জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৪

প্রভাতী শুভেচ্ছার পদ্য ।। ভোরের আলো || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

 প্রভাতী শুভেচ্ছার পদ্য

ভোরের আলো  ||  জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়



পাখির ডাকে ঘুম ভাঙানোর ভোর
ঘুমিয়ে আছে স্মৃতির পাতায় তোর।
মনকে বলি,দীর্ঘতর নিদ্রাবিহীন রাত
ব্যর্থতারা হাসে তাদের নিকষকালো দাঁত।
রাত গভীরে  ইট ও বালির বাহক,বাইক
বিকট আওয়াজ বাজছে যেন মাইক
রাতের বেলা ব্যর্থতারা হেসোভূতের মুখ
ভোরের আলোয় ভাবনা তোমার,সুখ।

বুধবার, ২৫ আগস্ট, ২০২১

কবি শঙ্খ ঘোষকে নিবেদিত ছড়া শঙ্খহারা || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, Poems.

 কবি শঙ্খ ঘোষকে নিবেদিত ছড়া


         শঙ্খহারা    ||   জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় 



শঙ্খ বাজে শঙ্খ বাজে ভোরের বেলায় দুপুরসাঁঝে

মধুর ধ্বনি

ছন্দে লেখেন গন্ধে লেখেন দুখের অনুবন্ধে লেখেন

পরশমণি।

সবুজ দেখেন অবুঝ দেখেন নদীর উপর নৌকো লেখেন

ছলাৎছলে

একলা কোণে আপন মনে দাঁড়িয়ে ঢাকা বিজ্ঞাপনে

সেই প্রবলে।

পাঁজর দিয়ে দাঁড় ছুটিয়ে রেল ঝমাঝম ডাক উঠিয়ে

ঘাটশিলাতে

দুঃখী বাবার কষ্ট পাবার রক্তমাখা কৃষ্ণচূড়ার

লাল- লীলাতে।

তিনিই পিতা সবার মিতা মিষ্টভাষী জীবন গীতা

গাছের মতো 

আপস বিহীন কেটেছে দিন প্রতিবাদে ছন্দিত বীণ

শির উন্নত।

বিবেক জানি তাঁকেই মানি মানেন যত জ্ঞানীগুণী

মন্দ বাদে

নীরব কবির মৌন ছবির সামনে সবাই নিথর-স্থবির

অঝোর কাঁদে।

সোমবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২১

স্বাদ || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় || আজকের কবিতা

 স্বাদ     ||  জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় 



পরিযায়ী জলের রাখাল আঘাটা-বেঘাটা

দৌড় ছন্দহীন কুলুকুলু গান শ্যাওলার বাঁশি

কী সুর লিখেছো মায়া!বিজাতি ঠোঁটের বুক

ডেকে নিচ্ছো মায়াজাল  জিভের পাপোশ

নরম তরল জাদুর পাকে গুবগুবি ডাক

মালা ছিঁড়ে পরকীয়া টান হাতছানি সিঁড়ি

সুখের নাগাল প্রবচন লেখো হে স্বজন ঢেউ

ত্বকের নরম সুখে খাবার ঢাকো পাতাজাল

বাঁধ না ভাঙে ঝিঁঝির কোরাস কামগন্ধ

বকের ঠোঁটের কাছে রেখেছো ব্যাঙের টোপ

ওরা বেশ ধার্মিকছল ফল ও আগুন নবীন মাটি

পাওয়ারটিলার-খিদের রোপন বর্গি সামাল

গোপন ফসল পায়রা-কসাই দিনে মেঘবেলা

মোমের ছুরিটি জানে রক্তরং স্বাদ

বিশ্বাস গাছ ভাঙে ঢেউ আগুন আগুন।






গোপেশ্বরপল্লি, বিষ্ণুপুর,বাঁকুড়া - ৭২২১২২

কথা - ০৭০০১৪৫৬৭২১/০৯৭৩২২৩৭৬০৮

ই-মেইল : chattopadhyayjayanta59@gmail.com

রবিবার, ১৪ মার্চ, ২০২১

ঈর্ষা || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় || আজকের কবিতা

ঈর্ষা     ||  জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়



পাশবালিশটিকে আদরে কোলবালিশ বলায় তার দেমাক
দোলনায় গিয়ে বসে ইচ্ছেপূরণের গল্পে অভিমান
বেডরুম টু বাগানবিলাস -- এপর্যন্ত শুনে যারা রং দেখেন
তারা কি বোঝেন কাঁটায় উদারতা গন্ধ নেই!
পায়ের তলার বেডশিটটিকে রাজকন্যার সখী মনে হলে
রূপকথার দোষ কী?
চাপাকান্নাগুলো মিলে যায় বালিশের অভিমান বা যন্ত্রণা
মধু এবং চন্দ্রকে পায় না তাই ঈর্ষা বিড়ালটি কাঁদে
আর নখরগুলিতে শান দেয়।

সাবধান সুযোগ পেলেই নিরীহ থাবা আগুন হয়ে যাবে।

গোপেশ্বরপল্লি, বিষ্ণুপুর,বাঁকুড়া - ৭২২১২২
কথা - ০৭০০১৪৫৬৭২১/০৯৭৩২২৩৭৬০৮
ই-মেইল : chattopadhyayjayanta59@gmail.com


শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২১

গোপীজন কথা - - ৩ || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় || আজকের কবিতা

গোপীজন কথা - -   ৩    

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়





নিবাত অন্ধকার।চারপাশ শব্দহীন অথবা
ক্ষীণ ডেসিবেল।হাত বাড়াতে পারো সখা
ভরসা নাম।আজকাল বাঁশি বাজে না।
একঘেঁয়ে গোচারণ প্রবল দগ্ধতা।তুমি কি
একাকী ছেড়েছো ভার প্রিয় সংস্কার মুদ্রা
ও বিভঙ্গ নীল রং শিখা ও বুনন হাসিমুখ?
বরাভয় জলের কৌশল স্ফুলিঙ্গপাত
দাহ্যতায় সব বুঝি ভুলে গ্যাছো!
লীলায় লীলায় অঙ্ক কুটিল হিসাব
অস্ত্রসজ্জা সৈন্যমুখ...... তোমাকে অচেনা।
এ বেশ চেনে না ব্রজ।দুরন্ত কিশোর ভাঙো
লজ্জা ও ক্লেদ মাখনে লালিত দেহ ব্রজরজ মেখে
দামাল ষণ্ড হও।লজ্জাবস্ত্র উড়ে যাক কামনার বনে.....

তুমি রক্ত আর অস্ত্রহীন দুরন্ত রাখাল হাসিমুখ
বাঁশির প্লাবনে আমাদের নিশ্ছিদ্র কালো মুছে দাও।

গোপেশ্বরপল্লি, বিষ্ণুপুর,বাঁকুড়া - ৭২২১২২
কথা - ০৭০০১৪৫৬৭২১/০৯৭৩২২৩৭৬০৮
ই-মেইল : chattopadhyayjayanta59@gmail.com


সোমবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২১

অভিমান,স্বাভিমান || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় || অন্যান্য কবিতা

 

অভিমান,স্বাভিমান 

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়




 
আপনার কলমটি বিদ্রোহ করতেই পারে
কতদিন সে পড়ে আছে অবহেলা মেখে
নতুন বন্ধুর টানে আপনি সিস্টেম বদলে
কেমন বোকা বোকা ডিজিট্যাল লেখেন
কার হাসি তার বুকে ঘা দেয় বোঝেন না।
নতুন বান্ধবীর সাথে মশগুল হলে আপনার
সঙ্গিনী তা সহ্য করে? কলম কি প্রাণহীন ?

আজকাল বাটনেই লেখেন তাতে আপনার
অদক্ষ অক্ষরগুলি ঢাকা যায় ঠিক তবু ...... 

আপনার হাতে ধরে সাদামাঠা মাটি খুঁড়ে
অমিয় ঝরনাধারা টেনে আনা জাদুকাঠি
অবহেলা দেখে যদি অভিমানী তবে স্বেচ্ছামৃত্যু
নেয়ার আগেই তাকে ডেকে নিন দেখুন
এখনও তার বুকে কত স্বর্ণকল্প চাপা রয়ে গ্যাছে।

শনিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২০

নাসেরদা || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় || কবিতা

 নাসেরদা       ||    জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় 



এক একটা যাওয়ার কোনো দায়বদ্ধতা নেই


মালিকে প্রশ্ন করি, এত যে সাজিয়েছো উপবন বিবিধ গন্ধ আমোদিত  চরাচর কানাকানি মৌমাছির

ফুলেল স্বপ্ন ছেড়ে চলে যাও কোন অজানায়? 


সেখানে কি মাটি আছে উদ্ভিদসম্ভব?

সবুজের ভাবীকাল মায়ামুখ ডাক? 


সেখানে কোন মালঞ্চের মালাকার হবে ! 


চলে যাও এত তাড়াতাড়ি বাহনের অভাব ছিল কি

পক্ষীরাজ অথবা সাম্পান! 


সব ফুল ফেলে রেখে যাও অভিমান

অতৃপ্তির বিষাদমেঘ রেখে।




গোপেশ্বরপল্লি, বিষ্ণুপুর,বাঁকুড়া - ৭২২১২২

কথা - ০৭০০১৪৫৬৭২১/০৯৭৩২২৩৭৬০৮

ই-মেইল : chattopadhyayjayanta59@gmail.com

রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২০

বন্ধু || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় || অন্যান্য কবিতা

বন্ধু    

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়



এক একদিন ভাবি তোমার গায়ে একটা

সাপ ছুঁড়ে দেবো।

ব্ল্যাক মাম্বা না পারি নিতান্ত ঢেমনা ছুঁড়বো

তুমি বন্ধু চিনবে না বুবকার পোল ভল্টে

দরজা পার আর কেঁচোদের অট্টহাস নয়তো

দুর্বল কয়েকটি হেলে দুলে দুলে রামায়ণ

তোমার সাঁতালি পর্বত কি এতই দুর্ভেদ্য?

 

এমন নয় তোমার ঘরে কেউ যাবে না

যে কেউ যেতে পারে হাতে ধরা মুঙ্গের বা চীন

ভালোবাসার সাদা হাত কালো বন্দুক......


বিকেলের নিমকাঠ গরম আগুন পাথর পোড়ে

জানি তোমার ডানপায়ে চারটে স্টিলপাতি

আর আটখানা স্ক্রু মেড ফর ইচ আদার

ভালোবাসা তো পুড়বে না লাল বা কালো হবে

কিছুটা বিকৃত হাড় ছাইপাঁশ নিয়ে কালোপাত

ত্রিবেণীতে গেলে আমরা দেহতত্ত্ব ছেনে খাবো

সারাজীবন সততাসহবাসের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির

বন্যায় অপ্রিয় বন্ধু তুমি অমরত্ব নিয়ো।




শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আটপৌরে কবিতা || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় || কবিতার সাম্প্রতিক প্রবণতা

আটপৌরে কবিতা
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় 



১.
শরৎ

মৃদু হাওয়া ঢেউ
মেঘমালা
ছায়া ফেলে দিঘিবুক আলো।

২.
উৎসব

খুশিমুখ শিশুদের হাসি
আলোকিত
মনোভূম প্রকৃতিও সেজেছে দারুণ!

৩.

হেমন্ত

শিশিরের কানাকানি সারারাত
কুয়াশায়
ঝরে যায় উল্কার দল।

৪.

শীত 

প্রবল কাঁপুনি দিন
জড়োসড়ো
রোদ ও আগুন খোঁজা।

৫.

প্রেম 

অনুভব জুড়ে কিছু
ধুকপুক
হারানোর ভয় নিয়ে চঞ্চল।



গোপেশ্বরপল্লি, বিষ্ণুপুর,বাঁকুড়া - ৭২২১২২
কথা - ০৭০০১৪৫৬৭২১/০৯৭৩২২৩৭৬০৮
ই-মেইল : chattopadhyayjayanta59@gmail.com

সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০

শব্দ'৫ কবিতা দশটি || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় || কবিতার সাম্প্রতিক প্রবণতা

শব্দ'৫ কবিতা    || দশটি
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

১.
হাসির চেয়ে বিষ বেশি ঠোঁটে

২.
চোখ খুললে আকাশ এবং আগুন।

৩.
মরানদীর বুকে দুঃখ জমা রাখি।

৪.
বেপরোয়া নদী ঝাঁপায় দুরন্ত রাখাল।

৫.
সব রাখাল কৃষ্ণ নয়,শকুনিও।

৬.
কুঞ্জপথের ধুলো মাখে মধুগন্ধ ক্লোরোফর্ম।

৭.
উঠোনের ঘাস প্রতিবাদ গন্ধ মাখেনি।

৮.
সূর্যতেজ ধুয়ে দেয় যাপনের ক্লেদ।

৯.
কবন্ধের হাসির শব্দে প্রত্যয়হীন কারুণ্য।

১০.
মৌটুসীর সুরে নগ্ন হয় ফুল।




গোপেশ্বরপল্লি, বিষ্ণুপুর,বাঁকুড়া - ৭২২১২২
কথা - ০৭০০১৪৫৬৭২১/০৯৭৩২২৩৭৬০৮
ই-মেইল : chattopadhyayjayanta59@gmail.com

রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২০

ভালো আছো প্রিয় জল ? || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় || কবিতা

ভালো আছো প্রিয় জল ?   ||    জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়


লেলিহ শিখার মতো ঘিরেছে অন্ধকার
আত্মীয় হাত অচেনা দস্তানায় ঢাকা
কালো রক্তের বিষ মিশে যায় মাটির ভিতর
                       প্রতিরোধহীন
ভালো আছো প্রিয় জল?
এখনও দ্রাবকধর্ম অক্ষত তোমার?
এখনো কি ভোরের বাতাসে সুর খোঁজো!
হিমের গন্ধ মেখে কাকের মিটিঙে যাও
                                      তাপের প্রত্যাশায়......
ধুলো আর জঞ্জালে হাসিমুখ
                                   তোমার স্বচ্ছতার চাদর মুড়ে
যতকিছু বাতিলের বিষে আপনার চাতাল সাজাও
কালো রক্তে মাটির রূপান্তর ধুয়ে দেবে প্রিয় রসায়ন
যত রক্ত,ক্লেদ বা ক্লেশ তোমাকে ডাকে
তুমি কীভাবে বাঁচাবে নিজেকে
                 ইচ্ছাময় স্রোতে আর কি ভাসাবে
                            তেমন কাগজের নৌকো ?
                             হায় প্রিয় জল !

গোপেশ্বরপল্লি,বিষ্ণুপুর,বাঁকুড়া-৭২২১২২
কথা-৭০০১৪৫৬৭২১

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২০

ঈর্ষা || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় || কবিতা

ঈর্ষা
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়



এক
তোমার মুখে সাফল্যের হাসি উপচে পড়লে কাঁটাগুলো নড়ে ওঠে
আমার অতিচেনা ব্যর্থতারা অপ্রিয় শব্দের মতো নখদাঁত নিয়ে ঝাঁপায়
তুলে আনে কোশ কলা রস ঢিমেতালে অ্যাসিড ছেটায় দহন জ্বালায় জ্বলি.....

দুই

তোমার উজ্জ্বল হাসিমুখ স্টিয়ারিং ফেল গাড়ির মতো ফুটপাথের ঘর ভাঙে
প্রশ্ন ওঠে তোমার কী কোনও দুঃখ নেই?  সবকিছু হাতের নাগালে!
তাহলে আমি কেন তুমি হয়ে উঠিনা?

তিন

মাঝে মাঝে এক লাজুক কিশোর আসে দ্বিধাময় দূরে ভাসে অকপট হাসি
অঢেল  আলোমাখা মুখের পিছনে সে বড়ো বেমানান.....
তবু সেও হাঁটে হয়তো খরগোশ নয় ধীরগতি কচ্ছপের মতো
সে তার অযোগ্যতা জানে সেগুলি ইঁদুর বানিয়ে খেলে
পিছনের  মুখ কখন আলো ছেনে রং হয়ে যায় অহংকার পায় না নাগাল
কোনপথে ছায়ামুখ  সর্বজয়ী ফুল হয়ে ওঠে দেখে না ফোকাস

সাফল্যের নকল মুখ কোথায় হারায় ........।

গোপেশ্বরপল্লি,বিষ্ণুপুর,বাঁকুড়া-৭২২১২২
কথা-৭০০১৪৫৬৭২১/৯৭৩২২৩৭৬০৮
ই মেইল: chattopadhyayjayanta59@gmail.com

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০

করোনা যুদ্ধের অণুগল্প - ২ || স্যানিটাইজ || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

করোনা যুদ্ধের অণুগল্প - ২


   অণুগল্প

        স্যানিটাইজ        ||   জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

   রাকা হাতটা বাড়িয়ে দিলে ছেলেটি খোলা জাগ এগিয়ে দেয়,যার অর্ধেক সাদা তরলে ভরা।
পরিচ্ছন্ন সুন্দরী ভ্রূ কুঁচকে বলে,'' স্যানিটাইজড নোট হাতেই নাও।''
 অচঞ্চল কণ্ঠে বলে ছেলেটি,'' হোক স্যানিটাইজ,ম্যাডাম আমি হাতে নেবো না।আপনি জগেই ফেলুন।''
 এবার বিরক্ত হয় ঋক,"আরে ভাই,ম্যাডাম খুব স্বাস্থ্য-সচেতন।সব নোট স্যানিটাইজার মাখিয়ে
আগে শুকিয়ে নেয়,তারপর আলমারিতে ঢোকায়। তুমি নিশ্চিন্তে নাও।"
  "মাফ করুন স্যার,আমাকে ডাক্তারবাবু মানা করেছেন,চেনা বা অচেনা যেই হোক এই কড়া
স্যানিটাইজারে না ডুবিয়ে আমি টাকা নিতে পারবো না।করোনা কারও চেনা নয়।"
 এবার মুখ বাঁকিয়ে রাকা নীচু গলায় কিছু বিরক্তিকর শব্দ উচ্চারণ করে,ছেলেটি হয়তো শুনতে পায় না।
 ঋক ও বিরক্ত হয় কিন্তু কিছু বলে না,রাকার হাত চেপে জাগের দিকে ইঙ্গিত করে।তারপর ফেরতটা নিয়ে গাড়ির দিকে পা বাড়ায়।আর বলে,"ছেড়ে দাও।ওর শুদ্ধতার বিশ্বাস নিয়ে ওকে ভালো থাকতে দাও।"



রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০

লক্ষ্মীছাড়া || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় || অণুগল্প

লক্ষ্মীছাড়া 
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

পত্রিকা সম্পাদক শীতলদা হাতে পোড়ামাটির ছোট্টো গণেশমূর্তিটা
তুলে দিতেই সন্তু চিৎকার করে ওঠে,আমাকে গণেশ ক্যানে দাদা!
লকখি দিতে পারতে!চিরকালই তো লকখিছাড়া হয়ে রইলম।
গণেশ পেলে তো ব্যাবসা কোরতে হবেক,উটা আমি পারবো নাই,খ্যামা দাও!
তিনটে দকানে কাজে ঢুকাই ছিল বাবা,খোদ্দারদের বুঝাতে
পারি নাই।চাকরি নট।চারবিঘা জমি চাষ আমার অসাধ্যি।
এখন দুটো পাইভেট ব্যাচ করি আর কবিতা লিকি।একটা
লকখি যদিবা জুটেছিল কন্যাশ্রীর পুঁচিশ হাজার পেতেই
তার বাপ তাকে কোন দেশে যে পাচার কর‍্যে  দিলেক জানতেই
লারলম।বুজে গেচি লকখি আমার কপালে নাই।ইটা লিয়ে
আমার কীইবা হবেক?
শীতলের নাছোড় হাসিতে জানলো বদল হবে না।তাই বিরক্তি
মেখেই ফিরছিলো বাড়ির দিকে।জগুর পানগুমটিতে এসে
 বলে,একটা
পান দেত।সে মনেমনে ঠিক করে নিয়েছে গণেশটা জগুর গুমটিতে রেখে যাবে।
চোখ পড়লো তাকটার দিকে।দেখে একটা গণেশ তার পাশে দুটো লক্ষ্মী।
জিজ্ঞাসা করাতে জগু বলে,গণেশের বাহন আগের গণেশ ভেঙে
ফেলায় তার বউ নতুন গণেশ আর লক্ষ্মী কিনে দিয়েছে।কিন্তু
পুরনো লক্ষ্মীটাও রয়ে গেছে।কাল রাত্রে আবার বাহনেরা
গণেশ ভেঙেছে।
 সন্তুর করুণ কাহিনি,যদিও জানা,জগু একটা লক্ষ্মীমূর্তি তাকে দিয়ে দিল।
খুশিমুখে সে বুকপকেটে লক্ষ্মীলাভ করে প্যাডেলে পা দিল।জগুও লকখি
পেয়ে ধন্য।দাসপাড়ার গলির অন্ধকার পার হবার সময় কীযে হলো
সে ঠিক বুঝলো না।তবে সাইকেল উলটে সে মাটিতে আর মূর্তিটা যে
কোথায় গেল তা দেখার জন্য দাসকাকিমা টর্চ আনা পর্যন্ত অপেক্ষা
করতে হলো।মালক্ষ্মী তখন পোড়ামাটির কয়েকটা বিচিত্র খণ্ড হয়ে তাকে ব্যঙ্গ করছেন।



গোপেশ্বরপল্লি,বিষ্ণুপুর,বাঁকুড়া-৭২২১২২
কথা-৭০০১৪৫৬৭২১/৯৭৩২২৩৭৬০৮

সোমবার, ১৫ জুন, ২০২০

বটগাছ || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় || প্রভাত চৌধুরীর জন্মদিনে কবিতা

বটগাছ    ||   জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়










ছায়ার প্রতি শ্রমিকের টান দুর্নিবার।

ছায়া অমৃতের মতো
ক্লান্তি ও ক্লেদে বটের ছায়া মহৌষধ।
শাখায় দিশা-কপোত।

ক্লান্ত কৃষক শ্রমিক বা পথিকের মন
একটি প্রবীণ বটের ছায়ার জন্য উন্মুখ
কারুর তা জোটে কারুর না।

কবিতার বোটানিক গার্ডেনে অটল
বটগাছটির নাম প্রভাত চৌধুরী।

আমরা তার ঝুরি হয়ে ঝুলতেই পারি
তাঁর কত ঝুরি প্রবল স্তম্ভ হয়ে গ্যাছে।

সোমবার, ৮ জুন, ২০২০

রাধার মতো || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় || কবিতা

রাধার মতো 
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়


কৃষ্ণচূড়ার গুচ্ছ হাতে কেউ দাঁড়িয়ে থাকলেই
 তাকে রাধা ভাববেন না। অথবা চোখের ছবি
চেনা মনে হলেই আপনি ভাষাবিদ হয়ে গেছেন
এমন নৈশ্চিত্য মরীচিকা বা চোরাবালিও হতে পারে।

কৃষ্ণচূড়ার ফুল রক্তের মতো আর আমরা জানি
রক্তের পিছনে ব্যথাবেদনা থাকবেই।
আপনি হয়তো বলবেন,রক্ত থেকেই ভালোবাসা
আর জীবনসৃজন। তাই রক্ত ছাড়া......

তবে কৃষ্ণচূড়ার গুচ্ছ হাতে নিয়ে কেউ যমুনায়
যায় এমন কথা কোনো পদকর্তা কি লিখেছেন?
এইকথা শুনে আপনি থামবেন ভাববেন হতাশ হবেন
এবিষয়ে সন্দেহ নেই। তবু হাল্কাপায়ে দুএকটি
প্রজাপতি কোনো লালফুলের কানে গুনগুন করলে
তাকে আপনি রাধা বা রাধার ক্লোন ভাবতে পারেন
কেউ আপনাকে দোষ দেবে না।


শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০

গান || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় || কবিতা

গান
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়


সবুজের সিঁড়ি পাহাড়ে আলো ধুয়ে দেয় জলেরা
সোনাস্মৃতি জমা পকেটে হায়েরোগ্লিফিক ছন্দ।
নুড়িরা ঘুমিয়ে ঠাণ্ডা কানাকানি হবে সন্ধ্যায়
সূর্য আসর পেতেছে বৈঠকি গায় গোধূলি
চিকচিক করে মণিদুই নামছে গভীরে নামছে।
বাকি কথাগুলি নাইখোঁজ উধাও এ বোকা আঙুলে।
ভাণ্ডার জোড়া খাঁখাঁ তাকে খনি বলে জানতাম
মুক্তোমানিক হারিয়ে খালিবুকগুলো ধুঁকছে
স্বপ্ন বেবাক ভণ্ডুল চারণভূমিতে মুখ দিই
সবুজ চাদরও নির্মম বুকটা যে তবু টানটান!
এখানে যে গান গাইতো কত হাওয়া বাজা পালকে
চঞ্চুতে লাগা সুরগুলি বাতাস মাতিয়ে রাখতো।
যারা চলে যায় সামনে পিছনে ফেরে না একবার
নতুন বসতে আটকায় স্মৃতিগুলো রাখে সাজিয়ে
মন ফিরি ফিরি করে তো প্রকাশ না পেলে ক্ষতি কী?
সাজিয়ে রাখা সে কফিনে পিরামিড ঠিক রাখবে।
ভাবিকাল এসে খুঁজবে কত রং আছে লুকিয়ে
সেই তারা খুঁড়ে দেখবেই কত সুর ছিলো জমানো।



সোমবার, ১১ মে, ২০২০

কবিতা || রস-- ২ || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

রস-- ২    
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

নীরস অভিধার গর্ভে অমিততরল অগ্নিশিল উত্তাপ।
ক্ষরণচিহ্ন মাখা আশ্চর্যপ্রেম নিক্কন লাগা ফুল।
সরোম কৌতুক।কৌতূহলী আপতন কোণ ও
প্রতিসৃত রশ্মি। উৎসবভাবে ঊর্ধ্বাঙ্গসম্মিলনসুখ।
ফেভিকুইকজোড়।দৃশ্যসুখ।বস্তুত আবর্জনাপথ
ঝিলমিল পর্দাকুহক।লেপ্রসিক্ষয়ের বিদ্রোহ।
দুর্দমহাসির বসন্তঝড়।বিমহান প্রভেদক।বাক্যদান
যদি আমি তবু আমি।এখানে পা রেখো অনাদর।
প্লাটফর্ম ছাড়িয়ে যাচ্ছে আলো।কনভেক্স গল্প শেষ।
এখন এরিয়া পার লগি ও লাগাম।অমার্জিত কোরাস।
উন্মত্ত আবহ অবসৃত ঘূর্ণিজল শান্তির বাধ্যতা।
মধুগান।রসকলি বেয়ে সেই আলো।প্রেম নামে
ফুলের সুবাস।বৃন্দাবন বিচিত্রবিলাস।

Registration (Online)

Trainee REGISTRATION (ONLINE)

                                                                                    👇           👉             Click here for registration...