সুধাংশুরঞ্জন সাহা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সুধাংশুরঞ্জন সাহা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর, ২০২০

এক কুড়ি হাইকু || সুধাংশুরঞ্জন সাহা || অন্যান্য কবিতা

 এক কুড়ি হাইকু

সুধাংশুরঞ্জন সাহা



(১)

জেনে রাখুন

আলাদিনের আলো

কোথাও নেই ।


(২)

আমিও একা

বিফল মনোরথে

একাকী খুব ।


(৩)

সেটাই কথা

কেউ কোথাও নেই

সময় ছাড়া ।


(৪)

ঋতু পেরিয়ে

জল কি ঠিক জানে

কালের খেলা !


(৫)

নিজের সাথে

আমি অনেকদিন

কথা বলিনি ।


(৬)

বুকের কাছে

দেখেছি বারেবারে

দরদী চোখ ।


(৭)

তোমার দিকে

মুখ ঘুরিয়ে কেউ

তাকিয়ে আছে ।


(৮)

দুনিয়া জুড়ে

মানুষ বড় একা

ভীষণ একা ।


(৯)

নদী ডিঙিয়ে

বাঁশবন পেরিয়ে

কোথায় যাব ?


(১০)

পাখির ডানা

নানা রঙের মেঘে

ভেসে চলেছে ।


(১১)

পথের ভুলে

বেয়নেটের মুখে

জীবন আজ ।


(১২)

অবাক দিনে

তুমি আমি আমরা

মুখর হই ।


(১৩)

ঝিল বুজিয়ে

আকাশ উঁচু বাড়ি

নয়া সমাজে ।


(১৪)

ভুলিয়ে দেয়

আদতে আমরাই

বিনাশকারী ।


(১৫)

কথার ভিড়ে

উপেক্ষিত দুপুরে

পাখির শোক !


(১৬)

ধূসর মেঘে

ফিরে এলো কালের

শোকের ছায়া ।


(১৭)

ভোরের গাছে

শিশিরের আদরে

মায়াবী শীত ।


(১৮)

আগামীকাল

আসবে ঠিক রোজ

ঝড়ের বেগে ।


(১৯)

খাদের দিকে

সীমারেখা থাকে না

চেনা জলের !


(২০)

মোহনবাঁশি

বেজে যায় তবুও

একনাগাড়ে ।

++++++++++++++

@ সুধাংশুরঞ্জন সাহা

রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০

একগুচ্ছ হাইকু || সুধাংশুরঞ্জন সাহা || কবিতা

একগুচ্ছ হাইকু

সুধাংশুরঞ্জন সাহা



(এক)

আমার আছে

নানা রঙের পাখি

মায়াবী চোখে ।


(দুই)

দুদিন ছিল

একটু মনমরা

ঘরে বাইরে ।



(তিন)

আজ আবার

মানুষ মেখেছে কি

শীতের ঢেউ !


(চার)

বিপদ ভুলে 

কারা যেন মারছে

মারণ ঝাঁপ !


(পাঁচ)

আলোর ভাষা

পড়তে ভুলে গিয়ে

লিখছে রাত !


(ছয়)

অলীক চোখে

জাদুর নানা খেলা

মেলছে ডানা ।


(সাত)

মানুষ নিয়ে

শহর ঘিরে ফের

ভাববে কেউ !


(আট)

নিষেধ ভুলে

আইন হাতে নিয়ে

কী খেলা এটা  !


(নয়)

জীবন নিয়ে

ছিনিমিনি খেলায়

মেতেছে রাত !


(দশ)

বলছি তাই

এবার শুরু হবে

শেষের গান ।


(এগারো)

এই সময়ে 

অবাধ মাতামাতি

মিলবে ফল ।


(বারো)

বিষাদ নদী

বইছে একা একা

খুব নীরবে ।


(তেরো)

তুমি আমার

হারানো কারুভাষা

আবছা ভোরে।


(চোদ্দ)

ফিরছে কারা

আমাদের ধূসর

বনের পথে !


(পনেরো)

জীবন নিয়ে

গাইবে কারা গান

শেষের বেলা !

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০

ফুরিয়ে আসছে দিন || সুধাংশুরঞ্জন সাহা || কবিতা

 দীর্ঘ কবিতা

                                                  

ফুরিয়ে আসছে দিন

সুধাংশুরঞ্জন সাহা



পৃথিবীর সবকিছু বদলে যাচ্ছে অনবরত ‌।

মাটি জল বায়ু আর ভূ-বৈচিত্রে সেই কবে যেন

বেসামাল এক ধাক্কা লেগেছিল হঠাৎ করেই।

ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব হল উনবিংশ শতাব্দীতে।

মানুষের চোখে এক প্রকৌশল ডানা মেলেছিল।

মানুষও ভেবেছিল তারা সব বদলাতে পারে।

#

সুফল কিছু মিলেছে জীবনের গুণগতমানে ।

কালক্রমে দেখা গেল, জল বাতাস দূষিত হচ্ছে।

ভূবৈচিত্র ক্রমে ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে ।

একে একে হারাচ্ছিল বাস্তুতন্ত্রের সব চরিত্র।

কার্যকারিতা হারায় তার যাবতীয় উপাদান।

আট লক্ষ বছরের ইতিহাসে যা ঘটেনি তাই

ঘটে চলল পঞ্চাশ ষাট বছরের ব্যবধানে।

সবচেয়ে উষ্ণতম হয়ে উঠল এই শতাব্দী ।

#

আমার শহর এক উষ্ণতম দ্বীপের মতন ।

কলকাতা শহরকে দিশেহারা দেখিনি এমন। 

নানা প্রশ্ন উড়ে আসে,জবাব কঠিন হয় ক্রমে !

শিল্প বিপ্লবের পরে, কার্বন, বিষাক্ত কার্বনই

বেশি মিশেছে বাতাসে,  কমপক্ষে চল্লিশ শতাংশ 

তার আবহমন্ডল গিলেছে সাত আট দশকে । 

#

আমাদের পৃথিবীর যে তিন শতাংশ জল, সেই

জল এই শতাব্দীর মাঝেই উষ্ণ হয়ে উঠবে ।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই শতাব্দীর মাঝামাঝি

উত্তর মেরু অঞ্চল আর হিমালয় অঞ্চলের

জমে থাকা বরফও দ্রুত গলতে শুরু করবে ।

সমুদ্রতল উঁচুতে উঠছে আমাদের অলক্ষ্যে ।

সমীক্ষা বলছে, গত এক শতাব্দীতে আমাদের

সুন্দরবনের ভূমি ক্ষয়ে গেছে ভয়াবহভাবে ।

#

আর সাগর এগিয়ে গেছে কয়েক কিলোমিটার ।

বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে গেছে কয়েক কোটি হেক্টর, 

দিন, মাস ও বছর আমাদের অক্সিজেন দিয়ে  

বেঁচে থাকতে সাহায্য করে সহজ সরল বন।

কত কৃষিজমি আর চারণভূমি হারিয়েছে জাত !

আমাদের ব্যবহৃত কত হাজার টন প্লাষ্টিক...

#

কত পরিমাণ বর্জ্য তৈরি করে সে হিসেব কেউ

রাখে না নির্ঘাৎ, এই অঢেল বর্জ্য সমুদ্রে মেশে।

অক্সিজেন শূন্যতায় ভোগে সমুদ্রের কিছু অংশ,

যেখানে কোন উদ্ভিদ কিংবা প্রাণী বাঁচবে না আর।

মাত্র চল্লিশ বছরে অসংখ্য প্রজাতি লুপ্তপ্রায় ।

গবেষকদের মতে, সংখ্যাও কমেছে ততোধিক।

সবচেয়ে বেশি কমে গেছে মিষ্টি জলের প্রাণীই।

কীটনাশক অথবা কেমিক্যাল সারও ঘাতক  ।

#

বাস্তব্যবিদ্য্যায় বলে,পৃথিবীর মানুষের জন্য

বেঁচে থাকার জন্যই মাথাপিছু জমি চাই যতো

এখন পাওয়া যায় মোটামুটি  অর্ধেকটা তার

অর্থাৎ জনসংখ্যার জন্য চাই দ্বিতীয় পৃথিবী ।

এতো অভাবে মানুষ তাহলে বেঁচে আছে কীভাবে ?

ভূগর্ভস্থ জলস্তর, বায়ুর উপাদান বিষিয়ে !

#

মানুষ প্রতিনিয়ত গোপনে ধ্বংস করে নিজেকে 

জানেনা, মিনিটে  মুছে দিচ্ছে কত অরণ্যসম্পদ 

এই ভাবেই ক্রমশ বিপন্নতা ঘনিয়ে আসছে ।

অবশেষে মানুষই মানুষের প্রকৃত ঘাতক।

এই ধ্বংসলীলা যদি চলতে থাকে অবাধে তবে,

পৃথিবীতে মানুষের আয়ু দ্রুত ফুরিয়ে আসছে ।

ফুরিয়ে আসছে দিন, গোনা শুরু ধ্বংসের প্রহর ।

করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক তারই পূর্বাভাস !


----------------------------------------

সুধাংশুরঞ্জন সাহা

৫৭/৬এ/২  সন্তোষ রায় রোড

শিবম অ্যাপার্টমেন্টস

কলকাতা - ৭০০০০৮

কথা : ৮৬৯৭৯০০৬০৬

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২০

দশটি হাইকু || সুধাংশুরঞ্জন সাহা || অণুকবিতা

 দশটি হাইকু

------------------------

সুধাংশুরঞ্জন সাহা



(এক)

সে রোজ রোজ

আমাকে ডেকে যায়

এই শরতে ।


(দুই)

তেমন ভালো

বাসিনি তো তোমাকে

অনেক দিন ।


(তিন)

তাই বলে কি

পাখি গান গায়নি

ভরা ভাদরে !


(চার)

এই তুমুল

বাদলে তোমাকেই

পড়ছে মনে ।


(পাঁচ)

করোনা কালে

কে যেন ডেকে ডেকে

যায় গোপনে ।


(ছয়)

আজ বুঝেছি

তোমাকে না ছোঁয়ার

মনোবেদনা ।


(সাত)

পাথর হয়ে

আছি অনেক কাল

কেউ জানে না ।


(আট)

অনেক ঋতু

সে আমাকে ভুলেছে

আমিও তাকে ।


(নয়)

আজও কেন

অতল জলে পড়ে

আছি বিমূঢ় ।


(দশ)

হারিয়ে যাবো

অলীক পাখি হয়ে

অবাক দেশে ।



++++++++++++++

@ সুধাংশুরঞ্জন সাহা

কথা : ৯৮৭৫৪২০৭৩৮


শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

তুমি || সুধাংশুরঞ্জন সাহা || কবিতা


তুমি
সুধাংশুরঞ্জন সাহা


(এক)
তুমি আমার মাঝদুপুর,
কথা বলার অনামীপুর ।
তুমি আমার হারানো দিন,
শোধ না করা হাজার ঋণ ।
তুমি সুইমিংপুলে সাঁতার,
শঙ্কাহীন রাতের আঁধার ।

(দুই)
তোমার ঠোঁটের মতো
অভিমানী তীব্র জ্বরে
সারা রাত পুড়ে যাই
জ্বলে যাই একা ঘরে ।

(তিন)
তোমার দু'চোখের
বরফগলা জলের
আবেগের স্রোতে,
আর আমার কপালে
দেয়া জলপট্টিতে
নদী লেগে থাকে।
------------------------

শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০

শব্দ'৬ কবিতা || সুধাংশুরঞ্জন সাহা || কবিতার সাম্প্রতিক প্রবণতা

শব্দ'৬ কবিতা
সুধাংশুরঞ্জন সাহা


কাটাঘুড়ির মতো আমাকে নিয়ে খেলছে সময় !

জেলেরা ডুব দেয় মাছেদের গোপন সংসারে ।

কেবলমাত্র গাছ জানে বৃন্তচ্যুত ফুলের আর্তনাদ।

মানুষের মতো পাখিদের কোন সংবিধান নেই ।

এখন চতুর্দিকে উঁচুগলায় মিথ্যা প্রতিষ্ঠার দিন।

রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২০

সুধাংশুরঞ্জন সাহা-র দু'টি অণুকবিতা


সুধাংশুরঞ্জন সাহা-র দু'টি অণুকবিতা



মানচিত্রের ত্রুটি
---------------------
কান্না গিলতে গিলতে আজ আমরা
বেলা শেষের আলোয় মাপা বিকেলে
পুকুরঘাট, শাপলাপাতা অথবা
শ্যাওলা গুল্মে মুখিয়ে থাকা অবেলা,
কখনও কি প্রশ্ন তুলতে পেরেছি,
মানচিত্রের পুরনো কোন ত্রুটির !
-------------------

দূরত্ব
-------
আমার আঙ্গুলের ডগায় জ্বরের আতঙ্ক।
চোখ বেয়ে নামছে মেঘের সূচিপত্র।
বুকের ভিতর পাথর ভাঙছে বিপণ্নতা ।
ক্রমশঃ আমাকে ঘিরছে দূরত্ব ।


বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২০

আটপৌরে কবিতা : সিরিজ (এক) || সুধাংশুরঞ্জন সাহা

আটপৌরে কবিতা : সিরিজ (এক)
সুধাংশুরঞ্জন সাহা


(এক)

গানে গানে মগ্ন
মজলিস
সারারাত ঘুমতে ভুলে যায় ।

(দুই)

উপেক্ষার  ঘন অন্ধকারে
বিশ্বাস
মাথা ঠুকে ঠুকে মরে ।

(তিন)

অশালীন অভব্য নীচ
আচরণ
শরীরী ভাষায় প্রকট হয় ।

(চার)

পথনাটকের কথায় অভিনয়ে
মানুষ
লোকশিক্ষার পূর্ণতা খুঁজে পায় ।

(পাঁচ)

পাটিগণিতের সূত্র মেনে
জীবনের
অঙ্ক মেলানো যায় না ।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০

কিছু বই কিছু কথা || নীলাঞ্জন কুমার

কিছু বই কিছু কথা ।।নীলাঞ্জন কুমার

 শ্রেষ্ঠ প্রেমের পদ্য  । সুধাংশুরঞ্জন সাহা । সারঙ্গ প্রকাশনী । একশো টাকা ।

' বৃষ্টিতে ভিজে কাঁপতে কাঁপতে/ একা ঘরে ঢুকে বুঝি/ ভালোবাসার প্রকৃত মানে ।' কিংবা , 'দেখ, তোমার অপেক্ষায়/  প্রতিবিম্ব নয়/ এখনও এক তুমুল যুবক ।'- এর মতো বলিষ্ঠ প্রেমের জন্য তারিয়ে তারিয়ে পড়ে নিতে হয় কবি সুধাংশুরঞ্জন সাহা-র 'শ্রেষ্ঠ প্রেমের পদ্য  '। আসলে প্রেম মানে শুধুমাত্র অর্গ্যাজম হলে এই অনুভব আসতো না কারো, কিন্তু প্রেম এমন এক অমোঘ বিষয় যার ভেতর দিয়ে হাজারো প্রেমের কবিতা লেখা হলেও মনে হয় যেন কিছুই যেন হল না ।মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া শ্যামল গুপ্তের লেখা গানটির কথা বারবার মনে আসে ' কেন আরো ভালোবেসে যেতে  পারে না হ্ঋদয় ।'
         এই কবির অবস্থা যখন এমন তখন তিনিতো লিখে যাবেন: '' থরথর করে কেঁপেছিল ঠোঁট/ কী যে জ্বর/ দুচোখে ছিল তার প্রেমের করাত ।' -এর মতো প্রেমোজ্জ্বল পংক্তি ।
            কবি সুধাংশু যা লেখেন তার মধ্যে অহেতুক ছলনা থাকে না । কিংবা ন্যাকা ন্যাকা দিক নিয়ে দুমড়োন মুচড়োন করে  অপ্রয়োজনীয় শব্দচয়ন গড়ে তোলার ইচ্ছে । সত্যি বলার যোগ্যতা আছে কবির , অনবরত তিনি ভালোবাসা অর্থাৎ প্রেম আবিষ্কার করতে চান কবিতার মাধ্যমে ।
            সে কারণে সুধাংশু লেখেন : ' যেই বাড়ালাম হাত/ জল নয় পদ্ম নয়/ উঠল শুধু তাপ । ' এই তাপ পংক্তিতে পংক্তিতে ছেয়ে আছে এ গ্রন্থে। মুক্তিরাম মাইতির প্রচ্ছদ রঙের মাধ্যমে প্রেমের সান্নিধ্য চিনিয়ে দেয় বিমূর্ত ভঙ্গিমায় ।

মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০

একগুচ্ছ এক পঙক্তির কবিতা || সুধাংশুরঞ্জন সাহা

একগুচ্ছ এক পঙক্তির  কবিতা
সুধাংশুরঞ্জন সাহা



(এক)
প্রকৃত কবি সে-ই, যার বুকে অবাক রসায়নগার থাকে।

(দুই)
আমি নিজেকে খুঁজি না, আবিষ্কার করতে চাই নিজেকে ।

(তিন)
অন্ধকারে যে ভয় পায়, আলোর প্রস্তাবনা তাকে মানায় না ।

(চার)
রোদ ফুরিয়ে গেলে, মনখারাপের মেঘ ঘেরে আমাকে ।

(পাঁচ)
পারস্পরিক টান না থাকলে কোন সম্পর্কই বাঁচে না।

(ছয়)
যে নদী মুগ্ধ করেছে, তাকেই বিষিয়েছি অবহেলায় !

(সাত)
যে অরণ্য শুশ্রূষা দিয়েছে, তাকেই নির্বিচারে  করেছি ধ্বংস !

(আট)
আমাকে ঘিরে থাকে কবিতার অবুঝ শব্দমালা।

(নয়)
পুকুরে ঝাঁপ দিলে এখনও গ্রামবাংলা হাত ধরে আমার।

(দশ)
ছিন্নমূল মানুষের কোন দেশ নেই, বিশ্ব নেই ।

সোমবার, ১১ মে, ২০২০

অণুগল্প || ঝক্কি || সুধাংশুরঞ্জন সাহা

ঝক্কি    
সুধাংশুরঞ্জন সাহা

অজয় সেন উচ্চপদস্থ সরকারী আধিকারিক ।
প্রাক্তন বায়ুসেনা পঞ্চাশের সুঠাম প্রবাহন মিত্র তার পিএ ।
সম্প্রতি এই অফিসে যোগ দিয়েছে প্রবাহন ।
প্রথম দিন থেকেই অজয় লক্ষ্য করেছে প্রবাহন ঘন্টায় ঘন্টায় মোবাইলে কথা বলে কোন মহিলার সঙ্গে। একদিন অজয় ওকে জিজ্ঞাসা করে,
আপনি ঘনঘন কাকে এতো ফোন করেন ?
প্রবাহন তো তো করছে দেখে,
অজয় ফের বলে---কে এই মহিলা ? প্রেমিকা ?-- প্রেমিকা ঠিকই,তবে স্ত্রী।
স্ত্রীকে এতো ফোন ? আসলে ওকে ঘনঘন ফোন না করলে ও ভাবে আমি অন্য কোন মেয়ের প্রেমে পড়েছি । এর কারণ ?  --- কারণ আমার অজানা ।
তবে, একটা কারণ হতে পারে, আমাদের প্রেমের বিয়ে কিনা, ওর ধারনা আমি অন্য মেয়ের সাথেও ফেঁসে যেতে পারি । সেই জন্য এটা ওরই দাওয়াই ।
আমি নিরুপায় স্যার ।   বাধ্য হয়েই মানতে হচ্ছে এই নিদান ।
কারণ ওর  বাবা আবার পুলিশের এসপি । পুলিশের ঝামেলা, ঝক্কি বোঝেনইতো !
পুরো ব্যাপারটা শুনে অজয় হাসতে হাসতে বেল বাজিয়ে বেয়ারাকে ডেকে  দুকাপ কফির অর্ডার দেয় ...।


মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২০

কবিতা || এক পরিযায়ী পাখি || সুধাংশুরঞ্জন সাহা

এক পরিযায়ী পাখি
সুধাংশুরঞ্জন সাহা

আমার চেতনা মনে হয় এক পরিযায়ী পাখি।
সমুদ্র গিরি পেরিয়ে আসে এক গভীর অরণ্যে।
ডালে ডালে দোল খায় পাতা আর বাতাসের সাথে ।
চোখের কোটরে তার অসম্ভব উড়ানের স্বপ্ন।
একে একে বন্ধ হলো চলার পথঘাট যখন
তখনই সে উদয় হলো আমার মনের তারে !
অবাধ্য মনের গতি সাঁতরে যায় নিষিদ্ধ নদী।
পাখিটা আমাকে ডাকে চোখে নির্ভরতার আভাসে ।
#
কিন্তু শহরে হঠাৎ নেমেছে শ্মশানের স্তব্ধতা।
কাকজোছনায় সাজে না আর ভোরের জনপদ
সব প্রাণ হতাশায় ঘরবন্দী অসহ্য সময়ে ।
হে আমার প্রিয় পাখি, ডানায় অকপট উষ্ণতা,
এই অক্ষর জীবন বুঝি এক ভোঁতা তরবারি
শোনাও তোমার কথা ভূগোলের মানচিত্র ছিঁড়ে ।

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...