

শনিবার, ২৭ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

বৃষ্টিলেখা । কুমারেশ চক্রবর্তী । দি সী বুক এজেন্সি । একশো টাকা ।

কবি কুমারেশ চক্রবর্তীর 'বৃষ্টিলেখা ' কাব্যগ্রন্থের ভেতরে  কুমারেশের চিরাচরিত প্রতিবাদী দিকটি অনেক বেশি উন্নতির পথে গেছে ও তা গভীর থেকে গভীরতর পর্যায়ে এখন । তাই পড়তে ভালো লাগে: ' আর অসংখ্য রাস্তায় বিভাজিত মানুষ/ পরস্পরকে লুকিয়ে চুরিয়ে পরস্পরের অন্ধকারে/ অগনন মৃত তারাদের এক মিথ্যে  আকাশের দিকেই স্বপ্ন ফোটাচ্ছে  ....'('অলীক গন্তব্যে') ,
' আমরা কে কাকে পণ্য করে বাঁচি ? / আমাদের মুক্তির পথে কেন এই আলোয় লেখা/  এত অন্ধকার? ' ( 'আলোয় লেখা অন্ধকার ')।
           কবিতার স্বাদ নিয়ে কোন কথা বলার সুযোগ দেন না কবি ।শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক প্রতিবাদে তিনি সমান দড় তা তাঁর পংক্তি বুঝিয়ে দেয় :
' অনেক চুমুর স্বয়ম্বর সভায়/  তুমি তাকে ব্লক করেছ পাকাপাকিভাবে! ' ( ' ব্লক '), ' মধ্যরাতের পাড়াগাঁর থুতুকফে- / মার্কসবাদের অপরিপক্ক ব্যাখ্যায় উচ্ছিষ্ট হতে থাকে ...' (' বিশ্বায়ন ')।
          কুমারেশের সন্ধানী দৃষ্টি আগের থেকে আরো গভীর । আছে ব্যঙ্গের চমক । আছে সত্য বলার তাগিদ । তাই পাই: ' সময় সুযোগে এরা আবার নাগরিকও- / ভোট  দেয়!এরা ভোটে দাঁড়ায়! এম এল এ ...মন্ত্রী হয়ও! '(' পোকা ')। শ্যামল  জানার জলরঙের প্রচ্ছদকে
শুধু প্রশংসা করলে ছোট করা হবে । এ প্রচ্ছদের সামনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা যায় ।

শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || প্রাত্যহিক বিভাগ

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

মানব অশ্রু । ভবেশ বসু । কবিতিকা । আশি টাকা

সুন্দর পারিপাট্য, ভালো কাগজ দিয়ে সৌন্দর্যে ভরা কাব্যগ্রন্থ ভবেশ বসু- র ' মানব অশ্রু ' পড়ে একথা বলতে পারি , পড়ার পর হিন্দি সিনেমার মতো সব উধাও হয়ে যায় । আকর্ষণ করার মতো কিছু অবশিষ্ট থাকলে খুশি হতাম , কিন্তু আকর্ষণের জন্য যা করা প্রয়োজন তা এই কাব্যগ্রন্থে অনুপস্থিত ।
           কবির নিজস্ব একটা ভাবনার দিক আছে কিন্তু তা এত বেশি কথার ভেতর দিয়ে যায়, যা বিব্রত করে ।তবু শিরোনামহীন এ গ্রন্থে যখন পাই: ' আমি বাঁচতে চাই/ ইট কাঠ লোহা দিয়ে আমি কি করবো? / আমি ক্ষুধার্ত খুব/  পূজার জন্য লাগবে আমার আগুন কিছু ।' তা ভেবেচিন্তে যুক্তি খুঁজে পেলেও শব্দচয়ন ও দ্যোতনার দিক থেকে ভাবনাচিন্তার অবকাশ থেকে যায় ।
            যদিও ভবেশ বসু কবিতা নিয়ে দীর্ঘ দিন আছেন,
একই ভাবে লিখছেন তাই মনে করি তাঁর কবিতার ধারা পাল্টানো প্রয়োজন । নাহলে তাঁর আমার পঠিত কাব্যগ্রন্থগুলির সঙ্গে এটিকে আলাদা করা কঠিন হচ্ছে ।
      ' মানব অশ্রু ' র ভেতরে পরিমিতিবোধ নেই , তাই স্পর্শ করে না । ভবিষ্যতে তাঁর কাছ থেকে পেয়ে যাব অন্য ধারার কবিতা যা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করা সম্ভব হবে । কমলেশ নন্দের প্রচ্ছদ বুদ্ধিদীপ্ত।

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার || প্রবীর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত...

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

নষ্টদিন ... সাজিয়ে তুলছি । প্রবীর বন্দ্যোপাধ্যায় । স্রোত পাবলিকেশন । একশো কুড়ি টাকা

' বাতাসে তৃষ্ণা ওড়ে- বিশ্বস্ত আঙিনা আজ নেই/ কোথাও বিশ্বাস পোড়ে- সম্পর্ক ভাঙে সহজেই ' কিংবা
' আমি পৃথিবীর বেদনার জায়গায়/ আঙ্গুলি স্পর্শ করিনি কখনো ' - মতো পংক্তি  যখন কাছে আসে তখন কবির কবিতা টানটান করে পড়তে শুরু হয়ে যায় । কবি প্রবীর বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ' নষ্টদিন ... সাজিয়ে তুলছি ' -র ভেতরে এ ধরনের পংক্তি ঠাসা তাই তারিয়ে তারিয়ে তা উপভোগ করার পরও রেশ থেকে যায় । কবির ভেতরের  সন্ন্যাস ও মোহময় শব্দচয়ন বশ করে নেয় পাঠকের মন, যা সচেতন পাঠকের একান্ত কাম্য ।
              ' বয়স্ক গাছেদের পুরোনো পাড়ায়/ সারারাত খনিজ আহ্বান ঝরে ।' নয়তো, ' দ্বিরাগমনে দেখতে পাবে / কেমন শরীর খুলে পড়ে আছে/  ব্যর্থ প্রেমের মাশুল- ' মতো পরিণত উচ্চারণ পড়তে পড়তে মনে হয় কবি প্রবীরের কাছ থেকে আরো বেশি চাহিদা থেকে যাচ্ছে । একটা কথা না বললেই নয়, এই কবি যতখানি শব্দচয়ন ও গঠনের দিকে কুশলী, যৌক্তিক দিক থেকে কবিতাকে উচ্চতায় পৌছে দিতে ঠিক ততটাই তাকে এগিয়ে যেতে হবে, না হলে আশ মিটবে না । কিছু কবিতার শব্দ বাড়ানোর দোষও লক্ষ্যণীয় । হিরণ মিত্রের প্রচ্ছদ শিল্পীর সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখেছে ।

বুধবার, ২৪ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার


পুনরায় জ্বলে না পোড়াকাঠ । প্রাণজি বসাক । আন্তর্জাতিক প্রকাশন । আশি টাকা ।

' আমার বুকের তলায় ইচ্ছেরা হাত দাও প্লিজ ' কিংবা
' অনন্ত অপেক্ষার শেষে পায়ে পায়ে রাত্রি আসে । '-র মতো পংক্তি যেখানে  পাওয়া যায়, সেখানে কবিতা পড়ার স্বাদ ভিন্নতর হয় । কবি প্রাণজি বসাক বহুদিন এ বঙ্গের বাইরে, এখানের সংস্কৃতি থেকে তাঁর প্রতিদিনের সংস্কৃতি আলাদা, তবু যেভাবে তিনি বাংলা  কবিতাকে জড়িয়ে বেঁচেবর্তে আছেন তা দেখে বিস্মিত হতে হয় । তাঁর কাব্যগ্রন্থ ' পুনরায় জ্বলে না পোড়াকাঠ ' -এ তিনি দেখিয়েছেন কবিতাকে কিভাবে নিজের মতো করে নিজের সঙ্গে মেলাতে হয় । সে কারণে তাঁকে লিখতে দেখি: ' একটা দুরন্ত  হরিণ ছুটে যায় রোদ্দুর সরিয়ে/ ক্যানভাসে গতিপথ আর খামে ভরা মনখারাপ ।' নয়তো, 'আলগা শরীরে শ্রেষ্ঠ কবিতার মতন তুলে রাখি- ' -র মতো বারবার পড়ে ফেলার মতো পংক্তি ।
              প্রাণজি বসাক লিখছেন অনেকদিন । তার কবিতার বোধ ও কাঠামো আরো সমৃদ্ধ হচ্ছে ।তবে বোধের দিকে আরো সমৃদ্ধি চাই ।
                   সার্বিক কবিতার সামনে দাঁড়ালে তার কবিতার জন্য একটা বিশেষ চাহিদা গড়ে তোলার যে দিক আছে তা আরো বাড়াতে হবে তাঁকে । ভালোর আর  ভালো থাকে , আরো ভালোর আরো আরো ভালো থাকে । কবি সেই ভালোর পথে যান এই কাম্য । রবিশেখর পালের প্রচ্ছদ বড় বেশি রিয়ালিস্টিক । কবির কবিতা এত রিয়ালিস্টিক নয় যা স্রেফ ক্যামেরা হয়ে যাবে ।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা ।।নীলাঞ্জন কুমার

 শ্রেষ্ঠ প্রেমের পদ্য  । সুধাংশুরঞ্জন সাহা । সারঙ্গ প্রকাশনী । একশো টাকা ।

' বৃষ্টিতে ভিজে কাঁপতে কাঁপতে/ একা ঘরে ঢুকে বুঝি/ ভালোবাসার প্রকৃত মানে ।' কিংবা , 'দেখ, তোমার অপেক্ষায়/  প্রতিবিম্ব নয়/ এখনও এক তুমুল যুবক ।'- এর মতো বলিষ্ঠ প্রেমের জন্য তারিয়ে তারিয়ে পড়ে নিতে হয় কবি সুধাংশুরঞ্জন সাহা-র 'শ্রেষ্ঠ প্রেমের পদ্য  '। আসলে প্রেম মানে শুধুমাত্র অর্গ্যাজম হলে এই অনুভব আসতো না কারো, কিন্তু প্রেম এমন এক অমোঘ বিষয় যার ভেতর দিয়ে হাজারো প্রেমের কবিতা লেখা হলেও মনে হয় যেন কিছুই যেন হল না ।মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া শ্যামল গুপ্তের লেখা গানটির কথা বারবার মনে আসে ' কেন আরো ভালোবেসে যেতে  পারে না হ্ঋদয় ।'
         এই কবির অবস্থা যখন এমন তখন তিনিতো লিখে যাবেন: '' থরথর করে কেঁপেছিল ঠোঁট/ কী যে জ্বর/ দুচোখে ছিল তার প্রেমের করাত ।' -এর মতো প্রেমোজ্জ্বল পংক্তি ।
            কবি সুধাংশু যা লেখেন তার মধ্যে অহেতুক ছলনা থাকে না । কিংবা ন্যাকা ন্যাকা দিক নিয়ে দুমড়োন মুচড়োন করে  অপ্রয়োজনীয় শব্দচয়ন গড়ে তোলার ইচ্ছে । সত্যি বলার যোগ্যতা আছে কবির , অনবরত তিনি ভালোবাসা অর্থাৎ প্রেম আবিষ্কার করতে চান কবিতার মাধ্যমে ।
            সে কারণে সুধাংশু লেখেন : ' যেই বাড়ালাম হাত/ জল নয় পদ্ম নয়/ উঠল শুধু তাপ । ' এই তাপ পংক্তিতে পংক্তিতে ছেয়ে আছে এ গ্রন্থে। মুক্তিরাম মাইতির প্রচ্ছদ রঙের মাধ্যমে প্রেমের সান্নিধ্য চিনিয়ে দেয় বিমূর্ত ভঙ্গিমায় ।

সোমবার, ২২ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন  কুমার

অনুভব অস্থিমজ্জায় । অশোক চক্রবর্তী । দিবারাত্রির কাব্য । একশো পঁচিশ টাকা ।

একএকটা সাধারণ মানের কবিতার ভেতরে যখন আলোচনা স্বার্থে পংক্তি খুঁজে বেড়াই, তখন কিছু কিছু পংক্তি ধরা দেয় । অশোক চক্রবর্তীর কবিতার বই ' অনুভব অস্থিমজ্জায় '-তে সেভাবে পংক্তি এসেছে । যেমন: ' এখনো মরাইয়ে/  হরপ্পা মহেন্ঞ্জোদড়োর ঘামগন্ধ । ' ,( ' ঘাম'-রক্ত ') ' তোমরাও সঙ্গে থাকো গরম ভাতের/  ঘ্রাণ ভাগ করে নেব/  পৃথিবীর মানুষের সাথে ।' ( ' সঙ্গে থাকো ')।
          বোঝা যাচ্ছে বুকেতে মোচড় মারার মতো তেমন পংক্তি এগুলো নয় । সত্যি বলতে কি , অশোক চক্রবর্তী  চেষ্টা করেছেন , কিন্তু পৌঁছোতে গেলে ভেতরের থেকে এক উন্মাদনা গড়ে ওঠার বিষয় থাকে,  তা তাঁর ভেতর নেই । ফলে তিনি আরো দুটি কবিতার বইয়ের লেখক হলেও প্রকৃত পাঠকের মন জয় করতে এখনো তিনি পারেন নি ।
             তবে একথা বলতে হয় অশোক বাবুর ভেতরে এক আপাত সারল্য আছে । যা কবিতায় ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করেন । তাকে নিবিড় করার কৌশল জানতে হবে , না হলে মাঠে মারা যাবে ।
         বইয়ের ব্লার্বে লেখা আছে :  'এই মানুষটির কবিতার জগতে প্রকরণের বৈচিত্র্য চর্চা হয়তো তেমন নেই,কিন্তু নিখাদ বিশ্বাসের স্বতস্ফূর্ত উচ্চারণ আছে ।' এ সত্য ব্লার্বে  খুব একটা লেখা হয় না । বৈচিত্র্য আসতেই হবে নচেৎ হবে না , তাঁকে বুঝতে হবে । ফয়সন অরফিয়াসের প্রচ্ছদ ভালো লাগে ।

রবিবার, ২১ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

বিলাসীবালা এবং । শান্তি সিংহ । দে পাবলিকেশনস। ষাট টাকা ।

' হাভাতে- বাপটা তার মা মরা বিটির নাম/ বড় আদরে দিয়েছিল/  বিলাসীবালা ' ('বিলাসীবালা ') কিংবা, ' উড়ন্ত সাপের চেয়ে হিলহিলে লাউডগা আরও ভয়ংকর / ঘোর লাগা যুবক জানে না । ' ( হিলহিলে লাউডগা ')-র মতো কবিতার লাইন লিখে ফেলার জন্য এখনো আমাদের মধ্যে আছেন প্রবীণ কবি শান্তি সিংহ । তিনি দেখেছেন গ্রামীণ সংস্কৃতি, রাজনীতি । তাঁর অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে তিনি যা আমাদের দেন তার মধ্যে সততা লেগে থাকে বলে আমরা তাঁর সৃষ্টির প্রতি আকর্ষিত হই ।
            কবির সাম্প্রতিক কাব্যগ্রন্থ ' বিলাসীবালা এবং '-এ তিনি দেখিয়েছেন জীবনের প্রায় সমস্ত দিক যা গ্রামীণ অবস্থানের   নিঃশ্বাস প্রশ্বাসে বয়ে চলেছে । গ্রামীণ জীবন যেন তাঁর চোখের সামনে সারাক্ষণ । পুরুলিয়ায়এক সময়ে বসবাসকারী ও লোকসংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তাঁর কবিতাতে তার প্রভাব আছে ।যেমন:  ' জামের মন্ঞ্জরী জাগে গাছে গাছে/ বায়সের মিলনের ঋতু/ হলুদ খেজুর -কাঁদি  টোপা টোপা, আঃ কী চিকন! ( ভাঙা তোরঙ্গের বুকে) ।
      কবি শান্তি সিংহ সেই কবি যাঁকে বুঝতে গেলে আরো সময় লাগে । যদিও তিনি সহজ সরল উচ্চারণে কথা বলেন । কিন্তু গভীরতা অগাধ । কবিতার ভেতরে কবিতা খোঁজার জন্য বসে থাকা মানুষেরা তাঁকে পছন্দ করবেন সেই ক্যারিশমার জন্য । প্রচ্ছদে নতুনত্ব নেই, শুধু সন্দীপ দেয়াসীর এই প্রচ্ছদে কালার কম্বিনেশনকে
কিছু  দাম দিতে হয় ।

শনিবার, ২০ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

গগন সমগ্র । প্রফুল্ল পাল ।পাঠক । ষাট টাকা

    কবিতার ভেতর দিয়ে মানুষ কত কি দেখে! কত কি ভাবে!  কত চমৎকার উপহার দেয়!  অহর্নিশ কবিতার  সঙ্গে থাকতে গিয়ে যে সমর্পণ উঠে আসে তাকে কোন নাম দেওয়া যায়!  জানা নেই ।যে কবি লেখেন: ' বেদবাইবেলকোরাণ ত্রিপিটক দাস ক্যাপিটালের পাতা ভরে যাবে গগনে/ সেই রকম আমারও মনে হয়েছিল আর সকলে যেমন ভাবছে আজকাল ।' , কিংবা, ' আর বারবধূর লজ্জাবিষয়ক কঠোর প্রবন্ধে যা আছে তা না বলাই ভালো ' তাকে কত নম্বর দেওয়া যায়? কেউ কি উত্তর দিতে পারবেন? অন্ততঃ প্রফুল্ল পালের  ' গগন সমগ্র ' র জন্য  (যার ভেতরে এই পংক্তিগুলি গ্রন্থিত আছে) তার মাপ করা বেশ অসুবিধেজনক ।
          গগনকে কত রকম ভাবে দেখানো যায় তা প্রফুল্ল পাল বিবৃত করেছেন অত্যন্ত সমর্থনযোগ্য সচেতন ও নির্বিকার ভাবে । তিনি বলেন: 'বাচ্চা যেমন ডিমে ভরা/  ভাতের মধ্যে গগন ভরা । ' গগন আছে সব কিছুর ভেতরে, শুধু খুঁজে নেবে নিজের মননের মধ্যে দিয়ে । প্রফুল্ল পাল লিখেছেন তাঁর মতো করে । তাঁর নাম কামানোর কোন দায় নেই ।প্রান্তিক এক গ্রামীণ মফস্বলে থেকে গগন দেখেন , বোঝেন, ভাবেন, তার স্বাদ গ্রহণ করেন । কতজন তা পারে?
             সবশেষে বলা যায় , মানবতা আর গগনকে মিলিয়ে দেন তিনি । আসে রাজনীতি , লোভ । যেমন:
' গগনের কাছে লাল চালের ভাতের লোভ আর/ কালোকে কালো সাদাকে সাদা বলার স্পর্ধা ।' ব্রেভো!
দেবাশিস সাহা ছেঁড়া খোঁড়া ভূমিকায় গগন অর্থাৎ অনন্ত আকাশকে যেভাবে চিন্হিত করেছন তাতে বাহাদুরি আছে ।

শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

আমি শবর বলছি । দেবাশিস লাহা । রূপকথা প্রকাশন । দুশো টাকা ।

চার  ফর্মার বইয়ের দাম দুশো হোক বা যাই হোক,    প্রকৃত পাঠক অবশ্যই খোঁজে সেই কবিতা, যা দামের মূল্য দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না । কবি দেবাশিস লাহার কবিতা পড়ে মাথায় প্রশ্ন জাগে, তাঁর কবিতাকে বাঃ না বলে আঃ বলতে ইচ্ছে হয় কেন?  উত্তর নেই । তাঁর সাম্প্রতিক কাব্যগ্রন্থ ' আমি শবর বলছি ' এমন কাব্যগ্রন্থ যার ভেতর ছুঁয়ে ফেললে মন্ত্রমুগ্ধ হতে হয় । তাই এ সব পংক্তি বারবার পড়তে ইচ্ছে জাগে: ' কোথাও হাতকে আমি পাখি হতে দেখি না; তবু সুতীব্র গরমে ফ্যান বন্ধ করে দিই; হে তালপাখা তুমি উর্ধগামী হও ।' (' হাতপাখা ') , ' তখনও লড়াইয়ের শ্লোগান তুলছিল/ মৃতদেহের থুতু ছেটানোর অধিকার দেওয়া হোক । ' ( থুতু ')।
            দেবাশিসের প্রতিবাদ অন্যান্য কবিদের থেকে বেশ কিছুটা আলাদা । তার যেকোনো প্রতিবাদী উচ্চারণ ট্যুইস্ট করে: ' মৃতদেহ নিয়ে খিল্লি করতে নেই; / তারা যেখানে গেছে তোমরাও সেখানে যাবে । '
( মৃতদেহ নিয়ে খিল্লি করতে নেই) । পাশাপাশি দেবাশিস অত্যন্ত স্মার্টভাবে ধোঁয়ার অনুষঙ্গে অবাক করা কবিতা লেখেন: ' তবু সিগারেটে টান দেওয়া মাত্র যেন মনে হয় রোদ্দুর নয় ,জ্যোৎস্না নয় , ধোঁয়া আমি শুধুই ধোঁয়া হয়ে  যাচ্ছি ।'
       ' আমি শবর বলছি ' সেই বই যার জন্য অপেক্ষা করার দরকার পড়ে । লিখতে গিয়ে থামতে হয় প্রকৃত মূল্যায়নের জন্য । প্রবীর মন্ডলের প্রচ্ছদ দেখার মতো, তবে বই ও কবির নাম বড়বড় হরফে ছাপাতে কিছুটা বৈসাদৃশ্যও ঘটেছে ।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা । নীলাঞ্জন কুমার

বৃষ্টি ও মেঘমালা । দ্বিজেন আচার্য । শ্রীকালী প্রকাশনী । পন্ঞ্চাশ টাকা ।

কাব্য পিপাসু মনের সামনে কোন কাব্যগ্রন্থ এসে দাঁড়ালে  তাকে জড়িয়ে ধরার জন্য, মনের ব্যগ্রতা নিয়ে এগিয়ে চলি,তখন হতোদ্যম হলে দুঃখ হয় । সেরকম  অবস্থা ঘটেছে কবি দ্বিজেন আচার্য- র কাব্যগ্রন্থের সামনে এসে । একথা বলা যায়,  এ কবি কবিতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল । কবি খোঁজেন, ভাবেন, ভেতরে ভেতরে নিজেকে পুড়োতে চান । কিন্তু কবিতাগুলি হয়ে ওঠে নুনহীন । তাই  : ' বাতিঘরে লাল আলো । দূরে আরো দূরে ওই- / নিঃসঙ্গ নাবিক/  একা, এক শঙ্খচিল উড়ছে আকাশে '
('জাগরী ')-র মধ্যে চিত্র পাই ,বাকি নৈব নৈব চ ।
          এই কবির সব কবিতা  প্রায় একই ছাঁচে গড়া । তাই মন ভরে না । এ কবির আরো বেশি পরিশ্রম প্রয়োজন , নাহলে তাঁকে ব্যর্থ কবিতা বয়ে বেড়াতে হবে : ' শিমুল তুলোর মতো ভাসমান অসম বিবাহ/  ছেঁড়া মালা/ বাসি ফুল/ উড়ছে হাওয়ার মতো '
- ধারার কবিতা আজীবন লিখে যেতে হবে তাঁকে ।
        কবি চেষ্টা করেছেন তাঁর নিজস্ব উচ্চারণ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে । কিন্তু বলা যায় তিনি স্রেফ শুরু করেছেন । এখনো অনেক প্রহর বাকি।হার্ডল চিনতে হবে, ভাবতে হবে ও কবিতার প্রিয় চিন্তার কাছে সঁপে দিতে হবে । তবে জয় । বিপ্লব মন্ডলের প্রচ্ছদ পুরোনো ধাঁচের । রঙের দিকে জোর দিয়েছেন, কবিতার বিষয়ের দিকে নয় ।

বুধবার, ১৭ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা  । নীলাঞ্জন কুমার

দেখা শেখার স্কুল । দেবাশিস সাহা । আলো পৃথিবী । ত্রিশ টাকা ।

কবি দেবাশিস সাহার ১ ফর্মার কাব্য পুস্তিকা ' দেখা শেখার স্কুল ' আপাতভাবে পড়তে মাত্র মিনিট দশেকের বেশি লাগার কথা নয় । তার প্রভাব থেকে যাবে বহু বহু সময় জুড়ে । পাঠকরা যদি খুঁজেপেতে  দৈবাৎ এ পুস্তিকা  পেয়ে যান ও পড়ে ফেলেন তবে বুঝবেন এর ভেতরে আছে জীবনের কতখানি সান্নিধ্য যা আমাদের ভেতর আবর্তিত হবে , যেমন: 'খিদে কে/  প্রতিপক্ষ ভেবে/  রাগে ফুটতে থাকে গরম ভাত ' (' রাগ') প্রকৃষ্ট উদাহরণ ।
       দেবাশিস সাহা র এ পর্যন্ত দশটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, তার মধ্যে বুঝতে পারি তিনি   কিভাবে তৈরি করেছেন নিজেকে  লক্ষ্য সামনে রেখে ।  জানেন যে লক্ষ্য পেরতে হলে হার্ডল ডিঙিয়ে যেতে হবে । দেবাশিস তাই করেছে, সেজন্য লিখতে পারেন: ' অন্ধ সন্তান/ পাপে পা দিয়ে /।খুঁজে বেড়ায় ঈশ্বরের ঘর । ' (  ' ভোর ') নয়তো ' গাছেদের প্রণাম ছায়া হয়ে গড়িয়ে যায়/ মিছিলের দিকে । ' ( ' স্পর্শ ') , ' কথা বলতে বলতে/ একসঙ্গে হাঁটলে/ ছোট হয়ে যায় পৃথিবী।' ( ' কথান্তর- ৪') ইত্যাদি ইত্যাদি ।
          দেবাশিস দেখাচ্ছেন চিত্ররূপময়তার ভেতর দিয়ে মানুষের কথা বলার জোশ । যা করা কঠিন । কলাকৈবল্যবাদীদের ভেতরে মানুষকে নস্যাৎ করার খেলা চলে , তাকে তিনি জয় করেছেন । দেবাশীষ সাহার  ( গ্রন্থকার নয়) এ প্রচ্ছদটি শিক্ষিত করার মতো।

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...