সৌমিত্র চৌধুরী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সৌমিত্র চৌধুরী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২০

গ্রিসের নতুন চিন্তাচেতনার কবিতা || রুদ্র কিংশুক || পারভিনা মারভিন-এর কবিতা

গ্রিসের নতুন চিন্তাচেতনার কবিতা
রুদ্র  কিংশুক
পারভিনা মারভিন-এর কবিতা


পারভিনা মারভিন (Parvina Marvin, 1987) জন্ম গ্রিসের আথেন্সে। এবং তাঁর বড় হয়ে ওঠা সাইরস দ্বীপে অবস্থিত এরমৌপোলিশ শহরে। তিনি  প্রথমে ইতিহাস বিষয়ে লেখাপড়া করলেও পরবর্তীকালে টাকিস সিনোপোলুস ফাউন্ডেশনের অধীনে কবিতা নিয়ে লেখাপড়া করেন এবং পরবর্তীকালে কবিতায় হয়ে ওঠে তাঁর জীবন। তাঁর কবিতা, থিয়েটার সংক্রান্ত লেখালেখি এবং শিশুসাহিত্য অনলাইন অনলাইন অনলাইন এবং প্রিন্ট ম্যাগাজিনে বহুল পরিমাণে প্রকাশিত। প্রথমদিকে তাঁর কবিতা সেভাবে গুরুত্ব না পেলেও ধীরে ধীরে পাঠকমহলে পাঠকমহলে তাঁর কবিতা গৃহীত হয়। তার  ব্লগ Teflon-এর মধ্য দিয়ে তিনি বিস্তীর্ণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেন তাঁর কবিতা।

১.
আগাছা

সমস্ত আগাছা তুলে ফেলা আমার উচিত ছিল না না--
 একটা গোড়া আর পড়ে নেই।
এখন, এই বঞ্চনার ঋতুতে,
 দ‍্যাখো কী পড়ে থাকে:
আমাদের খালি মাঠ
আর মাঝখানে আমি, জাহাজডোবা
আরাধ্য জন
জীবন-মৃত্যু কারবারি পাখি,
 রক্তস্নাত উকুন,
 আর চারপাশে ছড়ানো শস্যের স্মৃতি।

২.
পুরোপুরি ব্যার্ত‍্য

 আমাদের সন্তান সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত, অপরাধ নিয়েছিল
আর, গর্ভপাতের কিছুটা আগেই, রহস্যজনক মিসক্যারেজ।
 দ্ব্যর্থহীন আত্মহনন। কি পরিহাস!
 আমাদের অনন্য জীব
এখন অনন্য ছোট্ট কীট
 হাসপাতাল বর্জ্যের ভেতরে।
 আমি দুঃখিত নই।
তোমার  কী ,প্রিয় ?
এসো বুঝে নাও চোখের জল।
 আমি যদি তাকে হাতের উপর নিয়ে তোমাকে দেখাতাম, মুখ ফেরাতে।
 যাইহোক তুমি কী ভেবেছিলে এ নিয়ে?
ঠিক আর একটা ছোট্ট মৃত্যু, মর্যাদাহীন নয়, কারণ
 কোন পারলৌকিক ক্রিয়া ছিল না।

মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট, ২০১৮

গদ্য । বাংলা ।। নবপর্যায়-৫৯৪ । অষ্টম বর্ষ । সংখ্যা-৭ । ২১-০৮-২০১৮

জলবায়ু উদ্বাস্তু 
সৌমিত্র চৌধুরী

পূর্ববর্তী প্রকাশের পর... 

 টিন্ডালেরর আবিষ্কারের ছত্রিশ বছর পর আরহেনিয়াস, পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের উষ্ণতা সম্পর্কে বিস্তারিত গবেষণা করে প্রমাণ করলেন যে, জ্বালানী দহনে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস কারখানা থেকে নির্গত হচ্ছে। নির্গত গ্যাস ঊর্ধ্বাকাশে না গিয়ে জমা থাকছে বায়ু মণ্ডলেএর ফলে গ্রহের উষ্ণতা বাড়ছে। তিনি বলছেন, ১৮৯৬ সালে কার্বন ডাই অক্সাইডের যা পরিমাণ, ভবিষ্যতে সেটা বেড়ে দ্বিগুণ হলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়বে ডিগ্রী সেলসিয়াস।
       এখনকার গবেষণার তথ্য প্রায় তাই। ভয়ংকর তথ্য। এখন উপায়? উপায় বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ কমিয়ে ফেলা হ্রাস করা জ্বালানীর দহন, গাড়ি এয়ারকন্ডিশন মেসিন এবং অন্য ভোগ্যপণ্যের ব্যবহার
       এ তো অগ্রগতি তথা সভ্যতার কণ্ঠরোধ! এ কি সম্ভব? পৃথিবী জুড়ে চেষ্টা চলছে অসম্ভবকে সম্ভব করবার। একদিকে অগ্রগতি আরেক দিকে বিশ্ব উষ্ণায়ণ, এই দুয়ের সমঝোতার প্রচেষ্টায় ব্যস্ত অনেক বিজ্ঞানী রাষ্ট্র নেতা। কয়লা ও জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমাতে একাধিক দেশ চুক্তিবদ্ধ হয়েছে উদাসীনতাও লক্ষ করা গেছে অনেক দেশের কর্মকাণ্ডে
       আশার কথা, অধিকাংশ দেশের রাষ্ট্রনায়করা এখন বুঝতে পেরেছেন, বায়ুমণ্ডলের উষ্ণায়ন কমানো দরকার। চোখের সামনে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর জমাট বরফ গলতে দেখে, অনেক পাহাড় চূড়ার গ্লেসিয়ার নিশ্চিহ্ন হতে দেখে শিউরে উঠেছেন তারা। লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাস্তুচ্যুত হতে দেখে এখন বুঝতে পারছেন ক্রমবর্ধমান বিশ্ব উষ্ণায়ণের রাশ টানা ভিন্ন অন্য পথ নেই।
        চিরাচরিত শক্তির উৎস--কয়লা বা তেলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌর বিদ্যুৎ, বাতাসের শক্তি ইত্যাদিকে ব্যাবহার করতে হবে। দরকার কম জ্বালানি কাজে লাগিয়ে বেশী শক্তি উৎপন্ন করার (Energy efficient) কারিগরি এ সব না করলে বাঁচানো যাবে না পৃথিবীকে
       পূর্বভারতের এই প্রদেশে, আমাদের ঘাড়ের উপর শ্বাস ফেলছে বিশ্ব উষ্ণায়নের মারণ দানব। এখানেও বে-ঘর হচ্ছেন বহু মানুষ। ঘরছাড়া মানুষের কান্না শুনতে ভিন দেশে মালদিভ বা ক্যারিবিয়ানে ছুটতে হবে না। ঘরের কাছে সুন্দরবনে গেলেই চক্ষু কর্ণের বিবাদ ঘুচবে।         ঘোড়ামারা মউশানি দ্বীপে গেলেই আবহাওয়া উদ্বাস্তুদের কান্না শুনতে পাওয়া যাবে। জমি চাষবাস মৎস শিকার সব হারিয়ে ওখানকার মানুষ ভিনদেশী। কেউ সল্টলেকে রিক্সাওয়ালা। কাজ খুঁজতে কেউ পারি দিয়েছেন ব্যাঙ্গালোর কেউ কুয়েতে। দেশে ফিরে ভিটে মাটি ঘর দুয়ার খুঁজে পাবে না কেউ। উদ্বাস্তু ছাড়া এদের কি-ই বা বলা যায়। এঁরা জলবায়ু উদ্বাস্তু।
--০—
( সমাপ্ত )


লেখক~ ডসৌমিত্র কুমার চৌধুরী, এমেরিটাস মেডিক্যাল স্যায়েন্টিস্ট, চিত্তরঞ্জন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা, কলকাতা 

সোমবার, ২০ আগস্ট, ২০১৮

গদ্য । বাংলা ।। নবপর্যায়-৫৯৩ । অষ্টম বর্ষ । সংখ্যা-৬ । ২০ -০৮-২০১৮

জলবায়ু উদ্বাস্তু 
সৌমিত্র চৌধুরী

পূর্ববর্তী প্রকাশের পর... 

 বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে নিজের খাদ্য বানায় (Photosynthesis) গাছ আর বাতাসে মুক্ত করে অক্সিজেন বায়ু মণ্ডল শুদ্ধ করবার প্রাকৃতিক সম্পদ বৃক্ষ।   এ তথ্য জেনেও দুনিয়া ব্যাপী নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন করেছে মানুষ। গাছ কাটার সঙ্গে সঙ্গে চলেছে তেল কয়লা ইত্যাদি জীবাশ্ম জ্বালানীর দহন। তৈরি হয়েছে কার্বন ডাই অক্সাইড। সব মিলিয়ে বায়ু মণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসটির আধিক্য বেড়েছে বহু গুণ। বায়ু মণ্ডলে এই গ্যাসটির আধিক্যই বাড়িয়ে দিয়েছে পৃথিবী গ্রহের তাপমাত্র। এতটাই বৃদ্ধি হয়েছে যে এর উপস্থিতি বিপদ সীমা অতিক্রম করে সর্বনাশের ডঙ্কা বাজাচ্ছে।
        ছোট্ট একটা গ্যাস কার্বন ডাই অক্সাইড। কোন কৌশলে এটি বায়ুমণ্ডল বা সমুদ্রতলের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়?  কারণ গ্যাসটি তাপ শোষণ করে রাখে। কেমন করে?  একশ আঠান্ন বছর আগে পদার্থবিদ জন টিন্ডাল বহু প্রমাণ হাতে নিয়ে প্রশ্নটির উত্তর দিয়েছিলেনতিনটে মাত্র পরমানু -- একটা কার্বন এবং দু’টো অক্সিজেন -- এ দিয়ে তৈরি রাসায়নিক যৌগ কার্বন ডাই অক্সাইড। গ্যাসটি শুষে নেয় অবলোহিত (infrared light) আলো।
       সূর্যের সাত রঙের বর্ণালীতে দীর্ঘতম তরঙ্গ দৈর্ঘ লাল আলোর। কার্বন ডাই অক্সাইড শুষে নেয় লাল আলো এবং এর চাইতে বেশী তরঙ্গ দৈরঘের আলোফলে বাতাস উত্তপ্ত হয়। উত্তাপ ঊর্ধ্বাকাশে না গিয়ে মাটিতে ফিরে আসেএরই নাম গ্রিন হাউস এফেক্ট (Green house effect)গ্রিন হাউস গ্যাস বহু সদস্য বিশিষ্ট। এই পরিবারে আছে কার্বন ডাই অক্সাইড, জলীয় বাস্প, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ওজনএরা ভূপৃষ্ঠে তাপ ফিরিয়ে আনে। তবে এ কাজে সবচাইতে বেশি ক্ষমতা কার্বন ডাই অক্সাইড ও জলীয় বাস্পের।

       উষ্ণায়নের রহস্য উদ্ঘাটন করেছিলেন বিজ্ঞানি আরহেনিয়াস। বাতাস দু’ভাবে তাপ ধরে রাখে। বাতাসের মধ্য দিয়ে তাপ প্রবাহিত হবার সময় (selective diffusion) এবং তাপ শোষণের (absorption) মাধ্যমে। বাতাসের অন্য উপাদান গুলোয়, দ্বি-পারমানিক নাইট্রোজেন অক্সিজেন—তাপের প্রভাবে কম্পন (vibration) ঘটে (দুই পরমানুর মধ্যেকার কম্পন)। ফলে প্রচুর পরিমান তাপ শোষণ করতে পারে তারা। কিন্তু বাতাসের কার্বন ডাই অক্সাইড এবং জলীয় বাস্প শোষণ প্রক্রিয়ার (absorption) মাধ্যমে তাপ গ্রহণ করে। এদের (CO2, H2O) পরমাণু গুলো কাঁপতে থাকে বর্ণালির অবলোহিত  (Heat, Infrared) অঞ্চলে কাঁপতে থাকা থাকা একটি অনু তাপ মোচন (Emission) করলে  আরেকটি অনু সেটি গ্রহণ করে কাঁপতে থাকে (vibrate) এই প্রক্রিয়ায় অর্থাৎ তাপ শোষণমোচন-শোষণ (Absorption-emission-absorption) করে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং জলীয় বাস্প পৃথিবী তলে তাপ ধরে রাখে। 
( চলছে ...)


লেখক~ ডসৌমিত্র কুমার চৌধুরী, এমেরিটাস মেডিক্যাল স্যায়েন্টিস্ট, চিত্তরঞ্জন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা, কলকাতা  

শনিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৮

গদ্য । বাংলা ।। নবপর্যায়-৫৯১ । অষ্টম বর্ষ । সংখ্যা-৪ । ১৮ -০৮-২০১৮

জলবায়ু উদ্বাস্তু 
সৌমিত্র চৌধুরী

পূর্ববর্তী প্রকাশের পর... 
কেন এমনটা ঘটল? কেন বিশ্বের সব খানে আবহাওয়া বদল হেতু ত্রাহি ত্রাহি চিৎকার?  এ সবের মূল কারণ পৃথিবী গ্রহের বর্ধিত উষ্ণতা। দীর্ঘ দিন ধরে একটু একটু করে গরম হয়ে উঠেছে পৃথিবী। ধুনিক জীবন যাত্রার চাহিদা মেটাতে জ্বালানদহন করে করে ক্রমাগত তাপ শক্তি নিঃসরণ করেছে মানুষনিঃসৃত তাপে উত্তপ্ত হয়েছে বায়ুমণ্ডল।
       আরেকটু গভীরে গিয়ে বলতে হয়, ভোগ্যপন্য উৎপাদন করতে দরকার হয়েছে তাপ শক্তিকোথা থেকে এসেছে? জ্বালানি পুড়িয়েজ্বালানী আদতে রাসায়নিক শক্তি। প্রাকৃতিক জ্বালানী কয়লা, তার দহনে রাসায়নিক শক্তি রূপান্তরিত হয়েছে তাপ শক্তিতে (Thermal power)একে কাজে লাগিয়ে তৈরি হয় বিদ্যুৎ ( Thermal power)বিদ্যুৎ বিনা জীবন অচলঘরে ঘরে পথে প্রান্তরে বিজলি বাতি প্রয়োজন। বাড়িতে দরকার ফ্রিজ এয়ার কন্ডিশন ওয়াশিং মেশিনএ সবের ব্যবহার বাড়িয়ে দিচ্ছে পৃথিবী গ্রহের উষ্ণতা। 
       শুরু বহু কাল আগে। সেই শিল্প বিপ্লবের সময় (1760-1820) থেকে। কলকারখানায় লোহা ও অন্য ধাতু গলিয়ে গাড়ি রেল জাহাজ তৈরি হতে লাগলো। অগ্রগতির খিদে মেটাতে শক্তি যোগান দিল প্রাকৃতিক জ্বালানী (Fuel), কাঠ তেল কয়লা ইত্যাদি দহন করে বর্তমান সময়ে পৃথিবীর ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ তৈরি হয় কয়লা পুড়িয়ে। আর পেট্রল দহন করে সংগ্রহ হয় ৩৮ শতাংশ শক্তি। যত বেশী পুড়েছে প্রাকৃতিক জ্বালানি, ততই বৃদ্ধি পেয়েছে বাতাসের কার্বন ডাই অক্সাইড এবং চারপাশের উষ্ণতা।
       উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে পৃথিবী গ্রহটাই ধ্বংসের মুখে। টিকবে বড় জোর আর এক শতাব্দী। কারণ যে হারে বাড়ছে কার্বন ডাই অক্সাইড তাতে বর্তমান শতাব্দীর শেষে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা 2.5-5 ডিগ্রী সেলসিয়াস বেড়ে যাবে। ভয়ঙ্কর কথা! তাপমাত্রা 2 ডিগ্রী সেলসিয়াস বাড়লেই তো মৃত্যু ঘণ্টা বেজে যাবে পৃথিবীর। উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের বরফ গলে গিয়ে সমুদ্রতল উঁচু করে দেবে 230 ফুট। এর পরিণাম? জলের নিচে তলিয়ে যাবে বহু দেশ।
       শুরু হয়ে গেছে বহু গ্রাম শহর দেশের অবলুপ্তি। বস্তুচ্যুত হয়ে মাথা গোঁজার আশ্রয় খুঁজছেন অসংখ্য মানুষ।  
       আমরা আগে থেকে কেন সাবধান হতে পারিনি? যথার্থ প্রশ্ন। বিশ্ব-উষ্ণায়নের পরিণাম ও কারণ বিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছিলেন বহু আগে। দুই সুইডিশ বিজ্ঞানী জন টিন্ডাল (1820-1893) এবং স্যাভান্তে আরহেনিয়াস (1859-1927) [নোবেল পান 1903 সালে], বহু প্রমাণ হাতে নিয়ে মানুষকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, ‘বাতাসে অধিক পরিমান কার্বন ডাই অক্সাইডের উপস্থিতি ভবিষ্যতে পৃথিবীর ভয়ংকর বিপদ ঘটাবে কারণ, এই গ্যাসটিই বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে (Green house effect)’। 
( চলছে ...)


লেখক~ ডসৌমিত্র কুমার চৌধুরী, এমেরিটাস মেডিক্যাল স্যায়েন্টিস্ট, চিত্তরঞ্জন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা, কলকাতা  

শুক্রবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৮

লেখক পরিচিতি ডাকযোগ ই-ঠিকানা মোবাইল নাম্বার, সৌমিত্র চৌধুরী,

. সৌমিত্র কুমার চৌধুরী, এমেরিটাস মেডিক্যাল স্যায়েন্টিস্ট, চিত্তরঞ্জন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা, ৫ম তল; ৩৬ শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি রোড, কলকাতা-২৬। আবাসঃ সায়ন্তিকা-1, NP 38, Sec-V, Salt lake, Kolkata-102. E-mail: soumitrag10@gmail.com. Mob. 9831046252.   

গদ্য । বাংলা ।। নবপর্যায়-৫৯০ । অষ্টম বর্ষ । সংখ্যা-৩ । ১৭-০৮-২০১৮

জলবায়ু উদ্বাস্তু 
সৌমিত্র চৌধুরী

পূর্ববর্তী প্রকাশের পর... 
উদ্বাস্তু কারা? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাতিসংঘ (1951 Geneva Refugee Convention ) বলল, ‘নিজের দেশের বাইরে স্থান পাওয়া একজন মানুষ যার স্বদেশে ফিরলে জাতি ধর্ম রাজনীতি বা মতাদর্শের কারণে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে’   
       এই যুক্তিতে আবহাওয়ার কারণ হেতু বাস্তুচ্যুতদের উদ্বাস্তু বলতে নারাজ অনেকে। কারণ, আবহাওয়া উদ্বাস্তুদের দেশে ফিরলে শাস্তির মুখে পড়তে হয় না। কিন্তু দেশে ফিরতে পারাটাই যে সমস্যা! একরকম আসম্ভবদেশটাই যে বসবাসের অনুপযুক্ত। কোথাও দেশের মানচিত্র গ্রাস করেছে মরুভূমি, কোথাও আবার তলিয়ে গেছে জলের তলায়। অতএব, মানুষ নিজ ভূমি থেকে বিতারিত। 
       কম নয় এই আবহাওয়া উদ্বাস্তুর সংখ্যা। বর্তমান বিশ্বে প্রায় পাঁচ কোটী।  প্রতি বছর, ২০০৮ সাল থেকে, দুই কোটি পনের লক্ষ মানুষ আবহাওয়া বদলে যাবার কারণে দেশ ছারতে বাধ্য হয়েছেন। বছরে বছরে লাফ দিয়ে সংখ্যাটা বেড়ে চলেছে।
       কারণ, কোথাও জলোচ্ছ্বাস, সামুদ্রিক ঝড়। ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ, হিউস্টোন বা ফ্লোরিডার হঠাৎ বিধ্বংসী ঝড় বাস্তুচ্যুত করেছিল বহু মানুষকে। কোথাও ধ্বংস নেমে আসছে ধীর গতিতে। ক্রমশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে সমুদ্র তীরের গ্রাম শহর নগর। গোটা একটা দেশ ঢুকে যাচ্ছে সমুদ্রের জঠরে। কখনও বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বা সরকারী বদান্যতায় আশ্রয় মিলছে। কিন্তু রুটিরুজির সংস্থান বিহীন বড় কষ্টের সে জীবন।  কোথাও মানুষ সরকারী সাহায্য বিনা যেথায় যেমন সুযোগ পাচ্ছেন, চলে যাচ্ছেন। 
       ‘এই স্থানান্তরিত মানুষদের রিফুজি ছাড়া আর কী বলতে পারি’? এমন প্রশ তুলেছেন বহু বিজ্ঞানী ও সমাজকর্মীএরা জলবায়ু রিফুজি না স্থানান্তরিত মানুষ? বিতর্ক বহমান।
       যেমনি হোক আইনি সংজ্ঞা, জলবায়ু উদ্বাস্তুরা ঘর ছাড়া মানুষ। ভিটেমাটি খুইয়েছেন নিজের গ্রাম, নিজের বেড়ে ওঠা শহর ছারতে বাধ্য হয়েছেনযে শহরে লেখা পড়া শিখেছেন, ভোট দান করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করেছেন তারা, সেই শহরটার অস্তিত্বই নেই। কোথাও বা স্বদেশ ছেড়ে ভিন্ন দেশের অজানা পরিবেশে প্রাণ বাঁচানোর লড়াই করছেণ এই উদ্বাস্তুরা
       একটা গোটা দেশের ক্রমশ জলের নিচে তলিয়ে যাওয়া, ভয়ঙ্কর ঝড়ে তছনছ হয়ে যাওয়া এসবই ঘটছে বর্তমান বিশ্বে। বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে। 

       উষ্ণায়ন ব্যাপারটি কতটা মারাত্মক বোঝাতে কয়েক বছর আগের (১৯০৯) মালদিভ রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের একটা কথাই যথেষ্টমালদ্বীপ সমুদ্র গর্ভে ক্রম বিলিয়মান। দ্বীপ রাষ্ট্র তার ১২০০ দ্বীপ, সারে তিন লক্ষ অধিবাসী, দীর্ঘ কালের গড়ে ওঠা সভ্যতা সব নিয়ে ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছে সমুদ্র গর্ভে। শঙ্কিত দ্বীপ রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিশ্ববাসীকে বলছেন (Copenhagen Climate Summit in 2009), ‘যদি উষ্ণায়ন আর দুই ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড বাড়তে দাও, তাহলে জানবে, তোমরা আমাদের হত্যা করবার সিদ্ধান্ত নিয়েছ’
( চলছে ...)


লেখক~ ড. সৌমিত্র কুমার চৌধুরী, এমেরিটাস মেডিক্যাল স্যায়েন্টিস্ট, চিত্তরঞ্জন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা, কলকাতা  

বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৮

গদ্য । বাংলা ।। নবপর্যায়-৫৮৯ । অষ্টম বর্ষ । সংখ্যা-২ । ১৬-০৮-২০১৮

জলবায়ু উদ্বাস্তু
সৌমিত্র চৌধুরী

       যুদ্ধ বিগ্রহ বহু মানুষকে ভিটে ছাড়া করেছে। এক দেশ থেকে সীমানার ওপারে খেদিয়ে দেওয়া হয়েছে মানুষকে। যুদ্ধে বিজয়ী মানুষের পাশে বিজিত ঠাই পায় নি। পরাজিত মানুষ যুদ্ধবন্দী, কখনও বা বিধর্মী। অতএব চলে যেতে হবে অধিকৃত দেশের সীমানার ওপার। অলঙ্ঘ আদেশ অমান্য মানেই কামান গোলা বন্দুক ফৌজি বেয়নেটএফোঁড়ওফোঁড় হবে বিধর্মী বা বিজিতের  দেহ।
       সীমানার ওপারে অর্থাৎ অন্য দেশে পা-রাখা মানুষগুলো রিফুউজি, উদ্বাস্তু। তারা সব খোয়ানো মানুষভিন দেশে বিরুদ্ধ পরিবেশে প্রাণ বাঁচানোর কঠিন লড়াইয়ে জর্জরিত প্রাণসামান্য খাদ্য আর আত্মপরিচয় খুঁজে নেবার দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রামে মনুষ্যতর জীবন যাপনে বাধ্য তারা।   
       ইতিহাসে তেমনি ঘটেছে বারবার। পাকিস্তান থেকে ভারতে পালিয়ে এসেছে কোটি কোটি মানুষ। ইরাকে আমেরিকার বোমা বর্ষণ বাস্তুচ্যুত করেছে কোটি কোটি মানুষকে। কিছু মানুষ আশ্রয় পেয়েছে গ্রীস বা তুরস্কে।
       বর্তমান এই দশকে সিরিয়া থেকে উৎখাত হয়েছে ষাট লক্ষেরও বেশী মানুষ। আফগানিস্থান, সুদান থেকেও পঞ্চাশ লক্ষ লোক বিতাড়িত হয়েছে। উদ্বাস্তু নামের ঘৃণার তকমা নিয়ে আজও দাঁতে দাঁত চেপে পৃথিবীর বহু দেশে আশ্রয় পাওয়া মানুষগুলো প্রাণ বাঁচানোর সংগ্রাম করছেনআশ্রয়ের প্রত্যাশায় এক দেশ থেকে গলা ধাক্কা খেয়ে ডিঙি নৌকায় সমুদ্র পারি দিয়ে পা রাখবার চেষ্টা করছেন অন্য দেশের মাটিতে।
       দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরেও – ইউনাইটেড নেশন্‌স, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন ইত্যাদি গঠন হলেও উদ্বাস্তু সমস্যায় জর্জরিত অধুনা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। বিষয়টি মূলত রাজনৈতিক বা ধর্মীয়। বহু সমস্যায় জর্জরিত এক আন্তর্জাতিক মানবীয় সঙ্কট যার ব্যাপ্তি বহু ব্যাপক অবশ্য এ সব প্রসঙ্গ বর্তমান নিবন্ধের অন্তর্গত নয়।
       বর্তমান নিবন্ধের বিষয় অধুনা বিশ্বের এক অন্য ধরনের উদ্বাস্তু কাহিনী। ধর্মের নিরিখে, রাজনীতি বা যুদ্ধ বিগ্রহের কারণে উদ্ভাবিত নয়। এর সৃষ্টি আবহাওয়া বা জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে

       ‘জলবায়ু উদ্বাস্তু’, ইংরাজিতে ‘ক্লাইমেট রিফিউজি’ বর্তমান বিশ্বের আর এক জটিল সমস্যা। আন্তর্জাতিক এই সমস্যাটি হাল আমলের হলেও এর ব্যাপকতা বহু বিস্তৃত। আন্তর্জাতিক রেডক্রস ফেডারেশনের সমীক্ষা অনুযায়ী, বর্তমান দুনিয়ায় জলবায়ু উদ্বাস্তুর সংখ্যা  আড়াই থেকে পাঁচ কোটি। 
 ( চলছে...)


Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...