Poems লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Poems লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২০ জুন, ২০২১

শব্দব্রাউজ ২১৭ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar

 শব্দব্রাউজ ২১৭ ৷। নীলাঞ্জন কুমার || Shabdo browse, Nilanjan Kumar

শব্দব্রাউজ ২১৭|| নীলাঞ্জন কুমার


বিপাশা আবাসন তেঘরিয়া মেন রোড  কলকাতা ১৯। ৬।২০২১ সকাল ৮টা ৫০ মিনিট ।



শব্দসূত্র: সংখ্যা ভিত্তিক


সংখ্যায় ধরে থাকি মুহূর্ত,  পল ।
সেকেন্ড মিনিট পেরিয়ে পেরিয়ে
কখন যে প্রহরে পৌছোয়! মুহূর্তের
স্বাদ বদল হয় তবু সংখ্যা ধ্রুবক হয়ে
আঁকড়ে থাকে ।


কোন কিছু ভিত্তি করে সব পরিকল্পনা
গড়ে নিলে,  সাফল্য সামনে দেখা যায় ।
হয়তো সাফল্য সব,  শেষ কথা।

স্থির লক্ষ্য || বিদ্যুৎ ভট্টাচার্য্য || কবিতা

 স্থির লক্ষ্য

বিদ্যুৎ ভট্টাচার্য্য



উপন্যাসের পাতায় মগ্ন ছিলাম সেদিন,

চেতনার রং এ রাঙানো ছিল আমার মন।

পথটা ছিল বিষম চড়াই- উতরাই,

তবু লক্ষ্য ছিল স্থির।

আমার আশপাশের লতাপাতা গুলো সেদিন ভাঙতে পারেনি আমার মনোবল,

পারেনি আমায় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরতে।

কারণ সেদিন আমার লক্ষে আমি স্থির ছিলাম।

আর মন থেকে বিশ্বাস করতাম যে লক্ষ্যে স্থির থাকলে কোনো কাজ ই থমকে থাকে না।

            জীবনে চলার পথে হোঁচট খেতে খেতে

আজ আর তেমন কষ্ট হয় না।

লাগে না আঘাত পদপৃষ্ঠে,

আহত হয় না এ হৃদয়।

অমোঘ সীমাহীন পথে আসমুদ্র হিমাচল পেরিয়ে 

আজ  একাকী পৌঁছে যেতে পারি শৌরযের শেষ

চূড়ায়।

এ পৃথিবী যতোই আমায় পেছনে টানুক না কেন

পারবে না আমায় থামাতে।

কারণ আমি অদম্য, আমি অসীম।

                       চেতনার রং এ রাঙিয়ে মন ,

                 শত অবহেলাকে দিয়েছি বিসর্জন।।

শনিবার, ১৯ জুন, ২০২১

সেও আমিই || শ্রীকান্ত ভট্টাচার্য || কবিতা || Srikanta Bhattacharya

 সেও আমিই

শ্রীকান্ত ভট্টাচার্য



বড় সুন্দর হয়ে পড়ছি

        ফাগুন রাতে ৷

শরীর মনের ছেলেমানুষি শরীরি

ফাঁক-ফোকর থেকে বেরিয়ে

পড়ছে,

সামলানো অজুহাতের নিচে আবাল্য

ভাবনাগুলো চাঁদোয়ালে দুলছে;

তারপরটুকুর অবিশ্বাস্য আমি

এখনও আমি, শেষ যদি হয়

সেও আমি ৷

শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২০

গ্রিসের নতুন কবিতা || রুদ্র কিংশুক || ভাসিলিস আমানাটিডিস-এর কবিতা

গ্রিসের নতুন কবিতা 
রুদ্র কিংশুক 
ভাসিলিস আমানাটিডিস-এর কবিতা


ভাসিলিস আমানাটিডিস (Vassilis Amanatidis, 1970)-এর জন্ম উত্তর-গ্রিসের এদেসা শহরে। তিনি বড়ো হয়ে উঠেছেন থেসালোনিকি শহরে যেখানে তিনি বর্তমানে থাকেন। অ্যারিস্টোটল ইউনিভার্সিটি অব থেসালোনিকি থেকে তিনি পাঠ নিয়েছেন নিয়েছেন ইতিহাস এবং পুরাতত্ত্ব বিষয়ে।  তিনি থেসালোনিকি সেন্টার অফ কন্তেম্পরারি আর্ট আর্ট আর্ট  প্রতিষ্ঠানে আর্ট কিউরেটর হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি একজন দক্ষ অনুবাদক । ই ই কামিংস, জয়েস ক‍্যারল  ওটস প্রমূখ প্রখ্যাত লেখকদের রচনা তিনি অনুবাদ করেছেন গ্রিক ভাষায়। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা সাত। তাঁর কবিতা এবং ছোটগল্প বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং আমেরিকা, কানাডা, ইংল্যান্ড, সুইডেন, ইতালি এবং রাশিয়ার বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও কোন সংকলনে প্রকাশিত প্রকাশিত হয়েছে।

১.
তারা নতুন মৌ-কুঠুরি বানাচ্ছে

 কেউ না লক্ষ্য করে পারবে না না পারবে না না না লক্ষ্য করে পারবে না না পারবে না না না
 যে যখন মৌমাছিরা পোড়ে
 তারা হয়ে ওঠে নরম লাল ভেলভেটের মত
 ভঙ্গুর যেন নীল চোখের খোলা তারা
 আর তারপর তারা মরে

 আগুন আসার আগে
যা গলিয়ে দেয় মৌ-কুঠুরি
এবং মৌচাকের শেষ স্বপ্নগুলির উত্তোলন। প্রকৃতপক্ষে মুহূর্তের জন্য, বাতাসে
 মৃদু আলোড়ন
যখন তারা বাষ্পীভূত হয়।
 আর যেহেতু মৌমাছিদের স্বপ্নে
 ফুলের সৌরভ
বহুক্ষণ পরেও
পরবর্তী চাকের বৃথা চেষ্টা
 বাগানের কোনো
উঁচু স্থানে।

২.
অসম্ভব কবিতা

 একটা পাখি আছে যে
রাতের বেলা গাছের ওপর বসে ঘুমাবে না না বসে ঘুমাবে না না বসে ঘুমাবে না গাছের ওপর বসে ঘুমাবে না না বসে ঘুমাবে না না বসে ঘুমাবে না
 ডানা ভাঁজকরা, নিশ্চল
সে ঘুমায় শূন্যে

কেউ তাকে ধরে রাখে না উচ্চতায়

 দিনের বেলার উড়ান তাকে ক্লান্ত করে
সে ডানা ঝাপটায় কারণ
পায়ের অভাব, অপরিণত
কীভাবে সে জানবে অন্যেরা মাটি স্পর্শ করে
 এভাবেই সে ডানা ঝাপটায়

 কিন্তু রাতের বেলা শান্ত হয়ে
সে ঘুমায় লম্বভাবে
একটা ছোট্ট সোজা কফিন
মাটির স্পর্শ না করেই তুমি এমনকি বলতে পারো
 সে শুয়ে আছে

দিনের বেলা সে আবার উড়ান দেয়
ভাসিলিস আমানাটিডিস (Vassilis Amanatidis, 1970)-এর জন্ম উত্তর-গ্রিসের এদেসা শহরে। তিনি বড়ো হয়ে উঠেছেন থেসালোনিকি শহরে যেখানে তিনি বর্তমানে থাকেন। অ্যারিস্টোটল ইউনিভার্সিটি অব থেসালোনিকি থেকে তিনি পাঠ নিয়েছেন নিয়েছেন ইতিহাস এবং পুরাতত্ত্ব বিষয়ে।  তিনি থেসালোনিকি সেন্টার অফ কন্তেম্পরারি আর্ট আর্ট আর্ট  প্রতিষ্ঠানে আর্ট কিউরেটর হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি একজন দক্ষ অনুবাদক । ই ই কামিংস, জয়েস ক‍্যারল  ওটস প্রমূখ প্রখ্যাত লেখকদের রচনা তিনি অনুবাদ করেছেন গ্রিক ভাষায়। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা সাত। তাঁর কবিতা এবং ছোটগল্প বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং আমেরিকা, কানাডা, ইংল্যান্ড, সুইডেন, ইতালি এবং রাশিয়ার বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও কোন সংকলনে প্রকাশিত প্রকাশিত হয়েছে।

১.
তারা নতুন মৌ-কুঠুরি বানাচ্ছে

 কেউ না লক্ষ্য করে পারবে না না পারবে না না না লক্ষ্য করে পারবে না না পারবে না না না
 যে যখন মৌমাছিরা পোড়ে
 তারা হয়ে ওঠে নরম লাল ভেলভেটের মত
 ভঙ্গুর যেন নীল চোখের খোলা তারা
 আর তারপর তারা মরে

 আগুন আসার আগে
যা গলিয়ে দেয় মৌ-কুঠুরি
এবং মৌচাকের শেষ স্বপ্নগুলির উত্তোলন। প্রকৃতপক্ষে মুহূর্তের জন্য, বাতাসে
 মৃদু আলোড়ন
যখন তারা বাষ্পীভূত হয়।
 আর যেহেতু মৌমাছিদের স্বপ্নে
 ফুলের সৌরভ
বহুক্ষণ পরেও
পরবর্তী চাকের বৃথা চেষ্টা
 বাগানের কোনো
উঁচু স্থানে।

২.
অসম্ভব কবিতা

 একটা পাখি আছে যে
রাতের বেলা গাছের ওপর বসে ঘুমাবে না না বসে ঘুমাবে না না বসে ঘুমাবে না গাছের ওপর বসে ঘুমাবে না না বসে ঘুমাবে না না বসে ঘুমাবে না
 ডানা ভাঁজকরা, নিশ্চল
সে ঘুমায় শূন্যে

কেউ তাকে ধরে রাখে না উচ্চতায়

 দিনের বেলার উড়ান তাকে ক্লান্ত করে
সে ডানা ঝাপটায় কারণ
পায়ের অভাব, অপরিণত
কীভাবে সে জানবে অন্যেরা মাটি স্পর্শ করে
 এভাবেই সে ডানা ঝাপটায়

 কিন্তু রাতের বেলা শান্ত হয়ে
সে ঘুমায় লম্বভাবে
একটা ছোট্ট সোজা কফিন
মাটির স্পর্শ না করেই তুমি এমনকি বলতে পারো
 সে শুয়ে আছে

দিনের বেলা সে আবার উড়ান দেয়

রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০

রুদ্র কিংশুক || পাঁচটি "লুন" || কবিতা

রুদ্র কিংশুক
পাঁচটি "লুন"


১.
পাতার আড়ালে
মৌটুসি
গাছের হৃদস্পন্দন।
২.
গাছেরা স্তব্ধ
চলমান
মাটির অন্ধকারে।
৩.
হারানো চাবির
ফেরতে
বিড়ম্বনা খুব ।
৪.
ভিজে কলাগাছ
প্রণত
মাটির খুব কাছে ।
৫.
সকালের সূর্য
আয়নাতে
শিশির ভেজা ঘাস। 

মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা || রুদ্র কি়ংশুক || এমানুয়িল ভিডিনস্কি-র কবিতা

বুলগেরিয়ার নতুন কবিতা
রুদ্র কি়ংশুক
এমানুয়িল ভিডিনস্কি-র কবিতা


এমানুয়েল  ভিডিনস্কি (Emanuil Vidinski, 1978) জন্মেছেন বুলগেরিয়ার ভিডিনে। সোফিয়ার সেইন্ট ক্লিমেন্ট ওহোরিস্কি ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি  স্লাভিক এবং জার্মানিক স্টাডিজ নিয়ে লেখাপড়া করেছেন। এ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে তাঁর একটি ছোট গল্পের বই,  একটি উপন্যাস এবং একটি কবিতা সংকলন। কবিতা সংকলনটির নাম  পার আভিয়ঁ , par avion  (2011)।  জার্মানির রেডিও সংস্থা ডয়চে বেলে(Deutsche Welle)-র বুলগেরিয়ান ডিপার্টমেন্টে ইমানুয়েল ২০০৮ থেকে ২০১২ প‍র্যন্ত সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি সোফিয়ার অধিবাসী।

১.
তুমি সুন্দর

 যেমন জ্বলন্ত সিগারেট
যেমন প্রশ্বাস

যেমন সূর্যগ্রহণ
যেমন ক্রুশকাঠ

২.
 বর্ণনা

নীল চোখগুলো
নৈঃশব্দ আর অবাধ্যতায়
 চিৎকার করে
ঠোঁটগুলো
যার ওপরটা
 নিজেকে প্রকাশ করে
কেবলমাত্র হাসিতে
 পুরু ও উত্তেজক
যেমন শিশুকালের কোন ক্ষত
দুই বক্ষের মাঝের খাঁজ
সত্যিকারের বাড়ি বাড়ি
করতল, ঘাড় আর উরু
 স্পর্শ করে আমার স্পন্দন

কেউ অপ্রতিস্থাপন যোগ্য নয়
এমন কি আমিও আমিও নই

৩.
কখনো জিজ্ঞাসা করো না কোথায় গিয়েছি

আমি ছিলাম জ্বলন্ত পিঁপড়ে অগ্নিসহ অগ্নিসহ
তারা উঁচু-নিচু চুলের মতো আমার চোখের সামনে
 বদলে গেল বিন্দু এবং কয়লায়
আর তখন বাতাস বয়ে নিয়ে গেল তাদের দূরে
 এখন আমি বাড়ি আসছি
জানালা খুলে রাখো
 যাতে সেই ধোঁয়া চলে যেতে পারে

৪.
রাত একটার সময়

সে হঠাৎ জেগে ওঠে
টানটান করে তার রাতপোশাক
উঠে পড়ে
আর খুলে দেয় জানালা:
 কেউ না।

৫.
যখন সপ্তাহ

 ভেঙে যায় ছোটোখাটো অংশে
মিনিটে , সেকেন্ডে
আনন্দ
 আনন্দ
আনন্দ
তোমাকে দেখা
ছড়ানো-ছিটানো সময়ে
বিবর্ণ আর তলহীন
যেমনটা তুমি ছিলে
যখন গুছিয়ে নিচ্ছিলাম জিনিসপত্র
 আর চিরকালের জন্য চলে যাওয়ার আগে
আমি বললাম :
সাত বছর একসঙ্গে থাকাও
ভর্তি করতে পারেনি কেবলমাত্র একটা সুটকেস একটা সুটকেস

শনিবার, ২০ জুন, ২০২০

চারটি লিমেরিক || কাশীনাথ সাহা || কবিতা

: লিমেরিক ১
কাশীনাথ সাহা

তোমার কথা ভেবে ভেবেই কাটলো সারারাত
সকালবেলায় তুমি হঠাৎ এলে অকস্মাৎ
তোমার ঠোঁটে মিষ্টি হাসি
ঝরছে যেন রাশিরাশি
এই ফাগুনে তোমার বিয়ে পাত্র অলোকনাথ।

: লিমেরিক  ২

সুূদেষ্ণার খুব ইচ্ছে ইঞ্জিনিয়ার  বর
দেশবিদেশে বেড়াবে দু'জনে পরস্পর
অবশেষে পাত্র পেল
কবি মানুষ লিখেন ভাল
কবিতায় মজে ওরা করছে ভালোই ঘর।

লিমেরিক ৩

পড়াশোনায় কোন দিনই ছিল না ভালো মনা
প্রতি বছর ফেল করতো এটা সবার জানা
কোনরকমে পেরিয়ে সিক্স
করতে নামলো পলিটিক্স
এখন মনা মন্ত্রীমশায় দশটি বছর টানা।

লিমেরিক ৪

গজানন ধরা পড়লো করতে গিয়ে চুরি
পাওয়া গেল নগদ টাকা সোনা দশ ভরি
পুলিশ থানায় আনলো ধরে
নেতাও এলো খানিক পরে
বললো ও পাটীর লোক পুলিশ বলে স্যরি।

শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২০

দুপুর || সুবীর সরকার || কবিতা

দুপুর
সুবীর সরকার

রৌদ্রে কিছু দুপুর লেগে থাকে।
শ্যাওলা রঙের টিপ আর প্লাসটিকের
                                   চিরুনির পাশে
তাতঘর।
জঙ্গলের মায়ায় খুব দূরের এক পৃথিবী
জঙ্গলে আগুন জ্বলে ওঠে
আমাদের দ্বিখণ্ডিত ঘুম আর
নটার সাইরেন মনে করিয়ে দেয়
আদতে আমাদের কোন নিরাপত্তা নেই

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২০

অধিকার || ইয়াসিন খান || কবিতা

অধিকার
ইয়াসিন খান











শূন্যতায় ডুবেছে ভুবন
অসহায় প্রকৃতি জীবন
ছুঁয়েছে বোধ মাটি
অঙ্কুরের পরিচয় ফাঁকি

জলের সিঁড়ি ভেঙে
আঁকা বাঁকা পথে
কত শত চিন্তা
উদয় হওয়ার আশংকা

সহবত শিখে ছুটি
বাতাস ঢেউ টুটি
না-মানুষের অধিকার
জাল কথা বিস্তার

বাঘেরা খেয়ালে বেঁচে
দিগন্তে বারুদের গন্ধ
অভিশাপ ভরে দুর্বলেরে
অধিকার দান করে অন্ধ

পথে পথে সাহিত্যে ডুবে
অধিকার ক্রন্দন
শানিত শান্তি তত্ত্ব ভাঙতে মত্ত
কর্তব্য বলয়ে অধিকার

মানবের কাছে প্রার্থনা
হৃদয় ভরে সত্য  অনুভব
অধিকার জুড়ে স্বাস্থ্য
ও মৌলিক বোধ জাগরিত হোক্

ক্ষয় || দুর্গাদাস মিদ্যা || কবিতা

ক্ষয়
দুর্গাদাস মিদ্যা

শীতের রাতের মত চুপচাপ শুয়ে থাকি।
মনে মনে ছবি আঁকি সেই সব দিনের।
যে সব দিন ছিল রঙিন, ছিল আনন্দের।
এই যে এত বিষন্নতা প্রতিদিনের
 তার থেকে মুক্তির পথ কে দেখাবে বলো
কার হাত ধরে বলতে পারি বাঁচাও বাঁচাও।
বয়ে যাওয়া নদীর গতি
 যেভাবে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখেনি কোনদিন
 ফেলে আসা পথ
সেভাবেই নিস্পৃহ থাকা ভালো।
তা না হলে হতাশার কুণ্ডলী
পাক খেতে খেতে চেপে ধরে অস্থি মজ্জা সব ।
জীবনের যাবতীয় কলরব থেমে যায় এক লহমায়।

বুধবার, ১৭ জুন, ২০২০

বৃষ্টির কবিতা || কাশীনাথ সাহা || কবিতা

বৃষ্টির কবিতা
কাশীনাথ সাহা











কালো মেঘে ঝিরিঝিরিয়ে
বৃষ্টি এলো হেঁটে
স্পর্শ দিল খোলা চুলে
অবিন্যস্ত ঠোঁটে।
খিলখিলিয়ে বৃষ্টি বলে
একলা কেন বসে
দেখছ নাকি বাইরে বাতাস
বইছে সবুজ ঘাসে।
সবুজ শিশু মাটি থেকে
দিচ্ছে মেলে ডানা
নদীর স্রোত খুঁজে নিচ্ছে
নিজস্ব ঠিকানা।
নতুন প্রাণ ডাকছে আয়
এসো আমার পাশে
ভালবাসায় ভরিয়ে দেব
ভরা শ্রাবণ মাসে।
এই না বলে বৃষ্টি আমার
ইচ্ছে ধরে টানে
আমিও তখন জল ছুঁয়েছি
দুরন্ত প্লাবনে।
বৃষ্টি আমি আমরা দু' ভাই
দুই জনেতে মিলে
বৃষ্টি মাতন ছড়িয়ে দিলাম
মাটির বেদিমূলে।
বৃষ্টি বলল আজকে আসি
আসবো আবার কাল
আমিও জানি আসতে হবেই
এখন বর্ষাকাল।
খিলখিলয়ে বৃষ্টি বলে
সবই বোঝ নাকি
ভালবাসার গন্ধ পেলেই
সেখানে আমি থাকি!
কাল সকালে আবার যদি
ডাকটি তোমার পাই
কবিতায় ভাসিয়ে দেব
এখন আমি যাই।
এই না বলে বৃষ্টি কণা
পেখন দুটি মেলে
দূর আকাশে নিরুদ্দেশ
কাল আসবে বলে।

জলপাই রঙের গান || রিতা মিত্র || কবিতা

জলপাই রঙের গান
        রিতা মিত্র











জলপাই রঙের গান শুনতে শুনতে পথ হাঁটছি
ধূসর মাঠটা কেমন ফ্যাল- ফ্যাল তাকিয়ে আছে আমার দিকে।
বেশ কয়েকটা উড়ন্ত চুমু ছুঁড়ে দিই তার দিকে,
ওমনি সে লাজে রাঙামাটি হয়ে ওঠে।
ওর জন্য একা একটা আকাশ হয়ে উঠতে পারি,
সে কবে পড়েছি, আকাশের বিস্তারের কোনো পরিসীমা নেই,
তবে থেকে আমার শিরা-উপশিরায়
এই ইচ্ছে দৌড়ে বেড়াচ্ছে।
পাড়া-পড়োশিরা মনে করেন এটা অসুখের লক্ষণ,
ছোটবেলায় মাথায় লাগা চোট এখন বিকারের রুপ নিয়েছে।
তাই সকলে আমায় বৃষ্টিতে ভিজতে বারণ করেছে।
,

নতুন জীবন ।। দীপক মজুমদার ।। নতুনদের কবিতা

নতুন জীবন ।। দীপক মজুমদার ।। কবিতা


যাই-

সমস্ত দুঃখগুলো মাটির তলায় পুঁতে আসি

কাল শ্মশানে যাব না নতুন করে দুঃখ পেতে

কাল সোজা রেস্টুরেন্টে যাব
গলা ভিজিয়ে মদ খাবদাব

আর পরশু শুরু করে দেব  নতুন জীবন

               
                

মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২০

কত সত্য জেগে রয় || নিলয় মিত্র || কবিতা

কত সত্য জেগে রয়।
নিলয় মিত্র।










আকীর্ন চোখের গভীরে
কত বিপন্ন বিস্ময় খেলা করে
খেলা করে মানুষ হৃদয়ে,
ঘাসে, শিশিরে,নদীর জলে
প্রতিদিন কত রৌদ্র ঝরে,পূর্ণিমা,
আলাপী জিভের তরে
মমতা ভালোবাসার শ্বাস ধুয়ে
                           ধুয়ে
বিশ্বাস জাগিয়ে দেয় মানুষ
                 মানুষের অন্তরে।

সূর্যের বুকের তলে জমে ওঠে
                        স্বপ্ন কতো
কতো গাঢ় আকাঙ্খার আলো,
শরীরের সাধ,প্রেমের সহিষ্ণু
                                 মুখ
প্রীত স্পর্শে জেগে থাকে কত
                          প্রিয় বুক।

পক্ষিণীর ঠোঁটে ঠোঁটে তৃনরা
                          জমা হয়
নীড়ের আয়োজনে
বুকের দুধ ঢেলে দেয় ধান
জেগে ওঠে মানবসমাজ উঠান,
মানব মানবীর নিবিড় গাঢ় শ্বাস
আস্থা পেয়ে যায় জীবন,রক্তে
              নতুন আশ্বাস।

যতদূর চোখ যায় || বিশ্বজিৎ || কবিতা

বিশ্বজিৎ
যতদূর চোখ যায়

যেভাবে সবাই চলে যায়
হয়ত, তুমিও একদিন
চলে যাবে,কোনও এক
আকস্মিকতায়...
ভরা পূর্ণিমার রাত,নয়ত
ঘোর অমাবষ্যায়,সব
লেনদেন চুকে যাবে। তুমি
ছাই হয়ে যাবে আরও ভিতরে

আনন্দ নেই
যন্ত্রণা নেই

কী এক জগতে ভেসে বেড়াবে তুমি
কী এক চরম বিলাসিতা।
ধৈর্য রাখ,স্বপ্ন আঁক

স্বর্গ কিছুটা দূরে...

সোমবার, ১৫ জুন, ২০২০

নতুন মহাভারত || নাসের হোসেন || প্রভাত চৌধুরীর জন্মদিনে কবিতায় শ্রদ্ধার্ঘ্য

পোস্টমডার্ন বাংলা লেখালেখির পথিকৃৎ, কবিতাপাক্ষিক - এর প্রাণপুরুষ কবি ও কথাসাহিত্যিক  প্রভাত চৌধুরী - র শুভ ৭৬ জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য।।


একটি পোস্টমডার্ন ন্যারেটিভ: কবিতা

নতুন মহাভারত।।  নাসের হোসেন














ষাটের দশকের ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যে উঠে এল
'আমি মেফিসটোফেলিস,শয়তানের দূত'।       ধ্বংসকালীন
সময়ের অনুষঙ্গে কবিতা আর কী- ই বা হতে পারতো!
যদিও প্রভাতদা সেসময় বেশ- কিছু প্রাঞ্জল প্রেমের কবিতাও
লিখে যাচ্ছেন,যা অচিরেই বই হয়ে বেরোলো।

মেফিস্টোফেলিস- কেও আমি প্রেমের কবিতাই বলবো,তফাৎ যেটা
সেটা হল ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা,ভিন্ন দর্শনের আলোকে সময়টিকে পরীক্ষিত করে তোলা।সময় বিষয়টিকে খতিয়ে
দেখা।পরবর্তী  সময়ে তাঁর 'সতীসাবিত্রী  কথা' উপন্যাসে খুঁটিয়ে
 দেখেছেন  সমাজের অন্য পরিসরের নিভৃত ব্যঞ্জনা।আরো
পরে লিখেছেন 'শৈশব',তাঁর জীবনকথার অংশ,আরো পরে
সাম্প্রতিক জীবনকথা 'সুন্দরের দিকে'।মাঝখানে কবিতাপাক্ষিক - এর
 প্রথমদিকের পর্বে লিখেছেন পোস্টমডার্ন টেক্সট উপন্যাস 'অনুপম কাহিনি'। সেটাও তো তাঁর জীবনেরই আত্মকথন ছিল।

১৯৯৩- এর ৭ মে শুরু হয়েছিল তাঁর প্রতিষ্ঠিত  'কবিতাপাক্ষিক'
প্রতিষ্ঠান  এবং 'কবিতাপাক্ষিক' পত্রিকাটি ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছিল
পৃথিবীর  সর্বাপেক্ষা দীর্ঘস্থায়ী নিয়মিত পাক্ষিক কবিতাপত্রিকা।
' কবিতাপাক্ষিক  প্রকাশিত  হওয়ার অল্প কিছুদিন পরেই
শুরু হয়েছিল বাংলাভাষায় প্রথম পোস্টমডার্ন  লেখালেখির
 চর্চা,নতুন পথের কবিতা ও গদ্যের এক অসামান্য সৃষ্টিশীলতা।

মণীন্দ্র গুপ্ত প্রভাতদার এইসময়ের কবিতা ও গদ্যগুলিকে
 আখ্যায়িত  করলেন পোস্টমডার্ন  বাংলাসাহিত্যের  পথিকৃৎ
লেখা বলে,২০০২ সালে প্রভাত চৌধুরী- র সম্পাদনায় বের হল
বাংলাকবিতার ইতিহাসের  মাইলস্টোন গ্রন্থ 'পোস্টমডার্ন বাংলা কবিতা'।
তাঁর লেখা কবিতাগ্রন্থগুলি 'সাক্ষাৎকার','নোটবই', 'সুসমাচার এবং','সুন্দরবন
এবং অন্যান্য কবিতা', 'এইসব হল্লাগুল্লা' ইত্যাদি ইত্যাদি, গদ্যগ্রন্থ
'পোস্টমডার্ন  মানচিত্র ', ' নানারকম' ইত্যাদি ইত্যাদি, সেইসঙ্গে স্বদেশ ও প্রকৃতিকে
জানার প্রবল ইচ্ছায় সেসব স্থানে সরাসরি  পৌঁছে গিয়ে
 রচনা করেছেন এক- একটি অত্যাশ্চর্য  ভ্রমণ- দলিল
'কুমায়ুন গারোয়াল', 'হিমাচলে ২৭ দিন','চারধাম'...।

' কবিতাপাক্ষিক '- এর কর্মকাণ্ডের  সংখ্যা  অফুরান।দেখতে - দেখতে প্রভাতদার
৭৬- তম শুভ জন্মদিন সামনে চলে এল,জ্যৈষ্ঠ সংক্রান্তি,
 ১৫ জুন ২০২০,সোমবার।তিনি এখনো একইরকম সমান সক্রিয়।
কবিতা,গল্প,গদ্য উপন্যাস, সবেতেই সমান সৃষ্টিশীল, তিনি
সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন,সৃষ্টিশীল  থাকুন আরো আরো
 দীর্ঘ দিন।'কবিতাপাক্ষিক’ - এর প্রথমাবধি সক্রিয় সঙ্গী হিসেবে
 এই আমাদের একান্ত প্রার্থনা।মনে রাখতে হবে
 'কবিতাপাক্ষিক' - এর কথা অমৃত সমান,কেননা ইতিমধ্যে  বাংলাভাষায়
নতুন সময়ের নতুন মহাভারত  লেখা হয়ে গেছে।যদিও
তার পরেও রচনাধারা থেমে নেই।যুগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে
 চলেছে নতুন নতুন যুগ( ১২+১২+...)।কবিতাপাক্ষিক - এর প্রাণপুরুষ 
কবি ও কথাসাহিত্যিক  প্রভাত চৌধুরী, আমাদের প্রিয় প্রভাতদাকে তাঁর
 শুভ ৭৬ জন্মদিনে বিনম্র প্রণাম ও ভালোবাসা  ভরিয়ে দিলাম।

বটগাছ || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় || প্রভাত চৌধুরীর জন্মদিনে কবিতা

বটগাছ    ||   জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়










ছায়ার প্রতি শ্রমিকের টান দুর্নিবার।

ছায়া অমৃতের মতো
ক্লান্তি ও ক্লেদে বটের ছায়া মহৌষধ।
শাখায় দিশা-কপোত।

ক্লান্ত কৃষক শ্রমিক বা পথিকের মন
একটি প্রবীণ বটের ছায়ার জন্য উন্মুখ
কারুর তা জোটে কারুর না।

কবিতার বোটানিক গার্ডেনে অটল
বটগাছটির নাম প্রভাত চৌধুরী।

আমরা তার ঝুরি হয়ে ঝুলতেই পারি
তাঁর কত ঝুরি প্রবল স্তম্ভ হয়ে গ্যাছে।

দেবতা || সৈকত ঘোষ || কবিতা

দেবতা
সৈকত ঘোষ 










জন্ম রহস্য ভেদ করে প্রস্তুতি নেয়
গোপন সংগ্রাম

আমি দেখি হাজারটা মাংসল পদ
পতনের পথ আগলে দাঁড়িয়েছে
কীভাবে মৃত্যু তাকে স্পর্শ করবে
কীভাবে শরীর ধারণ করবে মেটাফোর

মাথার ভিতর অণু পরমাণু
মাথার ভিতর জ্বলন্ত নগর
আবছা হয়ে যাওয়া ছায়াপথে
সারি সারি সংজ্ঞাহীন সমর্পণ

খিদের কোনও দেশ নেই, রং বাহার নেই
খিদের মুখে রক্ত তুলে দিচ্ছে পাতালপুরীর দেবতা

■ ১৯-০৫-২০২০। রাত ২টো ২০।

আটপৌরে কবিতা ৩১৬- ৩২০ || নীলাঞ্জন কুমার || ধারাবাহিক বিভাগ








আটপৌরে কবিতা 
নীলাঞ্জন কুমার 



৩১৬

চালবাজ/ ঠক/ জোচ্চোর
       ) জানলে  (
শত হস্ত দূরে যাও ।

৩১৭

ক্ল্যাপস্টিক/ ক্যামেরা/অ্যাকশন 
       ) চলচ্চিত্র  (
নির্মাণ করার অন্যতম দিক ।

৩১৮

মনিপুরী/ কুচিপুদি/ ওড়িশি 
    ) নৃত্য  (
মম চিত্তে নিতি নৃত্যে !

৩১৯

পুতুল/  গাড়ি/ বন্দুক 
      ) খেলনা  (
জমতে জমতে পাহাড় হয় ।

৩২০

গর্ব/ অহংকার/ উষ্মা 
     ) ক্ষতিকর  (
বিপদে পড়লে বোঝা যায় ।

শনিবার, ১৩ জুন, ২০২০

জলকাব্য || বিশ্বজিৎ || কবিতা


জলকাব্য
বিশ্বজিৎ


ঐ চোখের ভেতর 
কত জোনাকির খেলা। 
যত অসুখ...
ছেড়ে ছেড়ে যায় 
নামহীন, কথাহীন সব 
সুরের মত ছায়া 

আমি ভাবি 
বারবার ভাবি 
দিগন্ত ছাপিয়ে, 

ইতিহাস গড়ে তুলছ

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...