রবিবার, ২৪ মে, ২০২০

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || আইআনা বকুভা- কবিতা

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা
 রুদ্র কিংশুক 
আইআনা বকুভা- কবিতা

আইয়ানা বোকুভা (Iana Boukova,1968) দ্বিভাষিক কবি। তিনি বুলগেরিয়ান ও গ্রিক -- দুই ভাষাতেই লিখেছেন মৌলিক কবিতা।
বুলগেরিয়ার সোফিয়াতে তাঁর জন্ম।১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি  চলে আসেন  গ্রিসের আথেন্সে এবং গ্রিক ভাষায় সৃজনশীল সাহিত্য রচনায় নিজেকে নিযুক্ত করেন। তার আগে বুলগেরীয় ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ, একটি ছোট গল্পের বই  এবং একটি উপন্যাস। এছাড়া গ্রিক থেকে বুলগেরিয়ান ভাষায় তিনি অনুবাদ করেছেন আধুনিক কালের বহুপ্রতিষ্ঠিত কবির কবিতা। এই অনুবাদ তালিকায় রয়েছেন সেফেরিস, কাতেরিনা আনঘেলাকি-রুকি এবং জেনি মাসটোরাকি।  ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে গ্রিসের প্রখ্যাত কবিতা প্রকাশনা সংস্থা 'ইকারস' প্রকাশ করে তাঁর কাব্যগ্রন্থ 'মিনিমাল গার্ডেন'। গ্রিক কবিতার একটি বিশিষ্ট অনলাইন পত্রিকা "গ্রিক পোয়েট্রি নাউ"। বকুভা এই সংস্থার একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।পৃথিবীর নানান ভাষায় অনূদিত  বকুভার কবিতা। 

১. ছোটো বাগান

তুমি দরজা খুলেছিলে
আর সেখানেই ছিল এটা: রাত্রি
আটকে পড়েছিল
 কয়েক সপ্তাহ ধরে ছিল না খাবার মতো রুটি
 এরকম লোকই ছিলে
তুমি কল খুলে রেখেছিলে
ক্ষতস্থান, রক্ত-নির্গমনে
তুমি উলটো করে পড়েছিলে চশমা
দেখো আমি পরেছি জুতো যা আমি  পরতাম ছোটবেলায়
এবং মোজা যা পরতাম  হাঁটু পর্যন্ত
কিন্তু আমার হাঁটু বেড়ে উঠছে অ্যালিসের মতো
 আমাদের বাগানে আগুন লাগল অতিরিক্ত চাঁদনির কারণে
 আর আমাদের অতিথিদের গলা এখনো বেড়ালছানার পিছনে
কুয়োর ভেতর
এখন আমি দেখছি ঘর
কোথাও একটু ওপর থেকে
পশ্চাতে আমার ছোট্ট বিছানা
বুনো জিনিস
 উস্কানিমূলক ভাবি কুৎসিত
একঘেয়ে

২. বলকান সরল চিত্রকর

 এবং যখন তারা পৌঁছলো অন্তিম দরজায় বিচারকেরা জিজ্ঞাসা করল তাদের
( কেবল মজা করার জন্য)
 এটা কী
 চিৎকার আর কষ্ট নিয়ে উপরে উঠছে
 আনন্দে উড়ছে
আর নিঃশব্দে পড়ছে
সবগুলো অগ্নিশিখায়
অগ্নিমানুষ বলল আমার গান
পাখি যা  উড়ালো
মাথার এধার থেকে ওধারে আর আমায় ভালবাসলে--
তৃতীয়জন (সুখী!)
 ছোট ভাই বলল
সবই শিখাময়।

৩. সন্ধ্যা ও সংগীত বিষয়ক ছোটো কবিতা

সাতটা বাজে,  পাখাগুলো বন্ধ হয়েছে
শহরের ভ‍্যাপসা বারান্দা
যেখানে আলো শেষ আর ধৈর্য ফুরিয়ে যায়
 একটা শিশু চিৎকার করছে যেন তাকে হত্যা করা হচ্ছে
অথবা কাউকে হত্যা করা হচ্ছে আর সে চেঁচাচ্ছে শিশুর মতো
 আমি কি জানি
কোনটা তার মাটির তলায় গেছে
আর কোনটা সোজা শিরাতন্ত্রে,
আমার শিক্ষানবিসি সাম্যবস্থায়
ঠিক যখন তুমি চাবি দিয়ে বাজাও
খুব দায়িত্বজ্ঞানহীন ।

৪. দায়িত্ব ও উপাধি ছাড়াই

আহা, আমি জানি বিবর্তন চলছে
আর আমি নিজেই এখন মুছে ফেলি
 আমার ত্বক থেকে আঁশ
 আর শ্বাসের জন্য হাঁপায়
 গতকাল আমার প্রতিবেশীও এ কথাই বলেছিল:
 প্রত্যেকেরই আছে অফুরন্ত সম্ভাবনা
যেমন সিগারেট-অবশেষে আগুন লাগা
 যেমন ভোঁকাট্টা ঘুড়ির
 শুন্যে এখন ওড়া
অসম্মার্জিত তারামণ্ডলের উঠানে
 কিন্তু কেন তবে
(আমি জানতে চাই )
প্রতিটি সকালে তারা ঘুম ঘুম চোখে লাফায়
ধড়াম করে দরজা বন্ধ করে, গাড়ি স্টার্ট করে
 দীর্ঘ মিনিটগুলো ইঞ্জিন গরম করে
 দীর্ঘ ঘন্টাগুলো ইঞ্জিন গরম করে
কেন প্রতিদিন সকালে
 তারা যাত্রা করে এবং গাড়িতে স্টার্ট দেয়
এবং কোথাও না যাওয়া হয়।

1 টি মন্তব্য:

আটপৌরে কবিতাগুচ্ছ ~ ২২/৬ || "আই-যুগ"-এর কবিতা দেবযানী বসু || Atpoure poems 22/6 Debjani Basu

  আটপৌরে কবিতাগুচ্ছ ~ ২২/৬ || "আই-যুগ"-এর কবিতা দেবযানী বসু || Atpoure poems 22/6 Debjani Basu   আটপৌরে ২২/৬ আটপৌরে২২/৬ ১. পৃথিবী ...