রুদ্র কিংশুক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রুদ্র কিংশুক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০

রুদ্র কিংশুক || আমার তিন পূর্বজন্মের তুমি || কবিতা

রুদ্র কিংশুক
আমার তিন পূর্বজন্মের তুমি

১.

ইসোল্ট গন

আপেলগাছ, বীরভূমের লালমাটি
অসম্ভব রসায়ন,

পাতার সবুজে কোন সিগন্যাল নেই

মাথার ওপর দিয়ে বালিহাঁস,
হংসধ্বনি রাগে সঞ্জীব অভয়ংকর

স্মৃতিশিকড় আটকে আছে এখনও
 গ‍্যালওয়ে, হর্সফেয়ার, কুলপার্ক,
অটোগ্রাফ গাছে এঁকে দিচ্ছি অক্ষরচিহ্ন

অ্যালজোলাম বর্ষণে ঘুম আসে
স্বপ্ন ও সরবিট্রেটে জেগে উঠি
ইসোল্ট গন, কিশোরী রোদ
 আমাকে টানে জন্মান্তরের দিকে

২.
সোফিয়া

 বলকান পাহাড়ের গায়ে আমাদের বাড়ি
 তুমি বুলগানি মেয়ে, দূরবর্তী ঝরনা থেকে
 আমাকে এনে দিতে জল,
জলপাইফল মুখে তোমার স্মিত হাসি
লোককথার দৈত্যের হাত, আমার কৌমার্যভাঙ্গা গান

তোমাকে আমি ডাকতাম সোফিয়া

আমাকে কি নামে ডাকতে তুমি
কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছি না

তোমার দুটি বিদ্যুৎলতা
 অমৃতফল, দাঁতের অক্ষরমালা

চিহ্ন ধরে ধরে পূর্বজন্মের পাহাড়ে

মেষপালক, আমার কি বাঁশি ছিল,
ময়ূরপাখা, সম্মোহনী গান?

মনে পড়ছে না, মনে পড়ছে না কিছুতেই

 ইনসোমনিয়াক মেমরি, তীব্র ঘুর্নী,
গুরজোয়ানির জলে ইসকানদীর গন্ধ

পূর্বজন্ম থেকে তোমাকে কীভাবে ফেরাব, বল?

৩.
ইভতুংকা

 সেবার তাতার দস্যুরা আমাকে ধরে নিয়ে গেল হাতেপায়ে শেকল, পড়ে থাকলাম অন্ধকারে
 জামার পকেটে ছিল তোমার জন্যে পুতুল

তিন জন্ম পার হল
 এখনো তারা আমার কাছেই আছে

 নেবে?  ঠিক পুতুল নেই
তাদের রং আর গন্ধ আছে
আমি স্মৃতিপথ ধরে ধরে আবার ফিরব পাহাড়ে, পাথরে

আমার ভেড়ার ছানা কোলে  তুমি দাঁড়াবে দূরে
 তোমার মাথার মোরগঝুঁটি জড়িয়ে দেবে তাদের গলায়

পাথর কেটে কেটে আমি গড়ে তুলবো তোমাকে
 ইভতুংকা, পাথরে কীভাবে ফোটবো অস্ফুট শালুকদুটি!

 পুতুল দেবার সময় তোমাকে কি ছোঁয়া যাবে?
 শম্পাগর্ভ মেঘ !

 স্লিপওয়াকার আমি,
আমার চেতনা বৃত্ত ভেঙে ঢুকে যায় জন্মান্তরে

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২০

গ্রিসের নতুন চিন্তাচেতনার কবিতা || রুদ্র কিংশুক || পারভিনা মারভিন-এর কবিতা

গ্রিসের নতুন চিন্তাচেতনার কবিতা
রুদ্র  কিংশুক
পারভিনা মারভিন-এর কবিতা


পারভিনা মারভিন (Parvina Marvin, 1987) জন্ম গ্রিসের আথেন্সে। এবং তাঁর বড় হয়ে ওঠা সাইরস দ্বীপে অবস্থিত এরমৌপোলিশ শহরে। তিনি  প্রথমে ইতিহাস বিষয়ে লেখাপড়া করলেও পরবর্তীকালে টাকিস সিনোপোলুস ফাউন্ডেশনের অধীনে কবিতা নিয়ে লেখাপড়া করেন এবং পরবর্তীকালে কবিতায় হয়ে ওঠে তাঁর জীবন। তাঁর কবিতা, থিয়েটার সংক্রান্ত লেখালেখি এবং শিশুসাহিত্য অনলাইন অনলাইন অনলাইন এবং প্রিন্ট ম্যাগাজিনে বহুল পরিমাণে প্রকাশিত। প্রথমদিকে তাঁর কবিতা সেভাবে গুরুত্ব না পেলেও ধীরে ধীরে পাঠকমহলে পাঠকমহলে তাঁর কবিতা গৃহীত হয়। তার  ব্লগ Teflon-এর মধ্য দিয়ে তিনি বিস্তীর্ণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেন তাঁর কবিতা।

১.
আগাছা

সমস্ত আগাছা তুলে ফেলা আমার উচিত ছিল না না--
 একটা গোড়া আর পড়ে নেই।
এখন, এই বঞ্চনার ঋতুতে,
 দ‍্যাখো কী পড়ে থাকে:
আমাদের খালি মাঠ
আর মাঝখানে আমি, জাহাজডোবা
আরাধ্য জন
জীবন-মৃত্যু কারবারি পাখি,
 রক্তস্নাত উকুন,
 আর চারপাশে ছড়ানো শস্যের স্মৃতি।

২.
পুরোপুরি ব্যার্ত‍্য

 আমাদের সন্তান সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত, অপরাধ নিয়েছিল
আর, গর্ভপাতের কিছুটা আগেই, রহস্যজনক মিসক্যারেজ।
 দ্ব্যর্থহীন আত্মহনন। কি পরিহাস!
 আমাদের অনন্য জীব
এখন অনন্য ছোট্ট কীট
 হাসপাতাল বর্জ্যের ভেতরে।
 আমি দুঃখিত নই।
তোমার  কী ,প্রিয় ?
এসো বুঝে নাও চোখের জল।
 আমি যদি তাকে হাতের উপর নিয়ে তোমাকে দেখাতাম, মুখ ফেরাতে।
 যাইহোক তুমি কী ভেবেছিলে এ নিয়ে?
ঠিক আর একটা ছোট্ট মৃত্যু, মর্যাদাহীন নয়, কারণ
 কোন পারলৌকিক ক্রিয়া ছিল না।

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২০

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || জর্ডানকা বেলেভার কবিতা

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা
রুদ্র কিংশুক
জর্ডানকা বেলেভার কবিতা


জর্ডানকা  বেলেভা (Yordanka Beleva, 1977)-র জন্ম বুলগেরিয়ার তারভেলে। সুমেনের  কন্টানটিন প্রিস্লাভস্কি ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি বুলগেরিয়ান তিনি বুলগেরিয়ান  ফিলোসফি এবং লাইব্রেরী ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ডিগ্রী লাভ করেছেন। লাইব্রেরী এন্ড ইনফরমেশন সায়েন্সে তিনি ডক্টরেট। তার কাব্যগ্রন্থগুলি:
Peignoir and Boats 2002,
The Sea Level of Love 2011,
Her 2012,
 Keys 2015,
Missed Moments 2017,
Keder 2018 ইত‍্যাদি।
 কাব্য গ্রন্থ হার , Her (2012) বেশ কয়েকটি পুরস্কারে পুরস্কৃত। বর্তমানে তিনি সোফিয়ার অধিবাসী।

***
তার আছে বলতে একটা পোশাক বলতে একটা পোশাক
বছরের সব দিনগুলোতে দিনগুলোতে

 ছুটির দিনকে কাজের দিন থেকে আলাদা করতে
 কখনো কখনো সে পরে ব্রুচ

 লিপ ইয়ারে তার বিয়ে
 আর তার পোশাক সংখ্যা বেড়ে হয় দুই

তারপর বছরের প্রতিদিনই
ব্রুচ নিয়ে তার সন্দেহ
***


 তার পোশাক
ভালোবাসার সচিত্র অভিধান

রাতের বেলা সে আসে
তার প্রথম একশো শব্দের খোঁজে
***

 তার তৈরি ডিনার রোমান্টিক
সে যা চায় চায় তার বাইরে আমাদের কিছু দরকার
 আমরা কি রুটি বা মদের খোঁজে যাব

 যাও বার করো যা পরিতক্ত
সে বলে আর ভাবে
 রুটি বা মদের পরিবর্তে
সে একদিন ফিরে আসবে

 ডিনারের জন্য দুটো কাঁচা হৃদপিণ্ড নিয়ে

***

 সে তাকে দেখায়
তার নিঃসঙ্গতার
 নির্বাচিত মুহূর্ত

শেষ এইসবের প্রেমে পড়ে প্রেমে পড়ে
যতক্ষণ না তারা হয়ে ওঠে তার নিজস্ব
***

সে নতুন সেহারজাদে
 হাজার এক নীরবতার

 প্রতিরাতে সে বিছানা সরায়
 তারই নীরবতার দিকে
***

তার দুঃখ একটা বাড়ির মতো
পুরনো উত্তরাধিকার
সমভাবে বন্টিত
অনেকগুলো প্রেমেপড়ার ভেতর

প্রত্যেক হেমন্তে  বাড়িটা হয়ে ওঠে
একজন মানুষ দীর্ঘতর

এলিভেটরের ভেতরে মারা পড়ে বাড়িওয়ালি
 দুটো  ফ্লোরের ভেতরে আটকানো চোখের জলে

রবিবার, ২১ জুন, ২০২০

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || বীণা কালস্ -- এর কবিতা

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা
রুদ্র কিংশুক
বীণা কালস্ -- এর কবিতা


বীণা  কালস্ (Bina Kals, 1967) - জন্ম  বুলগেরিয়ার বুরগাস শহরে। বায়োটেকনোলজি ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে তিনি লেখাপড়া করেছেন। সম্প্রতি তিনি পাঠ নিয়েছেন থিওলজি বা ধর্মতত্ত্বে। পেশায় তিনি কমিউনিটি অর্গানাইজার এবং কালচারাল  লিয়েজোঁ।এ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে তাঁর দুটি কাব্যসংগ্রহ। তারমধ্যে ২০১১- তে প্রকাশিত টঙয়েল্ভস আওয়ার অব সন্তরিনি একটি বিশেষ সাহিত্য পুরস্কারে পুরস্কৃত।

১.
ঈশ্বরকে করা সুপারিশ

ঈশ্বর তুমি যদি আবার আমাদের মধ্যে জন্মাতে
 তুমি কি মনে করো আমরা তোমায় চিনতে পারতাম

শুধু আস্তাবলে হাজির হয় না
কারণ মিডিয়া তা কাভার করবে না

 যদি তুমি ভেবে থাকো আবার আমাদের খাওয়াবে
দু টুকরো মাছ আর পাঁচ টুকরো রুটি
আমাদের ভালো লাগবে কিনা সন্দেহ

তুমি জানো আমরা অনেকটাই  এগিয়েছি
 আমাদের রুটি ও মাছের টোস্ট বেশি পছন্দের
ক‍্যাভিয়ার মশলা নিশ্চিত করে ত্বকের পুনর্জন্ম আর দূর করে ফ্রি র‍্যাডিক‍্যালস

 যদি তুমি ডুবে না থাকো হতাশায়
পাঠাও একটা মাত্র তারাকে , কিন্তু সম্ভব হলে পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ থেকে বহুদূরে
অন্যথায় রাজনৈতিক নৈরাজ্য নেমে আসবে

 আর যদি তোমার অন্য কিছু করার থাকে
 আমাদের চোখ আবার খুলে দিও না ,তাহলেই মেল গিবসন হাজির হবে নতুন সিনেমা নিয়ে
 যাতে তোমাকে মারা হবে  চাবুক এগার মিনিট ধরে
 জানি না আমরা কীভাবে তা   সহ্য করব

২.
আসন্ন সময়ে নামে নামে

 গ্রীষ্মের ঝরনায় আমি আগাম জলে এনেছি
 মালা গেঁথেছি সুগন্ধি ঘাসের
ভেবেছি মেঘ আর দ্বীপগুলোর কথা

পাখির ডানায় এঁকেছি কবিতা
আর প্রসারিত শূন্যতা

টেরস হয়ে গেল এরস
 আসন্ন সময়ের নামে

এক ফোঁটা বৃষ্টি থেকে বৃষ্টিফোঁটা পড়া থেকে
 আমি খুলেছি অদৃষ্ট চিঠি
 তাই সমস্ত ঝিঁঝিঁপোকা আমাকে দেখে
 আর স্মরণ করে আমাকে ঠোটের উপর সূর্যালোক

আমি থাকি ভালোবাসার মুখোমুখি
 আমি বেছে নিই তিনটে জিনিস
যা আমি চাই সর্বদাই ঘটুক ঘটুক

আমার ভেতরে এতো গান আছে।

শনিবার, ২০ জুন, ২০২০

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || লুবোমির টারজিয়েভ- এর কবিতা

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা
রুদ্র কিংশুক
লুবোমির টারজিয়েভ- এর কবিতা


লুবোমির টারজিয়েভ (Lubomir Terziev, 1962)-- এর জন্ম বুলগেরিয়ার ভারনা শহরে। ইউনিভার্সিটি অব সোফিয়া-র ডিপার্টমেন্ট অব ইংলিশ এন্ড আমেরিকান স্টাডিজ-এ  তিনি অধ্যাপনা করেন। এইটিন সেঞ্চুরি এবং রোমান্টিসিজম তাঁর পড়ানোর বিষয়। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র রাজনীতি ও নন্দনতত্ত্বের পারস্পরিক সম্পর্ক। এ পর্যন্ত পপ্রকাশিত হয়েছে টারজিয়েভ-এর তিনটি কাব্যগ্রন্থ  দি আর্ট অফ প্রক্রাস্টিনেশন (২০০৮) মনোলগস অব ওয়াটার (২০১১) এবং করেস্পনডন্সেস (২০১৭)।

১.
জিনিস সম্পর্কিত

ভালো লেখকেরা জিনিস সম্পর্কে সম্পর্কে লেখেন
সাহিত্য-অনুরাগীদের আলাপ থেকে পাওয়া কথা
 প্রকৃতপক্ষে
ভালো এবং মন্দ উভয়েই
 জিনিসের চারপাশ নিয়ে লেখেন
 ঠিক জিনিস নিয়ে নয় নয়

 এই কারণে নয় যে,  জিনিসেরা চূড়ান্ত
এই কারণে নয় যে, জিনিসেরা সমান
এই কারণে নয় যে, জিনিসেরা নিম্নমানের

 এই কারণে নয় যে, জিনিসের হত্যা করে
এই কারণে নয়, যে জিনিসের সুগন্ধ ছাড়ে
এই কারণে নয় যে, জিনিসেরা তিতকুটে

এই কারণে নয় যে, জিনিসদের অর্থ নেই
এই কারণে নয় যে, জিনিসদের তাৎপর্য নেই
এই কারণে নয় যে, জিনিসেরা শেখায় না কিছুই

 এই কারণে নয় যে, জিনিসদের সম্পর্কে আগেই লেখা হয়ে গেছে
এই কারণে নয় যে,জিনিসেরা অন্যের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
এই কারণে নয় যে, জিনিসদের চিবিয়ে ফেলে দেয়া হয়েছে

এই কারণে নয় যে, জিনিসদের অন্য কিছু আছে
 এই কারণে নয় যে যে, অন্য কিছু জিনিসদের থেকে দূরে আছে
এই কারণে নয় যে,  জিনিসেরা কোন কিছুই দেখে না

 কিন্তু এই কারণে যে, জিনিসদের ভেতরেও একটা জিনিস এত বেশি আছে
 যে কেউ জানেনা জিনিসেরা আসলে কী।

২.
ইন্দ্রিয়ের মেটাফিজিকস
(ইওজিনার জন্য )

কখন তা লাগবে লাগবে
অথবা কীভাবে তা লাগবে ?

স্পর্শ :

সেটা কি হবে বেলচার আঘাত
মাথায় যা পরিপূর্ণ চিরন্তন প্রশ্নে
অথবা মৃদু আঘাত
বুকের ওপর, যা বুলবুল শূন্য?

 ভিডিও এবং অডিও :

সেটা কি দেখা যাবে
সুড়ঙ্গের ভেতর উঁচু এবং উজ্জ্বল
 অথবা গ্রেগরীয় গানের অন্ধকারে
 কেবল শ্রবণযোগ্য ?

গন্ধ :

লাইলাক ফুলের পাপড়ি কি ভাসবে
বাতাসের ভেতর  স্বচ্ছন্দে
 অথবা হঠাৎ তার ভেতর থেকে
 সার্বিয়ার সসেজের গন্ধ বার হবে ?

স্বাদ:

 মধু ও সরষের সুন্দর স্বাদ কি
প্লেটের ওপর ভেসে বেড়াবে
অথবা মরিচ কুচি কুচি করবে গলা?

 নিরাময়:

এখনও আবিষকৃত নয়।
 ওষুধ, চুম্বন এবং অন্যান্য জিনিস আছে
যা সাহায্য করে রক্তপ্রবাহ মাথা থেকে পায়ে।
 আছে স্ন্যাকস্, বিয়ার এবং অন্যান্য জিনিস
যা ভরে দেয় পাকস্থলী ক্ষুধানাশী রসে।

 কিন্তু তারা মাথাকে রক্ষা করে না চিরন্তন প্রশ্ন থেকে
 ভরে দেয় না বুকের অন্তস্থল বুলবুলে।

সোমবার, ১৫ জুন, ২০২০

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || সিলভিয়া চোলেভা-র কবিতা

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা
রুদ্র কিংশুক
সিলভিয়া চোলেভা-র কবিতা


সিলভিয়া চলেভা (Sylvia Choleva, 1959)- র জন্ম বুলগেরিয়ার সোফিয়াতে ।কবি, লেখক,  প্রকাশক এবং ঔপন্যাসিক সিলভিয়া চোলেভা এ পর্যন্ত লিখেছেন ছয়টি কবিতার বই।এছাড়া প্রকাশিত হয়েছে তাঁর দুটি প্রবন্ধের বই, একটি উপন্যাস, একটি ছোট গল্পের বই,তিনটি নাটক এবং একটি শর্টফিল্মের চিত্রনাট্য।পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে চোলেভার কবিতা। কবিতা কর্মের জন্য তিনি তিনি অনেকবার জাতীয় স্তরে পুরস্কার লাভ করেছেন।বর্তমানে তিনি বুলগেরিয়ার ন্যাশনাল রেডিওতে কর্মরত। এছাড়া বুলগেরিয়া ন্যাশনাল টিভিতেও তিনি তিনি ন্যাশনাল টিভিতেও তিনি নানান রকমের অনুষ্ঠান আয়োজন ও সঞ্চালনা করে সঞ্চালনা করে থাকেন। তিনি বুলগেরিয়ার বিখ্যাত সংবাদপত্র Literaturen Vestnik--এর সম্পাদক।


১.
আদম নির্মাণ
(মাইকেল এঞ্জেলোকে)

 আর এখন কে
শিল্পী ছাড়া
হাত তুলে আমাদের সান্ত্বনা দেবে
যখন ঈশ্বরের অনুশোচনা ছাপিয়ে যায়
 সৃষ্টির আনন্দ

আর সে ছাড়া
 কার আছে শক্তি
আঁকার সাহস
এতগুলো অর্থস্তর সহ
দুটো পুরুষ হাত আর পরমকে
যাদের মাঝখানে
দূরত্ব অতি তুচ্ছ

আর যেমন দৃশ্যটির
 সমস্ত ভাস্কর্যগত মহত্ত্বে
তার শারীরিকতা
নিশ্চয়ই শক্তি পাবে

২.

কবিতা ১

বিকেল বেলায়
 পার্কে ঢুকে পড়ার আগে
আমি একটা ছোট রাস্তা ধরে হাঁটি
আর নৈঃশব্দে
হঠাৎ একটা টেলিফোন বেজে ওঠে
বাতাস দীর্ণ করে
জগতের দিকে খোলা জানালা থেকে
দোতলায়
কিন্তু ভেতরে কেউ নেই
 উত্তর দেবার
একাকী বেজে যাওয়া
তবু উজ্জ্বল
বসন্ত কাছেই
আমি আর কারো জন্য অপেক্ষা করছি না

৩.
কবিতা ২

সেদিন সমুদ্রতটে যেতে আমাদের দেরি হল

ছাতাগুলো পৌঁছেছিল সমুদ্রে
সমুদ্র পৌঁছেছিল বালিতে
 মানুষের বদলছ ছিল পাখিরা
আরো অনেক সূর্যালোক
আরো সমুদ্র
আরো রাত আরো সময়
তোমার কাছে পুনরাবৃত্তির জন্য
 সমুদ্রবেলায় আমাদের পৌঁছাতে দেরি হল
আজ ও আগামীকাল আমরা জেগে উঠবো
 এখানে
সমুদ্রে
আর সূর্যালোকে

৪.
কবিতা ৩

আমি ভেবেছিলাম ভালোবাসা সম্ভব
কিন্তু তা বাতাসে বৃষ্টির গন্ধের মতো মতো
এবং  অনুভব করি  তাকে অন্য কোথাও
 কিন্তু এখানে নয়


৫.
কবিতা ৪

হোটেল রুম

 ঘুমিয়ে পড়া
 জেগে ওঠা

দুইয়ের মাঝে গলে যাচ্ছে সমুদ্র
তীব্র জোয়ারে
 এবং ভাটায়
 ঝিনুক ও কাঁকড়ায়
 জলের দ্বারা পোশাক-খোলা
আবার আবৃত জলের দ্বারা
তাকে ছাড়া তারা শুকিয়ে ওঠে
তারা ডুবে যায়
৬.
কবিতা ৫
আমি দেখতে চাই না
তার প্রস্থান
 এবং কীভাবে বাসের টায়ার
 ছেড়ে যায় বিরাট কাদামাখা পথ
যেখানে আমি হারিয়ে যেতে পারতাম
 যে পথে নৌকো ডোবে
পাইনছালের খেলনা
ভেসে যায় স্রোতে
কোথাও ব্রিজের তলায়

সেখানে জল লুকায়
অথবা খুব বেশি বেগ সঞ্চয় করে


ইচ্ছের বছর

বৃষ্টির বাইরে আমি আড়াআড়ি বসি
আর অসাড় হয়ে উঠি
সিগারেটের ধোঁয়া হারিয়ে যায়
সামনের পাহাড়ের দিকে
যা গলে যায়
বৃষ্টি বাষ্পের কুয়াশায়
 যার থেকে মনে হয়
শূন্যতা থেকে প্রত্যাশা জেগে ওঠে
 চড়াই আর সোয়ালো পাখির বেগে
কালো আর সহজ-কথা বলা
 কমা, ড‍্যাস, বিন্দুগুলো
 নিশ্চল পৃথিবীতে
বাক‍্য আর মেঘ এগিয়ে চলে
 দিনটাকে মনে হয় যেন
আদর্শ
আমি জ্বালাই একটা নতুন সিগারেট
 পাহাড়গুলো কেবল সীমারেখা
কেবল ধোঁয়া

মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২০

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || কাতেরিনা স্টোইকোভা- ক্লেমার-এর কবিতা

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা
রুদ্র কিংশুক
কাতেরিনা স্টোইকোভা- ক্লেমার-এর কবিতা


কাতেরিনা স্টোইকোভা-ক্লেমার  (Katerina Stoykova-Klemer, 1971)- এর জন্ম বুলগেরিয়ার বুরগাস অঞ্চলে। সেখানেই তাঁর বেড়ে ওঠা  ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী হন এবং সেখানে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে একটি হাইটেক কোম্পানিতে প্রায় এক  দশক কাজ করেন । ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি স্প‍্যাল্ডিং ইউনিভার্সিটি থেকে ক্রিয়েটিভ রাইটিং-এ  স্নাতক হন। কাতেরিনা বুলগেরিয়ান ও ইংরেজি--- দুই ভাষাতেই মৌলিক কবিতা ও প্রবন্ধ  লেখেন। তিনি দুই ভাষার মধ্যে অবিরত অনুবাদ ও সাংস্কৃতিক সংলাপ চালিয়ে যান। তাঁর কবিতা  ইউরোপ, আমেরিকা ও বুলগেরিয়ার বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও দৈনিকে প্রকাশিত। বুলগেরিয়ান কবিতাকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দেবার কাজে কাতেরিনা অক্লান্ত। এ বিষয়ে তাঁর অবদান অগ্রনীর এবং প্রশংসাযোগ্য।


খাবার

টমাটো আনে ভালোবাসা।
আলুতে বাড়ে চেতনা।

পেঁয়াজ থেকে উৎসারিত করুণা।
তুঁত বদলের অনুপ্রেরণা।

 ভুট্টা মায়ের ঔদার্য।
 আর্টিচোক ভদ্র যোদ্ধা।

 তুমি প্রতিবেশীকে পারো না ভালবাসতে
 যদি না খাও শাক-সবজি।

এক কাপ ফল‍রসেশর করুণায় তুমি
থামাতে পারো বিশ্বযুদ্ধ ।


সংলাপ কবিতা
১.
 আমি তোমার সঙ্গ উপভোগ করি
আশ্রয়দাতা হাসে।
তোমাকে ছাড়া জীবন
কল্পনাতীত, বলে পরাশ্রয়ী।

২.
 কতদিন ধরে তুমি এভাবে আছো?
 বাক্স খুলে আমি বলি কিসমিস শব্দটিকে।
 বাঁচাও! বাঁচাও ! সে চেঁচায় আর আমি কাঁদতে চেষ্টা করি ।

৩.
আমাকে পরো  জীবন-বাঁচোয়া শব্দটি বলে
 যখন সে আমার কাছাকাছি ভাসে।
আমাকে ভাবো
যেন একটা অঙ্গুরীয় ।

৪.
তাহলে কী শিখলে তুমি?
 কৌতূহল বিড়ালকে বলে, তারপর
লাঠি দিয়ে খোঁচায় তার কঙ্কাল।


 আমি তোমাকে এঁকেছি তরুণতর,
  আমি বলেছি ন্যাকা শব্দটি ।
আমি তোমাকে এঁকেছি সুখীতর ,
সে উত্তর দিয়েছে ।

৬.
আমি আজ খেয়েছি সতেরটি আপেল , বাঁদরের অহংকার।
 চমৎকার, খুশিতে ডগমগ মৌলিক সংখ্যা, হাততালি দিল তিনবার ৷

অসম্মতি
#
বাড়তি টায়ার
সর্বদাই সন্ত্রস্ত
 ভেবে যে একদিন
 তার পালা আসবে
বহন করতে হবে
 গাড়ির ভার
যাতে
 সে এতোকাল চেপে এসেছে
#
 একবার
একটু পিছিয়ে
 সে বিড়বিড় করে তার ভয়
 উইন্ডশিল্ড ওয়াইপারদের কাছে
কিন্তু নীরব বিচক্ষণতায়
তারা কেবল মাথা নাড়ে
#
আর তাই
 সে ভয়ে লুকায়
 ঢাকনার নিচে
অন্ধকারে নিচে শুয়ে থাকে
 আর বৃষ্টির দিনে সে থাকে
 বিশেষত
চুপচাপ
#

অনেক
সময় বাড়তি টায়ার
গণনা করে তার সৌভাগ্য
 এক দুই তিন চার
এক দুই তিন চার
#
 স্বীকার করে
প্রকৃতপক্ষে
যদি না সর্বদা ভয়
তাড়া করে ফিরত
 তবে বাড়তি হয়ে থাকা
মোটেও খারাপ কাজ নয়
#

সত্যিই
একটু ম‍্যাড়মেড়ে
 কিন্তু চালু টায়ার হওয়া
প্রতিদিনের ব্যবহারে
 মনে হয় সত্যি
ভয়ের
#
ইতিমধ্যে
উদ্বেগের গভীর খাত
আঁকাবাঁকা জড়িয়ে
তার কপাল
 পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে
#
মরিয়া
সে পড়ে
সমস্ত পাঠাগারের বই
 সেখুঁজে পায়
ভুলে-যাওয়াকে তোরঙ্গে
শোনে
 পিছনের সিটে বসা পন্ডিত যাত্রীদের
খোশগল্প
রেডিও টক
বিখ্যাত মনস্তত্ত্ববিদদের
বুঝতে চেষ্টা করে
কোথা থেকে তার অসম্মতি
 উঠে আসে
#
বিশ্বাস করো আমাকে
 সে গভীর লজ্জিত
নিজেকে অযোগ্য অনুভব করে
 ওই চাকাদের সঙ্গে তুলনায়
যারা নিশ্চিত করে অগ্রগতি
টানে ভারী বোঝা
ঘোরাই চক্রকার  মুখ
হাইওয়ে
এবং ময়লা ভরা
রাস্তায়
#

কত
সে ঈর্ষা করে তাদের
 যেভাবে তারা বহন করে
 নিজেদের 
কত সে ইচ্ছে করে ইচ্ছে করে
তাদের মত হয়ে উঠতে
 এতটা আত্মবিশ্বাসী
আর কেতা দুরস্ত


সোমবার, ৮ জুন, ২০২০

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || পেটজা হাইনরিখ-এর কবিতা

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা
রুদ্র কিংশুক
পেটজা হাইনরিখ-এর কবিতা


পেটজা হাইনরিখ(Petja Heinrich, 1973)
কবি, ব্লগার এবং সাইক্লিস্ট। পাখি তার ভালোবাসার আরেকটা দিক। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা পাঁচ। No Poezia  (না কবিতা) নামের একটি প্রখ্যাত নতুন কবিতা ম্যাগাজিনের তিনি প্রধান সম্পাদক।  তাঁর কবিতা নিরীক্ষাপ্রবণ, সংবেদনশীল এবং দার্শনিকতা মন্ডিত । তার কবিতার ভেতরে আছে বহু চলাচল এবং মুক্ত পরিসর। সাহিত্যকর্মের জন্য তিনি একাধিকবার পুরস্কৃত হয়েছেন ।


১. কীসের জন্য সমুদ্র

যদি কেউ না থাকে

 তাকে নিয়ে ভাববার
 তার লবণ লবণ চেখে দেখার এবং ফেরাতে
 বাতিল  তিমিদের

 সহজে আক্রান্ত এবং ছোটো হতে

একটা ঝড়ো বাতাস  উড়িয়ে নিতে পারে
 একটা  ঢেউ তাকে ঢেকে ফেলতে পারে সম্পূর্ন
 আর ভাসিয়ে নিয়ে যায়

তবে কী জন্য এসব
যদি কেউ না থাকে কাছে

তাহলে সমুদ্র ঝুলে থাকবে তোমার ছোট্ট আঙুলে

২. আমি চিনতে শিখেছি

 সবজে মাথা হাঁসেদের থেকে সারসের  উড়ান
 উঁচু আকাশে যা সহজ কাজ নয়
 এই দক্ষতায় আমি যা হোক করে জীবন চালাবো


৩. অবস্থার ব্যাখ্যা না হওয়া  পর্যন্ত স্থগিত

 আমাকে স্বীকার করতেই হবে
 তোমাকে ভাবতে ভাবতে আমি ক্লান্ত
যখন আমি কেনাকাটা করি,  বাসের জন্য অপেক্ষা
 যখন আমি পড়ি অথবা ঘুমিয়ে পড়ি
অথবা মাঠে হাঁটি
 তখন প্রতিটি পাখি
তোমার দৃষ্টিতে আমাকে দেখে অন্ধ অনুরাগে
 আর আমাকে পাঠায় ভেদযোগ্য সংকেতগুলো

 ভালো
আমি মনে মনে বলি
যদি সে বাঁয়ে ওড়ে
এটা সত্যি
 আর সেটাই করে
 যদি আগুনপোকা আবার লুকায়
 আগস্টে গত বছরের ঝোপে
 তার মানে তুমি আমায় ভালোবাসো

 আর যেহেতু এখন এপ্রিল
আমি ভেবে চলি কর্তব্য হিসাবে
 কমপক্ষে যতদিন না গ্রীষ্ম ফুরিয়ে আসে

রবিবার, ৭ জুন, ২০২০

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || ভ্যালেন্টিন ডিসেভ-এর কবিতা

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা
 রুদ্র কিংশুক 
ভ্যালেন্টিন ডিসেভ-এর কবিতা


ভ্যালেন্টিনা ডিসেভ (Valentin Dishev, 1962)-- এর জন্ম বুলগেরিয়ার ব্লাগোয়েভগার্দে। সোফিয়ার সেন্ট ক্লিমেন্ট ক্লিমেন্ট ওহরিডস্কি ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি দর্শনে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। কবিতা লেখার পাশাপাশি তিনি একটি প্রকাশনা সংস্থার কর্ণধার। ক্রসওয়ার্ড এবং ডিকটাম নামের দুটি জার্নালের তিনি প্রধান সম্পাদক। বুলগেরিয়ার ন্যাশনাল রেডিও প্রোগ্রামে কবিতা ও সাহিত্য বিষয়ে তিনি অনেক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা তিনি অনেক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছেন।


রিপোর্ট

 নৈশব্দ‍্যের
দাগের ওপর :
১.
একটা প্রজাপতি গুণল
আমার আঙ্গুলগ্রন্থি ।
ঘোষণা করল সাদা
অপ্রয়োজনীয়
২.
হাওয়া বর্ণনা দিল
হ্রদের কাছে
আমার চোখের রং।
 লাল ---সে বলল ---একটু বেশিমাত্রার।
৩.
একটা গাছ
 বজ্রাহত
সবুজে আঁকল আমার অবিশ্বাস।
তার ফিসফিসানি-- বল্কল শুধু ঢাকনা নয়।

আমার নীরবতা
ছিল না।


কবিতা ১

আমার আগামীকাল
 সেলাইকরা ছুঁচ
 আমাকে ভয় দেখায় না

 সুতোটা
সুতোটা লম্বা
এবং খসখসে

কবিতা 2

আমি একজন দেবদূতকে
 চোখ বুজে কাঁদতে দেখেছি
 এমনকি তারও জন্য
 ভয় ছিল

ভেতরের ব্যাপার


বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || নাদিয়া রাদুলোভা-র কবিত

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা
রুদ্র কিংশুক
নাদিয়া রাদুলোভা-র কবিতা

নাদিয়া রাদুলোভা(Nadya Radulova,1975)-র জন্ম বুলগেরিয়ায়। সোফিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে থেকে তিমি স্লাভিক স্টাডিজে স্নাতক।  বুদাপেস্টের সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তুলনামূলক সাহিত্যে তিনি পিএইচডি ডিগ্রী পেয়েছেন।তাঁর আগ্রহের বিষয় কম্পারেটিভ লিটারেচার, জেন্ডার স্টাডিজ এবং ট্রান্সলেশন। তিনি একটি বিশিষ্ট মাসিক পত্রিকার সম্পাদক।কবিতা এবং কথাসাহিত্যের অনুবাদক হিসেবেও তিনি যথেষ্ট সম্মান অর্জন করেছেন । এ পর্যন্ত তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা চারের অধিক। তাঁর কবিতা ইংরেজি, রুশ  চেক, গ্রীক এবং তুরকিশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তাঁর কবিতায় প্রতিদিনের জীবন-পরিস্থিতির সঙ্গে মিশেছে গভীর অন্তর্দৃষ্টি।

 ১. কী পড়ে থাকে

 যদি বসন্ত থেকে প্রাথমিক বসন্ত বিয়োগ করি, পড়ে থাকে তলানি,
নীলফুল, শ্বাসনালির উত্তোলিত হালকা ইনফেকশন,
ভেড়ার ছানা, হাড্ডিসার,--- এখন
ক্রিস্টিনা রোসেট্টি আর উইলিয়াম ব্লেক আকাশে তাদের লোম আঁচড়াক---
 তারপর দ্রুত, ফোলানো সবুজ, এপ্রিলের
 বিরাট মরুভূমি
প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত
রক্তে আক্রমণ, সূর্য ,
অথবা সাধারণ আক্রমণ;  কী পড়ে থাকে যদি

 বাড়ি থেকে বিয়োগ করি ছেলেপুলে অথবা তাদের ভাবনা ,
চিপসে বালিশ, ফল আর তরিতরকারি
কোণের বড় ঝুড়িতে, ঘরকোণ,  সমস্ত কোণ
 চমৎকার রুপোলি মাকড়সাজাল---সময়ের কাঁটা চামচ,
কীভাবে আমাদের ঘেরে আবোলতাবোলে, কাটাকুটি করে
ছোট টুকরে --- আবার খাবারের কোমল
 অবশেষ, অভিসিঞ্চন,
প্রজনন ঋতু, কী পড়ে থাকে

যদি আমরা  বিয়োগ করি গলায় আটকানো মাছের কাঁটা
 প্রিয়জনের গলা থেকে, পেটুক বেড়াল দেখো কীভাবে  চাঁদকে আটকায় উঠানে, হারায় বেড়ালত্ব,
 এখন সে বেড়াল নয়, হতাশার চাকা
প্রজ্জ্বলিত রেশমী কাপড়, অন্ধকারের মাঝে ছুঁড়ে ফেলা,
তারপর মাঝখান নিভে যায়
আর মুহূর্তের জন্য পড়ে থাকে অন্ধকার কিন্তু অন্ধকার থেকে
 কিছুই বাদ দেয়া যায় না
অথবা পড়ে থাকে না কিছুই।

২. ছোটো রেমব্রান্ত

আয়নায়
একটা পুরনো
 বহু উপেক্ষিত
 কাঠ কয়লার উনুন
এবং ডান দিকে একটা সিংক।

গরম প্লেটের ওপর
 তিনটে আলু
দুটো বড় একটা অপেক্ষাকৃত ছোটো।

অনেক বছর আগে
 ট‍্যাপে গরম জল
পড়তো।

আমার মায়ের হাত
বদলে গিয়েছিল বাদামী রঙ
আর পরিচ্ছন্ন

তৈলাক্ত খাবারের ঠান্ডার ভেতর।

সোমবার, ১ জুন, ২০২০

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || ইভান লান্ডজেভ-এর কবিতা

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা 

রুদ্র কিংশুক 
ইভান লান্ডজেভ-এর কবিতা


ইভান লান্ডজেভ (Ivan Landzhev, 1986) বুলগেরিয়ার কবি, চিত্রনাট্য-লেখক এবং প্রাবন্ধিক। ইউনিভার্সিটি অব সোফিয়া থেকে তিনি দর্শনে স্নাতক এবং সমকালীন সংস্কৃতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ।তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ "ব্লেম ইট অন ববি ফিশার" জাতীয় কবিতা পুরস্কারে" জাতীয় কবিতা পুরস্কারে ভূষিত।


১. লেখক উল্লেখ

 আমার দাবার শিক্ষক
 আমাকে বলতেন:
তোমার নিজের খেলা খেলো।

 আমার বক্সিং কোচ
আমাকে সর্বদাই বলতেন:
বাঁয়ে -বাঁয়ে-ডাইনে-- তারপর আপারকাট
আর সে কুপোকাত!

 মধ্যযুগ পাঠছর অধ্যাপক
আমাকে মনে করেন যে,
 আমি সে যে আছে।

তিনজনেই সঠিক
 দিনের তিনটি ভিন্ন সময়ে

২. যা ঘটেছে তার আগে নয়

 ছয় বছরের পুরনো
 বাড়ির পিছনে
আমি নিজেই পেলাম একটা পাথর

আর সেটা দিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবেই
 আমি ভেঙে ফেললাম মায়ের মেডেলগুলো
 যৌবনের সমস্ত খেতাবজয়

কয়েকটা জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে কুটিকুটি কুটিকুটি কুটিকুটি
স্ফুলিঙ্গ বার হচ্ছিল  পৈত্রিক
অর্জনগুলো থেকে

না, আমি বিদ্রোহী নই
আমি স্বর্ণ-খনক
 আমি ঠিক খুঁড়ছিলাম
 গৌরবোজ্জ্বল অতীত

রবিবার, ৩১ মে, ২০২০

ছোটোগল্প || রুদ্র কিংশুক || মীনমঙ্গল

ছোটোগল্প

 রুদ্র কিংশুক

 মীনমঙ্গল


সতু বলেই সবাই তাকে ডাকে। তার ভালো নাম সত্যপ্রসাদ। সমুদ্রগড়ের কাছে একটা গ্রাম। রামেশ্বরপুর। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে খড়িনদী।অন্য পাশে রয়েছে ছোট্ট আর একটা নদী । গুরজোয়ানি। অদ্ভুত নাম।নান্দাই গাবতলার কাছে গুরজোয়ানি মিলেছে খড়িতে।তারপর দুজনে হাত ধরাধরি করে ঝাঁপ দিয়েছে ভাগীরথী প্রবাহে।খড়িনদীর পাড়েই সতুর  বাঁশকাবারি ঘর ।নদীর জলো হাওয়া সবসময় ঘরে ঢুকছে।সতু মস্ত বড়ো মেছুয়া। রাতদিন মাছ-ধরাই তার কাজ, তার নেশা।সামান্য একটু জমি আছে। সেটা কোনরকমে চাষাবাদ করে। আর বাকী সময় সে মাছ ধরে বেড়ায় খাল-বিল-নদীতে।কখনো জালে, কখনো ছিপে, কখনো বর্শা দিয়ে। মাছকে কেন্দ্র করেই তার জীবন ঘুরপাক খায়। সে সারারাত মাছেদের স্বপ্ন দেখে। গ্রামের লোক বলে সাতুর গায়ে অদ্ভুত একটা গন্ধ আছে, যেটা মাছেদের খুব পছন্দ । সতু জলের ধারে দাঁড়ালে নাকি মাছেদের শরীরমনে একটা অস্থির ভাব দেখা যায়। তারা নাকি সতুকে ধরা দেবার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠে । অনেকে বলে সতুর শরীরে একটা ব্রহ্মদৈত্য আছে, যার ইচ্ছেতেই এসব হয়। এইজন্য সতুর কাছ থেকে অনেকে দূরে থাকে। অদ্ভুত চেহারা তার। কালো কুচকুচে শরীর। বিরাটাকার। মাথার ঝাঁকড়া চুল। যত্নহীন।চোখগুলো বড়ো বড়ো। লাল ।সদ‍্য রং-ধরা করমচা।

আজ সন্ধ্যেবেলা থেকেই প্রবল বৃষ্টি আরম্ভ হয়েছে‌। বৃষ্টির এই গানে সব মানুষের ঘুম পায়। কিন্তু এই বৃষ্টিগান সতুকে পাগল করে তোলে,  টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় ঘরের বাইরে। সতু তার ছাতা-ভাঙ্গা শিক দিয়ে বানানো বর্শা নিয়ে বেরুচ্ছে ।
তার বউ বলল --- আজ আর বেরুতে হবে না। আমার শরীরটা ভাল নেই ।
সতুর স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। সতু কোনো কথা কানে নিল না ।আমি এখনই আসছি---  বলেই বেরিয়ে গেল। গ্রামের মোড়লদের পুকুরটায় প্রচুর শোল-মাগুর মাছ হয়েছে। বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতে মাছেদের শরীরে নাচ জেগে উঠবে। রাস্তার জল যেখান দিয়ে পুকুরে নামছে, সেখানকার জলরেখা ধরে এই মাছেরা উঠে আসবে ডাঙ্গায়। যদি উঠে না-ও আসে, তারা তীর সংলগ্ন দলদামে ঘোরাঘুরি করবে। বর্শার ঘায়ে এইসব মাছেদের গেঁথে তোলা কী এমন কঠিন কাজ। তালপাতার পেখে মাথায় বর্শা হাতে সতু পুকুরপাড়ে উপস্থিত।পুকুরপাড়ে তালগাছেরা ভিজছে। মাঝে মাঝে বিদ্যুৎচমকের আলোয় গাথেদের মাথা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জল নামছে যে জায়গাটায়, সেখানটায় কী একটা লাফালো। সতু কালবিলম্ব না করে বর্শাটা ছুড়ে মারলো আর তা তোলা মাত্র সে অন্ধকারে বুঝতে পারলো একটা কেজিখানেক মাছ। বিদ্যুৎ চমকালো বুঝল একটা মাগুরমাছ ।মাছটাকে বর্শামুক্ত করে সে রাখলো বাঁহাতে ধরা ঝোলায়। তার পর সে পা বাড়ালো বাড়ির দিকে। বাড়ি এসে হ্যারিকেনের আলোর কাছে সতু মাছটাকে ছুড়ে দিল‌। সতুর বউ দেখল মাছটার পেটের নিচ দিয়ে রক্তধারা বার হচ্ছে তখনও । হাতে নিয়ে সে দেখল মাছটার পেটভর্তি ডিম। আর কিছুদিন পরেই মাছটা  ডিম ছাড়তো। সতুর বউয়ের শরীরটা ঝাঁকুনি দিল।  পেটের ভেতর তার একটা প্রাণ লাফাচ্ছে। চোখ বুঝে সে দেখতে পেল অসংখ্য মৎস্যসন্তান জলের ভেতর খেলছে। তার শরীরটা ঝাঁকুনি দিল। পেটের ভেতর তারও একটা প্রাণ চঞ্চল।  মাছটা তখনও হ্যারিকেনের আলোয় লাফাচ্ছে।
 সে বলল---তোমার কাছে একটা অনুরোধ‌ রাখবে ?
 সতু বললো--- কী?
 বউ বলল---মাছটার  পেটভর্তি ডিম। তুমি ওকে ছেড়ে দিয়ে এসো। ও ঠিক বেঁচে যাবে ।
সতু বলল--- কী বলছো! এত কষ্ট করে ধরলাম। আগেও তো এমন ডিমওয়ালা মাছ কত  ধরেছি ।
সতুর বউয়ের চোখে জলে চিকচিক করছে।
 সে বলল --- আগে কি আর এ মন আমার ছিল?

সতু মাছটার মাথা ধরে আবার বাড়ির বাইরে গেল। বাড়ির পাশে খড়িনদী বর্ষার জলে এখন গান ছলছল ।সেই প্রবহমান জলে মাছটাকে ম
ছেড়ে দিয়ে সতু বলল ---- যাও অসংখ্য মীনসন্তানের জন্ম দাও । আমি কি আর এতকিছু বুঝি? আমাকে কিন্তুক তুমি ক্ষমা করে দিও।

 একটা পেঁচা বর্ষারাতের জলভরা মেঘের ভেতরে ভাসিয়ে দিল তার গান।

শনিবার, ৩০ মে, ২০২০

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || মায় বান ফান-- এর কবিতা

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক 
মায় বান ফান-- এর কবিতা

মায় বান ফান (Mai Van Khan, 1955)-- এর জন্ম উত্তর ভিয়েতনামের নিন-বিন প্রদেশে।১৯৭৪--এ তিনি
প্রথম সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৮৩-তে তিনি হানয় কলেজ অফ ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ -এর ডিপার্টমেন্ট অফ লিঙ্গুইস্টিকস অন্ড রাশিয়ান কালচার- এ পড়াশোনা করেন। তাঁর কবিতায় জাপানি হাইকু প্রভাব রয়েছে।



১. সূর্যের দিকে

উষ্ণ
এবং তরুণ পাতা
 খুব কাছেই

২. ঝড়ের সময়

একটা ফোয়ারা
মুখোমুখি
পাহাড়ের সাথে

৩ মাটি

আঁকড়ে ধরে শিকড়
পাতাগুলো আকাশ তাদের মুখে
রসধারা ওঠে আর নামে

৪.একটা সিম বীজ
কাঁচের শিশিতে
খোলা জানালার কাছে
সন্ধ্যাতারা

৫.বৃষ্টি

ভাগ করে দেয় প্রতিটি ফোঁটা
সমানভাবে
আমি এবং আমার ঘোড়ার ভেতর

৬. মোষের বাছুর

দুধ খেয়ে তৃপ্ত
তাকায় সবুজ ঘাস
আর মায়ের দিকে

৭. নতুন ঋতু

পাতার তাঁবু
 শিশির জমে
গাছটি ঘামে

৮.  শীতের প্রথম

পাখি
ডাকে
বাসন্তী গানে

৯.  নতুন রোপিত গাছ

জল দেয়া হয়
সিঞ্চিত হয়
আশা নিয়ে

১০. সূর্যালোক চিহ্ন

সোনালী উজ্জ্বলতা
প্রতিটি কিরণ
আমার হাতের উপর

১১.দক্ষিণা বাতাস

বইছে
যত্ন নিতে
প্রতিটি ঘাসপাতার

শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০

নিমগাছ || রুদ্র কিংশুক || গল্প

ছোটোদের গল্প :

নিমগাছ
রুদ্র কিংশুক

বাড়ি ছেড়ে যত দূরেই যাওয়া হোক না কেন বাড়ি আমাদের ছেড়ে যায় না । বহুকাল হল লেখাপড়া আর চাকরির কারণে সমুদ্রগড়ের কাছে আমাদের সেই গ্রাম আর আমাদের মাটির বাড়িটা ছেড়ে নরেন্দ্রপুর, কলকাতা, শান্তিনিকেতন, আরামবাগ --- কত জায়গাতেই আমি থাকলাম। কিন্তু বুকের মধ্যে আমার ঠাকুরদার তৈরি করা সেই মাটির বাড়িটা আজও জেগে আছে। তার স্মৃতি আর গল্পগুলো আমার বুকের ভেতরে এক টুকরো কাপড়ে বাঁধা লাউ-কুমড়োর বীজের মতো তুলে রাখা আছে।  হয়তো কোন শরতের সকালে যখন শিউলি ঝরবে,  তারা হঠাৎ আমার বুকের মাটিতে  ছড়িয়ে পড়বে , ছবির মতো ফুটে উঠবে । কখনও ঝমঝম বর্ষার রাতে তারা আমাকে সবাই বলে:  ফিরে আয়।

তো সেই বাড়িটার একটা গল্প বলি শোনো। বাড়ির ঈশান কোনে একটা বড় নিমগাছ ছিল । সেই নিম গাছের পাশে যে ঘরটা সেই ঘরটাতেই আমি রাত্রে ঘুমোতাম। প্রতিদিন  রাত তিনটের সময় একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটত ওই গাছে ।গ্রীষ্ম বর্ষা শীত--- সব ঋতুতেই প্রতিদিন  অই একই সময়ে একটা ঝড় কোথা থেকে এসে উপস্থিত হত গাছের ওপর। প্রচন্ড জোরে দূলে উঠতো ডালপালা।কিছুক্ষন প‍র আবার সবকিছু শান্ত হয়ে যেত। প্রতিদিন আমি বাতাসের শব্দে জেগে উঠতাম।

কথাটা গ্রামের অনেকেই জেনে গেল। সবাই বলাবলি করত কোন নিশি হয়তো হাওয়ার  রূপ ধরে প্রতিদিন আসে ওই নিমগাছে। আমাদের গ্রামের  জাহ্নবী চক্রবর্তী । গ্রামের লোক তাঁকে পণ্ডিতমশাই বলতো। তিনি অনেক ভেবে চিন্তে  বিধান দিলেন। ঈশান কোণে রয়েছে কোন প্রেতাত্মা ।ভোরবেলার ওই সময় ঝড় হয়ে আসে আবার চলে যায় ।ঝড় তুলে সে নিজের অস্তিত্ব জানান দেয় ।তাঁর পরামর্শে বাবা একদিন লোকজন ডেকে এনে নিমগাছটা কেটে ফেলল। বাড়ির ঈশানকোনটা একেবারে খাঁ খাঁ করতে লাগলো। আমার খুব মন খারাপ হয়ে গেল ।কিন্তু আশ্চর্য এই যে সেদিন থেকে আর কোনদিন ওই সময়ে ওঠা সেই দমকা বাতাস আর এলো না।

 এখন আমাদের সেই পুরনো বাড়িটা কত বদলে গেছে! এখানে ওখানে একতলা দোতলা তিন-চারটে বাড়ি। সেই ফাঁকা মুথাঘাসে ঢাকা হাঁস-ডাকা উঠানটাও আর নেই ।  আমার নাভিমূল পোঁতা আছে  এই উঠানে। নাভিমূল কী জানো তো তোমারা? সেই নাড়ি- সুতো  যেটা দিয়ে আমি মাতৃগর্ভে মায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। মাটির পাত্রে রাখা নাভিমূল- রাখা উঠানের ওই জায়গাটা আমার বড়ো ভালো লাগে। মাঝে মাঝে মনে হয় ওই মাটি থেকে কোন একদিন একদিন আমি একটা গন্ধরাজ লেবু গাছে জন্মাবো। পুরনো বাড়িটার ঈশান কোণে মাটির ঘরটা কিন্তু এখনো আছে। কতদিন পর আজ চৈত্র মাসের নীলষষ্ঠী আর গাজনে গ্রামে ফিরে এসেছি। ওই ঘরটার অবস্থা জরাজীর্ণ । তবুও  সবার অলক্ষ্যে বহুকাল বন্ধ ঘরে একবার ঢুকলাম। একটা অদ্ভুত গন্ধে আমার বুক ভরে উঠলো ।মনে পড়ে গেল সেই নিশি-পাওয়া নিমগাছটার কথা । ইথারে তার পাকা হলুদ ফলগুলো ফুলের মতো ফুটে আছে।

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০

নিশিডাক || রুদ্র কিংশুক || ছোটদের গল্প

ছোটদের গল্প:

 নিশিডাক 
রুদ্র কিংশুক 


বাড়ির যে কোনো পুজোয় ফুল পাড়ার দায়িত্ব বুলুর।  কেউ তাকে এ দায়িত্ব দেয়নি । সে নিজের থেকেই এ দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছে। গ্রামের কোন বাগানে কী ফুলগাছ আছে, সে তার নখদর্পণে।গ্রামের অন্য ছেলের আগে গিয়ে ফুল পেড়ে ফেলতে হবে --- এই ভাবনায় পুজোর আগের দিন তার চোখের পাতা বুজতেই চায়না।

কাল বাড়িতে পৌষলক্ষ্মীর পুজো। ফুলের সাজি মাথার কাছে রেখে বুলু ঘুমাতে গেল। সকাল সকাল উঠে পশ্চিম পাড়ার পুকুরের পাড়ে ধানুপিসিদের বাগানে ফুল পাড়তে হবে। এ বাগানে কত রকমের যে ফুলগাছ। বুলু ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখল ধানুপিসিদের । বাগানের গাছে গাছে ফুলগুলো তাকে ডাকছে। হঠাৎ বুলুর ঘুম ভাঙলো। ফুলের  সাজি নিয়ে বুলুর দৌড়। রাস্তাঘাট আলো থৈ থৈ। সকাল তো হয়ে গেছে। কিন্তু কারো ঘুম ভাঙ্গেনি আজ । ভালোই হয়েছে। সব ফুল সে একাই তুলবে ।
বাগানে গিয়ে বুলু দেখে কেউ এখনো আসতে পারেনি । বাগানে সে চাঁপাগাছের ডাল নুইয়ে ফুল পাড়তে লাগল। ঝুঁকেপড়া জবার ডাল থেকে ফুল তুল। উঁচু উঁচু ডালগুলো আজকে  কে যেন মাটির কাছে নামিয়ে এনেছে । দেখতে দেখতে সাজি ভরে উঠলো। জামার পকেট, প্যান্টের পকেট ভরে গেল ফুলে ফুলে। দূরে খেজুরগাছের মাথায়  একটা লক্ষ্মীপেঁচা ডেকে উঠল। বুলুর মনে হলো এবার বাড়ি ফিরতে হবে। তার খুব আনন্দ হচ্ছে। বাগানের বাইরে এসে সে একটা ছায়ামূর্তি দেখল। অনেকটা দূর থেকে সেই মূর্তি বলল ---এখানে এত রাতে কী করতে এসেছো ?
বুলু বলল --- আজ লক্ষ্মীপুজো।মা ফুল পাড়তে পাঠিয়েছে , পিসি।
বুলু এবার প্রায় দৌড় লাগাল। বাড়ির দিকে। বাগান থেকে তাদের বাড়ি বেশ খানিকটা দূরেই। রাস্তায় এখনো কোনো লোক বার হয়নি। রাস্তা আলোয় ভরা। একটা শেয়াল রাস্তা পার হয়ে খড়ি নদীর চরের দিকে ছুটে গেল। তার চোখদুটো জ্বলছে। বুলু বাড়িতে ঢুকেই দেখল মা উঠানে ডালিমগাছের কাছে দাঁড়িয়ে । তাকে দেখেই জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে উঠলো মা।
----- এত রাতে কোথায় গিয়েছিলি?
বুলু বলল--- কেন ধানুপিসিদের বাগানে ফুল পাড়তে!
  পরের দিন সবাই বলাবলি করতে লাগল বুলুকে  নাকি নিশিতে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল ফুলবাগানে।

বুধবার, ২৭ মে, ২০২০

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || Ivanka Mogilska-এর কবিতা

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা 

রুদ্র কিংশুক

ইভাঙ্কা মজিলস্কা-র কবিতা
ইভাঙ্কা  মজিলস্কা  (Ivanka Mogilska,1981)-র জন্ম বুলগেরিয়ার প্লভডিভ শহরে। কবিতা ও উপন্যাস লেখা ছাড়া,  তিনি একজন ডিজিটাল আর্টিস্ট এবং সঙ্গীতজ্ঞ ।
এ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে তাঁর চারটি চারটি গ্রন্থ ।দুটি কবিতা সংকলন এবং দুটি উপন্যাস। ইংরেজি, ফরাসি ও হাঙ্গেরিয়ান সহ পৃথিবীর অন্যান্য কয়েকটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে তাঁর লেখা ।পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সাহিত্য তিনি বুলগেরিয়ান ভাষায় অনুবাদ করে  থাকেন ।বর্তমানে এই লেখক থাকেন বুলগেরিয়ার সোফিয়া শহরে।

১. ছবি
কখনো কখনো সে বলে অবিশ্বাস্য সব গল্প
 সে খায় দিনটাকে ছোট্ট ছোট্ট টুকরে
অন্ধকারে সে হাসে।
 সবটাই তার সূর্যালোক
আর কয়েক টুকরো সাদা মেঘ ।
কখনো ইচ্ছে করে শুয়ে শুয়ে থাকে
প্রতিদিনের প্লেটের উপর ।
কোনোভাবেই সে গ্রাহ্য করে না ।
কোন শব্দ নেই ।
কোন গল্প নেই ।
তখন কোন অন্ধকারও না
 হাসির
যোগ্য।
 সে এতটাই  উদাসীন ---
তাই তুমি ভাবো
ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতা
অথবা তার চোখ ।

২. শোভাযাত্রা

সময়
যতটা তুমি নাও
সেটাই সময়
যা কেউ তাকে স্মরণ করতে নেয় ।

৩. আকাশ
সে চাই সেলাই-না-করা একটা আকাশ
খোলা প্রান্ত সহ
যাতে যখন সেটা খুলে যাবে
 সে লাফিয়ে উঠতে পারবে
একটা সূতো ধরে
 উঠে যাবে
একেবারে চূড়ায়।

৪. একটা দিন
 একটা দিন গলে যায়
জলের গ্লাসে ভিটামিনের মতো
 যা কেউ একজন ভুলে গেছে টেবিলের ওপর টেবিলের ওপর গেছে টেবিলের ওপর টেবিলের ওপর।
 ফিসফিস শব্দ হয় ।
নীরব কুলকুচি।
শোনার মতো কেউ নেই আশে পাশে পাশে
তার তুচ্ছ নালিশ।
 তাই সে শান্ত হয়ে পড়ে,
বুদবুদ ওঠে ,
তলানি পড়ে ।
সন্ধ্যেবেলা মালিকেরা বাড়ি ফিরে এসে
তাকে ঢেলে দেয় সিঙ্কের ভেতর।

মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২০

শেফালী-আলো || রুদ্র কিংশুক || কবিতা

শেফালী-আলো 
রুদ্র কিংশুক

শেফালী-আলো অপার  অন্ধকারে বাতিঘর জানে
হাতছানি দেয় ক্রমাগত গূঢ়তর সিগন্যাল চিহ্ন
 ভেসে যায় অতর্কিত এ হৃদয় ঘূর্ণিনিটানে

কীভাবে ফেরানো যাবে ভেসে গেছে নদীজল টানে
ফেরা তার ফেরা নয়, বন্দীদিন পাখিমন ওড়ে
শেফালী-আলো  অপার অন্ধকারে বাতিঘর জানে


দানাপানি লোভে মগ্ন নয়,পাখি উড়ানে গানে
বহুমূল্য খাঁচাখানি পড়ে আছে, পালকের স্তূপ
ভেসে যায় অতর্কিত এহৃদয় ঘূর্ণিটানে


 শব্দ নয়, অনুরণনের হাওয়া বলে কানে কানে
 তুমি শুধু অন্ধকারে  দিন গোনো, ভাঙ্গামন গৃহ
 শেফালী-আলো অপার অন্ধকারে  বাতিঘর জানে

 হলুদ পাতার স্তূপ দাবানল ইশারাকে হানে
 এভাবেই যুবকতা আক্রান্ত, সূর্য ঢলে ঠিক,
 ভেসে যায় অতর্কিত এহৃদয়  ঘূর্ণিটানে

 বহু দূরে পাখি উড়ে  গেছো, অনির্বাণ আলো
আমি শুধু অন্ধকারে স্বপ্ন ইমারত গড়ি ভালো
শেফালী-আলো অপার অন্ধকারে বাতিঘর জানে
 ভেসে যায় অতর্কিত এহৃদয় ঘূর্ণিটানে।



সোমবার, ২৫ মে, ২০২০

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || রোজেন কুকুসেভ- এর কবিতা

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা
 রুদ্র কিংশুক
রোজেন কুকুসেভ- এর কবিতা

রোজেন কুকুসেভ (Rosen Kukushev, 1983) সোফিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং আরব সমাজ ও সংস্কৃতি  বিষয়ে লেখাপড়া করেছেন। 
জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পলিসি স্টাডিজ বিষয়ে পাঠ নিয়েছেন।  তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ "ইনস্পিরেশনস অ্যান্ড ডেস্ট্রাকশন " প্রকাশিত হয় ২০১২ খ্রিস্টাব্দ। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও বুলগেরীয় কবিতার সংকলনে তাঁর কবিতা সংকলিত । আরবি সহ বিভিন্ন ভাষায় তাঁর কবিতা অনূদিত। তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ "আফটার দি  ইন্টক্সিকেশন" ২০১৮ তে প্রকাশিত হয়।

১. ধোঁয়াশা

কারখানার ধোঁয়াশা
এলোমেলো নগরায়নের রূপরেখা
 যেন ভাগ্য গণকের করতল
 দড়ি-পথে অর্ধ নামে তোমার চোখের পাতায়
 আর মনে হয় যেন তুমি কান্নার
দোর গোড়ায়
কিন্তু দয়া করে তা করো না
পাঠ্য কদাচ তা ইঙ্গিত করে
 বাকিটা আমরা কথা বলব তা শব্দলেখা ছাড়াই
 আমি তোমায় ভালোবাসি তৃপ্তি সহ, সহজে
তুমি অন্ধকারে দূরে
আমি তোমায় আকর্ষণ করি
তুমি ঠেলে দাও দূরে আমাকে:
 যন্ত্র বিদ্যার সহজ নিয়মে

২. লাল মাথা
লালমাথার আছে
অতুলনীয় সৌন্দর্য
 অতুলনীয় আবেগ
সে চেটে নেয় সুন্দরভাবে
তার আঙ্গুলের প্রান্তগুলো
স্বচ্ছ তামাক-মাখানো
 তার কাঁধ উপচানো কোঁচকানো ঘন কুন্তল
যার ভয়ংকর পাকানো বেণী
দীর্ঘ জিভের মতো
দাগভর্তি সাদা মুখের উপর
 ক্রিসেনথিমাম চোখে
 নারী-সিংহ দানবের হাসি

লালমাথার আছে
 অতুলনীয় কবিতা রূপ
আর তার ঠোটে অখন্ড মাংসের স্বাদ
সে  গলায় বরফ তার হাতের তালুতে
 ছড়ানো এবং বদলে যায়
সমুদ্রে,  দূরত্ব
তার ও আমার মাঝে
 আগুনপাখি বৃষ্টির ফোঁটা
 সৌন্দর্য,
আশ্লেষ ও কবিতার
অতুলনীয় রূপ...

রবিবার, ২৪ মে, ২০২০

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || আইআনা বকুভা- কবিতা

বিশ্বদুনিয়ার নতুন কবিতা
 রুদ্র কিংশুক 
আইআনা বকুভা- কবিতা

আইয়ানা বোকুভা (Iana Boukova,1968) দ্বিভাষিক কবি। তিনি বুলগেরিয়ান ও গ্রিক -- দুই ভাষাতেই লিখেছেন মৌলিক কবিতা।
বুলগেরিয়ার সোফিয়াতে তাঁর জন্ম।১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি  চলে আসেন  গ্রিসের আথেন্সে এবং গ্রিক ভাষায় সৃজনশীল সাহিত্য রচনায় নিজেকে নিযুক্ত করেন। তার আগে বুলগেরীয় ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ, একটি ছোট গল্পের বই  এবং একটি উপন্যাস। এছাড়া গ্রিক থেকে বুলগেরিয়ান ভাষায় তিনি অনুবাদ করেছেন আধুনিক কালের বহুপ্রতিষ্ঠিত কবির কবিতা। এই অনুবাদ তালিকায় রয়েছেন সেফেরিস, কাতেরিনা আনঘেলাকি-রুকি এবং জেনি মাসটোরাকি।  ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে গ্রিসের প্রখ্যাত কবিতা প্রকাশনা সংস্থা 'ইকারস' প্রকাশ করে তাঁর কাব্যগ্রন্থ 'মিনিমাল গার্ডেন'। গ্রিক কবিতার একটি বিশিষ্ট অনলাইন পত্রিকা "গ্রিক পোয়েট্রি নাউ"। বকুভা এই সংস্থার একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।পৃথিবীর নানান ভাষায় অনূদিত  বকুভার কবিতা। 

১. ছোটো বাগান

তুমি দরজা খুলেছিলে
আর সেখানেই ছিল এটা: রাত্রি
আটকে পড়েছিল
 কয়েক সপ্তাহ ধরে ছিল না খাবার মতো রুটি
 এরকম লোকই ছিলে
তুমি কল খুলে রেখেছিলে
ক্ষতস্থান, রক্ত-নির্গমনে
তুমি উলটো করে পড়েছিলে চশমা
দেখো আমি পরেছি জুতো যা আমি  পরতাম ছোটবেলায়
এবং মোজা যা পরতাম  হাঁটু পর্যন্ত
কিন্তু আমার হাঁটু বেড়ে উঠছে অ্যালিসের মতো
 আমাদের বাগানে আগুন লাগল অতিরিক্ত চাঁদনির কারণে
 আর আমাদের অতিথিদের গলা এখনো বেড়ালছানার পিছনে
কুয়োর ভেতর
এখন আমি দেখছি ঘর
কোথাও একটু ওপর থেকে
পশ্চাতে আমার ছোট্ট বিছানা
বুনো জিনিস
 উস্কানিমূলক ভাবি কুৎসিত
একঘেয়ে

২. বলকান সরল চিত্রকর

 এবং যখন তারা পৌঁছলো অন্তিম দরজায় বিচারকেরা জিজ্ঞাসা করল তাদের
( কেবল মজা করার জন্য)
 এটা কী
 চিৎকার আর কষ্ট নিয়ে উপরে উঠছে
 আনন্দে উড়ছে
আর নিঃশব্দে পড়ছে
সবগুলো অগ্নিশিখায়
অগ্নিমানুষ বলল আমার গান
পাখি যা  উড়ালো
মাথার এধার থেকে ওধারে আর আমায় ভালবাসলে--
তৃতীয়জন (সুখী!)
 ছোট ভাই বলল
সবই শিখাময়।

৩. সন্ধ্যা ও সংগীত বিষয়ক ছোটো কবিতা

সাতটা বাজে,  পাখাগুলো বন্ধ হয়েছে
শহরের ভ‍্যাপসা বারান্দা
যেখানে আলো শেষ আর ধৈর্য ফুরিয়ে যায়
 একটা শিশু চিৎকার করছে যেন তাকে হত্যা করা হচ্ছে
অথবা কাউকে হত্যা করা হচ্ছে আর সে চেঁচাচ্ছে শিশুর মতো
 আমি কি জানি
কোনটা তার মাটির তলায় গেছে
আর কোনটা সোজা শিরাতন্ত্রে,
আমার শিক্ষানবিসি সাম্যবস্থায়
ঠিক যখন তুমি চাবি দিয়ে বাজাও
খুব দায়িত্বজ্ঞানহীন ।

৪. দায়িত্ব ও উপাধি ছাড়াই

আহা, আমি জানি বিবর্তন চলছে
আর আমি নিজেই এখন মুছে ফেলি
 আমার ত্বক থেকে আঁশ
 আর শ্বাসের জন্য হাঁপায়
 গতকাল আমার প্রতিবেশীও এ কথাই বলেছিল:
 প্রত্যেকেরই আছে অফুরন্ত সম্ভাবনা
যেমন সিগারেট-অবশেষে আগুন লাগা
 যেমন ভোঁকাট্টা ঘুড়ির
 শুন্যে এখন ওড়া
অসম্মার্জিত তারামণ্ডলের উঠানে
 কিন্তু কেন তবে
(আমি জানতে চাই )
প্রতিটি সকালে তারা ঘুম ঘুম চোখে লাফায়
ধড়াম করে দরজা বন্ধ করে, গাড়ি স্টার্ট করে
 দীর্ঘ মিনিটগুলো ইঞ্জিন গরম করে
 দীর্ঘ ঘন্টাগুলো ইঞ্জিন গরম করে
কেন প্রতিদিন সকালে
 তারা যাত্রা করে এবং গাড়িতে স্টার্ট দেয়
এবং কোথাও না যাওয়া হয়।

শনিবার, ২৩ মে, ২০২০

মনোহর চিস্তির দরগা || রুদ্র কিংশুক || কবিতা

মনোহর চিস্তির দরগা 

রুদ্র কিংশুক 
১.
বারজোখ ভেঙে ভেঙে পাঠ করি পূর্বজন্ম কথা,
 সরপোস মুছে দেন গুরু নিজ হাতে, অন্ধকার
 ঘনীভূত পাতার আড়ালে পাখি, অগ্নিদিশা ডাক
আমাকে নির্জনে নেয়, ছেড়ে কুম্ভীপাক জমকালো,
যে সোনা ফেলছো তুমি অনাদরে নিল স্বর্ণকার।

যে পেয়ালা জ্ঞানপাত্র, ভরি তাকে প্রারম্ভে অতল
 অন্তর্মুখী, কাঁটাগাছে মুখ মুছে উট-মূর্খ ছায়া
 জেনেও ধরে না তাকে মহামূল্য গুরুমনপাখি,
 রক্ত ঝরে তবু খাবে কণ্টকিত বেকুব সে জন,
 তাকে চেনাবে বলো আবুহায়াতের দীর্ঘকায়া?

 বেখুদি পেয়ালা দেখো ক্রমে ক্রমে আলো ভরে ওঠে,
আমার কবিতা গুরু প্রণাম চিহ্নে সঠিক ফোটে।
 তাকে নিয়েও যত্নে স্নেহে, ডান হাতে আলোচিহ্ন ডাকে।
মূলাধার-স্বাধিষ্ঠান পার পাখি মনিপুর থাকে।

২.
দিনদুনিয়ার মাঝে আছে মাছ যাকে তুমি মীন
 বলে ডাকো, তার অন্তহীন খেলা অন্ধকারে ক্ষীন
 বোঝা যায় আকার-ইঙ্গিত কিছু, অপঠিত থাকে
 কিছু তন্তুজাল গূঢ় কথনগুটি জটিল, যাকে তুমি ভাঙতে ভাঙতে প্রাঞ্জ পাখি এতদূর এলে
সম্পূর্ণ পাঠে তার এবার তুমি মনোযোগী হলে
 পাওয়া যাবে উড্ডীনতা, আলো তার মীন-ছায়া জানি।
অর্থ গুরুমুখী, আত্মজাত আবুহায়াতের পানি

অতল লোহাজ জলে ভেদ হয় ছয়টি লতিফা
ছয় মহলা বাড়িটি চৌদ্দ ভুবনের স্ধির আভা
শেরেকী বাতাস গূঢ়, ঘূর্ণমান, উদ্ভাসিত পাখি
 সম্ভব জানি এভাবে আত্মজাত, হই প্রাপ্ত-আঁখি

 সবকিছু থাকে তবু দিনরাত তুচ্ছজ্ঞান গাব
উত্তুঙ্গ শরীর জ্বলে প্রস্ফুটিত নব দেলকেতাব।

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...