Saturday, May 23, 2020

মনোহর চিস্তির দরগা || রুদ্র কিংশুক || কবিতা

মনোহর চিস্তির দরগা 

রুদ্র কিংশুক 
১.
বারজোখ ভেঙে ভেঙে পাঠ করি পূর্বজন্ম কথা,
 সরপোস মুছে দেন গুরু নিজ হাতে, অন্ধকার
 ঘনীভূত পাতার আড়ালে পাখি, অগ্নিদিশা ডাক
আমাকে নির্জনে নেয়, ছেড়ে কুম্ভীপাক জমকালো,
যে সোনা ফেলছো তুমি অনাদরে নিল স্বর্ণকার।

যে পেয়ালা জ্ঞানপাত্র, ভরি তাকে প্রারম্ভে অতল
 অন্তর্মুখী, কাঁটাগাছে মুখ মুছে উট-মূর্খ ছায়া
 জেনেও ধরে না তাকে মহামূল্য গুরুমনপাখি,
 রক্ত ঝরে তবু খাবে কণ্টকিত বেকুব সে জন,
 তাকে চেনাবে বলো আবুহায়াতের দীর্ঘকায়া?

 বেখুদি পেয়ালা দেখো ক্রমে ক্রমে আলো ভরে ওঠে,
আমার কবিতা গুরু প্রণাম চিহ্নে সঠিক ফোটে।
 তাকে নিয়েও যত্নে স্নেহে, ডান হাতে আলোচিহ্ন ডাকে।
মূলাধার-স্বাধিষ্ঠান পার পাখি মনিপুর থাকে।

২.
দিনদুনিয়ার মাঝে আছে মাছ যাকে তুমি মীন
 বলে ডাকো, তার অন্তহীন খেলা অন্ধকারে ক্ষীন
 বোঝা যায় আকার-ইঙ্গিত কিছু, অপঠিত থাকে
 কিছু তন্তুজাল গূঢ় কথনগুটি জটিল, যাকে তুমি ভাঙতে ভাঙতে প্রাঞ্জ পাখি এতদূর এলে
সম্পূর্ণ পাঠে তার এবার তুমি মনোযোগী হলে
 পাওয়া যাবে উড্ডীনতা, আলো তার মীন-ছায়া জানি।
অর্থ গুরুমুখী, আত্মজাত আবুহায়াতের পানি

অতল লোহাজ জলে ভেদ হয় ছয়টি লতিফা
ছয় মহলা বাড়িটি চৌদ্দ ভুবনের স্ধির আভা
শেরেকী বাতাস গূঢ়, ঘূর্ণমান, উদ্ভাসিত পাখি
 সম্ভব জানি এভাবে আত্মজাত, হই প্রাপ্ত-আঁখি

 সবকিছু থাকে তবু দিনরাত তুচ্ছজ্ঞান গাব
উত্তুঙ্গ শরীর জ্বলে প্রস্ফুটিত নব দেলকেতাব।

No comments:

Post a Comment

ঈশ্বর || ইয়াসিন খান || কবিতা

  ঈশ্বর  ইয়াসিন খান একটা  বোধ কাজ করে মানুষের কাছে যাই একটা স্বপ্ন দেখি  আমার ঈশ্বর সাধনা  বাংলা মায়ের কোলে  গ্রাম আর নগর জীবন জুড়ে  অক্ষর আ...